শুক্রবার, ৪ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং
১২:০৫ পি.এম
জার্মানির গাড়ি নির্মাতা প্রতিষ্ঠান ভক্সওয়াগন, চীনা গাড়ি নির্মাতাদের তীব্র প্রতিযোগিতা, যুক্তরাষ্ট্রের শুল্ক এবং ইউরোপে অতিরিক্ত উৎপাদন সক্ষমতার চাপ মোকাবেলার জন্য আরও ৫০ হাজার কর্মী কমানোর পরিকল্পনা অনুমোদন করেছে। পাশাপাশি, প্রতিষ্ঠানটি ২০৩৫ সালের মধ্যে গাড়ির মডেলের সংখ্যা প্রায় অর্ধেকে নামিয়ে আনার পরিকল্পনাও গ্রহণ করেছে।
বৃহস্পতিবার (৩ সেপ্টেম্বর) ভক্সওয়াগনের তত্ত্বাবধায়ক বোর্ড কোম্পানিটির ইতিহাসের সবচেয়ে বড় পুনর্গঠন পরিকল্পনা অনুমোদন করেছে। এই পরিকল্পনাটির নাম ‘ফিউচার প্ল্যান ২০৩০’, যার মূল লক্ষ্য হলো খরচ কমানো, উৎপাদন সক্ষমতা আরও কার্যকর করা এবং বৈশ্বিক প্রতিযোগিতায় ভক্সওয়াগনের অবস্থানকে শক্তিশালী করা।
ভক্সওয়াগনের পূর্বে প্রায় ৫০ হাজার কর্মী কমানোর পরিকল্পনা ছিল। এর মধ্যে প্রায় ৩৭ হাজার কর্মীর সঙ্গে সমঝোতা সম্পন্ন হয়েছে। নতুন করে ৫০ হাজার পদ কমানোর পরিকল্পনা বাস্তবায়িত হলে, দশকের শেষ নাগাদ মোট কর্মী কমানোর সংখ্যা প্রায় ১ লাখে পৌঁছাতে পারে। তবে, নতুন করে কোন দেশ বা বিভাগে কতজন কর্মী কমানো হবে, তা এখনও নির্দিষ্ট করা হয়নি।
চীনা গাড়ি নির্মাতাদের দ্রুত উত্থান ভক্সওয়াগনের জন্য একটি বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। চীনের বাজারে কোম্পানিটির বিক্রি কমার পাশাপাশি ইউরোপের বাজারেও চীনা বৈদ্যুতিক ও হাইব্রিড গাড়ি নির্মাতারা দ্রুত বাজার দখল করছে। যুক্তরাষ্ট্রের আমদানি শুল্ক এবং বৈদ্যুতিক গাড়িতে রূপান্তরের উচ্চ ব্যয় কোম্পানিটির ওপর বাড়তি চাপ সৃষ্টি করেছে।
ভক্সওয়াগন জানিয়েছে, ইউরোপে তাদের প্রয়োজনের তুলনায় বছরে ৫ লাখের বেশি গাড়ি উৎপাদনের সক্ষমতা রয়েছে। অতিরিক্ত সক্ষমতা কমানোর অংশ হিসেবে জার্মানির এমডেন, হ্যানোভার, জভিকাউ ও নেকারজুলম কারখানার ভবিষ্যৎ নিয়েও পর্যালোচনা চলছে। তবে, এসব কারখানা বন্ধের কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত এখনও নেওয়া হয়নি।
গাড়ির মডেলের সংখ্যা কমানোর পাশাপাশি উৎপাদন-সংক্রান্ত জটিলতাও ৭৫ শতাংশ কমানোর লক্ষ্য নিয়েছে ভক্সওয়াগন। কমসংখ্যক মডেল ও ভ্যারিয়েন্টে বেশি গুরুত্ব দিয়ে উৎপাদনের পরিমাণ বাড়ানো, খরচ কমানো এবং লাভজনকতা বাড়ানোই এর উদ্দেশ্য।
ভক্সওয়াগনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা অলিভার ব্লুম বলেছেন, "পুনর্গঠন পরিকল্পনাটি কোম্পানির ভবিষ্যতের জন্য একটি শক্তিশালী বার্তা।" দীর্ঘ আলোচনার পর শ্রমিক প্রতিনিধিরাও পরিকল্পনাটিকে সমর্থন করেছেন। তবে, কর্মীদের ওপর যেন পুনর্গঠনের পুরো চাপ না পড়ে, সে বিষয়ে তারা জোর দিয়েছেন।
ভক্সওয়াগন বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ গাড়ি নির্মাতা গোষ্ঠী। ভক্সওয়াগন ব্র্যান্ডের পাশাপাশি অডি, পোর্শে ও ল্যাম্বরগিনিসহ বিভিন্ন ব্র্যান্ড এই গোষ্ঠীর অধীনে রয়েছে। তথ্যসূত্র: রয়টার্স
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
জনপ্রশাসন ও খাদ্য মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী মো. আব্দুল বারীকে বহনকারী গাড়িটি সড়ক দুর্ঘটনার শিকার হয়েছে।
বগুড়ার শিবগঞ্জে এক পথচারীকে রক্ষা করতে গিয়ে এই দুর্ঘটনা ঘটে। গাড়িতে উপস্থিত প্রতিমন্ত্রী এবং তার স্ত্রী নাজমা আরা বারী আহত হন।
শুক্রবার (৪ সেপ্টেম্বর) সকাল ৯টার দিকে মোকামতলা-জয়পুরহাট সড়কের কিচক ইউনিয়নের গোপীনাথপুর এলাকায় দুর্ঘটনাটি ঘটে। শিবগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শাহীনুজ্জামান বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, ঢাকা থেকে জয়পুরহাটের কালাই উপজেলায় পূর্বনির্ধারিত কর্মসূচির অংশ হিসেবে যাওয়ার পথে প্রতিমন্ত্রীর গাড়িবহর মোকামতলা-জয়পুরহাট আঞ্চলিক মহাসড়কের কিচক ব্রিজের কাছে পৌঁছালে হঠাৎ করে এক পথচারী নারী গাড়ির সামনে চলে আসেন। চালক তাকে বাঁচানোর চেষ্টা করেন।
এতে গাড়িটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে রাস্তার পাশের কৃষিজমিতে পড়ে যায়। দুর্ঘটনার পর আহত প্রতিমন্ত্রী, তার স্ত্রী এবং বডিগার্ডকে উদ্ধার করে প্রথমে কালাইয়ে প্রতিমন্ত্রীর বাসায় নিয়ে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়। পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য জয়পুরহাট ৪০০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালে পাঠানো হয়।
অন্যদিকে, দুর্ঘটনায় আহত পথচারী ফিরোজা বেগম (৫৫), যিনি শিবগঞ্জের গোপীনাথপুর গ্রামের মৃত নিজাম উদ্দিনের স্ত্রী, গুরুতর আহত অবস্থায় উদ্ধার হয়ে শিবগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি হন।
শিবগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শাহীনুজ্জামান জানান, দুর্ঘটনায় প্রতিমন্ত্রী এবং তার স্ত্রী সামান্য আহত হয়েছেন এবং তাদের প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে। এছাড়া, বৃদ্ধা ফিরোজাকেও চিকিৎসার জন্য টিএমএসএস হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
হাইকোর্টের রায়ে বলা হয়েছে, অর্থঋণ আদালতের মাধ্যমে বিচারিক নিলামে ক্রয় করা স্থাবর সম্পত্তির মূল্যের ওপর ১৫ শতাংশ মূল্য সংযোজন কর (ভ্যাট) প্রদান করতে হবে না।
বিচারপতি সরদার রাশেদ জাহাঙ্গীর এবং বিচারপতি জিয়াউল হকের সমন্বয়ে গঠিত একটি হাইকোর্ট ডিভিশন বেঞ্চ এ রায় প্রদান করে। এ বিষয়ে জারি করা রুল যথাযথ ঘোষণা করে রায়টি দেওয়া হয়েছে, যা বৃহস্পতিবার বাসস'কে জানিয়েছেন রিটকারি পক্ষের আইনজীবী ব্যারিস্টার সাকিব মাহবুব।
হাইকোর্ট উল্লেখ করে যে, নিলাম ক্রেতা হিসেবে আবেদনকারীদের নিলাম মূল্যের ওপর উৎসে ১৫ শতাংশ ভ্যাট পরিশোধের নির্দেশ দিয়ে অর্থঋণ আদালত কর্তৃক প্রদত্ত আদেশটি আইনগত কর্তৃত্বের বাইরে। এছাড়া, স্থাবর সম্পত্তির ক্রেতাকে ‘পণ্যের নিলাম ক্রেতা’ অভিব্যক্তির অন্তর্ভুক্ত করা অংশটি আইনগত কার্যকারিতাহীন বলে উল্লেখ করা হয়েছে।
এই রায়ের ফলে অর্থঋণ আদালতের মাধ্যমে বিচারিক নিলামে ক্রয় করা স্থাবর সম্পত্তির মূল্যের ওপর ১৫ শতাংশ ভ্যাট দিতে হবে না। আইন দ্বারা সংসদ যদি কোনো সম্পত্তির বিক্রয় বা হস্তান্তরকে ভ্যাট থেকে অব্যাহতি দেয়, তবে অধস্তন বা অর্পিত আইন প্রণয়নের মাধ্যমে সেই সম্পত্তির ওপর নতুন করদায় সৃষ্টি করা সম্ভব নয়, জানান রিটের পক্ষের আইনজীবীরা।
আদালতে নিলামে সম্পত্তি ক্রেতাদের পক্ষে ছিলেন সিনিয়র আইনজীবী ব্যারিস্টার এ এম মাহবুব উদ্দিন খোকন, ব্যারিস্টার মুস্তাফিজুর রহমান খান, ব্যারিস্টার সাকিব মাহবুব ও এডভোকেট সাজিদ হাসান। জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের পক্ষে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল ব্যারিস্টার তানিম খান।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে চালকবিহীন রোবোট্যাক্সি ‘সাইবারক্যাব’ চালুর মাধ্যমে উবার ও ওয়েমোর মতো প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে প্রতিযোগিতায় নামতে চলেছে বৈদ্যুতিক গাড়ি নির্মাতা প্রতিষ্ঠান টেসলা। বৃহস্পতিবার প্রতিষ্ঠানটি নতুন এই গাড়ির আনুষ্ঠানিক যাত্রা শুরু করার ঘোষণা দেয়।
২০২৪ সালের অক্টোবরে প্রথমবার প্রদর্শন করা সোনালি রঙের সাইবারক্যাবে কোন ব্রেক বা অ্যাক্সিলারেটর প্যাডেল এবং স্টিয়ারিং হুইল নেই। এই গাড়িটি মূলত চালক ছাড়াই ট্যাক্সি সেবা দেওয়ার জন্য তৈরি করা হয়েছে এবং এতে দুজন যাত্রী বহন করা যাবে।
খবর বার্তা সংস্থা এএফপি’র।
টেসলার প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) ইলন মাস্ক বৃহস্পতিবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে অস্টিন শহরের ওপর বিশাল আকারে সাইবারক্যাবের একটি ছবি প্রকাশ করেন। ছবিতে গাড়িটির পেছনে ধুলোর মেঘ দেখা যায়। উল্লেখ্য, টেসলার সদর দপ্তরও অস্টিনে অবস্থিত।
অনুষ্ঠানের আগে থেকেই অস্টিনের রাস্তায় সাইবারক্যাব দেখা গেছে। টেসলার হালনাগাদ অ্যাপে এখন যাত্রীরা নতুন এই গাড়ি বেছে নেওয়ার সুযোগ পাচ্ছেন।
অস্ট্রেলিয়া থেকে আসা পর্যটক গ্রাহাম স্প্রিগ এএফপিকে বলেন, ‘এটি মানবজাতির জন্য পরিবর্তন নিয়ে আসবে।’ তিনি আরও বলেন, এর ফলে নিজের গাড়ির মালিকানা থেকে পরিবহনকে একটি সেবা হিসেবে ব্যবহারের দিকে পরিবর্তন আসবে। বিশেষ করে প্রতিবন্ধী ও বয়স্ক মানুষের জন্য এটি খুবই উপকারী হবে।
অস্টিনে টেসলা আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে মাস্ক বলেন, শহরটিতে ব্যাপকভাবে এই নতুন যানবাহন ‘সাইবারক্যাব’ দেখা যাবে। তবে বিনোদনকেন্দ্রে আয়োজিত অনুষ্ঠানটি শুধুমাত্র আমন্ত্রিতদের জন্য ছিল এবং সেখানে গণমাধ্যমের প্রবেশাধিকার ছিল না।
স্থানীয় সংবাদমাধ্যম অস্টিন আমেরিকান-স্টেটসম্যানের প্রতিবেদনে বলা হয়, অনুষ্ঠানে অংশ নেওয়া ব্যক্তিরাই প্রথম চালকবিহীন সাইবারক্যাবে চড়ার সুযোগ পান। শুক্রবার থেকে সাধারণ মানুষের জন্য এই সেবা চালু হওয়ার কথা রয়েছে।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশিত বিভিন্ন পোস্টে দেখা যায়, অনুষ্ঠানে যোগ দিতে আসা অনেকেই সাইবারক্যাবের সোনালি রঙের সঙ্গে মিল রেখে সোনালি পোশাক পরেছিলেন।
টেসলা তাদের বিভিন্ন পোস্টে সাইবারক্যাবের নিরাপত্তা ও প্রতিবন্ধী মানুষের জন্য এর ব্যবহারের সুবিধার কথা তুলে ধরেছে। প্রতিষ্ঠানটি গাড়িটিকে ‘সবার জন্য পরিচ্ছন্ন পরিবহনকে সহজলভ্য করার’ উদ্যোগ হিসেবেও বর্ণনা করেছে।
গত বছর টেসলা অস্টিনে তাদের মডেল ওয়াই এসইউভি ব্যবহার করে চালকবিহীন গাড়ির ‘রোবোট্যাক্সি’ সেবা চালু করে। পরে এই সেবা টেক্সাস, ফ্লোরিডা ও ক্যালিফোর্নিয়ার আরও কয়েকটি শহরে ধীরে ধীরে সম্প্রসারিত হয়।
তবে বিভিন্ন অঙ্গরাজ্যের আইনে এসব গাড়ির অনেকগুলোর ক্ষেত্রে একজন মানব তত্ত্বাবধায়ক বা চালককে প্রস্তুত থাকতে হয়, যাতে প্রয়োজন হলে তিনি গাড়ির নিয়ন্ত্রণ নিতে পারেন।
গুগলের মূল প্রতিষ্ঠান অ্যালফাবেটের চালকবিহীন গাড়ি প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান ওয়েমো বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রের ১১টি শহরে সেবা দিচ্ছে।
টেক্সাস মোটরযান বিভাগের তথ্যের ভিত্তিতে এফএসডি ডেটাবেসের হিসাবে জানা গেছে, বুধবার পর্যন্ত টেক্সাসে টেসলার নিবন্ধিত রোবোট্যাক্সির সংখ্যা ছিল ৩১৪টি। এর মধ্যে ৪৫টি ছিল সাইবারক্যাব।
টিডি সিকিউরিটিজের বিশ্লেষক ইতাই মিখায়েলি এএফপিকে বলেন, রোবোট্যাক্সির মতো সাইবারক্যাবের যাত্রাও ধীরগতিতে শুরু হবে বলে তিনি মনে করছেন। প্রাথমিক ব্যবহারকারীদের কাছ থেকে পাওয়া মতামত বিবেচনায় নিয়ে টেসলা পরে এই সেবা আরও বিস্তৃত করতে পারে বলে তিনি জানান।
স্বয়ংক্রিয় যানবাহনের জন্য টেক্সাসের আইন তুলনামূলকভাবে সহায়ক। ফলে ওয়েমো ও জুক্সের মতো ইতোমধ্যে চালু থাকা এবং মোটিনালের মতো পরীক্ষামূলক পর্যায়ে থাকা অনেক প্রতিষ্ঠানের জন্যও অঙ্গরাজ্যটি গুরুত্বপূর্ণ পরীক্ষাক্ষেত্র হয়ে উঠেছে।
নিউইয়র্কভিত্তিক নীতি গবেষণা প্রতিষ্ঠান কর্নেল টেকের জ্যেষ্ঠ গবেষণা সহযোগী অ্যান্থনি টাউনসেন্ড বলেন, ‘টেসলা আসলে মাত্র শুরু করেছে।’
চালকবিহীন ট্যাক্সি খাতের ক্রমবর্ধমান প্রতিযোগিতায় কোন কোম্পানি সবচেয়ে কার্যকর ব্যবসায়িক মডেল তৈরি করতে পারবে, সেটিই এখন দেখার বিষয় বলে তিনি মন্তব্য করেন।
টাউনসেন্ড এক প্রতিবেদনে বলেন, চালকবিহীন ট্যাক্সি কোম্পানিগুলো একসময় মানবচালিত গাড়ির চেয়ে কম খরচে সেবা দিতে পারবে—এমন প্রত্যাশা দীর্ঘদিনের। তবে সেই পর্যায় এখনো কতটা কাছাকাছি, তা স্পষ্ট নয়। একইভাবে কোম্পানিগুলো কবে লাভ-ক্ষতির সমতা বা ব্রেক-ইভেন পর্যায়ে পৌঁছাবে, সেটিও এখনো অনিশ্চিত।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
ফকল্যান্ডস দ্বীপপুঞ্জের ওপর আর্জেন্টিনার দাবির পক্ষে বিশ্বে ‘পরিবর্তনের হাওয়া’ বইছে বলে মন্তব্য করেছেন দেশটির প্রেসিডেন্ট হাভিয়ের মিলেই। তিনি এ সময় যুক্তরাজ্যের সঙ্গে দ্বীপপুঞ্জ নিয়ে আর্জেন্টিনার বিরোধে যুক্তরাষ্ট্রের দীর্ঘদিনের নিরপেক্ষ অবস্থান পুনর্বিবেচনা করার প্রস্তুতির ইঙ্গিতও উল্লেখ করেন।
খবর বার্তা সংস্থা এএফপি’র।
দক্ষিণ আটলান্টিকের এই দ্বীপপুঞ্জটি বর্তমানে ব্রিটিশ নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। বৃহস্পতিবার জাতির উদ্দেশে দেওয়া টেলিভিশন ভাষণে মিলেই বলেন, ‘বিশ্বে পরিবর্তনের এমন হাওয়া বইছে, যা আমাদের দাবির পক্ষে অনুকূল।’ ১৯৮২ সালে দ্বীপপুঞ্জের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে যুক্তরাজ্য ও আর্জেন্টিনার মধ্যে যুদ্ধ সংঘটিত হয়।
আর্জেন্টিনায় দ্বীপগুলো ‘লাস মালভিনাস’ নামে পরিচিত। দ্বীপগুলোর মালিকানা দেশটির মানুষের কাছে অত্যন্ত আবেগপূর্ণ একটি বিষয়। এ নিয়ে ব্রিটেনের সঙ্গে মাঝে মাঝেই উত্তেজনা সৃষ্টি হয়।
চলতি বছরের শুরুতে বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে ইংল্যান্ডকে ২-১ গোলে হারানোর পর আর্জেন্টিনার খেলোয়াড়েরা ‘ফকল্যান্ডস আর্জেন্টিনার’ লেখা একটি ব্যানার তুলে ধরেছিলেন।
সাম্প্রতিক দিনগুলোতে দ্বীপপুঞ্জের ভবিষ্যৎ নিয়ে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে আলোচনা আবারও শুরু হয়েছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বিরোধে হস্তক্ষেপের হুমকি দিয়েছেন। পাশাপাশি দ্বীপপুঞ্জের কাছে একটি ব্রিটিশ-ইসরাইলি তেল প্রকল্প নিয়েও আর্জেন্টিনায় ক্ষোভ দেখা দিয়েছে।
মন্ত্রিসভার এক ভাষণে মিলেই বলেন, আর্জেন্টিনা ‘চুপচাপ বসে থাকবে না’। তিনি ফকল্যান্ডসের তেল প্রকল্পের সঙ্গে যুক্ত কোম্পানিগুলোর বিরুদ্ধে আরও কঠোর নিষেধাজ্ঞা আরোপের ঘোষণা দেন।
মঙ্গলবার আর্জেন্টিনার ফকল্যান্ডস যুদ্ধের সাবেক সেনা সদস্য এবং পরিবেশবিষয়ক আইনজীবীরা দ্বীপপুঞ্জের উত্তরের জলসীমায় ব্রিটিশ কোম্পানি রকহপার ও ইসরাইলি কোম্পানি নাভিটাসের উদ্যোগে নেওয়া তেল প্রকল্প বন্ধের দাবিতে মামলা করেন।
মিলেই বলেন, এই প্রকল্প জাতিসংঘের একটি প্রস্তাব লঙ্ঘন করছে। ওই প্রস্তাবে বিরোধ নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত ফকল্যান্ডস নিয়ে একতরফা কোনো পদক্ষেপ না নিতে ব্রিটেন ও আর্জেন্টিনা—উভয় পক্ষকে আহ্বান জানানো হয়েছিল।
তিনি বলেন, ‘আমরা এটি হতে দেব না।’ মিলেই আরও বলেন, ‘আমরা যদি এটি হতে দিই, তাহলে ব্রিটিশ সরকারকে দ্বীপগুলোতে তাদের দখল আরও শক্তিশালী করা এবং আমাদের সম্পদ শোষণের জন্য উৎসাহিত করা হবে।’
মিলেইর এই বক্তব্য এমন এক সময়ে এলো, যখন দেশটিতে তার জনপ্রিয়তা দ্রুত কমছে। আগামী বছর তিনি পুনর্নির্বাচনের জন্য লড়বেন, আর তার আগে এক বছরেরও কিছু বেশি সময় বাকি। বিভিন্ন জনমত জরিপে দেখা গেছে, বর্তমানে প্রায় ৩৪ শতাংশ আর্জেন্টাইন তার কর্মকাণ্ডকে সমর্থন করছেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ