মোঃ লোকমান হোসেন, খাগড়াছড়ি প্রতিনিধি,
সোমবার, ৭ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং
০৭:৩১ পি.এম
নগদ টাকার ব্যবহার কমিয়ে নিরাপদ ও প্রযুক্তিনির্ভর লেনদেনে মানুষকে অভ্যস্ত করতে খাগড়াছড়ির দীঘিনালায় ক্যাশলেস বুথ চালু করেছে পূবালী ব্যাংক। ‘ক্যাশলেস বাংলাদেশ’ গড়ার লক্ষ্যে আয়োজিত এ বুথে গ্রাহকদের হাতে-কলমে নগদ টাকা ছাড়াই লেনদেনের বিভিন্ন পদ্ধতি সম্পর্কে ধারণা দেওয়া হচ্ছে।
সোমবার (৭ সেপ্টেম্বর) বিকেল ৫টায় দীঘিনালার বোয়ালখালী বাজারে এ ক্যাশলেস বুথের উদ্বোধন করা হয়। চট্টগ্রাম উত্তর অঞ্চল প্রধান ও ডিজিএম এ কে এম মাসুদ প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে বুথটির উদ্বোধন করেন।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন খাগড়াছড়ি শাখার ব্যবস্থাপক ও এজিএম ইকবাল হোসেন। সভাপতিত্ব করেন পূবালী ব্যাংকের দীঘিনালা উপশাখা প্রধান পিও ইভান ত্রিপুরা। এ সময় বোয়ালখালী বাজার পরিচালনা কমিটির নেতৃবৃন্দসহ দীঘিনালা উপজেলার পূবালী ব্যাংকের বিভিন্ন পর্যায়ের গ্রাহকরা উপস্থিত ছিলেন।
বুথটি তিন দিন কার্যক্রম পরিচালনা করবে। এ সময়ে আগ্রহী গ্রাহকদের নগদ অর্থ ছাড়াই ব্যাংকিং ও আর্থিক লেনদেনের পদ্ধতি সম্পর্কে প্রশিক্ষণ ও ব্যবহারিক ধারণা দেওয়া হবে। পাশাপাশি ক্যাশলেস লেনদেনের সুবিধা, নিরাপত্তা ও প্রয়োজনীয় সতর্কতা সম্পর্কেও সচেতন করা হবে।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে ডিজিএম এ কে এম মাসুদ বলেন, “বর্তমান সময়ে ক্যাশলেস লেনদেন নিরাপদ ও স্বচ্ছ আর্থিক ব্যবস্থার অন্যতম মাধ্যম। নগদ টাকা বহনের ঝুঁকি কমানোর পাশাপাশি ক্যাশলেস লেনদেনের মাধ্যমে দ্রুত ও সহজে অর্থ স্থানান্তর করা যায়। লেনদেনের হিসাবও ডিজিটালভাবে সংরক্ষিত থাকে, ফলে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা সহজ হয়।
সংশ্লিষ্টরা জানান, নগদ অর্থের পরিবর্তে ডিজিটাল লেনদেন বাড়লে টাকা বহন ও সংরক্ষণের ঝুঁকি কমে, লেনদেনে সময় সাশ্রয় হয় এবং আর্থিক কার্যক্রমে স্বচ্ছতা বাড়ে। বিশেষ করে ব্যবসায়ী ও সাধারণ গ্রাহকদের দৈনন্দিন কেনাকাটা, বিল পরিশোধ, অর্থ স্থানান্তরসহ বিভিন্ন কাজে ক্যাশলেস পদ্ধতি ব্যবহার করলে আর্থিক লেনদেন আরও সহজ ও নিরাপদ হয়ে উঠবে।
ক্যাশলেস বুথে এসে গ্রাহকরা ডিজিটাল লেনদেনের পদ্ধতি সম্পর্কে সরাসরি জানতে ও ব্যবহার করে দেখতে পারছেন। আয়োজকদের প্রত্যাশা, এ ধরনের উদ্যোগের মাধ্যমে দীঘিনালার সাধারণ মানুষ ও ব্যবসায়ীদের মধ্যে নগদবিহীন লেনদেনের প্রতি আগ্রহ আরও বাড়বে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
ঢাকা, ৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ : দেশে সার্বিক মূল্যস্ফীতি আগস্ট মাসে কিছুটা হ্রাস পেয়েছে। এ মাসে পয়েন্ট-টু-পয়েন্ট ভিত্তিতে সার্বিক মূল্যস্ফীতি কমে ৮ দশমিক ২৬ শতাংশে এসে দাঁড়িয়েছে।
আজ প্রকাশিত বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) সর্বশেষ মূল্যস্ফীতি ও মজুরি সূচক সংক্রান্ত মাসভিত্তিক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
বিবিএসের তথ্য অনুযায়ী, পূর্ববর্তী মাস জুলাইয়ে দেশে সার্বিক মূল্যস্ফীতির হার ছিল ৮ দশমিক ৩২ শতাংশ। সেই হিসাবে এক মাসের ব্যবধানে মূল্যস্ফীতি ০ দশমিক ০৬ শতাংশীয় পয়েন্ট কমেছে। উল্লেখ্য, গত বছরের (২০২৫) আগস্ট মাসে সার্বিক মূল্যস্ফীতি ছিল ৮ দশমিক ২৯ শতাংশ।
বিবিএস জানায়, আগস্টে সার্বিক মূল্যস্ফীতি হ্রাসের পেছনে মূল ভূমিকা রেখেছে খাদ্যপণ্যের দরপতন। এ মাসে খাদ্য মূল্যস্ফীতি কমে দাঁড়িয়েছে ৭ দশমিক ০২ শতাংশে, যা জুলাই মাসে ছিল ৭ দশমিক ১৬ শতাংশ। গত বছরের আগস্টে খাদ্য মূল্যস্ফীতির হার ছিল ৭ দশমিক ৬০ শতাংশ।
অন্যদিকে, খাদ্যবহির্ভূত পণ্য ও সেবা খাতে মূল্যস্ফীতি আগস্টে কিছুটা ঊর্ধ্বমুখী হয়ে ৯ দশমিক ৩২ শতাংশে পৌঁছেছে। জুলাই মাসে এ হার ছিল ৯ দশমিক ২৮ শতাংশ এবং গত বছরের আগস্টে ছিল ৮ দশমিক ৯০ শতাংশ।
ভৌগোলিক ক্ষেত্র বিবেচনায় বিবিএসের হিসাবে, আগস্টে গ্রামাঞ্চলে সার্বিক মূল্যস্ফীতি রেকর্ড করা হয়েছে ৮ দশমিক ৩১ শতাংশ, যা জুলাইয়ে ছিল ৮ দশমিক ৩৬ শতাংশ। এ সময়ে গ্রামে খাদ্য মূল্যস্ফীতি কমে ৭ দশমিক ০১ শতাংশ হলেও খাদ্যবহির্ভূত মূল্যস্ফীতি কিছুটা বেড়ে ৯ দশমিক ৫৯ শতাংশে রূপ নিয়েছে।
একই সময়ে শহরাঞ্চলে আগস্টে সার্বিক মূল্যস্ফীতি কমে দাঁড়িয়েছে ৮ দশমিক ২০ শতাংশে, যা জুলাই মাসে ছিল ৮ দশমিক ২৪ শতাংশ। শহর এলাকায় আগস্ট মাসে খাদ্য মূল্যস্ফীতি হয়েছে ৭ দশমিক ০৪ শতাংশ এবং খাদ্যবহির্ভূত মূল্যস্ফীতি রেকর্ড করা হয়েছে ৮ দশমিক ৯৭ শতাংশ।
এদিকে মূল্যস্ফীতি কমার পাশাপাশি জাতীয় পর্যায়ে মজুরি বৃদ্ধির হারও কিছুটা মন্থর হয়েছে। আগস্ট মাসে জাতীয় পর্যায়ে ‘মজুরি হার সূচক’-এর পয়েন্ট-টু-পয়েন্ট প্রবৃদ্ধি হয়েছে ৮ দশমিক ০৫ শতাংশ। এর আগে জুলাই মাসে এ প্রবৃদ্ধির হার ছিল ৮ দশমিক ২২ শতাংশ এবং গত বছরের আগস্টে ছিল ৮ দশমিক ১৫ শতাংশ।
খাতওয়ারি বিন্যাসে আগস্টে কৃষি খাতে মজুরি বৃদ্ধির হার ছিল ৮ দশমিক ০৭ শতাংশ, শিল্প খাতে ৭ দশমিক ৯৭ শতাংশ এবং সেবা খাতে ৮ দশমিক ২৫ শতাংশ। বিশ্লেষণে দেখা যায়, আলোচিত তিন খাতের মধ্যে সেবা খাতেই মজুরি বৃদ্ধির গতি ছিল তুলনামূলক সবচেয়ে বেশি।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
রাজবাড়ীর দৌলতদিয়া ঘাটে ভিড়তে ব্যর্থ হয়ে তীব্র স্রোতের কারণে ভেসে যায় রো-রো ফেরি ‘হামিদুর রহমান’। উদ্ধারকারী জাহাজের সহায়তায় পরে দুপুরে ফেরিটি উদ্ধার করা হয়।
ফেরিটি মেরামতের উদ্দেশ্যে পাটুরিয়া ঘাটের ভাসমান কারখানায় পাঠানো হয়েছে।
বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন করপোরেশনের (বিআইডব্লিউটিসি) দৌলতদিয়া কার্যালয়ের উপমহাব্যবস্থাপক মোহাম্মদ সালাউদ্দিন এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, সকাল পৌনে ১০টার দিকে মানিকগঞ্জের পাটুরিয়া ঘাট থেকে দৌলতদিয়ার উদ্দেশ্যে রওনা দেয় রো-রো ফেরি ‘হামিদুর রহমান’। নদী পার হওয়ার সময় ফেরিটি তীব্র স্রোতের কবলে পড়ে এবং যান্ত্রিক ত্রুটি দেখা দেয়।
এক পর্যায়ে ফেরিটি স্রোতের টানে ভাটির দিকে চলে যেতে থাকে এবং দৌলতদিয়া ৭ নম্বর ফেরিঘাটের নিচে নোঙর করা হয়। পরে উদ্ধারকারী জাহাজ সেখানে পৌঁছে ফেরিটি উদ্ধারের কাজ শুরু করে। দুপুর ২টার দিকে ফেরিটি উদ্ধার করা হয়। উদ্ধারের পর ফেরিটি মেরামতের জন্য পাটুরিয়া ঘাটের ভাসমান কারখানায় পাঠানো হয়েছে।
বিআইডব্লিউটিসি সূত্রে জানা গেছে, ফেরিটিতে আটটি যাত্রীবাহী বাস, চারটি ট্রাক এবং তিনটি প্রাইভেটকার ছিল। উপমহাব্যবস্থাপক মোহাম্মদ সালাউদ্দিন জানান, তীব্র স্রোতের কারণে মাঝে মাঝে এ ধরনের ঘটনা ঘটে।
ফেরিতে থাকা যাত্রী ও যানবাহনের চালকেরা জানান, ফেরিটি স্রোতের টানে ঘাটে ভিড়তে ব্যর্থ হয়ে ভাটির দিকে চলে যেতে থাকায় তারা আতঙ্কিত হয়ে পড়েন। পরে ফেরিটি নোঙর করা হলে এবং উদ্ধারকারী জাহাজ ঘটনাস্থলে পৌঁছালে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়ে ওঠে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
আসন্ন উপজেলা পরিষদ নির্বাচনের জন্য নির্বাচন কমিশন (ইসি) নতুনভাবে উপজেলা পরিষদ নির্বাচন আচরণ বিধিমালা-২০২৬ জারি করেছে। সম্প্রতি ইসির সিনিয়র সচিব আখতার আহমেদের স্বাক্ষরে নতুন বিধিমালা সম্পর্কিত গেজেটটি নির্বাচন কমিশনের ওয়েবসাইটে প্রকাশ করা হয়েছে।
নতুন বিধিমালায় নির্বাচনী প্রচারণার ক্ষেত্রে পোস্টার ব্যবহার নিষিদ্ধ করা হয়েছে। এছাড়া মিছিল-শোডাউন, হেলিকপ্টার ব্যবহার, সরকারি সুযোগ-সুবিধা গ্রহণ এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার (এআই) মাধ্যমে বিভ্রান্তিকর বা বিদ্বেষপূর্ণ কনটেন্ট প্রচারের ওপর কঠোর বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়েছে।
এছাড়া উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে প্রার্থী এবং তাদের সমর্থকদের প্রচারণার ধরন ও ব্যয়ের ওপর নিয়ন্ত্রণ আরোপ করা হয়েছে। নির্বাচনী আচরণবিধি লঙ্ঘনের অভিযোগ প্রমাণিত হলে সংশ্লিষ্ট প্রার্থীর প্রার্থিতা বাতিলের সুযোগ রাখা হয়েছে। বিধিমালা লঙ্ঘনের ক্ষেত্রে শাস্তি হিসেবে সর্বোচ্চ ৬ মাসের কারাদণ্ড এবং ৫০ হাজার টাকা জরিমানা বা উভয় দণ্ডের বিধান রাখা হয়েছে।
নির্বাচন কমিশনের প্রণীত নতুন আচরণবিধির অন্যতম বড় পরিবর্তন হলো পোস্টার নিষিদ্ধ করা। উপজেলা নির্বাচনে কোনো প্রার্থী বা তার পক্ষ থেকে অন্য কোনো ব্যক্তি নির্বাচনী প্রচারণায় পোস্টার ব্যবহার করতে পারবেন না। ভবন, দেয়াল, গাছ, বেড়া, বিদ্যুতের খুঁটি, সরকারি স্থাপনা, সেতু ও কালভার্টসহ বিভিন্ন স্থানে প্রচারসামগ্রী ব্যবহারের ক্ষেত্রেও বিধিনিষেধ থাকবে।
এদিকে নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার পর থেকে গেজেট আকারে ফলাফল প্রকাশ না হওয়া পর্যন্ত প্রকাশ্যে মিছিল করার কোনো সুযোগ থাকবে না।
এছাড়া ট্রাক, বাস, মোটরসাইকেল, নৌযান ও ট্রেনসহ বিভিন্ন যানবাহন ব্যবহার করে মিছিল বা শোভাযাত্রা নিষিদ্ধ করা হয়েছে। নির্বাচনী প্রচারে হেলিকপ্টার বা অন্য কোনো আকাশযান ব্যবহারের ওপরও নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়েছে।
তবে প্রার্থীদের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম এবং ডিজিটাল মাধ্যমে প্রচারণার সুযোগ রাখা হয়েছে। এ ক্ষেত্রে প্রচারণা শুরুর আগে প্রার্থীকে রিটার্নিং কর্মকর্তাকে তথ্য দিতে হবে যে, কোন কোন মাধ্যম ব্যবহার করা হবে। সোশ্যাল মিডিয়ায় প্রচারণায় ব্যয় হওয়া অর্থও নির্বাচনী ব্যয়ের হিসাবের মধ্যে অন্তর্ভুক্ত হবে।
ডিজিটাল প্রচারণার ক্ষেত্রে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার অপব্যবহার ঠেকাতে নতুন বিধিমালায় বিশেষ বিধান রাখা হয়েছে।
কোনো প্রার্থী বা তার পক্ষে কেউ মিথ্যা, বিভ্রান্তিকর, বিদ্বেষপূর্ণ বা ব্যক্তিগত আক্রমণমূলক বক্তব্য প্রচার করতে পারবেন না। নির্বাচনী পরিবেশ ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারে, এমন কোনো কনটেন্ট তৈরি বা প্রচার করা যাবে না। এআই ব্যবহার করে এ ধরনের ভুয়া বা বিভ্রান্তিকর কনটেন্ট তৈরি বা প্রচার নিষিদ্ধ।
অন্যদিকে নতুন বিধিমালায় ভোটারদের প্রভাবিত করতে অর্থ, খাদ্য, পানীয় বা উপহার দেয়ার ওপর নিষেধাজ্ঞা দেয়া হয়েছে। ধর্মীয় উপাসনালয়, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও সরকারি অফিসে নির্বাচনী প্রচারণা চালানো যাবে না। ধর্মের অপব্যবহার, পেশিশক্তির ব্যবহার বা কোনো প্রার্থীর বিরুদ্ধে কুৎসা বা ব্যক্তিগত চরিত্রহননমূলক প্রচারণাও নিষিদ্ধ থাকবে।
এছাড়া নতুন বিধিমালা অনুযায়ী, সরকারি সুযোগ-সুবিধা ব্যবহার করে কোনো প্রার্থী নির্বাচনী প্রচারণা চালাতে পারবেন না। সরকারি যানবাহন, প্রচারযন্ত্র বা অন্য কোনো সরকারি সম্পদ নির্বাচনী কাজে ব্যবহার নিষিদ্ধ। সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারী ও গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিদের নির্বাচনী প্রচারণায় অংশগ্রহণের ওপরও বিধিনিষেধ থাকবে।
এদিকে নির্বাচনের দিন ভোটারদের কেন্দ্রে আনা-নেয়ার জন্য যানবাহন ভাড়া করা বা ব্যবহারের সুযোগ থাকবে না। নির্বাচনী প্রচারণায় নির্ধারিত সীমার বাইরে ক্যাম্প স্থাপন ও মাইক ব্যবহারের ক্ষেত্রেও বিধিমালায় নির্দিষ্ট নিয়ম মানতে হবে। নতুন বিধিমালায় ইসির ক্ষমতাও জোরদার করা হয়েছে।
এ ক্ষেত্রে কোনো প্রার্থী বা তার নির্বাচনী এজেন্ট আচরণবিধি ভঙ্গ করলে বা লঙ্ঘনের চেষ্টা করছেন বলে কমিশনের কাছে প্রতীয়মান হলে তদন্ত করে ব্যবস্থা নেয়ার বিধান রাখা হয়েছে। তদন্তে অভিযোগ প্রমাণিত হলে গুরুতর ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট প্রার্থীর প্রার্থিতাও বাতিল করতে পারবে নির্বাচন কমিশন। নির্বাচনী ব্যয়সীমা অতিক্রম করা, অর্থ বা পেশিশক্তি দিয়ে ভোটারদের প্রভাবিত করা এবং সরকারি সুবিধা ব্যবহার করে নির্বাচনী প্রচারণা চালানোকে শাস্তিযোগ্য অপরাধ হিসেবে বিবেচনা করা হবে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
ঢাকা, ৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ : মার্কিন রাষ্ট্রদূত ব্রেন্ট টি ক্রিস্টেনসেন বাংলাদেশের বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদিরের সঙ্গে বৈঠক করেছেন। বৈঠকের মূল উদ্দেশ্য ছিল বাংলাদেশে মার্কিন বিনিয়োগ বৃদ্ধি, বড় অবকাঠামো প্রকল্পে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা এবং বাণিজ্য পরিবেশকে আরও সহজতর করা।
এ বৈঠকটি সোমবার রাজধানীর এফবিসিসিআই কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত হয়।
বৈঠকে বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য সম্প্রসারণ, জ্বালানি খাতে অংশীদারিত্ব এবং সাম্প্রতিক নীতি সংস্কারসহ পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয় নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়।
মার্কিন রাষ্ট্রদূত ভাসমান এলএনজি টার্মিনাল (এফএসআরইউ) প্রকল্পের প্রসঙ্গ উল্লেখ করে বলেন, "বড় অবকাঠামো প্রকল্পে স্বচ্ছ ও প্রতিযোগিতামূলক পরিবেশ বজায় রাখা গেলে বিদেশি উদ্যোক্তাদের আস্থা আরও বাড়বে।" তিনি আরও জানান, মার্কিন কোম্পানিগুলো বাংলাদেশে কাজ করতে অত্যন্ত আগ্রহী এবং উন্মুক্ত প্রতিযোগিতার সুযোগ নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির মার্কিন বিনিয়োগকারীদের স্বাগত জানিয়ে বলেন, "দ্রুততম সময়ে এফএসআরইউ সরবরাহের সক্ষমতা দেখাতে পারলে মার্কিন কোম্পানিগুলোর প্রস্তাব সর্বোচ্চ গুরুত্ব পাবে।" তিনি উল্লেখ করেন, স্বল্প সময়ে কার্যকর সরবরাহ পরিকল্পনা উপস্থাপন তাদের অবস্থানকে আরও শক্তিশালী করবে।
রাষ্ট্রদূত আমদানি নীতি প্রসঙ্গে বলেন, "নতুন নীতিতে বেশ কিছু ইতিবাচক পরিবর্তন এসেছে, যা প্রশংসনীয়।" তবে তিনি কিছু ধারা আরও ব্যবসাবান্ধব করার প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরেন।
বাণিজ্যমন্ত্রী এ বিষয়ে স্পষ্ট করে বলেন, "আমদানি নীতি একটি চলমান প্রক্রিয়া।" তিনি জানান, বাজার ও অর্থনীতির বাস্তবতার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে প্রয়োজনীয় সংস্কার কার্যক্রম নিয়মিত পর্যালোচনা করা হচ্ছে।
মন্ত্রী কৌশলগত সরঞ্জাম ক্রয়ের ক্ষেত্রে বিদেশি প্রতিষ্ঠানের জন্য স্থানীয় এজেন্ট নিয়োগের পুরনো বাধ্যবাধকতা বাতিলের বিষয়টি তুলে ধরে জানান, সরাসরি প্রস্তুতকারক প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে কাজ করার সুযোগ তৈরি হওয়ায় প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ফিরেছে এবং মধ্যস্বত্বভোগীদের দৌরাত্ম্য বন্ধ হয়েছে।
জ্বালানি সহযোগিতা নিয়ে রাষ্ট্রদূত ব্রেন্ট টি ক্রিস্টেনসেন আন্তর্জাতিক সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান ‘গানভর’-এর সঙ্গে চুক্তিকে একটি ইতিবাচক পদক্ষেপ হিসেবে অভিহিত করেন। বাণিজ্যমন্ত্রী আশ্বস্ত করে বলেন, "সরকার প্রতিটি ক্ষেত্রে জাতীয় স্বার্থ সুরক্ষাকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়ে কাজ করছে এবং ভবিষ্যতেও তা বজায় থাকবে।"
বৈঠকে শিল্প মন্ত্রণালয়ের সচিব আব্দুন নাসের খান, বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের যুগ্ম সচিব মো. মুস্তাফিজুর রহমান এবং মার্কিন দূতাবাসের ইকোনমিক চিফ এঞ্জেলো পালাজ্জেলো উপস্থিত ছিলেন।
উভয় পক্ষই আশাবাদ ব্যক্ত করেন যে, নিয়মিত এমন আলোচনার মধ্য দিয়ে বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যকার বাণিজ্যিক সম্পর্ক আগামী দিনে আরও এক ধাপ এগিয়ে যাবে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ