ঢাকা শনিবার, ২৪শে অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ০৮ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ১৩ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
শনিবার, ২৪শে অক্টোবর, ২০২৬ইং ০৮ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

শান্তিপূর্ণ বিশ্ব গঠনে জাতিসংঘকে আরও শক্তিশালী করার আহ্বান শামা ওবায়েদের


শান্তিপূর্ণ বিশ্ব গঠনে জাতিসংঘকে আরও শক্তিশালী করার আহ্বান শামা ওবায়েদের

পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম মন্তব্য করেছেন, বর্তমান বিশ্বের চ্যালেঞ্জগুলোর মোকাবিলা করতে এবং শান্তিপূর্ণ, সমৃদ্ধ ও ন্যায়ভিত্তিক একটি বিশ্ব নির্মাণের জন্য কার্যকর জাতিসংঘ এবং আন্তর্জাতিক সংহতির শক্তিশালীকরণ অপরিহার্য।

শনিবার (২৪ অক্টোবর) ঢাকায় ক্রাউন প্লাজায় জোন্টা ইন্টারন্যাশনাল, ডিস্ট্রিক্ট ২৫ এবং বাংলাদেশে জোন্টা ক্লাবগুলোর উদ্যোগে জাতিসংঘ দিবস উদযাপন অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন।

এ তথ্য জানিয়েছেন পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জনসংযোগ কর্মকর্তা মাহমুদুল হাসান।

আরও পড়ুন: ‘বেহেশতের গ্যারান্টি দিতে পারব না, তবে উন্নয়নের গ্যারান্টি দিতে চাই’

শামা ওবায়েদ বলেন, বর্তমান বিশ্বের চ্যালেঞ্জগুলো মোকাবিলা এবং শান্তিপূর্ণ, সমৃদ্ধ ও ন্যায়ভিত্তিক বিশ্ব গঠনে কার্যকর জাতিসংঘ ও শক্তিশালী আন্তর্জাতিক সংহতি অপরিহার্য।

তিনি প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে বহুপাক্ষিকতাবাদকে এগিয়ে নেওয়ার বিষয়ে সরকারের প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করেন।

শামা ওবায়েদ আরও বলেন, উন্নয়ন, শান্তি ও নিরাপত্তা এবং মানবাধিকার—জাতিসংঘের এই তিন মূল স্তম্ভের প্রতি বাংলাদেশের অঙ্গীকার নতুন করে জোরদার করা হয়েছে।

তিনি জাতিসংঘের শান্তিরক্ষা ও শান্তি প্রতিষ্ঠার কার্যক্রমে বাংলাদেশের দীর্ঘদিনের অবদানের কথা উল্লেখ করে বলেন, বাংলাদেশ আন্তর্জাতিক সংলাপ, ঐকমত্য প্রতিষ্ঠা ও সহযোগিতা জোরদারেও গঠনমূলক ভূমিকা পালন করছে।

আরও পড়ুন: আইজিপি: দৃঢ় মনোবল নিয়ে ঘুরে দাঁড়িয়েছে পুলিশ

জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনে বাংলাদেশের সক্রিয় অংশগ্রহণের বিষয়টিও তিনি উল্লেখ করেন। এই অধিবেশনে সভাপতিত্ব করেন বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

মন্ত্রী-এমপিদের কেনাকাটা অবৈধ টাকায়, মানুষের কষ্ট বোঝেন না: পাটওয়ারী

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

শনিবার, ২৪শে অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৬:১৪ পি.এম


মন্ত্রী-এমপিদের কেনাকাটা অবৈধ টাকায়, মানুষের কষ্ট বোঝেন না: পাটওয়ারী

জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক নাসীরুদ্দীন পাটোয়ারী মন্তব্য করেছেন যে, রাজনৈতিক দলের অনেক নেতা বাজারে গিয়ে পণ্য কেনেন না। তাদের হয়ে অন্যরা বাজারে গিয়ে পণ্য সংগ্রহ করেন। এই কারণে সাধারণ মানুষের দুর্ভোগ এবং পণ্যের দাম সম্পর্কে তাদের সঠিক ধারণা নেই।

শুক্রবার (২৩ অক্টোবর) রাজধানীর কারওয়ান বাজারে লিফলেট বিতরণ ও এক পথসভায় তিনি এই বক্তব্য প্রদান করেন।

নাসীরুদ্দীন পাটোয়ারী বলেন, "আমরা যখন বাজারে যাই, তখন পণ্য কিনতে গিয়ে দেখি, সেগুলো আমাদের ক্রয়ক্ষমতার মধ্যে নেই। তাহলে দরিদ্র মানুষের কী অবস্থা হবে?" তিনি আরও বলেন, এনসিপির পুনর্গঠিত কমিটি ঘোষণা করা হয়েছে। এই কমিটি আগামী দিনের লড়াইয়ের প্রস্তুতি হিসেবে গঠন করা হয়েছে। তিনি উল্লেখ করেন, গত ১৭ বছরে বাংলাদেশের মানুষ যখন মনে করেছিল, শেখ হাসিনাকে ক্ষমতা থেকে সরানো সম্ভব নয়, তখন আমরা রাজপথে নেমেছিলাম। "আমরা অসম্ভবকে সম্ভব করে দেখিয়েছি। অন্যায়ের বিরুদ্ধে বাংলাদেশের মানুষ অতীতেও প্রতিবাদ করেছে, ভবিষ্যতেও করবে।"

তিনি বলেন, নির্বাচনের পর সরকার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল যে, দলীয়করণ হবে না, সবকিছু মানুষের ক্রয়ক্ষমতার মধ্যে রাখা হবে এবং একটি জনকল্যাণমুখী রাষ্ট্র গঠন করা হবে। কিন্তু এসব প্রতিশ্রুতির বাস্তবায়ন দেখা যাচ্ছে না।

নাসীরুদ্দীন পাটোয়ারী আরও বলেন, "মানুষের সঙ্গে কথা বলার সময় তারা আমাদের বলেছেন, সরকার যেন তাদের পেটে লাথি মারার চেষ্টা করছে।" তিনি উল্লেখ করেন, গণ-অভ্যুত্থানের সময় আমরা যেভাবে অংশ নিয়েছিলাম, তেমনি এ সময়ও অনেক রাজনৈতিক দল ও বিভিন্ন ব্যক্তি হাল ছেড়ে দিয়েছেন। তারা মনে করছেন, এই সরকারকে কিছু বলা যাবে না, তাদের বিরুদ্ধে কিছু করা যাবে না, তাদের ধরা যাবে না, স্পর্শও করা যাবে না।

বিএনপি সরকারের সমালোচনা করে এনসিপির এই নেতা বলেন, "বিএনপি সরকার সবকিছুর ঊর্ধ্বে, তাদের কোনো জবাবদিহি নেই।" তিনি ঘোষণা করেন যে, সেই অসম্ভবকে আবারও সম্ভব করতে তারা মাঠে নেমেছেন। "আমরা দেখাতে চাই, বিএনপি সরকারকেও জবাবদিহির আওতায় আনা যায়, তাদের নিয়ন্ত্রণ করা যায় এবং নিত্যপণ্যের দাম নিয়ন্ত্রণে বাধ্য করা যায়।"

তিনি বলেন, "এটি কোনো দলের দাবি নয়। দলমত-নির্বিশেষে ধনী-গরিব সবার দাবি, আমরা পেট ভরে খেতে চাই, সুস্থভাবে বাঁচতে চাই এবং সবকিছু নিজেদের ক্রয়ক্ষমতার মধ্যে চাই।"

নাসীরুদ্দীন পাটোয়ারী বলেন, "আমরা যারা গ্রাম থেকে এসেছি, যাদের মা-বাবা এখনো গ্রামে থাকেন, যারা মধ্যবিত্ত পরিবারের সন্তান এবং কখনো দুর্নীতির সঙ্গে জড়িত ছিলাম না, তাদের কাছে এক টাকাও অনেক মূল্যবান।" তিনি উল্লেখ করেন, "এ কারণেই আমরা যখন বাজারে গিয়ে পণ্য কিনতে চাই, তখন দেখি, সেগুলো আমাদের ক্রয়ক্ষমতার বাইরে। তাহলে দরিদ্র মানুষের কী অবস্থা হবে? এই পরিস্থিতির প্রতিবাদ জানাতেই আজ আমরা রাজপথে নেমেছি।"

তিনি জানান, ঢাকা শহরের বিভিন্ন স্থানে লিফলেট বিতরণের মাধ্যমে মানুষের কাছে যাবেন তারা। আগামী এক সপ্তাহের মধ্যে গণবিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করা হবে।

জনগণের প্রতি আহ্বান জানিয়ে নাসীরুদ্দীন পাটোয়ারী বলেন, "আমরা চাই না, আপনারা এনসিপিতে যোগ দিন। আপনারা কোন রাজনৈতিক দল করেন, সেটিও আমাদের কাছে বিবেচ্য নয়। আমরা আপনাদের অধিকারের জন্য রাজপথে নেমেছি। নিজেদের অধিকার আদায়ের লড়াই আপনাদেরই করতে হবে। কোনো রাজনৈতিক দল বা ব্যক্তি আপনাদের হয়ে এই লড়াই করে দেবে না।"

তিনি আরও বলেন, "নিজেদের অধিকার আদায়ের লড়াইয়ে আপনারা রাজপথে নেমে আসুন। সরকারকে বলুন, আপনারা আমাকে কর্মসংস্থানের প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন। সেই কর্মসংস্থান কোথায়? আপনারা প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন, সবকিছু মানুষের ক্রয়ক্ষমতার মধ্যে থাকবে। কিন্তু আমরা তার বাস্তবায়ন দেখতে পাচ্ছি না। জবাবদিহি নিশ্চিত করার দাবিতে আজ আমরা রাজপথে নেমেছি। আমাদের সামনে দীর্ঘ লড়াই বাকি। এই লড়াই চালিয়ে যেতে হবে। জীবন চলে গেলেও এই সংগ্রাম চালিয়ে যেতে হবে।"

এ সময় উপস্থিত ছিলেন এনসিপির আহ্বায়ক ও বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ মো. নাহিদ ইসলাম, সদস্যসচিব আখতার হোসেন, সিনিয়র যুগ্ম সদস্যসচিব মো. আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়াসহ অন্যরা।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য সংরক্ষণে সবার সক্রিয় অংশগ্রহণ অপরিহার্য: সংস্কৃতিমন্ত্রী নিতাই রায় চৌধুরী

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

বিনোদন ডেস্ক

শনিবার, ২৪শে অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৬:১৫ পি.এম


সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য সংরক্ষণে সবার সক্রিয় অংশগ্রহণ অপরিহার্য: সংস্কৃতিমন্ত্রী নিতাই রায় চৌধুরী

সংস্কৃতিমন্ত্রী নিতাই রায় চৌধুরী মন্তব্য করেছেন যে, একটি দেশের সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য শুধুমাত্র দৃশ্যমান স্থাপনা, নিদর্শন বা প্রত্নসম্পদের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়; বরং মানুষের জীবনযাপন, লোকাচার, উৎসব, সংগীত, নৃত্য, কারুশিল্প, লোকজ জ্ঞান, চিকিৎসাপদ্ধতি এবং প্রজন্ম থেকে প্রজন্মে প্রবাহিত বিভিন্ন ঐতিহ্যের মধ্যেও একটি জাতির সাংস্কৃতিক পরিচয় নিহিত রয়েছে। এসব সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য সংরক্ষণে স্থানীয় জনগণের এবং কমিউনিটির সক্রিয় অংশগ্রহণ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে তিনি উল্লেখ করেন।

শনিবার (২৪ অক্টোবর) ঢাকার শাহবাগে জাতীয় জাদুঘরে আয়োজিত এক সেমিনারে তিনি এসব বক্তব্য দেন।

মন্ত্রী আরও বলেন, বৈচিত্র্যের মধ্যে ঐক্য বাংলাদেশের সাংস্কৃতিক শক্তি। পাহাড় ও সমতল, বিভিন্ন জনগোষ্ঠী ও সম্প্রদায়ের জীবনধারা, আচার-অনুষ্ঠান ও উৎসবের মধ্যে বৈচিত্র্য থাকলেও জাতীয় পরিচয় ও দেশপ্রেমের প্রশ্নে আমরা অভিন্ন। বাংলাদেশের দীর্ঘ ঐতিহ্যবাহী সংস্কৃতির ধারাবাহিকতা রক্ষায় সমাজের সব শ্রেণি-পেশা ও সম্প্রদায়ের মানুষের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করার ওপর তিনি গুরুত্বারোপ করেন।

নিতাই রায় চৌধুরী বলেন, বাংলাদেশের ঐতিহ্য হাজার বছরের সাংস্কৃতিক অভিজ্ঞতায় সমৃদ্ধ। এ দেশের মানুষ নিজ নিজ ধর্মীয় ও সামাজিক উৎসব স্বাধীনভাবে ও শান্তিপূর্ণভাবে উদযাপন করে আসছে। পারস্পরিক শ্রদ্ধা, সহনশীলতা ও সম্প্রীতির এই ঐতিহ্য বাংলাদেশের সাংস্কৃতিক পরিচয়ের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ।

তিনি আরো বলেন, দেশের লোকজ উৎসব, নৌকা বাইচ, লোকসংগীত, লোকনৃত্যসহ জীবনঘনিষ্ঠ সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ড মানুষের মধ্যে আনন্দ, সম্প্রীতি ও সামাজিক বন্ধন তৈরি করে। সংস্কৃতি মন্ত্রণালয় দেশীয় নৌকা বাইচসহ ঐতিহ্যবাহী আয়োজনগুলোকে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে বিস্তৃত করার লক্ষ্যে কাজ করছে।

মন্ত্রী বলেন, তরুণ প্রজন্মকে দেশীয় সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যের সঙ্গে সম্পৃক্ত করতে হবে। খেলাধুলা, লোকজ উৎসব ও সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডে তরুণদের অংশগ্রহণ বাড়ানো গেলে তাদের সৃজনশীলতা ও সামাজিক দায়বদ্ধতা বৃদ্ধি পাবে এবং মাদক ও অন্যান্য নেতিবাচক কর্মকাণ্ড থেকে তাদের দূরে রাখার ক্ষেত্রেও ইতিবাচক ভূমিকা রাখতে পারবে।

নারীর মর্যাদা ও অংশগ্রহণের ওপর গুরুত্ব দিয়ে তিনি বলেন, সমাজ ও সংস্কৃতির বিকাশে নারীর অবদান অনস্বীকার্য। নারীর প্রতি সম্মান, নিরাপত্তা ও সমঅধিকার নিশ্চিত করার পাশাপাশি নারীশক্তিকে আরো সক্রিয় ও বিকশিত করতে সরকার কাজ করছে। সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য সংরক্ষণ ও প্রজন্মান্তরে তা পৌঁছে দেওয়ার ক্ষেত্রেও নারীর গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে।

তিনি বলেন, কমিউনিটি-ভিত্তিক সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য সংরক্ষণের ক্ষেত্রে স্থানীয় জনগণের জ্ঞান ও অভিজ্ঞতাকে যথাযথ গুরুত্ব দিতে হবে। স্থানীয় মানুষকে সম্পৃক্ত করে ঐতিহ্য শনাক্তকরণ, নথিবদ্ধকরণ, চর্চা ও প্রজন্মান্তরে হস্তান্তরের ব্যবস্থা করা গেলে সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য আরো কার্যকরভাবে সংরক্ষণ করা সম্ভব হবে।

সেমিনারে সভাপতিত্ব করেন জাতীয় জাদুঘরের মহাপরিচালক তানজিম ইবনে ওয়াহাব। এতে সংস্কৃতিবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সচিব ইয়াসমিন বেগম এবং ইউনেস্কোর প্রতিনিধি বক্তব্য দেন। সেমিনারে জাতীয় জাদুঘর ও সংস্কৃতিবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তা, সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব, গবেষক ও সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন পর্যায়ের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর
আল-জাজিরার বিশ্লেষণ

ইউরোপে কি দিন দিন ইসলামবিদ্বেষ বেড়েই চলেছে?

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

শনিবার, ২৪শে অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৬:১৫ পি.এম


ইউরোপে কি দিন দিন ইসলামবিদ্বেষ বেড়েই চলেছে?

ফ্রান্সের রাজধানী প্যারিসের নিকটবর্তী একটি মুসলিম ও অভিবাসী অধ্যুষিত এলাকায় এক বন্দুকধারী গাড়ি থেকে এলোপাতাড়ি গুলি চালিয়েছে। এই হামলায় এক কৃষ্ণাঙ্গ তরুণ নিহত হয়েছেন এবং ১২ বছরের একটি শিশুসহ আরও পাঁচজন গুরুতর আহত অবস্থায় হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। ফরাসি সরকার এই ঘটনার জন্য বর্ণবাদী ও সন্ত্রাসী হামলার তকমা দিয়েছে। এই মর্মান্তিক ঘটনা ঘটেছে যখন ফ্রান্সে জিনিসপত্রের দাম বৃদ্ধির প্রতিবাদে বিক্ষোভ চলছে।

শুক্রবার (২৩ অক্টোবর) সকাল বেলায় হামলাকারী ব্যক্তি একটি গাড়িতে করে এসে রাস্তায় পেট্রোল পাম্প, হাসপাতাল এবং শিশুদের খেলার মাঠ লক্ষ্য করে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময়ের পুরনো একটি বন্দুক দিয়ে গুলি ছুঁড়তে থাকে। প্রায় ১৫ মিনিটের তাণ্ডবের পর ৩৯ বছর বয়সি হামলাকারীকে পুলিশ আটক করে। পুলিশের কাছে হামলাকারী স্বীকার করেছেন যে, তার উদ্দেশ্য ছিল ফ্রান্সে বসবাসকারী বিদেশিদের হত্যা করা।

হামলায় আহত ১২ বছরের শিশুটির শরীরে আটটি গুলি লেগেছে। চিকিৎসকেরা তার জীবন বাঁচানোর জন্য প্রাণপণ চেষ্টা চালাচ্ছেন। হিজাব পরা শিশুটির মা কান্নাভেজা কণ্ঠে জানিয়েছেন, ফ্রান্সে জন্ম নেওয়া একটি ছোট শিশুর ওপর কীভাবে এমন নির্মম হামলা হতে পারে, তা তিনি বুঝতে পারছেন না। তার ধারণা, হিজাব পরা এবং গায়ের রঙের কারণে তার সন্তানকে লক্ষ্য করে এই হামলা করা হয়েছে।

এই ঘটনার পর ফরাসি প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁ বর্ণবাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণের ঘোষণা দিয়েছেন। অন্যদিকে, স্থানীয় নেতৃবৃন্দ ও মুসলিম সংগঠনগুলো অভিযোগ করেছেন যে, উগ্র ডানপন্থী রাজনীতিকদের বিদ্বেষমূলক বক্তব্যের কারণে সমাজে চরমপন্থা ও ইসলামভীতি বৃদ্ধি পাচ্ছে। তাদের মতে, নির্দোষ মানুষদের এই বিষাক্ত বক্তব্যের খেসারত দিতে হচ্ছে।

ফ্রান্সের পাশাপাশি, পুরো ইউরোপ ও যুক্তরাষ্ট্রে মুসলিমদের বিরুদ্ধে বর্ণবাদী আক্রমণ ও বৈষম্য আশঙ্কাজনকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। বিভিন্ন আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থার গবেষণায় দেখা গেছে, ইউরোপে বসবাসকারী প্রতি দুইজন মুসলিমের একজন নানাভাবে বৈষম্যের শিকার হচ্ছেন। প্যারিসের এই রক্তক্ষয়ী ঘটনাটি বিশ্বকে নতুন করে ভাবতে বাধ্য করেছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

আমরাও চাই শেখ হাসিনা দেশে ফিরে বিচারের মুখোমুখি হোক: মীর শাহে আলম

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

শনিবার, ২৪শে অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৬:১৬ পি.এম


আমরাও চাই শেখ হাসিনা দেশে ফিরে বিচারের মুখোমুখি হোক: মীর শাহে আলম

স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম এমপি জানিয়েছেন, "আমরা বেহেশতের গ্যারান্টি দিতে পারব না, তবে উন্নয়নের গ্যারান্টি দিতে চাই।" তিনি দেশের জনগণের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে কাজ করতে চান। প্রতিটি পরিবারের হাতে ফ্যামিলি কার্ড এবং কৃষকের হাতে কৃষক কার্ড পৌঁছে দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। তিনি উল্লেখ করেছেন, "জনগণের কল্যাণে কাজ করেই পাঁচ বছর পর বিএনপি আবারও ক্ষমতায় যাবে।" আগামী চার বছরের মধ্যে দেশের চার কোটি পরিবারকে ফ্যামিলি কার্ড বিতরণের কথা জানান তিনি।

প্রতিমন্ত্রী শেখ হাসিনার দেশে ফেরার বিষয়ে মন্তব্য করে বলেন, ক্ষমতাচ্যুত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দেশে ফিরলেই বিচারের মুখোমুখি করা হবে। তিনি বলেন, "দণ্ডপ্রাপ্ত পলাতক আসামি শেখ হাসিনার মাঝেমধ্যেই দেশে ফেরার হুমকি দেওয়া দেয়। কিন্তু আর দেশে ফেরা হয় না। আমরাও চাই, দেশে ফিরে আসুন। কারণ, জনগণ বিচার দেখতে অপেক্ষা করছে।"

জনসমর্থনের পার্থক্য তুলে ধরে তিনি বলেন, "তারেক রহমানের দেশে ফেরার দিন কোটি কোটি মানুষ ঢাকায় সমবেত হয়েছিলেন। কিন্তু শেখ হাসিনাকে দেশ ছেড়ে পালাতে হয়েছে। এটাই জনগণের ভালোবাসা আর জনসমর্থনের পার্থক্য।" শহীদ জিয়ার প্রতিষ্ঠিত বিএনপি যুগে যুগে জনপ্রিয়তা ধরে রেখেছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি। জনগণের ভালোবাসা এবং আস্থা বিএনপির সবচেয়ে বড় শক্তি বলে উল্লেখ করেন।

শনিবার (২৪ অক্টোবর) দুপুরে বগুড়ার মোকামতলা উপজেলার রাধাকান্তপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় মাঠে আয়োজিত সুধী সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। সভাপতিত্ব করেন মোকামতলা উপজেলা বিএনপির আহবায়ক মাহমুদ হাসান তৌফিক।

স্থানীয় সরকার নির্বাচন প্রসঙ্গে মীর শাহে আলম বলেন, বিএনপি ‘আমি-ডামি’ নির্বাচন করে ক্ষমতায় যেতে চায় না। জনগণ তাদের পছন্দের প্রার্থীকে অবাধে ভোট দিয়ে নির্বাচিত করবেন। তিনি বলেন, "বিন্দুমাত্র হস্তক্ষেপ করবে না সরকার। কেউ বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করলে দলীয় পরিচয়ে পার পাওয়ার সুযোগ নেই।"

একইদিন, বগুড়া-২ আসনে মীর শাহে আলম ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের কন্যা ব্যারিস্টার জাইমা রহমানের জন্মদিন উপলক্ষে দুই দিনব্যাপী কর্মসূচি উদ্বোধন করা হয়। প্রথম দিন মোকামতলা উপজেলার সৈয়দপুর উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে দিনব্যাপী বিনামূল্যে চক্ষু চিকিৎসা ও ছানি অপারেশন কার্যক্রম উদ্বোধন করেন প্রতিমন্ত্রী। প্রায় দুই হাজার মানুষ চক্ষু চিকিৎসা সেবা নিয়েছেন এবং তাদের মধ্যে প্রায় ৬০০ জনের ছানি অপারেশনের ব্যবস্থা করা হবে। কর্মসূচির শেষদিন শিবগঞ্জ পাইলট উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে দুই উপজেলার ৬ শতাধিক শিক্ষার্থীর মধ্যে বাইসাইকেল উপহার দেওয়ার কথা জানানো হয়।

বক্তব্যে প্রতিমন্ত্রী বলেন, "তারা (জামায়াত) এমন একটি সংগঠন, যারা নিজেদের কর্মীদের পাশাপাশি একজন ফকিরকেও ভিক্ষা দেয় না।" তিনি বলেন, "বেহেশতের প্রলোভনে যারা জামায়াতকে ভোট দিয়েছেন, তারা এখন আফসোস করছেন। ভোটের পর তাদেরকে জনগণের পাশে দেখা যাচ্ছে না।" জামায়াত ইসলামের নেতা ও কর্মীদের আর্থিক নিরাপত্তার বিষয়ে কার্যকর উদ্যোগ নেয়নি বলেও তিনি মন্তব্য করেন। বিএনপি জনগণের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে চায় এবং ইমাম মুয়াজ্জিনদের বেতনের ব্যবস্থা করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

সুধী সমাবেশে বক্তব্য রাখেন বগুড়া জজ আদালতের জিপি শফিকুল ইসলাম টুকু, শিবগঞ্জ উপজেলা বিএনপির সভাপতি এসএম তাজুল ইসলাম, সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট আবদুল ওহাব, মোকামতলা উপজেলা বিএনপির সদস্য সচিব রোকন-উদ-দৌলা রুবেল, শিবগঞ্জ উপজেলা বিএনপির ছাত্র বিষয়ক সম্পাদক মীর শাকরুল আলম সীমান্ত, পৌর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আব্দুল করিম, শিবগঞ্জ উপজেলা যুবদলের সভাপতি খালিদ হাসান আরমান। এসময় শিবগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. জিয়াউর রহমান, প্রতিমন্ত্রীর প্রেস সেক্রেটারি (রাজনৈতিক) মো. আতিকুর রহমান, শিবগঞ্জ থানার ওসি মো. শাহীনুজ্জামান শাহীন সহ বিএনপি ও অঙ্গ সংগঠনের নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ১৩ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪৪
জোহর ১১:৪৪
আসর ০৩:৪৮
মাগরিব ০৫:২৫
ইশা ০৬:৩৭
সূর্যোদয় : ০৬:০০ সূর্যাস্ত : ০৫:২৫
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%