১২:০৭ পি.এম
সুদানের মধ্যাঞ্চলের একটি ব্যস্ত বাজারে ভয়াবহ ড্রোন হামলায় অন্তত ১১ জন নিহত হয়েছেন। আরও কয়েক ডজন মানুষ আহত হয়েছেন। এই তথ্য স্থানীয় মানবাধিকার সংস্থার বরাতে জানা গেছে। সাম্প্রতিক সময়ে দেশটিতে ড্রোন ও বিমান হামলার মাত্রা বৃদ্ধি পাওয়ার ফলে মানবিক সংকট আরও তীব্র হয়ে উঠছে।
মানবাধিকার সংস্থা ইমার্জেন্সি লইয়ার্স জানায়, শনিবার উত্তর কর্দোফান রাজ্যের আবু জাইমা শহরের একটি বাজারে এই হামলা চালানো হয়। বর্তমানে এলাকাটি আধাসামরিক বাহিনী র্যাপিড সাপোর্ট ফোর্সেস নিয়ন্ত্রণ করছে। ২০২৩ সালের এপ্রিল থেকে সেনাবাহিনী ও এই বাহিনীর মধ্যে সংঘাত শুরু হওয়ার পর সংস্থাটি মাঠপর্যায়ের তথ্য সংগ্রহ করে আসছে।
সংস্থাটির আশঙ্কা, আহতদের অবস্থা গুরুতর হওয়ায় নিহতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে। তবে হামলায় জড়িত কোনো পক্ষ কর্তৃক এখনও দায়ী হওয়ার দাবি করা হয়নি।
আরও পড়ুন: পদ্মা সেতু হয়ে রূপপুরে ইউরেনিয়াম পরিবহন, শ্রমিক আন্দোলনের শঙ্কা
এর আগে ২৪ ঘণ্টারও কম সময়ের মধ্যে আশপাশের কয়েকটি গ্রাম ও একটি বেসামরিক গাড়িকে লক্ষ্য করে একই ধরনের ড্রোন হামলা চালানো হয়েছিল।
বেসামরিক মানুষ, গ্রাম এবং যানবাহনকে লক্ষ্য করে ধারাবাহিক হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়েছে ইমার্জেন্সি লইয়ার্স। সংস্থাটি উল্লেখ করেছে, এসব হামলা আন্তর্জাতিক মানবিক আইনের মৌলিক নীতিমালার স্পষ্ট লঙ্ঘন এবং মানুষের জীবনের প্রতি চরম অবজ্ঞা। তারা হামলা অবিলম্বে বন্ধ করার এবং দায়ীদের জবাবদিহির আওতায় আনার আহ্বান জানিয়েছে।
এদিকে বার্তা সংস্থা এএফপি-কে দুই প্রত্যক্ষদর্শী জানিয়েছেন, একই দিনে উত্তর কর্দোফানের রাজধানী আল উবাইদের একটি জ্বালানি স্টেশনেও ড্রোন হামলা হয়েছে। স্থানীয় একটি হাসপাতালের চিকিৎসা কর্মকর্তা জানিয়েছে, সেখানে চারজন আহত বেসামরিক নাগরিককে চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে। শহরটি কয়েক মাস ধরে আংশিক অবরুদ্ধ অবস্থায় রয়েছে।
ইমার্জেন্সি লইয়ার্স এবং স্থানীয় সূত্র বলছে, গত এক সপ্তাহে পশ্চিম ও উত্তর কর্দোফানে পৃথক দুই ড্রোন হামলায় প্রায় ৭০ জন নিহত হয়েছেন। ধীরে ধীরে এই সংঘাতে ড্রোন হামলা অন্যতম প্রধান অস্ত্রে পরিণত হচ্ছে।
আরও পড়ুন: ত্রিশাল ইউনিয়ন স্বাস্থ্যকেন্দ্রে ২০ বছরেও নিয়োগ হয়নি জনবল
জাতিসংঘের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে এপ্রিল মাসে ড্রোন হামলায় অন্তত ৮৮০ জন বেসামরিক নাগরিক নিহত হয়েছেন।
গত বছরের অক্টোবরে পশ্চিম দারফুরের আল ফাশির দখল করার পর কর্দোফান এবং ব্লু নাইল অঞ্চলে সংঘাত আরও তীব্র হয়েছে। জাতিসংঘ জানায়, এসব এলাকা থেকে ইতোমধ্যে তিন লাখের বেশি মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছে।
তেল ও উর্বর কৃষিজমিতে সমৃদ্ধ কর্দোফান অঞ্চলটি কৌশলগত দৃষ্টিকোণ থেকে গুরুত্বপূর্ণ। এই অঞ্চলের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে সেনাবাহিনী ও আরএসএফের মধ্যে তীব্র লড়াই চলেছে।
চলমান যুদ্ধে এখন পর্যন্ত হাজার হাজার মানুষ নিহত হয়েছেন এবং প্রায় এক কোটি ৩০ লক্ষ মানুষ ঘরবাড়ি ছেড়ে পালিয়েছে। জাতিসংঘ এটিকে বিশ্বের সবচেয়ে বড় মানবিক সংকটগুলোর একটি হিসেবে উল্লেখ করেছে।
আরও পড়ুন: মালয়েশিয়ার পাহাংয়ে পর্যটন মেলায় বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের সরব উপস্থিতি
সূত্র: আল-জাজিরা
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন