ঢাকা সোমবার, ২৬শে অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ১০ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ১৫ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
সোমবার, ২৬শে অক্টোবর, ২০২৬ইং ১০ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

কেন বারবার ছড়ায় কিম জং উনের মৃত্যুর গুজব?


কেন বারবার ছড়ায় কিম জং উনের মৃত্যুর গুজব?

উত্তর কোরিয়ার নেতা কিম জং উনের মৃত্যুর গুজব সম্প্রতি মস্তিষ্কে রক্তক্ষরণে মারা যাওয়ার খবর ছড়িয়ে পড়ে। তবে, কিছু ঘণ্টার মধ্যেই রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমে তাকে সুস্থ অবস্থায় দেখা যায়। রাষ্ট্রীয় সংবাদপত্র রোডং সিনমুনে প্রকাশিত ছবিতে ৪২ বছর বয়সী কিমকে তার মেয়ের সঙ্গে একটি পোশাক ও জুতার প্রদর্শনী পরিদর্শন করতে দেখা যায়। তথাপি, তার মৃত্যুর গুজব নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে, কেন বারবার এমন দাবি সামনে আসে?

বিশেষজ্ঞদের মতে, উত্তর কোরিয়ার নেতার মৃত্যু নিয়ে গুজব প্রায় নিয়মিত ঘটনা হয়ে দাঁড়িয়েছে। উত্তর কোরিয়া বিশ্বের অন্যতম গোপনীয় রাষ্ট্র হিসেবে পরিচিত। দেশটির সম্পর্কে তথ্য যাচাই করা অত্যন্ত কঠিন, ফলে সেখানে নানা জল্পনা-কল্পনা ছড়ানোর সুযোগ তৈরি হয়।

যেভাবে ছড়াল সর্বশেষ গুজব

আরও পড়ুন: জমানো খাবারে বানানো কেকেও ছাড় নেই, বন্দিদের জীবন নরক বানানোর হুমকি বেন-গভিরের

সর্বশেষ গুজবটি ছড়ান যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসকারী চীনা ভিন্নমতাবলম্বী ওয়ানজুন শি। তিনি নিজেকে চীনা কর্তৃপক্ষের নিষিদ্ধ ঘোষিত দল ‘চাইনিজ ডেমোক্রেটিক পার্টি’র চেয়ারম্যান হিসেবে পরিচয় দেন। এর আগে, তিনি চীনের নেতা শি জিনপিংয়ের মৃত্যু নিয়ে বিভিন্ন যাচাইহীন দাবি প্রচার করেছেন বলে অভিযোগ রয়েছে।

ওয়ানজুন শির দাবি, কিম জং উন গুরুতর মস্তিষ্কে রক্তক্ষরণে আক্রান্ত হয়েছিলেন। উত্তর কোরিয়ায় তার চিকিৎসার প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা না থাকায় তাকে বেইজিংয়ে নেওয়া হয়। সেখানে তিনি মারা যান এবং পরে তার লাশ গোপনে উত্তর কোরিয়ায় ফিরিয়ে নেওয়া হয়। তিনি দাবি করেন, দেশটির শাসকগোষ্ঠীও নেতার মৃত্যুর খবর গোপন রেখেছে।

তবে, কিমকে প্রদর্শনীতে ঘুরে বেড়ানোর ছবিগুলো তার দাবির সঙ্গে মেলে না। ছবিতে কিমকে তার মেয়ে কিম জু এ এবং নিয়মিত সহকারীদের সঙ্গে দেখা যায়। যদিও ছবিগুলো ঠিক কখন তোলা হয়েছে তা নিশ্চিত হওয়ার উপায় নেই, কিন্তু গুজবটি নিয়ে সন্দেহের যথেষ্ট কারণ রয়েছে।

কিমের স্বাস্থ্যের গুরুতর অবনতি ঘটলে উত্তর কোরিয়ার বাইরেও তার কিছু লক্ষণ দেখা যাওয়ার কথা। সম্ভাব্য অস্থিতিশীলতা বা শরণার্থীর ঢল সামাল দিতে চীন সীমান্তে নিরাপত্তা জোরদার করতে পারে। উত্তর কোরিয়ার কূটনৈতিক মিশনগুলোর আশপাশেও তৎপরতা বাড়তে পারে।

আরও পড়ুন: যুদ্ধের শঙ্কার মধ্যে দিল্লিতে ব্রিকস সম্মেলনে যোগ দিচ্ছেন না ইরানের শীর্ষ নেতা

দক্ষিণ কোরিয়ায় আশ্রয় নেওয়া ব্যক্তিরা প্রায়ই চীনা সীমান্তসংলগ্ন অনানুষ্ঠানিক যোগাযোগব্যবস্থার মাধ্যমে উত্তর কোরিয়ার খবর পান। কিন্তু এবার এ ধরনের কোনো লক্ষণ দেখা যায়নি। দক্ষিণ কোরিয়ার গোয়েন্দা কর্মকর্তারাও বার্তা সংস্থা ইয়োনহাপকে বলেছেন, এসব গুজবের পক্ষে তারা কোনো তথ্য পাননি।

কিমের মৃত্যুর এই গুজব আগের কয়েকটি মিথ্যা দাবির কথাও মনে করিয়ে দেয়। ২০২০ সালে উত্তর কোরিয়া থেকে পালিয়ে আসা এক আলোচিত ব্যক্তি দাবি করেছিলেন, হৃদ্‌যন্ত্রের অস্ত্রোপচারের পর কিম মারা গেছেন বলে তিনি ‘৯৯ শতাংশ নিশ্চিত’। কিন্তু কিছুদিন পর কিম জনসমক্ষে হাজির হলে সেই দাবি মিথ্যা প্রমাণিত হয়।

উত্তরাধিকার নিয়ে অনিশ্চয়তা

কিমের মৃত্যুর গুজব বারবার ছড়ানোর একটি বড় কারণ উত্তর কোরিয়ার ক্ষমতার উত্তরাধিকার নিয়ে অনিশ্চয়তা। দেশটিতে গত তিন প্রজন্ম ধরে কিম পরিবার শাসন করছে। তবে কিম জং উনের পর কে ক্ষমতায় আসবেন, তা তার পূর্বসূরিদের সময়ের মতো স্পষ্ট নয়।

আরও পড়ুন: মাথাপিছু আয়ে ভারতকে পেছনে ফেলছে বাংলাদেশ: আইএমএফের প্রতিবেদন

কিম ইল সুং তার ছেলে কিম জং ইলকে ক্ষমতার জন্য প্রস্তুত করতে কয়েক দশক সময় নিয়েছিলেন। ১৯৯৪ সালে কিম ইল সুংয়ের মৃত্যুর সময় উত্তরাধিকার পরিকল্পনা প্রায় চূড়ান্ত ছিল। ফলে কিম জং ইলের ক্ষমতা গ্রহণ তুলনামূলকভাবে মসৃণ হয়।

কিন্তু কিম জং উনের ক্ষমতায় উত্থান ছিল দ্রুত এবং ঝুঁকিপূর্ণ। ২০০৮ সালে তার বাবা কিম জং ইল স্ট্রোকে আক্রান্ত হওয়ার পর ছোট ছেলে দ্রুত পদোন্নতি পান। ২০১১ সালে বাবার মৃত্যুর আগেই তাকে ভবিষ্যৎ নেতা হিসেবে প্রকাশ্যে চিহ্নিত করা হয়।

এরপরও কিম জং উন বছরের পর বছর ধরে নিজের ক্ষমতা সুসংহত করেছেন। প্রতিদ্বন্দ্বীদের সরিয়ে দিয়েছেন এবং সম্ভাব্য হুমকি দূর করেছেন।

বর্তমানে দক্ষিণ কোরিয়ার গোয়েন্দা সংস্থার ধারণা, কিম হয়তো তার মেয়েকে উত্তরসূরি হিসেবে প্রস্তুত করছেন। গুরুত্বপূর্ণ অনুষ্ঠান ও সামরিক প্রদর্শনীতে মেয়ের উপস্থিতি ক্রমেই বাড়ছে। তবে ধারণা করা হয়, কিম জু এ-এর বয়স মাত্র ১৩ বছর। উত্তর কোরিয়ায় এর আগে কোনো নারী দেশটির নেতৃত্ব দেননি। তা ছাড়া তাকে আনুষ্ঠানিকভাবে উত্তরসূরিও ঘোষণা করা হয়নি। ক্ষমতার লড়াই শুরু হলে তার এই অল্প বয়স তাকে ঝুঁকির মুখে ফেলতে পারে।

আরও পড়ুন: নেতানিয়াহুসহ ৩৫ ইসরাইলির বিরুদ্ধে তুরস্কে মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচার শুরু

এসব অনিশ্চয়তার কারণেই কিমের স্বাস্থ্য নিয়ে গুজব ব্যাপক মনোযোগ পায়।

স্বাস্থ্যঝুঁকি ও আঞ্চলিক উদ্বেগ

গুজবগুলো পুরোপুরি অবিশ্বাস্য মনে হওয়ার আরেকটি কারণ কিমের স্বাস্থ্য। তিনি স্থূলকায় এবং ধূমপান করেন। দক্ষিণ কোরিয়ার জাতীয় গোয়েন্দা সংস্থা একাধিকবার সতর্ক করেছে, তার জীবনযাপনের ধরন তাকে হৃদ্‌রোগের উচ্চ ঝুঁকিতে ফেলছে। কিম পরিবারে হৃদ্‌রোগ ও স্ট্রোকের ইতিহাসও রয়েছে।

কিমের কিছু হলে প্রতিবেশী দেশগুলোসহ আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের জন্য তার পরিণতি গুরুতর হতে পারে। আকস্মিক নেতৃত্ব সংকট দেখা দিলে উত্তর কোরিয়ার পারমাণবিক অস্ত্রের নিয়ন্ত্রণ কার হাতে থাকবে, তা নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হবে। একই সঙ্গে রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতার আশঙ্কাও বাড়বে।

আরও পড়ুন: প্রতিরক্ষা উৎপাদনে নতুন উচ্চতায় ভারত, আমদানি নির্ভরতা কমাচ্ছে

ক্ষমতার দ্বন্দ্ব কি কট্টরপন্থীদের আরো আগ্রাসী পদক্ষেপ নিতে উৎসাহিত করবে? অস্থিতিশীলতার কারণে কি চীনের সীমান্তে শরণার্থী সংকট তৈরি হতে পারে? এসব প্রশ্ন শুধু বেইজিং ও সিউলকেই নয়, ওয়াশিংটনকেও ভাবিয়ে তুলেছে। দক্ষিণ কোরিয়ায় যুক্তরাষ্ট্রের প্রায় ২৮ হাজার সেনা মোতায়েন রয়েছে।

তথ্যের অভাব গুজব ছড়ানোর সুযোগ তৈরি করে।

গোয়েন্দা সংস্থাগুলো কিম জং উনের ওপর কড়া নজর রাখে, যাতে তার সম্পর্কে যেকোনো গুরুত্বপূর্ণ খবরের জন্য প্রস্তুত থাকা যায়। কিন্তু উত্তর কোরিয়া তথ্যের এক কৃষ্ণগহ্বর। তাই দেশটি সম্পর্কে মিথ্যা খবর ছড়ানোও তুলনামূলক সহজ।

দেশটির খুব কম মানুষই নিয়মিতভাবে নেতার কাছাকাছি যাওয়ার সুযোগ পান। নির্ভরযোগ্য তথ্য সংগ্রহ করতে গোয়েন্দা সংস্থাগুলোকেও হিমশিম খেতে হয়। ফলে দেশটি সম্পর্কে প্রকাশিত অনেক তথ্যই নিশ্চিত সত্য হিসেবে নয়, বরং যাচাইহীন বা সম্ভাব্য তথ্য হিসেবে বিবেচিত হয়।

আরও পড়ুন: দুই সেনা হত্যায় হেবরনকে ভূতুড়ে শহর বানাল ইসরায়েল

উত্তর কোরিয়ার শাসকগোষ্ঠীর বিরুদ্ধেও ইচ্ছাকৃতভাবে বিভ্রান্তি ছড়ানো এবং দেশের প্রকৃত পরিস্থিতি আড়াল করতে বিভ্রান্তিকর তথ্য প্রকাশের অভিযোগ রয়েছে।

এ অবস্থায় ওয়ানজুন শি কীভাবে এত গুরুত্বপূর্ণ একটি খবর জানতে পারলেন, অথচ যাদের দায়িত্ব ছিল পরিস্থিতির ওপর নজর রাখা, তারা তা জানতে পারলেন না—এ প্রশ্ন ওঠা স্বাভাবিক।

তিনি হয়তো কেবল মানুষের মনোযোগ আকর্ষণ করতে চেয়েছেন। অথবা বেইজিং ও পিয়ংইয়ংয়ের সম্পর্ক সামনে এনে চীনকে বিব্রত করতে চেয়েছেন, যদিও দুই দেশের সম্পর্ক আন্তর্জাতিকভাবে সুপরিচিত।

তবে তার উদ্দেশ্য যা-ই হোক, উত্তর কোরিয়ার নেতৃত্বকে ঘিরে থাকা অনিশ্চয়তার সুযোগ নিয়ে গুজব ছড়ানোর ঘটনা এটাই প্রথম নয়।

এএম

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

সৌদীতে নিহত শাহেদের লাশ গ্রহণ করলেন শামা ওবায়েদ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

শুক্রবার, ২৩শে অক্টোবর, ২০২৬ ইং

১১:২৬ এম


সৌদীতে নিহত শাহেদের লাশ গ্রহণ করলেন শামা ওবায়েদ

সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদের কিং খালেদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় নিহত বাংলাদেশি প্রবাসী মো. শাহেদ আহম্মেদের মরদেহ দেশে আনা হয়েছে।

শুক্রবার সকালে ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে শাহেদের মরদেহ পৌঁছালে তা গ্রহণ করেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম।

শুক্রবার (২৩ অক্টোবর) সকাল ৮টা ৩৫ মিনিটে শাহেদ আহম্মেদের মরদেহ বহনকারী উড়োজাহাজটি হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করে। পরে বিমানবন্দরে তাঁর মরদেহ গ্রহণের আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন হয়।

এর আগে শাহেদের মরদেহ দেশে ফিরিয়ে আনার প্রক্রিয়া সম্পর্কে জানিয়ে সংবাদ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করে প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়। মন্ত্রণালয়ের জনসংযোগ কর্মকর্তা মো. শরীফুল ইসলাম স্বাক্ষরিত ওই বিজ্ঞপ্তিতে মরদেহ দেশে ফেরানোর বিষয়ে প্রয়োজনীয় তথ্য জানানো হয়।

গত ১০ অক্টোবর সৌদি আরবের রিয়াদের কিং খালেদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ক্ষেপণাস্ত্র হামলার ঘটনায় নিহত ১৩ জনের মধ্যে বাংলাদেশি নাগরিক শাহেদ আহম্মেদ ছিলেন। ওই ঘটনায় আরও একজন বাংলাদেশি প্রাণ হারান। তিনি কুমিল্লার নাঙ্গলকোট উপজেলার বদরপুর গ্রামের বাসিন্দা মো. নাসরুল্লাহ বদরপুরি। তিনি ওমরাহ ভিসায় সৌদি আরবে অবস্থান করছিলেন। হামলায় আহত হন আরও ২৭ বাংলাদেশি।

হামলার ঘটনায় বাংলাদেশি নাগরিকদের হতাহত হওয়ার পর নিহতদের মরদেহ দেশে ফিরিয়ে আনা এবং আহতদের বিষয়ে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার বিষয়টি সামনে আসে। শাহেদ আহম্মেদের মরদেহ দেশে পৌঁছানোর মধ্য দিয়ে তাঁর পরিবারের কাছে মরদেহ হস্তান্তরের প্রক্রিয়া এগিয়ে নেওয়ার সুযোগ তৈরি হয়েছে।

এদিকে নিহত শাহেদ আহম্মেদের পরিবারের আর্থিক সহায়তার ব্যবস্থাও করা হয়েছে বলে জানিয়েছে প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়। মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, শাহেদের নিয়োগকারী প্রতিষ্ঠান সা’দ আল ঈসা কন্ট্রাক্টিং কোম্পানি তাঁর বকেয়া বেতন-ভাতা ও সার্ভিস বেনিফিটের অর্থ বাবদ ২৭ হাজার ৩৯৫ দশমিক ৬২ সৌদি রিয়াল রিয়াদে অবস্থিত বাংলাদেশ দূতাবাসের ব্যাংক হিসাবে জমা দিয়েছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

২০৭৫ সালের মধ্যে প্রবালপ্রাচীর চরম বিপন্ন হওয়ার ঝুঁকিতে: আইইউসিএন

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

শুক্রবার, ২৩শে অক্টোবর, ২০২৬ ইং

১১:২৭ এম


২০৭৫ সালের মধ্যে প্রবালপ্রাচীর চরম বিপন্ন হওয়ার ঝুঁকিতে: আইইউসিএন

ঢাকা, ২৩ অক্টোবর, ২০২৬ : জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে ২০৭৫ সালের মধ্যে বিশ্বের অগভীর পানির প্রায় সব প্রবালপ্রাচীর চরম বিপন্ন হওয়ার অত্যন্ত উচ্চ ঝুঁকিতে রয়েছে বলে সতর্ক করেছে আন্তর্জাতিক প্রকৃতি সংরক্ষণ সংঘ (আইইউসিএন)।

বৃহস্পতিবার প্রকাশিত বৈশ্বিক মূল্যায়নের প্রথম এ ধরনের প্রতিবেদনে, বিপন্ন বন্যপ্রাণী সংরক্ষণবিষয়ক আন্তর্জাতিক সংস্থাটি বিশ্বের ৯৬ শতাংশ প্রবালপ্রাচীর ব্যবস্থাকে ‘চরম বিপন্ন’ হিসেবে শ্রেণিবদ্ধ করেছে। এটি ঝুঁকি মূল্যায়নের সর্বোচ্চ শ্রেণি।

প্রবাল তাপমাত্রার প্রতি সংবেদনশীল এবং মানুষের কর্মকাণ্ডজনিত জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে বিশেষভাবে ঝুঁকিতে রয়েছে। জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে বিশ্বের সমুদ্রের তাপমাত্রা বাড়ছে এবং প্রবালের ক্ষতিকর ব্লিচিং বা বিবর্ণ হয়ে যাওয়ার ঘটনা আরও ঘন ঘন ঘটছে ও তীব্র হচ্ছে।

আইইউসিএনের প্রবালপ্রাচীর বাস্তুতন্ত্রের লাল তালিকা মূল্যায়নের বৈজ্ঞানিক প্রধান মিশাল গুদকা বলেন, ‘জলবায়ু পরিবর্তনের ভবিষ্যৎ হুমকি ক্রমেই ঘনিয়ে আসছে এবং তা অত্যন্ত গুরুতর। এর ফলে এসব বাস্তুতন্ত্রের টিকে থাকার ক্ষেত্রে অত্যন্ত উচ্চ ঝুঁকি তৈরি হয়েছে।’

জাতিসংঘের জীববৈচিত্র্যবিষয়ক কপ-১৭ সম্মেলনে আর্মেনিয়ার রাজধানী ইয়েরেভানে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি উল্লেখ করেন, প্রাকৃতিকভাবে সমুদ্রের তাপমাত্রা বাড়িয়ে দেওয়া ‘সুপার’ এল নিনো পরিস্থিতির উদ্ভবও এ বছর প্রবালের জন্য ঝুঁকি তৈরি করছে।

আইইউসিএন কপ-১৭ সম্মেলনে তাদের এ মূল্যায়ন তুলে ধরেছে। ২০৩০ সালের মধ্যে জীববৈচিত্র্যের ক্ষয় বন্ধ ও তা পুনরুদ্ধারে ঐতিহাসিক চুক্তির বাস্তবায়নে অগ্রগতি অর্জনের জন্য সম্মেলনে সরকারগুলোর ওপর চাপ বাড়ছে।

মূল্যায়নের জন্য আইইউসিএন জাতিসংঘের জলবায়ুবিষয়ক বিশেষজ্ঞ প্যানেলের মধ্যম মাত্রার পরিস্থিতি বিবেচনায় নিয়েছে। এ পরিস্থিতিতে ২১০০ সালের মধ্যে শিল্পায়ন-পূর্ব সময়ের তুলনায় বৈশ্বিক তাপমাত্রা ২ দশমিক ৭ ডিগ্রি সেলসিয়াস বাড়তে পারে বলে পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে।

বৈশ্বিক উষ্ণতা বাড়িয়ে দেওয়া গ্রিনহাউস গ্যাসের নিঃসরণ কমাতে বর্তমান আন্তর্জাতিক অঙ্গীকারগুলো বাস্তবায়িত হলে চলতি শতাব্দীতে তাপমাত্রা ২ দশমিক ৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস বাড়তে পারে বলে বুধবার জাতিসংঘ সতর্ক করেছে।

আইইউসিএন এক বিবৃতিতে বলেছে, ‘জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে সৃষ্ট তাপীয় চাপ বিশ্বজুড়ে প্রবালপ্রাচীরের অবক্ষয়ের সবচেয়ে ধারাবাহিক হুমকি।’

সংস্থাটি জানায়, অতিরিক্ত মাছ ধরাও প্রবালের ক্ষতি করছে। কারণ, কিছু তৃণভোজী মাছ ও শিকারি প্রাণী শৈবালের বিস্তার নিয়ন্ত্রণ এবং বাস্তুতন্ত্রের ভারসাম্য বজায় রাখতে সহায়তা করে।

প্যারটফিশ ও অন্যান্য গ্রুপার মাছ অতিরিক্ত আহরণের ফলে বিশ্বের ৬৩ শতাংশ প্রবালপ্রাচীর বাস্তুতন্ত্র হুমকির মুখে রয়েছে। উপকূলীয় উন্নয়ন, দূষণ, পর্যটন এবং ঘন ঘন শক্তিশালী ঝড়ও প্রবালপ্রাচীরের জন্য বড় হুমকি।

চরম বিপন্ন প্রবালপ্রাচীর

আইইউসিএনের বিশ্লেষণে ক্রান্তীয় ও উপক্রান্তীয় অঞ্চলের ১২৭টি প্রবালপ্রাচীর ব্যবস্থা অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।

এসব প্রবালপ্রাচীরের মোট আয়তন ১ লাখ ৮৮ হাজার ৩৬২ বর্গকিলোমিটার।

বিশ্বের বৃহত্তম ও সর্বাধিক জীববৈচিত্র্যসমৃদ্ধ কয়েকটি প্রবালপ্রাচীরকেও ‘চরম বিপন্ন’ হিসেবে শ্রেণিবদ্ধ করা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে অস্ট্রেলিয়ার গ্রেট ব্যারিয়ার রিফ, দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া ও পশ্চিম প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের কোরাল ট্রায়াঙ্গল, ক্যারিবীয় অঞ্চলের মেসোআমেরিকান ব্যারিয়ার রিফ ব্যবস্থা এবং লোহিত সাগরের প্রবালপ্রাচীর।

শক্ত প্রবাল, যেগুলো প্রবালপ্রাচীরের জীবন্ত ভিত্তি তৈরি করে, বেশির ভাগ বিলুপ্ত হয়ে সেখানে শৈবাল, ভাঙা প্রবালের টুকরো ও স্পঞ্জের আধিক্য দেখা দিলে একটি প্রবালপ্রাচীর বাস্তুতন্ত্র ধসে পড়েছে বলে বিবেচিত হয়।

গত সপ্তাহে ‘নেচার’ সাময়িকীতে প্রকাশিত এক গবেষণায় দেখা গেছে, ২০২০ সাল নাগাদ বিশ্বের প্রায় অর্ধেক প্রবাল প্রজাতি বিলুপ্তির ‘বর্ধিত আপেক্ষিক ঝুঁকিতে’ ছিল। এ অবক্ষয়ের প্রধান কারণ ছিল জলবায়ু পরিবর্তন।

এখনো ঘুরে দাঁড়ানোর সুযোগ আছে

গুরুতর সতর্কতা সত্ত্বেও আইইউসিএন বলেছে, বিশ্বের অধিকাংশ অঞ্চলের প্রবালপ্রাচীর এখনো পুরোপুরি হারিয়ে যায়নি।

সংস্থাটির মতে, ভবিষ্যৎ জলবায়ু পরিবর্তনের পূর্বাভাস বাদ দিয়ে শুধু গত ৫০ বছরে ঘটে যাওয়া পরিবর্তন বিবেচনা করলে বিশ্বের ২৪ শতাংশ প্রবালপ্রাচীর বাস্তুতন্ত্রকে ‘চরম বিপন্ন’ হিসেবে শ্রেণিবদ্ধ করা হতো। ভবিষ্যৎ উষ্ণায়নের প্রভাব যুক্ত করায় এ হার বেড়ে ৯৬ শতাংশে দাঁড়িয়েছে।

গুদকা বলেন, ‘সবচেয়ে ভয়াবহ পরিণতি এড়াতে সংরক্ষণ প্রচেষ্টা ও জলবায়ু কার্যক্রম জোরদার করার জন্য এটি আমাদের সামনে একটি গুরুত্বপূর্ণ সময়সীমা দাঁড় করেছে।’

তিনি ভারত মহাসাগরীয় অঞ্চলে উপকূলীয় সমুদ্র গবেষণা ও উন্নয়ন সংস্থা কর্ডিও ইস্ট আফ্রিকার গবেষণা পরিচালকও।

তিনি আরও বলেন, ‘আগামী কয়েক বছরে আমরা যে পদক্ষেপ নেব, তা নির্ধারণ করবে শতাব্দীর শেষভাগে এসব বাস্তুতন্ত্র কেমন থাকবে—আমরা যেভাবে এগুলোকে চিনি, সেভাবে টিকে থাকবে, নাকি সম্পূর্ণ ভিন্ন বাস্তুতন্ত্রে রূপান্তরিত হবে, যার মূল্য প্রকৃতি ও মানুষের কাছে কম হবে।’

আইইউসিএনের মহাপরিচালক গ্রেথেল আগুইলার বলেন, প্রবালপ্রাচীরকে পুনরুদ্ধারের সুযোগ দেওয়ার সময় এখনো শেষ হয়ে যায়নি।

এক বিবৃতিতে তিনি বলেন, ‘আমরা জানি, কী করা প্রয়োজন—নিঃসরণ উল্লেখযোগ্যভাবে কমানো, সংরক্ষণ ও পুনরুদ্ধারের প্রচেষ্টা জোরদার করা এবং সহনশীল উপকূলীয় বাস্তুতন্ত্র ও এগুলোর ওপর নির্ভরশীল জনগোষ্ঠীর জন্য ধারাবাহিক বিনিয়োগ নিশ্চিত করা।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

নড়াইল জেলা ছাত্রলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক পলাশ গ্রেফতার

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

নড়াইল প্রতিনিধি

শুক্রবার, ২৩শে অক্টোবর, ২০২৬ ইং

১১:২৭ এম


নড়াইল জেলা ছাত্রলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক পলাশ গ্রেফতার
নিষিদ্ধ ঘোষিত নড়াইল জেলা ছাত্রলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক রকিবুজ্জামান পলাশকে (৩৫) গ্রেফতার করেছে জেলা গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর) সন্ধ্যা ৬টার দিকে পুরাতন বাস টার্মিনাল চত্বর থেকে তাকে গ্রেফতার করা হয়। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন ডিবি পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো : আলাউদ্দিন।

এদিকে, নড়াইল সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রাসেল সরোয়ার বলেন, নাশকতার মামলায় রকিবুজ্জামান পলাশকে গ্রেফতার করা হয়েছে। ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট পরবর্তী পলাশের বিরুদ্ধে নাশকতামূলক কর্মকাণ্ড এবং বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে হামলার অভিযোগে সদর থানায় মামলা দায়ের হয়েছে।

প্রসঙ্গত, ২০১৯ সালের ১ নভেম্বর ছাত্রলীগ কেন্দ্রীয় সংসদ চঞ্চল শাহরিয়ার মীমকে সভাপতি ও রকিবুজ্জামান পলাশকে সাধারণ সম্পাদক করে নড়াইল জেলা কমিটি ঘোষণা করে। #
 

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

সৌদির বিমানবন্দরে হামলায় নিহত শাহেদের মরদেহ দেশে পৌঁছেছে

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

শুক্রবার, ২৩শে অক্টোবর, ২০২৬ ইং

১১:২৮ এম


সৌদির বিমানবন্দরে হামলায় নিহত শাহেদের মরদেহ দেশে পৌঁছেছে

সৌদির কিং খালেদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে হুতি বিদ্রোহীদের হামলায় নিহত শাহেদ আহম্মেদের মরদেহ দেশে এসে পৌঁছেছে।

শুক্রবার (২৩ অক্টোবর) সকালে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে তার মরদেহ অবতরণ করে।

এর আগে, গত ১০ অক্টোবর রিয়াদের কিং খালেদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে সংঘটিত হামলায় মো. শাহেদ আহম্মেদ নিহত হন। তিনি বগুড়ার শাহজাহানপুরের রফিকুল ইসলামের পুত্র ছিলেন।

২২ অক্টোবর রিয়াদ সময় রাত ১১টা ১০ মিনিটে জেদ্দা কিং আব্দুল আজিজ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে মরদেহটি নিয়ে ইউএস বাংলার একটি ফ্লাইট (নম্বর BS 362) যাত্রা শুরু করে। পরে, ফ্লাইটটি ২৩ অক্টোবর বাংলাদেশ সময় সকাল ৮টা ৩৫ মিনিটে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছায়।

উল্লেখ্য, সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদের কিং খালেদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে হুতিদের ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় নিহত ১২ জনের মধ্যে দুইজন বাংলাদেশি রয়েছেন। তাদের মধ্যে একজন হলেন শাহেদ আহম্মেদ।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ১৫ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪৫
জোহর ১১:৪৩
আসর ০৩:৪৭
মাগরিব ০৫:২৪
ইশা ০৬:৩৫
সূর্যোদয় : ০৬:০১ সূর্যাস্ত : ০৫:২৪
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%