০৭:৪৪ পি.এম
নাটোর পৌরসভার ২ নম্বর ওয়ার্ডের লালবাজার মহল্লায় একটি বানরের আক্রমণে ৩২ জন আহত হয়েছেন। এদের মধ্যে নাটোর আধুনিক সদর হাসপাতাল থেকে ভ্যাকসিন নিয়েছেন ১৫ জন। বানরের প্রতি মানুষের অতিষ্ঠতা এতো বেড়ে গেছে যে, এলাকার বাসিন্দারা বানরটির হাত থেকে রেহাই পেতে নাটোর জেলা প্রশাসকের কাছে লিখিত আবেদন জানিয়েছেন।
গণস্বাক্ষরিত এই আবেদনকারীর নাম মোঃ মিলন আখন্দ, যিনি নাটোর পৌরসভার ২ নম্বর ওয়ার্ডের লালবাজার মহল্লার বাসিন্দা। তিনি বলেন, লালবাজার মহল্লার শতাধিক বাসিন্দার পক্ষে তিনি একটি খ্যাপা বানরের আক্রমণ থেকে রেহাই পেতে জেলা প্রশাসকের কাছে লিখিত দরখাস্ত জমা দিয়েছেন। দরখাস্তে তিনি উল্লেখ করেন, বানরটি ভিন্ন জায়গা থেকে এসে প্রায় তিন মাস আগে লালবাজার মহল্লায় অবস্থান নিয়েছে।
ভোর থেকে সন্ধ্যা অবধি এই বানরটি মহল্লার রাস্তাঘাটে ও বিভিন্ন ঘরবাড়ির ছাদ ও চালের উপর দিয়ে ঘুরে বেড়ায়। প্রকাশ্যে এসব বাড়ির রান্নাঘর, খাবার টেবিল, খাবার হোটেল এবং বিভিন্ন দোকানে ঢুকে মহল্লাবাসীকে আক্রমণ করে খাবার নিয়ে চলে যাচ্ছে। ফলে এলাকার মানুষকে বাড়িতে থাকার সময় আক্রমণের ভয়ে সারাক্ষণ বাড়ি ঘরের দরজা দিয়ে অবস্থান করতে হচ্ছে। শিক্ষার্থীরা স্কুল-কলেজে যাওয়ার সময়ও বানরের আক্রমণের ভয় পাচ্ছে।
আরও পড়ুন: কক্সবাজারের টুপটুপ রিসোর্টে অগ্নিকাণ্ডে নিহত মুক্তার দাফন সম্পন্ন
এখন পর্যন্ত বানরটির আক্রমণে অন্তত ৩২ জন আহত হয়েছেন। এই বানরের হামলায় মহল্লার মানুষের স্বাভাবিক জীবনযাত্রা ব্যাহত হচ্ছে। লালবাজার এলাকার বাসিন্দা কাকলী রায় (৩০) নামের এক গৃহবধূ জানান, প্রায় দু’মাস আগে তিনি বাড়ির পাশের এক দোকানের সামনে দাঁড়িয়ে ছিলেন। হঠাৎ বানরটি লাফ দিয়ে তার হাতে কামড় দেয় যাতে একটি আঙ্গুলের রগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে। পরে অপারেশন করে তার আঙ্গুলের রগ জোড়া দিতে হয়েছে এবং এখনও তিনি পুরোপুরি সুস্থ হতে পারেননি। প্রতিবেশী শ্রী সঞ্জয় রায় (২৫) বলেন, একদিন বানরটি তার ঘরে ঢুকে ফ্রিজ খোলার চেষ্টা করছিল, তখন তিনি দৌড়ে এসে দরজা আটকে দিতে গেলে বানরটি তার হাতের কুনইয়ের নিচে কামড় দেয়।
এর জন্য তাকে হাসপাতালে গিয়ে সাতটা ভ্যাকসিন নিতে হয়েছে। একই এলাকার অপর প্রবীণ বাসিন্দা কল্যাণী পাল (৬০) জানান, বানরটি তাদের খাবার টেবিল থেকে পাউরুটি নিয়ে পালাতে চাইলে বাধা দিলে বানরটি তার হাতে কামড় দেয়, ফলে তাকে হাসপাতালে ভর্তি হয়ে চিকিৎসা নিতে হয়েছে। আরো বয়ঃবৃদ্ধা পূর্ণীমা সেন (৭৫) বলেন, বানরটি বাড়িতে ঢুকে তাকেও কামড় দিয়ে গেছে। বানরটি বেশ শক্তিশালী, ওর সাথে ধস্তাধস্তি করেও পারিনি। বর্তমানে তিনি এবং এলাকার মানুষ আতঙ্কিত হয়ে আছেন। প্রতিবেশী জিসান ও নাজমুল ইসলাম বলেন, বানরটির ভয়ে তারা আর মহল্লার কোনো চায়ের দোকান বা খাবারের দোকানে দাঁড়িয়ে বসতে পারছেন না। বাবা-মা তাদের ছেলে-মেয়েদের স্কুলে যেতে দিতে ভীষণ ভয় পাচ্ছেন। বিষয়টি নিয়ে তারা খুবই কষ্টের মধ্যে আছেন।
নাটোর আধুনিক সদর হাসপাতালের ভ্যাকসিন শাখার দায়িত্বরত নার্স পারভিন আক্তার বলেন, মাঝেমাঝেই বানরের আক্রমণের শিকার হয়ে হাসপাতালে রোগী আসছেন। গত তিন মাসে তারা এমন ১৫ জনকে ভ্যাকসিন দিয়েছেন। অনেকেই বাইরে থেকে ভ্যাকসিন নিচ্ছেন বলেও তিনি স্বীকার করেন। বনবিভাগের রাজশাহী কার্যালয়ের পরিদর্শক জাহাঙ্গীর আলম বলেন, লালবাজারের বানরটি অস্বাভাবিক আচরণ করছে। বারবার চেষ্টা করলেও তারা বানরটিকে ধরতে পারছেন না। কী করা যায় সেই বিষয়টি নিয়ে বিকল্প ব্যবস্থার কথা ভাবা হচ্ছে। নাটোর পৌরসভার প্রশাসকের দায়িত্বপ্রাপ্ত নাটোরের অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিষ্ট্রেট ও স্থানীয় সরকার উপ-পরিচালক আরিফ হোসেন রোববার বিকেলে বলেন, বিষয়টি তিনি জানেন। তিনি নিজে ঢাকা ও রাজশাহী থেকে বনবিভাগ ও প্রাণী সম্পদ অধিদপ্তরের কর্মকর্তাদের নাটোরে ডেকে আনেন। বনবিভাগের লোকজন ম্যানুয়ালী বানরটিকে ধরার চেষ্টা করেও সফল হয়নি। তারা আগামী দিনে গুলি করে বা অচেতন করে বানরটিকে ধরার চেষ্টা করবে বলে জেলা প্রশাসনকে আশ্বস্ত করেছেন।
আরও পড়ুন: ঠাকুরগাঁও-১ উপনির্বাচন: সকাল হলে ভাগ্য নির্ধানের পালা
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন