সোমবার, ২৬শে অক্টোবর, ২০২৬ ইং
০১:৪২ পি.এম
সার্বিয়ার আগাম সংসদ নির্বাচনে বিজয়ী স্টুডেন্ট লিস্টের কারণে রাশিয়ার ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপের সম্ভাবনা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন সাবেক প্রেসিডেন্ট আলেকসান্দার ভুসিচ। তাঁর মতে, ইউরোপের কিছু দেশ এবং যুক্তরাষ্ট্রের ‘ডিপ স্টেট’ এই রাজনৈতিক পরিবর্তনের পেছনে রয়েছে।
রোববার (২৫ অক্টোবর) বেলগ্রেডে সার্বিয়ান প্রগ্রেসিভ পার্টির সদর দপ্তরে ভুসিচ এসব মন্তব্য করেন। রুশ সংবাদ সংস্থা তাসের রিপোর্ট অনুযায়ী, তিনি নির্বাচনের ফলাফলকে ‘বিপ্লব’ হিসেবে উল্লেখ করেছেন। ভুসিচ দাবি করেছেন, এই পরিবর্তনের পেছনে ইউরোপের কিছু দেশের এবং যুক্তরাষ্ট্রের প্রভাবশালী মহলের সমর্থন ছিল।
ভুসিচ আরো বলেন, রাশিয়ার ওপর সম্ভাব্য নিষেধাজ্ঞা নিয়ে তিনি সবচেয়ে বেশি উদ্বিগ্ন। আগামী বছরের মার্চ বা এপ্রিলের মধ্যে এ ধরনের পদক্ষেপ নেওয়া হতে পারে বলে তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন। তবে সাবেক প্রেসিডেন্ট নিষেধাজ্ঞা আরোপের বিষয়ে কোনো নিশ্চিত সিদ্ধান্তের তথ্য দেননি।
অন্যদিকে, স্টুডেন্ট লিস্ট পূর্বে জানিয়েছে যে, তারা রাশিয়ার ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপের বিরুদ্ধে। ফলে ভুসিচের উদ্বেগ এবং দলটির প্রকাশিত অবস্থানের মধ্যে পার্থক্য রয়েছে। তথ্যসূত্র: তাস
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
লক্ষ্মীপুরের রামগঞ্জে ডেঙ্গু জ্বরে আক্রান্ত হয়ে মো. ওয়াসিম হোসেন (২৫) নামের এক যুবকের মৃত্যু ঘটেছে।
সোমবার সকালে ঢাকার একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়। তিনি চণ্ডীপুর গ্রামের আবদুল মান্নানের পুত্র।
ওয়াসিমের বড় ভাই ফারুক হোসেন জানিয়েছেন, গত কয়েক দিন ধরে ওয়াসিম প্রচণ্ড জ্বরে ভুগছিলেন এবং তার জ্বর কমছিল না। পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর তার ডেঙ্গু শনাক্ত হয়। উন্নত চিকিৎসার জন্য ওয়াসিমকে ঢাকার বাংলাদেশ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় সোমবার সকালে তিনি মারা যান।
এমই
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
জয়পুরহাটের পাঁচবিবিতে ভারতে পাচারের উদ্দেশ্যে নিয়ে যাওয়ার সময় ২১৫ কেজি ওজনের একটি কালো কষ্টিপাথর উদ্ধার করেছে জয়পুরহাট ব্যাটালিয়ন (২০ বিজিবি)। এ ঘটনায় একজনকে আটক করা হয়েছে। উদ্ধারকৃত পাথরের সিজার মূল্য ১ কোটি ৭ লাখ ৫০ হাজার টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।
রোববার (২৫ অক্টোবর) দিবাগত রাত ১২টায় কুসুম্বা ইউনিয়নের খামারপাড়া গ্রামে বিজিবি, পুলিশ এবং স্থানীয় প্রশাসনের যৌথ উদ্যোগে এই উদ্ধার অভিযান পরিচালিত হয়।
আটককৃত ব্যক্তি খামারপাড়া গ্রামের শ্রী ভবেন্দ্র কৃষ্ণের পুত্র শ্রী কৃষ্ণ (৩৪) হিসেবে চিহ্নিত হয়। তার কাছ থেকে একটি বাটন মোবাইল ফোনও জব্দ করা হয়। জব্দকৃত মালামালসহ মোট সিজার মূল্য ১ কোটি ৭ লাখ ৫১ হাজার টাকা হয়েছে।
২০ বিজিবি জানিয়েছে, উদ্ধারকৃত পাথরটি পাহাড়পুর বৌদ্ধবিহার প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তরের প্রতিনিধির কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে এবং আটক আসামিকে পাঁচবিবি থানায় সোপর্দ করা হয়েছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সরকারি ভর্তুকির অধীনে ১২ কেজি এলপিজি সিলিন্ডারের নির্ধারিত মূল্য ৭৭৭ টাকা। কিন্তু সাধারণ জনগণ কেন এই দামে সিলিন্ডার পাচ্ছেন না, এই প্রশ্ন তুলেছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল ও সাবেক সংসদ সদস্য ড. এ এইচ এম হামিদুর রহমান আযাদ। তিনি অভিযোগ করেছেন যে, সরকারি এলপিজি বিতরণ ব্যবস্থায় অনিয়ম ও সিন্ডিকেটের কার্যক্রম চলছে এবং এর নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানিয়েছেন।
সোমবার সকালে, তিনি তার যাচাইকৃত ফেসবুক পেজে একটি পোস্টের মাধ্যমে এই দাবি জানান।
পোস্টে হামিদুর রহমান আযাদ উল্লেখ করেন, ১২ কেজি সরকারি এলপিজি সিলিন্ডারের দাম ৭৭৭ টাকা। অন্যদিকে, বেসরকারি কোম্পানির ১২ কেজি এলপিজি সিলিন্ডারের সরকারনির্ধারিত সর্বোচ্চ খুচরা মূল্য ১ হাজার ৮৩৭ টাকা। দুই ধরনের সিলিন্ডারের মধ্যে দামগত বড় ব্যবধান থাকা সত্ত্বেও, সরকারি ভর্তুকির সুবিধা সাধারণ জনগণের কাছে পৌঁছাচ্ছে না বলে তিনি অভিযোগ করেন।
তার পোস্টে উল্লেখ করা হয়, প্রতি বছর বাজারে ১৮ থেকে ২০ লাখ সরকারি এলপিজি সিলিন্ডার ছাড়া হয়। অভিযোগ রয়েছে, এসব সিলিন্ডারের একটি বড় অংশ নির্ধারিত গ্রাহকদের কাছে পৌঁছানোর পরিবর্তে কথিত ‘কাগুজে ডিলার’ ও সিন্ডিকেটের মাধ্যমে বেসরকারি কোম্পানির গুদামে চলে যায়। পরে সেগুলো আবার রিফিল করে ২ হাজার থেকে ২ হাজার ২০০ টাকা পর্যন্ত দামে বিক্রি করা হয়।
এভাবে প্রতি বছর সরকারের অন্তত ১৫০ কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগও তিনি তুলে ধরেন। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানিয়েছেন জামায়াতের এই নেতা।
হামিদুর রহমান আযাদ বলেন, জনগণের অর্থে ভর্তুকি দেওয়া হলেও সেই সুবিধা সাধারণ মানুষের কাছে না পৌঁছানো এবং কোনো অসাধু চক্রের মুনাফার উৎসে পরিণত হওয়া গ্রহণযোগ্য নয়। সরকারি ভর্তুকির মূল উদ্দেশ্য হচ্ছে সাধারণ মানুষের ব্যয় কমানো। তাই প্রকৃত উপকারভোগীদের কাছে এই সুবিধা পৌঁছানো নিশ্চিত করতে হবে।
তিনি সরকারি এলপিজি বিতরণ ব্যবস্থায় স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা, সিন্ডিকেট ও অনিয়মের অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্ত করা এবং ভর্তুকিমূল্যের সিলিন্ডার সাধারণ মানুষের কাছে পৌঁছে দিতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানান।
পোস্টে তিনি বলেন, ‘ভর্তুকি জনগণের অধিকার—সিন্ডিকেটের মুনাফা নয়।’
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
রাজশাহীর গোদাগাড়ী উপজেলার পাটচাষিদের মুখে বর্তমানে হাসির ছাপ দেখা যাচ্ছে। বিগত সরকারের সময় সোনালী আঁশ কৃষকদের জন্য এক প্রকার গলার ফাঁস হয়ে দাঁড়িয়েছিল। পাটের ফলন খারাপ হওয়া এবং ন্যায্যমূল্য না পাওয়ার কারণে এ উপজেলার পাটচাষিরা হতাশ হয়ে পড়েছিলেন। তবে এবারের মৌসুমে কৃষকরা পাটের উচ্চমূল্য পাওয়ায় পাটচাষিদের মধ্যে আনন্দের জোয়ার বইছে।
চাষিরা আশাবাদী হয়ে পাট চাষ শুরু করেছিলেন। গোদাগাড়ীর পাটচাষিরা জানিয়েছেন, পাট চাষের অনুকূল আবহাওয়ার কারণে এবার পাটের বাম্পার ফলন হয়েছে। তাঁরা বলেন, "পাটের বাম্পার ফলনের পাশাপাশি বাজারে পাটের দামও বেশ ভালো পাওয়া যাচ্ছে।" বন্যা ও অতিবৃষ্টির কারণে পাট জাগ দেওয়ার ক্ষেত্রে কোনো সমস্যা হয়নি। উপজেলার বিদিরপুর, প্রেমতলী, কাঁকনহাটসহ বিভিন্ন হাটবাজার ঘুরে দেখা গেছে, মানভেদে প্রতি মণ পাট ৪ হাজার ৩০০ থেকে ৫ হাজার ৬০০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে।
গোদাগাড়ী উপজেলা কৃষি অফিসের তথ্য অনুযায়ী, চলতি মৌসুমে এ উপজেলায় প্রায় ৮৯০ হেক্টর জমিতে পাট চাষ হয়েছে। গত মৌসুমে পাট চাষ হয়েছিল ৮৮০ হেক্টর জমিতে। চর আষাঢ়িয়াদহ, মাটিকাটা, বাসুদেবপুর ও দেওপাড়া ইউনিয়নে সবচেয়ে বেশি পাটের চাষ হয়েছে। এর মধ্যে চর আষাঢ়িয়াদহ ইউনিয়নে সর্বাধিক পরিমাণে পাট চাষ করা হয়েছে।
কৃষি অফিসের মতে, পর্যাপ্ত বৃষ্টির কারণে এবারের পাটের ফলন ভালো হয়েছে। প্রতি বিঘায় ১০ থেকে ১১ মণ করে পাটের ফলন হচ্ছে, যা গতবারের তুলনায় বেশি।
উপজেলার পিরিজপুর গ্রামের পাটচাষি শরিফুল বলেন, "চলতি মৌসুমে দুই বিঘা জমিতে পাট চাষ করেছিলাম। বিঘা প্রতি ১৪ মণ করে পাট পেয়েছি। পাটের দাম বেশি পাওয়ায় পাট চাষ করে আমরা লাভবান হচ্ছি।" আরেক পাটচাষি জামাল জানান, বাজারে মানভেদে পাট ৪ হাজার ৫০০ থেকে ৫ হাজার ৬০০ টাকা মণ দরে বিক্রি হচ্ছে। অথচ পাট চাষ করতে বিঘা প্রতি খরচ হয়েছিল ৮ হাজার থেকে ৯ হাজার টাকা। বাজারে পাটের দাম ভালো থাকায় এবং বিক্রি করে লাভবান হওয়ায় আগামী বছর আরও বেশি জমিতে পাট চাষের পরিকল্পনা করছেন তিনি।
এ বছর পাট জাগ দেওয়ার জন্য কৃষকদের খুব একটা কষ্ট করতে হয়নি। পুকুর, নালা ও ডোবায় প্রচুর পানি থাকার পাশাপাশি পদ্মার পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় নদীর পানিতেই কৃষকেরা পাট জাগ দিতে সক্ষম হয়েছেন। ক্ষেত থেকে কম খরচে সহজে নদীতে পাট নিয়ে যাওয়া সম্ভব হয়েছে।
এদিকে পাট ছাড়ানো শ্রমিক হসনা বেগম বলেন, "টাকার বিনিময়ে নয়, পাটকাঠির বিনিময়ে আমরা পাট ছাড়িয়ে দিচ্ছি। তিন ভাগ পাটকাঠির মধ্যে আমরা পাই দুই ভাগ, আর মালিক পান এক ভাগ।" তিনি আরও বলেন, "চুলা জ্বালানোর উদ্দেশ্যে আমি পাট ছড়াচ্ছি। এখন বাড়িতে কাজ কম থাকায় অলস বসে না থেকে পাট ছড়ানোর কাজ করছি।"
একাধিক পাটচাষির সাথে কথা বলে জানা যায়, পাট জাগ দেওয়ার জন্য ইউরিয়া সার ব্যবহার করা হচ্ছে। তাঁরা জানান, ইউরিয়া সার ব্যবহার করলে দ্রুত পাটে পচন ধরে এবং পাটের রংও ভালো হয়।
উপজেলা কৃষি অফিসার মরিয়ম আহমেদ বলেন, "পাট কাটা ও জাগ দেওয়া নিয়ে কোনো সমস্যা হয়নি। তবে গতবারের তুলনায় এবার পাটের ফলন বেশি হয়েছে।" তিনি জানান, বিঘা প্রতি ৯ থেকে ১২ মণ পাটের ফলন হচ্ছে। যেসব কৃষক আগাম পাট চাষ করেছিলেন, তাঁরা পাট কেটে ওই জমিতে শীতকালীন সবজি চাষ করতে পারছেন। ক্ষেতে পাটের পাতা পচে জৈব সার হিসেবেও দারুণ কাজ করে। পাটের দাম ভালো পাওয়ায় আগামীতে আরও বেশি জমিতে পাট চাষের পরিকল্পনা করছেন কৃষকরা।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ