ঢাকা বৃহস্পতিবার, ২৯শে অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ১৩ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ১৮ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
বৃহস্পতিবার, ২৯শে অক্টোবর, ২০২৬ইং ১৩ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

মতপার্থক্য থাকতে পারে, ঐক্য যেন নষ্ট না হয়: তারেক রহমান


মতপার্থক্য থাকতে পারে, ঐক্য যেন নষ্ট না হয়: তারেক রহমান

বিএনপির চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান স্থানীয় নেতাকর্মীদের কাছে আহ্বান জানিয়েছেন, বিগত ১৭ বছরের মতো ঐক্যবদ্ধ থাকতে। তিনি এ বিষয়ে বলেছেন যে, মতপার্থক্য থাকতে পারে, কিন্তু ঐক্য নষ্ট হলে চলবে না। যেভাবে তারা বিগত সময়ে ঐক্যবদ্ধ ছিলেন, সেভাবে আগামীতেও ঐক্য ধরে রাখতে হবে। বিগত নির্বাচনে দলকে যেভাবে ঐক্যবদ্ধভাবে জিতিয়ে আনা হয়েছে, আগামী স্থানীয় সরকার নির্বাচনে সেরকমই ঐক্যবদ্ধ হয়ে দলকে জিতিয়ে আনতে হবে। ঐক্য থাকলে ফ্যাসিস্ট বা গুপ্ত কেউ ঢুকতে পারবে না বা সুবিধা নিতে পারবে না। কিন্তু যদি ঐক্যে ফাটল সৃষ্টি হয়, তাহলে তাদের সুযোগ তৈরী হবে।

সোমবার (১৩ জুলাই) বিকেলে বরিশাল শিল্পকলা একাডেমিতে বিএনপির স্থানীয় নেতাকর্মীদের নিয়ে আয়োজিত সাংগঠনিক সভায় তিনি এইসব কথা বলেন।

বিগত ১৭ বছরের স্মৃতিচারণ করতে গিয়ে নেতাকর্মীদের তিনি বলেন, ‘আপনারা গত ১৭ বছরে দলকে টিকিয়ে রেখেছেন। গুম, খুন, নির্যাতনের শিকার হয়ে আপনাদের সবাইকে দলের জন্য সংগ্রাম করতে হয়েছে। এই সময় আপনারা নিজের পরিবারের চেয়ে বেশি সময় এবং উৎসর্গ করেছেন। টেনশন ও যন্ত্রণা সকলেই পেয়েছেন, কিন্তু নিজের জন্য কি তা করেছেন? না। এভাবে দেশে সব বিএনপি নেতাকর্মী ত্যাগ স্বীকার করেছেন। এখন সেই নির্যাতনের ভয় নেই। কিন্তু ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে।’

আরও পড়ুন: রাষ্ট্রপতির সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করলেন মাভাবিপ্রবি উপাচার্য

এ সময় তিনি হাইব্রিড ও গুপ্তদের বিষয়ে সতর্ক করে বিএনপির চেয়ারম্যান বলেন যে, নির্বাচনের আগে অনেক ষড়যন্ত্র হয়েছে এবং তারা এখনও সক্রিয়। আরেকটি গ্রুপ দেশের বাইরেও ষড়যন্ত্র চালাচ্ছে। তাই দলকে সুসংগঠিত করতে হবে। হাইব্রিড ও গুপ্তদের বিষয়ে খেয়াল রাখতে হবে যাতে তারা দলের নেতৃত্বে ঢুকতে না পারে।

নেতাকর্মীদের ত্যাগের জন্য বিএনপি সরকার গঠন করতে পেরেছে উল্লেখ করে তিনি বললেন, ‘আপনাদের কি চান? আপনাদের দল দেশ পরিচালনার দায়িত্বে থাকুক? তাহলে তৃণমূলে ঐক্য থাকতে হবে। তৃণমূলকে শক্তিশালী করতে হবে। আপনারাই বিএনপিকে ক্ষমতায় এনেছেন।’

স্থানীয় সরকার নির্বাচনের আগে নেতাকর্মীদের ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানিয়ে দলীয় প্রধান বলেন, স্থানীয় সরকার নির্বাচনের জন্য অনেক প্রস্তুতির প্রয়োজন। কিন্তু সেটি কি আপনাদের আছে? নেই। প্রস্তুতি ছাড়া জিততে পারবেন? না। তাই সরকার চলতে পারবে? স্থানীয় সরকার নির্বাচন অবশ্যই হবে। বর্ষার পর আলোচনা করে ঠিক করা হবে। এর আগে আপনাদের ঐক্যবদ্ধ হতে হবে। আপনারা সিদ্ধান্ত নেবেন কে চেয়ারম্যান, কে সদস্য হবেন এবং কে দল চালাবেন। আমরা দল নিয়ে সামনে চলতে চাই।

হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের বড় ধর্মীয় অনুষ্ঠানকে কেন্দ্র করে কোন অপ্রীতিকর ঘটনা যাতে না ঘটে, সে বিষয়ে নির্দেশনা দিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আগামী কয়েকদিন পর হিন্দুদের এই বড় ধর্মীয় অনুষ্ঠান। যারা এখানে আছেন তাদের বলছি, আর যারা আসেননি, আপনারা তাদেরও বলবেন— তাদের ধর্মীয় অনুষ্ঠান যেকোন মূল্যে শান্তিপূর্ণভাবে সফল করতে হবে। যেন কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটাতে না পারে। কেউ যেন সেই সুযোগ না পায়।

আরও পড়ুন: ক্ষমতা হারালেই কি গ্রেফতার হবেন নেতানিয়াহু?

বক্তব্যের শুরুতে বিগত ১৭ বছরের দুর্নীতি, অনিয়ম ও উন্নয়নের নামে লুটপাটের চিত্র তুলে ধরে তিনি বলেন, ‘গত ১৭ বছরে এত উন্নয়ন, উন্নয়ন বলতে শুনতাম। কিন্তু আসলে উন্নয়ন কোথায় হয়েছে? হয়েছে, তবে সেটি যারা ক্ষমতায় তারা নিজেদের পকেটে। সেসব উন্নয়ন কোনো কাজে আসছে না। সব ক্ষেত্রেই তারা ধ্বংস করে দিয়েছে।’

উন্নয়নের নামে হাজার হাজার কোটি টাকা পাচার হওয়ার কথা উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘পদ্মা সেতু নির্মাণে ৫৪ হাজার কোটি টাকা খরচ হয়েছে, অথচ পদ্মা সেতুর সমমানের ভূপেন হাজারিকা সেতু নির্মাণে খরচ হয়েছে মাত্র ১৪ হাজার কোটি টাকা। রূপপুর প্রকল্পেও অস্বাভাবিকভাবে খরচ বেড়ে গেছে। অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সময় বিশিষ্ট অর্থনীতিবিদ ড. দেবপ্রিয় ভট্টাচার্যের প্রকাশিত শ্বেতপত্রে দেখা গেছে, গত ১৭ বছরে প্রতি বছর ১৬ হাজার কোটি টাকা বিদেশে পাচার হয়েছে।’

‘উন্নয়ন মানেই কি শুধু রাস্তা-ঘাট করা?’ এমন প্রশ্ন রেখে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘বিভিন্ন জেলায় জলাবদ্ধতা হচ্ছে কেন? ঢাকা শহরে বড় বড় ফ্লাইওভার নির্মাণ করা হয়েছে, কিন্তু ড্রেন ও খাল ভরাট হয়ে গেছে। তাই সব জায়গায় জলাবদ্ধতা হচ্ছে। উন্নয়ন হবে, আমরা করব। কিন্তু উন্নয়ন মানেই কি শুধু রাস্তা-ঘাট? আমরা উপজেলা পর্যায়ের ৫১ শয্যার হাসপাতালগুলোকে ১০১ শয্যায় উন্নীত করার কাজ হাতে নিয়েছি। উপজেলা পর্যায়ে হাসপাতাল প্রতিষ্ঠার ভিত্তি রেখেছিলেন শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান। পরে খালেদা জিয়ার সরকার সেগুলো ৫১ শয্যায় উন্নীত করেছিলেন। আমরা এগুলোকে ১০১ শয্যায় উন্নীত করব। বিশেষ করে অসুস্থ হলে শিশুদের খুব কষ্ট হয়, তাই সারা দেশে এক হাজারটি শিশু হাসপাতাল তৈরি করব। উন্নয়ন বলতে শুধু রাস্তা-ঘাট নয়, স্বাস্থ্য, শিক্ষা, শিশু চিকিৎসা, খাল খনন—সবই উন্নয়ন।’

দেশের চরম সংকটকালীন সময়ে বিএনপি সরকার দায়িত্ব গ্রহণ করে। এরপর আরও কয়েকটি জটিল পরিস্থিতির মোকাবিলা করতে হয়। এসব প্রসঙ্গ টেনে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘কী অবস্থায় আমরা দায়িত্ব নিয়েছি, সে সম্পর্কে আপনাদের খুব ভালো ধারণা আছে। ব্যাংকিং খাত দুর্বল করা হয়েছে, চিকিৎসা খাতও নাজুক। মহানগর ও জেলায় যারা আছেন, তারা কিছুটা স্বাস্থ্যসেবা পাচ্ছেন। তবে উপজেলা পর্যায়ের অবস্থা খুবই খারাপ। স্বাস্থ্যব্যবস্থা ধ্বংস করা হয়েছে। শিক্ষা ব্যবস্থা এমন জায়গায় নিয়ে যাওয়া হয়েছে যে আমাদের সনদের বিদেশে কোনো মূল্য নেই। শিক্ষিতরাই সবচেয়ে বেশি বেকার। অল্প শিক্ষিতরা তবুও কিছু কাজ করতে যাচ্ছে। এসব কাজ হওয়া উচিত ছিল। কিন্তু এগুলো না হওয়ার কারণ হল জবাবদিহির অভাব। জবাবদিহি বলতে নির্দিষ্ট সময় পর পর নির্বাচন হবে, মানুষ ভোট দিয়ে তাদের শাসক নির্বাচন করবে। গত ১৭ বছরে সেই জবাবদিহির ব্যবস্থা ধ্বংস করা হয়েছে।’

আরও পড়ুন: হাসিনার পতনের আগে ইউনূসকে দায়িত্ব নেওয়ার আহ্বান করেন শফিকুল আলম

তিনি বলেন, ‘এমন ধ্বংসপ্রাপ্ত অবস্থায় আমরা দায়িত্ব নিয়েছি। আমরা বলেছিলাম ফ্যামিলি কার্ড দেব, দিয়েছি। কৃষক কার্ড দেব, সেটিও শুরু করেছি। যা যা প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলাম, সেসব বাস্তবায়নে কাজ শুরু করেছি। পরিকল্পনা ছিল বলেই কাজ শুরু করতে পেরেছি। আমরা দায়িত্ব গ্রহণ করেছি ফেব্রুয়ারিতে। তার একদিন পরই রমজান শুরু হয়। সেই রমজানে আমরা নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসপত্রের দাম বাড়তে দিইনি। মানুষ তুলনামূলক স্বস্তিতে রমজান কাটিয়েছে। এরপর মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ শুরু হলো। তখন বিশ্ববাজারে তেলের দাম বেড়ে গেল, সরবরাহ কমে গিয়েছে। ফলে আমাদের অতিরিক্ত আড়াই বিলিয়ন ডলার, অর্থাৎ প্রায় ২৫ হাজার কোটি টাকা বেশি ব্যয় করতে হয়েছে।’

উদাহরণ টেনে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘এক পরিবারে পাঁচজন বিভিন্ন কাজ করলে একজনের দায়িত্ব যদি ঘর গুছিয়ে রাখা হয়, কিন্তু সবাই মিলে ঘর নোংরা করে, তাহলে সেই একজন সবার ময়লা পরিষ্কার করতে সক্ষম হবেন না। সবাই মিলেই পরিষ্কার রাখলে ময়লাও কম হবে। নেতাকর্মীদের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, পরিবার যেমন, দেশও তেমন। আপনারা বর্তমানে দেশ পরিচালনার দায়িত্বে আছেন। তাই আপনাদের বুঝেশুনে কাজ করতে হবে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

ইউরোপের তাপপ্রবাহে ১০ হাজারের বেশি মানুষের মৃত্যু

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

মঙ্গলবার, ১৪ই জুলাই, ২০২৬ ইং

০৫:৩৭ এম


ইউরোপের তাপপ্রবাহে ১০ হাজারের বেশি মানুষের মৃত্যু

গত জুনের শেষভাগে ইউরোপের পশ্চিমাঞ্চলে বয়ে যাওয়া রেকর্ড-ভাঙা তীব্র তাপপ্রবাহের কারণে মহাদেশটির বিভিন্ন দেশে ১০ হাজারেরও বেশি মানুষের অতিরিক্ত মৃত্যু ঘটেছে। সম্প্রতি প্রকাশিত সরকারি পরিসংখ্যান থেকে এই ভয়াবহ চিত্র সামনে এসেছে।

ইউরোপীয় সেন্টার ফর ডিজিজ প্রিভেনশন অ্যান্ড কন্ট্রোল এবং বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (ডব্লিউএইচও) অর্থায়নে পরিচালিত নেটওয়ার্ক ‘ইউরোমমো’ এই তথ্যটি প্রকাশ করেছে। তাদের দেওয়া উপাত্তের অনুযায়ী, এই অতিরিক্ত মৃত্যুর সিংহভাগই—অর্থাৎ প্রায় ৯ হাজারেরও বেশি—৬৫ বছর বা তার বেশি বয়সি প্রবীণদের মধ্যে ঘটেছে। অতিরিক্ত গরমের কারণে সাধারণত হিট স্ট্রোক ছাড়াও হৃদরোগ এবং শ্বাসকষ্টজনিত সমস্যা মারাত্মক আকার ধারণ করতে পারে, যার বড় শিকার হন মূলত বয়োবৃদ্ধরা।

ডেনমার্কের স্টেটেন্স সিরাম ইনস্টিটিউটের প্রধান চিকিৎসক লাসে ভেস্টারগার্ড, ইউরোমমো-এর আয়োজক সংস্থা, রয়টার্সকে বলেন, “বছরের এই সময়ে এসে এ ধরনের এবং এত বিপুল সংখ্যক অতিরিক্ত মৃত্যু একেবারেই অস্বাভাবিক।” এই উচ্চ মৃত্যুহারের পেছনে তীব্র দাবদাহ ছাড়া অন্য কোনো কারণ দেওয়ার ব্যাখ্যা কঠিন বলেও মন্তব্য করেছেন তিনি।

জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব ছাড়া জুনের শেষের এই তাপপ্রবাহের তীব্রতা কার্যত অসম্ভব ছিল, বিজ্ঞানীদের মতে। বৈশ্বিক জলবায়ু পরিবর্তনের কারণেই এখন বিশ্বজুড়ে তাপপ্রবাহ আরও ঘন ঘন এবং তীব্র রূপ নিচ্ছে।

ইউরোপের ২৭টি দেশের জাতীয় মৃত্যুর পরিসংখ্যান থেকে সংগৃহীত এই উপাত্তে মূলত ২২ থেকে ২৮ জুন পর্যন্ত বিভিন্ন ধরনের অতিরিক্ত মৃত্যুকে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। এই সপ্তাহের মধ্যেই ফ্রান্স, স্পেন ও ব্রিটেনের মতো দেশগুলোতে গরমের তীব্রতা চরম আকার ধারণ করেছিল।

বিজ্ঞানীরা জানিয়েছেন, ওই নির্দিষ্ট সপ্তাহে কোনো বড় ধরনের কোভিড-১৯ প্রাদুর্ভাব বা অন্য কোনো বিশেষ মহামারি ছিল না। ফলে ১০,৬৫০ জনের এই অতিরিক্ত মৃত্যুর পেছনে মূল কারণ যে তীব্র তাপপ্রবাহ, তা অনেকটাই স্পষ্ট।

এর আগে টানা আট সপ্তাহজুড়ে এই দেশগুলোতে মৃত্যুর গড় হার স্বাভাবিক মাত্রার চেয়ে প্রতি সপ্তাহে প্রায় ৫০০ জন কম ছিল। জুনের শেষ সপ্তাহের এই তীব্র দাবদাহে ইউরোপের বিদ্যুৎ সরবরাহ ব্যাহত হয়েছিল, বন্ধ করে দেওয়া হয়েছিল স্কুল এবং ফ্রান্স, স্পেন ও যুক্তরাজ্যের মতো দেশগুলোতে তাপমাত্রার আগের সব রেকর্ড ভেঙে গিয়েছিল।

ইউরোমমো আলাদাভাবে প্রতিটি দেশের অতিরিক্ত মৃত্যুর সুনির্দিষ্ট সংখ্যা প্রকাশ না করলেও জানিয়েছে, জুনের শেষ সপ্তাহে ফ্রান্স এবং বেলজিয়ামে অত্যন্ত উচ্চ মাত্রার অতিরিক্ত মৃত্যু রেকর্ড করা হয়েছে। বেলজিয়ামের পাবলিক হেলথ ইনস্টিটিউট ‘সায়েনসানো’-এর মতে, ২০০০ সালের পর থেকে রেকর্ড করা যেকোনো তাপপ্রবাহের তুলনায় এবারই দেশটিতে সবচেয়ে বেশি অতিরিক্ত মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছে।

এদিকে, সোমবার (১৩ জুলাই) প্রকাশিত পৃথক এক বৈজ্ঞানিক গবেষণায় দেখা গেছে, মে ও জুন মাসের তাপপ্রবাহের কারণে শুধুমাত্র ইংল্যান্ড এবং ওয়েলসেই আনুমানিক ২,৭০০ মানুষের মৃত্যু হয়েছে। ইম্পেরিয়াল কলেজ লন্ডন, ইউকে মেট অফিস এবং লন্ডন স্কুল অব হাইজিন অ্যান্ড ট্রপিক্যাল মেডিসিন-এর যৌথ গবেষণায় উঠে এসেছে যে এই মৃত্যুর প্রায় ৪২ শতাংশেরই মূল কারণ ছিল বৈশ্বিক উষ্ণায়নের ফলে তৈরি হওয়া অতিরিক্ত তাপমাত্রা।

সূত্র: রয়টার্স।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

পিতার স্মরণসভায় কি প্রকাশ্যে আসবেন মোজতবা খামেনি? জানা যাবে আগামী সপ্তাহে

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

মঙ্গলবার, ১৪ই জুলাই, ২০২৬ ইং

০৫:৪৪ এম


পিতার স্মরণসভায় কি প্রকাশ্যে আসবেন মোজতবা খামেনি? জানা যাবে আগামী সপ্তাহে

যুদ্ধের শুরুতে মার্কিন ও ইসরাইলি বিমান হামলার ফলে আহতের পর থেকে অনুপস্থিত থাকা ইরানের নতুন সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনি সম্প্রতি জনসমক্ষে আসতে পারেন। ধর্মীয় নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির স্মরণসভায় আগামী সপ্তাহে তেহরানে তার উপস্থিতির সম্ভাবনা নিয়ে ব্যাপক আলোচনা হয়েছে।

ইরানি গণমাধ্যম সূত্র জানিয়েছে, ২৮ ফেব্রুয়ারি বিমান হামলায় তার পরিবারের অন্যান্য সদস্যদের সঙ্গে নিহত হওয়া ৮৬ বছর বয়সি সাবেক শীর্ষ নেতার স্মরণসভাটি তার উত্তরসূরির পক্ষ থেকে আয়োজন করা হচ্ছে।

ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা ইরনা সামাজিক মাধ্যমে জানিয়েছে, শহীদ নেতার স্মরণে ইসলামিক বিপ্লবের বর্তমান নেতা মোজতবা খামেনি মঙ্গলবার (১৪ জুলাই) তেহরানের মুসাল্লায় বিকেল ৫টা থেকে সন্ধ্যা ৭টা পর্যন্ত একটি বিশেষ স্মরণসভা অনুষ্ঠিত হবে।

গত সপ্তাহে আলী খামেনির মৃত্যুতে দেশের ইতিহাসে অন্যতম বৃহত্তম জানাজা ও শোক মিছিল অনুষ্ঠিত হলেও সেখানেই নতুন শীর্ষ নেতাকে দেখা যায়নি, যা সবার মনে বড় প্রশ্ন তৈরি করেছে। তেহরানের ইমাম খোমেনী গ্র্যান্ড মুসাল্লায় অনুষ্ঠিত সেই বিশাল জানাজায় মোজতবার তিন ভাই মোস্তফা, মেসাম এবং মাসুদ খামেনিকে তাদের পিতা, বোন, ভগ্নিপতি, ভাইয়ের স্ত্রী এবং ১৪ মাস বয়সি এক নাতনির কফিনের পাশে দাঁড়িয়ে জানাজার নেতৃত্ব দিতে দেখানো হয়েছিল।

আলী খামেনির জানাজার কারণে তেহরানসহ অন্যান্য প্রধান শহরের রাস্তাঘাট ও আকাশসীমা বন্ধ করে দেওয়া হয়েছিল এবং স্বাভাবিক জীবনযাত্রা বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে। পশ্চিমাবিশ্বের সঙ্গে দীর্ঘস্থায়ী সংঘাতের মধ্যে ইরানকে কঠোরভাবে নেতৃত্ব দেওয়া এই নেতার শেষ বিদায়ে লাখ লাখ শোকার্ত মানুষ রাস্তায় নেমে আসেন।

পিতার মৃত্যুর পর ইরানের সর্বোচ্চ ক্ষমতা লাভ করার পরও মোজতবা খামেনি জনসমক্ষে আসেননি। যুদ্ধ শুরুর দিকে আকস্মিক হামলায় তিনি আহত হয়েছিল, এবং তার পর থেকে নিজেকে সম্পূর্ণ আড়ালে রেখেছেন।

এমতাবস্থায়, চলতি সপ্তাহে পিতার এই রাষ্ট্রীয় স্মরণসভায় নতুন সর্বোচ্চ নেতা যোগ দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিলে, ইরানের সর্বোচ্চ পদে আসীন হওয়ার পর এটি তার প্রথম আনুষ্ঠানিক এবং ঐতিহাসিক জনসমক্ষে উপস্থিতি হবে।

সূত্র: এনডিটিভি।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

খামেনিসহ সব হত্যার বিচার নিশ্চিত করবে ইরান

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

মঙ্গলবার, ১৪ই জুলাই, ২০২৬ ইং

০৫:৫১ এম


খামেনিসহ সব হত্যার বিচার নিশ্চিত করবে ইরান

ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘেই বলেছেন, প্রয়াত সর্বোচ্চ নেতা আলি খামেনিসহ নিহত প্রত্যেক নাগরিকের হত্যাকাণ্ডের বিচার নিশ্চিত করা সরকারের একটি গুরুত্বপূর্ণ নীতি। তিনি তেহরানে এক সংবাদ সম্মেলনে এ কথা বলেন।

এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরা।

তিনি আরও বলেন, ‘এটি সরকারের স্পষ্ট দায়িত্ব। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ও এই প্রক্রিয়ার অংশ’।

তিনি আরো উল্লেখ করেছেন, ‘যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের কথিত অপরাধের প্রমাণ নথিভুক্ত করতে এবং বিচার নিশ্চিত করতে আন্তর্জাতিক আইন ও কূটনৈতিক সব ধরনের সুযোগ-সুবিধা কাজে লাগাবে ইরান।’

এ ছাড়া বাঘেই আরও জানান, হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল বিষয়ে ওমানের সঙ্গে একটি যৌথ ব্যবস্থা গড়ে তুলতে চায় ইরান। তবে যুক্তরাষ্ট্রের চাপের কারণে মাসকাটের সঙ্গে এ বিষয়ে অগ্রগতি বাধাগ্রস্ত হচ্ছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

বিশ্বকাপ ট্রফি কাদের হাতে উঠবে, চার সেমিফাইনালিস্টের বিশ্লেষণ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

স্পোর্টস ডেস্ক

মঙ্গলবার, ১৪ই জুলাই, ২০২৬ ইং

০৬:০৩ এম


বিশ্বকাপ ট্রফি কাদের হাতে উঠবে, চার সেমিফাইনালিস্টের বিশ্লেষণ

আর্জেন্টিনা, ইংল্যান্ড, ফ্রান্স এবং স্পেন—শিরোপা জয় থেকে মাত্র দুটি ম্যাচ দূরে থাকা এই চার সেমিফাইনালিস্টের এ পর্যন্ত পারফরম্যান্স কেমন ছিল, তা তুলনা করে দেখার চেষ্টা হয়েছে এই প্রতিবেদনে। এর ফলে একটা ধারণা পাওয়া যেতে পারে যে এই সপ্তাহের শেষে কার হাতে উঠে যাবে বিশ্বকাপ ট্রফি।

চারটি দলই এ পর্যন্ত ছয়টি করে ম্যাচ খেলেছে। তবে ফ্রান্স ও স্পেনের তুলনায় আর্জেন্টিনা অতিরিক্ত সময়ে ম্যাচ গড়ানোর কারণে এক ঘণ্টা বেশি ফুটবল খেলেছে (এবং ইংল্যান্ড খেলেছে আধ ঘণ্টা বেশি)। তাই দলগুলোর পারফরম্যান্সের প্রকৃত চিত্র তুলে ধরতে আমরা তাদের খেলার মোট সময়কে বিবেচনায় নিয়েছি।

বর্তমান চ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনা সবচেয়ে বেশি গোল (১৭টি) করলেও, সার্বিকভাবে আক্রমণে সবচেয়ে সেরা দল ছিল দুইবারের বিশ্বকাপজয়ী ফ্রান্স। কারণ প্রতি ৯০ মিনিটে তাদের গোলের গড়, যৌথভাবে সবচেয়ে বেশি শট এবং এক্সপেক্টেড গোল (Expected Goals) ছিল সর্বোচ্চ।

দক্ষিণ আমেরিকান দলটি সবচেয়ে নিখুঁতভাবে সুযোগ কাজে লাগিয়েছে (clinical), তারা নিজেদের তৈরি করা সুযোগের ১৮% গোলে রূপান্তর করেছে। অন্যদিকে ইউরোপিয়ান চ্যাম্পিয়ন স্পেনের ক্ষেত্রে ঘটেছে ঠিক উল্টোটা। সেমিফাইনাল প্রতিপক্ষ ফ্রান্সের সমান ১১০টি শট নিয়েও স্পেন গোল করতে পেরেছে মাত্র ১১টি, যেখানে ফ্রান্স করেছে ১৬টি। অর্থাৎ ফ্রান্সের চেয়ে তারা প্রতি ম্যাচে প্রায় একটি করে গোল কম করেছে।

শটের সংখ্যা এবং মান—উভয় দিক বিবেচনা করলে ইংল্যান্ড বাকি তিন দলের চেয়ে কম সৃজনশীল ফুটবল খেলেছে। তবে জুড বেলিংহাম এবং হ্যারি কেইনের নিখুঁত ফিনিশিংয়ের কল্যাণে তারা প্রতি ম্যাচে গড়ে দুটি করে গোল করতে পেরেছে।

রক্ষণের দিক থেকে স্পেন সবচেয়ে শক্ত অবস্থানে ছিল। কোয়ার্টার ফাইনালে বেলজিয়ামের বিরুদ্ধে জয়ের আগ পর্যন্ত তারা টুর্নামেন্টে কোনো গোলই হজম করেনি। অবশ্য ফ্রান্সও কম যায়নি, ছয় ম্যাচে তারা গোল খেয়েছে মাত্র দুটি।

ফ্রান্সের আক্রমণভাগ যেভাবে অপ্রতিরোধ্য রূপ ধারণ করেছে, তাতে মঙ্গলবারের লড়াইয়ে তাদের সেই "অদম্য শক্তি" নাকি স্পেনের "দুর্ভেদ্য প্রাচীর" জয়ী হয়—তা দেখাটা বেশ রোমাঞ্চকর হবে।

ইংল্যান্ড ও আর্জেন্টিনার মধ্যকার অন্য সেমিফাইনালটিতে বেশি গোল হওয়ার ভালো সম্ভাবনা রয়েছে, কারণ কোনো দলই রক্ষণভাগে তেমন একটা নজরকাড়া পারফরম্যান্স দেখাতে পারেনি।

উভয় দলই এ পর্যন্ত ছয়টি করে গোল হজম করেছে, যার মধ্যে ইংল্যান্ড সবচেয়ে বেশি সুযোগ তৈরিতে প্রতিপক্ষকে ছাড় দিয়েছে এবং আর্জেন্টিনা প্রতিপক্ষের আক্রমণ ঠেকাতে সবচেয়ে কম সফল হয়েছে।

আর্জেন্টিনা সবচেয়ে বেশি দূরত্ব (৭০৬.৫ কিলোমিটার) দৌড়ালেও, তার মূল কারণ হলো তারা বেশি সময় মাঠে ছিল।

খেলার মোট সময় হিসাব করলে দেখা যায়, বাকি চার দলের মধ্যে তারাই আসলে সবচেয়ে কম দৌড়েছে এবং সবচেয়ে কম স্প্রিন্ট (গতিময় দৌড়) দিয়েছে। সত্যি বলতে, এ পর্যন্ত খেলা প্রতিটি ম্যাচেই তারা প্রতিপক্ষের খেলোয়াড়দের চেয়ে দৌড়ের দিক থেকে পিছিয়ে ছিল।

ফলে বর্তমান চ্যাম্পিয়নরা যে প্রতিপক্ষকে প্রেসিং করার (চেপে ধরা) ক্ষেত্রে সবচেয়ে কম আগ্রাসী ছিল, তাতে অবাক হওয়ার কিছু নেই। ইংল্যান্ড, ফ্রান্স বা স্পেনের তুলনায় তারা প্রতিপক্ষের সীমানায় বল কেড়ে নিতে পেরেছে খুব কম।

এর ঠিক বিপরীতে, স্পেনের খেলোয়াড়রা সেমিফাইনালিস্টদের মধ্যে সবচেয়ে বেশি পরিশ্রমী ছিল। তারা বাকিদের চেয়ে সবচেয়ে বেশি দৌড়েছে, স্প্রিন্ট করেছে এবং প্রতিপক্ষকে সবচেয়ে বেশি প্রেসিং করেছে।

লুইস দে লা ফুয়েন্তের দল সবচেয়ে বেশি সময় বল নিজেদের নিয়ন্ত্রণে (৬৬% পজিশন) রেখেছে—যা কেবল বাকি চার দলের মধ্যেই নয়, বরং এই বিশ্বকাপের যেকোনো দলের চেয়ে সর্বোচ্চ। পাশাপাশি আর্জেন্টিনার মতোই তাদের পাসিংয়ের নিখুঁততার হারও যৌথভাবে টুর্নামেন্টে সেরা (৯০.৪%), যদিও শেষ চারে ওঠা প্রতিটি দলই পাসের ক্ষেত্রে বেশ দক্ষ।

আর্জেন্টিনা—বিশেষ করে লিওনেল মেসি এ পর্যন্ত যেভাবে থ্রু-বল (Through ball) খেলতে পছন্দ করেছেন, তা রুখে দিতে ইংল্যান্ডের ডিফেন্ডারদের বেশ সতর্ক থাকতে হবে।

তাদের জাদুকরী অধিনায়ক এই বিশ্বকাপে অন্য যেকোনো খেলোয়াড়ের চেয়ে সবচেয়ে বেশিবার (১৫ বার) সতীর্থদের উদ্দেশ্যে নিখুঁত থ্রু-বল বাড়িয়েছেন।

তবে ইংল্যান্ডেরও নিজস্ব কিছু শক্তি রয়েছে যা আর্জেন্টিনার ডিফেন্ডারদের ভাবিয়ে তুলবে।

থমাস টুখেলের দল ওপেন প্লে থেকে ক্রস করার ক্ষেত্রে সেমিফাইনালের বাকি তিন দলের চেয়ে সবচেয়ে সফল ছিল; তাদের প্রতি চারটি ক্রসের একটি সতীর্থের কাছে পৌঁছাতে পেরেছে।

আর এই কারণেই তারা টুর্নামেন্টে যৌথভাবে সবচেয়ে বেশি হেডে গোল (চারটি) করেছে এবং সবচেয়ে বেশি হেডের মাধ্যমে শট (২৪টি) নিয়েছে।

তাছাড়া, শেষ চার দলের মধ্যে আর্জেন্টিনার আকাশে বল দখলের লড়াইয়ের (aerial duel) সাফল্যের হার সবচেয়ে কম। এটি ইংল্যান্ডকে আশাবাদী করতে পারে যে আকাশপথে তাদের এই দাপট বজায় থাকবে। এমনকি ফিফটি-ফিফটি (৫০-৫০) বল দখলের লড়াইয়েও সার্বিকভাবে তাদের সাফল্যের হার সবচেয়ে ভালো (যদিও ব্যবধানটা খুবই সামান্য)।

এই বিশ্বকাপে লিওনেল মেসির চেয়ে মাত্র দুজন খেলোয়াড় বেশি ড্রিবলিং করে প্রতিপক্ষকে পরাস্ত করতে পেরেছেন, তবে তার সতীর্থরা খুব কমই এভাবে ড্রিবল করার চেষ্টা করেছেন।

অন্যদিকে, স্পেনের প্রস্তুত থাকা উচিত কারণ ফ্রান্সের আক্রমণভাগের চারজন খেলোয়াড় বল পায়ে বারবার তাদের দিকে তীব্র গতিতে চড়াও হবে, যা তারা পুরো টুর্নামেন্ট জুড়েই করে আসছে।

সূত্র: বিবিসি

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ১৮ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪৬
জোহর ১১:৪৩
আসর ০৩:৪৫
মাগরিব ০৫:২২
ইশা ০৬:৩৪
সূর্যোদয় : ০৬:০২ সূর্যাস্ত : ০৫:২২
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%