ঢাকা বৃহস্পতিবার, ২৯শে অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ১৩ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ১৮ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
বৃহস্পতিবার, ২৯শে অক্টোবর, ২০২৬ইং ১৩ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

নাটোরে একটি বানরের আক্রমণে ৩২ জন আহত, জেলা প্রশাসকের কাছে রেহাই পেতে আবেদন


নাটোরে একটি বানরের আক্রমণে ৩২ জন আহত, জেলা প্রশাসকের কাছে রেহাই পেতে আবেদন

নাটোর পৌরসভার ২ নম্বর ওয়ার্ডের লালবাজার মহল্লায় একটি বানরের আক্রমণে ৩২ জন আহত হয়েছেন। এদের মধ্যে নাটোর আধুনিক সদর হাসপাতাল থেকে ভ্যাকসিন নিয়েছেন ১৫ জন। বানরের প্রতি মানুষের অতিষ্ঠতা এতো বেড়ে গেছে যে, এলাকার বাসিন্দারা বানরটির হাত থেকে রেহাই পেতে নাটোর জেলা প্রশাসকের কাছে লিখিত আবেদন জানিয়েছেন।

গণস্বাক্ষরিত এই আবেদনকারীর নাম মোঃ মিলন আখন্দ, যিনি নাটোর পৌরসভার ২ নম্বর ওয়ার্ডের লালবাজার মহল্লার বাসিন্দা। তিনি বলেন, লালবাজার মহল্লার শতাধিক বাসিন্দার পক্ষে তিনি একটি খ্যাপা বানরের আক্রমণ থেকে রেহাই পেতে জেলা প্রশাসকের কাছে লিখিত দরখাস্ত জমা দিয়েছেন। দরখাস্তে তিনি উল্লেখ করেন, বানরটি ভিন্ন জায়গা থেকে এসে প্রায় তিন মাস আগে লালবাজার মহল্লায় অবস্থান নিয়েছে।

ভোর থেকে সন্ধ্যা অবধি এই বানরটি মহল্লার রাস্তাঘাটে ও বিভিন্ন ঘরবাড়ির ছাদ ও চালের উপর দিয়ে ঘুরে বেড়ায়। প্রকাশ্যে এসব বাড়ির রান্নাঘর, খাবার টেবিল, খাবার হোটেল এবং বিভিন্ন দোকানে ঢুকে মহল্লাবাসীকে আক্রমণ করে খাবার নিয়ে চলে যাচ্ছে। ফলে এলাকার মানুষকে বাড়িতে থাকার সময় আক্রমণের ভয়ে সারাক্ষণ বাড়ি ঘরের দরজা দিয়ে অবস্থান করতে হচ্ছে। শিক্ষার্থীরা স্কুল-কলেজে যাওয়ার সময়ও বানরের আক্রমণের ভয় পাচ্ছে।

আরও পড়ুন: কক্সবাজারের টুপটুপ রিসোর্টে অগ্নিকাণ্ডে নিহত মুক্তার দাফন সম্পন্ন

এখন পর্যন্ত বানরটির আক্রমণে অন্তত ৩২ জন আহত হয়েছেন। এই বানরের হামলায় মহল্লার মানুষের স্বাভাবিক জীবনযাত্রা ব্যাহত হচ্ছে। লালবাজার এলাকার বাসিন্দা কাকলী রায় (৩০) নামের এক গৃহবধূ জানান, প্রায় দু’মাস আগে তিনি বাড়ির পাশের এক দোকানের সামনে দাঁড়িয়ে ছিলেন। হঠাৎ বানরটি লাফ দিয়ে তার হাতে কামড় দেয় যাতে একটি আঙ্গুলের রগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে। পরে অপারেশন করে তার আঙ্গুলের রগ জোড়া দিতে হয়েছে এবং এখনও তিনি পুরোপুরি সুস্থ হতে পারেননি। প্রতিবেশী শ্রী সঞ্জয় রায় (২৫) বলেন, একদিন বানরটি তার ঘরে ঢুকে ফ্রিজ খোলার চেষ্টা করছিল, তখন তিনি দৌড়ে এসে দরজা আটকে দিতে গেলে বানরটি তার হাতের কুনইয়ের নিচে কামড় দেয়।

এর জন্য তাকে হাসপাতালে গিয়ে সাতটা ভ্যাকসিন নিতে হয়েছে। একই এলাকার অপর প্রবীণ বাসিন্দা কল্যাণী পাল (৬০) জানান, বানরটি তাদের খাবার টেবিল থেকে পাউরুটি নিয়ে পালাতে চাইলে বাধা দিলে বানরটি তার হাতে কামড় দেয়, ফলে তাকে হাসপাতালে ভর্তি হয়ে চিকিৎসা নিতে হয়েছে। আরো বয়ঃবৃদ্ধা পূর্ণীমা সেন (৭৫) বলেন, বানরটি বাড়িতে ঢুকে তাকেও কামড় দিয়ে গেছে। বানরটি বেশ শক্তিশালী, ওর সাথে ধস্তাধস্তি করেও পারিনি। বর্তমানে তিনি এবং এলাকার মানুষ আতঙ্কিত হয়ে আছেন। প্রতিবেশী জিসান ও নাজমুল ইসলাম বলেন, বানরটির ভয়ে তারা আর মহল্লার কোনো চায়ের দোকান বা খাবারের দোকানে দাঁড়িয়ে বসতে পারছেন না। বাবা-মা তাদের ছেলে-মেয়েদের স্কুলে যেতে দিতে ভীষণ ভয় পাচ্ছেন। বিষয়টি নিয়ে তারা খুবই কষ্টের মধ্যে আছেন।

নাটোর আধুনিক সদর হাসপাতালের ভ্যাকসিন শাখার দায়িত্বরত নার্স পারভিন আক্তার বলেন, মাঝেমাঝেই বানরের আক্রমণের শিকার হয়ে হাসপাতালে রোগী আসছেন। গত তিন মাসে তারা এমন ১৫ জনকে ভ্যাকসিন দিয়েছেন। অনেকেই বাইরে থেকে ভ্যাকসিন নিচ্ছেন বলেও তিনি স্বীকার করেন। বনবিভাগের রাজশাহী কার্যালয়ের পরিদর্শক জাহাঙ্গীর আলম বলেন, লালবাজারের বানরটি অস্বাভাবিক আচরণ করছে। বারবার চেষ্টা করলেও তারা বানরটিকে ধরতে পারছেন না। কী করা যায় সেই বিষয়টি নিয়ে বিকল্প ব্যবস্থার কথা ভাবা হচ্ছে। নাটোর পৌরসভার প্রশাসকের দায়িত্বপ্রাপ্ত নাটোরের অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিষ্ট্রেট ও স্থানীয় সরকার উপ-পরিচালক আরিফ হোসেন রোববার বিকেলে বলেন, বিষয়টি তিনি জানেন। তিনি নিজে ঢাকা ও রাজশাহী থেকে বনবিভাগ ও প্রাণী সম্পদ অধিদপ্তরের কর্মকর্তাদের নাটোরে ডেকে আনেন। বনবিভাগের লোকজন ম্যানুয়ালী বানরটিকে ধরার চেষ্টা করেও সফল হয়নি। তারা আগামী দিনে গুলি করে বা অচেতন করে বানরটিকে ধরার চেষ্টা করবে বলে জেলা প্রশাসনকে আশ্বস্ত করেছেন।

আরও পড়ুন: ঠাকুরগাঁও-১ উপনির্বাচন: সকাল হলে ভাগ্য নির্ধানের পালা

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

প্রধানমন্ত্রীকে নিয়ে হান্নান মাসউদের মন্তব্যে উত্তপ্ত সংসদ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

রবিবার, ২১শে জুন, ২০২৬ ইং

০৭:৫৩ পি.এম


প্রধানমন্ত্রীকে নিয়ে হান্নান মাসউদের মন্তব্যে উত্তপ্ত সংসদ

২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটের আলোচনা করতে গিয়ে সরকারি দল ও বিরোধী দলের সদস্যদের মধ্যে তীব্র বাগবিতণ্ডার সৃষ্টি হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান সম্পর্কে নোয়াখালী-৬ আসনের সংসদ সদস্য আবদুল হান্নান মাসউদের একটি মন্তব্যকে কেন্দ্র করে এমন পরিস্থিতির উদ্ভব হয়েছে।

রোববার (২১ জুন) সুবিধাজনক সময়ে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের দ্বিতীয় অধিবেশনের ১১তম দিনে সংসদ সদস্যরা বাজেট, সীমান্ত হত্যা ও আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে বক্তব্য রাখেন।

বক্তব্যের সময় সংসদ সদস্য হান্নান মাসউদ জানিয়ে দেন যে, ২০২৪ পরবর্তী সংসদে এসে আমরা একটা খ্যাতির বিড়ম্বনা দেখতে পাচ্ছি। ইতিহাসে এটি আগে শেখ মুজিবুর রহমানের ক্ষেত্রেও ঘটেছিল, যেখানে তার নামেই সবকিছু নামকরণ করা হতো। বর্তমানে আমাদের এই সংসদে একজন প্রতিমন্ত্রীর ক্ষেত্রেও একই ধরনের বিড়ম্বনা দেখা যাচ্ছে, যেখানে তার অজান্তেই ১০-১২টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও ইউনিয়নের নাম তার পরিবারের নামে হয়ে যাচ্ছে।

হান্নান মাসউদ বক্তব্যের এক পর্যায়ে সংসদ নেতাকে নিয়ে সমালোচনা করেন। তিনি আরও বলেন, প্রধানমন্ত্রী বিভিন্ন ভাষণে অসত্য তথ্য দিয়ে বিরোধী দলের আন্দোলনের সমালোচনা করেন এবং ব্যাংক ঋণ নিয়ে আলোচনা করতে গিয়ে ঋণ নেওয়ার বিষয়ে উৎসাহিত করেন। এটি অত্যন্ত হতাশাজনক বলে উল্লেখ করেছেন।

তার এই বক্তব্যের পরপরই সরকার দলীয় ও বিরোধী দলীয় সংসদ সদস্যদের মধ্যে তীব্র বিতর্ক শুরু হয়।

সরকার দলীয় সংসদ সদস্য জয়নাল আবেদিন ফারুক বলেন, আমরা সমর্থন দিয়েছিলাম যে, সংসদে কোনও অসত্য বাক্য উত্থাপন করা উচিত নয় বা কারো মানহানি হয় এমন বক্তব্য দেওয়া উচিত নয়। কিন্তু নোয়াখালীর এমপি (হান্নান মাসউদ) যে বক্তব্য রেখেছেন, তাতে আমাদের মধ্যে খুবই ক্ষোভ তৈরি হয়েছে। সংসদ নেতার সম্পর্কে তার অসত্য মন্তব্য এক্সপাঞ্জ করার জন্য স্পিকারের কাছে অনুরোধ করছি।

এই সময়ে বিরোধী দলের চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম পাল্টা যুক্তি দিয়ে বলেন, ঢালাওভাবে না বলে, এমপি হান্নান মাসউদ কোন কোন কথা অসত্য বলেছেন তা সুনির্দিষ্টভাবে তুলে ধরতে হবে। তিনি মূলত সংসদ নেতার বক্তব্যের প্রেক্ষিতে নিজের মতামত প্রকাশ করেছেন। সংসদ নেতার সমালোচনা করার অধিকার বিরোধী দলের রয়েছে। কারণ প্রধানমন্ত্রীও একজন মানুষ এবং বক্তব্য দেওয়ার সময় তারও ভুল বা ‘স্লিপ অব টাং’ হতে পারে। আমরা দেশে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করতে চাই। কোনো ধরণের ফ্যাসিবাদে ফিরে যেতে চাই না, তাই স্পিকারকে সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষেত্রে বিষয়টি বিবেচনা করার আহ্বান জানাই।

এরপর স্থানীয় সরকার মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, জয়নুল আবেদীন ফারুক সঠিক বলেছেন। নোয়াখালীর সংসদ সদস্য হান্নান মাসউদ তার বক্তব্যে সুনির্দিষ্টভাবে সংসদ নেতা ও প্রধানমন্ত্রীর বিরুদ্ধে অসত্য বক্তব্য দেওয়ার অভিযোগ করেছেন, যা কোনো ভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। আপনারা (বিরোধী দল) ফ্যাসিবাদের কথা বলে থাকেন, অথচ ফ্যাসিস্টসুলভ আচরণ আপনারাই দেখাচ্ছেন।

তিনি স্পিকারকে বলেন, বিরোধী দলের চিফ হুইপ যে অংশটি অসত্য হিসেবে চিহ্নিত করেছেন, সংসদ নেতার সম্মান রক্ষার্থে সেই বক্তব্যটি যেন এক্সপাঞ্জ করা হয়।

এরপর অধিবেশন কক্ষে হট্টগোল শুরু হলে স্পিকার সংসদ সদস্য হান্নান মাসউদকে আসন গ্রহণ করার জন্য অনুরোধ জানান এবং বলেন, এটি শাহবাগ চত্বর নয়, এটি সংসদ। তাই সংসদীয় শৃঙ্খলা বজায় রাখতে হবে।

পরে বিরোধী দলের নেতা ডা. শফিকুর রহমান মন্তব্য করেন, ‘সংসদের অভ্যন্তরে কোনটি সত্য আর কোনটি অসত্য, এই নিয়ে ঝগড়া করতে গেলে সেটি সকলের জন্য লজ্জাজনক হয়ে দাঁড়াবে। তাই সম্মানহানি না করে পুরো বিতর্কিত বিষয়টি এড়িয়ে যাওয়াই কল্যাণকর হবে।’ পরে স্পিকার সংসদীয় নিয়ম অনুযায়ী সবকিছু বিচার-বিশ্লেষণ করে এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত গ্রহণ করবেন বলে জানিয়েছেন।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

‘ধর্মীয় পরিচয়ই আগে, পরীক্ষা নয়’: বাধা ডিঙিয়ে বোরকা পরেই কেন্দ্রে ঢুকলেন কুলসুম

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

রবিবার, ২১শে জুন, ২০২৬ ইং

০৭:৫৭ পি.এম


‘ধর্মীয় পরিচয়ই আগে, পরীক্ষা নয়’: বাধা ডিঙিয়ে বোরকা পরেই কেন্দ্রে ঢুকলেন কুলসুম

‘পরীক্ষার চেয়ে আমার কাছে বোরকা এবং আমার ধর্মীয় পরিচয়ই সবচেয়ে বড়।’ এই দৃঢ় উচ্চারণটি পরীক্ষা কেন্দ্রের গেটে দাঁড়িয়ে থাকা সাহসী মুসলিম ছাত্রীর নাম কুলসুম বানো। তিনি চরম মানসিক চাপ এবং প্রশাসনিক বাধার মুখেও নিজের ঈমানী চেতনা ও ধর্মীয় স্বকীয়তায় অনড় থেকে শেষ পর্যন্ত বোরকা পরিধান করে পরীক্ষা কেন্দ্রে প্রবেশ করেছেন। আজ, রোববার, ভারতের রাজস্থানের আজমিরে চিহ্নিত এই নজিরবিহীন ঘটনাটি ঘটে, যা সর্বভারতীয় মেডিকেল প্রবেশিকা পরীক্ষার (নিট-ইউজি) পুনরুত্থাপনের সাথে সম্পর্কিত।

 

জানা গেছে যে, প্রশ্ন ফাঁসের অভিযোগে বাতিল হওয়া গত ৩ মে রবিবারের নিট পরীক্ষা আজ, ভারতজুড়ে পুনরায় অনুষ্ঠিত হচ্ছিল। কুলসুম বানো আজমিরের কেন্দ্রে পরীক্ষা দিতে আসেন বেওয়ার থেকে। কিন্তু যখন তিনি পরীক্ষা কেন্দ্রের প্রবেশদ্বারে পৌঁছান, তখন তাকে নিরাপত্তার অজুহাতে চরম হেনস্থার শিকার হতে হয়। পরীক্ষার কর্তব্যরত নিরাপত্তা কর্মীরা তাকে বোরকা এবং দোপাট্টা খুলে ভিতরে প্রবেশ করতে বলেন।

 

এমন এক অন্যায্য ও বৈষম্যমূলক নির্দেশনার সামনে কুলসুম মাথানত করেননি। পরীক্ষা দেয়ার জন্য বোরকা খুলে ফেলার চেয়ে তিনি পরীক্ষায় অংশ না নিতে পারাকেই শ্রেয় মনে করেন। গণমাধ্যমের সামনে ক্ষোভ উগড়ে দিয়ে কুলসুম বলেন, “গত ৩ মে যখন আমি পরীক্ষা দিয়েছিলাম, তখনও আমি এই বোরকা এবং দোপাট্টা পরেই পরীক্ষা দিয়েছি। যদি ন্যাশনাল টেস্টিং এজেন্সি (এনটিএ) অনুমতি দিয়ে থাকে, তবে কেন্দ্রের কর্মীরা আমাদের আটকানোর কে?”

 

পরীক্ষা কেন্দ্রের বাইরে যখন এই নিয়ে উত্তেজনা ও হট্টগোল ছড়িয়ে পড়ে, তখন মেয়ের পাশে এসে শক্ত হয়ে দাঁড়ান তার পিতা মোহাম্মদ আলিম। তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “এনটিএ-এর নির্দেশিকার ১৮ নম্বর ধারায় স্পষ্ট বলা আছে যে পরীক্ষার্থীরা ধর্মীয় পোশাক পরে অংশ নিতে পারবেন। আমরা কেন্দ্র কর্তৃপক্ষকে বলেছিলাম, একজন নারী কর্মীকে ডেকে আলাদা ঘরে নিয়ে গিয়ে নিয়মিত তল্লাশি করা হোক। কিন্তু তারা প্রথমে তা করতে অস্বীকৃতি জানায়।” তিনি স্পষ্ট জানিয়ে দেন, ধর্মীয় পোশাক পরতে না দিলে তার মেয়ে পরীক্ষায় অংশ নেবে না।

 

অন্যদিকে, কুলসুমের বোরকা পরায় বাধা দেওয়ার খবরটি দ্রুত ছড়িয়ে পড়লে পরীক্ষা কেন্দ্রের বাইরে সাধারণ মানুষ এবং শিক্ষাবিদদের মাঝে ব্যাপক ক্ষোভ বৃদ্ধি পায়। পরিস্থিতি অবনতি হওয়া দেখে আজমির পুলিশ ঘটনাস্থলে তাড়াতাড়ি আসেন। পরে ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের হস্তক্ষেপে এবং এনটিএ-এর নিয়মের প্রতি সম্মানের কারণে কুলসুমকে সসম্মানে বোরকা পরিহিত অবস্থায় পরীক্ষা কেন্দ্রে প্রবেশের অনুমতি প্রদান করা হয়।

 

আজমিরের সার্কেল অফিসার শিবম জোশী পরে জানান, পোশাক বিধি বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে পরীক্ষা কেন্দ্রের কিছু কর্মীর মাঝে বিভ্রান্তি তৈরি হয়েছিল, যা পরে আলোচনা করে সমাধান করা হয়েছে।

 

এছাড়া, এনটিএ-এর স্পষ্ট নির্দেশিকা রয়েছে যে হিজাব, বোরকা কিংবা পাগড়ির মতো ধর্মীয় পোশাক পরে পরীক্ষা দিতে পারবেন, তবে সেক্ষেত্রে পরীক্ষার্থীকে কিছুটা আগে কেন্দ্রে উপস্থিত হয়ে তল্লাশির প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে হবে। কুলসুমের এই সাহসী অবস্থান সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ব্যাপকভাবে প্রশংসিত হচ্ছে। অনেকেই বলছেন, ক্যারিয়ারের দোহাই দিয়ে যারা ধর্মীয় মূল্যবোধ বিসর্জন দেন, কুলসুম বানো তাদের জন্য এক অনন্য দৃষ্টান্ত।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

ফাটল ধরতে পারে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল জোটে, ইরানের সামনে ‘বড় সুযোগ’ আল-জাজিরার বিশ্লেষণ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

রবিবার, ২১শে জুন, ২০২৬ ইং

০৮:০০ পি.এম


ফাটল ধরতে পারে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল জোটে, ইরানের সামনে ‘বড় সুযোগ’ আল-জাজিরার বিশ্লেষণ

দক্ষিণ লেবাননে চলমান ইসরায়েলি হামলাকে কেন্দ্র করে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল জোটে ফাটল ধরতে পারে বলেই আশঙ্কা করা হচ্ছে। যার ফলে ইরানের সামনে ‘বড় সুযোগ’ দেখা যাচ্ছে, এমন কথা বলছেন প্রতিরক্ষা বিশ্লেষক ভল্ফগ্যাং পুস্তাই। তার মতে, তেহরান কৌশলগতভাবে লেবাননের পরিস্থিতিকে ব্যবহার করে ওয়াশিংটন ও তেল আবিবের মধ্যে ঘনিষ্ঠ সম্পর্কের ওপর চাপ সৃষ্টি করার চেষ্টা করছে।

আল জাজিরাকে দেওয়া এক বিশ্লেষণধর্মী সাক্ষাৎকারে পুস্তাই উল্লেখ করেন, ইরান মূলত ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যকার ব্যবধানকে আরও বিস্তৃত করার চেষ্টা করছে। তার ভাষায়, এটি শুধু দুই রাষ্ট্রের সম্পর্ক নয়; বরং ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর সরকার এবং মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসনের মধ্যে মতপার্থক্যও এতে একটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।

তিনি বলেন, ইরান অবশ্যই দক্ষিণ লেবাননে ইসরায়েলের সামরিক অভিযান বন্ধ করতে চায়। তবে তেহরান, বৈরুত, হিজবুল্লাহ, ইসরায়েল এবং প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প— সবাই জানেন, বাস্তবে এটি খুব সহজ বা সম্ভবনা কোনো লক্ষ্য নয়। কারণ ইসরায়েলের ওপর হামলা হলে তারা পাল্টা জবাব দেবে।

পুস্তাইয়ের মতে, আপাতত ইসরায়েল এমন এক অবস্থান নেবে যাতে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের কূটনৈতিক প্রচেষ্টা ক্ষতিগ্রস্ত না হয়। তবে প্রয়োজন দেখা দিলে তারা পাল্টা ব্যবস্থা নিতেও পিছপা হবে না।

তিনি আরও বলেন, বর্তমান পরিস্থিতিকে তেহরান একটি বড় কৌশলগত সুযোগ হিসেবে দেখছে। ইরানের কাছে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো ওয়াশিংটন ও তেল আবিবের মধ্যে জোটে বিভাজন সৃষ্টি করা। এই মুহূর্তে তারা বিশেষভাবে সেই লক্ষ্য অর্জনের দিকে মনোযোগ দিচ্ছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

রাতের দ্বিতীয় ম্যাচে মুখোমুখি ইরান ও বেলজিয়াম

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

স্পোর্টস ডেস্ক

রবিবার, ২১শে জুন, ২০২৬ ইং

০৮:০১ পি.এম


রাতের দ্বিতীয় ম্যাচে মুখোমুখি ইরান ও বেলজিয়াম

জি গ্রুপে জয়লাভের উদ্দেশ্যে ইরানের বিরুদ্ধে মুখোমুখি হচ্ছে বেলজিয়াম। দুদলের পয়েন্ট সমান, ১। রাউন্ড অব ৩২-এ জায়গা করে নিতে এই ম্যাচে জয় দুদলের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বেলজিয়াম-ইরান ম্যাচটি বাংলাদেশ সময় রাত ১টায় শুরু হবে।

বিশ্বকাপের গ্রুপ পর্যায়ে এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ লড়াই। প্রথম ম্যাচের পরে, বেলজিয়াম এবার আসল পরীক্ষার মুখোমুখি। একটির ভুল হলে নক আউটের পথে কঠিন অবস্থা সৃষ্টি হতে পারে। প্রতিপক্ষ হিসেবে ইরান, ইউরোপের এশিয়ার মধ্যে অন্যতম শক্তিশালী দল। দুই দলের জন্যই এই ম্যাচের ফল হয়তো নকআউটের সমীকরণকে বদলে দিতে পারে। এজন্য, লস অ্যাঞ্জেলেসের সোফাই স্টেডিয়ামে একটি হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়ের অপেক্ষা রইল।

নবীন প্রজন্মের বেলজিয়াম এখন তরুণ ও অভিজ্ঞ খেলোয়াড়দের সমন্বয়ে গঠিত হচ্ছে। তবে, প্রথম ম্যাচে তাদের পারফরম্যান্স ছিল কিছুটা হতাশাজনক। ম্যাচ শুরুতেই গোল হজম করেছে, সমতায় ফেরার গোলটি ঘটে আত্মঘাতীভাবে। ইরানকে প্রতিহত করতে হলে কেবিন ডি ব্রইনা এবং লুকাকুর মতো তারকাদের আরও দায়িত্বশীল হতে হবে। বল দখলে রেখে আক্রমণ গড়ে তোলাই হবে বেলজিয়ামের মূল কৌশল।

অন্যদিকে, ইরান ঐতিহ্যগতভাবেই শৃঙ্খলাবদ্ধ ও সংগঠিত একটি দল। তাদের অন্যতম শক্তি দ্রুত কাউন্টার অ্যাটাক। অভিজ্ঞ মেহদি তারেমি যদি খেলেন, তবে যেকোনো পরিস্থিতিতে ম্যাচের গতিবিধি পরিবর্তন হতে পারে। সাঈদ এজাতোলাহ এবং আলিরেজার অভিজ্ঞতা ইরানকে বাড়তি আত্মবিশ্বাস দিবে। শক্তিশালী ডিফেন্স ও দলগত খেলা তাদের প্রধান অস্ত্র। তবে, ইরানের জন্য একটি বড় উদ্বেগের বিষয় হচ্ছে ভ্রমণ ক্লান্তি। তারা ম্যাচ খেললেও যুক্তরাষ্ট্রে থাকার অনুমতি নেই। মেক্সিকো থেকে ভ্রমণ করে তাদের খেলতে হচ্ছে।

এ ম্যাচে পেপার অনুযায়ী বেলজিয়াম কিছুটা এগিয়ে। কিন্তু বিশ্বকাপে ইরান বারবার প্রমাণ করেছে যে, তারা বড় দলগুলোকে চাপে ফেলতে সক্ষম। এই ম্যাচটি হবে তারকাদের লড়াইয়ের পাশাপাশি ইউরোপীয় আক্রমণাত্মক ফুটবলের বিপক্ষে এশিয়ার সংগঠিত রক্ষণের দ্বন্দ্ব। সেই দ্বৈরথই হতে পারে ম্যাচের আসল আকর্ষণ।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ১৮ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪৬
জোহর ১১:৪৩
আসর ০৩:৪৫
মাগরিব ০৫:২২
ইশা ০৬:৩৪
সূর্যোদয় : ০৬:০২ সূর্যাস্ত : ০৫:২২
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%