শনিবার, ১৯ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং
০৯:৫৭ পি.এম
দ্য ওয়াশিংটন পোস্টের একটি প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে যে, ইরানের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের চলমান যুদ্ধে মার্কিন সামরিক বাহিনীর নিহতের সংখ্যা পেন্টাগনের প্রকাশিত হিসাবের তুলনায় বেশি।
শুক্রবার প্রকাশিত ওই প্রতিবেদনে ৫ জন মার্কিন কর্মকর্তার উদ্ধৃতি দিয়ে জানানো হয়, চলমান সংঘাতে অন্তত ২২ জন মার্কিন সামরিক সদস্য নিহত হয়েছেন। পেন্টাগনের প্রকাশ্য ডাটাবেসে থাকা হিসাবের তুলনায় এ সংখ্যা চারজন বেশি।
তবে আরেক মার্কিন কর্মকর্তার বরাত দিয়ে ওয়াশিংটন পোস্ট উল্লেখ করেছে যে, গোপন রাখা নিহতদের মধ্যে সবাই সরাসরি ইরান সংঘাতের কারণে মারা যাননি। তাদের মধ্যে কেউ কেউ মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সংঘাতের মধ্যে অবস্থানরত মার্কিন সামরিক সদস্য ছিলেন।
এদিকে, মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ ওয়াশিংটন পোস্টের এই প্রতিবেদনকে প্রত্যাখ্যান করেছেন। এক্সে দেওয়া এক পোস্টে তিনি প্রতিবেদনটিকে ‘সম্পূর্ণ মিথ্যা’ বলে মন্তব্য করেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
গবেষকরা বাংলাদেশসহ আটটি দেশকে ভয়াবহ প্রাকৃতিক বিপর্যয়ের বিষয়ে সতর্কবার্তা প্রদান করেছেন। এই তালিকায় বাংলাদেশ ছাড়াও রয়েছে ভারত, পাকিস্তান, নেপাল, ভুটান, চীন, আফগানিস্তান ও মিয়ানমার। গত ২৬ আগস্ট নেপাল ও চীনের তিব্বতে হিমবাহ ধসের পর এই সতর্কবার্তা জারি করা হয়েছে। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য নিউইয়র্ক টাইমস বেশ কয়েকটি আন্তর্জাতিক গবেষণা প্রতিবেদনের ভিত্তিতে এই তথ্য জানায়।
আন্তর্জাতিক সমন্বিত পর্বত উন্নয়ন কেন্দ্রের (আইসিআইএমওডি) তথ্য অনুযায়ী, হিমবাহ ধসের ঘটনা শুধু পাহাড়ি দেশগুলোতেই সীমাবদ্ধ নয়, বরং পশ্চিমে আফগানিস্তান থেকে পূর্বে মিয়ানমার পর্যন্ত প্রায় সাড়ে তিন হাজার কিলোমিটার জুড়ে এর প্রভাব বিস্তার করে।
গত বৃহস্পতিবার আন্তর্জাতিক জলবায়ু গবেষণা নেটওয়ার্ক ওয়ার্ল্ড ওয়েদার অ্যাট্রিবিউশনের (ডব্লিউডব্লিউএ) প্রতিবেদন, চলতি সপ্তাহে যুক্তরাজ্যের পরিবেশবিষয়ক পরামর্শক প্রতিষ্ঠান সিস্টেমিকের প্রকাশিত প্রতিবেদন এবং আইসিআইএমওডির ২০২৩ সালের প্রতিবেদনের ভিত্তিতে এই সতর্কবার্তা দেওয়া হয়েছে।
গবেষকরা জানিয়েছেন, হিমালয়ের বিস্তীর্ণ অঞ্চলে হিমবাহ গলে যাচ্ছে। দীর্ঘদিন ধরে জমাট থাকা পারমাফ্রস্টও নরম হয়ে গেছে। এই পরিস্থিতিতে ভূমিধস, হঠাৎ হিমবাহ হ্রদের বাঁধ ভেঙে যাওয়ার এবং হিমালয় থেকে উৎপন্ন নদীগুলোর পানি বেড়ে গিয়ে জনপদ ভাসিয়ে নেওয়ার মতো ঝুঁকি বৃদ্ধি পাচ্ছে। এর ফলে বিশ্বের সর্বোচ্চ পর্বতমালা ঘিরে থাকা দেশগুলোর কোটি কোটি মানুষের জন্য একের পর এক দুর্যোগের আশঙ্কা তৈরি হচ্ছে।
সিস্টেমিকের প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, হিন্দুকুশ-হিমালয় অঞ্চলের প্রায় ৪০ হাজার হিমবাহের মধ্যে মাত্র ২১টি সক্রিয়ভাবে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। এই অঞ্চল থেকেই এশিয়ার ১০টি প্রধান নদী ব্যবস্থার উৎপত্তি হয়েছে। নদীগুলো হলো—আমু দরিয়া, সিন্ধু, গঙ্গা, ব্রহ্মপুত্র, ইরাবতী, সালউইন, মেকং, ইয়াংসি, হলুদ নদী ও তারিম।
এসব নদী অববাহিকা ভাটি অঞ্চলের প্রায় ২০০ কোটি মানুষকে সুপেয় পানি সরবরাহের পাশাপাশি জীবিকা নির্বাহ ও অর্থনীতি চালু রাখতে বড় অবদান রাখছে। গঙ্গা ও ব্রহ্মপুত্র নদী ব্যবস্থা হিন্দুকুশ-হিমালয় থেকে উৎপন্ন হয়ে বাংলাদেশে প্রবেশ করেছে। গঙ্গা নদী ভারতের মধ্য দিয়ে বাংলাদেশে প্রবেশের পর পদ্মা নামে পরিচিতি পায়। অন্যদিকে, তিব্বতে উৎপন্ন ব্রহ্মপুত্র নদ চীন ও ভারতের মধ্য দিয়ে প্রবাহিত হয়ে বাংলাদেশে প্রবেশ করে, যেখানে এর প্রধান ধারা যমুনা নামে পরিচিত।
গবেষকরা উদ্বিগ্ন যে, জলবায়ুর সঙ্গে হিমালয়ের দ্রুত পরিবর্তনের ফলে বাংলাদেশসহ ভাটি অঞ্চলের প্রায় দুই শ কোটি মানুষ বড় ধরনের চাপের মুখে রয়েছে।
সিস্টেমিকের প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, ভারতের অংশে প্রায় দুইশটি হিমবাহ হ্রদ যেকোনো সময় বাঁধ ভেঙে যাওয়ার উচ্চ ঝুঁকিতে রয়েছে। এর মধ্যে ৫৬টি অত্যন্ত উচ্চ ঝুঁকিতে রয়েছে। সিস্টেমিকের সিনিয়র ডিরেক্টর ও প্রতিবেদনের প্রধান লেখক অরুশি চোপড়া বলেন, “প্রশ্ন এখন এটা নয় যে, এমন ঘটনা আরও ঘটবে কি না? বরং কখন ঘটবে সেটাই দেখার বিষয়।”
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, পর্বত ও নদীগুলোর ওপর নজরদারি বাড়াতে হবে, দেশগুলোকে তথ্য বিনিময় করতে হবে, আগাম সতর্কবার্তার ব্যবস্থা করতে হবে এবং মানুষকে নিরাপদে সরিয়ে নেওয়ার জন্য পর্যাপ্ত ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে। কেবলমাত্র এসব পদক্ষেপ গ্রহণ করলেই বন্যা-ভূমিধসের মতো ঘটনায় প্রাণহানি কিছুটা কমানো সম্ভব।
এখন প্রশ্ন উঠছে, ৪০ হাজারের বেশি হিমবাহের প্রতিটি পর্যবেক্ষণ করা সম্ভব কি না? নেদারল্যান্ডসের উট্রেখট বিশ্ববিদ্যালয়ের পর্বতবিদ ওয়াল্টার ইমারজিল বলেন, “হিমালয়ের প্রতিটি হিমবাহ ও প্রতিটি পাথুরে ঢাল পর্যবেক্ষণ করা সম্ভব নয়। তবে ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা চিহ্নিত করে নজরদারি চালানো সম্ভব।”
তার মতে, হিমবাহের নিচে জলবিদ্যুৎ বাঁধ, বড় শহর কিংবা জনবসতি থাকলে, সেসব এলাকাকে অগ্রাধিকার দিতে হবে। কারণ পাহাড়ে সামান্য অস্থিতিশীলতা এসব এলাকায় ভয়াবহ পরিণতি ডেকে আনতে পারে বলে সতর্ক করেন ইমারজিল।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
বাংলাদেশের প্রত্নতাত্ত্বিক ঐতিহ্য সংরক্ষণ এবং সাংস্কৃতিক সহযোগিতা জোরদার করার উদ্দেশ্যে প্রাচীন ও ঐতিহাসিক নিদর্শন বলিহার রাজবাড়ী এবং পাহাড়পুর বৌদ্ধ বিহার পরিদর্শন করেন রাজশাহীতে নিযুক্ত ভারতীয় সহকারী হাইকমিশনার মনোজ কুমার।
শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) দুপুর সাড়ে ১২টা থেকে বিকেল সাড়ে ৫টা পর্যন্ত বদলগাছী উপজেলায় অবস্থিত পাহাড়পুর বৌদ্ধবিহার ও জাদুঘর পরিদর্শন করেন তিনি। এর আগে, এদিন দুপুর ১২টার দিকে সদর উপজেলার বলিহার এলাকায় অবস্থিত বলিহার রাজবাড়ী পরিদর্শন করেন।
এ সময় সংসদ সদস্য ডা. ইকরামুল বারী টিপু ফুলের তোড়া দিয়ে সহকারী হাইকমিশনার মনোজ কুমারকে শুভেচ্ছা জানান। যৌথভাবে বলিহার রাজবাড়ী চত্বরে পৌঁছালে স্থানীয়রা তাদের উষ্ণ অভ্যর্থনা জানান।
পরিদর্শনকালে তারা ঐতিহাসিক রাজবাড়ীর বিভিন্ন অংশ এবং প্রাচীন স্থাপনা ঘুরে দেখেন। একই সঙ্গে স্থানীয় সনাতন ধর্মাবলম্বী মানুষের সঙ্গে কুশল ও শুভেচ্ছা বিনিময় করেন। সেখানে মন্দির কমিটিসহ স্থানীয়রা বলিহার রাজবাড়ী ও মন্দিরের ঐতিহাসিক গুরুত্ব তুলে ধরে সংস্কারের দাবি জানান। এ সময় রাজবাড়ীটির ইতিহাস এবং ঐতিহ্য সংরক্ষণের সঙ্গে প্রয়োজনীয় সংস্কার এবং সার্বিক উন্নয়নের জোরালো প্রতিশ্রুতি দেন ভারতীয় সহকারী হাইকমিশনার মনোজ কুমার। এমপি ডা. ইকরামুল বারী টিপু তাকে সার্বিক সহযোগিতার কথা ব্যক্ত করেন। এরপর ভারতীয় সহকারী হাইকমিশনার আরেকটি ঐতিহাসিক স্থান পাহাড়পুর বৌদ্ধ বিহারে পরিদর্শনে যান।
বলিহার রাজবাড়ী পরিদর্শনকালে সংসদ সদস্য ডা. ইকরামুল বারী টিপু বলেন, "বলিহার রাজবাড়ী কেবল একটি প্রত্নতাত্ত্বিক স্থান নয়, এটি আমাদের ইতিহাস, ঐতিহ্য ও সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির প্রতীক। এই প্রত্নসম্পদ রক্ষা ও চত্বরের উন্নয়নে প্রয়োজনীয় সব পদক্ষেপ নেওয়া হবে।"
ভারতীয় সহকারী হাইকমিশনার মনোজ কুমারও এলাকাটির প্রাচীন প্রত্নতাত্ত্বিক এবং ধর্মীয় ঐতিহ্য সংরক্ষণে সহযোগিতার আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের ওয়াশরুমের কমোডের ট্যাংকের ভেতর থেকে ৪ দশমিক ২০৪ কেজি স্বর্ণসদৃশ পেস্ট উদ্ধার করা হয়েছে।
শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যা ৬টার দিকে বিমানবন্দরের কাস্টমস হলের ১ নম্বর বেল্ট সংলগ্ন ওয়াশরুম থেকে এগুলো উদ্ধার করে কাস্টমস গোয়েন্দারা।
কাস্টমস সূত্র জানায়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে ওয়াশরুমের একটি হাই কমোডের ট্যাংকে তল্লাশি চালানো হয়। এ সময় ট্যাংকের ভেতর পলিথিনে মোড়ানো ৮টি ডিমসদৃশ প্যাকেট পাওয়া যায়। তবে প্যাকেটগুলোর কোনো দাবিদার পাওয়া যায়নি। পরে প্যাকেটগুলো থেকে ৪ দশমিক ২০৪ কেজি স্বর্ণসদৃশ পেস্ট পাওয়া যায়।
কাস্টমস কর্মকর্তারা জানান, উদ্ধার করা পেস্টগুলো বর্তমানে রেজিস্টার্ড স্বর্ণকারের মাধ্যমে পৃথকীকরণের প্রক্রিয়া চলছে। পেস্ট থেকে স্বর্ণ আলাদা করার পর এর প্রকৃত ওজন ও বিশুদ্ধতা জানা যাবে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের (কুবি) বাংলা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. নাহিদা বেগমের ছেলে ইশরাত শাহরিয়ার অপ্রতিমের নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় বিশ্ববিদ্যালয়জুড়ে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। এই ঘটনায় আগামীকাল রবিবার (২০ সেপ্টেম্বর) বিশ্ববিদ্যালয়ে ‘সাধারণ শোক’ ঘোষণা করা হয়েছে। ওই দিন বিশ্ববিদ্যালয়ের সব বিভাগের ক্লাস এবং পূর্বনির্ধারিত পরীক্ষা স্থগিত থাকবে।
শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার মো. মজিবুর রহমান মজুমদারের সই করা এক বিজ্ঞপ্তিতে এই তথ্য জানানো হয়।বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়েছে যে, অপ্রতিমের নৃশংস হত্যাকাণ্ডের কারণে বিশ্ববিদ্যালয় পরিবার গভীর শোক ও স্তব্ধতায় রয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ এই বর্বরোচিত হত্যাকাণ্ডের তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাচ্ছে। একই সঙ্গে, তারা মর্মান্তিক হত্যাকাণ্ডের সুষ্ঠু তদন্ত এবং ঘটনার সঙ্গে যুক্ত অপরাধীদের দ্রুত গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছে। শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি বিশ্ববিদ্যালয় পরিবার গভীর সমবেদনা প্রকাশ করেছে।
এতে আরো উল্লেখ করা হয়েছে যে, বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, আগামীকাল ২০ সেপ্টেম্বর বিশ্ববিদ্যালয়ে ‘সাধারণ শোক’ ঘোষণা করা হয়েছে। ওই দিন সম্মানিত শিক্ষক, শিক্ষার্থী, কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের অবগতির জন্য বিশ্ববিদ্যালয়ের সব বিভাগের ক্লাস এবং পূর্বনির্ধারিত পরীক্ষাসমূহ স্থগিত থাকবে। স্থগিত পরীক্ষার নতুন সময়সূচি পরবর্তী সময়ে সংশ্লিষ্ট বিভাগ নোটিশের মাধ্যমে জানাবে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ