১১:১২ এম
বলিউড অভিনেত্রী রিয়া চক্রবর্তী কারাগারের অভিজ্ঞতা এবং সেখান থেকে পাওয়া অপ্রত্যাশিত কিছু শিক্ষা নিয়ে কথা বলেছেন। তিনি ২০২০ সালে বিচার বিভাগীয় হেফাজতে কাটানো ২৮ দিনের অভিজ্ঞতা ও জেলের ভেতরের বাস্তব জীবন সম্পর্কে সম্প্রতি তন্ময় ভাটের ইউটিউব চ্যানেলে বিস্তারিত আলোচনা করেন।
জেলজীবনের চরম দুঃসময়ের স্মৃতি মনে করে রিয়া জানান, বন্দিদশায় যাদের সঙ্গে তার দেখা হয়েছিল, তারা বাস্তব জীবনে তার ধারণার চেয়ে সম্পূর্ণ আলাদা ছিলেন। তিনি সমাজের তথাকথিত সাধারণ মানুষের তুলনায় কারাগারের ভেতরের বাসিন্দাদের অধিক মানবিক বলে মনে করেন।
কঠিন সেই দিনগুলোর অভিজ্ঞতা আলোচনার সময় রিয়া বলেছেন, 'আমার মনে হয় বাইরের মানুষের চেয়ে জেলের ভেতরের মানুষগুলো অনেক ভালো।' কারণ, বিচারালয়ে বিচারাধীন বিশেষ করে নারীদের বেশিরভাগই নির্দোষ। এখন, জেলের ভেতরে সবকিছু সমান, সবার পরিচয় কেবল একটা নম্বর, সেখানে আলাদা কোনো নাম থাকে না।
আরও পড়ুন: নায়ক মান্নার গাড়িতে আগুন, গ্রেফতার দুজন কারাগারে
২০২০ সালের ৮ সেপ্টেম্বর সুশান্ত সিং রাজপুতের মৃত্যুর তদন্তে মাদক-সংক্রান্ত যোগসাজশের অভিযোগে রিয়া চক্রবর্তীকে গ্রেফতার করেছিল এনসিবি। তার বিরুদ্ধে অভিযোগ ছিল সুশান্তের জন্য মাদক জোগাড় করার। দীর্ঘ বিচার বিভাগীয় হেফাজত শেষে একই বছরের ৭ অক্টোবর জামিনে মুক্তি পান।
কারাগারের সেই তিক্ত স্মৃতির মাঝে কিছু আনন্দঘন মুহূর্তের কথা তিনি ভাগ করে নিয়েছেন। রিয়া জানান, বন্দি নারীরা একসঙ্গে গান গাইতেন এবং নাচতেন। তারা সবাই মিলে মহারাষ্ট্রের ঐতিহ্যবাহী ঝাল খাবার ‘ঠেচা’ তৈরি করতেন। জেলের খাবার সম্পর্কে তন্ময় ভাটের প্রশ্নের জবাবে রিয়া হাস্যরসের মেজাজে বলেন, 'বন্ধুরা, আমি এই অভিজ্ঞতা নিয়ে একটা বই লিখছি, তোমরা পড়ে নিও।' বইটির নাম জানতে চাইলে রিয়া উত্তরে বলেছিলেন, 'বইটির নাম হবে ‘চুড়েল কা বদলা’।” এরপর কৌতুকের মতো করে তিনি জেলের খাবারের বর্ণনা দিয়ে বলেন, 'সেখানে তো সুশি, শ্যাম্পেন, বড়া পাভ আর চাট দেওয়া হয়।'
সুশান্ত সিং রাজপুতের মৃত্যুর ঘটনার তদন্ত এবং জেলের মেয়াদ শেষ হওয়ার পর রিয়ার জীবন কীভাবে বদলে গেছে, সে সম্পর্কেও তিনি কথা বলেন। দীর্ঘ তদন্ত শেষে ২০২৫ সালের ২২ মার্চ সিবিআই চূড়ান্ত ক্লোজার রিপোর্ট দাখিল করে, যেখানে রিয়া চক্রবর্তীকে সমস্ত অভিযোগ থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয় এবং সুশান্তের মৃত্যুকে ‘আত্মহত্যা’ বলে সিদ্ধান্ত হয়। পরে আইনি বাধা কেটে গেলে তিনি নিজের পাসপোর্ট ফিরে পান। যখন বাবা-মায়ের সঙ্গে প্রথমবারের মতো বিদেশে যাওয়ার স্মৃতি মনে করেন, তখন রিয়া বলেন, 'আমি বাবা-মায়ের সঙ্গে ছুটিতে গিয়েছিলাম। ইমিগ্রেশন পার হওয়ার সময় কাউকে আমাকে আটকাতে দেখা যায়নি, তখন খুব অদ্ভুত লেগেছিল।'
জেল থেকে মুক্তির পর চলচ্চিত্রজগতের সহকর্মীদের আচরণের পরিবর্তনও রিয়া চক্রবর্তী লক্ষ্য করেছেন। তিনি জানিয়েছেন, 'কারাবাস কাটিয়ে বের হওয়ার পর আমি যখনই কোনো কক্ষে প্রবেশ করতাম, তখন সেখানে আলোচনার ধরন হঠাৎ করে খুব গম্ভীর হয়ে যেত।'
আরও পড়ুন: ঘিওরের ধলেশ্বরী নদীতে দুই দিন নিখোঁজ বৃদ্ধার মরদেহ উদ্ধার
এছাড়া, দীর্ঘদিন পর আবার শোবিজে নিয়মিত হয়েছেন রিয়া। বর্তমানে করণ জোহরের রিয়েলিটি শো ‘দ্য ট্রেইটরস ২’-এ তাকে দেখা যাচ্ছে, যা অনলাইন স্ট্রিমিং প্ল্যাটফর্ম প্রাইম ভিডিওতে সম্প্রচারিত হচ্ছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন