০১:০১ পি.এম
ঢাকা, ২৪ অক্টোবর, ২০২৬ : গণতান্ত্রিক কঙ্গো প্রজাতন্ত্রে (ডিআর কঙ্গো) ছড়িয়ে পড়া ইবোলা মহামারি মোকাবিলার জন্য প্রথমবারের মতো টিকার ক্লিনিক্যাল ট্রায়াল শুরু করা হয়েছে।
শুক্রবার এই তথ্য জানিয়েছেন বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (ডব্লিউএইচও) প্রধান।
খবরটি বার্তা সংস্থা এএফপি’র মাধ্যমে প্রকাশিত হয়েছে।
আরও পড়ুন: বোম্বে হাইকোর্ট ইমরান খানের ভারত ছাড়ার নোটিশ স্থগিত করেছে
ডিআর কঙ্গোতে বর্তমান ইবোলার প্রাদুর্ভাবটি দেশটির ইতিহাসে সবচেয়ে ভয়াবহ হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে। ইতোমধ্যে আক্রান্তের সংখ্যা ৯ হাজার ৭০০ ছাড়িয়ে গেছে এবং মৃতের সংখ্যা ৪ হাজার ৬০০-এর বেশি হয়েছে।
এই মহামারি মোকাবিলার ক্ষেত্রে একটি বড় বাধা হলো বান্দিবুগিও প্রজাতির ইবোলা ভাইরাসের বিরুদ্ধে কোনো অনুমোদিত টিকা বা চিকিৎসা না থাকা।
ইবোলার তুলনামূলকভাবে বেশি পরিচিত জাইরে প্রজাতির বিরুদ্ধে ব্যবহারের জন্য অনুমোদিত ‘এরভেবো’ টিকা এবার ডিআর কঙ্গোতে ব্যাপকভাবে মানবদেহে পরীক্ষার জন্য ব্যবহার করা হবে। এই পরীক্ষার মাধ্যমে বান্দিবুগিও প্রজাতির ভাইরাসের বিরুদ্ধে টিকাটি কিছুটা সুরক্ষা প্রদান করতে পারে কি না— তা যাচাই করা হবে।
শুক্রবার ডিআর কঙ্গোর উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় ইতুরি প্রদেশের রাজধানী বুনিয়ায় প্রথম ব্যক্তিকে এরভেবো টিকা দেওয়ার মাধ্যমে এই পরীক্ষা শুরু হয়। ইতুরি প্রদেশ বর্তমানে ইবোলা প্রাদুর্ভাবের অন্যতম কেন্দ্র।
আরও পড়ুন: সুদানে স্বর্ণের খোঁজে শ্রমিকেরা জীবন ঝুঁকিতে, খনিতে প্রাণ হারাচ্ছেন
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার প্রধান তেদরোস আধানম গেব্রেয়াসুস সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে লিখেছেন, ‘বিজ্ঞান আমাদের আশা জোগায়। আজ ডিআর কঙ্গোর বুনিয়ায় ‘তুমাইনি’ নামে নতুন ইবোলা টিকার পরীক্ষায় প্রথম অংশগ্রহণকারীদের টিকা দেওয়া হয়েছে। সোয়াহিলি ভাষায় ‘তুমাইনি’ শব্দের অর্থ ‘আশা’।’
তিনি উল্লেখ করেন, ‘এই পরীক্ষার মাধ্যমে বান্দিবুগিও ভাইরাসের জন্য তৈরি সম্ভাব্য টিকাগুলোর মধ্যে কোনোটি কার্যকর কি না— তা বোঝা যাবে।’
এছাড়া, বিদ্যমান এরভেবো টিকাটিও পরীক্ষা করা হবে বলে তিনি জানান।
তেদরোস আরও বলেন, ‘সমাধান খুঁজে বের করা ও মানুষের জীবন বাঁচানোর লক্ষ্যে ডিআর কঙ্গোর নেতৃত্বে পরিচালিত এই উদ্যোগে সহায়তা করছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা।’
আরও পড়ুন: জার্মান ভাইস মিনিস্টার ড. বারবেল কোফলারের আবুল খায়ের স্টীল মেল্টিং লিমিটেড পরিদর্শন
‘তুমাইনি’ নামের এই পরীক্ষার আওতায় একটি সমন্বিত কাঠামোর মধ্যে একাধিক টিকার নিরাপত্তা, কার্যকারিতা ও শরীরে রোগ প্রতিরোধক্ষমতা তৈরির সক্ষমতা যাচাই করা হবে।
এই পরীক্ষায় ‘রিং ভ্যাকসিনেশন’ পদ্ধতি অনুসরণ করা হবে, অর্থাৎ, সংক্রমণের উচ্চ ঝুঁকিতে থাকা আক্রান্ত ব্যক্তিদের সংস্পর্শে আসা মানুষদেরকে এই টিকা দেওয়া হবে।
বান্দিবুগিও ভাইরাসের জন্য বিশেষভাবে তৈরি আরও দুটি সম্ভাব্য টিকা পরীক্ষায় যুক্ত করার প্রস্তুতি চলছে। বর্তমানে টিকা দুটি ছোট পরিসরে প্রাথমিক পর্যায়ের ক্লিনিক্যাল ট্রায়ালের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে।
একটি অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের তৈরি ‘চ্যাডক্স১’ অ্যাডেনো ভাইরাসভিত্তিক টিকা এবং অন্যটি যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক মডার্না প্রতিষ্ঠানের তৈরি এমআরএনএ প্রযুক্তির টিকা।
আরও পড়ুন: হলুদ বিন্দু দেখে খননে ২ কোটি টাকার স্বর্ণের খণ্ড উদ্ধার
মহামারি মোকাবিলায় প্রস্তুতি জোরদার করার লক্ষ্যে কাজ করা সংস্থা ‘কোয়ালিশন ফর এপিডেমিক প্রিপেয়ার্ডনেস ইনোভেশনস’ (সিইপিআই) উভয় টিকার গবেষণায় অর্থায়ন করেছে।
সংস্থাটি জানিয়েছে, শিগগিরই টিকা দুটি এ পরীক্ষায় যুক্ত হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
সিইপিআইয়ের বিবৃতিতে বলা হয়েছে, আক্রান্ত জনগোষ্ঠী, স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষ ও মহামারি মোকাবিলায় নিয়োজিত অংশীদারদের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করবে তুমাইনি ট্রায়াল। এর মাধ্যমে টিকার কার্যকারিতা সম্পর্কে নির্ভরযোগ্য প্রমাণ সংগ্রহ করা হবে, যা মহামারি নিয়ন্ত্রণ, মানুষের জীবন রক্ষা এবং ভবিষ্যতে বান্দিবুগিও ভাইরাসের প্রাদুর্ভাব মোকাবিলার প্রস্তুতি জোরদারে সহায়তা করতে পারে।
এ পরীক্ষায় গর্ভবতী নারী ও ১২ বছর বা তার বেশি বয়সী শিশু-কিশোরদেরও অন্তর্ভুক্ত করা হবে। ফলে ক্লিনিক্যাল ট্রায়ালে যেসব জনগোষ্ঠীকে প্রায়ই বাদ রাখা হয়, তাদের ক্ষেত্রেও টিকার নিরাপত্তা ও কার্যকারিতা সম্পর্কে তথ্য পাওয়া যাবে।
আরও পড়ুন: ফ্লাভিও বলসোনারোর পাসপোর্ট বাতিল
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার জরুরি স্বাস্থ্য পরিস্থিতিবিষয়ক পরিচালক চিকওয়ে ইহেকওয়াজু বলেন, ঝুঁকিতে থাকা মানুষকে পরীক্ষাধীন টিকাগুলো সুরক্ষা দিতে পারবে কি না— তা নির্ধারণের জন্য প্রয়োজনীয় নির্ভরযোগ্য বৈজ্ঞানিক প্রমাণ সংগ্রহ করাই এই পরীক্ষার উদ্দেশ্য।
তিনি আরও বলেন, ‘পরীক্ষাটি সফল হলে বান্দিবুগিও ভাইরাসের বিরুদ্ধে টিকার কার্যকারিতা সম্পর্কে এই প্রথমবারের মতো সুস্পষ্ট প্রমাণ পাওয়া যাবে। এটি হবে বড় ধরনের অগ্রগতি, যা বর্তমান প্রাদুর্ভাব মোকাবিলার পদ্ধতিতে পরিবর্তন আনতে পারে, ভবিষ্যতের প্রাদুর্ভাবের প্রস্তুতি জোরদার করতে পারে ও মানুষের জীবন বাঁচাতে সহায়তা করতে পারে।’
শরীরের বিভিন্ন তরলের সংস্পর্শে ছড়ানো ইবোলা ভাইরাসে আক্রান্ত হলে রক্তক্ষরণজনিত জ্বর হতে পারে। গত ৫০ বছরে আফ্রিকায় এই ভাইরাসে ১৫ হাজারের বেশি মানুষের মৃত্যু হয়েছে।
ডিআর কঙ্গোতে ইবোলা মোকাবিলার কার্যক্রমের দায়িত্বে থাকা স্টিভ আহুকা-মুন্দেকে বলেন, ‘আক্রান্ত জনগোষ্ঠীর জরুরি প্রয়োজন মেটানোর লক্ষ্যে ইবোলা মোকাবিলার কার্যক্রমে এই পরীক্ষাকে যুক্ত করা একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ।’
আরও পড়ুন: ভারতের প্রতিরক্ষা কাউন্সিলের ২২২৭ কোটি ডলারের সামরিক সরঞ্জাম কেনার অনুমোদন
গত ১৫ মে ডিআর কঙ্গোতে দেশটির ইতিহাসে ইবোলার ১৭তম প্রাদুর্ভাব ঘোষণা করা হয়।
এর দুই দিন পর বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা এ পরিস্থিতিকে আন্তর্জাতিক উদ্বেগের জনস্বাস্থ্য জরুরি অবস্থা হিসেবে ঘোষণা করে। এটি সংস্থাটির দ্বিতীয় সর্বোচ্চ সতর্কতার স্তর।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন