মঙ্গলবার, ২৭শে অক্টোবর, ২০২৬ ইং
১০:০৫ এম
জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ড (এনসিটিবি) থেকে বদলি করা হয়েছে বিসিএস সাধারণ শিক্ষা ক্যাডারের নয় কর্মকর্তাকে। তাদেরকে মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তরের (মাউশি) বিশেষ ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওএসডি) হিসেবে দেশের বিভিন্ন সরকারি কলেজ ও সরকারি টিচার্স ট্রেনিং কলেজে সংযুক্ত করা হয়েছে।
শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগের সরকারি কলেজ-২ শাখা থেকে সোমবার (২৬ অক্টোবর) এ বিষয়ে পৃথক প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়। প্রজ্ঞাপনে উল্লেখ করা হয়েছে, কর্মকর্তাদের ২৯ অক্টোবরের মধ্যে বর্তমান কর্মস্থল থেকে অবমুক্ত হতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
প্রজ্ঞাপনের তথ্য অনুযায়ী, সহযোগী অধ্যাপক (পদার্থবিদ্যা) ড. মোহাম্মদ কামরুল হক ভূঞাকে পঞ্চগড় সরকারি মহিলা কলেজে, সহযোগী অধ্যাপক (গণিত) মোহাম্মদ হুমায়ুন কবীরকে শরীয়তপুরের সরকারি গোলাম হায়দার খান মহিলা কলেজে এবং সহযোগী অধ্যাপক (শিক্ষা) মো. আহসানুল আরেফিন চৌধুরীকে যশোর সরকারি টিচার্স ট্রেনিং কলেজে সংযুক্ত করা হয়েছে।
এছাড়া, সহযোগী অধ্যাপক (ইসলামিক আদর্শ) ড. মো. আবু হানিফকে রংপুর সরকারি টিচার্স ট্রেনিং কলেজে এবং অধ্যাপক (ইতিহাস) রেজাউল করিমকে পঞ্চগড় সরকারি মহিলা কলেজে সংযুক্ত করা হয়েছে।
অন্যদিকে, সহকারী অধ্যাপক (প্রাণীবিদ্যা) মো. মনির হোসেন মজুমদার ও সহযোগী অধ্যাপক (ইংরেজি) আফসানা আইয়ূবকে শরীয়তপুরের সরকারি গোলাম হায়দার খান মহিলা কলেজে এবং সহকারী অধ্যাপক (সমাজকল্যাণ/সমাজকর্ম) মাহমুদ বিন আমিনকে ঠাকুরগাঁও সরকারি মহিলা কলেজে সংযুক্ত করা হয়েছে।
সহকারী অধ্যাপক (ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি) এম এম আসাদুজ্জামানকে লালমনিরহাট সরকারি কলেজে সংযুক্ত করা হয়েছে।
প্রজ্ঞাপনে উল্লেখ করা হয়েছে, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে অবমুক্ত না হলেও ২৯ অক্টোবর অপরাহ্ণে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা তাৎক্ষণিকভাবে অবমুক্ত হয়েছেন বলে গণ্য হবেন। তাঁদের নিজ নিজ পারসোনাল ডাটা শিটে (পিডিএস) লগইন করে অবমুক্তি ও যোগদান প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে হবে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
ঢাকা, ২৬ অক্টোবর, ২০২৬ : বাংলাদেশ রেলওয়েকে লোকসান থেকে লাভজনক খাতে রূপান্তর এবং লেভেল ক্রসিংয়ে প্রয়োজনীয় জনবল নিয়োগের জন্য ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের রেলপথ মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটি মন্ত্রণালয়কে নির্দেশনা প্রদান করেছে।
কমিটি বাংলাদেশ রেলওয়ের লিগ্যাল ডিপার্টমেন্টে প্রয়োজনীয় আইনজীবী নিয়োগের সুপারিশ করেছে এবং আদালতে বিচারাধীন মামলা নিষ্পত্তির জন্য পরামর্শ প্রদান করা হয়েছে।
বৈঠকে ভাঙ্গা থেকে বরিশাল পর্যন্ত রেললাইনের সম্ভাব্যতা যাচাইয়ের পাশাপাশি বেনাপোল থেকে খুলনা পর্যন্ত সকালে কমিউটার ট্রেন চালু করার জন্য মন্ত্রণালয়কে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের পরামর্শ দেওয়া হয়।
আজ জাতীয় সংসদ ভবনের স্থায়ী কমিটি কক্ষে কমিটির সভাপতি মোহাম্মদ আলি আসগারের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত দ্বিতীয় বৈঠকে এই নির্দেশনা প্রদান করা হয়।
বৈঠকে কমিটির সদস্য ও রেলপথ প্রতিমন্ত্রী হাবিবুর রশিদ, সংসদ সদস্য মো. আব্দুল মহিত তালুকদার, ইসরাত সুলতানা ইলেন ভূট্টো এবং মুহাম্মদ আজীজুর রহমান অংশগ্রহণ করেন।
আজকের বৈঠকে প্রথম বৈঠকের কার্যবিবরণী নিশ্চিত করা হয় এবং মন্ত্রণালয় কর্তৃক সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নের অগ্রগতি প্রতিবেদন উপস্থাপন ও বিস্তারিত আলোচনা হয়।
বৈঠকে জানানো হয়, চট্টগ্রাম বন্দর-ঢাকা রুটে নিয়মিত কন্টেইনার পরিবহন করা হচ্ছে। বিভিন্ন গন্তব্যে জ্বালানি ও খাদ্যশস্য পরিবহনও চলমান রয়েছে। তবে বর্তমানে বাংলাদেশ রেলওয়ের বহরে মিটারগেজ লোকোমোটিভের সংকটের কারণে উক্ত মালবাহী ট্রেনের সংখ্যা হ্রাস পেয়েছে। সাম্প্রতিক সময়ে ৩০টি মিটারগেজ লোকোমোটিভ সংগ্রহের জন্য গৃহীত প্রকল্পের ডিপিপি অনুমোদিত হয়েছে। এছাড়া পূর্বে অনুমোদিত ৩০টি মিটারগেজ লোকোমোটিভ সংগ্রহের জন্য টেন্ডার আহ্বান করা হয়েছে। আগামী ২০২৯ সালে মোট ৬০টি মিটারগেজ লোকোমোটিভ সংগ্রহ করা হলে কন্টেইনার, জ্বালানি এবং খাদ্যশস্যসহ অন্যান্য মালবাহী ট্রেনের সংখ্যা বৃদ্ধি করা সম্ভব হবে। এতে বাংলাদেশ রেলওয়ের রাজস্ব আহরণ বৃদ্ধি পাবে। বিশ্বব্যাংকের গ্রীন রেলওয়ে প্রকল্পের অধীনে ২০টি মিটারগেজ লোকোমোটিভ সংগ্রহের কার্যক্রমও প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।
বর্তমানে মোংলা বন্দর থেকে টাঙ্গাইলের সয়দাবাদ এবং জয়পুরহাটে সীমিত পরিসরে মোলাসেস পরিবহন করা হচ্ছে। তাছাড়া বাংলাদেশ রেলওয়ের কাছে মোংলা থেকে অন্য কোনো পণ্য পরিবহনের চাহিদা নেই।
মন্ত্রণালয়ের অগ্রগতি প্রতিবেদনে জানানো হয়, বর্তমানে ৯৫/৯৬ নম্বর ট্রেনটি মোংলা-বেনাপোল রুটে পরিচালিত হচ্ছে। অতিশীঘ্রই বাংলাদেশ রেলওয়ের বহরে ২০০টি ব্রডগেজ কোচ পর্যায়ক্রমে যুক্ত হবে। ইতোমধ্যে ১৮টি কোচ এসেছে। উক্ত ব্রডগেজ কোচ প্রাপ্তি সাপেক্ষে মোংলা-ঢাকা রুটে ট্রেন পরিচালনার বিষয়ে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হবে।
বৈঠকে রেলপথ মন্ত্রণালয়ের ২০২৬-২০২৭ অর্থবছরের বাজেট বাস্তবায়নের অগ্রগতি এবং অপারেটিং রেশিও পর্যালোচনা করা হয়। এছাড়া বাংলাদেশ রেলওয়ের মোট জমি, ব্যবহৃত জমি, ইজারাকৃত জমি, ইজারাকৃত আয়, ইজারা গ্রহীতাদের তালিকা, অবৈধ দখলকৃত জমি, অবৈধ দখলদারদের তালিকা এবং ভূমি সংক্রান্ত মামলা বিষয়ক প্রতিবেদন পেশ করা হয় এবং রেলওয়ের ভূমি/স্থাপনায় সৌর বিদ্যুৎ প্যানেল স্থাপন বিষয়ে আলোচনা হয়।
বৈঠকে অনলাইন রেল টিকেটিং ব্যবস্থাপনায় স্বচ্ছতা নিশ্চিতকরণে গৃহীত প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ সম্পর্কে আলোচনা করা হয়।
বর্তমানে বাংলাদেশ রেলওয়ের অনলাইন টিকিট বিক্রি ও ব্যবস্থাপনার দায়িত্বে রয়েছে প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান সহজ ডটকম। আগামী বছরের ফেব্রুয়ারিতে বাংলাদেশ রেলওয়ের সঙ্গে সহজ ডটকমের চুক্তি শেষ হওয়ার পূর্বে অনলাইন টিকিট ব্যবস্থাপনার লক্ষ্যে ভেন্ডর নিয়োগের জন্য নতুন দরপত্র আহ্বানের প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছে, মন্ত্রণালয় কমিটিকে অবহিত করেছে।
বৈঠকে রেলপথ মন্ত্রণালয়ের সচিব, অতিরিক্ত সচিব, বাংলাদেশ রেলওয়ের মহাপরিচালকসহ সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা এবং জাতীয় সংসদ সচিবালয়ের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
ঢাকা, ২৬ অক্টোবর, ২০২৬ : আগামী নভেম্বরে বাংলাদেশে প্রথমবারের মতো পরিবেশিত হতে যাচ্ছে ঐতিহাসিক ফরাসি-বাংলা ফিউশন। এই অনুষ্ঠানের আয়োজন করবে ‘দ্য আর্টিস্ট ক্লাব লিমিটেড’। ২১ নভেম্বর হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টাল ঢাকার গ্র্যান্ড বলরুমে ফরাসি ও বাংলা অপেরার ঐতিহাসিক ফিউশন পরিবেশন করা হবে।
আজ রাজধানীর হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টালে ‘দ্য আর্টিস্ট ক্লাব লিমিটেড’ এর প্রথম বর্ষপূর্তি উদযাপন উপলক্ষে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানান ‘দ্য আর্টিস্ট ক্লাব লিমিটেড’ এর প্রথম বর্ষ উদযাপন কমিটির প্রধান সমন্বয়ক অধ্যাপক ড. এ. এইচ. এম. মুস্তাফিজুর রহমান।
১১ থেকে ২১ নভেম্বর পর্যন্ত ১১ দিনব্যাপী এই অনুষ্ঠানে থাকবে বর্ণাঢ্য সাংস্কৃতিক উৎসব। সাংস্কৃতিক আয়োজনের মধ্যে অন্তর্ভুক্ত থাকবে দেশব্যাপী চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতা, ঐতিহ্যবাহী লোকজ ও নৃ-গোষ্ঠীর সংগীত উৎসব।
সংবাদ সম্মেলনে অধ্যাপক ড. এ. এইচ. এম. মুস্তাফিজুর রহমান উল্লেখ করেন, দেশের তরুণ প্রজন্মের সম্ভাবনাময় শিল্পীদের জন্য একটি নির্ভরযোগ্য প্ল্যাটফর্ম প্রদানের স্বপ্ন নিয়ে তিন বছর আগে দ্য আর্টিস্ট ক্লাব লিমিটেড প্রতিষ্ঠা করা হয়েছিল এবং ২০২৫ সালে সংগঠনটি প্রাতিষ্ঠানিক রেজিস্ট্রেশন লাভ করে। প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকে ক্লাবটি তাদের প্রশংসিত নিয়মিত আয়োজন ‘শুক্রবার সংগীত সন্ধ্যা’র ২ শতাধিক পর্ব সফলভাবে সম্পন্ন করেছে।
তিনি আরও জানান, প্রথম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে ক্লাবটি তিনটি বিশেষ কর্মসূচি হাতে নিয়েছে। প্রথমত, ২০ থেকে ৩৫ বছর বয়সী উদীয়মান শিল্পীদের খুঁজে বের করতে দেশব্যাপী ‘অ্যাটেলিয়ার অ্যাওয়ার্ড : ইয়াং পেইন্টার্স অব টুমরো’ শীর্ষক চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হবে। এই প্রতিযোগিতার মাধ্যমে আগামী দিনের সেরা চিত্রশিল্পীদের প্রতিষ্ঠিত করবে ক্লাব।
দ্বিতীয়ত, হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টাল ঢাকার সহযোগিতায় ১১ থেকে ২০ নভেম্বর ১০ দিনব্যাপী ঐতিহ্যবাহী লোকজ ও নৃ-গোষ্ঠীর সংগীত উৎসব অনুষ্ঠিত হবে। যেখানে বাউল, ভাটিয়ালি, ভাওয়াইয়া, গম্ভীরা, লালন, হাসন রাজা, মণিপুরী, চাকমা, মারমা, সাঁওতাল, হাজংসহ বিভিন্ন ঐতিহ্যের সংগীত পরিবেশন করা হবে।
শেষে, ২১ নভেম্বর হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টাল ঢাকার গ্র্যান্ড বলরুমে ফরাসি ও বাংলা অপেরার ঐতিহাসিক ফিউশন পরিবেশনার মাধ্যমে প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর আয়োজন সমাপ্ত হবে।
সংবাদ সম্মেলনে আরও উপস্থিত ছিলেন, ফরাসি দূতাবাসের মিশন উপ-প্রধান ফ্রেড্রিক ইনজা, দ্য আর্টিস্ট ক্লাব লিমিটেড-এর সভাপতি বিশিষ্ট সংগীতশিল্পী সুজিত মোস্তফা, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কালচারাল ফাউন্ডেশন (ডিইউসিএফ)-এর প্রতিনিধি সংগীতশিল্পী মাহফুজার রহমান এবং হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টাল ঢাকার ফুড অ্যান্ড বেভারেজ পরিচালক অলিভিয়ার লোরো।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
ঢাকা, ২৬ অক্টোবর, ২০২৬ : বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী সামাজিক সাংস্কৃতিক সংস্থার (জাসাস) কেন্দ্রীয় কমিটির যুগ্ম আহ্বায়ক ও সংগীতশিল্পী জামাল উদ্দিন নাসিরের মমতাময়ী মা মরিয়ম বেগমের মৃত্যুতে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী গভীর শোক ও দুঃখ প্রকাশ করেছেন।
আজ এক শোকবার্তায় বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব উল্লেখ করেন, ‘মরহুমা মরিয়ম বেগম একজন ধর্মপ্রাণ মহিলা হিসেবে নিজ এলাকার মানুষের নিকট অত্যন্ত প্রিয়ভাজন ছিলেন। মরহুমার এলাকাবাসী, পরিবারবর্গ ও আত্মীয়-স্বজনদের মতো আমিও তার মৃত্যুতে গভীরভাবে শোকাহত ও ব্যথিত হয়েছি। দোয়া করি— মহান রাব্বুল আলামিন যেন মরহুমা মরিয়ম বেগমকে বেহেশত নসিব এবং গভীর শোকে ম্রিয়মাণ পরিবারের সদস্যদের এই বিশাল শোকে ধৈর্য ধারণের ক্ষমতা দান করেন।’
শোকবার্তায় অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী মরহুমার রুহের মাগফিরাত কামনা করেন এবং শোকাহত পরিবারবর্গ, আত্মীয়স্বজন ও শুভানুধ্যায়ীদের প্রতি গভীর সমবেদনা জানান।
উল্লেখ্য, মরিয়ম বেগম আজ ইন্তেকাল করেছেন (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৮৭ বছর।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
নকশা অনুযায়ী, বাংলাদেশের প্রথম পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র রূপপুরের আয়ুষ্কাল ৬০ বছর নির্ধারণ করা হয়েছে। তবে, এই সময়ের হিসাব এখানেই শেষ হচ্ছে না। বিশ্বজুড়ে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির অগ্রগতির সঙ্গে সঙ্গে পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের মেয়াদ বাড়ানোর যে নতুন প্রবণতা দেখা দিয়েছে, তার আলোকে নতুন সম্ভাবনা তৈরি হচ্ছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, সঠিক পরিকল্পনা ও সতর্ক পদক্ষেপ গ্রহণ করা হলে রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র থেকে ৬০ বছরের পরিবর্তে ৮০ থেকে ১০০ বছর পর্যন্ত নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ পাওয়া সম্ভব।
বর্তমানে বিশ্বজুড়ে বিদ্যমান পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোর ওপর অতিরিক্ত নির্ভরতা কমানোর পাশাপাশি পরিবেশবান্ধব বিদ্যুৎ উৎপাদন অব্যাহত রাখতে কেন্দ্রগুলোর মেয়াদ বাড়ানোর কৌশল গ্রহণ করা হচ্ছে। এই প্রক্রিয়ার মাধ্যমে বিশাল অঙ্কের নতুন বিনিয়োগ ছাড়াই পুরোনো অবকাঠামোকে কাজে লাগিয়ে আরও কয়েক দশক অতিরিক্ত বিদ্যুৎ উৎপাদন সম্ভব। ফলে, এটি সময় ও অর্থ—দুদিক থেকেই অত্যন্ত সাশ্রয়ী ও যুক্তিযুক্ত সমাধান হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের মেয়াদ সফলভাবে বাড়ানোর উজ্জ্বল উদাহরণ হিসেবে রাশিয়ার অন্যতম প্রধান বিদ্যুৎকেন্দ্র ‘কালিনিন নিউক্লিয়ার পাওয়ার প্ল্যান্ট’ উল্লেখযোগ্য। মস্কো ও সেন্ট পিটার্সবার্গের মতো গুরুত্বপূর্ণ অঞ্চলে বিদ্যুৎ সরবরাহকারী এই কেন্দ্রে ১৯৮৪ সালে প্রথম ইউনিট এবং ১৯৮৬ সালে দ্বিতীয় ইউনিট চালু করা হয়েছিল। এরপর ২০০৪ ও ২০১১ সালে উৎপাদনে আসে তৃতীয় ও চতুর্থ ইউনিট।
বিদ্যুৎকেন্দ্রটির বিশেষত্ব হলো, নির্ধারিত ৩০ বছরের প্রাথমিক মেয়াদ শেষ হওয়ার পর চুল্লির প্রয়োজনীয় পরীক্ষা-নিরীক্ষা, নিরাপত্তা ব্যবস্থার উন্নয়ন এবং আধুনিকায়নের মাধ্যমে প্রথম দুই ইউনিটের আয়ুষ্কাল বাড়ানো হয়েছে। প্রথম ইউনিট ২০৪৪ সাল এবং দ্বিতীয় ইউনিট ২০৩৮ সাল পর্যন্ত চালুর পূর্ণ অনুমোদন পেয়েছে।
কালিনিন বিদ্যুৎকেন্দ্রের জ্যেষ্ঠ প্রধান শিফট কর্মকর্তা আলেকজান্ডার ইয়াকোভলেভিচ জানান, “পুরোনো ইউনিটের মেয়াদ বাড়াতে আমরা মডিউলার কন্ট্রোল প্যানেল পুরোপুরি বদলে ফেলে নতুন কন্ট্রোল সিস্টেম চালু করেছি। কেব্ল ও পাম্পিং ইকুইপমেন্ট প্রতিস্থাপনসহ কারিগরি নানা সংস্কারের পর রাশিয়ার পরমাণু নিয়ন্ত্রক সংস্থা মেয়াদ আরও ৩০ বছর বাড়ানোর অনুমোদন দেয়।”
বাংলাদেশের রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রটি ‘থ্রি প্লাস জেনারেশন’ (VVER-1200) প্রযুক্তিতে নির্মিত হচ্ছে, যা পৃথিবীর অন্যতম সেরা ও আধুনিক প্রযুক্তি হিসেবে পরিচিত। এই প্রযুক্তির মূল কাঠামো অত্যন্ত টেকসইভাবে নকশা করা হয়েছে। ৬০ বছরের নির্ধারিত মেয়াদ শেষ হওয়ার পর এই কেন্দ্রের আয়ুষ্কাল আরও ২০ থেকে ৪০ বছর পর্যন্ত বাড়ানো কারিগরিভাবে সম্ভব।
তবে, এই সেঞ্চুরি স্পর্শ করতে হলে রূপপুরকে কিছু জরুরি শর্ত ও বৈজ্ঞানিক ধাপ অতিক্রম করতে হবে:
নিয়মিত ও নিবিড় পরিচর্যা: পারমাণবিক চুল্লির বিভিন্ন দীর্ঘমেয়াদি ও স্পর্শকাতর যন্ত্রাংশকে শতভাগ কার্যকর রাখতে প্রথম দিন থেকেই সার্বক্ষণিক পর্যবেক্ষণে রাখতে হবে।
প্রযুক্তির ক্রমাগত আধুনিকায়ন: সময়ের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে কন্ট্রোল প্যানেল, কেব্লিং ও পাম্পিং সিস্টেমের মতো যন্ত্রাংশগুলো নিয়মিত বিরতিতে হালনাগাদ ও প্রতিস্থাপন করতে হবে।
কঠোর নিরাপত্তা ছাড়পত্র: নির্দিষ্ট সময় পরপর আন্তর্জাতিক ও জাতীয় পরমাণু নিয়ন্ত্রক সংস্থার কঠোর পরিদর্শন এবং ছাড়পত্র নিশ্চিত করতে হবে।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের নিউক্লিয়ার ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের সাবেক চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. শফিকুল ইসলাম এ বিষয়ে সতর্ক করে দিয়ে বলেন, “পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের মেয়াদ বাড়াতে যে উদ্যোগগুলো প্রয়োজন, তার মধ্যে অন্যতম হলো প্রধান প্রধান কম্পোনেন্টকে দীর্ঘ মেয়াদে সচল রাখা। এর জন্য এখন থেকেই নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণ ও নিবিড় পরিচর্যার প্রস্তুতি নিতে হবে। আগে থেকে প্রস্তুতি না নিলে মেয়াদ বাড়ানোর এই সুফল আমরা পাব না।”
বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির অভূতপূর্ব এই সুফল পুরোপুরি ঘরে তুলতে হলে কারিগরি দক্ষতার পাশাপাশি দরকার উচ্চমানের ব্যবস্থাপনাগত দক্ষতা। রাশিয়ার কালিনিন মডেলের অভিজ্ঞতা এবং এখন থেকেই সঠিক রক্ষণাবেক্ষণ ও বাড়তি সতর্কতা নিশ্চিত করা গেলে, রূপপুরের পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র থেকে আগামী এক শতাব্দীজুড়ে বাংলাদেশ পাবে পরিচ্ছন্ন ও নিরবচ্ছিন্ন আলো।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ