বৃহস্পতিবার, ৫ই নভেম্বর, ২০২৬ ইং
০২:৩৭ পি.এম
জয়পুরহাটে বাসের চাপায় মোটরসাইকেল আরোহী এক যুবক নিহত হয়েছেন। এছাড়া, আরও দুজন আহত হয়েছেন। দুর্ঘটনার পর বিক্ষুব্ধ ছাত্র-জনতা বাসে ভাঙচুর চালিয়ে আগুন ধরিয়ে দেন।
বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) সকাল ১০টার দিকে জয়পুরহাট-হিলি সড়কের কাশিয়াবাড়ি স্কুলের সামনে এই দুর্ঘটনাটি ঘটে।
নিহত যুবকের নাম ইমন, যিনি আসিফ নামেও পরিচিত (৩৫)। তিনি সদর উপজেলার হাতিগাড়া গ্রামের ইমরান হোসেনের পুত্র। আহতদের মধ্যে রয়েছেন একই গ্রামের আমজাদ হোসেনের ছেলে নাঈম হোসেন এবং মফিজুল হোসেনের ছেলে জিহাদ হোসেন।
প্রত্যক্ষদর্শী ও ফায়ার সার্ভিসের কর্মীদের তথ্য অনুযায়ী, সকাল সোয়া ১০টায় জয়পুরহাট থেকে জেড আর পরিবহনের একটি বাস হিলির দিকে যাওয়ার পথে বিপরীত দিক থেকে আসা একটি মোটরসাইকেলকে মুখোমুখি চাপা দেয়। ঘটনাস্থলে মোটরসাইকেলের একজন যাত্রী নিহত হন এবং অন্য দুজন আহত হন।
স্থানীয়রা ও ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা দ্রুত আহতদের উদ্ধার করে জয়পুরহাট ৪০০ শয্যা বিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে যান। নিহত ইমনের মরদেহ বর্তমানে হাসপাতাল মর্গে রাখা আছে।
দুর্ঘটনার পর ছাত্র-জনতা বিক্ষুব্ধ হয়ে বাসে ভাঙচুর ও আগুন ধরিয়ে দেয়। এর ফলে সড়কে যান চলাচল কিছু সময়ের জন্য বন্ধ হয়ে যায়। খবর পেয়ে জয়পুরহাট ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা এসে বাসের আগুন নিভিয়ে ফেলেন।
জয়পুরহাট সদর সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আরিফ হোসেন ঘটনাস্থল পরিদর্শন শেষে জানান, বর্তমানে ওই এলাকার পরিস্থিতি শান্ত এবং যান চলাচল স্বাভাবিক রয়েছে। নিহত এবং আহতদের বিষয়ে খোঁজখবর নেওয়া হচ্ছে বলেও তিনি জানান।
জয়পুরহাট।
০১৭২৯ ৬৫৯১৫১
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সাতক্ষীরায় বাসের চাপায় নিহত হয়েছেন রহিমা খাতুন (৫৫) নামে এক পথচারী। বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) ভোরে সাতক্ষীরা-যশোর সড়কের ছয়ঘরিয়া এলাকায় এই দুর্ঘটনাটি ঘটে।
নিহত রহিমা খাতুন সাতক্ষীরা সদর উপজেলার বাঁশঘাটা গ্রামের ইনসান আলীর স্ত্রী ছিলেন।
নিহতের ছেলে শরিফুল ইসলাম জানান, তার মা রহিমা খাতুন ভোর ৪টার দিকে হাঁটতে বের হন। ভোর সাড়ে ৫টার দিকে তিনি জানতে পারেন যে তার মায়ের মরদেহ সাতক্ষীরা-যশোর সড়কের ছয়ঘরিয়া মোড়ের কাছে রাস্তার ওপর পড়ে রয়েছে। পরে ঘটনাস্থলে গিয়ে তিনি তার মায়ের নিথর দেহ দেখতে পান। রাস্তা পার হওয়ার সময় কোনো দ্রুতগামী বাস বা ট্রাক তার মাকে চাপা দিয়ে চলে যাওয়ার কারণে তার মৃত্যু হয়েছে বলে ধারণা করেন তিনি।
এ বিষয়ে সাতক্ষীরা সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. শফিকুল ইসলাম জানান, পুলিশ ঘটনাস্থলে পাঠানো হয়েছে। মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে। তিনি জানান, এ ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান মন্তব্য করেছেন যে, শ্রমিকদের দাবির অন্তরালে সীমান্তের ওপার থেকে দেশে বিশৃঙ্খলা তৈরির চেষ্টা চলছে।
বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্ব) দুপুরে বাগেরহাটের কাটাখালি মোড়ে অনুষ্ঠিত এক পথসভায় তিনি এ কথা বলেন।
প্রধানমন্ত্রী উল্লেখ করেন যে, সরকার শ্রমিকদের দাবি বাস্তবায়নের জন্য মজুরি বোর্ড গঠন করেছে এবং দেশের শিল্প কারখানা ও কর্মসংস্থান তৈরিতে কাজ করছে। তিনি ষড়যন্ত্রকারীদের প্রতিহতের জন্য জনগণের প্রতি আহ্বান জানান।
তিনি বলেন, ‘ঢাকায় কিছু লোক বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির চেষ্টা করছে। মজুরি বোর্ড গঠন করা হয়েছে, তারা নির্ধারণ করবে বেতন কাঠামো।’
প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, ‘দাবির আড়ালে কিছু উচ্ছৃঙ্খল ব্যক্তি সীমান্তের ওপার থেকে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির চেষ্টা করছে। তারা কারখানা ভাঙচুর করেছে। যারা ১৬ বছর ধরে মানুষের অবস্থার পরিবর্তন করতে পারেনি, তারা পালিয়ে যেতে বাধ্য হয়েছে। তারা সীমান্তের ওপার থেকে বিশৃঙ্খলা করছে।’
তিনি সতর্ক করে বলেন, মিল-কল কারখানা ধ্বংস হলে দেশের অর্থনীতি ধ্বংস হয়ে যাবে। তিনি বলেন, ‘মিল-কল কারখানা দেশের সম্পদ। এটি ধ্বংস হলে দেশের অর্থনীতি ধ্বংস হয়ে যাবে। সীমান্তের ওপার থেকে এদের ধ্বংসের পাঁয়তারা চলছে। এদেরকে প্রতিহত করতে হবে। জনগণকে রূখে দাঁড়াতে হবে।’
প্রধানমন্ত্রী বলেন, নির্বাচনের আগে দেশের মানুষের জন্য কাজ করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলাম। বন্ধ মিল-কল কারখানা চালুর কথা বলেছিলাম। বিনিয়োগকারীদের কারখানা চালুর উৎসাহী করে কর্মসংস্থান তৈরির জন্য কাজ করতে চেয়েছিলাম। সে কারণেই আমি দুই সপ্তাহে দুইবার এখানে এসেছি। এই অঞ্চল থেকে পঞ্চগড় পর্যন্ত হাজার হাজার শিল্প কারখানা স্থাপন করতে চাই।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
শেখ হাসিনা পলাতক সন্ত্রাসী হিসেবে চিহ্নিত। তাই, তার দেশে ফেরার জন্য পাসপোর্ট বা ট্রাভেল পাসের প্রয়োজন নেই। পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির জানিয়েছেন, সরকার শেখ হাসিনাকে দেশে ফেরত নিতে ভারতের সঙ্গে বিদ্যমান বন্দিবিনিময় চুক্তির আওতায় পদক্ষেপ নিচ্ছে।
বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) দুপুরে ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে সফররত চীনের কমিউনিস্ট পার্টির কেন্দ্রীয় কমিটির আন্তর্জাতিক বিভাগের মন্ত্রী লিউ হাইসিংকে বিদায় জানিয়ে এক প্রেস ব্রিফিংয়ে তিনি এ মন্তব্য করেন।
শেখ হাসিনার দেশে ফেরার প্রসঙ্গে পাসপোর্টের প্রয়োজনীয়তা নিয়ে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হাস্যকর মন্তব্য করেন। তিনি বলেন, ‘তিনি একজন পলাতক সন্ত্রাসী। শেখ হাসিনা শ্বশুরবাড়ি বেড়াতে আসবেন না যে, পাসপোর্ট দিয়ে ফিরিয়ে আনতে হবে।’
তিনি আরও বলেন, ‘ভারতের সঙ্গে বিদ্যমান বন্দিবিনিময় চুক্তি অনুযায়ী শেখ হাসিনার হস্তান্তরই চায় বাংলাদেশ। তার দেশে ফেরার জন্য পাসপোর্ট বা ট্রাভেল পাসের প্রয়োজন নেই।’
২০২৪ সালের ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানে ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর শেখ হাসিনা ভারতে চলে যান। মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় গত বছরের ১৭ নভেম্বর আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল তাকে মৃত্যুদণ্ড দেন।
এদিকে, বাংলাদেশে ফিরে আসা নিয়ে বিভিন্ন সময়ে শেখ হাসিনার বক্তব্য ও রাজনৈতিক অবস্থান নিয়ে আলোচনা চলছে। তাকে দেশে ফেরত পাঠাতে বিদ্যমান বন্দিবিনিময় চুক্তির আওতায় একাধিকবার ভারতের কাছে অনুরোধ জানিয়েছে ঢাকা। তবে এ বিষয়ে এখনো সুনির্দিষ্ট কোনো সিদ্ধান্তের কথা জানায়নি নয়াদিল্লি। যদিও দুই দেশের মধ্যে কূটনৈতিক যোগাযোগ অব্যাহত রয়েছে বলে উভয় পক্ষ জানিয়েছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (রাকসু) ১৭তম সাধারণ সম্পাদক সালাহউদ্দিন আম্মার আট দিন পর দায়িত্বের মেয়াদ শেষ হওয়ার পর দপ্তর ত্যাগ করেছেন। এই সিদ্ধান্ত রাকসুর কোষাধ্যক্ষের চিঠির পরিপ্রেক্ষিতে নেওয়া হয়েছে।
বুধবার (৪ নভেম্বর) রাতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে একটি পোস্টের মাধ্যমে তিনি তার বিদায়ের বিষয়টি প্রকাশ করেন।
ফেসবুক পোস্টে আম্মার উল্লেখ করেন, "প্রিয় রাবিয়ানরা! আপনারা আমার মতো নগণ্য মানুষকে ভোট দিয়ে নির্বাচিত করে এই সম্মান দিয়েছিলেন। আমি আপনাদের জন্য নিজের সামর্থ্য, সময়, শ্রম দিয়ে পাশে থাকার চেষ্টা করেছি। অনেক ভুল করেছি, সেগুলোর জন্য আপনাদের নিকট আন্তরিক ক্ষমাপ্রার্থী। আমি আপনাদের প্রতি চিরকৃতজ্ঞ। আমাকে আপনারা একটা নতুন জীবন দিয়েছেন। আপনারা আমাকে নির্বাচিত না করলে হয়তো বা নীরবে নিভৃতে হারিয়ে যেতাম কচুরিপানার মতো।"
তিনি আরও লেখেন, "প্রশাসনের চিঠি অনুযায়ী আজ ৪ নভেম্বর রাকসুর চাবি এবং আসবাবপত্র হস্তান্তরের কথা। আলহামদুলিল্লাহ, বড় একটা দায়িত্ব থেকে মুক্ত আমি। শেষ সময়টা ভাগ করে নিলাম আমার এক বছরের সঙ্গী রাকসুর কর্মকর্তা-কর্মচারী ভাইদের সঙ্গে। সবাই অনেক অনেক ভালো থাকবেন। এখন থেকেই পরবর্তী রাকসুর লড়াই এবং বিগত ৯ দফা আন্দোলনের লড়াই চলবে রাবি সংস্কার আন্দোলন প্লাটফর্মে।"
সালাহউদ্দিন আম্মার রাকসুর ১৭তম সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। তার বিদায়ের ফলে রাকসু ভবনের একটি অধ্যায়ের সমাপ্তি ঘটেছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের সাধারণ শিক্ষার্থী ও সংশ্লিষ্ট মহলে তার এই বিদায় নিয়ে বিভিন্ন প্রতিক্রিয়া লক্ষ্য করা গেছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ