ঢাকা শনিবার, ২৪শে অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ০৮ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ১৩ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
শনিবার, ২৪শে অক্টোবর, ২০২৬ইং ০৮ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

নির্ধারিত এলাকার সমস্ত প্ল্যান পাস করবে ময়মনসিংহ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ: মউক চেয়ারম্যান


নির্ধারিত এলাকার সমস্ত প্ল্যান পাস করবে ময়মনসিংহ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ: মউক চেয়ারম্যান

ময়মনসিংহ, ৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ : নবগঠিত ময়মনসিংহ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (মউক) চেয়ারম্যান মো. মোতাহার হোসেন তালুকদার বলেছেন, চলতি বছরের ১০ এপ্রিল উন্নয়ন কর্তৃৃপক্ষের আইন পাস হয়েছে। এ আইন পাস হওয়ার পর ময়মনসিংহ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের যে নির্ধারিত এলাকা আছে, সেই এলাকার মধ্যে সমন্ত প্ল্যান পাস করবে উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ। শুধু প্ল্যান পাস করেই উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ বসে থাকবে না, কর্তৃপক্ষের কর্মকর্তারা বিশেষ করে পরিদর্শক প্রকৌশলীরা নির্ধারিত ভবনে যাবে এবং ওই ভবনের যে প্ল্যান আছে সেই প্ল্যান দেখে তা বাস্তবায়ন করবে।

আজ বুধবার দুপুরে ময়মনসিংহ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের বোর্ড সভা শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আনুষ্ঠানিক ব্রিফিংয়ে মউক চেয়ারম্যান এসব কথা বলেন।

তিনি আরও বলেন, উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের এ আইন পাস হওয়ার পর স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয় থেকে দেশের সকল সিটি করপোরেশনে চিঠি দেওয়া হয়েছে উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের কাছে এই সক্রান্ত সমস্ত ফাইলপত্র ও তথ্য বুঝিয়ে দেওয়ার জন্য। আমরা আশা রাখি, সিটি কর্পোরেশন উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের কাছে এই সক্রান্ত সমস্ত ফাইলপত্র বুঝিয়ে দিবে। এছাড়া আমরা ইতিমধ্যেই মন্ত্রণালয়ের চিঠি, গণপূর্তের চিঠিসহ আমাদের একটা চিঠি সিটি কর্পোরেশনকে দিয়েছি। আশা রাখি তাদের কাছ থেকে সহযোগিতা পাব এবং আমরা ময়মনসিংহকে একটা পরিকল্পিত নগরী হিসেবে তৈরি করতে পারব।

আরও পড়ুন: গাজীপুরের পোশাক কারখানার গুদামে আগুন, নিয়ন্ত্রণে ফায়ার সার্ভিসের চার ইউনিট

এ সময় নিয়ম অমান্য করে নির্মাণাধীন বা নির্মিত ভবন প্রসঙ্গে মউক চেয়ারম্যান বলেন, কেউ ভবন নির্মাণে অনিয়ম করলে আইনে জরিমানার বিধান আছে। প্রয়োজনে ভবন মডিফাই করারও বিধান আছে। তাছাড়া যেসকল কর্মাশিয়াল স্পেসে-এ কার পাকিং করা হয় নাই, সেখানে আমরা কার পাকিং বাধ্যতামূলক করেছি। 

এর আগে ময়মনসিংহ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের অনুষ্ঠিত বোর্ড সভায় উপস্থিত ছিলেন বোর্ড সদস্য ও মউক প্রকৌশলী শফিকুল ইসলাম, গণপূর্ত ময়মনসিংহ সার্কেলের তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী শফিকুল ইসলাম, গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের উপসচিব আসাদুজ্জামান রিপন, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) রোজা মো. গোলাম মাসুম প্রধান, স্থাপত্য অধিদপ্তরের নির্বাহী স্থপতি সায়কা বিনতে আলম।

উল্লেখ্য, ময়মনসিংহ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ গঠন হওয়ার পর এই প্রথম বোর্ড সভা অনুষ্ঠিত হয়। এতে প্লান পাস, ফি নির্ধারণ ও ব্যাংক হিসাব চালুসহ বিবিধ আলোচনা করা হয়।

আরও পড়ুন: নেছারাবাদে বিএনপি নেতা মিঠুর গণসংযোগ, ইউপি নির্বাচনে মনোনয়ন প্রত্যাশা

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

দুর্নীতি-অনিয়মের অভিযোগে প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে মানববন্ধন

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

বুধবার, ৯ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং

০৮:১৬ পি.এম


দুর্নীতি-অনিয়মের অভিযোগে প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে মানববন্ধন

দুর্নীতি-অনিয়মের অভিযোগে প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে মানববন্ধন

 

চট্টগ্রামের রাউজান উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. জয়িতা বসুর বিরুদ্ধে প্রকল্পের অর্থ আত্মসাৎ ও সরকারি প্রণোদনা বিতরণে অনিয়মসহ বিভিন্ন দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে। ক্ষুব্ধ খামারিদের তীব্র আন্দোলন ও বিক্ষোভের কারণে সদ্য বদলি হওয়া এই কর্মকর্তা শেষ কর্মদিবসে পুলিশ পাহারায় তাঁর কার্যালয় ত্যাগ করতে বাধ্য হন। বুধবার (৯ সেপ্টেম্বর) বেলা সাড়ে ১২টার দিকে রাউজান উপজেলা প্রাণিসম্পদ দপ্তর ও ভেটেরিনারি হাসপাতালের সামনে চট্টগ্রাম-রাঙ্গামাটি মহাসড়কে একটি মানববন্ধন কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়, যেখানে স্থানীয় খামারিরা অংশগ্রহণ করেন।

প্রত্যক্ষদর্শীদের তথ্য অনুযায়ী, ডা. জয়িতা বসুর শেষ কর্মদিবস উপলক্ষে দপ্তরে একটি বিদায় সংবর্ধনার আয়োজন করা হয়েছিল। খবর পেয়ে আন্দোলনরত খামারিরা ব্যানার ও প্ল্যাকার্ড নিয়ে দপ্তরের সামনে জড়ো হয়ে বিক্ষোভ শুরু করেন। পরিস্থিতি বেগতিক দেখে থানা পুলিশকে খবর দেওয়া হয়। পরে পুলিশ পাহারায় তিনি একটি গাড়িতে করে দপ্তর ত্যাগ করার সময় আন্দোলনকারীরা তাঁকে লক্ষ্য করে "চোর চোর" স্লোগান দেন।

অনুসন্ধানে জানা গেছে, ডা. জয়িতা বসু ২০২৩ সালের ১৫ অক্টোবর ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন এবং ২০২৪ সালের ৩ নভেম্বর পূর্ণ দায়িত্ব নিয়ে রাউজানে যোগ দেন। তবে চলতি বছরের জুন মাসের শেষ দিকে খামারিরা তাঁর বিরুদ্ধে সরকারি প্রণোদনা ও প্রকল্পের অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ এনে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সহ সংশ্লিষ্ট দপ্তরে লিখিত আবেদন করেন। একই বিষয়ে গত ১৫ আগস্ট সাংবাদিক সম্মেলনও অনুষ্ঠিত হয়। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ২৩ আগস্ট এক অফিস আদেশে তাঁকে পটিয়া উপজেলা প্রাণিসম্পদ দপ্তরে বদলি করা হয়।

মানববন্ধনে অংশগ্রহণকারী মোহাম্মদপুর আসিফ এগ্রোর স্বত্বাধিকারী মো. আমিনুর রহমান আসিফ বলেন, "২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর থেকে খামারিদের প্রশিক্ষণ ও প্রকল্পের অর্থ আত্মসাৎ ছাড়াও দপ্তরের সরকারি সরঞ্জাম বিক্রি করে দেওয়া হয়েছে।" তিনি আরও বলেন, "কদলপুরের এক ব্যক্তির কাছে প্রতিটি ৩০০ টাকা দরে ৫০টি সরকারি চেয়ার বিক্রি করা হয়েছে। এছাড়া, ১৫ হাজার টাকায় একটি ঘাস কাটার যন্ত্র বিক্রি এবং দুধ দোহনের মেশিন অনৈতিক সুবিধার বিনিময়ে হস্তান্তর করা হয়েছে। এমনকি দপ্তরের এসি পর্যন্ত তিনি খুলে নিয়ে গেছেন।"

মানববন্ধনে বক্তব্য প্রদানকালে অন্যান্য খামারি সালাউদ্দিন, আলমগীর, রত্না মুহুরী, মনছুরুল হাসান চৌধুরী ও মোহাম্মদ আলী আকবর অভিযোগ করেন, "অনিয়মের বিরুদ্ধে মুখ খোলায় সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা স্থানীয় সন্ত্রাসীদের দিয়ে তাঁদের নিয়মিত হুমকি-ধমকি দিচ্ছেন।" খামারিরা অবিলম্বে এসব দুর্নীতির বিভাগীয় ও সুষ্ঠু তদন্ত দাবি করেন।

তবে ডা. জয়িতা বসু নিজের বিরুদ্ধে ওঠা সমস্ত অভিযোগ অস্বীকার করে দাবি করেন, "সমস্ত কর্মকাণ্ড প্রাতিষ্ঠানিক প্রক্রিয়ার মাধ্যমে স্বচ্ছতার সাথে সম্পাদন করা হয়েছে। আমি কোন দুর্নীতি-অনিয়ম করি নি।" তিনি আরও বলেন, "কোন উপজেলা প্রাণীসম্পদ কার্যালয়ে এসি নেই। আমার কার্যালয়ে কোনো সরকারি এসি ছিল না, আমি নিজের কেনা এসি ব্যবহার করতাম, যা বদলি সূত্রে নিয়ে যাচ্ছি। কিছু অসাধু লোক অনৈতিক সুবিধা না পেয়ে আমার বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালাচ্ছে।"

ঘটনার বিষয়ে রাউজান থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) সাইফুল ইসলাম বলেন, "বিশৃঙ্খলা এড়াতে কর্মকর্তার অনুরোধে কার্যালয়ে পুলিশ পাঠানো হয়েছিল, তবে বড় ধরনের কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেনি।" এ বিষয়ে রাউজান উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট এস. এম. রাহাতুল ইসলাম জানান, "অভিযোগগুলো খতিয়ে দেখা হচ্ছে এবং জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তার সাথে আলোচনা সাপেক্ষে পরবর্তী প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

চাঁদপুরে আইনজীবীদের আদালত বর্জন, বিচার কার্যক্রমে অচলাবস্থা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

বুধবার, ৯ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং

০৮:১৮ পি.এম


চাঁদপুরে আইনজীবীদের আদালত বর্জন, বিচার কার্যক্রমে অচলাবস্থা

চাঁদপুর আদালত বর্জন ঘোষণা আইনজীবীদের, বিচার কার্যক্রমে অচলাবস্থা

 

জেলা আইনজীবী সমিতির আইনজীবীরা চাঁদপুরের চীফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালত, সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালত-১ এবং সদর সিনিয়র সহকারী জজ আদালতকে অনির্দিষ্টকালের জন্য বর্জন করার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। বুধবার (০৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬) সকালে আইনজীবী সমিতির ভবনে অনুষ্ঠিত জরুরি সাধারণ সভায় এই কঠোর পদক্ষেপ গৃহীত হয়।

সভাটির সভাপতিত্ব করেন চাঁদপুর জেলা আইনজীবী সমিতির সভাপতি অ্যাডভোকেট মো. শামছুল ইসলাম মন্টু এবং পরিচালনা করেন সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট মো. জাকির হোসেন তালুকদার (ফয়সাল)। সভায় সমিতির কার্যনির্বাহী পরিষদের সদস্যবৃন্দ, সিনিয়র আইনজীবী ও সাধারণ আইনজীবীরা উপস্থিত ছিলেন।

আইনজীবী সমিতির সূত্রে জানা গেছে, বিচারকদের কিছু অনিয়ম, পেশাগত অসদাচরণ এবং আইনজীবীদের প্রতি অপেশাদারসুলভ আচরণের প্রতিবাদে এই বর্জনের ডাক দেওয়া হয়েছে। সাধারণ সভায় বক্তারা উল্লেখ করেন, বিচার বিভাগে আইনজীবীদের যথাযথ সম্মান প্রদর্শন এবং ন্যায়বিচার নিশ্চিত করার পরিবেশ ফিরিয়ে আনার স্বার্থে এই কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া ছাড়া অন্য কোনো বিকল্প ছিল না। তারা বলেন, বিচারপ্রার্থীদের দীর্ঘদিনের ভোগান্তি ও বিচারকাজে একতরফা প্রভাব এড়াতে আদালত বর্জনের মতো সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য হয়েছেন।

এই কর্মসূচির ফলস্বরূপ উল্লেখিত আদালতগুলোতে নির্ধারিত মামলার কার্যক্রম মারাত্মকভাবে ব্যাহত হয়েছে। দূর-দূরান্ত থেকে আসা বিচারপ্রার্থীরা বিচারকার্য সম্পন্ন করতে না পেরে আদালত চত্বর থেকে ফিরে গেছেন।

আইনজীবী সমিতির নেতৃবৃন্দ হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে জানিয়েছেন, দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত এই আদালত বর্জন কর্মসূচি অব্যাহত থাকবে। তারা সতর্ক করেছেন যে, উদ্ভূত পরিস্থিতি নিরসনে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ না নিলে পরবর্তীতে আরও কঠোর ও বৃহত্তর আন্দোলন কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের তৈরি শ্বেতপত্রের আলোকেই পদক্ষেপ গ্রহণ করছে সরকার : প্রধানমন্ত্রী

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

বুধবার, ৯ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং

০৮:২১ পি.এম


অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের তৈরি শ্বেতপত্রের আলোকেই পদক্ষেপ গ্রহণ করছে সরকার : প্রধানমন্ত্রী

সংসদ ভবন, ৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ : প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান উল্লেখ করেছেন, ‘বিগত ১৭ বছরের দুর্নীতির ওপরে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের তৈরি শ্বেতপত্রের আলোকেই পদক্ষেপ নিচ্ছে বর্তমান সরকার।’

আজ বুধবার জাতীয় সংসদে প্রধানমন্ত্রীর প্রশ্নোত্তর পর্বে কুমিল্লা-১০ আসনের সংসদ সদস্য মোবাশ্বের আলম ভুঁইয়ার একটি সম্পূরক প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী সংসদকে এ তথ্য জানান।

তিনি বলেন, ‘অন্তর্বর্তীকালীন সরকার একটি কমিটি গঠন করেছিল এবং সেই কমিটি সমগ্র দেশের মানুষের সামনে একটি শ্বেতপত্র বা এই ধরনের একটি রিপোর্ট-হোয়াইট পেপার প্রকাশ করেছিল। সেখানে বিভিন্ন বিষয়ের মধ্যে উল্লেখযোগ্য ছিল অর্থনীতির বিষয়টি। ওই পেপারটা যদি বের করে দেখেন তাহলে মোটামুটিভাবে পরিষ্কার একটি চিত্র পাবেন।’

প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, ‘বর্তমান সরকার সেই পেপারটিকে সামনে রেখে যে সকল পদক্ষেপ গ্রহণ করা উচিত পর্যায়ক্রমে চেষ্টা করা হচ্ছে সেই সকল পদক্ষেপ গ্রহণের জন্য।’

প্রকল্পের মেয়াদ ও ব্যয় বৃদ্ধি সম্পর্কিত প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘দেশে সরকারি উন্নয়ন প্রকল্পে মেয়াদ বৃদ্ধি ও ব্যয় বৃদ্ধি সাধারণত একটি কারণে হয় না। প্রকল্প প্রণয়ন, অনুমোদন, ভূমি অধিগ্রহণ, অর্থায়ন, ক্রয় প্রক্রিয়া, ব্যবস্থাপনার একাধিক দুর্বলতা পরস্পরের সঙ্গে যুক্ত হয়ে এই সমস্যা তৈরি করে। প্রকল্পের মেয়াদ ও ব্যয় বৃদ্ধির প্রবণতার বিষয়টি বর্তমান সরকারের দৃষ্টিগোচর হওয়ার পর এ বিষয়ে বিভিন্ন পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়েছে।’

তিনি আরও বলেন, ‘প্রথমত, উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে মেয়াদ ও ব্যয় বৃদ্ধির কারণ চিহ্নিত করা হয়েছে। এগুলো হলো: দুর্বল ফিজিবিলিটি স্টাডি, প্রকল্পের ব্যয় প্রাক্কলন যথাযথ না হওয়া, প্রকল্প এলাকা নির্বাচনে দুর্বলতা, ভূমি অধিগ্রহণে বিলম্ব, ইউটিলিটি স্থানান্তরে বিলম্ব, ক্রয় প্রক্রিয়ায় বিলম্ব, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে প্রকল্প পরিচালক নিয়োগ না দেওয়া, দুর্বল মনিটরিং ও জবাবদিহিতা, অর্থায়ন পরিকল্পনা ও বাজেট সামঞ্জস্যের ঘাটতি এবং আন্তঃমন্ত্রণালয় সমন্বয়ের অভাব ইত্যাদি।’

এসব সমস্যা সমাধানে সরকারের নেওয়া পদক্ষেপ তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘এগুলো হচ্ছে, নতুন প্রকল্প গ্রহণের পূর্বে নির্ভুল সম্ভাব্যতা সমীক্ষা প্রণয়ন নিশ্চিত করা, প্রকল্প অনুমোদনের পর প্রকল্প বাস্তবায়ন প্রস্তুতি ত্বরান্বিত করা, প্রকল্প প্রণয়ন, প্রক্রিয়াকরণ, অনুমোদন ও সংশোধন সংক্রান্ত বিদ্যমান নির্দেশিকা সময়োপযোগী করার লক্ষ্যে নির্দেশিকার সংশোধন, চলমান প্রকল্পের বাস্তবায়ন অগ্রগতি মনিটরিং জোরদার করার জন্য সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়/বিভাগে ড্যাশবোর্ড স্থাপন, নিয়মিত প্রকল্প পর্যালোচনা ও মাঠপর্যায়ে নিবিড় তদারকি বৃদ্ধি, ভূমি অধিগ্রহণ ও ইউটিলিটি স্থানান্তর কার্যক্রম দ্রুত সম্পন্নের লক্ষ্যে সংশ্লিষ্ট সংস্থাসমূহের মধ্যে সমন্বয় জোরদার, যে সব প্রকল্প নির্ধারিত সময়ের মধ্যে সম্পন্ন হয়নি, সে সব প্রকল্পের বিলম্ব, অনিয়ম, ব্যয় বৃদ্ধি ও সংশোধনের কারণ নিরূপণের লক্ষ্যে মন্ত্রণালয় কর্তৃক পর্যালোচনাপূর্বক বিলম্বের জন্য ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে বিধি অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশনা প্রদান।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘সব প্রকল্পের বাস্তবায়ন অগ্রগতি ৩০ শতাংশের কম সেসব প্রকল্পের উপযোগিতা ও কার্যকারিতা বিবেচনা করে প্রকল্পগুলো পুনর্বিন্যাস, স্কোপ পরিবর্তন কিংবা চলমান রাখার বিষয়ে মন্ত্রণালয়/বিভাগ কর্তৃক যথাযথ পদক্ষেপ গ্রহণ, বিচ্ছিন্নভাবে প্রকল্প গ্রহণ না করে সমন্বিত কর্মসূচির অধীনে গুচ্ছ প্রকল্প গ্রহণের নির্দেশনা প্রদান, সরকারি ক্রয় ব্যবস্থায় ই-জিপি ব্যবহারের সম্প্রসারণ, পেশাগত যোগ্যতা, দক্ষতা ও বাস্তব অভিজ্ঞতাকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব প্রদান করে প্রকল্প পরিচালক নিয়োগ এবং প্রয়োজনীয় ক্ষেত্রে দায়িত্বের ধারাবাহিকতা নিশ্চিতকরণ, বিদ্যমান নীতিমালা হালনাগাদ, সরকারি ও বেসরকারি অংশীদারিত্ব (পিপিপি) মডেলের প্রকল্প গ্রহণের বিষয়ে গুরুত্ব প্রদানের বিষয়ে নির্দেশনা প্রদান এবং সরকারি ক্রয় অধিকতর প্রতিযোগিতা এবং জবাবদিহিতামূলক করতে পাবলিক প্রকিউরমেন্ট রুল ২০২৫ হালনাগাদ করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।’

সাময়িক সংকটকালীন সময়ে শিল্পখাতে গ্যাস সংকট মোকাবিলায় সরকারের পরিকল্পনা তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘পরিকল্পনাগুলো হচ্ছে: ২০৩০-৩১ সালের মধ্যে লক্ষ্যমাত্রা অনুযায়ী ১৫০টি কূপ খনন, দেশীয় গ্যাসের উৎস অনুসন্ধানের লক্ষ্যে মোট ৪,৫০০ লাইন কি.মি. ২ডি সাইসমিক (দ্বি-মাত্রিক) সার্ভে এবং ৪,২০০ বর্গ কি.মি. ৩ডি সাইসমিক (ত্রি-মাত্রিক) সার্ভে পরিচালনা, সমুদ্রাঞ্চলের ২৬টি ব্লকে তেল ও গ্যাস অনুসন্ধান এবং উত্তোলনের লক্ষ্যে আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠান নিয়োগের জন্য গত ২৪ মে আন্তর্জাতিক বিডিং রাউন্ড আহ্বান করা হয়েছে। নভেম্বর পর্যন্ত বিড দাখিলে সময়সীমা নির্ধারণ আছে। স্থলভাগে তেল ও গ্যাস অনুসন্ধানে আন্তর্জাতিক বিনিয়োগ আকর্ষণের লক্ষ্যে বাংলাদেশ অনশোর মডেল পিএসসি-২০২৬ প্রণয়নের কার্যক্রম গ্রহণ।’

তিনি বলেন, ‘দেশে বিদ্যমান দুটি ভাসমান এলএনজি টার্মিনালের মাধ্যমে কমবেশি গড়ে দৈনিক ৯৩৫ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস সরবরাহ করা সম্ভব হয়। ভবিষ্যতে আকস্মিক গ্যাস সংকটে শিল্পখাত যেন বড় ধরনের ক্ষতির সম্মুখীন না হয় তা নিশ্চিতের জন্য মহেশখালির কুতুবজোমে নতুন একটি ভাসমান এলএনজি টার্মিনাল এবং মাতারবাড়িতে একটি ল্যান্ড-বেইজড এলএনজি টার্মিনাল স্থাপনের কার্যক্রম বাস্তবায়নাধীন রয়েছে।’

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘পরিকল্পনা অনুযায়ী কুতুবজোম ভাসমান এলএনজি টার্মিনাল হতে ২০২৮ সালে এবং ল্যান্ড-বেইজড এলএনজি টার্মিনাল হতে ২০৩০ সালের ডিসেম্বরে নাগাদ রি-গ্যাসিফাইড এলএনজি সরবরাহ করা হবে আশা করা যায়।’

পায়রা বা মোংলা বন্দর এলাকা অথবা দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের সমুদ্র উপকূল বিবেচনায় গভীর সমুদ্রে কোনো সুবিধাজনক স্থান নির্বাচন করে জরুরি ভিত্তিতে নতুন একটি ভাসমান টার্মিনাল স্থাপনের জন্য সম্ভাব্যতা যাচাইয়ের কার্যক্রম চলমান রয়েছে বলেও জানান প্রধানমন্ত্রী।

তিনি বলেন, ‘ভোলার গ্যাস এলএনজি আকারে মেইনল্যান্ডে এনে আগ্রহী গ্রাহক শিল্প প্রতিষ্ঠানে সরবরাহের বিষয়ে সম্ভাব্যতা যাচাইয়ের উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে। গ্যাসপ্রাপ্তি সাপেক্ষে শিল্প প্রতিষ্ঠানে গ্যাস সরবরাহ করার পরিকল্পনা রয়েছে। এক্ষেত্রে অর্থনৈতিক অঞ্চল, ইপিজেড ও বিসিকের মত পরিকল্পিত শিল্পাঞ্চলে অবস্থিত শিল্প প্রতিষ্ঠানসমূহকে অগ্রাধিকার দেওয়া হবে।’

ভোলার গ্যাস ব্যবহার প্রসঙ্গে সুলতানা আহমেদের অপর এক সম্পূরক প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘ভোলায় যে গ্যাস রয়েছে সেই গ্যাসকে যদি পাইপলাইনের মাধ্যমে মেইনল্যান্ডে নিয়ে আসতে চাই, তাহলে সেই পরিকল্পনা বাস্তবায়নে অন্তত সাত বছরের মত সময় লাগবে।’

তারেক রহমান বলেন, ‘আমরা যেটি করতে চাচ্ছি তা হলো-সেখানে শিল্প কারখানা স্থাপন করা যায় কিনা। এরই মধ্যে কিছু শিল্প উদ্যোক্তা সেখানে তাদের কারখানা স্থাপনের চেষ্টা করছেন। যেগুলো গ্যাস দ্বারা পরিচালিত হবে। এর ফলে একদিকে কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা হবে, অন্যদিকে অর্থনীতির পরিধিও বৃদ্ধি পাবে ভোলা অঞ্চলে। এর বাইরেও সেখানকার গ্যাসকে সঠিকভাবে দেশের স্বার্থে ব্যবহারের জন্য একটি সার কারখানা স্থাপনের পরিকল্পনা রয়েছে। একইসঙ্গে পাঁচশ মেগাওয়াটের আরেকটি বিদ্যুৎকেন্দ্র স্থাপনের আলোচনা চলছে।’

জাতীয় সংসদের স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদের সভাপতিত্বে বিকেল সাড়ে তিনটায় সংসদের অধিবেশন শুরু হয়। অধিবেশনের প্রথম ৩০ মিনিট ছিলো প্রধানমন্ত্রীর প্রশ্নোত্তর পর্ব।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

হারুনের বিরুদ্ধে দুই মামলায় চার্জশিট দিয়েছে দুদক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

বুধবার, ৯ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং

০৮:২২ পি.এম


হারুনের বিরুদ্ধে দুই মামলায় চার্জশিট দিয়েছে দুদক

ঢাকা, ৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ : সাবেক অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (ডিবি) মোহাম্মদ হারুন অর রশীদের বিরুদ্ধে জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জন ও অর্থপাচারের অভিযোগে দায়ের করা দুই মামলায় চার্জশিট অনুমোদন করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।

আজ বুধবার দুদকের জনসংযোগ বিভাগের সহকারী পরিচালক মো. তানজির আহমেদ এ তথ্য জানান।

দুদক জানায়, সজেকা, ঢাকা-১-এর মামলা নং ১৬ (১৭ ডিসেম্বর ২০২৪) এ হারুন অর রশীদের বিরুদ্ধে ২১ কোটি ২৮ লাখ ৯ হাজার ৬০৫ টাকার সম্পদ অর্জনের তথ্য পাওয়া গেছে। এর বিপরীতে ব্যয় বাদে তার বৈধ আয় ১ কোটি ২৯ লাখ ১৫ হাজার ৬ টাকা হারুনের বিরুদ্ধে ১৯ কোটি ৯৮ লাখ ৯৪ হাজার ৫৯৯ টাকার জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জনের সত্যতা পেয়েছে দুদক।

অন্যদিকে, ১৮ নং মামলায় হারুন অর রশীদ ও তার ভাই এ বি এম শাহারিয়ারকে আসামি করা হয়েছে। এ মামলায় শাহারিয়ারের ১৮ কোটি ২৮ লাখ ৭ হাজার ৫৫৫ টাকার জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জনের সত্যতা পেয়েছে দুদক। এছাড়া হারুনের কাছ থেকে হেবা সূত্রে ১ হাজার ৮৫০ শতাংশ জমি পাওয়াসহ সম্পদ স্থানান্তর ও মানিলন্ডারিংয়ের সত্যতাও পাওয়া গেছে।

দুদক জানায়, মামলা দুটির তদন্ত কর্মকর্তা দুদকের প্রধান কার্যালয়ের উপপরিচালক মুহাম্মদ জয়নাল আবেদীন। তদন্তে আসামিদের স্থাবর-অস্থাবর সম্পদ, আয়কর নথি ও ব্যাংক লেনদেন পর্যালোচনা করা হয়েছে।

মামলা দুটিতে জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জনের পাশাপাশি অপরাধলব্ধ সম্পদের অবৈধ উৎস গোপন, সম্পদ হস্তান্তর, স্থানান্তর ও রূপান্তরের মাধ্যমে মানিলন্ডারিংয়ের সত্যতা পাওয়া গেছে।

হারুন অর রশীদের বিরুদ্ধে দুর্নীতি দমন কমিশন আইন, ২০০৪-এর ২৭(১), দুর্নীতি প্রতিরোধ আইন, ১৯৪৭-এর ৫(২) এবং মানিলন্ডারিং প্রতিরোধ আইন, ২০১২-এর ৪(২) ও ৪(৩) ধারায় চার্জশিট দেওয়া হয়েছে। 

আর এ বি এম শাহারিয়ারের বিরুদ্ধে এসব ধারার পাশাপাশি দণ্ডবিধির ১০৯ ধারায় চার্জশিট দেওয়া হয়েছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ১৩ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪৪
জোহর ১১:৪৪
আসর ০৩:৪৮
মাগরিব ০৫:২৫
ইশা ০৬:৩৭
সূর্যোদয় : ০৬:০০ সূর্যাস্ত : ০৫:২৫
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%