নেছারাবাদ (পিরোজপুর) প্রতিনিধি
১২:১৪ পি.এম
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
আজ শনিবার (২৪ অক্টোবর) সকালে, আট দিন বন্ধ থাকার পর বেনাপোল স্থলবন্দর দিয়ে আমদানি-রপ্তানি কার্যক্রম পুনরায় শুরু হয়েছে। সকাল থেকেই বন্দরে পণ্য লোড-আনলোডের কাজে তিন হাজার শ্রমিক যোগদান করেছেন। এর ফলে বন্দরে কর্মচাঞ্চল্য ফিরে এসেছে।
বন্দর সূত্রে জানা গেছে, শারদীয় দুর্গাপূজা উপলক্ষে এবং সপ্তাহিক ছুটির কারণে ভারত-বাংলাদেশের ব্যবসায়ীরা টানা আট দিন আমদানি-রপ্তানি বন্ধ রেখেছিলেন। তবে, এই আট দিন আমদানি-রপ্তানি বন্ধ থাকলেও পাসপোর্টযাত্রীদের যাতায়াত স্বাভাবিক ছিল।
বেনাপোল বন্দরের আমদানি-রপ্তানিকারক সমিতির সহসভাপতি আমিনুল হক জানিয়েছেন, আজ সকাল থেকে বেনাপোল বন্দর দিয়ে দু-দেশের মধ্যে আমদানি-রপ্তানি বাণিজ্য শুরু হয়েছে। ব্যবসায়ী, সিএন্ডএফ এজেন্ট, বন্দর ও কাস্টমসের কর্মকর্তা-কর্মচারী এবং শ্রমিকরা পণ্য খালাসের কাজে ব্যস্ত সময় পার করছেন। দীর্ঘ ছুটির কারণে সীমান্তের উভয় পাশে যানজট ও পণ্যজট সৃষ্টি হয়েছে। কয়েক হাজার পণ্য বোঝাই ট্রাক বন্দরে প্রবেশের অপেক্ষায় রয়েছে। সকাল থেকে আমদানি-রপ্তানি ও পণ্য খালাস কার্যক্রম শুরু হওয়ায় যানজট ও পণ্যজট কমতে শুরু করেছে।
এ বন্দর দিয়ে প্রতিদিন প্রায় ৫০০ ট্রাক পণ্য আমদানি-রপ্তানি হয়ে থাকে। সরকার এই বন্দর থেকে প্রতিদিন প্রায় ২০ কোটি টাকা রাজস্ব আদায় করে। আট দিন বন্ধ থাকার কারণে সরকার প্রায় ১৬০ কোটি টাকা রাজস্ব আয় থেকে বঞ্চিত হয়েছে।
বেনাপোল বন্দরের ভারপ্রাপ্ত পরিচালক রুহুল আমিন জানিয়েছেন, ছুটি শেষে আজ সকাল থেকে পুনরায় বেনাপোল বন্দর দিয়ে আমদানি-রপ্তানি কার্যক্রম শুরু হয়েছে। বন্দরের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা যারা ছুটিতে ছিলেন, তারা সবাই কর্মস্থলে যোগদান করেছেন। যানজট ও পণ্যজট নিরসনে দ্রুত পণ্য খালাসের জন্য সংশ্লিষ্ট সবাইকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সংবিধান সংশোধন সম্পর্কিত বিশেষ কমিটির নবম বৈঠক শুরু হয়েছে। বৈঠকে দেশের প্রথিতযশা সংবিধান বিশেষজ্ঞ ও জ্যেষ্ঠ আইনজীবীরা অংশগ্রহণ করেছেন।
শনিবার (২৪ অক্টোবর) বেলা ১১টার দিকে জাতীয় সংসদ ভবনের কেবিনেট কক্ষে এই বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।
এর আগে শিক্ষাবিদ, গণমাধ্যম কর্মী, বিভিন্ন সামাজিক সংগঠন ও ব্যক্তিদের সঙ্গে আটটি বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে।
চলতি বছরের ডিসেম্বরের মধ্যে অংশীজনদের সঙ্গে সব আলোচনা ও খসড়া তৈরির কাজ সম্পন্ন করার পরিকল্পনা রয়েছে। ২০২৭ সালের জানুয়ারি মাসে সংসদ অধিবেশনে সংবিধান সংশোধন বিল উত্থাপনের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।
গণভোটের আলোকে সংস্কার প্রক্রিয়া না থাকায় বিরোধী দলগুলো এই বিশেষ সংশোধন কমিটির বৈঠকে অংশ নেয়নি। তবে, কমিটির সভাপতি সালাহউদ্দিন আহমদ জানিয়েছেন যে, শেষ পর্যন্ত বিরোধীদল সংবিধান সংশোধন কমিটিতে অংশগ্রহণের জন্য অপেক্ষা করা হবে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
ভেনেজুয়েলার অপরিশোধিত তেলের পরিশোধন এবং দেশটিতে তেল উৎপাদনের সম্ভাবনা নিয়ে ভারতের রিলায়েন্স ইন্ডাস্ট্রিজের সঙ্গে কাজ করার আগ্রহ প্রকাশ করেছে যুক্তরাষ্ট্র। এ বিষয়ে আলোচনা করতে মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও ভারতীয় ধনকুবের মুকেশ আম্বানির মালিকানাধীন প্রতিষ্ঠানটির সঙ্গে বৈঠক করেছেন।
গত ২১ অক্টোবর ভারতের গুজরাটের জামনগরে রিলায়েন্সের তেল পরিশোধন কমপ্লেক্স পরিদর্শন করেন রুবিও। তিনি সাংবাদিকদের জানান, ভেনেজুয়েলার অপরিশোধিত তেল আরও বেশি পরিমাণে পরিশোধনের বিষয়ে রিলায়েন্সের সঙ্গে আলোচনা করবেন। উল্লেখ্য, প্রতিষ্ঠানটি অতীতে ভেনেজুয়েলার ভারী অপরিশোধিত তেল পরিশোধন করেছে। রয়টার্সের প্রতিবেদনে এ আলোচনার বিষয়টি উঠে এসেছে।
জামনগরে রিলায়েন্সের দুটি শোধনাগারের সম্মিলিত দৈনিক পরিশোধন সক্ষমতা প্রায় ১৪ লাখ ব্যারেল। বিশ্বের বৃহত্তম একক-স্থানের তেল পরিশোধন কমপ্লেক্স হিসেবে পরিচিত এই স্থাপনায় ভেনেজুয়েলার অতিভারী অপরিশোধিত তেল প্রক্রিয়াজাত করা সম্ভব। দেশটির তেল উৎপাদন বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে রিলায়েন্স ভেনেজুয়েলার তেলের গুরুত্বপূর্ণ ক্রেতা হয়ে উঠেছে।
রুবিও ভারতকে ‘পরিশোধন পরাশক্তি’ হিসেবে উল্লেখ করেছেন। তাঁর মতে, ভেনেজুয়েলার তেল পরিশোধনে ভারতের সক্ষমতা কাজে লাগানো গেলে দেশটির জ্বালানি সরবরাহে বৈচিত্র্য আনার পাশাপাশি আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের সরবরাহ বাড়াতে সহায়তা করবে।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ভারতকে রাশিয়ার পরিবর্তে ভেনেজুয়েলার তেল কেনার দিকে উৎসাহিত করে আসছেন। তবে রাশিয়ার তেলের ওপর নির্ভরতা কমিয়ে বিকল্প উৎসে যাওয়ার ক্ষেত্রে ভারতের নিজস্ব জ্বালানি চাহিদা ও বাণিজ্যিক স্বার্থও গুরুত্বপূর্ণ।
রিলায়েন্সের সঙ্গে আলোচনার আরেকটি বিষয় যুক্তরাষ্ট্রে নতুন তেল শোধনাগার নির্মাণে সম্ভাব্য বিনিয়োগ। চলতি বছরের মার্চে ট্রাম্প দাবি করেছিলেন, রিলায়েন্সের বিনিয়োগে যুক্তরাষ্ট্রে নতুন একটি তেল শোধনাগার নির্মিত হতে যাচ্ছে। তিনি প্রকল্পটির মূল্য ৩০০ বিলিয়ন ডলার বলে উল্লেখ করেছিলেন। তবে রিলায়েন্স ইন্ডাস্ট্রিজের পক্ষ থেকে বিনিয়োগের ওই অঙ্ক আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত করা হয়নি।
যুক্তরাষ্ট্রে ডিজেলের দাম ও জ্বালানি সরবরাহ নিয়ে চাপের মধ্যে রয়েছে ট্রাম্প প্রশাসন। ভেনেজুয়েলার তেল উৎপাদন বৃদ্ধি এবং রিলায়েন্সের পরিশোধন সক্ষমতা কাজে লাগিয়ে জ্বালানি সরবরাহ বাড়ানোর সম্ভাবনা তাই ওয়াশিংটনের আলোচনায় গুরুত্ব পাচ্ছে। তথ্যসূত্র: সিএনবিসি, রয়টার্স
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
ঢাকা, ২৪ অক্টোবর, ২০২৬ : নাইজেরিয়ায় প্রথম ইবোলা আক্রান্ত রোগীর শরীরে শনাক্ত ভাইরাসের জিনগত মিল রয়েছে কেনিয়ায় প্রথম রোগীর ভাইরাসের সঙ্গে। শুক্রবার নাইজেরিয়ার স্বাস্থ্যমন্ত্রী এই তথ্য জানিয়েছেন, যা জিনগত পরীক্ষার ফলাফলের ভিত্তিতে প্রকাশিত হয়েছে।
মঙ্গলবার নাইজেরিয়ায় প্রথম ইবোলা আক্রান্ত রোগী শনাক্ত হওয়ার খবর আসে। ওই রোগী সুইজারল্যান্ডের আবুজায় অবস্থিত দূতাবাসের এক কর্মীর স্ত্রী। তিনি ৩ অক্টোবর উগান্ডা থেকে দেশে ফেরার পর আক্রান্ত হন।
সুইজারল্যান্ডের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় শুক্রবার জানায়, ওই নারী গণতান্ত্রিক কঙ্গো প্রজাতন্ত্র (ডিআর কঙ্গো) সফর করেননি। তবে উগান্ডা সরকারের পূর্ববর্তী তথ্য ভিন্ন ইঙ্গিত দিয়েছিল। বর্তমানে ডিআর কঙ্গোতেই ইবোলার প্রাদুর্ভাবের কেন্দ্রস্থল।
আফ্রিকার বিভিন্ন দেশের স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষ ওই নারীর সংক্রমণের উৎস শনাক্ত করার চেষ্টা করছে। আফ্রিকা সেন্টার্স ফর ডিজিজ কন্ট্রোল অ্যান্ড প্রিভেনশন (আফ্রিকা সিডিসি) ধারণা দিয়েছিল, বিমানবন্দরে কেনিয়ায় শনাক্ত প্রথম ইবোলা রোগীর সংস্পর্শে এসে তিনি আক্রান্ত হয়ে থাকতে পারেন। ওই রোগীও একই দিনে উগান্ডা থেকে বিমানে যাত্রা করেছিলেন।
জিনগত বিশ্লেষণের ফলাফল তুলে ধরে নাইজেরিয়ার স্বাস্থ্যমন্ত্রী মুহাম্মদ আলী পাতে সাংবাদিকদের বলেন, ‘নাইজেরিয়ার রোগীর ভাইরাসটি কেনিয়ায় শনাক্ত প্রথম রোগীর ভাইরাসের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে সম্পর্কিত বলে মনে হচ্ছে।’
তিনি আরও জানান, ‘কেনিয়ার ওই প্রথম রোগীর এমন কোনো ভ্রমণের প্রমাণ পাওয়া যায়নি, যা তার সঙ্গে নাইজেরিয়ার রোগীর সংযোগ প্রতিষ্ঠা করে। তবে ভাইরাস দুটির মধ্যে মিল পাওয়া যাচ্ছে।’
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে স্বাস্থ্যমন্ত্রী জানান, নাইজেরিয়ার রোগীর ভাইরাসটি কেনিয়ায় শনাক্ত ভাইরাসের সঙ্গে ‘অত্যন্ত সাদৃশ্যপূর্ণ’।
ডিআর কঙ্গো, উগান্ডা ও কেনিয়ার পর নাইজেরিয়া হলো আফ্রিকার চতুর্থ দেশ, যেখানে বান্দিবুগিও প্রজাতির ইবোলা ভাইরাসের প্রাদুর্ভাব শনাক্ত হয়েছে।
গত মে মাসে ডিআর কঙ্গোর উত্তর-পূর্বাঞ্চলে নতুন করে প্রাদুর্ভাব দেখা দেওয়ার পর প্রাণঘাতী এই ভাইরাসজনিত রক্তক্ষরণজনিত রোগটি প্রতিবেশী উগান্ডায় ছড়িয়ে পড়ে।
উগান্ডায় প্রাদুর্ভাব আনুষ্ঠানিকভাবে শেষ ঘোষণা করার আগে সেখানে ২০ জনের সংক্রমণ নিশ্চিত হয়েছিল। তাদের মধ্যে দুজনের মৃত্যু হয়। আগস্টে দেশটিতে প্রাদুর্ভাবের অবসান ঘোষণা করা হয়।
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (ডব্লিউএইচও) ২০ অক্টোবর পর্যন্ত প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, এই মহামারিতে নিশ্চিত আক্রান্তের সংখ্যা ৯ হাজার ৭০০ ছাড়িয়েছে। এ পর্যন্ত মারা গেছেন ৪ হাজার ৬৯০ জন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ