ঢাকা বুধবার, ২৮শে অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ১২ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ১৭ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
বুধবার, ২৮শে অক্টোবর, ২০২৬ইং ১২ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

শিক্ষার্থীদের মেধা বিকাশে সর্বোচ্চ সহযোগিতা করবে সরকার: মাহদী আমিন


শিক্ষার্থীদের মেধা বিকাশে সর্বোচ্চ সহযোগিতা করবে সরকার: মাহদী আমিন

শিক্ষার্থীদের মেধা বিকাশে সরকার সর্বোচ্চ সহযোগিতা করবে : মাহদী আমিন

 

প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা উপদেষ্টা মাহদী আমিন জানিয়েছেন, শিক্ষার্থীদের পছন্দের ক্যারিয়ার, সামাজিক মূল্যবোধ ও মেধা বিকাশে সরকার সর্বোচ্চ সহযোগিতা করবে। তিনি উল্লেখ করেন, জীবনযাত্রার একমাত্র সাফল্য হিসেবে প্রাতিষ্ঠানিক সনদ অর্জনকে বিবেচনা করা উচিত নয়; সৎ, যোগ্য ও দক্ষ মানবসম্পদ হিসেবে গড়ে উঠতে এক্সট্রা কারিকুলার অ্যাক্টিভিটিজ এবং সমাজসেবামূলক কর্মকাণ্ডে অংশগ্রহণ করা আবশ্যক।

আরও পড়ুন: মেহেরপুরে নিরাপদ সড়ক দিবস উপলক্ষে বর্ণাঢ্য র‍্যালি

 

বুধবার (২ সেপ্টেম্বর) সকালে রাজধানীর সেগুনবাগিচায় আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা ইনস্টিটিউটে মাহদী আমিন এসব কথা বলেন একটি সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে। বাংলাদেশ স্কাউটসের স্পেশাল ইভেন্টস বিভাগের উদ্যোগে আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে ২০২৫ সালের এসএসসি ও এইচএসসি পরীক্ষায় জিপিএ-৫ প্রাপ্ত ৫৮০ জন মেধাবী স্কাউট ও রোভার স্কাউটকে সংবর্ধনা প্রদান করা হয়। দেশের ১৩টি অঞ্চল থেকে আসা এসব মেধাবী স্কাউটদের হাতে অভিনন্দনপত্র, মেডেল ও প্রাইজমানি তুলে দেওয়া হয়।

মাহদী আমিন বলেন, ‘সবাইকে কেবল ডাক্তার কিংবা ইঞ্জিনিয়ার হতে হবে—বিষয়টি মোটেও তেমন নয়।

 

আরও পড়ুন: সরকারকে সেলিম উদ্দিনের আহ্বান, গণরায়ের বিরুদ্ধে না গিয়ে জনগণের পক্ষে দাঁড়ান

যার যে বিষয়ে পড়তে ভালো লাগে, সরকারের পক্ষ থেকে সেই সুযোগ ও সহায়তা প্রদান করা হবে। যদি কেউ খেলাধুলা, ড্রয়িং, বিতর্ক বা মানবিক ও সামাজিক বিজ্ঞানে ক্যারিয়ার গড়তে চায়, তবে তার পছন্দের পথে মেধার সর্বোচ্চ বিকাশ ঘটাতে সরকার সুযোগ-সুবিধা দেবে।’

নিজের ছাত্রজীবনের স্মৃতিচারণ করে উপদেষ্টা জানান, ‘প্রায় আড়াই দশক আগে তিনিও পাবলিক পরীক্ষায় ভালো ফলাফলের স্বীকৃতি হিসেবে মঞ্চে উপস্থিত শিক্ষামন্ত্রীর হাত থেকে একাধিকবার পুরস্কার গ্রহণ করেছিলেন। সংবর্ধিত তরুণদের দেশের আগামী দিনের নেতৃত্ব দেওয়ার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, সততা, পরিশ্রম, শৃঙ্খলা ও দেশপ্রেমকে জীবনের ভিত্তি বানিয়ে মানুষের কল্যাণে কাজ করতে হবে।

 

গতানুগতিক পুঁথিগত শিক্ষার বাইরে বাস্তবমুখী শিক্ষার ওপর জোর দিয়ে মাহদী আমিন জানান, সরকার এমন এক তরুণ প্রজন্ম গড়ে তুলতে বদ্ধপরিকর, যাদের মধ্যে মানবিক গুণাবলী, দৃঢ় পারিবারিক মূল্যবোধ ও সামাজিক দায়বদ্ধতার চমৎকার মেলবন্ধন থাকবে।

আরও পড়ুন: ঢাকা-মাওয়া এক্সপ্রেসওয়েতে এআই ক্যামেরা স্থাপন হচ্ছে

প্রধান জাতীয় কমিশনার এবং প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মুখ্য সচিব এ বি এম আব্দুস সাত্তারের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে আরো বক্তব্য রাখেন শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন, বাংলাদেশ স্কাউটসের সভাপতি ও মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গনি, জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব মো. এহছানুল হক, মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগের সচিব আবদুল খালেক, কারিগরি ও মাদরাসা শিক্ষা বিভাগের সচিব মো. দাউদ মিয়া প্রমুখ।

অনুষ্ঠানে বাংলাদেশ স্কাউটসের ১৩টি অঞ্চল থেকে ৫৮০ জন মেধাবী স্কাউট ও রোভার স্কাউট অংশ নেন এবং অভিনন্দন পত্র ও মেডেল গ্রহণ করেন। একই সঙ্গে তাদের নির্ধারিত প্রাইজমানি প্রদান করা হয়।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

মুদ্রানীতি ও রাজস্বনীতির সমন্বয় ছাড়া মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ সম্ভব নয়: তিতুমীর

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

বুধবার, ২ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং

০৪:২০ পি.এম


মুদ্রানীতি ও রাজস্বনীতির সমন্বয় ছাড়া মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ সম্ভব নয়: তিতুমীর

মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ, বিনিয়োগ বৃদ্ধি এবং অর্থনীতিকে স্থিতিশীল পথে ফিরিয়ে আনার লক্ষ্যে মুদ্রানীতি ও রাজস্বনীতির মধ্যে কার্যকর সমন্বয়ের গুরুত্ব তুলে ধরেছেন প্রধানমন্ত্রীর অর্থ ও পরিকল্পনাবিষয়ক উপদেষ্টা ড. রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর। তিনি উল্লেখ করেন, ‘কেন্দ্রীয় ব্যাংক যদি সংকোচনমূলক মুদ্রানীতি অনুসরণ করে, তবে সরকারকে ব্যয় ব্যবস্থাপনা ও রাজস্ব আহরণে সমন্বিত পদক্ষেপ নিতে হবে, নাহলে মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণের লক্ষ্য অর্জন করা কঠিন হবে।’

 

বুধবার (২ সেপ্টেম্বর) রাজধানীতে ইকোনমিক রিপোর্টার্স ফোরাম (ইআরএফ) আয়োজিত এক সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। সেমিনারে জাতীয় অধ্যাপক ড. মাহবুব উল্লাহ, সিপিডির নির্বাহী পরিচালক ড. ফাহমিদা খাতুন এবং এফবিসিসিআইয়ের প্রশাসক মো. ফজলুল হকসহ অর্থনীতিবিদ, ব্যবসায়ী ও নীতিনির্ধারকরা উপস্থিত ছিলেন।

সেমিনারে দেশের সামষ্টিক অর্থনীতির বর্তমান অবস্থা, রাজস্ব সক্ষমতা, জ্বালানি নিরাপত্তা, শিল্পায়ন এবং দীর্ঘমেয়াদি অর্থনৈতিক সংস্কার কর্মসূচি নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়।

ড. তিতুমীর বলেন, দেশের অর্থনীতি এখনো উচ্চ মূল্যস্ফীতি, বিনিয়োগের স্থবিরতা, জ্বালানি সংকট এবং সীমিত রাজস্ব সক্ষমতার মতো একাধিক চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি রয়েছে।

 

তিনি বলেন, এসব সংকট মোকাবেলায় বিচ্ছিন্ন উদ্যোগ নয়, বরং সমন্বিত নীতি কাঠামো প্রয়োজন। তিনি আরও বলেন, ‘অর্থনীতিকে স্থিতিশীল করতে হলে মুদ্রানীতি, রাজস্বনীতি এবং শিল্পনীতিকে একই লক্ষ্য সামনে রেখে পরিচালিত হতে হবে।’

ড. তিতুমীর উল্লেখ করেন, দীর্ঘদিনের দুর্বল শাসনব্যবস্থা, অনিয়ম ও নীতিগত ত্রুটির কারণে অর্থনীতিতে কাঠামোগত চাপ তৈরি হয়েছে। এর প্রভাব এখনো মূল্যস্ফীতি, ব্যাংক খাতের দুর্বলতা এবং বিনিয়োগে অনিশ্চয়তার মাধ্যমে দৃশ্যমান।

 

তবে ধারাবাহিক সংস্কার ও সুশাসন নিশ্চিত করা গেলে অর্থনীতিকে টেকসই প্রবৃদ্ধির পথে ফিরিয়ে আনা সম্ভব।

রাজস্ব আহরণের প্রসঙ্গে ড. তিতুমীর বলেন, রাজস্ব বাড়াতে হবে শুধু করহার বাড়িয়ে নয়, বরং উৎপাদন ও অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড সম্প্রসারণের মাধ্যমে। তিনি বলেন, একই সঙ্গে কর-জিডিপি অনুপাত বৃদ্ধি করে স্বাস্থ্য, শিক্ষা ও সামাজিক সুরক্ষা খাতে বিনিয়োগের সক্ষমতা তৈরি করতে হবে। তিনি রাজস্ব ব্যবস্থাপনার ডিজিটালাইজেশন, করজাল সম্প্রসারণ এবং কর প্রশাসনে স্বচ্ছতা বৃদ্ধির ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

জ্বালানি খাতের বিষয়ে তিনি বলেন, বিনিয়োগ ও শিল্পায়নের জন্য নিরবচ্ছিন্ন জ্বালানি সরবরাহ অপরিহার্য।

 

এজন্য নবায়নযোগ্য জ্বালানি, বিশেষ করে সৌরশক্তর ব্যবহার সম্প্রসারণ, স্থানীয় উৎপাদন সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং কৌশলগত জ্বালানি মজুদ গড়ে তোলার উদ্যোগ নিতে হবে। তিনি বলেন, ‘জ্বালানি নিরাপত্তা ছাড়া শিল্পায়ন, কর্মসংস্থান ও টেকসই অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি অর্জন সম্ভব নয়।’

ড. তিতুমীর বলেন, অর্থনীতির চূড়ান্ত লক্ষ্য হওয়া উচিত কর্মসংস্থান সৃষ্টি, উৎপাদন বৃদ্ধি এবং মানুষের জীবনমান উন্নয়ন। তিনি বলেন, শুধু প্রবৃদ্ধির হার বাড়লেই হবে না; উন্নয়নের সুফল সাধারণ মানুষের কাছে পৌঁছাতে হবে। এ লক্ষ্য অর্জনে সরকার শিল্প পুনরুজ্জীবন, উৎপাদনমুখী বিনিয়োগ এবং মানবসম্পদ উন্নয়নে গুরুত্ব দিচ্ছে।

সেমিনারে অংশগ্রহণকারী অর্থনীতিবিদ ও ব্যবসায়ী প্রতিনিধিরা বলেন, মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ, বিনিয়োগ পরিবেশ উন্নয়ন এবং অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা অর্জনে নীতিগত ধারাবাহিকতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করা জরুরি। তারা বলেন, একই সঙ্গে রাজস্ব সক্ষমতা বৃদ্ধি, আর্থিক খাতের সংস্কার এবং জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত না হলে দীর্ঘমেয়াদে অর্থনীতির কাঙ্ক্ষিত গতি অর্জন কঠিন হবে।

তারা মনে করেন, মুদ্রানীতি ও রাজস্বনীতির কার্যকর সমন্বয়, উৎপাদনশীল খাতে বিনিয়োগ বৃদ্ধি এবং শিল্পায়নের গতি ত্বরান্বিত করতে পারলেই দেশের অর্থনীতি নতুন গতিপথে এগিয়ে যাবে।

 

’

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

বাংলাদেশি কর্মী নিয়োগ নিয়ে যা বললো মালয়েশিয়া

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

বুধবার, ২ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং

০৪:২৫ পি.এম


বাংলাদেশি কর্মী নিয়োগ নিয়ে যা বললো মালয়েশিয়া

মালয়েশিয়া বাংলাদেশি কর্মী নিয়োগের বিষয়ে যা জানালো

 

মালয়েশিয়া আগামী ছয় মাসের মধ্যে প্রায় ২ লাখ বাংলাদেশি কর্মী নিয়োগের পরিকল্পনা করছে—এমন মন্তব্য বাংলাদেশের এক উপমন্ত্রীর পক্ষ থেকে করা হয়েছে। তবে, মালয়েশিয়া সরকারের সরকারি মুখপাত্র দাতুক সেরি ফাহমি ফাদজিল জানিয়েছেন, এটি সরকারের আনুষ্ঠানিক অবস্থান নয়। তিনি উল্লেখ করেন, ‘মালয়েশিয়ার মানবসম্পদমন্ত্রী দাতুক সেরি আর রামানান তাকে জানিয়েছেন, এই বক্তব্য একজন জুনিয়র মন্ত্রী দিয়েছেন।

সুতরাং, এটি বাংলাদেশ সরকারের আনুষ্ঠানিক ঘোষণা হিসেবে বিবেচনা করা উচিত নয়।’

 

তিনি আরো বলেন, ‘এটি বাংলাদেশ সরকারের আনুষ্ঠানিক সিদ্ধান্তের প্রতিনিধিত্ব করে না। মানবসম্পদমন্ত্রী আমাকে এটাই জানিয়েছেন। তাই এটি কোনো আনুষ্ঠানিক অবস্থান নয়।

 

’এর আগে মঙ্গলবার, বাংলাদেশের স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের উপমন্ত্রী মীর শাহে আলম জানিয়েছিলেন, মালয়েশিয়া আগামী ছয় মাসে প্রায় ২ লাখ বাংলাদেশি কর্মী নিয়োগের পরিকল্পনা করছে। কর্তৃপক্ষের অনুমোদিত প্রতিষ্ঠানগুলোর মাধ্যমে এসব কর্মী নিয়োগ দেওয়া হবে। চলতি সেপ্টেম্বরের শেষ দিকে ধাপে ধাপে নিয়োগ প্রক্রিয়া শুরু হয়ে পরবর্তী ছয় মাসের মধ্যে তা সম্পন্ন করার পরিকল্পনা রয়েছে।

এর আগে গত জুন মাসে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী দাতুক সেরি আনোয়ার ইব্রাহিমকে বাংলাদেশি কর্মীদের জন্য দেশটির শ্রমবাজার পুনরায় খুলে দেওয়ার বিষয়টি বিবেচনার অনুরোধ জানিয়েছিলেন।

 

মালয়েশিয়া ২০২৪ সালে বাংলাদেশি কর্মী নিয়োগে বিধিনিষেধ আরোপ করেছিল শ্রমিকদের শোষণ, ঋণের দায়ে জিম্মি করে রাখা, জোরপূর্বক শ্রমে নিয়োজিত করা এবং প্রতিশ্রুত চাকরি ছাড়াই কর্মীদের মালয়েশিয়ায় পাঠানোর মতো অভিযোগের কারণে।

দেশটির সংবাদমাধ্যম দ্য নিউ স্ট্রেইটস টাইমস 

 জানাচ্ছে, মালয়েশিয়া বিদেশি শ্রমিকের ওপর নির্ভরতা কমানোর উদ্যোগ গ্রহণের সময় নতুন করে বাংলাদেশি কর্মী নিয়োগের এই দাবি সামনে এসেছে। এদিকে, ২০৩০ সালের মধ্যে দেশটির মোট শ্রমশক্তিতে বিদেশি কর্মীর হার প্রায় ১০ শতাংশে নামিয়ে আনার লক্ষ্য রয়েছে সরকারের।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

ফের খেলাপি ঋণ ছাড়াল ৬ লাখ কোটি টাকা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

বুধবার, ২ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং

০৪:২৭ পি.এম


ফের খেলাপি ঋণ ছাড়াল ৬ লাখ কোটি টাকা

বাংলাদেশের ব্যাংক খাতে খেলাপি ঋণের পরিমাণ ৬ লাখ কোটি টাকা ছাড়িয়েছে, যা একটি উদ্বেগজনক প্রবণতা। বিভিন্ন ধরনের সুবিধা প্রদান করার পরও খেলাপি ঋণের এই বৃদ্ধি অব্যাহত রয়েছে। গত জুন মাসের শেষে দেশে খেলাপি ঋণের পরিমাণ আবারও ৬ লাখ কোটি টাকার সীমা অতিক্রম করেছে।

 

গত বছরের সেপ্টেম্বর মাসে প্রথমবারের মতো ব্যাংক খাতের খেলাপি ঋণ ৬ লাখ কোটি টাকায় পৌঁছেছিল। বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, জুন ২০২৬ শেষে ব্যাংক খাতের শ্রেণিকৃত বা খেলাপি ঋণের পরিমাণ ৬ লাখ ৬ হাজার ৫৫৫ কোটি টাকায় দাঁড়িয়েছে। এটি ব্যাংকগুলোর মোট বিতরণ করা ঋণের ৩২ দশমিক ৭৮ শতাংশ।

এর আগে মার্চ ২০২৬ শেষে খেলাপি ঋণের পরিমাণ ছিল ৫ লাখ ৮৮ হাজার ৭০৪ কোটি টাকা।

 

তথ্য অনুযায়ী, ওই সময় মোট বিতরণ করা ঋণের ৩২ দশমিক ২৬ শতাংশ ছিল শ্রেণিকৃত ঋণ। মার্চ থেকে জুন—এই তিন মাসের মধ্যে খেলাপি ঋণ বেড়েছে ১৭ হাজার ৮৫১ কোটি টাকা। একই সময়ে খেলাপি ঋণের হারও বেড়েছে শূন্য দশমিক ৫২ শতাংশীয় পয়েন্ট।

এদিকে চলতি বছরের প্রথম ছয় মাসে ব্যাংক খাতে খেলাপি ঋণ বেড়ে ৪৯ হাজার ৩৩৮ কোটি টাকা হয়েছে।

 

বছরের শুরুতে খেলাপি ঋণের পরিমাণ ছিল ৫ লাখ ৫৭ হাজার ২১৭ কোটি টাকা। ছয় মাসের ব্যবধানে তা বেড়ে ৬ লাখ ৬ হাজার ৫৫৫ কোটি টাকায় পৌঁছেছে।

ব্যাংক খাতে খেলাপি ঋণ কমানোর জন্য ঋণ পুনঃতফসিল, পুনর্গঠনসহ বিভিন্ন সুবিধা প্রদান করা হলেও এর ফলাফল কাঙ্ক্ষিত মাত্রায় দেখা যাচ্ছে না। বরং ঋণ আদায়ে দুর্বলতা এবং নতুন করে ঋণ খেলাপি হওয়ার কারণে সামগ্রিক খেলাপি ঋণের পরিমাণ বৃদ্ধি পাচ্ছে।

জুন মাস শেষে মোট বিতরণ করা ঋণের প্রায় এক-তৃতীয়াংশ খেলাপি হওয়ায় ব্যাংক খাতের ঋণের মান নিয়ে নতুন উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।

 

যদি খেলাপি ঋণ বৃদ্ধি অব্যাহত থাকে, তাহলে ব্যাংকের আয়, মূলধন এবং সামগ্রিক আর্থিক স্থিতিশীলতার ওপর চাপ সৃষ্টি হতে পারে।

 

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

জলবায়ুসংকট মোকাবিলায় আজকের পদক্ষেপই আগামীর নিরাপত্তা: পরিবেশমন্ত্রী

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

বুধবার, ২ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং

০৪:৩৪ পি.এম


জলবায়ুসংকট মোকাবিলায় আজকের পদক্ষেপই আগামীর নিরাপত্তা: পরিবেশমন্ত্রী

পরিবেশমন্ত্রী আবদুল আউয়াল মিন্টু বলেছেন, "জলবায়ুসংকট মোকাবেলায় আজকের পদক্ষেপই আগামীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করবে।" তিনি উল্লেখ করেন, পরিবেশ সুরক্ষা, সামাজিক উন্নয়ন এবং অর্থনৈতিক অগ্রগতির সমন্বয়ের মাধ্যমে পরিবেশবান্ধব অর্থনীতি গড়ে তোলা সম্ভব হলে টেকসই উন্নয়ন নিশ্চিত করা যাবে।

আজ বুধবার রাজধানীর আগারগাঁওয়ে পরিবেশ অধিদপ্তরের অডিটরিয়ামে অনুষ্ঠিত ‘বিশ্ব পরিবেশ দিবস ও পরিবেশ মেলা ২০২৬-এর সমাপনী ও পুরস্কার বিতরণ’ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এই মন্তব্য করেন।

মন্ত্রী বলেন, "একবিংশ শতাব্দীর টেকসই উন্নয়নের চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় পরিবেশবান্ধব অর্থনীতি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে।" তিনি আরও বলেন, সর্বনিম্ন কার্বন নিঃসরণ, সম্পদের সুষ্ঠু ব্যবহার, দূষণমুক্ত উৎপাদন ব্যবস্থা এবং সবুজ কর্মসংস্থান সৃষ্টির মাধ্যমে টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা অর্জন সম্ভব।

তিনি সতর্ক করে বলেন, বৈশ্বিক উষ্ণায়নের কারণে সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধি, উপকূলীয় এলাকায় লবণাক্ততা, ঘূর্ণিঝড়, জলোচ্ছ্বাস, আকস্মিক বন্যা, অতিবৃষ্টি, অনাবৃষ্টি, দাবদাহ এবং খরাসহ বিভিন্ন প্রাকৃতিক দুর্যোগের প্রকোপ ও তীব্রতা বৃদ্ধি পাচ্ছে।

বাংলাদেশের মতো উপকূলীয় এবং নিম্নাঞ্চলীয় দেশের জন্য এসব ঝুঁকি গভীর উদ্বেগের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে।

মন্ত্রী জানান, সরকারের পক্ষ থেকে দীর্ঘ মেয়াদে জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবেলার জন্য জাতীয় অভিযোজন পরিকল্পনা (ন্যাপ) ২০২৩-২০৫০ প্রণয়ন করা হয়েছে। পাশাপাশি জাতীয়ভাবে নির্ধারিত অবদান (এনডিসি ৩.০) প্রণয়ন করে গ্রিনহাউস গ্যাস নিঃসরণ হ্রাসের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। জলবায়ু ঝুঁকি মোকাবেলায় দীর্ঘমেয়াদি স্বল্প-নিঃসরণ উন্নয়ন কৌশল প্রণয়ন এবং আন্তর্জাতিক জলবায়ু অর্থায়ন ও অংশীদারত্ব জোরদারেও সরকার কাজ করছে।

মন্ত্রী বলেন, "টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা অর্জনের সঙ্গে পরিবেশ, প্রতিবেশ, জীববৈচিত্র্য ও জলবায়ু পরিবর্তনের বিষয়গুলো ওতপ্রোতভাবে জড়িত।" উন্নয়নের প্রতিটি ক্ষেত্রে পরিবেশ সুরক্ষা নিশ্চিত করা আবশ্যক।

তিনি বলেন, সরকারের পাশাপাশি জনগণের সচেতন অংশগ্রহণের মাধ্যমেই একটি সবুজ, নিরাপদ ও বাসযোগ্য বাংলাদেশ গড়ে তোলা সম্ভব।

ভবিষ্যৎ প্রজন্মের মধ্যে পরিবেশ সচেতনতা ও মূল্যবোধ গড়ে তোলার ওপর গুরুত্বারোপ করে পরিবেশমন্ত্রী বলেন, শিশু-কিশোরদের ছোটবেলা থেকেই প্রকৃতির প্রতি ভালোবাসা, পলিথিন ব্যবহার পরিহার, শব্দদূষণ রোধ, বিদ্যুৎ ও পানির সাশ্রয়ী ব্যবহার এবং বৃক্ষ ও জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণে সচেতন করে তুলতে হবে।

তিনি বিশ্ব পরিবেশ দিবস ২০২৬ উপলক্ষে আয়োজিত বিভিন্ন প্রতিযোগিতার বিজয়ী ও পরিবেশ মেলায় অংশগ্রহণকারী শ্রেষ্ঠ স্টলের পুরস্কারপ্রাপ্তদের অভিনন্দন জানান।

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে মন্ত্রণালয়ের ভারপ্রাপ্ত সচিব ড. ফাহমিদা খানম বলেন, "জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব এখন চরম বাস্তব।" সাম্প্রতিক সময়ে নেপালের ঘটনা এই বাস্তবতার বাইরে নয়। বৈশ্বিক তাপমাত্রা বৃদ্ধির ফলে গ্লেসিয়ার গলে এই ভয়াবহ বন্যা দেখা দিয়েছে।

তিনি বলেন, বাংলাদেশেও ফ্ল্যাশ ফ্লাড বা হঠাৎ বন্যা বেড়ে গেছে। এখন শুধু হাওর বা নিচু অঞ্চলেই বন্যা হচ্ছে না বরং পাহাড়ি অঞ্চলেও হচ্ছে। তাপমাত্রা বৃদ্ধির প্রভাব মোকাবেলায় অভিযোজন প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে অগ্রিম সতর্কতা জারি কৃষির ক্ষতি ও স্বাস্থ্য ঝুঁকি কমাতে ইতিবাচক ফল দেবে।

অনুষ্ঠানে বিশ্ব পরিবেশ দিবস ২০২৬ উপলক্ষে গৃহীত বিভিন্ন কর্মসূচির তথ্যচিত্র প্রদর্শন করা হয় এবং বিভিন্ন প্রতিযোগিতার বিজয়ী ও পরিবেশ মেলায় অংশগ্রহণকারী শ্রেষ্ঠ স্টলের মধ্যে পুরস্কার, ক্রেস্ট, সনদ ও প্রাইজমানি বিতরণ করা হয়।

পরিবেশ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক ড. মো. লুৎফর রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে মন্ত্রণালয় ও পরিবেশ অধিদপ্তরের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাবৃন্দ, বিভিন্ন প্রতিযোগিতার বিজয়ী ও তাদের অভিভাবকবৃন্দ, সুশীল সমাজের প্রতিনিধি, প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ার সাংবাদিক এবং অন্যান্য সুধীবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন

 

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ১৭ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪৬
জোহর ১১:৪৩
আসর ০৩:৪৬
মাগরিব ০৫:২২
ইশা ০৬:৩৪
সূর্যোদয় : ০৬:০২ সূর্যাস্ত : ০৫:২২
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%