সোমবার, ১৪ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং
১০:৪১ এম
যুক্তরাজ্য থেকে বিচ্ছেদের লক্ষ্যে একসঙ্গে কাজ করার পরিকল্পনা করছে স্কটল্যান্ড, ওয়েলস ও নর্দার্ন আয়ারল্যান্ডের রাজনৈতিক নেতৃত্ব। সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) ওয়েলসের রাজধানী কার্ডিফে এক নজিরবিহীন বৈঠকে বসছেন তিন দেশের ফার্স্ট মিনিস্টার।
বৈঠকে তারা একটি যৌথ ঘোষণায় সই করবেন বলে জানিয়েছে প্রভাবশালী ব্রিটিশ সংবাদপত্র দ্য টেলিগ্রাফ।
ঘোষণায় নিজেদের ভবিষ্যৎ নির্ধারণ এবং স্বাধীনতার প্রশ্নে গণভোট আয়োজনের অধিকার দাবি করা হবে। পাঁচ তারকা সেন্ট ডেভিড’স হোটেলে অনুষ্ঠিত হবে এই বৈঠক।
কার্ডিফ বে–এর তীরে অবস্থিত হোটেলটিতে তিন ফার্স্ট মিনিস্টারের সঙ্গে থাকবেন আয়ারল্যান্ডের বিরোধী দলের নেতা ও সিন ফেইনের সভাপতি মেরি লু ম্যাকডোনাল্ড।
বদলে গেছে তিন দেশের রাজনৈতিক চিত্র
স্কটল্যান্ড, ওয়েলস ও নর্দার্ন আয়ারল্যান্ডে এবারই প্রথম তিনটি ডিভলভড সরকারের নেতৃত্বে স্বাধীনতাপন্থি দল রয়েছে।
স্কটল্যান্ডে স্কটিশ ন্যাশনাল পার্টির (এসএনপি) নেতা জন সুইনি ফার্স্ট মিনিস্টার। ওয়েলসে মে মাসের নির্বাচনে লেবার পার্টির বড় পরাজয়ের পর সবচেয়ে বড় দল হয়েছে প্লেইড কামরু। দলটির নেতা রুন আপ আইওয়ার্থ ওয়েলসের ফার্স্ট মিনিস্টারের দায়িত্ব নিয়েছেন।
অন্যদিকে নর্দার্ন আয়ারল্যান্ডে ২০২২ সালের স্টর্মন্ট নির্বাচনে সবচেয়ে বেশি আসন পেয়েছিল সিন ফেইন। ডেমোক্রেটিক ইউনিয়নিস্ট পার্টির (ডিইউপি) বয়কটের কারণে অবশ্য মিশেল ও’নিল ২০২৪ সাল পর্যন্ত ফার্স্ট মিনিস্টারের দায়িত্ব নিতে পারেননি।আগামী বছর নর্দার্ন আয়ারল্যান্ডের নির্বাচনে সিন ফেইন আবারও ক্ষমতায় থাকবে বলে ব্যাপকভাবে ধারণা করা হচ্ছে।
‘বর্তমান ব্যবস্থা টেকসই নয়’
স্কটল্যান্ডের ফার্স্ট মিনিস্টার জন সুইনি বলেছেন, তিন দেশেই স্বাধীনতাপন্থি নেতৃত্ব থাকা প্রমাণ করে যে বর্তমান সাংবিধানিক ব্যবস্থা টেকসই নয়। তার কথায়, ওয়েস্টমিনস্টারকে যুক্তরাজ্য-পরবর্তী ভবিষ্যতের জন্য প্রস্তুতি নিতে হবে।
সুইনি আরও বলেন, সাংবিধানিক পরিবর্তনের পক্ষে গতি এখন অস্বীকার করার মতো নয়। তিনি যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী অ্যান্ডি বার্নহামের সমালোচনা করে বলেন, বার্নহামকে হয়তো ভাবতে হচ্ছে যে, ইতিহাসে তিনিই যুক্তরাজ্যের শেষ প্রধানমন্ত্রী হিসেবে পরিচিত হবেন।
কার্ডিফের বৈঠককে স্বাধীনতার দিকে একটি ‘নতুন শুরু’ হিসেবে দেখছেন সুইনি।
স্বাধীনতার গণভোট নিয়ে বার্নহামের অবস্থান
তিন নেতার বৈঠকের আগে স্কটল্যান্ডের স্বাধীনতা গণভোট নিয়ে নতুন করে রাজনৈতিক বিতর্ক শুরু হয়েছে। অ্যান্ডি বার্নহাম সম্প্রতি ব্রিটিশ পার্লামেন্টে বলেছেন, স্কটল্যান্ডে স্বাধীনতার পক্ষে যদি ‘স্পষ্ট ঐকমত্য’ তৈরি হয়, তাহলে আরেকটি গণভোটের অনুমোদন দেওয়া হতে পারে।
তার এই বক্তব্যকেই নিজেদের দাবির পক্ষে ব্যবহার করতে চাইছেন স্কটিশ স্বাধীনতাপন্থিরা। সুইনির ঘনিষ্ঠ একটি সূত্রের দাবি, স্কটল্যান্ড ও নর্দার্ন আয়ারল্যান্ডের ক্ষেত্রে গণভোটের প্রশ্নে বার্নহামের বক্তব্য পরস্পরবিরোধী।
তাদের মতে, এ বিষয়ে প্রধানমন্ত্রীর অবস্থান যুক্তরাজ্যের সাংবিধানিক কাঠামো সম্পর্কে তার অজ্ঞতারই প্রকাশ।
আয়ারল্যান্ড এক হওয়ার সম্ভাবনাও আলোচনায়
নর্দার্ন আয়ারল্যান্ডের ভবিষ্যৎ নিয়েও বৈঠকে আলোচনা হওয়ার কথা।
‘গুড ফ্রাইডে চুক্তি’ অনুযায়ী, নর্দার্ন আয়ারল্যান্ডের সংখ্যাগরিষ্ঠ মানুষ যুক্তরাজ্য ছাড়তে চান—এমন সম্ভাবনা তৈরি হলে আইরিশ পুনরেকত্রীকরণ নিয়ে গণভোট আয়োজনের পথ রয়েছে।
সিন ফেইন মনে করছে, সেই সম্ভাবনার জন্য এখন থেকেই প্রস্তুতি নেওয়া প্রয়োজন। দলটির এক সূত্র বলেছে, প্রতিটি জাতিরই গণতান্ত্রিক উপায়ে নিজেদের ভবিষ্যৎ নির্ধারণের অধিকার রয়েছে।
তাদের ভাষায়, আইরিশ ঐক্য কোনো দূরবর্তী আকাঙ্ক্ষা নয়। নতুন আয়ারল্যান্ড গঠনের কাজ এখনই শুরু করা উচিত।
ইউরোপের সঙ্গে সম্পর্কও হবে আলোচনায়
কার্ডিফের বৈঠকে তিন দলের মধ্যে একটি সমঝোতা স্মারক সই হওয়ার কথা। অর্থনীতি, জ্বালানি, ইউরোপ ও আন্তর্জাতিক সহযোগিতা এবং আত্মনিয়ন্ত্রণ—এই চারটি বিষয় থাকবে সমঝোতার আওতায়।
তিন দলই মনে করে, তাদের ভবিষ্যৎ ইউরোপীয় ইউনিয়নের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে যুক্ত হওয়া উচিত। স্কটল্যান্ড ও ওয়েলস স্বাধীন রাষ্ট্র হিসেবে ইউরোপীয় ইউনিয়নে যোগ দিতে পারে বলে মনে করছে তারা।
আর নর্দার্ন আয়ারল্যান্ডের ক্ষেত্রে আয়ারল্যান্ড প্রজাতন্ত্রের অংশ হওয়ার মাধ্যমে ইউরোপীয় ইউনিয়নের সঙ্গে যুক্ত হওয়ার কথা বলা হয়েছে।
স্বাধীনতার প্রস্তুতির অংশ হিসেবে ইউরোপের প্রতিবেশী দেশগুলোর সঙ্গে সম্পর্ক আরও জোরদারের বিষয়টিওবৈঠকে ওয়েলসের অর্থনৈতিক ও প্রশাসনিক ক্ষমতা বাড়ানোর দাবিও তুলবে প্লেই সমঝোতায় থাকবে।
ওয়েলসের আরও ক্ষমতা চায় প্লেইড কামরু
বৈঠকে ওয়েলসের অর্থনৈতিক ও প্রশাসনিক ক্ষমতা বাড়ানোর দাবিও তুলবে প্লেইড কামরু। দলটি ওয়েলস সরকারের হাতে কর ও ব্যয়ের ওপর আরও ক্ষমতা দেওয়ার দাবি করছে।
ক্রাউন এস্টেট থেকে পাওয়া রাজস্বের একটি অংশও ওয়েলসকে দেওয়ার দাবি রয়েছে। এর মধ্যে অফশোর উইন্ড ফার্ম স্থাপিত সমুদ্রতল থেকে পাওয়া আয়ও রয়েছে। বর্তমানে এসব রাজস্ব ব্রিটিশ সরকারের কোষাগারে যায়।
প্লেইড কামরু আরও উদার অর্থায়ন ব্যবস্থা এবং পুলিশ ও রেল খাতের মতো অতিরিক্ত ক্ষমতা ওয়েলস সরকারের হাতে দেওয়ার দাবি করছে। দলটির মতে, জ্বালানি, অর্থনীতি, ইউরোপের সঙ্গে সম্পর্ক এবং আত্মনিয়ন্ত্রণের মতো বিষয়ে তিন দেশের রাজনৈতিক সহযোগিতা বাড়ানোর যথেষ্ট সুযোগ রয়েছে।
লন্ডনের আপত্তি
তবে যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী অ্যান্ডি বার্নহাম স্কটল্যান্ডের আরেকটি স্বাধীনতা গণভোটের সম্ভাবনা নাকচ করেছেন। গত বৃহস্পতিবার জন সুইনিকে লেখা এক চিঠিতে তিনি বলেন, পরবর্তী সাধারণ নির্বাচনের আগে স্কটল্যান্ডের স্বাধীনতা নিয়ে আরেকটি গণভোটের প্রশ্নই ওঠে না।
বার্নহামের দাবি, স্কটল্যান্ডে স্বাধীনতা গণভোটের পক্ষে কোনো ঐকমত্য নেই। নর্দার্ন আয়ারল্যান্ডের ক্ষেত্রেও যুক্তরাজ্য ছাড়ার পক্ষে সংখ্যাগরিষ্ঠ মানুষের ইচ্ছা রয়েছে—এমন স্পষ্ট ভিত্তি নেই বলে তিনি উল্লেখ করেন।
তিনি আরও বলেন, ২০২৪ সালের নির্বাচনের আগে লেবার পার্টির ইশতেহারে স্পষ্টভাবেই বলা হয়েছিল, দলটি স্বাধীনতা বা আরেকটি গণভোট সমর্থন করে না।
বার্নহামের মতে, স্বাধীনতা ও গণভোটের বিতর্ক অর্থনীতি সচল করা এবং জীবনযাত্রার ব্যয় কমানোর মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয় থেকে সরকারের মনোযোগ সরিয়ে দেবে।
ট্রাম্পের মন্তব্যে নতুন মাত্রা
এই বৈঠকের মাত্র দুইদিন আগে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পও নর্দার্ন আয়ারল্যান্ড নিয়ে মন্তব্য করেছেন। শনিবার ডাবলিন সফরের সময় তিনি বলেন, তিনি একটি ঐক্যবদ্ধ আয়ারল্যান্ড দেখতে ‘খুবই আগ্রহী’।
নর্দার্ন আয়ারল্যান্ড আয়ারল্যান্ড প্রজাতন্ত্রের সঙ্গে যুক্ত হলে সেটি ‘দারুণ ব্যাপার’ হবে বলেও মন্তব্য করেন তিনি। ট্রাম্প প্রশ্ন তোলেন, এমন পরিবর্তন কীভাবে খারাপ হতে পারে।
এর ফলে যুক্তরাজ্যের ভবিষ্যৎ এবং নর্দার্ন আয়ারল্যান্ডের সাংবিধানিক অবস্থান নিয়ে বিতর্কে আন্তর্জাতিক মাত্রাও যুক্ত হয়েছে।
সূত্র: দ্য টেলিগ্রাফ
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
বাংলাদেশ জাতীয় সংসদের স্পিকার মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমেদ বীর বিক্রম ভোলা-চরফ্যাশন মহাসড়কের দুই পাশে ৭০ কিলোমিটার এলাকাজুড়ে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির উদ্বোধন করেছেন।
সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) সকালে ভোলা-চরফ্যাশন মহাসড়কের ডাওরিহাট সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়সংলগ্ন সড়কে এ কর্মসূচির উদ্বোধন করা হয়। ‘সবুজ, সুসজ্জিত ও পরিবেশবান্ধব বাংলাদেশ গড়ার প্রত্যয়ে’ এ কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়েছে।
মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের নির্দেশনায় জেলা প্রশাসকদের অগ্রাধিকার কর্মপরিকল্পনা বাস্তবায়নের আওতায় এ বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়েছে।
কর্মসূচির আওতায় ভোলা-চরফ্যাশন মহাসড়কের দুই পাশে প্রায় ৭০ কিলোমিটার এলাকায় বিভিন্ন প্রজাতির গাছের চারা রোপণ করা হবে। এর মাধ্যমে সড়কের সৌন্দর্য বৃদ্ধি, পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা এবং সবুজায়ন কার্যক্রম জোরদার হবে বলে সংশ্লিষ্টরা আশা করছেন।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে ভোলা জেলা প্রশাসক ডা. শামীম আহমেদ, লালমোহন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মোহাম্মদ সিফাত বিন সাদেকসহ প্রশাসনের কর্মকর্তা, জনপ্রতিনিধি, রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ, শিক্ষক-শিক্ষার্থীসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ উপস্থিত ছিলেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
বিদেশে পাচার হওয়া সম্পদের মধ্যে আদালত কর্তৃক ফ্রিজ হওয়া ব্যাংক অ্যাকাউন্ট থেকে সরকারের কর আদায়ের বিষয়ে মতামত ও সিদ্ধান্ত গ্রহণের জন্য সরকার একটি ৭ সদস্যের কমিটি গঠন করেছে।
রোববার (১৩ সেপ্টেম্বর) আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের কেন্দ্রীয় ব্যাংক শাখা থেকে এ-সংক্রান্ত একটি প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়। উপসচিব আফরোজা আক্তার রিবা স্বাক্ষরিত প্রজ্ঞাপনে কমিটি গঠনের বিষয়টি জানানো হয়েছে। সরকারের প্রাপ্য শুল্ক ও কর আদায়ে সমন্বিত উদ্যোগ গ্রহণের লক্ষ্যে অ্যাটর্নি জেনারেলকে আহ্বায়ক করে অর্থ মন্ত্রণালয়ের আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগ সাত সদস্যের একটি আন্তঃমন্ত্রণালয় কমিটি গঠন করেছে।
প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, কমিটির আহ্বায়ক হিসেবে বাংলাদেশের অ্যাটর্নি জেনারেলকে নিযুক্ত করা হয়েছে। সদস্য হিসেবে থাকবেন আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের কেন্দ্রীয় ও বাণিজ্যিক ব্যাংক অনুবিভাগের অতিরিক্ত সচিব, দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) মানিলন্ডারিং শাখার মহাপরিচালক, বাংলাদেশ ফাইন্যান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিটের (বিএফআইইউ) প্রধান কর্মকর্তা, জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) সেন্ট্রাল ইন্টেলিজেন্স সেলের (সিআইসি) মহাপরিচালক এবং বাংলাদেশ পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগের (সিআইডি) অর্গানাইজড ক্রাইম শাখার ডিআইজি।
এছাড়া, জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের কাস্টমস গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তরের (সিআইআইডি) মহাপরিচালক কমিটির সদস্য-সচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন। কমিটির কার্যপরিধিতে উল্লেখ করা হয়েছে, বিদেশে পাচারকৃত সম্পদের মধ্যে আদালত কর্তৃক ফ্রিজ বা অ্যাটাচমেন্ট করা হিসাব থেকে সরকারের শুল্ক ও কর আদায়ের ক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় আইনগত ও অন্যান্য পদক্ষেপ গ্রহণের বিষয়ে করণীয় নির্ধারণ করবে কমিটি।
বিদ্যমান আইন ও বিধিবিধান পর্যালোচনা করে কী ধরনের আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন, কোন প্রক্রিয়ায় রাষ্ট্রের প্রাপ্য অর্থ আদায় করা সম্ভব এবং সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর মধ্যে কীভাবে কার্যকর সমন্বয় নিশ্চিত করা যায়—এসব বিষয়ে সিদ্ধান্ত ও সুপারিশ প্রণয়ন করবে কমিটি।
পাচার হওয়া সম্পদের বিষয়ে অনুসন্ধান, তথ্য সংগ্রহ, আর্থিক লেনদেনের গতিপথ শনাক্ত এবং আদালতের নির্দেশে অবরুদ্ধ সম্পদের ব্যবস্থাপনার সঙ্গে একাধিক সরকারি সংস্থা যুক্ত থাকায় সমন্বিতভাবে কাজ করার বিষয়টি সরকারের কাছে গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে হচ্ছে। কমিটি এ-সংক্রান্ত প্রয়োজনীয় সুপারিশ প্রণয়ন করে যথাযথ কর্তৃপক্ষের কাছে উপস্থাপন করবে।
ফলে বিদেশে পাচারকৃত সম্পদের বিষয়ে আইনগত প্রক্রিয়া এগিয়ে নেওয়ার পাশাপাশি সরকারের প্রাপ্য শুল্ক ও কর আদায়ের ক্ষেত্রে একটি সমন্বিত কাঠামো তৈরি হবে। সরকারের রাজস্ব আদায় নিশ্চিত করার পাশাপাশি পাচার হওয়া অর্থ ও সম্পদ দেশে ফিরিয়ে আনার চলমান উদ্যোগকে আরও কার্যকর করতেই এ কমিটি গঠন করা হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।
বিশেষ করে আদালতের আদেশে বিদেশে কোনো অর্থ বা সম্পদ অবরুদ্ধ হওয়ার পর সেখান থেকে রাষ্ট্রের প্রাপ্য কর ও শুল্ক আদায়ের ক্ষেত্রে যেসব আইনগত ও প্রশাসনিক জটিলতা দেখা দিতে পারে, সেগুলো চিহ্নিত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার সুপারিশ করবে কমিটি।
অর্থ মন্ত্রণালয়ের এই উদ্যোগের ফলে বিদেশে পাচার হওয়া সম্পদ উদ্ধারের প্রক্রিয়ায় সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে সমন্বয় বাড়বে এবং রাষ্ট্রের আর্থিক স্বার্থ সুরক্ষায় কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের সঙ্গে যুদ্ধ শেষ হওয়ার পর দেশটিতে সেনা রাখার পরিকল্পনা করছেন। তিনি একইসঙ্গে ভেনেজুয়েলার মতো ইরানের তেল নিয়ন্ত্রণে রাখার সম্ভাবনার কথাও উল্লেখ করেছেন।
রোববার আয়ারল্যান্ড সফরের সময় আইরিশ ওপেন গলফ চ্যাম্পিয়নশিপে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে ট্রাম্প ভেনেজুেলার সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের সাম্প্রতিক জ্বালানি চুক্তির উদাহরণ তুলে ধরেন।
ট্রাম্প বলেন, "শেষ পর্যন্ত আমরা ইরান থেকে বের হয়ে আসব। তবে যদি আমরা সেখানে থেকে যাওয়ার এবং ভেনেজুেলার মতো তেল রেখে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিই, তাহলে বিষয়টি ভিন্ন।"
তিনি আবারও জানান, ইরান যুদ্ধ চলতি বছরের মধ্যেই শেষ হবে বলে তার প্রত্যাশা। তবে তিনি ইঙ্গিত দেন যে যুদ্ধের অবসান নভেম্বরে যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনের পরপরই হতে পারে।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট দাবি করেন, ইরান শান্তি আলোচনার জন্য নিয়মিত যোগাযোগ করছে। যদিও তেহরান অতীতে এ ধরনের দাবি প্রত্যাখ্যান করেছে। ট্রাম্প বলেন, তিনি কেবল ‘সঠিক চুক্তি’ করতে চান এবং কোনো ‘খারাপ চুক্তিতে’ রাজি হবেন না।
এদিকে, মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাতের প্রেক্ষাপটে বিশ্ববাজারে তেলের সরবরাহ নিয়ে নতুন উদ্বেগ সৃষ্টি হয়েছে। সৌদি আরবের একটি গুরুত্বপূর্ণ তেল পাইপলাইনে হামলার খবরের পর সোমবার তেলের দাম বৃদ্ধি পেয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে বাড়তি দামের অসন্তোষও ছড়িয়ে পড়েছে।
তবে ট্রাম্প আশ্বাস দিয়ে বলেন, ইরান যুদ্ধ শেষ হলে যুক্তরাষ্ট্রে গ্যাসোলিনের দাম ‘পাথরের মতো দ্রুত’ কমে যাবে।
ভেনেজুেলার সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের সাম্প্রতিক জ্বালানি চুক্তির প্রসঙ্গে ট্রাম্প দাবি করেন, দেশটি থেকে যুক্তরাষ্ট্র যে রাজস্ব পাচ্ছে, তা দিয়ে যুদ্ধের খরচ ‘অনেকবার’ মেটানো হয়ে গেছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
চলমান হাম-রুবেলার টিকাদান কর্মসূচির আওতায় সারাদেশে এখন পর্যন্ত ১ কোটি ৯৭ লাখ ৭১ হাজার ৭২০ জন শিশু টিকা গ্রহণ করেছে, যা লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে প্রায় ১০ শতাংশ বেশি।
স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের মতে, চলতি বছরের মার্চ মাসের শেষের দিকে দেশে হামের প্রাদুর্ভাব দেখা দিলে সরকার দ্রুততার সঙ্গে ৫ এপ্রিল প্রথম দফায় দেশের ১৮ জেলার ৩০ উপজেলায় জরুরি টিকাদান কর্মসূচি শুরু করে। দ্বিতীয় দফায় ১২ এপ্রিল থেকে গুরুত্বপূর্ণ ৪টি সিটি কর্পোরেশনে (ঢাকা দক্ষিণ, ঢাকা উত্তর, বরিশাল ও ময়মনসিংহ) এবং তৃতীয় দফায় ২০ এপ্রিল থেকে সারাদেশে একযোগে হাম-রুবেলার টিকাদান কর্মসূচি শুরু হয়, যা এখনও চলমান রয়েছে। দেশে হামের প্রাদুর্ভাব অব্যাহত থাকায় আগামী ২৬ সেপ্টেম্বর থেকে হাম প্রতিরোধে সরকার আবারও নতুন করে ব্যাপকভাবে টিকা ক্যাম্পেইন শুরু করতে যাচ্ছে।
স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানায়, প্রথমে এই কর্মসূচির আওতায় সারাদেশের প্রায় ১ কোটি ৮০ লাখ শিশুকে টিকা দেওয়ার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছিল। তবে সরকারের বিভিন্ন উদ্যোগের ফলস্বরূপ শিশুদের টিকা গ্রহণের লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়ে ১০৯ দশমিক ৮ শতাংশে পৌঁছেছে।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, সরকারের লক্ষ্যমাত্রা ছিল ১ কোটি ৮০ লাখ ১৫ হাজার ৬৪ জন শিশুকে হাম-রুবেলার টিকা দেওয়া। কিন্তু ১৩ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত সারাদেশে ১ কোটি ৯৭ লাখ ৭১ হাজার ৭২০ জন শিশুকে টিকা দেওয়া হয়েছে।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তর থেকে হাম-রুবেলার টিকার সমন্বিত নিয়ন্ত্রণ কেন্দ্রের তথ্য বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, বরিশাল বিভাগে ১১ লাখ ১০ হাজার ৬৯৮ জন, চট্টগ্রাম বিভাগে ৪৮ লাখ ৪১ হাজার ৯২৪ জন, ঢাকা বিভাগে ৪৯ লাখ ১৯ হাজার ৯১৩ জন, খুলনা বিভাগে ১৬ লাখ ৯৫ হাজার ৭৭৯ জন, ময়মনসিংহ বিভাগে ১৫ লাখ ৩০ হাজার ৯১৬ জন, রাজশাহী বিভাগে ২২ লাখ ১৩ হাজার ১৯৭ জন, রংপুর বিভাগে ২০ লাখ ৭৩ হাজার ৪৮৮ জন এবং সিলেট বিভাগে ১৩ লাখ ৮৫ হাজার ৮০৫ জন শিশুকে হাম-রুবেলার টিকা দেওয়া হয়েছে।
এছাড়া সিটি কর্পোরেশন এলাকায় বরিশাল সিটি কর্পোরেশনে ৪৪ হাজার ১১৯ জন, চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনে ৩ লাখ ৩৬ হাজার ৮৭০ জন, কুমিল্লা সিটি কর্পোরেশনে ৪৮ হাজার ৬৪৩ জন, ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনে ৫ লাখ ৫৭ হাজার ৬৮৮ জন, ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনে ৪ লাখ ১৮ হাজার ৯৭২ জন, গাজীপুর সিটি কর্পোরেশনে ২ লাখ ৬ হাজার ৯২৭ জন, নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশনে ৮৩ হাজার ৬৯৭ জন, খুলনা সিটি কর্পোরেশনে ৯৬ হাজার ৭৯২ জন, ময়মনসিংহ সিটি কর্পোরেশনে ৬২ হাজার ৩০৫ জন, রাজশাহী সিটি কর্পোরেশনে ৬৩ হাজার ৫৯ জন, রংপুর সিটি কর্পোরেশনে ৮২ হাজার ২৫৩ জন এবং সিলেট সিটি কর্পোরেশন এলাকায় ৭২ হাজার ৩৪৯ জন শিশু হাম-রুবেলার টিকা গ্রহণ করেছে।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. মো. জাহিদ রায়হান বলেন, "শিশুদের টিকা দেওয়া একটি চলমান পক্রিয়া। তবে আগামী ২৬ সেপ্টেম্বর থেকে সারাদেশে ব্যাপকভাবে শিশুদের হামের টিকা দেওয়ার যে ঘোষণা দেওয়া হয়েছে, এটা সরকারের বাড়তি তৎপরতা।"
তিনি আরও বলেন, "এই কর্মসূচির মূল লক্ষ্য, যাতে কোনো শিশু টিকা গ্রহণ থেকে বাদ না পড়ে।"
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ