ঢাকা বুধবার, ২৮শে অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ১২ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ১৭ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
বুধবার, ২৮শে অক্টোবর, ২০২৬ইং ১২ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

জেন জি-র পাশে দাঁড়িয়ে গণতন্ত্র রক্ষায় রাজপথে প্রবীণ নাগরিকরা


জেন জি-র পাশে দাঁড়িয়ে গণতন্ত্র রক্ষায় রাজপথে প্রবীণ নাগরিকরা

ভারতের গণতন্ত্র ও নাগরিক অধিকার সুরক্ষার জন্য লড়াইয়ে প্রবীণ নাগরিকরা এবার তরুণ প্রজন্মের সঙ্গে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে রাজপথে নেমেছেন। সম্প্রতি দিল্লির কেন্দ্রস্থলে অনুষ্ঠিত এক বিশাল প্রতিবাদ সমাবেশে সমাজের প্রবীণদের একটি বড় অংশকে দেখা গেছে, যাঁদের মধ্যে অনেকেই শিক্ষকতা, সাংবাদিকতা, আইন পেশা কিংবা সরকারি উচ্চপদস্থ চাকরির মতো দীর্ঘ পেশাগত জীবন কাটিয়ে আজ গণতান্ত্রিক অধিকার রক্ষায় সোচ্চার হয়েছেন।

২৩ অক্টোবর ‘পিপল অ্যাগেইনস্ট এসআইআর’-এর ব্যানারে মানবাধিকার কর্মী, ছাত্র সংগঠন, কৃষক ও সাধারণ নাগরিকরা ভারতের নির্বাচন কমিশনের দিকে পদযাত্রা করার চেষ্টা করেন। পুলিশ ও আধা-সামরিক বাহিনীর বাধার কারণে সেই মার্চ আটকে গেলেও, প্রবীণ নাগরিকদের স্বতঃস্ফূর্ত উপস্থিতি পুরো আন্দোলনকে এক নতুন মাত্রা প্রদান করে।

দ্য ওয়্যার-এ প্রকাশিত একটি নিবন্ধে উল্লেখ করা হয়েছে, হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপ বা পারিবারিক পরিসরে প্রতিবাদের সমালোচনা কিংবা তরুণ প্রজন্মকে হেয় প্রতিপন্ন করার প্রচলিত ট্রেন্ডের বিপরীতে গিয়ে প্রবীণরা রাজপথে নেমেছেন। তাঁদের মতে, দেশের বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি এবং ভোটাধিকার হরণের যে চক্রান্ত চলছে, তা কেবল তরুণদের একক লড়াই নয়, বরং গোটা জাতির টিকে থাকার লড়াই।

আরও পড়ুন: কোনো দল সংখ্যাগরিষ্ঠতা না পেলে পেলে কতদিন ক্ষমতায় থাকবেন নেতানিয়াহু?

দিল্লি বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি সাহিত্যের প্রাক্তন শিক্ষিকা নিরজ খান্না এই বিক্ষোভে অংশ নিয়ে বলেন, “আমার গণতান্ত্রিক অধিকার ও ভোট দেওয়ার ক্ষমতা আজ তীব্র সংকটে। এসআইআর-এর মতো পদক্ষেপের মাধ্যমে সাধারণ মানুষকে ভোটাধিকার থেকে বঞ্চিত করার অপচেষ্টা চলছে। আমরা যদি আজ রুখে না দাঁড়াই, তবে আগামী প্রজন্মকে একনায়কতন্ত্রের মধ্যে বাস করতে বাধ্য হতে হবে। তাই নিজের ও ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য আজ আমার এই অবস্থান।”

দীর্ঘ ৩০ বছর ‘নবভারত টাইমস’-এ সাংবাদিকতা করা মানবাধিকার কর্মী অনিল দুবে ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “এই আইন কেবল জনবিরোধীই নয়, এটি সরকারের পক্ষ থেকে জনগণের বিরুদ্ধে এক প্রকার যুদ্ধ ঘোষণা। দেশের যুবসমাজ যখন শিক্ষা, কর্মসংস্থান ও চিকিৎসার অভাবে চরম হতাশার শিকার, তখন নাগরিকদের অস্তিত্বের প্রমাণ দিতে বলা লজ্জার। আমাদের প্রজন্মের সময় তো ফুরিয়ে আসছে, তাই জেন জি-র পাশে দাঁড়ানোই আমাদের ন্যূনতম কর্তব্য।”

আন্দোলনস্থলে উপস্থিত প্রবীণরা কেবল প্রতিবাদেই অংশ নেননি, বরং তরুণ ও সাধারণ মানুষের মাঝে নিজেদের জীবনলব্ধ জ্ঞান ও প্রজ্ঞা বিলিয়ে দিয়েছেন। সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী এস.এস. নেহরা বলেন, “প্রতিবাদ হলো একটি সংলাপের মতো। সরকার ও নির্বাচন কমিশন যতই পালানোর চেষ্টা করুক না কেন, ফ্যাসিবাদী সরকারের বিরুদ্ধে আমাদের এই শান্তিপূর্ণ আন্দোলন এবং সংলাপের চেষ্টা চালিয়ে যেতে হবে।”

জাতীয় ফেডারেশন ফর ইন্ডিয়ান উইমেন (এনএফআইডব্লিউ)-এর প্রাক্তন সাধারণ সম্পাদক ও নেত্রী অ্যানি রাজা বলেন, “প্রতিটি প্রতিবাদই অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। আমাদের সংবিধানই আমাদের প্রাণভোমরা। দেশ ও সংবিধান রক্ষার্থে যন্তর মন্তর বা নির্দিষ্ট কোনো গণ্ডি নয়, জাতীয় পতাকা হাতে আমরা যেখানেই দাঁড়াব, সেটাই প্রতিবাদের মঞ্চ হয়ে উঠবে।”

আরও পড়ুন: ‘নেতানিয়াহু সরকারের প্রতি আস্থার অভাব’, বুথফেরত জরিপে মন্তব্য আইজেনকোটের

প্রখ্যাত উন্নয়ন অর্থনীতিবিদ জয়তী ঘোষ এবং ৭৭ বছর বয়সী এক অবসরপ্রাপ্ত সরকারি আমলাও এই আন্দোলনে সংহতি জানিয়ে বলেন, দমন-পীড়নের মধ্যেও তারা আশার আলো দেখছেন। কাঁপতে থাকা পায়েও তরুণদের পাশে এসে দাঁড়ানোকে তাঁরা জীবনের একটি নৈতিক দায়বদ্ধতা বলে মনে করেন।

গণতন্ত্রের বহু লড়াইয়ের সাক্ষী ভারতীয় প্রবীণদের বুদ্ধিমত্তা ও সাহসিকতা বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে তরুণ প্রজন্মের আন্দোলনকে আরও বেশি নৈতিক শক্তি জোগাচ্ছে বলে বিশ্লেষকরা মনে করছেন।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

ফরিদপুরের দেড় হাজার পরিবার ৮ মাস ধরে বিদ্যুৎহীন

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

সোমবার, ২৬শে অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৭:৪৭ পি.এম


ফরিদপুরের দেড় হাজার পরিবার ৮ মাস ধরে বিদ্যুৎহীন

ফরিদপুরের সদরপুর উপজেলার দিয়ারা নারিকেলবাড়িয়া ইউনিয়নে বিদ্যুৎ সরবরাহ আট মাস ধরে বন্ধ রয়েছে। পদ্মা নদীর তলদেশে স্থাপিত সাবমেরিন ক্যাবল ছিঁড়ে যাওয়ার কারণে এই পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। এর ফলে ইউনিয়নের প্রায় দেড় হাজার পরিবার চরম দুর্ভোগের মধ্যে রয়েছে। দীর্ঘ সময় বিদ্যুৎ না থাকায় শিক্ষার্থীদের পড়াশোনা ব্যাহত হচ্ছে এবং ফ্রিজ, টেলিভিশনসহ বিভিন্ন বৈদ্যুতিক সরঞ্জাম নষ্ট হয়ে যাচ্ছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, পদ্মাবেষ্টিত দিয়ারা নারিকেলবাড়িয়া ইউনিয়নে নদীর তলদেশ দিয়ে সাবমেরিন ক্যাবল স্থাপন করে বিদ্যুৎ সরবরাহ করা হতো। আট মাস আগে ক্যাবলটি ছিঁড়ে যাওয়ার পর পুরো ইউনিয়নে বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ হয়ে যায়। দীর্ঘ সময় পেরিয়ে গেলেও বিকল্প সংযোগ স্থাপন করা সম্ভব হয়নি, যা স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে ক্ষোভ ও হতাশা সৃষ্টি করেছে।

নন্দলালপুর গ্রামের বাসিন্দা নয়ন শেখ জানান, "আট মাস ধরে তাদের এলাকায় বিদ্যুৎ নেই। দৈনন্দিন নানা কাজে ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে। ছেলেমেয়েদের পড়াশোনায় সমস্যা হচ্ছে। গরমেও কষ্ট করতে হচ্ছে তাদের।" তিনি অবিলম্বে বিদ্যুৎ সংযোগ চালুর দাবি জানান।

একই গ্রামের আবুল হোসেন বলেন, "বিদ্যুৎ না থাকায় তাদের স্বাভাবিক জীবনযাপন ব্যাহত হচ্ছে। টেলিভিশন, ফ্রিজসহ বিভিন্ন বৈদ্যুতিক সরঞ্জাম ব্যবহার করা যাচ্ছে না। আট মাস ধরে এভাবে চলতে থাকায় তারা খুব কষ্টে আছেন।" তিনি দ্রুত সমস্যার সমাধান করে বিদ্যুৎ সরবরাহ চালুর জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি আহ্বান জানান।

দিয়ারা নারিকেলবাড়িয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. নাসির উদ্দিন বলেন, "সাবমেরিন ক্যাবল ছিঁড়ে যাওয়ায় ইউনিয়নে বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ রয়েছে। এতে এলাকার মানুষ দীর্ঘদিন ধরে দুর্ভোগ পোহাচ্ছেন। সমস্যা সমাধানে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দ্রুত উদ্যোগ নেওয়া প্রয়োজন।"

সদরপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) শরীফ শাওন জানান, তারা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করেছেন। কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, পদ্মা নদীতে তীব্র স্রোতের কারণে নদীর তলদেশে ক্যাবল লাইনে সংযোগ দিতে বিলম্ব হচ্ছে। বিদ্যুৎ সরবরাহ চালুর বিষয়ে তারা নিয়মিত যোগাযোগ রাখছেন।

ঢাকা পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি-২-এর দোহার জোনাল অফিসের উপমহাব্যবস্থাপক (ডিজিএম) খায়রুল বাকী খান বলেন, "বিদ্যুৎ সংযোগের জন্য স্থাপিত সাবমেরিন ক্যাবলটি অনেক পুরোনো হওয়ায় পদ্মা নদীর তীব্র স্রোতে ত্রুটি দেখা দিয়েছে। নদীর তলদেশে প্রবল স্রোত থাকায় আপাতত নতুন করে ক্যাবল স্থাপন করা সম্ভব হচ্ছে না। তবে নতুন সাবমেরিন ক্যাবলের বরাদ্দ পাওয়া গেছে। আগামী নভেম্বরের মাঝামাঝি সময়ে নতুন করে বিদ্যুৎ সংযোগ স্থাপন করা সম্ভব হবে বলে আশা করছেন তিনি।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

টাঙ্গাইলে হানি ট্র্যাপ চক্রের তিন নারীসহ একাধিক আসামি কারাগারে,ধরাছোঁয়ার বাইরে প্রভাবশালীরা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

মোঃ একদিল হোসেন স্টাফ রিপোর্টার

সোমবার, ২৬শে অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৮:০৪ পি.এম


টাঙ্গাইলে হানি ট্র্যাপ চক্রের তিন নারীসহ একাধিক আসামি কারাগারে,ধরাছোঁয়ার বাইরে প্রভাবশালীরা

হানি ট্র্যাপ প্রতারণার ঘটনায় জড়িত তিন নারীসহ একটি সংঘবদ্ধ চক্রের বেশ কয়েকজন সদস্যকে ইতোমধ্যে গ্রেফতার করে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। তবে ঘটনার পেছনে থাকা একাধিক রাজনৈতিক দলের অনুসারী ও প্রভাবশালী ব্যক্তিরা এখনো রয়েছে ধরাছোঁয়ার বাইরে।

অনুসন্ধানে প্রাপ্ত তথ্যে জানা যায়, এই সংঘবদ্ধ চক্রটির সাথে বিভিন্ন রাজনৈতিক সংগঠনের নেতাকর্মীদের সরাসরি সম্পৃক্ততা রয়েছে। বিশেষ করে ছাত্রদল, ছাত্রলীগ এবং বিভিন্ন বামপন্থী সংগঠনের বেশ কয়েকজন অনুসারী ও নেতার নাম এই চক্রের সাথে জড়িয়ে পড়েছে।কুমুদিনী কলেজ,ফজিলাতুন্নেছা কলেজের বেশ কিছু নারী এবং স্বনামধন্য প্রতিষ্ঠানের বেশ কিছু শিক্ষকদের এই চক্রে জড়িত হবার অভিযোগ থাকা সত্ত্বেও আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী এখনো তাদের গ্রেফতার করতে বা ব্যবস্থা গ্রহণ করেনি।

বেশ কয়েকটি বিশ্বস্ত সূত্রের মাধ্যমে জানা গেছে, অপরাধ চক্রটিকে আড়াল করতে এবং তদন্তের মুখ ঘুরিয়ে দিতে আড়ালে সক্রিয় রয়েছে একাধিক প্রভাবশালী বলয়। বিভিন্ন সূত্রে ইঙ্গিত পাওয়া গেছে সাধারণ সদস্যদের গ্রেফতার দেখানো হলেও চক্রটির মূল পৃষ্ঠপোষকদের বাঁচানোর চেষ্টা চলছে।

তবে এসব অভিযোগ ও তদন্তের অগ্রগতি সম্পর্কে পুলিশের পক্ষ থেকে এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো বক্তব্য বা তথ্য প্রদান করা হয়নি।

সংশ্লিষ্টদের মতে, রাজনৈতিক পরিচয় ও প্রভাবের উর্ধ্বে উঠে নিরপেক্ষ তদন্ত করা হলে এই হানি ট্র্যাপ চক্রের সাথে জড়িত আরও অনেক হেভিওয়েট ও প্রভাবশালী ব্যক্তির নাম প্রকাশ্যে আসবে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

পুতিনের সঙ্গে বৈঠক করতে রাশিয়া যাচ্ছেন শাহবাজ শরিফ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

সোমবার, ২৬শে অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৮:১৫ পি.এম


পুতিনের সঙ্গে বৈঠক করতে রাশিয়া যাচ্ছেন শাহবাজ শরিফ

পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের সঙ্গে বৈঠক করার জন্য আগামী কয়েক সপ্তাহের মধ্যে মস্কো সফরে যেতে পারেন। পাকিস্তানের সংবাদমাধ্যম দ্য এক্সপ্রেস ট্রিবিউন সোমবার জানিয়েছে, সফরটির প্রস্তুতি চলছে। তবে ইসলামাবাদের পক্ষ থেকে এ বিষয়ে এখনও কোনো আনুষ্ঠানিক ঘোষণা আসেনি।

কূটনৈতিক সূত্রের উদ্ধৃতি দিয়ে সংবাদমাধ্যমটি জানায়, শাহবাজ শরিফের রাশিয়া সফরের প্রস্তুতি চলছে। এর আগে গত মার্চে তার মস্কো সফরের পরিকল্পনা ছিল, কিন্তু আঞ্চলিক নিরাপত্তা পরিস্থিতির কারণে ইসলামাবাদ সেই সফর স্থগিত করে। পরে দুই দেশের মধ্যে আলোচনা করে সফরের নতুন তারিখ নির্ধারণের কথা ছিল।

পাকিস্তান দুইটি বড় নিরাপত্তা সংকটের মুখোমুখি হওয়ায় সফর স্থগিতের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। একদিকে পাকিস্তান ও আফগানিস্তানের মধ্যে সংঘাত তীব্র হয়ে উঠেছে, অন্যদিকে ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের সামরিক অভিযান পুরো অঞ্চলে সংকট সৃষ্টি করেছে। এই পরিস্থিতিতে ইসলামাবাদকে আঞ্চলিক নিরাপত্তা পরিস্থিতি সামাল দেওয়া এবং ইরান থেকে পাকিস্তানি নাগরিকদের সরিয়ে নেওয়ার বিষয়টিতে অগ্রাধিকার দিতে হয়েছে।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, সম্ভাব্য মস্কো সফরে দুই দেশের অর্থনৈতিক সহযোগিতা বিশেষ গুরুত্ব পাবে। বাণিজ্য, বিনিয়োগ ও জ্বালানি খাতে সহযোগিতা বাড়ানোর পাশাপাশি আঞ্চলিক নিরাপত্তা পরিস্থিতি এবং আফগানিস্তান নিয়েও পুতিন ও শাহবাজ শরিফের আলোচনা হতে পারে।

সম্প্রতি পাকিস্তান ও রাশিয়ার মধ্যে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক জোরদারের উদ্যোগ দেখা গেছে। গত ১২ অক্টোবর রাশিয়ার স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ভ্লাদিমির কোলোকোলৎসেভ ইসলামাবাদ সফর করেন এবং পাকিস্তানের বেসামরিক ও সামরিক নেতৃত্বের সঙ্গে বৈঠক করেন।

রুশ স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠকে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী দুই দেশের সম্পর্কের ‘ইতিবাচক অগ্রগতিতে’ সন্তোষ প্রকাশ করেছেন। তিনি বাণিজ্য, বিনিয়োগ, জ্বালানি ও অর্থনৈতিক উন্নয়নে সহযোগিতা বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন।

দ্য এক্সপ্রেস ট্রিবিউন-এর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে পাকিস্তান ও রাশিয়া জ্বালানি, যোগাযোগব্যবস্থা, কৃষি এবং বাণিজ্য খাতে সহযোগিতার বিভিন্ন সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা করেছে। তবে দুই দেশের মধ্যে অর্থনৈতিক সম্পর্ক আরও বিস্তৃত করার ক্ষেত্রে কিছু বাধা রয়েছে।

বিশেষ করে ব্যাংকিং ব্যবস্থা, অর্থ পরিশোধের কার্যকর পদ্ধতি এবং সরাসরি যোগাযোগব্যবস্থার সীমাবদ্ধতা দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য সম্প্রসারণে বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

এ অবস্থায় শাহবাজ শরিফের সম্ভাব্য মস্কো সফর দুই দেশের অর্থনৈতিক সম্পর্ক এগিয়ে নেওয়ার পাশাপাশি আঞ্চলিক নিরাপত্তা নিয়ে পারস্পরিক অবস্থান বিনিময়ের সুযোগ তৈরি করতে পারে। তবে সফরের সময়সূচি ও আলোচ্যসূচি সম্পর্কে আনুষ্ঠানিক ঘোষণা না আসায় বিষয়গুলো এখনও চূড়ান্ত হয়নি।

সূত্র: দ্য টেলিগ্রাফ অনলাইন

এআরবি

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

২১৭ বোতল মদসহ ধরা খেয়ে ছাত্রনেতা উদয় পদ হারালেন

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

সোমবার, ২৬শে অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৮:১৬ পি.এম


২১৭ বোতল মদসহ ধরা খেয়ে ছাত্রনেতা উদয় পদ হারালেন

জামালপুরের বকশীগঞ্জে জেলা গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশের অভিযানে ২১৭ বোতল ভারতীয় মদসহ গ্রেপ্তার হওয়া ধানুয়া কামালপুর ইউনিয়ন ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক আমান উল্লাহ উদয়কে দলীয় সব পদ থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে।

বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল বকশীগঞ্জ উপজেলা শাখার পক্ষ থেকে সোমবার (২৬ অক্টোবর) বিকেলে গণমাধ্যমে পাঠানো এক প্রেস বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে এই তথ্য নিশ্চিত করা হয়।

ওই প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে, যা উপজেলা ছাত্রদলের আহ্বায়ক জুবাইদুল ইসলাম শামীম এবং সদস্য সচিব বায়েজীদ আল আমিন স্বাক্ষরিত, জানানো হয় যে, বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল বকশীগঞ্জ উপজেলা শাখার অধীনস্থ ১নং ধানুয়া কামালপুর ইউনিয়ন ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক আমান উল্লাহ উদয়কে সাংগঠনিক শৃঙ্খলাভঙ্গের গুরুতর অভিযোগের ভিত্তিতে ইউনিয়ন ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক পদসহ সংগঠনের সব পদ থেকে অব্যাহতি প্রদান করা হয়েছে।

এর আগে, শনিবার (২৪ অক্টোবর) রাতে বকশীগঞ্জ উপজেলার ধানুয়া কামালপুর ইউনিয়নের বৈষ্ণবপাড়া এলাকায় জেলা গোয়েন্দা শাখা (ডিবি-১) বিশেষ অভিযান পরিচালনা করে। ওই অভিযানে ২১৭ বোতল ভারতীয় বিভিন্ন ব্র্যান্ডের মদ ও একটি ১৫০ সিসি সুজুকি মোটরসাইকেলসহ ছাত্রদল নেতা আমান উল্লাহ উদয় এবং মোট পাঁচজনকে আটক করা হয়। পরে রোববার দুপুরে আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে তাদের আদালতে সোপর্দ করা হয়।

মাদক মামলার মতো একটি স্পর্শকাতর অপরাধে দলের নেতার গ্রেপ্তারের ঘটনায় স্থানীয় রাজনৈতিক অঙ্গনে ব্যাপক আলোচনা সৃষ্টি হয়েছে। এই প্রেক্ষাপটে, উপজেলা ছাত্রদলের পক্ষ থেকে দ্রুততম সময়ের মধ্যে দলীয় শৃঙ্খলা বজায় রাখতে এই কঠোর সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ১৭ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪৬
জোহর ১১:৪৩
আসর ০৩:৪৬
মাগরিব ০৫:২২
ইশা ০৬:৩৪
সূর্যোদয় : ০৬:০২ সূর্যাস্ত : ০৫:২২
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%