সোমবার, ২৬শে অক্টোবর, ২০২৬ ইং
১২:৫১ এম
অনলাইন অ্যাক্টিভিস্ট ফাহাম আব্দুস সালাম মন্তব্য করেছেন, "কেউ মারা গেলে তার বিচার আল্লাহর হাতে ছেড়ে দিন।"
তিনি এই মন্তব্যটি রোববার (২৫ অক্টোবর) রাতে নিজের ফেসবুক পেজে একটি পোস্টের মাধ্যমে প্রকাশ করেন।
পোস্টে তিনি উল্লেখ করেন, "একটি ভিডিওতে দেখলাম কয়েকটি ছেলে মিলে মাইক হাতে ক্যানভাসিং করছে— পিরোজপুরের মাটিতে ওরে দাফন হতে দিব না।" তিনি বলেন, "অনুমান করা ঠিক না কিন্তু চেহারা-পোশাক-আশাক থেকে মনে হয় তারা ইসলামিস্ট।"
ফাহাম আব্দুস সালাম আরও বলেন, "আমি বলছি না দলীয়ভাবে জামায়াতে ইসলামী এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে, কিন্তু অন্ততপক্ষে কিছু জামাতে মুসলমান নিজেরা নিজেরা মিলে যে এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে— এতটুকু বলা যায়।"
তিনি আরও জানান, "এই বিকার আমরা প্রথম আওয়ামীদের মধ্যে দেখে হতবাক হয়ে গিয়েছিলাম। আপনাদের কেউ কেউ ঠিক সেই রাস্তাতেই এখন হাটছেন।"
ফাহাম আব্দুস সালাম অনুরোধ করেন, "আল্লাহর ওয়াস্তে এই বিকার থেকে বের হন। অনেক ত্যাগ, অনেক প্রাণের পর আমরা ৫ই অগাস্ট পেয়েছি। এই মাটিতে দম্ভ দেখায়েন না। আজকে আমাদের অবস্থা ভালো আছে। ভালো থাকুন এবং নেক্সট জেনারেশনকে দেখান যে আমরা হানাহানি থেকে বের হতে চাই।"
তিনি উল্লেখ করেন, "আওয়ামীদের কাজ রিপিট করার মধ্যে কোনো বাহাদুরি নাই। তবে আওয়ামীদের কাজ না রিপিট করার মধ্যে বাহাদুরি আছে। তাছাড়া এ সব ইতরামি পলিটিকালিও সুইসাইডাল। মানুষ মোটেও পছন্দ করে না। আপনারাই জনবিচ্ছিন্ন হবেন।"
সবশেষে তিনি লেখেন, "কেউ মারা গেলে তার বিচার আল্লাহর হাতে ছেড়ে দিন।"
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
ইসরাইলের জাতীয় নিরাপত্তা বিষয়ক মন্ত্রী ইতমার বেন-গভির গর্বের সাথে উল্লেখ করেছেন যে তিনি ফিলিস্তিনি বন্দিদের জীবনকে নরক বানানোর জন্য প্রতিজ্ঞাবদ্ধ। তিনি সন্ত্রাসীদের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করার জন্যও প্রার্থনা করার দাবি করেছেন। সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে তিনি বিতর্কিত বক্তব্য ও পদক্ষেপের বিষয়টি তুলে ধরেছেন।
রোববার এক্সে প্রকাশিত একটি বার্তায়, বেন-গভির ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষকে (পিএ) নাৎসি হিসেবে অভিহিত করে বলেন, তারা শিশু হত্যার প্রশিক্ষণ দেয়। তিনি একইসাথে ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষকে সম্পূর্ণরূপে ভেঙে ফেলার প্রয়োজনীয়তার কথাও উল্লেখ করেন।
অন্য একটি পোস্টে, ইসরাইলের এই চরমপন্থি মন্ত্রী জানান, লাভি কারাগারে থাকা ফিলিস্তিনি বন্দিরা একটি কেক তৈরি করেছিলেন যা কারা কর্তৃপক্ষ দ্বারা বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে। তিনি দাবি করেন, বন্দিরা নির্বাচনের একটি বিষয় উদযাপন করার জন্য তাদের সীমিত খাবার থেকে কয়েক দিন ধরে জ্যামের চামচ এবং পাউরুটির টুকরো জমিয়ে ওই তথাকথিত ‘কেক’ তৈরি করেছিলেন।
ঘটনার খবর পাওয়ার পর কেকটি জব্দ করা হয় এবং এতে জড়িত বন্দিদের বিরুদ্ধে শৃঙ্খলাভঙ্গের অভিযোগে বিচার করে তাদের নির্জন কারাবাসে পাঠানো হয়েছে বলে তিনি জানান।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সৌদি আরবের মক্কায় মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হওয়া ব্রাহ্মণবাড়িয়ার প্রবাসী যুবক নজরুল ইসলামের শোকাহত পরিবারের পাশে দাঁড়িয়েছেন জেলা পরিষদের প্রশাসক সিরাজুল ইসলাম সিরাজ।
রোববার (২৫ অক্টোবর) সকালে ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর উপজেলার সুলতানপুর ইউনিয়নের বিরামপুর গ্রামে নজরুলের বাড়িতে যান তিনি। এ সময় নিহতের মা-বাবার খোঁজখবর নেন এবং কান্নায় ভেঙে পড়া স্বজনদের সান্ত্বনা দেন।
সাক্ষাৎকালে নজরুলের মা-বাবা জানান, পরিবারে আর্থিক সচ্ছলতা আনতে ধারদেনা করে ছেলেকে সৌদি আরবে পাঠানো হয়েছিল। সেখানে মক্কার একটি প্রতিষ্ঠানে পরিচ্ছন্নতাকর্মীর কাজ করতেন নজরুল। কিন্তু সেখানে যাওয়ার মাত্র ছয় মাসের মাথায় কথিত নারীঘটিত অনৈতিক অভিযোগ এনে তাকে আটক করা হয়। পরিবারকে কোনো কিছু না জানিয়ে এবং আত্মপক্ষ সমর্থনের সুযোগ না দিয়ে হঠাৎ করে গত ১৪ অক্টোবর (বুধবার) তার মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করে সৌদি কর্তৃপক্ষ। এ সময় কান্নায় ভেঙে পড়ে সন্তানের মরদেহ রাষ্ট্রীয় খরচে দেশে ফিরিয়ে আনার দাবি জানান মা রহিমা বেগম ও বাবা আব্দুল বাছির।
নিহতের বাবা আব্দুল বাছির ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ‘আমার ছেলে কী অপরাধ করেছে, পরিবার হিসেবে তা স্পষ্টভাবে আমাদের জানানো হয়নি। অপরাধ করলে তাকে দেশে ফেরত পাঠিয়ে এ দেশের আইনে বিচার করা যেত। এমনকি মৃত্যুদণ্ডের পরও সরকারিভাবে আমাদের কোনো তথ্য জানানো হয়নি। ছেলের মৃত্যুর খবর শুনে নজরুলের আপন ফুফু আবেদা বেগম হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে মারা গেছেন। আমরা শুধু ছেলের মরদেহটি শেষবারের মতো দেশের মাটিতে ফিরে পেতে চাই।’
এ সময় ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ও জেলা পরিষদের প্রশাসক সিরাজুল ইসলাম সিরাজ বলেন, ‘এটি একটি অত্যন্ত হৃদয়বিদারক ঘটনা। রাষ্ট্রীয় খরচে নজরুলের মরদেহ দেশে ফিরিয়ে আনতে সরকারের সংশ্লিষ্ট দফতরের সঙ্গে কথা বলা হবে।’ একই সঙ্গে জেলা পরিষদের পক্ষ থেকে পরিবারটিকে আর্থিক সহায়তার আশ্বাস দেন তিনি।
পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, ২০২২ সালের ১০ নভেম্বর জীবিকার সন্ধানে সৌদি আরবে পাড়ি জমিয়েছিলেন বিরামপুর গ্রামের কৃষক পরিবারের সন্তান নজরুল ইসলাম (২২)। সেখানে যাওয়ার ছয় মাসের মাথায় মক্কার একটি মসজিদের কাছে সুইটি আক্তার নামের এক নারীর সঙ্গে অনৈতিক কর্মকাণ্ডের অভিযোগে সৌদি পুলিশের হাতে আটক হন তিনি। প্রায় তিন বছর তিন মাস কারাবন্দী থাকার পর গত ১৪ অক্টোবর নজরুল ইসলাম ও সুইটি আক্তারের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয়।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
হবিগঞ্জ শহরের একটি ডায়াগনস্টিক সেন্টারে অভিযান পরিচালনা করে মো. আরিফ মিয়া নামের একজন ব্যক্তিকে ভুয়া চিকিৎসক হিসেবে আটক করেছে এসআরবি ও জেলা প্রশাসনের যৌথ দল।
রোববার (২৫ অক্টোবর) রাত ৮টার দিকে শহরের শায়েস্তানগর ট্রাফিক পয়েন্টের মধুমতি ডায়াগনস্টিক সেন্টারে এই অভিযানটি সম্পন্ন হয়।
সূত্র জানায়, আটক হওয়া আরিফ মিয়া দীর্ঘ সময় ধরে ‘ডা. মীর মাহবুব রহমান’ নাম ব্যবহার করে হবিগঞ্জসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে চিকিৎসাসেবা প্রদান করে আসছিলেন। অভিযানের সময় তিনি নিজের ডাক্তারি সনদ কিংবা চিকিৎসার বৈধতার জন্য কোনো প্রয়োজনীয় কাগজপত্র প্রদর্শন করতে পারেননি।
অভিযানে জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে উপস্থিত ছিলেন সহকারী কমিশনার ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট আল নাদরুন বিন আকন। তিনি জানান, সাধারণ মানুষের স্বাস্থ্য সুরক্ষার জন্য এবং ভুয়া চিকিৎসকদের কার্যক্রম বন্ধের লক্ষ্যে প্রশাসনের এই ধরনের অভিযান নিয়মিতভাবে অব্যাহত থাকবে।
এছাড়া অভিযানের সময় এসআরবির ক্যাপ্টেন মোশাররফসহ সংশ্লিষ্ট দফতরের কর্মকর্তারাও উপস্থিত ছিলেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁয়ে আড়াইহাজার উপজেলার কালাপাহাড়িয়া ইউনিয়ন যুবদলের সভাপতি ফকির জহিরুল ইসলাম (৪৮)কে কুপিয়ে হত্যা করার ঘটনায় তিন দিন পর থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করা হয়েছে।
শনিবার (২৪ অক্টোবর) রাতে নিহতের ভাগনে ইসমাঈল হোসেন বাদী হয়ে সোনারগাঁ থানায় মামলাটি দায়ের করেন। মামলায় ইউনিয়ন ছাত্রদলের সাংগঠনিক সম্পাদক মো. রিজভীকে প্রধান আসামি হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে, পাশাপাশি ২১ জনের নাম উল্লেখ করা হয়েছে এবং অজ্ঞাতপরিচয় আরও চার থেকে পাঁচজনকে আসামি করা হয়েছে।
মামলার এজাহারনামীয় আসামিরা সবাই আড়াইহাজার উপজেলার কালাপাহাড়িয়া ইউনিয়ন বিএনপি ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মী এবং খালিয়ারচর গ্রামের বাসিন্দা বলে জানা গেছে।
এর আগে গত বুধবার (২১ অক্টোবর) রাতে সোনারগাঁয়ের শম্ভুপুরা ইউনিয়নের চরকিশোরগঞ্জ এলাকায় ফকির জহিরুল ইসলামকে কুপিয়ে হত্যা করে দুর্বৃত্তরা। নিহত জহিরুল আড়াইহাজার উপজেলার কালাপাহাড়িয়া ইউনিয়নের খালিয়ারচর গ্রামের মৃত আব্দুর রহমান বেপারীর ছেলে। তিনি আড়াইহাজার উপজেলা যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক হিসেবেও দায়িত্ব পালন করছিলেন। সোনারগাঁয়ের শম্ভুপুরা ইউনিয়নের চরকিশোরগঞ্জ বাজারে তার একটি ওষুধের ফার্মেসি রয়েছে।
মামলার এজাহারে বাদী উল্লেখ করেন, আসন্ন কালাপাহাড়িয়া ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে প্রার্থী হওয়ার ঘোষণা দিয়েছিলেন ফকির জহিরুল ইসলাম। এরপর থেকেই আসামিরা তাকে বিভিন্ন সময়ে প্রাণনাশের হুমকি দিয়ে আসছিলেন। এরই জেরে বুধবার রাতে চরকিশোরগঞ্জ বাজারে নিজের ফার্মেসি বন্ধ করে বাসায় ফেরার পথে ছাত্রদল নেতা রিজভীর নেতৃত্বে ২০-২৫ জনের একদল দুর্বৃত্ত দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে তার ওপর অতর্কিত হামলা চালায়। হামলাকারীরা তাকে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে গুরুতর জখম করে পালিয়ে যায়। পরে স্থানীয়রা তাকে মুমূর্ষু অবস্থায় উদ্ধার করে মুন্সীগঞ্জ জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।
সোনারগাঁ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ আব্দুল বারিক বলেন, ‘যুবদল নেতা হত্যার ঘটনায় ২১ জনের নাম উল্লেখ করে এবং অজ্ঞাত আরও চার-পাঁচজনকে আসামি করে মামলা দায়ের করা হয়েছে। ঘটনার পর থেকেই আসামিরা আত্মগোপনে রয়েছে। জড়িত আসামিদের গ্রেফতারে পুলিশের একাধিক দল অভিযান চালাচ্ছে।’
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ