০৭:৫৩ পি.এম
২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটের আলোচনা করতে গিয়ে সরকারি দল ও বিরোধী দলের সদস্যদের মধ্যে তীব্র বাগবিতণ্ডার সৃষ্টি হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান সম্পর্কে নোয়াখালী-৬ আসনের সংসদ সদস্য আবদুল হান্নান মাসউদের একটি মন্তব্যকে কেন্দ্র করে এমন পরিস্থিতির উদ্ভব হয়েছে।
রোববার (২১ জুন) সুবিধাজনক সময়ে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের দ্বিতীয় অধিবেশনের ১১তম দিনে সংসদ সদস্যরা বাজেট, সীমান্ত হত্যা ও আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে বক্তব্য রাখেন।
বক্তব্যের সময় সংসদ সদস্য হান্নান মাসউদ জানিয়ে দেন যে, ২০২৪ পরবর্তী সংসদে এসে আমরা একটা খ্যাতির বিড়ম্বনা দেখতে পাচ্ছি। ইতিহাসে এটি আগে শেখ মুজিবুর রহমানের ক্ষেত্রেও ঘটেছিল, যেখানে তার নামেই সবকিছু নামকরণ করা হতো। বর্তমানে আমাদের এই সংসদে একজন প্রতিমন্ত্রীর ক্ষেত্রেও একই ধরনের বিড়ম্বনা দেখা যাচ্ছে, যেখানে তার অজান্তেই ১০-১২টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও ইউনিয়নের নাম তার পরিবারের নামে হয়ে যাচ্ছে।
আরও পড়ুন: যাত্রাবাড়ীতে ছিনতাই সন্দেহে গণপিটুনিতে আহত যুবক নিশাত মিয়ার মৃত্যু
হান্নান মাসউদ বক্তব্যের এক পর্যায়ে সংসদ নেতাকে নিয়ে সমালোচনা করেন। তিনি আরও বলেন, প্রধানমন্ত্রী বিভিন্ন ভাষণে অসত্য তথ্য দিয়ে বিরোধী দলের আন্দোলনের সমালোচনা করেন এবং ব্যাংক ঋণ নিয়ে আলোচনা করতে গিয়ে ঋণ নেওয়ার বিষয়ে উৎসাহিত করেন। এটি অত্যন্ত হতাশাজনক বলে উল্লেখ করেছেন।
তার এই বক্তব্যের পরপরই সরকার দলীয় ও বিরোধী দলীয় সংসদ সদস্যদের মধ্যে তীব্র বিতর্ক শুরু হয়।
সরকার দলীয় সংসদ সদস্য জয়নাল আবেদিন ফারুক বলেন, আমরা সমর্থন দিয়েছিলাম যে, সংসদে কোনও অসত্য বাক্য উত্থাপন করা উচিত নয় বা কারো মানহানি হয় এমন বক্তব্য দেওয়া উচিত নয়। কিন্তু নোয়াখালীর এমপি (হান্নান মাসউদ) যে বক্তব্য রেখেছেন, তাতে আমাদের মধ্যে খুবই ক্ষোভ তৈরি হয়েছে। সংসদ নেতার সম্পর্কে তার অসত্য মন্তব্য এক্সপাঞ্জ করার জন্য স্পিকারের কাছে অনুরোধ করছি।
এই সময়ে বিরোধী দলের চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম পাল্টা যুক্তি দিয়ে বলেন, ঢালাওভাবে না বলে, এমপি হান্নান মাসউদ কোন কোন কথা অসত্য বলেছেন তা সুনির্দিষ্টভাবে তুলে ধরতে হবে। তিনি মূলত সংসদ নেতার বক্তব্যের প্রেক্ষিতে নিজের মতামত প্রকাশ করেছেন। সংসদ নেতার সমালোচনা করার অধিকার বিরোধী দলের রয়েছে। কারণ প্রধানমন্ত্রীও একজন মানুষ এবং বক্তব্য দেওয়ার সময় তারও ভুল বা ‘স্লিপ অব টাং’ হতে পারে। আমরা দেশে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করতে চাই। কোনো ধরণের ফ্যাসিবাদে ফিরে যেতে চাই না, তাই স্পিকারকে সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষেত্রে বিষয়টি বিবেচনা করার আহ্বান জানাই।
আরও পড়ুন: গণভোটের রায় না মানলে তারেক রহমানের ক্ষমতায় থাকার অধিকার নেই: জুনায়েদ
এরপর স্থানীয় সরকার মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, জয়নুল আবেদীন ফারুক সঠিক বলেছেন। নোয়াখালীর সংসদ সদস্য হান্নান মাসউদ তার বক্তব্যে সুনির্দিষ্টভাবে সংসদ নেতা ও প্রধানমন্ত্রীর বিরুদ্ধে অসত্য বক্তব্য দেওয়ার অভিযোগ করেছেন, যা কোনো ভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। আপনারা (বিরোধী দল) ফ্যাসিবাদের কথা বলে থাকেন, অথচ ফ্যাসিস্টসুলভ আচরণ আপনারাই দেখাচ্ছেন।
তিনি স্পিকারকে বলেন, বিরোধী দলের চিফ হুইপ যে অংশটি অসত্য হিসেবে চিহ্নিত করেছেন, সংসদ নেতার সম্মান রক্ষার্থে সেই বক্তব্যটি যেন এক্সপাঞ্জ করা হয়।
এরপর অধিবেশন কক্ষে হট্টগোল শুরু হলে স্পিকার সংসদ সদস্য হান্নান মাসউদকে আসন গ্রহণ করার জন্য অনুরোধ জানান এবং বলেন, এটি শাহবাগ চত্বর নয়, এটি সংসদ। তাই সংসদীয় শৃঙ্খলা বজায় রাখতে হবে।
পরে বিরোধী দলের নেতা ডা. শফিকুর রহমান মন্তব্য করেন, ‘সংসদের অভ্যন্তরে কোনটি সত্য আর কোনটি অসত্য, এই নিয়ে ঝগড়া করতে গেলে সেটি সকলের জন্য লজ্জাজনক হয়ে দাঁড়াবে। তাই সম্মানহানি না করে পুরো বিতর্কিত বিষয়টি এড়িয়ে যাওয়াই কল্যাণকর হবে।’ পরে স্পিকার সংসদীয় নিয়ম অনুযায়ী সবকিছু বিচার-বিশ্লেষণ করে এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত গ্রহণ করবেন বলে জানিয়েছেন।
আরও পড়ুন: বিয়ের ১৫ দিনের মাথায় সড়কে প্রাণ গেল ইতালি প্রবাসী তানভীরের
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন