০৬:১৫ পি.এম
সংস্কৃতিমন্ত্রী নিতাই রায় চৌধুরী মন্তব্য করেছেন যে, একটি দেশের সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য শুধুমাত্র দৃশ্যমান স্থাপনা, নিদর্শন বা প্রত্নসম্পদের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়; বরং মানুষের জীবনযাপন, লোকাচার, উৎসব, সংগীত, নৃত্য, কারুশিল্প, লোকজ জ্ঞান, চিকিৎসাপদ্ধতি এবং প্রজন্ম থেকে প্রজন্মে প্রবাহিত বিভিন্ন ঐতিহ্যের মধ্যেও একটি জাতির সাংস্কৃতিক পরিচয় নিহিত রয়েছে। এসব সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য সংরক্ষণে স্থানীয় জনগণের এবং কমিউনিটির সক্রিয় অংশগ্রহণ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে তিনি উল্লেখ করেন।
শনিবার (২৪ অক্টোবর) ঢাকার শাহবাগে জাতীয় জাদুঘরে আয়োজিত এক সেমিনারে তিনি এসব বক্তব্য দেন।
মন্ত্রী আরও বলেন, বৈচিত্র্যের মধ্যে ঐক্য বাংলাদেশের সাংস্কৃতিক শক্তি। পাহাড় ও সমতল, বিভিন্ন জনগোষ্ঠী ও সম্প্রদায়ের জীবনধারা, আচার-অনুষ্ঠান ও উৎসবের মধ্যে বৈচিত্র্য থাকলেও জাতীয় পরিচয় ও দেশপ্রেমের প্রশ্নে আমরা অভিন্ন। বাংলাদেশের দীর্ঘ ঐতিহ্যবাহী সংস্কৃতির ধারাবাহিকতা রক্ষায় সমাজের সব শ্রেণি-পেশা ও সম্প্রদায়ের মানুষের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করার ওপর তিনি গুরুত্বারোপ করেন।
আরও পড়ুন: ইসরাইল নির্বাচনে হাড্ডাহাড্ডি লড়াই, সরকার গঠনে একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা অধরাই
নিতাই রায় চৌধুরী বলেন, বাংলাদেশের ঐতিহ্য হাজার বছরের সাংস্কৃতিক অভিজ্ঞতায় সমৃদ্ধ। এ দেশের মানুষ নিজ নিজ ধর্মীয় ও সামাজিক উৎসব স্বাধীনভাবে ও শান্তিপূর্ণভাবে উদযাপন করে আসছে। পারস্পরিক শ্রদ্ধা, সহনশীলতা ও সম্প্রীতির এই ঐতিহ্য বাংলাদেশের সাংস্কৃতিক পরিচয়ের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ।
তিনি আরো বলেন, দেশের লোকজ উৎসব, নৌকা বাইচ, লোকসংগীত, লোকনৃত্যসহ জীবনঘনিষ্ঠ সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ড মানুষের মধ্যে আনন্দ, সম্প্রীতি ও সামাজিক বন্ধন তৈরি করে। সংস্কৃতি মন্ত্রণালয় দেশীয় নৌকা বাইচসহ ঐতিহ্যবাহী আয়োজনগুলোকে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে বিস্তৃত করার লক্ষ্যে কাজ করছে।
মন্ত্রী বলেন, তরুণ প্রজন্মকে দেশীয় সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যের সঙ্গে সম্পৃক্ত করতে হবে। খেলাধুলা, লোকজ উৎসব ও সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডে তরুণদের অংশগ্রহণ বাড়ানো গেলে তাদের সৃজনশীলতা ও সামাজিক দায়বদ্ধতা বৃদ্ধি পাবে এবং মাদক ও অন্যান্য নেতিবাচক কর্মকাণ্ড থেকে তাদের দূরে রাখার ক্ষেত্রেও ইতিবাচক ভূমিকা রাখতে পারবে।
নারীর মর্যাদা ও অংশগ্রহণের ওপর গুরুত্ব দিয়ে তিনি বলেন, সমাজ ও সংস্কৃতির বিকাশে নারীর অবদান অনস্বীকার্য। নারীর প্রতি সম্মান, নিরাপত্তা ও সমঅধিকার নিশ্চিত করার পাশাপাশি নারীশক্তিকে আরো সক্রিয় ও বিকশিত করতে সরকার কাজ করছে। সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য সংরক্ষণ ও প্রজন্মান্তরে তা পৌঁছে দেওয়ার ক্ষেত্রেও নারীর গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে।
আরও পড়ুন: ইসরায়েলে পার্লামেন্ট নির্বাচনের ভোট গণনা চলছে, লিকুদ পার্টি এগিয়ে
তিনি বলেন, কমিউনিটি-ভিত্তিক সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য সংরক্ষণের ক্ষেত্রে স্থানীয় জনগণের জ্ঞান ও অভিজ্ঞতাকে যথাযথ গুরুত্ব দিতে হবে। স্থানীয় মানুষকে সম্পৃক্ত করে ঐতিহ্য শনাক্তকরণ, নথিবদ্ধকরণ, চর্চা ও প্রজন্মান্তরে হস্তান্তরের ব্যবস্থা করা গেলে সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য আরো কার্যকরভাবে সংরক্ষণ করা সম্ভব হবে।
সেমিনারে সভাপতিত্ব করেন জাতীয় জাদুঘরের মহাপরিচালক তানজিম ইবনে ওয়াহাব। এতে সংস্কৃতিবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সচিব ইয়াসমিন বেগম এবং ইউনেস্কোর প্রতিনিধি বক্তব্য দেন। সেমিনারে জাতীয় জাদুঘর ও সংস্কৃতিবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তা, সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব, গবেষক ও সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন পর্যায়ের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন