০২:৫৯ পি.এম
রাজধানীর ওয়ারী এলাকার শীর্ষ সন্ত্রাসী ইসমাইল হোসেন, যিনি সজল ও অটো সজল নামেও পরিচিত, এবং তার তিন সহযোগীকে গ্রেপ্তার করেছে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) যাত্রাবাড়ী থানার পুলিশ। এ সময় তাদের কাছ থেকে বিপুল পরিমাণ অস্ত্র, গুলি, হেরোইন এবং মাদক বিক্রির জন্য ব্যবহৃত টাকা উদ্ধার করা হয়েছে।
শুক্রবার (১৯ জুন) সকালে, রাজধানীর মিন্টো রোডের ডিএমপি মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানান ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের অতিরিক্ত কমিশনার (ক্রাইম অ্যান্ড অপারেশনস) এসএন নজরুল ইসলাম।
গ্রেপ্তারকৃত ব্যক্তিরা হলেন ইসমাইল হোসেন ওরফে সজল ওরফে অটো সজল (৩১), মো. বাপ্পী (২৮), মো. হানিফ (৪০) এবং মোছা. শামসুন্নাহার (৪৫)।
আরও পড়ুন: এনসিপির কমিটিতে ৩০ বছরের নিচে কাউকে রাখা হবে না
সংবাদ সম্মেলনে নজরুল ইসলাম জানায়, গত ২ মার্চ মাদক উদ্ধার ও অপরাধী গ্রেপ্তারের উদ্দেশ্যে পরিচালিত বিশেষ অভিযানের সময় ৩-৪ জন অজ্ঞাতনামা দুষ্কৃতকারী মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের এক পরিদর্শককে পায়ে গুলি করে পালিয়ে যায়। এ ঘটনায় ওয়ারী থানায় একটি মামলা দায়ের করা হয়।
মামলার তদন্তে, ওয়ারী থানা পুলিশ প্রথমে তিনজনকে গ্রেপ্তার করে এবং তাদের কাছ থেকে তিনটি আগ্নেয়াস্ত্র উদ্ধার করে। পরে আদালতে দেওয়া স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিতে তারা জানায়, মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের কর্মকর্তার ওপর হামলায় ব্যবহৃত অস্ত্রটি সরবরাহ করেছিল ওয়ারীর শীর্ষ সন্ত্রাসী অটো সজল। এরপর থেকেই তাকে গ্রেপ্তারে ওয়ারী বিভাগের বিভিন্ন থানার পুলিশ ধারাবাহিক অভিযান শুরু করে।
ডিএমপির এই কর্মকর্তা জানান, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে বৃহস্পতিবার (১৮ জুন) রাত ৯টা ১০ মিনিটের দিকে যাত্রাবাড়ী থানার একটি দল সায়েদাবাদ এলাকায় অভিযান চালিয়ে অটো সজলকে গ্রেপ্তার করে।
তার বিরুদ্ধে ডিএমপির বিভিন্ন থানায় ১১টি মামলা রয়েছে।
আরও পড়ুন: নাহিদ ইসলাম: দেশ মাফিয়া রাষ্ট্রে পরিণত হয়েছে
প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে সজল স্বীকার করে, গেন্ডারিয়া থানার স্বামীবাগ এলাকায় তার ভাড়া বাসায় বিপুল পরিমাণ অস্ত্র ও মাদক মজুত রয়েছে। পরে রাত ৯টা ৫০ মিনিটের দিকে ওই বাসায় অভিযান চালিয়ে তার আরো তিন সহযোগীকে গ্রেপ্তার করা হয়।
অভিযানে বাসা থেকে উদ্ধার করা হয় দুটি ‘টরাস’ ব্র্যান্ডের পিস্তল, চারটি ম্যাগাজিন, ৭৭ রাউন্ড তাজা গুলি, ৫৯ গ্রাম হেরোইন, হেরোইন তৈরির কাজে ব্যবহৃত ৮৭ গ্রাম ‘মেডি’, মাদক বিক্রির ২২ হাজার ৯৬০ টাকা এবং অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে ব্যবহৃত চারটি মোবাইল ফোন।
পুলিশ জানায়, গ্রেপ্তারদের বিরুদ্ধে অস্ত্র ও মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে পৃথক মামলা দায়ের করা হয়েছে, পাশাপাশি পরবর্তী আইনগত কার্যক্রমও প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।
আরও পড়ুন: ‘জুলাইয়ের আন্দোলনে শেখ হাসিনা ও জাতীয় মসজিদের খতিব পালিয়ে গেছেন’
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন