মঙ্গলবার, ২০ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং
১০:০৮ পি.এম
সৌদি আরবে হুথির হামলা প্রতিরোধ এবং প্রতিরক্ষাব্যবস্থা শক্তিশালী করার উদ্দেশ্যে পাকিস্তান ও সৌদি আরবের সঙ্গে একটি যৌথ প্রতিরক্ষা চুক্তি অনুমোদনের জন্য তুরস্কের পার্লামেন্টে প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে। ন্যাটো জোটের দ্বিতীয় বৃহত্তম সামরিক শক্তির দেশ হিসেবে তুরস্কের এই পদক্ষেপ রিয়াদ এবং ইসলামাবাদের সঙ্গে আঙ্কারার কৌশলগত সামরিক সম্পর্ককে আনুষ্ঠানিকভাবে আরও এক ধাপ এগিয়ে নিয়ে গেল।
মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) আন্তর্জাতিক সংবাদ সংস্থা রয়টার্সের তিনটি সূত্রের বরাতে এই তথ্য প্রকাশিত হয়েছে।
গত আগস্টে তুরস্ক, পাকিস্তান এবং সৌদি আরব ঐতিহাসিক 'মক্কা যৌথ প্রতিরক্ষা চুক্তি' স্বাক্ষর করে। চুক্তির শর্ত অনুযায়ী, জোটের যে কোনো একটি সদস্য দেশের ওপর সশস্ত্র হামলা হলে তা বাকি সব দেশের ওপর হামলা হিসেবে গণ্য হবে। তবে চুক্তি স্বাক্ষরের সময় তিন দেশের সম্মিলিত প্রতিশ্রুতির বিস্তারিত তথ্য তৎকালীন যৌথ বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়নি।
চলতি মাসের শুরুতে রিয়াদে এই জোটের একটি জরুরি বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকে সৌদি আরবে দ্রুত সামরিক বাহিনী এবং অন্যান্য প্রয়োজনীয় সামরিক সক্ষমতা মোতায়েন নিশ্চিত করার বিষয়ে দেশগুলো একমত হয়।
তুরস্কের শক্তিশালী প্রতিরক্ষা শিল্প রয়েছে। দেশটি সৌদি আরবে ইয়েমেনের হুথি বিদ্রোহীদের হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়েছে এবং রিয়াদের প্রয়োজনীয় সামরিক প্রযুক্তির চাহিদা পূরণে সহায়তা করার আগ্রহ প্রকাশ করেছে। তুরস্ক লোহিত সাগরে জাহাজ চলাচল ও নৌনিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সৌদি নেতৃত্বাধীন জোটে যোগ দেওয়ার জন্যও সম্মত হয়েছে।
রয়টার্সের দুটি সূত্র জানায়, তুরস্কের পার্লামেন্ট স্পিকার নুমান কুরতুলমুশ বর্তমানে কিরগিজস্তান সফরে রয়েছেন। তিনি দেশে ফিরলে চুক্তিটি পার্লামেন্টের পররাষ্ট্রবিষয়ক কমিটিতে পাঠানো হবে। কমিটিতে জমা দেওয়ার পর চুক্তির পূর্ণাঙ্গ বিষয়বস্তু ও বিস্তারিত তথ্য জনসমক্ষে প্রকাশিত হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
অন্য একটি সূত্রের মতে, চলতি সপ্তাহের শুক্রবারের মধ্যেই পার্লামেন্টের পররাষ্ট্রবিষয়ক কমিটি এই চুক্তি নিয়ে আলোচনা শুরু করতে পারে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক তুরস্কের এক কর্মকর্তা সংবাদ সংস্থাটিকে জানিয়েছেন, এই চুক্তির আওতায় তুরস্কের অবদান মূলত সামরিক সরঞ্জাম সরবরাহ, গোয়েন্দা তথ্য আদান-প্রদান এবং অস্ত্রব্যবস্থা সহায়তার মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকবে। তিনি নিশ্চিত করেন যে, এই জোটের অধীনে এখন পর্যন্ত অন্য কোনো ধরনের সামরিক মোতায়েন করা হয়নি।
ইয়েমেনের হুথি হামলা মোকাবিলায় তুরস্ক সৌদি আরবকে কীভাবে রক্ষা করতে সহায়তা করতে পারে, এমন প্রশ্নের জবাবে দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী হাকান ফিদান জানান, মক্কা চুক্তি কোনো 'আক্রমণাত্মক চুক্তি' নয়। তিনি স্পষ্ট করেন যে, তুরস্ক অন্য কোনো দেশে হামলা চালানোর জন্য সেনা পাঠাবে না।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত ড. এস এম কামরুল হাসান পর্তুগালের রাষ্ট্রপতির কাছে তার পরিচয়পত্র পেশ করেছেন। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে তিনি আনুষ্ঠানিকভাবে পর্তুগালে বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করলেন। পরিচয়পত্র পেশের অনুষ্ঠানটি সোমবার (১৯ অক্টোবর) লিসবনের বেলেম প্রাসাদে অনুষ্ঠিত হয়।
রাষ্ট্রপতির সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎকালে, রাষ্ট্রদূত ড. এস এম কামরুল হাসান বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি ও সরকারপ্রধানের পক্ষ থেকে শুভেচ্ছা ও আন্তরিক অভিবাদন জানান।
তিনি ঢাকায় পর্তুগালের একটি আবাসিক কূটনৈতিক মিশন স্থাপনের গুরুত্ব তুলে ধরেন। রাষ্ট্রদূত বলেন, এই পদক্ষেপ ঘনিষ্ঠতর কূটনৈতিক যোগাযোগ সহজ করবে, প্রাতিষ্ঠানিক সম্পর্ককে সুদৃঢ় করবে এবং দ্বিপাক্ষিক সহযোগিতা সম্প্রসারণে সহায়ক হবে। তিনি দ্বিপাক্ষিক শ্রমগতিশীলতা কাঠামোর আওতায় সহযোগিতা কার্যকর ও এগিয়ে নেওয়া, নিয়মিত ও সুশৃঙ্খল অভিবাসনকে উৎসাহিত করা এবং বিদ্যমান বাণিজ্য ঘাটতি হ্রাস করার প্রয়োজনীয়তার ওপরও জোর দেন। জনগণের মধ্যে সংযোগের গুরুত্ব তুলে ধরে রাষ্ট্রদূত দুই দেশের মধ্যে সরাসরি আকাশপথে যোগাযোগ স্থাপনে আগ্রহ প্রকাশ করেন।
পর্তুগালের রাষ্ট্রপতি দেশটিতে বসবাসরত বাংলাদেশি কমিউনিটির অবদানের স্বীকৃতি দেন ও তাদের প্রশংসা করেন। তিনি উল্লেখ করেন যে, পর্তুগিজ সমাজে তাদের একীভূত হওয়ার গুরুত্ব অপরিসীম।
আলোচনায় বাণিজ্য ও বিনিয়োগ, সামুদ্রিক বিষয়, নবায়নযোগ্য জ্বালানি, তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি (আইসিটি) এবং জনগণের মধ্যে আদান-প্রদানের ক্ষেত্রে সহযোগিতা আরও গভীর করার সম্ভাবনার বিষয়টিও উঠে আসে।
লিসবনে অবস্থিত বাংলাদেশ দূতাবাস দুই দেশের অভিন্ন স্বার্থ এগিয়ে নিতে, অর্থনৈতিক ও প্রাতিষ্ঠানিক সম্পর্ক জোরদার করতে এবং দীর্ঘদিনের বন্ধুত্বকে উভয় দেশের জনগণের পারস্পরিক কল্যাণে বাস্তব ফলাফলে রূপান্তরিত করতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ সম্প্রতি বলেছেন, একটি বাংলাদেশ গড়ার লক্ষ্য আমাদের, যেখানে ভ্রাতৃত্ববোধ, সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি এবং ধর্মীয় সম্প্রীতি বিদ্যমান থাকবে। আমাদের সবচেয়ে বড় পরিচয় হবে আমরা বাংলাদেশি, বাংলাদেশে বসবাসকারী মানুষ।
মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) সন্ধ্যা ৭টার দিকে নগরকান্দা উপজেলার রামনগর ইউনিয়নের কৃষ্ণারডাঙ্গী সার্বজনীন দুর্গামন্দির পরিদর্শনকালে তিনি এসব মন্তব্য করেন।
সনাতন ধর্মাবলম্বীদের উদ্দেশ্যে প্রতিমন্ত্রী আরও বলেন, আমরা সকলেই সমান অধিকার নিয়ে বাঁচতে চাই। সমাজে কোনো বৈষম্য থাকবে না। বৈষম্যহীন একটি রাষ্ট্র গঠন করা হবে, যেখানে সমঅধিকার নিয়ে সবাই বাঁচবে, সেই ধরনের সমাজ গড়ার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন তিনি।
তিনি উল্লেখ করেন, দুর্গাপূজার আনন্দ যেন সবাই ভাগাভাগি করে নিতে পারে, এবং আমরা যেন সারা জীবন এভাবে বাঁচতে পারি।
শামা ওবায়েদ বলেন, যখন আপনারা আমার কাছে উন্নয়নের কথা বলেন, মন্দির সংস্কারের দাবি নিয়ে আসেন, তখন আমি সেটিকে সফলভাবে বাস্তবায়নের চেষ্টা করি।
তিনি জাতি, ধর্ম, বর্ণ নির্বিশেষে সকলের একতা কামনা করেন এবং বলেন, উন্নয়নের ধারা শুরু হয়েছে। এই উন্নয়নের ধারাটি তখনই অটুট থাকবে, যখন ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে আপনারা ঐক্যবদ্ধ থাকবেন। ঐক্যবদ্ধ থাকলে উন্নয়নের ধারাটি অব্যাহত থাকবে, তা নিশ্চিত।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
রাজশাহীতে দীর্ঘদিন ধরে বন্ধ থাকা কলকারখানাগুলো পুনরায় চালু করার লক্ষ্যে সরকার কাজ করছে বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী।
মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) রাজশাহীর ঐতিহাসিক মাদরাসা মাঠে বিএনপি আয়োজিত একটি জনসভায় সভাপতির বক্তব্যে তিনি এ তথ্য জানান।
রুহুল কবির রিজভী উল্লেখ করেন, রাজশাহী কৃষিজমিতে সমৃদ্ধ। এখানে আখ, সবজি চাষ হয়ে থাকে। রাজশাহীতে সুগার মিল, টেক্সটাইল মিল, জুট মিল ও রেশম মিলের মতো শিল্পপ্রতিষ্ঠান রয়েছে। কিন্তু দীর্ঘ সময় ধরে এসব কলকারখানা বন্ধ অবস্থায় রয়েছে।
তিনি আরও বলেন, বিএনপি সরকার দায়িত্ব গ্রহণের পর বন্ধ হয়ে যাওয়া কলকারখানাগুলো পুনরায় চালু করার জন্য উদ্যোগ গ্রহণ করেছে। এসব শিল্পপ্রতিষ্ঠান চালু হলে কর্মসংস্থান বৃদ্ধি পাবে এবং রাজশাহীর অর্থনীতিতে নতুন গতি আসবে।
রিজভী বলেন, তারেক রহমান দেশের কৃষক কার্ড এবং ফ্যামিলি কার্ড চালু করেছেন। এর মাধ্যমে দরিদ্র ও নিম্নআয়ের মানুষের জন্য সহায়তার ব্যবস্থা করা হচ্ছে। একজন দরিদ্র ব্যক্তি দুই হাজার ৫০০ টাকা করে পেতে পারেন, যা তাদের আয়ের ন্যূনতম সহায়তা হিসেবে কাজ করবে।
তিনি আরও জানান, কৃষক ও সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার মান উন্নয়ন এবং তাদের অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী করার পরিকল্পনা নিয়ে তারেক রহমান কাজ করছেন। কৃষক কার্ড ও ফ্যামিলি কার্ড তার সেই পরিকল্পনার অংশ।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
ইয়েমেনের সশস্ত্র গোষ্ঠী হুথিদের সাথে চলমান উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদে বিকট বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে। পরিস্থিতির গুরুত্ব বিবেচনায় রিয়াদ জুড়ে সাধারণ মানুষের নিরাপত্তার জন্য বিশেষ জরুরি সতর্কতা জারি করেছে দেশটির কর্তৃপক্ষ।
মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) রিয়াদ শহরের দিকে একটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালায় ইয়েমেনের হুথি বিদ্রোহীরা। তবে সৌদি আরব ওই ক্ষেপণাস্ত্রটি আঘাত হানার পূর্বেই মাঝআকাশে সফলভাবে ধ্বংস করে দেয়। সৌদি নেতৃত্বাধীন সামরিক জোটের মুখপাত্র তুর্কি আল-মালকি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে (সাবেক টুইটার) বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
এর আগে, রিয়াদের বেসামরিক প্রতিরক্ষা বিভাগ নাগরিকদের ফোনে আগাম সতর্কবার্তা পাঠায় এবং সবাইকে নিরাপত্তা নির্দেশিকা মেনে সতর্ক থাকার আহ্বান জানানো হয়। বার্তা সংস্থা এএফপির সাংবাদিকসহ স্থানীয় বাসিন্দারা বিকট শব্দ শোনার কথা জানান, তবে এই ঘটনায় তাৎক্ষণিকভাবে কোনো ক্ষয়ক্ষতি বা হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি।
সূত্র: আল-জাজিরা
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ