ঢাকা বুধবার, ২১শে অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ০৫ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ১০ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
বুধবার, ২১শে অক্টোবর, ২০২৬ইং ০৫ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

পীরগাছায় সার ডিলার নিয়োগে এমপি রায়হান সিরাজীর অভিযোগ: ‘বানরের পিঠা ভাগের মতো’


পীরগাছায় সার ডিলার নিয়োগে এমপি রায়হান সিরাজীর অভিযোগ: ‘বানরের পিঠা ভাগের মতো’

রংপুরের পীরগাছায় সার ডিলার নিয়োগে সরকারি নীতিমালা অনুসরণ না করার অভিযোগ করেছেন রংপুর-১ আসনের সংসদ সদস্য মো. রায়হান সিরাজী। তিনি দাবি করেছেন, নিয়োগ প্রক্রিয়ায় বৈষম্যের সৃষ্টি হয়েছে এবং যোগ্য ব্যক্তিদের বঞ্চিত করা হয়েছে। এমপি রায়হান সিরাজী সরকারের কাছে আহ্বান জানিয়েছেন, এই নিয়োগ পুনর্বিবেচনা করে প্রকৃত হকদারদের সুযোগ দিতে হবে।

রোববার সকালে রংপুর জেলা প্রশাসকের সম্মেলনকক্ষে জেলা আইনশৃঙ্খলা কমিটির মাসিক সভা শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব মন্তব্য করেন। সার ডিলার নিয়োগের প্রক্রিয়ায় সমালোচনা করে তিনি বলেন, সরকারি নীতিমালা উপেক্ষা করে "বানরের পিঠা ভাগের মতো" বণ্টন করা হয়েছে।

এমপি রায়হান সিরাজী বলেন, “পীরগাছার বিষয়টা অলরেডি টক অব দ্য কান্ট্রি। একদম খুল্লামখুল্লা। আপনাদের সাংবাদিকদের কাছে সে বিষয়টি আরও স্পষ্ট, আপনারা সবাই জানেন। আমি কী উত্তর দেব? সাংবাদিক-জনগণ এখন সজাগ। ৫ আগস্টের পরে এ জনতা জেগেছে, আগেই জেগেছে। এই জনতাকে কেউ রুখতে পারবে না।”

আরও পড়ুন: বরিশাল সদরে ৯৫ গ্রাম পুলিশের হাতে বাইসাইকেল-ইউনিফর্ম তুলে দিলেন এমপি মজিবর রহমান সরোয়ার

সার ডিলার নিয়োগে অনিয়মের অভিযোগ তুলে তিনি বলেন, “একটাই বক্তব্য বলব, এখানে সরকারি নীতিমালা অনুসরণ করা হয়নি। মোটা দাগের বক্তব্য, এটি বানরের পিঠা ভাগ হয়েছে।”

এ ধরনের নিয়োগের মাধ্যমে দেশে আবারও বৈষম্য তৈরি হচ্ছে বলে মন্তব্য করেন তিনি। রায়হান সিরাজী বলেন, বৈষম্য যখন চরম মাত্রায় পৌঁছায়, তখন জনগণ জেগে ওঠে। ইতিহাসে এর প্রমাণ রয়েছে। তিনি চান না যে, নতুন করে এমন পরিস্থিতি তৈরি হোক।

সার ডিলার নিয়োগের সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনার আহ্বান জানিয়ে সংসদ সদস্য বলেন, যাঁদের সঙ্গে সরকারি নীতিমালার শর্ত মেলে এবং যাঁরা প্রকৃতপক্ষে ডিলার হওয়ার যোগ্য, তাঁদের ন্যায্য অধিকার নিশ্চিত করতে হবে। অভিজ্ঞ ব্যবসায়ীরা দায়িত্ব পেলে ভবিষ্যতে সারসংকট মোকাবিলা ও সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনা সহজ হবে বলে তিনি মনে করেন।

তিনি অভিযোগ করেন, যাঁদের ডিলার হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে, তাঁদের অনেকেরই সার ব্যবসার অভিজ্ঞতা নেই। এমনকি তাঁদের কেউ কেউ চালের ব্যবসাও করেননি বলে মন্তব্য করেন তিনি।

আরও পড়ুন: সিম খেতে কাজ করতে গিয়ে প্রাণ গেল কিশোর দিনমজুরের

এমপি রায়হান সিরাজী বলেন, “আমরা আশা করছি, সরকার এটা পুনর্বিবেচনা করে জনগণের এই ক্ষোভকে মূলধন মনে করে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করবে। তা না হলে জনগণ বিক্ষুব্ধ। জনগণ এই বৈষম্য চায় না। জনগণ বৈষম্যমুক্ত বাংলাদেশের জন্য জীবন দিয়েছে, জনগণ বৈষম্যমুক্ত বাংলাদেশ চায়।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

চাঁদপুরে জেলেদের বরাদ্দের ৫ টন চাল উদ্ধার, তদন্ত কমিটি গঠন

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

রবিবার, ১১ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

১০:৩৩ পি.এম


চাঁদপুরে জেলেদের বরাদ্দের ৫ টন চাল উদ্ধার, তদন্ত কমিটি গঠন

চাঁদপুরে জেলেদের জন্য বরাদ্দকৃত প্রায় পাঁচ টন চাল কালোবাজারে বিক্রির উদ্দেশ্যে পাচারের সময় উপজেলা প্রশাসনের দ্বারা জব্দ করা হয়েছে। শহরের বিপণীবাগ এলাকা থেকে ৪ হাজার ৯৩০ কেজি চালভর্তি একটি মিনি পিকআপ আটক করা হয়। এই ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। পাশাপাশি, বিষয়টি তদন্তের জন্য তিন সদস্যের একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে।

মা ইলিশ রক্ষা অভিযান উপলক্ষে চাঁদপুর সদর উপজেলার লক্ষ্মীপুর মডেল ইউনিয়নের নিবন্ধিত জেলেদের মধ্যে বিতরণের জন্য চালগুলো বরাদ্দ করা হয়েছিল। তবে অভিযোগ উঠেছে যে, নির্ধারিত স্থানে বিতরণ না করে চালগুলো গোপনে এক ব্যবসায়ীর কাছে বিক্রি করা হয়েছে। পরে, ওই চাল লাকসামে বিক্রির উদ্দেশ্যে মিনি পিকআপে করে নেওয়ার সময় গোপন সংবাদের ভিত্তিতে উপজেলা প্রশাসন তৎপর হয়।

প্রশাসনের তৎপরতার ফলে চালভর্তি গাড়িটি হাজীগঞ্জ থেকে ঘুরিয়ে চাঁদপুর শহরের বিপণীবাগ এলাকায় আনা হয়। সেখানে অভিযান চালিয়ে ৪ হাজার ৯৩০ কেজি চালসহ মিনি পিকআপটি জব্দ করেন সদর উপজেলার সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট প্রত্যয় হাসেম।

সহকারী কমিশনার (ভূমি) প্রত্যয় হাসেম জানান, জেলেদের জন্য বরাদ্দ করা চাল লক্ষ্মীপুর ইউনিয়নে পৌঁছানোর কথা থাকলেও তা নিয়মবহির্ভূতভাবে অন্যত্র বিক্রি করা হয়েছিল। এ ঘটনায় তিন সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত দোষীদের শনাক্ত করে তাঁদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

এদিকে, অভিযুক্ত লক্ষ্মীপুর মডেল ইউনিয়নের প্রশাসনিক কর্মকর্তা গোলাম মোস্তফা শামীমের বিরুদ্ধে এর আগেও চাল আত্মসাৎ বা অবৈধ বিক্রির একাধিক অভিযোগ রয়েছে বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে। তবে এসব অভিযোগের সত্যতা নিরপেক্ষভাবে যাচাই করা হচ্ছে। ঘটনার পর থেকে তাঁর মুঠোফোন বন্ধ পাওয়া গেছে।

জব্দ করা চাল পরে নিয়মতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় কেন্দ্রীয় খাদ্য সংরক্ষণাগারে (সিএসডি গোডাউন) পুনরায় সংরক্ষণ করা হয়েছে। সরকারি এই চাল কীভাবে নির্ধারিত গন্তব্যে না পৌঁছে অন্যত্র নেওয়া হলো, তা তদন্তের মাধ্যমে শিগগিরই উদ্‌ঘাটিত হবে বলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা আশা প্রকাশ করেছেন।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

ভালুকায় ফিসারিতে ডুবে স্কুলছাত্র উদয় হাসানের মৃত্যু

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

রবিবার, ১১ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

১০:৩৩ পি.এম


ভালুকায় ফিসারিতে ডুবে স্কুলছাত্র উদয় হাসানের মৃত্যু

ময়মনসিংহের ভালুকায় বন্ধুদের সঙ্গে মাছের ফিসারিতে সাঁতার কাটতে গিয়ে পানিতে ডুবে এক স্কুলছাত্রের মৃত্যু হয়েছে। উদয় হাসান (১১) নামের ওই ছাত্রের মৃত্যু ঘটে রোববার (১১ অক্টোবর) বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে হবিরবাড়ী ইউনিয়নের কড়ইতলী এলাকায়।

নিহত উদয় হাসান স্থানীয় শফিকুল ইসলামের একমাত্র সন্তান এবং নাসির মডেল স্কুলের তৃতীয় শ্রেণীর শিক্ষার্থী ছিলেন।

স্থানীয় ও পরিবারের সূত্রে জানা যায়, দুপুরের দিকে উদয় হাসান তার বন্ধুদের সঙ্গে সাঁতার কাটতে স্থানীয় সাদেকের মাছের ফিসারিতে যায়। সাঁতার কাটার সময় একপর্যায়ে সে গভীর পানিতে তলিয়ে যায়। উদয়কে দেখতে না পেয়ে তার বন্ধুরা চিৎকার শুরু করলে পরিবার ও স্থানীয়রা ছুটে আসে। পরে দীর্ঘক্ষণ খোঁজাখুঁজি শেষে বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে তাকে উদ্ধার করা হয়। পরে তাকে দ্রুত ভালুকা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক উদয়কে মৃত ঘোষণা করেন।

ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন হবিরবাড়ী ইউনিয়নের ৯ নং ওয়ার্ডের মেম্বার খলিলুর রহমান মাসুদ।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

জমির মালিকানা নিশ্চিত করতে রেজিস্ট্রির আইনি প্রক্রিয়ার গুরুত্ব

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

রবিবার, ১১ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

১০:৩৪ পি.এম


জমির মালিকানা নিশ্চিত করতে রেজিস্ট্রির আইনি প্রক্রিয়ার গুরুত্ব

জমি ক্রয়-বিক্রয়ের ক্ষেত্রে সামান্য অসাবধানতা অথবা আইনি প্রক্রিয়ার অজ্ঞতার ফলে অনেকেই দীর্ঘমেয়াদি মামলার জালে জড়িয়ে পড়েন। তাই দেশের প্রচলিত আইন অনুযায়ী নির্দিষ্ট কিছু ধাপ অনুসরণ করা বাধ্যতামূলক, যা নিজের কষ্টার্জিত অর্থের নিরাপত্তা এবং জমির চূড়ান্ত ও নিষ্কণ্টক মালিকানা নিশ্চিত করতে সহায়তা করে।

জমি কেনাবেচার প্রক্রিয়ায় সাধারণ মানুষের সামনে নানা জটিলতা, প্রতারণা এবং দীর্ঘমেয়াদি আইনি বিরোধের মুখোমুখি হওয়ার সম্ভাবনা থাকে। সঠিক নিয়মে জমি রেজিস্ট্রি না করা, কর পরিশোধে অস্পষ্টতা, আইনি বাধাগুলো সম্পর্কে অজ্ঞতা কিংবা জমি ক্রয়ের পর নামজারিসহ পরবর্তী আবশ্যিক পদক্ষেপগুলো সঠিক সময়ে গ্রহণ না করার কারণে অনেকেই তাদের সারা জীবনের সঞ্চয় দিয়ে কেনা সম্পত্তি হারিয়ে নিঃস্ব হয়ে যান।

বছরের পর বছর আদালতে ঘুরতে হয় মামলার জটলায়। অথচ কেনাবেচার সময় যদি কিছু সচেতনতা এবং আইনের সাধারণ বিষয়গুলো জানা থাকে, তাহলে এই অনাকাঙ্ক্ষিত ভোগান্তি সহজেই এড়ানো সম্ভব। জমি হস্তান্তরের সময় ক্রেতা ও বিক্রেতা উভয় পক্ষের কিছু সুনির্দিষ্ট আইনি দায়-দায়িত্ব এবং করণীয় রয়েছে, যা সঠিকভাবে পালন করা দুই পক্ষের জন্য জরুরি। রেজিস্ট্রেশন প্রক্রিয়ার জটিলতা এড়াতে এবং জমি ক্রয়ের পর নিজের মালিকানা শতভাগ সুরক্ষিত রাখতে আইনসম্মত বিষয়গুলো জানা থাকা প্রয়োজন।

এ বিষয়ে আলোচনা করেছেন বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী ড. পি. এম. সিরাজুল ইসলাম (সিরাজ প্রামাণিক)।

জমি হস্তান্তরের ক্ষেত্রে ভ্যাট (VAT) এবং উৎস কর সর্বদা বিক্রেতার আয়ের ওপর ধার্যকৃত কর। ফলে আয়কর আইনের বিধান অনুযায়ী, এই দুই প্রকার কর বিক্রেতার নামেই সরকারি কোষাগারে জমা দিতে হয়। তবে জমি কেনাবেচার ক্ষেত্রে অন্যান্য বাকি করসমূহ মূলত জমির ক্রেতা পরিশোধ করবেন।

রেজিস্ট্রি করার পর দলিলে দাগ, খতিয়ান, মৌজা, সীমানা (চৌহদ্দি) বা নামে কোনো ভুল থাকলে তা সংশোধনের ব্যবস্থা রয়েছে। ভুল ধরা পড়ার ৩ বছরের মধ্যে দেওয়ানি আদালতে মামলা করতে হয়। নির্ধারিত ৩ বছর পার হয়ে গেলে মামলাটি তামাদি আইনের দ্বারা বারিত হয়ে যায়। তবে তিন বছর অতিক্রান্ত হলে দেওয়ানি আদালতে ঘোষণামূলক মামলা দায়ের করা সম্ভব। আদালতের রায়ের কপি সাব-রেজিস্ট্রারের কাছে পৌঁছালে তিনি ভলিউম সংশোধন করে নেন। এছাড়া পৃথক 'ভ্রম সংশোধন দলিল' সম্পাদন করেও ভুল সংশোধন করা যায়।

অন্যদিকে, কোনো দলিল জাল প্রমাণিত হলে তা জানার ৩ বছরের মধ্যে দেওয়ানি আদালতে উক্ত দলিল বাতিল ও একই সাথে সম্পত্তির দখল প্রাপ্তির মামলা করা সমীচীন।

যদি কোনো দলিলদাতা শারীরিক অক্ষমতার কারণে রেজিস্ট্রি অফিসে উপস্থিত হতে না পারেন, তাহলে রেজিস্ট্রেশন আইনের ৩৮ ধারা অনুযায়ী কমিশনের জন্য আবেদন করতে পারেন। আবেদনের ভিত্তিতে সাব-রেজিস্ট্রার বা তার প্রতিনিধি দলিলদাতার বাসস্থানে গিয়ে সম্পাদন স্বীকারোক্তি গ্রহণ করেন। এছাড়া রেজিস্ট্রেশন আইনের ৩১ ধারা অনুযায়ী, দলিলদাতা ও গ্রহীতা উভয়ই অফিসে যেতে ব্যর্থ হলে 'ভিজিট ফি' জমা দিয়ে বাড়িতে বসেই দলিল রেজিস্ট্রি করার বিধান রয়েছে।

প্রতিষ্ঠানের নামে জমি কিনতে হলে সরাসরি প্রতিষ্ঠানের বরাবরেই দলিল সম্পাদন করতে হবে, সেখানে ব্যক্তিবিশেষের নাম যুক্ত করা যাবে না। তবে কোনো কোম্পানির পক্ষে তার চেয়ারম্যান বা ব্যবস্থাপনা পরিচালক দলিল সম্পাদন করতে পারবেন। এছাড়া, সাফ কবলা দলিল তৈরির সময় কোথাও ভুলত্রুটি হলে, দলিলের শেষাংশে নির্দিষ্ট পৃষ্ঠা ও লাইন নম্বর উল্লেখ করে 'কৈফিয়ত' লিখে নিচে দলিল লেখকের স্বাক্ষর প্রদান বাধ্যতামূলক।

আইন অনুযায়ী, নাবালক, শত্রু দেশের নাগরিক, আদালত কর্তৃক দেউলিয়া বা উন্মাদ ঘোষিত ব্যক্তি এবং মদ্যপ অবস্থায় সম্পন্ন করা যেকোনো দলিল বাতিল বলে গণ্য হবে। তাছাড়া আদালতের নিষেধাজ্ঞা থাকা সত্ত্বেও সম্পাদিত দলিল কিংবা ভয়ভীতি, লোভ ও জোরজবরদস্তি করে রেজিস্ট্রি করা দলিল আইনিভাবে সম্পূর্ণ অবৈধ ও বাতিল।

জমি কেনার পর সর্বপ্রথমে জমি পরিমাপ করে সীমানা নির্ধারণ ও বাস্তব দখল (যেমন— চাষাবাদ বা অবকাঠামো নির্মাণ) গ্রহণ করতে হবে। সাব-রেজিস্ট্রি অফিস থেকে মূল দলিল বা দ্রুততম সময়ে 'সার্টিফায়েড কপি' সংগ্রহ করে অবিলম্বে স্থানীয় সহকারী কমিশনার (ভূমি) অফিসে নামজারি বা মিউটেশনের আবেদন করতে হবে। নামজারি শেষে খতিয়ান, ডিসিআর (DCR) এবং ভূমি উন্নয়ন করের দাখিলা নিজের কাছে সংরক্ষণ করা আবশ্যক। মনে রাখতে হবে, ক্রয়ের পর দখলে যেতে বিলম্ব কিংবা নামজারি না করলে অসাধু বিক্রেতা একই জমি অন্য কারো কাছে পুনঃবিক্রি করার সুযোগ পেতে পারে।

জমিজমা সংক্রান্ত আইনি ঝামেলা এড়াতে অসচেতনতার কোনো সুযোগ নেই। সঠিক সময়ে কর প্রদান, দলিল যাচাই, কমিশন ও ভিজিটের সঠিক ব্যবহার এবং জমি হস্তান্তরের পরপরই দখল ও নামজারি সম্পন্ন করাই একজন সচেতন নাগরিকের প্রধান দায়িত্ব। আইনি নির্দেশনাগুলো কঠোরভাবে অনুসরণ করলে জমি কেনাবেচায় প্রতারণা সম্পূর্ণ রোধ করা সম্ভব।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

হুথি মি-সা-ই-ল কেন সউদী আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ভেদ করতে সফল হচ্ছে?

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

রবিবার, ১১ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

১০:৩৫ পি.এম


হুথি মি-সা-ই-ল কেন সউদী আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ভেদ করতে সফল হচ্ছে?

সউদী আরবের গভীরে হামলা চালিয়ে যাচ্ছে হুথিরা, যারা দফায় দফায় ব্যালিস্টিক মিসাইল, ক্রুজ মিসাইল এবং ড্রোন ব্যবহার করছে। ইয়েমেনের সশস্ত্র গোষ্ঠী আনসারুল্লাহ, যাদের সাধারণত ‘হুথি’ নামে অভিহিত করা হয়, তারা চলতি বছরের সেপ্টেম্বর থেকে সউদীর বিরুদ্ধে নতুন সামরিক অভিযান শুরু করার পর থেকে রাজধানী রিয়াদের কিং খালিদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরকে একাধিকবার লক্ষ্যবস্তু বানিয়েছে।

গতকাল শনিবার বিমানবন্দরে এক হামলায় ১২ জন নিহত এবং ৩০৯ জন আহত হয়েছেন। এটি গত এক দশকেরও বেশি সময়ের মধ্যে সউদীতে ঘটে যাওয়া সবচেয়ে রক্তক্ষয়ী হামলার ঘটনা। এই হামলার পর সউদী আরবের বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ ফ্লাইট অপারেশন স্থগিত করতে বাধ্য হয়েছে এবং সমস্ত ফ্লাইট অন্যত্র ঘুরিয়ে দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্য তাদের নাগরিকদের জন্য নতুন ভ্রমণ সতর্কতা জারি করেছে। হুথিরা এর আগে চলতি সপ্তাহে বিমানবন্দরটিতে আরও দুটি হামলার দায় স্বীকার করেছে এবং গত রবিবার এক সতর্কবার্তায় লোকজনকে সউদী বিমানবন্দরগুলো এড়িয়ে চলার পরামর্শ দিয়েছে।

হুথিদের অস্ত্রভাণ্ডার কতখানি উন্নত?

রিয়াদ বিমানবন্দরে হামলার জন্য ব্যবহৃত অস্ত্রের প্রকৃতি এখনও পরিষ্কার নয়, তবে ২০১৫ সালে সউদী জোট ইয়েমেনে হস্তক্ষেপ করার পর থেকে হুথিরা সউদীর দিকে শত শত ড্রোন ও মিসাইল নিক্ষেপ করেছে। তাছাড়া, ২০২৩ সালের অক্টোবর থেকে গাজায় সংঘাত শুরুর পর থেকে এই ইরান-সমর্থিত গোষ্ঠীটি ইসরায়েল এবং ইসরায়েল-সংশ্লিষ্ট জাহাজেও হামলা চালিয়ে আসছে।

ইয়েমেনের সরকারি বাহিনীর বিরুদ্ধে লড়াইয়ে হুথিরা একই কৌশল ব্যবহার করে আসছে। গত মাসে লোহিত সাগরের উপকূল দখল করার আগে তারা সপ্তাহের পর সপ্তাহ সরকারি বাহিনীর অবস্থানে ড্রোন ও মিসাইলের বৃষ্টি চালিয়েছিল।

এই গোষ্ঠীর সবচেয়ে উন্নত অস্ত্রের মধ্যে রয়েছে মাঝারি পাল্লার ব্যালিস্টিক মিসাইল ‘ফিলিস্তিন-২’। এটি একটি দ্বি-পর্যায়ের সলিড ফুয়েল মিসাইল, যার আনুমানিক পাল্লা ২,০০০ কিলোমিটার এবং এটি সুপারসনিক ক্ষমতাসম্পন্ন। আরেকটি হলো ‘তুফান’, যা মূলত ইরানের গদর মিসাইলের একটি পরিবর্তিত রূপ। ধারণা করা হয়, এর পাল্লা ১,৩৫১ থেকে ১,৯৫০ কিলোমিটারের মধ্যে।

এই মিসাইলগুলোর পাল্লা এত বেশি যে—যার কিছু কিছু আবার ক্লাস্টার ওয়ারহেড বহন করতে সক্ষম—ইয়েমেন থেকে প্রায় ২,০০০ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত ইসরায়েলের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাকেও ভেদ করতে পেরেছে এগুলো। এছাড়াও হুথিদের অস্ত্রভাণ্ডারে বুরকান এবং বদর সিরিজের মতো বেশ কিছু স্বল্পপাল্লার মিসাইল রয়েছে, যেগুলো ইয়েমেন থেকে সউদী আরবের অভ্যন্তরে সীমান্তবর্তী বিভিন্ন হামলায় ব্যবহৃত হয়েছে।

কিংস কলেজ ওয়ার স্টাডিজ ডিপার্টমেন্টের সিনিয়র ফেলো নাওয়াফ ওবায়েদের মতে, হুথিদের মিসাইল ভাণ্ডার মূলত ইরানি প্রযুক্তির ওপর নির্ভরশীল, সাথে কিছু চিনা প্রভাবও রয়েছে।

তিনি বলেন, “হুথিরা উল্লেখযোগ্য কোনো দেশীয় প্রযুক্তিগত উদ্ভাবন করতে পেরেছে তার প্রমাণ খুব কমই রয়েছে। তাদের নিজস্ব সক্ষমতা মূলত নিম্নমানের কিছু মিসাইল এবং ড্রোন তৈরির মধ্যেই সীমাবদ্ধ।” গত মাসে ইয়েমেনের সরকারি বাহিনী অভিযোগ করেছিল যে, নতুন ধরনের 'লোইটারিং ক্রুজ মিসাইল' তৈরিতে হুথিদের সহায়তা করছে ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি)।

কেন হিমশিম খাচ্ছে সউদীর প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা?

সউদী কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, তাদের বাহিনী গত সপ্তাহে রাজধানী লক্ষ্য করে ছোড়া দুটি ব্যালিস্টিক মিসাইলসহ বেশ কিছু প্রজেক্টাইল মাঝআকাশেই ভূপাতিত করেছে। কিন্তু শনিবার রিয়াদের কিং খালিদ বিমানবন্দরে আঘাত হানা প্রজেক্টাইলটিকে তারা আটকাতে ব্যর্থ হয়। নাওয়াফ ওবায়েদ আল-জাজিরাকে জানান, সউদী আরবের বিশাল আয়তন এবং ইয়েমেনের সাথে দীর্ঘ সীমান্ত বিবেচনা করলে তাদের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাকে মাঝে মাঝে এমন ভেদ করার ঘটনা অপ্রত্যাশিত নয়।

তিনি বলেন, “আপনার কাছে যতই বহুস্তরীয় আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা থাকুক না কেন, একটি না একটি মিসাইল ঠিকই ফাঁক গলে বেরিয়ে যাবে।” তিনি উল্লেখ করেন যে, প্রতিটি সফল হামলার বিপরীতে হুথিদের ডজন ডজন প্রচেষ্টা ব্যর্থ করে দেওয়া হচ্ছে।

প্রতিরক্ষা বিশ্লেষক উলফগ্যাং পুসজতাই জানান, সউদী আরবের ব্যালিস্টিক মিসাইল প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার মূল লক্ষ্য ছিল মূলত ইরান থেকে আসা হুমকি মোকাবিলা করা। তবে হুথিদের আক্রমণ বাড়তে থাকায় সউদীরা এখন তাদের এই প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার একটি অংশ ইয়েমেনের দিকে ঘুরিয়ে দিচ্ছে বলেই মনে হচ্ছে।

আরেকটি বড় সমস্যা হলো ইন্টারসেপ্টর বা প্রতিরক্ষামূলক অস্ত্রের মজুত কমে যাওয়া। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এবং তাদের আঞ্চলিক ও বৈশ্বিক মিত্রদের মতো সউদী আরবও প্যাট্রিয়ট ও থাড যুদ্ধাস্ত্রের সীমিত মজুত নিয়ে লড়াই করছে। ইরানের সাথে যুদ্ধের মাসগুলোতে যুক্তরাষ্ট্র ও তার মিত্ররা এসব অস্ত্র দ্রুত খরচ করে ফেলেছিল। গত মাসে হুথিদের হামলা থেকে রক্ষা পেতে সউদী আরব বেশ কিছু বন্ধুভাবাপন্ন দেশের কাছে আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা বা অন্যান্য সহায়তার জন্য অনুরোধ জানিয়েছিল।

সীমাবদ্ধতা সত্ত্বেও হুথিদের লড়াই

এদিকে হুথিরাও মারাত্মক কিছু সীমাবদ্ধতার মধ্য দিয়ে লড়াই চালিয়ে যাচ্ছে। গোষ্ঠীটি জাতিসংঘের অস্ত্র নিষেধাজ্ঞা এবং বছরের পর বছর ধরে চলা সউদী অবরোধের মধ্যে রয়েছে। পাশাপাশি ইয়েমেনের বিভিন্ন ফ্রন্টেও তাদের লড়াই চালিয়ে যেতে হচ্ছে। ওবায়েদ বলেন, “সামরিক দিক থেকে সউদী সমর্থিত জোটের অবস্থাই ওপরে রয়েছে, কিন্তু তা সত্ত্বেও সউদী আরবের অভ্যন্তরে আকস্মিক কিছু হামলা চালিয়ে হুথিরা ঠিকই শিরোনাম দখল করতে সক্ষম হচ্ছে।”

তিনি আরও বলেন, “বিশ্বের বৃহত্তম অপরিশোধিত তেল রপ্তানিকারক এবং জি২০ অর্থনীতির দেশ হিসেবে সউদী আরবের কিছু বৈশ্বিক দায়িত্ব রয়েছে, যার কারণে এই ধরনের হামলাগুলোকে স্বাভাবিকের চেয়ে অনেক বেশি দৃশ্যমান মনে হয়।”

হুথিদের মিসাইল ভাণ্ডারের সঠিক আকার অজানা, যা একই সাথে স্থলযুদ্ধে মিসাইল ব্যবহার এবং সউদীতে হামলা অব্যাহত রাখার তাদের সক্ষমতা নিয়ে প্রশ্ন তোলে। ওবায়েদ জানান, ইয়েমেনে সউদী বিমান অভিযান হুথিদের মিসাইল ডিপো, ভূগর্ভস্থ স্থাপনা এবং ড্রোন উৎপাদন কেন্দ্রগুলোকে মারাত্মকভাবে লক্ষ্যবস্তু করেছে। ফলে গোষ্ঠীটির সামরিক সক্ষমতার ওপর এটি ‘বিপুল ক্ষতি’ সাধন করছে বলে তিনি যোগ করেন।

বিশ্লেষক পুসজতাই আল-জাজিরাকে বলেন, হুথিদের হাতে সম্ভবত খুব সীমিত সংখ্যক স্বল্পপাল্লার ব্যালিস্টিক মিসাইল অবশিষ্ট রয়েছে। এর অর্থ দাঁড়ায়, সউদী আরবের মতো জায়গায় একসাথে একাধিক মিসাইল ও ড্রোন ছুড়ে বড় ধরনের 'স্যাচুরেশন অ্যাটাক' বা একযোগে তীব্র আক্রমণ চালানোর সামর্থ্য তাদের নেই।

এর পরিবর্তে তারা হয়তো কম সুরক্ষিত বেসামরিক লক্ষ্যবস্তুতে এককভাবে মিসাইল নিক্ষেপের কৌশল বেছে নিতে পারে, যার মূল উদ্দেশ্য হলো—“এই হামলার মাধ্যমে সর্বোচ্চ কৌশলগত প্রভাব ফেলা এবং বেসামরিক বিমান চলাচলে বিঘ্ন ঘটানো।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ১০ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪৩
জোহর ১১:৪৪
আসর ০৩:৫০
মাগরিব ০৫:২৭
ইশা ০৬:৩৯
সূর্যোদয় : ০৫:৫৮ সূর্যাস্ত : ০৫:২৭
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%