ঢাকা শনিবার, ৩১শে অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ১৫ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ২০ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
শনিবার, ৩১শে অক্টোবর, ২০২৬ইং ১৫ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

শাহজালালের তৃতীয় টার্মিনাল পরিচালনায় প্রতিদ্বন্দ্বিতায় বিশ্বখ্যাত ৫ এভিয়েশন জায়ান্ট


শাহজালালের তৃতীয় টার্মিনাল পরিচালনায় প্রতিদ্বন্দ্বিতায় বিশ্বখ্যাত ৫ এভিয়েশন জায়ান্ট

হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের (এইচএসআইএ) তৃতীয় টার্মিনাল নিয়ে প্রতিযোগিতায় নেমেছে বিশ্বের শীর্ষস্থানীয় পাঁচটি বিমানবন্দর সেবাদাতা প্রতিষ্ঠান। এটি বাংলাদেশের বিমান পরিবহন খাতের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হয়ে উঠেছে। বাংলাদেশের আঞ্চলিক এভিয়েশন হাব হিসেবে গড়ে ওঠার লক্ষ্যের সঙ্গে বিশ্বব্যাপী আস্থার প্রতিফলন ঘটছে।

এটি স্বাধীনতার পর প্রথমবারের মতো বিশ্বখ্যাত বিমানবন্দর সেবাদাতা প্রতিষ্ঠানগুলো বাংলাদেশের গ্রাউন্ড হ্যান্ডলিং খাতে প্রবেশ করতে ইচ্ছুক হয়েছে। বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ (বেবিচক) যখন তৃতীয় টার্মিনালে যাত্রী গ্রাউন্ড হ্যান্ডলিংয়ের জন্য দ্বিতীয় অপারেটর নিয়োগের সিদ্ধান্ত নিয়েছে, তখন থেকেই এই আগ্রহ বাড়তে শুরু করে।

বেবিচকের একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা বাসস’কে নিশ্চিত করেছেন যে, যাত্রীসেবা সম্পর্কিত গ্রাউন্ড সার্ভিসের জন্য দ্বিতীয় একজন অপারেটর নিয়োগ করা হবে। তবে নতুন টার্মিনালের কার্গো হ্যান্ডলিং বা পণ্য ওঠানো-নামানোর দায়িত্ব এককভাবে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের হাতে থাকবে।

আরও পড়ুন: পার্বত্য চট্টগ্রামে নিরাপত্তা হুমকির মুখে, শান্তি সুদূরপরাহত

তিনি আরও জানান, ‘দ্বিতীয় হ্যান্ডলারের কাজ শুধু যাত্রী ও গ্রাউন্ড হ্যান্ডলিংয়ের কার্যক্রমের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকবে। কার্গো হ্যান্ডলিংয়ের দায়িত্ব এককভাবে বিমানের কাছেই থাকবে।’

এই অগ্রগতিকে খাত সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞরা বাংলাদেশের সম্প্রসারণশীল এভিয়েশন শিল্পের জন্য একটি শক্তিশালী স্বীকৃতি হিসেবে দেখছেন। ক্রমবর্ধমান যাত্রী সংখ্যা, বড় আকারের অবকাঠামো বিনিয়োগ এবং ক্রমবর্ধমান আন্তর্জাতিক যোগাযোগ এই খাতের প্রধান চালিকাশক্তি।

আগ্রহী প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে রয়েছে যুক্তরাজ্যের মেনজিস এভিয়েশন, সুইজারল্যান্ডের সুইসপোর্ট, তুরস্কের চেলেবি এভিয়েশন হোল্ডিং, সংযুক্ত আরব আমিরাতের (ইউএই) এমিরেটস গ্রুপের অঙ্গপ্রতিষ্ঠান ডনাটা এবং সিঙ্গাপুরের স্যাটস। এই প্রতিষ্ঠানগুলো বিশ্বজুড়ে স্বীকৃত বিমানবন্দর সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠানের মধ্যে অন্যতম।

বেবিচকের সাবেক চেয়ারম্যান এয়ার ভাইস মার্শাল (অব.) মুহাম্মদ মাফিদুর রহমান এ বিষয়ে বলেন, বাংলাদেশে এতগুলো আন্তর্জাতিক এভিয়েশন কোম্পানির আগ্রহ দেখানো একটি বিরল ঘটনা। এটি দক্ষিণ এশিয়ার এভিয়েশন খাতে বাংলাদেশের ক্রমবর্ধমান কৌশলগত গুরুত্বকে প্রমাণ করে।

আরও পড়ুন: রেজিস্ট্রেশনের আওতায় আসছে বিদেশি শ্রমিক

সম্প্রতি যুক্তরাজ্য, সুইজারল্যান্ড, তুরস্ক এবং সংযুক্ত আরব আমিরাতের রাষ্ট্রদূতরা বাংলাদেশের এভিয়েশন কর্তৃপক্ষের শীর্ষ নেতৃত্বের সঙ্গে পৃথকভাবে বৈঠক করেছেন। সেখানে তারা নিজেদের দেশের কোম্পানির আগ্রহের বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করেন।

মাফিদুর রহমান আরও বলেন, ‘এই কূটনৈতিক তৎপরতা প্রমাণ করে, বাংলাদেশের সম্প্রসারণশীল এভিয়েশন বাজারকে বিশ্ব কতটা বাণিজ্যিক গুরুত্ব দিচ্ছে এবং দেশের দীর্ঘমেয়াদি প্রবৃদ্ধির সম্ভাবনার ওপর আন্তর্জাতিক বিনিয়োগকারীদের কতটা আস্থা রয়েছে।’

তৃতীয় টার্মিনালের এই সিদ্ধান্তটি একটি মৌলিক নীতিগত পরিবর্তনের নির্দেশক। কারণ, গত কয়েক দশকে যাত্রী গ্রাউন্ড হ্যান্ডলিংয়ের একক দায়িত্ব ছিল বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের ওপর। আর এখন সেখানে প্রতিযোগিতা তৈরি হচ্ছে।

গ্রাউন্ড হ্যান্ডলিংয়ের মধ্যে রয়েছে উড়োজাহাজের রক্ষণাবেক্ষণ, লাগেজ ব্যবস্থাপনা, যাত্রী চেক-ইন, র্যাম্প অপারেশন এবং উড়োজাহাজ অবতরণের পর পুনরায় ওড়ার উপযোগী করার প্রক্রিয়া (টার্নঅ্যারাউন্ড সার্ভিস)। এসব সেবা সরাসরি বিমানবন্দর পরিচালনার দক্ষতা এবং যাত্রী সেবার মানের ওপর প্রভাব বিস্তার করে।

আরও পড়ুন: “অস্তিত্ব সংকটে বুড়িগঙ্গা, নদী বাঁচাতে বদলাতে হবে ঢাকার নগর কাঠামো”

বিদেশি এয়ারলাইন্সগুলো দীর্ঘদিন ধরে এই খাতে আরও বেশি প্রতিযোগিতার জন্য দাবি জানিয়ে আসছিল। তাদের মতে, এর ফলে সেবার মান উন্নত হবে, উড়োজাহাজ প্রস্তুত করার সময় কমবে এবং বাংলাদেশের বিমানবন্দর আন্তর্জাতিক মানের সমপর্যায়ে পৌঁছবে।

নভোএয়ারের ব্যবস্থাপনা পরিচালক এবং এয়ারলাইন অপারেটরস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (এওএবি) সাধারণ সম্পাদক মফিজুর রহমান এই সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়েছেন। তিনি বলেন, ‘আমি মনে করি, বিষয়টি আরও গুরুত্ব সহকারে বিবেচনা করা দরকার, এমনকি এটি পরের ধাপে করা হলেও চলতো। তবে আপাতত যাত্রী সেবা হ্যান্ডলিংয়ে অন্তত প্রতিযোগিতা শুরু হচ্ছে দেখে আমি আনন্দিত।’

বিশিষ্ট এভিয়েশন উদ্যোক্তা এবং টাস এভিয়েশন গ্রুপের চেয়ারম্যান কে এম মুজিবুল হকও এই বৈশ্বিক আগ্রহকে ইতিবাচক দিক বলে মনে করেন। তিনি বলেন, ‘কার্গো ভিলেজ এবং গ্রাউন্ড হ্যান্ডলিং-উভয় কার্যক্রমই আন্তর্জাতিকভাবে অভিজ্ঞ অপারেটরদের দ্বারা পরিচালিত হওয়া উচিত।’

এছাড়া তিনি আরও বলেছেন, ‘মালিকানা সরকারের কাছে থাকতে পারে, তবে পরিচালনার দায়িত্ব অভিজ্ঞ ও দক্ষ বৈশ্বিক কোম্পানিগুলোর হাতে ছেড়ে দেওয়া উচিত। পেশাদার অপারেটররা দক্ষতা, নিরাপত্তা, নিয়ম-কানুন মেনে চলা এবং সেবার মান বাড়াতে পারে। এছাড়া তারা স্থানীয় জনশক্তিকেও এ বিষয়ে দক্ষ করে তুলতে পারবে।’

আরও পড়ুন: ইনানীর গ্যাসের আগুন নেভানো হচ্ছে না কেন? যা জানা গেল

যাত্রী হ্যান্ডলিংয়ে প্রতিযোগিতাকে স্বাগত জানালেও, তৃতীয় টার্মিনালের স্বয়ংক্রিয় কার্গো ভিলেজে বিমানকে একমাত্র কার্গো হ্যান্ডলার হিসেবে রাখার সিদ্ধান্ত নিয়ে খাত সংশ্লিষ্টদের মধ্যে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।

মফিজুর রহমান বলেছেন, ‘বিমানের কার্গো হ্যান্ডলিং আন্তর্জাতিক মানের কি না, তা নিয়ে যথেষ্ট প্রশ্ন রয়েছে। এর সক্ষমতা এবং সততা-উভয় বিষয়েই গুরুতর উদ্বেগ রয়েছে।’

বেবিচকের সাবেক চেয়ারম্যান মাফিদুর রহমানও মনে করেন, টার্মিনালের উন্নত কার্গো সিস্টেমের সর্বোচ্চ সুফল পেতে আন্তর্জাতিক বিশেষজ্ঞদের সহায়তা নেওয়া যেতে পারে। তিনি বলেন, ‘যেসব যন্ত্রপাতি বসানো হয়েছে তা অত্যন্ত আধুনিক এবং এগুলো পরিচালনার জন্য অভিজ্ঞ অপারেটরের প্রয়োজন।’

তিনি আরও জানান, ‘শুরুতেই বিমানের পাশাপাশি একজন অভিজ্ঞ আন্তর্জাতিক অপারেটর কাজ করলে ভালো হতো। এইভাবে পুরোপুরি স্থানীয়ভাবে পরিচালনার আগে আমাদের জনবল কাজগুলো শিখে নিতে পারতো।’ তবে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেন, ‘হতাশ হওয়ার কিছু নেই। দক্ষ পেশাদারদের সঠিকভাবে কাজে লাগানো গেলে এভিয়েশন খাত নতুন গতি পাবে।’

আরও পড়ুন: রিয়াদে অগ্নিকাণ্ডে নিহত বাকি সাত বাংলাদেশির লাশ আজ দেশে আসছে

বিমানের মহাব্যবস্থাপক (জনসংযোগ) বোসরা ইসলাম বাসস’কে জানান, বিমান ইতোমধ্যে প্রয়োজনীয় গ্রাউন্ড হ্যান্ডলিং যন্ত্রপাতি সংগ্রহ করেছে এবং তৃতীয় টার্মিনালের জন্য আরও ১ হাজারের বেশি অতিরিক্ত কর্মী নিয়োগ করেছে।

তিনি জানান, ‘আমরা তৃতীয় টার্মিনালে যাত্রী ও কার্গো হ্যান্ডলিং কার্যক্রম পরিচালনার জন্য পুরোপুরি প্রস্তুত।’ তিনি আরও বলেন, বিমান কার্গো হ্যান্ডলিং ব্যবস্থার বিষয়ে জাপানি কনসোর্টিয়ামের সঙ্গে কাজ করছে। তবে দ্বিতীয় যাত্রী গ্রাউন্ড হ্যান্ডলার নিয়োগের বিষয়ে এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক চিঠি তারা পাননি।

চূড়ান্ত চুক্তি স্বাক্ষরের পর জাপান এয়ারপোর্ট টার্মিনাল কোম্পানি, সুমিতোমো কর্পোরেশন, নিপ্পন কোয়েই এবং নারিতা ইন্টারন্যাশনাল এয়ারপোর্ট কর্পোরেশন সমন্বয়ে গঠিত একটি জাপানি কনসোর্টিয়াম হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের তৃতীয় টার্মিনালের পরিচালনা ও রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্ব নেবে।

আরও পড়ুন: স্বর্ণের দাম ভরিতে ১ হাজার ৬৩৩ টাকা কমলো

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

দীঘিনালায় ইয়াবা সহ তিনজন গ্রেফতার

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

মোঃ লোকমান হোসেন, খাগড়াছড়ি প্রতিনিধি,

বুধবার, ১ই জুলাই, ২০২৬ ইং

০২:১৮ পি.এম


দীঘিনালায় ইয়াবা সহ তিনজন গ্রেফতার

খাগড়াছড়ির দীঘিনালা উপজেলার মেরুং বাজার এলাকায় বিশেষ অভিযান চালিয়ে ২০ পিস ইয়াবা ট্যাবলেটসহ তিনজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। বুধবার (১ জুলাই) তাদের বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা রুজু করা হয়েছে।

পুলিশ জানায়, মঙ্গলবার (৩০ জুন) রাত ১০টা ১০ মিনিটের দিকে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে দীঘিনালা থানার এসআই (নিঃ) প্রানতোষ বণিক-এর নেতৃত্বে একটি টহল দল মেরুং বাজার ঈদগাহ মাঠ সংলগ্ন এলাকায় অভিযান পরিচালনা করে। এ সময় সন্দেহভাজন তিনজনকে আটক করে তল্লাশি চালানো হলে তাদের কাছ থেকে ২০ পিস ইয়াবা ট্যাবলেট উদ্ধার করা হয়।

গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন, মো. মোশারফ হোসেন (৩৫), মো. হৃদয় হোসেন (২১) এবং মো. শাহিন ওরফে বাবু (২২)। তারা সবাই দীঘিনালা উপজেলার ১ নম্বর মেরুং ইউনিয়নের সোবাহানপুর এলাকার বাসিন্দা।

পুলিশের দাবি, উদ্ধার হওয়া ইয়াবা জব্দ করে তিনজনের বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন, ২০১৮-এর সংশ্লিষ্ট ধারায় মামলা করা হয়েছে। মামলাটির তদন্তভার এসআই আলা উদ্দিন-এর ওপর ন্যস্ত করা হয়েছে।

দীঘিনালা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ইকবাল বাহার চৌধুরী বলেন, মাদকের বিরুদ্ধে পুলিশের অবস্থান কঠোর। মাদক বিক্রি, বহন কিংবা সেবনের সঙ্গে জড়িতদের শনাক্ত করতে নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে। আইন অনুযায়ী দোষীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

তিনি আরও বলেন, মাদকমুক্ত সমাজ গঠনে পুলিশের পাশাপাশি স্থানীয় জনগণের সহযোগিতাও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সন্দেহজনক কোনো তথ্য থাকলে পুলিশকে জানাতে আমরা সবাইকে আহ্বান জানাই।

পুলিশ জানিয়েছে, গ্রেপ্তারকৃতদের আদালতে পাঠানোর প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হয়েছে এবং মামলার তদন্ত চলমান রয়েছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

চাঁদপুরে জব্দ ১৫ লাখ মিটার কারেন্টজাল আগুনে পুড়িয়ে ধ্বংস

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

বুধবার, ১ই জুলাই, ২০২৬ ইং

০২:১৮ পি.এম


চাঁদপুরে জব্দ ১৫ লাখ মিটার কারেন্টজাল আগুনে পুড়িয়ে ধ্বংস

চাঁদপুর শহরের পুরান বাজারে যৌথ অভিযান পরিচালনা করে ১৫ লাখ মিটার নিষিদ্ধ ঘোষিত কারেন্টজাল পাশাপাশি ১শ’ চায়না দুয়ারি জাল জব্দ করা হয়েছে। এই সব তখন রাতেই পুড়িয়ে ফেলা হয়েছে।

বুধবার দুপুরে এই বিষয়টি বাসসকে নিশ্চিত করেন সদর উপজেলা সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা মির্জা ওমর ফারুক।

প্রাপ্ত তথ্যে জানা যায়, গতকাল মঙ্গলবার বিকাল ৪টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত শহরের পুরান বাজারে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে সদর উপজেলা প্রশাসন, কোস্টগার্ড এবং উপজেলা মৎস্য অফিসের যৌথ উদ্যোগে অভিযান চালানো হয়।

এ সময় সরকারি কর্মকর্তাদের সঙ্গে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করেন সদর উপজেলার সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট বাপ্পি দত্ত রনি। তিনি গোডাউনের দায়িত্বে থাকা ১ জনকে ৩ হাজার টাকা জরিমানা করেছেন।

সদর উপজেলা সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা মির্জা ওমর ফারুক বাসস’কে জানিয়েছেন, গোডাউন থেকে জব্দ করা ১৫ লাখ মিটার নিষিদ্ধ নতুন কারেন্টজাল এবং ১শ’টি চায়না দুয়ারি জালের আনুমানিক বাজার মূল্য ৫ কোটি টাকা। পরে, জব্দ হওয়া নিষিদ্ধ কারেন্টজাল ও চায়না দুয়ারি জাল কোস্ট গার্ড চাঁদপুর স্টেশনে নিয়ে গিয়ে রাতে আগুনে পুড়ে ফেলা হয়।

এ অভিযানে মৎস্য বিভাগের অন্যান্য কর্মকর্তা এবং কোস্টগার্ড চাঁদপুর স্টেশনের টহল সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

গণশুনানি অনুষ্ঠিত , জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের নারায়ণগঞ্জ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

পারভিন আক্তার, স্টাফ রিপোর্টার নারায়ণগঞ্জ জেলা।

বুধবার, ১ই জুলাই, ২০২৬ ইং

০২:২১ পি.এম


গণশুনানি অনুষ্ঠিত , জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের নারায়ণগঞ্জ

সেবা প্রত্যাশী জনগণের অভাব-অভিযোগ সরাসরি শ্রবণের মাধ্যমে সেগুলির নিষ্পত্তি এবং নাগরিক সেবা প্রদানের মান ও গতি বৃদ্ধির লক্ষ্যে নারায়ণগঞ্জ জেলার জেলা প্রশাসক ও বিজ্ঞ জেলা ম্যাজিস্ট্রেট জনাব মোঃ রায়হান কবির এর সার্বিক নির্দেশনা ও অংশগ্রহণে গণশুনানি আয়োজন করা হয়।

এখানে উল্লেখ্য যে, নিম্নোক্ত সময়সূচি অনুযায়ী গণশুনানি অনুষ্ঠিত হয়ঃ

তারিখঃ সাপ্তাহিক প্রতি বুধবার
সময়ঃ সকাল ১০:০০ টা থেকে দুপুর ১২:০০ টা।
স্থানঃ সম্মেলন কক্ষ, জেলা প্রশাসকের কার্যালয়, নারায়ণগঞ্জ।

আজকের অনুষ্ঠিত গণশুনানিতে আরো উপস্থিত ছিলেন- অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব); অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক); অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট; অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (শিক্ষা ও আইসিটি) সহ গণশুনানিতে অংশগ্রহণকারী নারায়নগঞ্জের সাধারণ জনগণ।

সম্মেলন কক্ষ, জেলা প্রশাসকের কার্যালয়, নারায়ণগঞ্জ || ০১ জুলাই, ২০২৬ খ্রি. বুধবার

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

ইরানের প্রয়াত সর্বোচ্চ নেতা খামেনির রাষ্ট্রীয় শেষকৃত্যের প্রস্তুতি শেষ পর্যায়ে

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

বুধবার, ১ই জুলাই, ২০২৬ ইং

০২:২২ পি.এম


ইরানের প্রয়াত সর্বোচ্চ নেতা খামেনির রাষ্ট্রীয় শেষকৃত্যের প্রস্তুতি শেষ পর্যায়ে

 যুক্তরাষ্ট্র-ইসরাইলের বিমান হামলায় নিহত ইরানের প্রয়াত সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির রাষ্ট্রীয় শেষকৃত্যকে সামনে রেখে তেহরানে জোর প্রস্তুতি চলছে। কর্মীরা এখন শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতিতে ব্যস্ত ছিলেন।

মঙ্গলবার রাজধানীর গ্র্যান্ড মোসাল্লা প্রাঙ্গণে খামেনির বিশাল প্রতিকৃতি টানানো হয়।

মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ চলাকালে স্থগিত হওয়া এ শেষকৃত্য অনুষ্ঠিত হচ্ছে এমন এক সময়ে, যখন সংঘাত বন্ধে প্রাথমিক স্বাক্ষরের পর ইরান ও যুক্তরাষ্ট্র একটি নাজুক যুদ্ধবিরতি মেনে চলছে।

এ বিষয়ে তেহরান থেকে বার্তা সংস্থা এএফপি খবর জানিয়েছে।

শিয়া মুসলমানদের অনেকের কাছে আধ্যাত্মিক নেতা হিসেবে বিবেচিত খামেনি গত ২৮ ফেব্রুয়ারি, যুদ্ধের প্রথম দিন ৮৬ বছর বয়সে তেহরানের কেন্দ্রস্থলে নিজ বাসভবনে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরাইলের বিমান হামলায় নিহত হন।

আগামী শনিবার তার রাষ্ট্রীয় শেষকৃত্য শুরু হবে। তেহরানের কেন্দ্রস্থলে অবস্থিত বিশাল গ্র্যান্ড মোসাল্লা কমপ্লেক্সে তার মরদেহ সর্বসাধারণের শ্রদ্ধা নিবেদনের জন্য রাখা হবে।

এ স্থানটিতে বড় জুমার নামাজ, রাষ্ট্রীয় অনুষ্ঠান ও ধর্মীয় সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়।

হামলায় নিহত তার স্বজনদের মরদেহও সেখানে রাখা হবে।

কর্মকর্তাদের ধারণা, এই শেষকৃত্যে দেড় কোটি থেকে দুই কোটি মানুষ অংশ নেবেন। সেটি হলে এটি ইরানের ইতিহাসে সবচেয়ে বড় রাষ্ট্রীয় শেষকৃত্য হিসেবে গণ্য হবে।

অনুষ্ঠানস্থলে নতুন করে রং করা হয়েছে এবং পুরো এলাকায় কড়া পুলিশি নিরাপত্তা থাকা সত্ত্বেও কর্মীরা ধাতব কাঠামো জোড়া লাগাচ্ছে এবং ক্রেন দিয়ে নির্মাণসামগ্রী তোলার কাজ চলছে।

বিপুল মানুষের সমাগমের কথা বিবেচনা করে রাষ্ট্রীয় টেলিভিশন শোকাহত মানুষকে গণপরিবহন ব্যবহার করার আহ্বান জানায়। একই সঙ্গে শেষকৃত্যের সময় তাপমাত্রা বাড়তে পারে উল্লেখ করে পর্যাপ্ত পানি পান করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

এএফপির এক সাংবাদিক বলেন, রাজধানীর প্রধান কয়েকটি সড়কের কিছু লেন ইতোমধ্যেই বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। এতে তেহরানের চিরচেনা তীব্র যানজট আরও বেড়েছে।

সাম্প্রতিক দিনগুলোতে রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনের বড় একটি অংশজুড়ে খামেনির জীবন নিয়ে নির্মিত প্রামাণ্যচিত্র প্রচার করা হচ্ছে।

বিদেশি প্রতিনিধিদের জন্য আলাদা অনুষ্ঠান হবে—এ নিয়ে শেষকৃত্য আয়োজন কমিটির সচিব আলি-আকবর পুরজামশিদিয়ান বলেন, শুক্রবার বিদেশি রাষ্ট্রপ্রধানদের জন্য আলাদা একটি অনুষ্ঠান হবে।

তার ভাষ্য অনুযায়ী, প্রায় ৩০টি দেশের প্রতিনিধিরা শেষকৃত্যে অংশ নেবেন। পাশাপাশি প্রতিবেশী ইরাক, আফগানিস্তান ও পাকিস্তান থেকেও বিপুল মানুষ আসবেন বলে আশা করা হচ্ছে।

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাকাই রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনকে জানান, ইউরোপের জন্য আমরা কোনো আনুষ্ঠানিক আমন্ত্রণ জানাইনি। তিনি অভিযোগ করেন, ইউরোপীয় দেশগুলো ‘ইতিহাসের ভুল পাশে’ অবস্থান নিয়েছে। যুক্তরাষ্ট্র-ইসরাইল যুদ্ধ নিয়ে তাদের অবস্থানকে তিনি ‘সত্যিই লজ্জাজনক’ বলে মন্তব্য করেন।

অন্যদিকে পুরো যুদ্ধকালেই মিত্র রাশিয়ার সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক বজায় রেখেছে ইরান।

শেষকৃত্য ও দাফনের পরবর্তী ধাপ যেখানে অনুষ্ঠিত হবে, সেই পবিত্র নগরী কোম ও মাশহাদের পাশাপাশি তেহরানেও অনুষ্ঠান চলাকালে সরকারি ছুটি ঘোষণা করা হয়েছে।

শনিবার থেকে সোমবার পর্যন্ত তেহরানের সরকারি ও বেসরকারি অফিস বন্ধ রাখার নির্দেশ দিয়েছে কর্তৃপক্ষ। কঠোর যান চলাচল নিয়ন্ত্রণের কারণে রাজধানীর কেন্দ্রীয় এলাকার বড় অংশে ব্যক্তিগত যানবাহন চলাচল করতে পারবে না।

এ শেষকৃত্য এমন এক সময়ে অনুষ্ঠিত হবে, যখন জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধিকে কেন্দ্র করে শুরু হওয়া ও পরে সরকারবিরোধী আন্দোলনে রূপ নেওয়া দেশব্যাপী বিক্ষোভের ছয় মাস পূর্ণ হয়েছে।

তেহরানের বিভিন্ন স্থানে টানানো পোস্টারে ইরানের জন্য ‘উজ্জ্বল ভবিষ্যৎ’-এর প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছে। অন্য পোস্টারে শেষকৃত্যের স্লোগান লেখা রয়েছে— ‘আমাদের অবশ্যই জেগে উঠতে হবে।’

তেহরানের অনুষ্ঠান শেষে খামেনির মরদেহ ইরাকের পবিত্র নগরী নাজাফ ও কারবালায় নেওয়া হবে। এরপর আগামী ৯ জুলাই তার জন্মস্থান উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় শহর মাশহাদে ইমাম রেজার মাজারে তাকে দাফন করা হবে।

তবে তেহরানের মূল অনুষ্ঠানে খামেনির ছেলে ও উত্তরসূরি মোজতাবা খামেনি উপস্থিত থাকবেন কি না, তা এখনও জানা যায়নি। দায়িত্ব পাওয়ার পর থেকে তিনি জনসমক্ষে আসেননি।

এ বিষয়ে পুরজামশিদিয়ান বলেন, ‘সর্বোচ্চ নেতার উপস্থিতির বিষয়টি আমার এখতিয়ার বা জানার মধ্যে নেই।’ তিনি আরও বলেন, ‘এ বিষয়ে কোনো কর্মসূচি থাকলে, ইসলামী বিপ্লবের নেতার কার্যালয় থেকেই অবশ্যই তা ঘোষণা করা হবে।’

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ২০ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪৭
জোহর ১১:৪৩
আসর ০৩:৪৪
মাগরিব ০৫:২০
ইশা ০৬:৩২
সূর্যোদয় : ০৬:০৪ সূর্যাস্ত : ০৫:২০
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%