ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৫ই নভেম্বর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ২০ই কার্তিক, ১৪৩২বঙ্গাব্দ ২৪শে জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
বৃহস্পতিবার, ০৫ই নভেম্বর, ২০২৬ইং ২০ই কার্তিক, ১৪৩২বাং

সন্দ্বীপে তরুণদের স্বেচ্ছাশ্রমে সচল নিরাপদ নৌযাতায়াত


সন্দ্বীপে তরুণদের স্বেচ্ছাশ্রমে সচল নিরাপদ নৌযাতায়াত

জোয়ার-ভাটার ওপর নির্ভরশীল চট্টগ্রামের সন্দ্বীপ নৌপথে কখন নৌযান ছাড়বে আর কখন বন্ধ থাকবে, তা জানার কোনো দাপ্তরিক বা আনুষ্ঠানিক উপায় নেই। বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন করপোরেশন (বিআইডব্লিউটিসি) যাত্রী পরিবহনের দায়িত্বে থাকলেও সময়সূচি জানানোর কোনো উদ্যোগ তাদের নেই। তথ্যের এই ঘাটতির কারণে যাত্রীরা সময়মতো ঘাটে পৌঁছাতে পারেন না এবং অনেক সময় জাহাজও খালি ফিরে যায়।

আর এই সুযোগ কাজে লাগায় মুনাফালোভী একটি অসাধু চক্র। বিআইডব্লিউটিসির কতিপয় কর্মকর্তার যোগসাজশে ‘যাত্রী সংকট’-এর অজুহাত দেখিয়ে সরকারি নৌযান প্রত্যাহার করা হচ্ছে বলে অভিযোগ সন্দ্বীপের অধিবাসীদের।

তবে কর্তৃপক্ষের তৈরি করা এই কৃত্রিম সংকট রুখে দিতে জন্মস্থানের প্রতি দায়বদ্ধতা থেকে এগিয়ে এসেছেন দ্বীপটির একঝাঁক তরুণ স্বেচ্ছাসেবী।

আরও পড়ুন: নারায়ণ জেলার গার্মেন্টস সেক্টরে আন্দোলনের শিথিল রাখার অঙ্গীকার জেলা প্রশাসক

গুপ্তছড়া-কুমিরা ও বাঁশবাড়িয়া-গুপ্তছড়া রুটে বর্তমানে বিআইডব্লিউটিসির সি-ট্রাক ‘খিজির’ ও ফেরি ‘কপোতাক্ষ’ চলাচল করছে। কিন্তু প্রতিদিনের সময়সূচির সরকারি প্রচার না থাকায় যাত্রীদের ভোগান্তি চরম আকার ধারণ করে। তথ্যের অভাবে ঘাটে এসে সি-ট্রাক বা ফেরি না পেয়ে অনেককে ফিরে যেতে হয়, নয়তো বাধ্য হয়ে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে উত্তাল সাগরে ফিটনেসবিহীন স্পিডবোট কিংবা ট্রলারে যাতায়াত করতে হয়। ঠিক এই ‘যাত্রী না হওয়ার’ খোঁড়া যুক্তি দেখিয়েই গত অক্টোবরের শেষ সপ্তাহে সন্দ্বীপ রুট থেকে আধুনিক সি-ট্রাক ‘এসটি নিঝুম দ্বীপ’ প্রত্যাহার করে নেওয়া হয়।

জোয়ার-ভাটার কারণে কখন জাহাজ ছাড়বে, তা ঘাট থেকে কেউ নির্দিষ্ট করে বলতে পারেনা। অনেক সময় ঘাটে পৌঁছানোর আগেই জাহাজ ছেড়ে যাই। তখন বাধ্য হয়ে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে স্পিডবোটে উঠতে হয়। কিন্তু এখন আর সেই ভোগান্তি নেই। সন্দ্বীপের ফেসবুক পেজগুলো থেকে আগের রাতেই জাহাজের সঠিক সময়সূচি জেনে যাই। এখন শিডিউল দেখেই বাড়ি থেকে বের হতে পারি। এতে আমাদের সময় ও ভোগান্তি—দুটোই বাঁচছে।

দাপ্তরিক এই চরম গাফিলতির বিপরীতে বিকল্প তথ্যকেন্দ্র হিসেবে দাঁড়িয়েছে সন্দ্বীপভিত্তিক একাধিক ফেসবুক পেজ। সরেজমিনে দেখা যায়, জন্মস্থানের প্রতি তীব্র দায়বদ্ধতা থেকে দ্বীপের একঝাঁক তরুণ প্রতিদিন নিজ উদ্যোগে ঘাটে ছুটে যাচ্ছেন। তারা পরবর্তী দিনের ফেরি ও সি-ট্রাকের সময়সূচি সংগ্রহ করে জোয়ার-ভাটার তথ্যের সঙ্গে মিলিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচার করছেন।

তরুণদের এই উদ্যোগের সুফলও মিলছে হাতেনাতে। মানুষ ঘরে বসেই জানতে পারছেন কখন জাহাজ ছাড়বে। ফলে নির্দিষ্ট সময়ে ঘাটে পৌঁছে যাত্রীরা নিরাপদে জাহাজে উঠছেন এবং প্রতিটি নৌযানই পর্যাপ্ত যাত্রী পাচ্ছে।

আরও পড়ুন: দুর্যোগ ঝুঁকি মোকাবিলায় তরুণদের নেতৃত্বকে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দিতে হবে: চসিক প্রশাসক

সি-ট্রাক এসটি নিঝুম দ্বীপের ক্যাপ্টেন একরামুজ্জামান জানান, এই নৌরুটে যুক্ত হওয়ার পর এসটি নিঝুম দ্বীপ রেকর্ডসংখ্যক যাত্রী পরিবহন করেছে।

ঘটনার কালানুক্রম ও দাপ্তরিক তথ্য বিশ্লেষণে দেখা যায়, গত ১২ অক্টোবর থেকে ২২ অক্টোবর পর্যন্ত এসটি নিঝুম দ্বীপ এই নৌরুটে সর্বমোট ৪ হাজার ৬৬২ জন যাত্রী পরিবহন করেছে। তবুও বিআইডব্লিউটিসির সেই মুখস্থ বুলি—‘যাত্রী সংকট’।

নৌযান চলাচলের সময়সূচি ও জোয়ার-ভাটার সময় প্রচারকারী একাধিক সন্দ্বীপভিত্তিক ফেসবুক পেজের অ্যাডমিনরা আক্ষেপ প্রকাশ করে বলেন, জাহাজের সময় জানানো সরকারের দায়িত্ব, অথচ সেই দায়িত্ব পালন করছি আমরা। আমাদের স্বেচ্ছাশ্রমে বিপুল পরিমাণ আর্থিক লোকসান থেকে রক্ষা পেয়েও কৃতজ্ঞতা নেই বিআইডব্লিউটিসির।

সন্দ্বীপ নৌরুটে কোনো ‘যাত্রী সংকট’ নেই; সময়সূচি না জানিয়ে বিআইডব্লিউটিসি মূলত কৃত্রিম সংকটের নাটক সাজিয়ে একটি চক্রান্তকারী চক্রের পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করছে।

আরও পড়ুন: “শিবচরে বিভিন্ন ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে প্রশাসনের অভিযান ও জরিমানা”

সন্দ্বীপের নিরাপদ নৌ-যাতায়াত আন্দোলনে দীর্ঘদিন ধরে সম্পৃক্ত খাদেমুল ইসলাম জানান, জন্মস্থানের প্রতি দায়বদ্ধতা থেকেই তরুণরা এই উদ্যোগ নিয়েছেন। নিজেদের কার্যক্রমের কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, সন্দ্বীপের মানুষের ভোগান্তি দেখে আমরা আর চুপ থাকতে পারিনি। প্রতিদিন নিজ উদ্যোগে ঘাটে গিয়ে বা খোঁজ নিয়ে ফেরি ও সি-ট্রাকের সময়সূচি সংগ্রহ করি এবং জোয়ার-ভাটার সঙ্গে মিলিয়ে তা পেজে প্রচার করি। এখন আমাদের আপডেট দেখে প্রতিদিন নির্দিষ্ট সময়ে শত শত যাত্রী ঘাটে আসছেন।

সন্দ্বীপের নৌ-যাতায়াত ও জোয়ার-ভাটার আপডেট দেওয়া জনপ্রিয় ফেসবুক পেজ ‘ট্রাভেলার্স আইস’-এর অ্যাডমিন মাকসুদুর রহমান নিজের তিক্ত অভিজ্ঞতার কথা স্মরণ করে বলেন, বছর দুয়েক আগে ঘাটে গিয়ে জাহাজের জন্য পাঁচ ঘণ্টা বসে ছিলাম। জোয়ার-ভাটার সঠিক সময়সূচি না জানার কারণে সেদিন হাঁটু পানি মাড়িয়ে যাত্রীদের চরম দুর্ভোগ পোহাতে হয়েছিল। তখনই অনুভব করি, যাত্রীদের যদি আগে থেকে সময়সূচি জানানো যায়, তবে তারা কোনো ভোগান্তি ছাড়াই নির্বিঘ্নে যাতায়াত করতে পারবেন। সেই তাগিদ থেকেই অনলাইনে তথ্য দেওয়া শুরু করি।

RPLTV2 পেজের অ্যাডমিন আমিনুল ইসলাম রিয়াদ বলেন, সন্দ্বীপের প্রতি দায়বদ্ধতা ও ভালোবাসা থেকেই কাজটা করছি। আমাদের উদ্দেশ্য শুধু নৌযান চলাচলের সময়সূচি জানানো নয়, বরং সন্দ্বীপের মানুষের কাছে নিরাপদ নৌযানের গুরুত্বও তুলে ধরছি আমরা।

খাদেমুল, মাকসুদ ও রিয়াদের মতো সন্দ্বীপের আরও একঝাঁক স্বেচ্ছাসেবী তরুণ এই তথ্যের শূন্যতা পূরণে নিরলস কাজ করে যাচ্ছেন। সন্দ্বীপ টিভি, সন্দ্বীপের কণ্ঠস্বর, সন্দ্বীপ সংযোগ, চারু মিল্লাত, সন্দ্বীপ টেলিভিশন, দ্বীপের চোখ, ডিডব্লিউ সন্দ্বীপ, সন্দ্বীপ সোর্স,RPLTV2 , সন্দ্বীপ ইনসাইডার, সন্দ্বীপ স্পোর্টস টিভি, আজকের সন্দ্বীপ, সন্দ্বীপ টুডে ও সন্দ্বীপ টুয়েন্টি ফোর সহ বিভিন্ন ফেসবুক আইডি, পেজ ও গ্রুপ প্রতিদিন জোয়ার-ভাটার তথ্যের সঙ্গে মিলিয়ে ফেরি ও সি-ট্রাকের শিডিউল যাত্রীদের জানিয়ে দিচ্ছে।

আরও পড়ুন: বরগুনায় যুব সম্প্রীতি মেলার উদ্বোধন, অতিথিরা পরিদর্শন করেন

এ বিষয়ে বিআইডব্লিউটিসির সহ-মহাব্যবস্থাপক (বাণিজ্য) কে এম এমরান বলেন, সন্দ্বীপ রুটে জাহাজের শিডিউল সম্পূর্ণ জোয়ার-ভাটার ওপর নির্ভরশীল, যা প্রতিদিন বদলায়। তাই কেন্দ্রীয় বা দাপ্তরিকভাবে আগাম সময়সূচি প্রচার করা আমাদের জন্য কঠিন হয়ে পড়ে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

ফ্যাসিবাদী শাসন দীর্ঘস্থায়ী হয়েছে দাসত্বের সাংবাদিকতার কারণে: কাদের গনি চৌধুরী

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

বৃহস্পতিবার, ৫ই নভেম্বর, ২০২৬ ইং

০৬:১৪ পি.এম


ফ্যাসিবাদী শাসন দীর্ঘস্থায়ী হয়েছে দাসত্বের সাংবাদিকতার কারণে: কাদের গনি চৌধুরী

চট্টগ্রাম, ৫ নভেম্বর, ২০২৬ : বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থার ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান সম্পাদক এবং বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়নের (বিএফইউজে) মহাসচিব মুহাম্মদ কাদের গনি চৌধুরী মন্তব্য করেছেন, দাসত্বের সাংবাদিকতা মানুষের মনে গভীর ঘৃণা সৃষ্টি করে। তিনি উল্লেখ করেছেন, "১৭ বছর আমরা অনেক সাংবাদিককে দাসত্বের সাংবাদিকতা করতে দেখেছি।" এই পরিস্থিতির কারণে ফ্যাসিবাদী শাসন দীর্ঘস্থায়ী হয়েছে এবং সাংবাদিকদের মর্যাদা অনেকাংশে ক্ষুণ্ন হয়েছে।

তিনি আরও বলেছেন, "দলীয় ব্যানারের আড়ালে ক্ষমতার সাথে আঁতাত করে জনগণের স্বার্থ বিসর্জন যারা দিয়েছে, তারা আজকে আস্তাকুঁড়ে নিক্ষিপ্ত হয়েছে।" কিছু ব্যক্তি দেশ ছেড়ে পালিয়েছে এবং কেউ লজ্জায় জনসম্মুখে আসতে পারছেন না। তিনি বলেন, "এখান থেকে আমাদের শিক্ষা নিতে হবে। ৫ আগস্ট আমাদের চোখে আঙুল দিয়ে শিখিয়ে গেছে— সাদাকে সাদা, কালোকে কালো বলতে হবে।" সাংবাদিকদের এই দায়িত্ব পালন করতে হবে।

আজ দুপুরে চট্টগ্রাম প্রেস ক্লাবের জুলাই বিপ্লব স্মৃতি হলে সাংবাদিকদের কল্যাণে করণীয় বিষয়ক মতবিনিময় সভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে তিনি এসব কথা বলেন।

বাংলাদেশ সাংবাদিক কল্যাণ ট্রাস্ট এবং চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন সাংবাদিক ইউনিয়ন যৌথভাবে এই মতবিনিময় সভার আয়োজন করেছে।

চট্টগ্রামের জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞা’র সভাপতিত্বে মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন ভূমি ও পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দীন। বিশেষ অতিথি ছিলেন বাংলাদেশ সাংবাদিক কল্যাণ ট্রাস্টের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোহাম্মদ আবদুল বাছির (বাছির জামাল)।

কাদের গনি চৌধুরী বলেন, সাংবাদিকতা হচ্ছে সত্যের আরাধনা। তিনি উল্লেখ করেন, "সাংবাদিকরা মানুষের পক্ষে দাঁড়ায় একেবারে নিজ থেকে, সেজন্য কোনো বিনিময় দেওয়া লাগে না।" আইনজীবী, কৃষিবিদ, ইঞ্জিনিয়ারদের কাছে সেবার বিনিময়ে টাকা দিতে হয়, কিন্তু সাংবাদিকদের ক্ষেত্রে তা প্রযোজ্য নয়। যদিও বর্তমানে কিছু ক্ষেত্রে পেশাদারিত্বের অবনমন ঘটেছে। তিনি সাংবাদিকতাকে একটি পেশা মনে করেন না, বরং এটি একটি মিশন, যার কাজ হচ্ছে ক্ষমতার মুখে সত্য উচ্চারণ করা।

তিনি আরও বলেন, "জনগণের আস্থা হারানো মানেই সাংবাদিকতার মৃত্যু।" সাংবাদিকতা কোনো মুনাফাভিত্তিক ব্যবসা নয়, বরং এটি একটি পবিত্র কাজ। তিনি জানান, "দুর্ভাগ্যজনক হলেও সত্য— অপসাংবাদিকতা ও হলুদ সাংবাদিকতা আজকে ছেয়ে গেছে।"

বাসস এমডি বলেন, সাংবাদিকের কাজ হচ্ছে সত্য খুঁজে বের করা এবং সেই সত্যকে রক্ষা করা। তিনি বলেন, "সত্য না থাকলে আস্থা থাকে না।" আস্থা না থাকলে গ্রহণযোগ্যতাও থাকে না। তাই সাংবাদিকতার ক্ষেত্রে মিথ্যা বা অর্ধ সত্যের কোনো স্থান নেই। তিনি মনে করিয়ে দেন, "দেশের জনগণ ছাড়া কোনো দল-মতের কাছে সংবাদ মাধ্যমের দায়বদ্ধতা নেই।" গত ১৭ বছর সত্যনিষ্ঠ ও বস্তুনিষ্ঠ সাংবাদিকতা পাওয়া যায়নি, বরং দাসত্বের সাংবাদিকতা দেখা গেছে। গুম ও খুনের সত্য খবরগুলো গণমাধ্যমে আসেনি, এবং আয়নাঘরের খবরও বাংলাদেশের গণমাধ্যমে প্রকাশিত হয়নি।

সাংবাদিকদের জন্য দশম ওয়েজবোর্ডের যৌক্তিকতা তুলে ধরে তিনি বলেন, ইতোমধ্যে সরকারি কর্মকর্তাদের বেতন বৃদ্ধি করা হয়েছে। গার্মেন্টস কর্মীদেরও বেতন বৃদ্ধি হবে। তিনি উল্লেখ করেন, "অতীতে সকল সময়ে যখনই সরকারি কর্মকর্তাদের বেতন বৃদ্ধি করা হয়, একই সময়ের আগে-পরে সাংবাদিকদেরও বেতন বৃদ্ধি করা হয়।" তিনি দৃঢ় বিশ্বাস করেন যে সরকার শিগগিরই দশম ওয়েজবোর্ড ঘোষণা করবে।

ওয়েজবোর্ড বাস্তবায়ন নিয়ে সংবাদপত্র মালিকরা ভাঁওতাবাজি করছেন বলে বিএফইউজে মহাসচিব মন্তব্য করেন। তিনি বলেন, "রাষ্ট্র ওয়েজবোর্ড ঘোষণা করে, বড় বড় কয়েকটি পত্রিকা ছাড়া ৯০ শতাংশ পত্রিকা ওয়েজবোর্ড অনুযায়ী বেতন দেয় না।" অথচ তারা দাবি করেন, "আমরা সরকার ঘোষিত ওয়েজবোর্ড অনুযায়ী বেতন দিচ্ছি।" এই মালিকদের বিরুদ্ধে অভিযোগ করে তিনি বলেন, "যারা সাংবাদিকদের ওয়েজবোর্ড অনুযায়ী বেতন দেন না, তারা বিশ্বাসঘাতক এবং দুর্নীতিবাজ।"

সংবাদপত্রের স্বাধীনতাবিরোধী অনেকগুলো কালা কানুন শেখ হাসিনা তৈরি করেছেন বলে তিনি উল্লেখ করেন। তিনি বর্তমান গণতান্ত্রিক সরকারের কাছে আহ্বান জানান, "এসব কালা কানুন অবিলম্বে বাতিল করতে হবে।" তিনি বলেন, "আমরা গণতন্ত্র ও মানবাধিকারের কথা বলি, কিন্তু সবচেয়ে বড় নিপীড়নটা হয় সাংবাদিকদের ওপর।" তিনি দাবি করেন, "মফস্বল সাংবাদিকদের ন্যায্য বেতন দিতে হবে।" ওয়েজবোর্ডে এটি নিশ্চিত করতে হবে।

কাদের গনি চৌধুরী বলেন, ঢাকা ও চট্টগ্রামসহ সাংবাদিকদের আবাসন ও কল্যাণে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ও পরবর্তীতে মরহুমা খালেদা জিয়ার সরকার নানা ধরনের সুযোগ-সুবিধা দিয়েছেন। তিনি আশা প্রকাশ করেন, "তাঁদের উত্তরসূরি সরকার সাংবাদিকদের পাশে থাকবেন।"

সাংবাদিকদের জন্য সুরক্ষা নীতিমালা দাবি করে তিনি বলেন, "আমাদের একটি আহ্বান থাকবে— শুধু সংবাদ প্রকাশের কারণে আদালতের অনুমতি ছাড়া সাংবাদিকদের গ্রেফতার করা যাবে না।" তবে হলুদ সাংবাদিক বা চাঁদাবাজদের কথা বলছেন না তিনি। সাংবাদিকদের জন্য একটি নিরাপদ পরিবেশ তৈরি করতে হবে, যা বর্তমানে নেই। তিনি বলেন, "এখন সাংবাদিকরা নির্বিঘ্নে লিখতে পারছেন।" তিনি প্রশ্ন করেন, "এমন স্বাধীনতা সাংবাদিকরা অতীতে পেয়েছেন কি না?" তিনি সতর্ক করেন, "আমরা যেন এই স্বাধীনতার অপব্যবহার না করি।"

মতবিনিময় সভাটি চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন সাংবাদিক ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক সালেহ নোমানের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত হয়। সভায় আরও বক্তব্য রাখেন চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন সাংবাদিক ইউনিয়নের সভাপতি মোহাম্মদ শাহনওয়াজ, চট্টগ্রাম প্রেসক্লাবের সভাপতি জাহিদুল করিম কচি, সাধারণ সম্পাদক গোলাম মাওলা মুরাদ, কক্সবাজার সাংবাদিক ইউনিয়নের সভাপতি নুরুল ইসলাম হেলালী, বান্দরবান প্রেস ক্লাবের সভাপতি নাছির উদ্দিন, খাগড়াছড়ি প্রেস ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক এইচ এম প্রফুল্ল, চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন সাংবাদিক ইউনিয়নের সদস্য আমিনুল ইসলাম, চট্টগ্রাম প্রেসক্লাবের যুগ্ম সম্পাদক মিয়া মোহাম্মদ আরিফ, সাংবাদিক সাইফুল ইসলাম শিল্পী, কামরুল হুদা, ইমরান এমি এবং বাকি বিল্লাহ।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

“শিবচরে বিভিন্ন ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে প্রশাসনের অভিযান ও জরিমানা”

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

শিবচর (মাদারীপুর) মোঃআসাদুজ্জামান প্রতিনিধি

বৃহস্পতিবার, ৫ই নভেম্বর, ২০২৬ ইং

০৬:১৫ পি.এম


“শিবচরে বিভিন্ন ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে প্রশাসনের অভিযান ও জরিমানা”

খাবারে ভেজালমুক্ত ও নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিত করতে মাদারীপুরের শিবচরে বিভিন্ন দোকানে দোকানে সর্তক বার্তা ও সতেরো হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে।বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) বেলা এগারোটার দিকে উপজেলার উমেদপুর ইউনিয়নের চান্দেরচর বাজারে ও শিবচর পৌরসভা বাজারে এই অভিযান পরিচালনা করেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট এইচ.এম.ইবনে মিজান,জাতীয় ভোক্তা অধিকার মাদারীপুর জেলার সহকারী পরিচালক সুচন্দন মন্ডল,মাদারীপুর জেলার নিরাপদ খাদ্য কর্মকর্তা রফিকুল ইসলাম,কৃষি বিপণন কর্মকর্তা রুবেল মিয়া ও এএসআই আনিসুর রহমানের নের্তৃত্বে পুলিশের একটি টিম।

উপজেলার চান্দেরচর বাজারে বিভিন্ন খাবার দোকানে অভিযানে সর্তকমূলক বার্তা পৌছে দেওয়া হয় এবং ফুটপাত দখল করে ব্যবসা পরিচালনা করার জন্য দুই বয়বসায়ীকে চার হাজার জরিমানা এবং ফুটপাত দখল মুক্ত করা হয়।ফুটপাত দখলের কারণে সাধারণ মানুষের চলাচল ও গাড়ী চলতে বেশ সমস্যা হচ্ছিল অনেক দিন,তা আজ উপজেলা প্রশাসনের হস্তক্ষেপে দখল মুক্ত হলো।
এছাড়াও শিবচর পৌরসভার টিএন্ডটি মোড়ে বিভিন্ন খাবারে মেশানো স্বাস্থ্যের জন্য ঝুঁকি রাসায়নিক দ্রব্য যার কোন লেভেল নেই এবং উৎপাদিত পণ্যের উৎপাদন তারিখ ও মেয়াদোত্তীর্ণ তারিখের স্টিকার না থাকায় বিসমিল্লাহ লাইফ বেকারীকে দশ হাজার টাকা এবং ঢাকা বাকর খানিকে তিন হাজার টাকা জরিমানা ও সর্তক করা হয়।সবজি ও মুদি বাজারে সকল দোকানদারদের পণ্যের দাম লিখতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

অভিযান সম্পর্কে জানতে চাইলে শিবচর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট এইচ.এম.ইবনে মিজান বলেন,‘নিরাপদ খাদ্য অফিসা,ভোক্তা অধিকার কর্মকর্তা ও কৃষি বিপণন অফিসার নিয়ে এই অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে।অভিযানে কিছু দোকানে সর্তকমূলক জরিমানা করা হয়েছে।এই অভিযান চলমান থাকবে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

বাংলাদেশ ব্যাংক বন্ধ শিল্প ও সেবা খাতের ঋণ পুনঃঅর্থায়ন স্কিমে শর্ত শিথিল করেছে

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

বৃহস্পতিবার, ৫ই নভেম্বর, ২০২৬ ইং

০৬:১৫ পি.এম


বাংলাদেশ ব্যাংক বন্ধ শিল্প ও সেবা খাতের ঋণ পুনঃঅর্থায়ন স্কিমে শর্ত শিথিল করেছে

বন্ধ শিল্প ও সেবা খাতের কার্যক্রম পুনরুজ্জীবিত করার লক্ষ্যে বাংলাদেশ ব্যাংক ২০ হাজার কোটি টাকার পুনঃঅর্থায়ন স্কিমের নীতিমালায় পরিবর্তন এনেছে। এ স্কিমের কার্যক্রমে গতি আনতে ঋণের নাম পরিবর্তন, ঋণগ্রহীতার যোগ্যতা যাচাই এবং পুনঃঅর্থায়নের আবেদন জমা দেওয়ার সময়সীমাসহ একাধিক বিষয়ে নতুন নির্দেশনা প্রদান করা হয়েছে। নতুন নাম হবে ‘বন্ধ শিল্প ও সেবা খাত সহায়ক পুনঃঅর্থায়ন স্কিম’। পূর্বে এটি ‘বন্ধ শিল্প ও সেবা খাত সহায়ক প্রাক-অর্থায়ন স্কিম’ হিসেবে পরিচিত ছিল।

বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) বাংলাদেশ ব্যাংকের ব্যাংকিং প্রবিধি ও নীতি বিভাগ-১ থেকে এ বিষয়ে একটি সার্কুলার জারি করা হয়েছে। দেশের সব তফসিলি ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তাদের কাছে নির্দেশনাটি পাঠানো হয়েছে। এতে উল্লেখ করা হয়েছে, অবিলম্বে এ নির্দেশনা কার্যকর হবে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের সার্কুলার অনুযায়ী, পূর্বে জারি করা বিআরপিডি-১ সার্কুলার নং-১৩, ৪ জুন ২০২৬; বিআরপিডি-৩ সার্কুলার লেটার নং-০১, ৭ জুলাই ২০২৬ এবং বিআরপিডি-১ সার্কুলার লেটার নং-৩২, ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬-এর কিছু নির্দেশনা সংশোধন করা হয়েছে।

নতুন নির্দেশনায় ঋণগ্রহীতার যোগ্যতা যাচাইয়ের ক্ষেত্রে বিশেষ শর্ত যুক্ত করা হয়েছে। এ স্কিমের আওতায় ঋণ নিতে আগ্রহী গ্রাহককে আগে অর্থপাচার, জালিয়াতি, তহবিল স্থানান্তর বা ঋণের অর্থের অপব্যবহার করেননি— এ মর্মে ব্যাংকের কাছে একটি ঘোষণাপত্র দিতে হবে। অর্থাৎ ঋণ অনুমোদনের আগে গ্রাহকের এ ধরনের কর্মকাণ্ডে জড়িত না থাকার বিষয়ে ব্যাংককে লিখিত ঘোষণা নিতে হবে।

এছাড়া ঋণের অর্থ ব্যবহারের ক্ষেত্রেও নতুন নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। যে ব্যাংক থেকে কোনো গ্রাহক প্রকল্প ঋণ গ্রহণ করছেন, সেই ব্যাংক থেকেই এ স্কিমের আওতায় ঋণ পাওয়ার ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার পাবেন। একই সঙ্গে স্কিমের আওতায় দেওয়া ঋণ বা বিনিয়োগের সব ধরনের লেনদেন গ্রাহকের এসক্রো অ্যাকাউন্ট অথবা রেভিনিউ অ্যাকাউন্টের মাধ্যমে সম্পন্ন করতে হবে। অ্যাকাউন্টের নাম যা-ই হোক না কেন, প্রকল্পের আর্থিক লেনদেনের ক্ষেত্রে এ নির্দেশনা মানতে হবে।

প্রকল্পের আয় হিসাব খোলার বাধ্যবাধকতার ক্ষেত্রেও আগের নির্দেশনা যথাযথভাবে অনুসরণের কথা বলা হয়েছে। এ বিষয়ে বাংলাদেশ ব্যাংকের ১৮ জানুয়ারি ২০২৪ তারিখের বিআরপিডি সার্কুলার নং-০১-এর নির্দেশনা মেনে চলতে হবে।

পুনঃঅর্থায়নের আবেদন জমা দেওয়ার সময়সীমায়ও পরিবর্তন আনা হয়েছে। নতুন নির্দেশনা অনুযায়ী, সংশ্লিষ্ট ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদ অথবা পর্ষদ কর্তৃক অর্পিত ক্ষমতাবলে পর্ষদের নির্বাহী কমিটির অনুমোদনক্রমে ঋণ মঞ্জুর ও বিতরণের পরবর্তী এক সপ্তাহের মধ্যে প্রয়োজনীয় তথ্য ও কাগজপত্রসহ নির্ধারিত ছকে বাংলাদেশ ব্যাংকের ব্যাংকিং প্রবিধি ও নীতি বিভাগ-৩-এর পরিচালকের কাছে পুনঃঅর্থায়নের আবেদন করতে হবে।

তবে কোনো কারণে ওই এক সপ্তাহের মধ্যে আবেদন জমা দিতে ব্যর্থ হলে উপযুক্ত কারণ উল্লেখ করে পরবর্তী আরও ১৫ দিনের মধ্যে আবেদন করা যাবে। ফলে ব্যাংকগুলোর জন্য পুনঃঅর্থায়নের আবেদন প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট সময়সীমা ও অতিরিক্ত সুযোগ নির্ধারণ করা হয়েছে।

সার্কুলারে আরও বলা হয়েছে, আগের নির্দেশনাগুলোতে যেখানে ‘প্রাক-অর্থায়ন স্কিম’ শব্দগুচ্ছ ব্যবহার করা হয়েছে, সেখানে এখন থেকে ‘পুনঃঅর্থায়ন স্কিম’ শব্দগুচ্ছ ব্যবহার করতে হবে। পাশাপাশি সংশোধিত নির্দেশনার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে ব্যাংকগুলোর সঙ্গে সম্পাদিত অংশগ্রহণকারী চুক্তিসহ সংশ্লিষ্ট সার্কুলার ও সার্কুলার লেটারের অন্যান্য নির্দেশনাও সংশোধিত বলে গণ্য হবে।

বাংলাদেশ ব্যাংক জানিয়েছে, ব্যাংক কোম্পানি আইন, ১৯৯১-এর ৪৫ ধারায় প্রদত্ত ক্ষমতাবলে এ নির্দেশনা জারি করা হয়েছে এবং তা অবিলম্বে কার্যকর হবে।

বন্ধ শিল্প ও সেবা খাতের প্রতিষ্ঠানগুলোকে পুনরায় উৎপাদন ও সেবামূলক কার্যক্রমে ফিরিয়ে আনতে ২০ হাজার কোটি টাকার এ স্কিম গঠন করা হয়েছে। এর মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোকে অর্থায়নের সুযোগ দেওয়ার কথা রয়েছে। নতুন নির্দেশনার ফলে ঋণ বিতরণ এবং বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে পুনঃঅর্থায়ন পাওয়ার প্রক্রিয়ায় ব্যাংকগুলোর দায়িত্ব ও সময়সীমা আরও স্পষ্ট হলো।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

দুর্যোগ ঝুঁকি মোকাবিলায় তরুণদের নেতৃত্বকে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দিতে হবে: চসিক প্রশাসক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

বৃহস্পতিবার, ৫ই নভেম্বর, ২০২৬ ইং

০৬:১৬ পি.এম


দুর্যোগ ঝুঁকি মোকাবিলায় তরুণদের নেতৃত্বকে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দিতে হবে: চসিক প্রশাসক

চট্টগ্রাম, ৫ নভেম্বর, ২০২৬ : সিটি করপোরেশনের (চসিক) প্রশাসক ডা. শাহাদাত হোসেন তরুণ স্বেচ্ছাসেবকদের নেতৃত্ব ও অংশগ্রহণকে প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামোর আওতায় আনার ওপর গুরুত্ব আরোপ করেছেন, যা নগরীতে বিভিন্ন ধরনের দুর্যোগের ঝুঁকি মোকাবিলায় সহায়ক হবে।

তিনি উল্লেখ করেন, দুর্যোগের ক্ষয়ক্ষতি কমানোর জন্য আগাম সতর্কবার্তা প্রচার, জনসচেতনতা সৃষ্টি এবং কমিউনিটি পর্যায়ে প্রস্তুতি জোরদারে প্রশিক্ষিত তরুণদের সম্পৃক্ত করা আবশ্যক। স্থানীয় সরকারের নিয়মিত দুর্যোগ ব্যবস্থাপনার সঙ্গে তাদের কার্যক্রম যুক্ত করা অত্যন্ত জরুরি।

বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) চট্টগ্রামের হোটেল রেডিসন ব্লুতে ‘আগাম দুর্যোগ ব্যবস্থাপনায় তরুণদের কণ্ঠস্বর ও নেতৃত্বকে প্রাতিষ্ঠানিক রূপদান’ শীর্ষক সংলাপে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। এই সংলাপের আয়োজন করেছে ইয়ং পাওয়ার ইন সোশ্যাল অ্যাকশন (ইপসা)।

ডা. শাহাদাত হোসেন আরও বলেন, দুর্যোগ মোকাবিলায় শুধু তাৎক্ষণিক উদ্ধার কার্যক্রমই নয়, বরং আগাম প্রস্তুতি ও সতর্কতাও সমান গুরুত্বপূর্ণ। এ ক্ষেত্রে প্রশিক্ষিত তরুণ স্বেচ্ছাসেবকদের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে।

বিশেষ অতিথি হিসেবে চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (চউক) চেয়ারম্যান প্রকৌশলী বেলায়েত হোসেন মন্তব্য করেন, নিরাপদ, পরিকল্পিত ও পরিবেশবান্ধব চট্টগ্রাম গড়ে তোলা কোনো একক প্রতিষ্ঠানের পক্ষে সম্ভব নয়। এ জন্য সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠান, নগরবাসী এবং তরুণ সমাজের সম্মিলিত উদ্যোগ প্রয়োজন।

অনুষ্ঠানে অন্যান্য বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য (শিক্ষা) অধ্যাপক ড. মো. আল আমিন, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের যুগ্ম সচিব মিনাক্ষী, ইপসার প্রতিষ্ঠাতা ও প্রধান নির্বাহী ড. মো. আরিফুর রহমান এবং সেভ দ্য চিলড্রেনের ম্যানেজার জাবেদ মিয়াদাঁদ।

সংলাপে চট্টগ্রাম নগরের জন্য একটি সমন্বিত ডিজিটাল স্বেচ্ছাসেবক ডেটাবেজ তৈরির প্রস্তাব গুরুত্ব পায়। এই ডেটাবেজে স্বেচ্ছাসেবকদের অবস্থান, যোগাযোগের তথ্য, প্রশিক্ষণ ও দক্ষতার বিবরণ সংরক্ষণ করা হবে, যা দুর্যোগের সময় দ্রুত তাদের শনাক্ত করে কাজে লাগানোর জন্য সহায়ক হবে। পাশাপাশি মেট ক্লাবের মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের আবহাওয়া, জলবায়ু পরিবর্তন ও দুর্যোগ বিষয়ে সচেতনতা বৃদ্ধি এবং নেতৃত্ব বিকাশের উদ্যোগ তুলে ধরা হয়।

অনুষ্ঠানে চট্টগ্রাম ও বাঁশখালী উপজেলার ১০৪ জন প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত তরুণ স্বেচ্ছাসেবকের মধ্যে সনদ ও পরিচয়পত্র বিতরণ করা হয়।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ২৪শে জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪৯
জোহর ১১:৪৩
আসর ০৩:৪১
মাগরিব ০৫:১৭
ইশা ০৬:৩০
সূর্যোদয় : ০৬:০৬ সূর্যাস্ত : ০৫:১৭
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%