ঢাকা শুক্রবার, ৩০শে অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ১৪ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ১৯ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
শুক্রবার, ৩০শে অক্টোবর, ২০২৬ইং ১৪ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

প্রধানমন্ত্রীর জাপান সফরে বিনিয়োগের বড় প্রতিশ্রুতি, নতুন অর্থনৈতিক সম্ভাবনা বাংলাদেশের সামনে


প্রধানমন্ত্রীর জাপান সফরে বিনিয়োগের বড় প্রতিশ্রুতি, নতুন অর্থনৈতিক সম্ভাবনা বাংলাদেশের সামনে

জাপান সফরের ফলস্বরূপ একটি উল্লেখযোগ্য বিনিয়োগের প্রতিশ্রুতি অর্জিত হয়েছে। মাতারবাড়িকে কেন্দ্র করে ‘বিগ-বি ইনিশিয়েটিভ’ বাস্তবায়িত হলে পুরো অঞ্চলের অর্থনীতিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন আসার সম্ভাবনা রয়েছে। কূটনীতিক ও অর্থনীতিবিদদের মতে, এতে কয়েক লাখ মানুষের কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে। তারা মনে করেন, এ সফরের মাধ্যমে জাপানের সঙ্গে বাংলাদেশের কৌশলগত অংশীদারিত্ব আরও দৃঢ় হচ্ছে, যা ভূরাজনৈতিক অবস্থানে বাংলাদেশকে এগিয়ে রাখবে।

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান চীন ও মালয়েশিয়া সফরের পর জি-সেভেন জোটের সদস্য জাপান সফর করেন। চার দিনের এই সফরে সরকারি ও বেসরকারি পর্যায়ে ২৩টি নথিতে স্বাক্ষর হয়েছে। বাংলাদেশের অন্যতম প্রধান উন্নয়ন সহযোগী জাপানের সঙ্গে সম্পর্ক এখন কৌশলগত অংশীদারত্বের স্তরে পৌঁছেছে। দুই দেশের সরকারপ্রধান এ সম্পর্ককে আরও শক্তিশালী করার উপর গুরুত্ব আরোপ করেছেন।

সাবেক রাষ্ট্রদূত কামরুল হাসান মন্তব্য করেন, তারেক রহমানের জাপান সফরটি গতানুগতিক ছিল না। অটোমোবাইল, প্রযুক্তি এবং মাতারবাড়িতে বিজনেস হাবসহ বিভিন্ন খাতে বিনিয়োগের সম্ভাবনা নিয়ে কূটনীতি ও অর্থনীতির বিভিন্ন দিক বিবেচনা করে আলোচনা হয়েছে। এটি পূর্ববর্তী সফরগুলোর তুলনায় ব্যতিক্রমী ছিল।

আরও পড়ুন: বাকৃবিতে রক্তদাতাদের সংগঠন বাঁধনের অগ্রযাত্রার ২৯ বছর পূর্তি উদযাপন

তিনি আরও বলেন, সফরের জন্য বাংলাদেশ সম্পূর্ণ প্রস্তুত ছিল। সাধারণত বিদেশ সফরের ক্ষেত্রে প্রস্তুতির অভাব দেখা যায়, কিন্তু যৌথ ঘোষণার ভাষা দেখে মনে হয়েছে, বাংলাদেশ যথেষ্ট তথ্য ও প্রস্তাবনা দিয়েছে। এটি আগের যেকোনো সফরের তুলনায় বড় ধরনের ব্যতিক্রম।

বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব ইন্টারন্যাশনাল স্ট্র্যাটেজিক স্টাডিজের গবেষণা পরিচালক ড. মাহফুজ কবির জানান, জাপান বিনিয়োগের ঘোষণা দিয়ে বাস্তবায়নের জন্য প্রস্তুত। ৬ দশমিক ৩৬ বিলিয়ন মার্কিন ডলারের এই বিনিয়োগ বাস্তবায়িত হলে অতিরিক্ত ২ লাখ কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে।

বাংলাদেশ ও জাপানের দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্যের পরিমাণ প্রায় সাড়ে ৩ বিলিয়ন ডলার। তবে বাংলাদেশের বাণিজ্যে ঘাটতি প্রায় ৭০০ মিলিয়ন ডলার। বিশ্লেষকরা মনে করছেন, সম্প্রতি রফতানি বৃদ্ধি পেলেও বাণিজ্য ঘাটতি কমাতে এবং রফতানি বাড়াতে ঢাকা গুরুত্ব দিয়েছে।

ড. মাহফুজ কবির বলেন, জাপান সরাসরি বেসরকারি বিনিয়োগে আগ্রহী। তথ্যপ্রযুক্তি খাতের উন্নয়ন এবং বাংলাদেশি জনশক্তি রফতানির বিষয়টিও গুরুত্ব পাবে।

আরও পড়ুন: জনগণ বিএনপির রাজনীতির সঠিকতা প্রমাণ করেছে: পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী

সফরের আলোচিত বিষয়গুলোর মধ্যে জাপানের ‘বে অব বেঙ্গল ইন্ডাস্ট্রিয়াল গ্রোথ ইনিশিয়েটিভ’ বা বিগ-বি অন্যতম। এ উদ্যোগে ভারতের অন্তর্ভুক্তির বিষয়ে জাপানের আগ্রহ স্পষ্ট হয়েছে।

বিশ্লেষকদের মতে, বিগ-বির সম্ভাব্য পরিধি ভারতের সেভেন সিস্টারস অঞ্চল, মিয়ানমার হয়ে থাইল্যান্ড পর্যন্ত বিস্তৃত। মাতারবাড়ি গভীর সমুদ্রবন্দরকে এই উদ্যোগের মূল কেন্দ্র হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে। তবে বাংলাদেশ কীভাবে এ উদ্যোগ থেকে সর্বাধিক সুবিধা পেতে পারে, তা নিয়ে আরও বিশ্লেষণের প্রয়োজন রয়েছে।

ড. মাহফুজ কবির বলেন, মাতারবাড়ি গভীর সমুদ্রবন্দর ও শিল্পাঞ্চলভিত্তিক হাব গড়ে তোলার বিষয়টিকে বাংলাদেশের অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডের অংশ হিসেবে দেখা উচিত। অন্য কোনো কৌশলগত উদ্দেশ্যে ব্যবহার করা হলে সেটি হবে দ্বিতীয় লক্ষ্য। বঙ্গোপসাগরীয় দেশগুলো বিগ-বি উদ্যোগে একসঙ্গে যুক্ত হলে তা সবার জন্য সুফল বয়ে আনতে পারে।

সাবেক রাষ্ট্রদূত কামরুল হাসান মন্তব্য করেন, বাংলাদেশের পক্ষে পুরো বঙ্গোপসাগরীয় অঞ্চলকে অন্তর্ভুক্ত করা সম্ভব না হলেও এখানে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখার সুযোগ রয়েছে। তবে সে ভূমিকা পালনের জন্য উপকূলীয় নজরদারি ব্যবস্থা আরও শক্তিশালী করতে হবে। আঞ্চলিক সংহতির বিষয়টি নিয়েও দীর্ঘদিন ধরে পরিকল্পনা রয়েছে।

আরও পড়ুন: নৌবাহিনীর মা ইলিশ সংরক্ষণ অভিযান শেষ, ৬১ কোটি টাকার জাল জব্দ

জাপান সফরে অর্থনৈতিক অর্জনের পাশাপাশি কূটনৈতিক ক্ষেত্রেও অগ্রগতি হয়েছে বলে বিশ্লেষকরা মনে করেন। সাবেক রাষ্ট্রদূত কামরুল হাসান জানান, রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন ও ফিলিস্তিন ইস্যুতে বাংলাদেশের অবস্থানের প্রতি জাপানের সমর্থন আদায় সফরের অন্যতম বড় অর্জন।

কামরুল হাসান বলেন, কী প্রক্রিয়ায় রোহিঙ্গারা পূর্ণ নাগরিক, অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক অধিকার নিয়ে মিয়ানমারে ফিরে যাবে, সে বিষয়ে বাংলাদেশের অবস্থানের সঙ্গে একমত হয়েছে জাপান।

সরকারি ও বেসরকারি পর্যায়ে বড় অঙ্কের বিনিয়োগ ও সহায়তার আশ্বাস পাওয়া গেলেও শেষ পর্যন্ত কতটা বাস্তবায়ন সম্ভব হবে, তা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, জাপান হিসাব-নিকাশ করেই সিদ্ধান্ত নেয়। তবে এসব প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের অনেকটাই নির্ভর করবে বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ নীতি ও পরিবেশের ওপর।

আরও পড়ুন: বিকল্প অর্থায়নে সহযোগিতার জন্য জাপানের প্রতি বাংলাদেশর আহ্বান

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

তিন মাসে ১৯৩ কোটি টাকার গরুর মাংস বিদেশে রপ্তানি: প্রতিমন্ত্রী টুকু

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

শুক্রবার, ৩০শে অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৮:১৯ এম


তিন মাসে ১৯৩ কোটি টাকার গরুর মাংস বিদেশে রপ্তানি: প্রতিমন্ত্রী টুকু

মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, তিন মাসের মধ্যে ১৯৩ কোটি টাকার গরুর মাংস বিদেশে রপ্তানি করা হয়েছে। এই তথ্যটি সাংবাদিকদের সামনে তুলে ধরেন মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী সুলতান সালাউদ্দিন টুকু।

তিনি বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) বিকেলে সাভারে বাংলাদেশ প্রাণিসম্পদ গবেষণা ইন্সটিটিউট বিএলআরআইএ বিজ্ঞানীদের সাথে মতবিনিময় সভায় অংশগ্রহণের সময় এ তথ্য জানান।

মাংসের রপ্তানি বাড়ানোর জন্য সরকার বিভিন্ন উদ্যোগ গ্রহণ করেছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন। তিনি আরও জানান, মাংসের খাদ্যনিরাপত্তার বিষয়টিও সরকারের নজরদারিতে রয়েছে।

প্রতিমন্ত্রী বিএলআরআইএ পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় বৃক্ষরোপণও করেন। এ সময় প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের এসডিজি বিষয়ক মুখ্য সমন্বয়ক ড. এস এম আব্দুল আওয়াল, বাংলাদেশ প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক শাহজামান খান তুহিন এবং বাংলাদেশ প্রাণিসম্পদ গবেষণা ইনস্টিটিউট (বিএলআরআইএ) এর মহাপরিচালক ড. শাকিলা ফারুক উপস্থিত ছিলেন।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

৩১ অক্টোবর মণিপুরে মহাসমাবেশের ডাক আন্দোলনকারীদের, নিরাপত্তা পরিস্থিতি পর্যালোচনা সিআরপিএফের

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

শুক্রবার, ৩০শে অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৮:১৯ এম


৩১ অক্টোবর মণিপুরে মহাসমাবেশের ডাক আন্দোলনকারীদের, নিরাপত্তা পরিস্থিতি পর্যালোচনা সিআরপিএফের

কুকিদের সঙ্গে সংঘর্ষবিরতি চুক্তি বাতিল, সংঘাতের অবসান এবং বাস্তুচ্যুতদের পুনর্বাসনের দাবিতে সরকারের ওপর চাপ বাড়িয়ে আগামীকাল ৩১ অক্টোবর মনিপুরের রাজধানী ইম্ফলে একটি মহাসমাবেশের ডাক দিয়েছে একাধিক সংগঠন।

কোঅর্ডিনেটিং কমিটি অন মণিপুর ইন্টেগ্রিটি (কোকোমি), জয়েন্ট ট্রাইব কাউন্সিল, নাগা হিউম্যানিটারিয়ান এড কমিটি, ফুটহিলস্ নাগা কোঅর্ডিনেশন কমিটি এবং নাগা পিপলস ইউনিয়ন এই মহামিছিলের ডাক দিয়েছে। ইউনাইটেড নাগা কাউন্সিলও এই কর্মসূচিকে সমর্থন জানিয়ে আসাম রাইফেলসের পরিবর্তে অন্য কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়েনের দাবি তুলেছে।

অন্যদিকে, কাংপোকপির সিংদাই এলাকার শতাধিক বাস্তুচ্যুত ব্যক্তি এবং কুকি-জো নারীরা গ্রেফতার হওয়া তিন কুকির নিঃশর্ত মুক্তির দাবিতে বিক্ষোভে অংশ নেন। খোংবাল ঘটনায় তিন মেইতেই কাঠুরিয়ার মৃত্যুর পর ওই তিনজনকে গ্রেফতার করা হয়।

এদিকে কুকি-জো কাউন্সিল পৃথক প্রশাসনের দাবি আরও জোরালো করেছে। সংগঠনটির দাবি, ২০২৩ সালের মে মাস থেকে আড়াইশোর বেশি কুকি-জো নিহত এবং ৪০ হাজারেরও বেশি মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছেন। তারা সরকারের বিরুদ্ধে বৈষম্যমূলক আচরণের অভিযোগ তুলে জানিয়েছে, কুকিদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা ও রাজনৈতিক সংলাপে অগ্রগতি না হলে কুকি-জো বিধায়কদের সরকার থেকে সরে আসতে বলা হতে পারে।

রাজনৈতিক বিতর্ক আরও তীব্র হয়েছে নাগা উপ-মুখ্যমন্ত্রী লোসি দিখোর মন্তব্যে। তিনি অভিযোগ করেছেন, সহ-উপ-মুখ্যমন্ত্রী নেমচা কিপগেনের স্বামীর নেতৃত্বাধীন কুকি ন্যাশনাল ফ্রন্ট ছয় নাগা ব্যক্তির হত্যাকাণ্ডে জড়িত ছিল। দিখো জানান, আটজন নাগা বিধায়ক ইতোমধ্যেই নেমচা কিপগেনের বিরুদ্ধে পদক্ষেপ এবং কুকি জঙ্গিদের সঙ্গে থাকা সংঘর্ষবিরতি চুক্তি বাতিলের দাবি তুলেছেন।

তিনি আরও বলেন, এমন হিংসা অব্যাহত থাকলে আগামী বছরের বিধানসভা নির্বাচন আয়োজন কঠিন হয়ে পড়তে পারে।

এদিকে রাজ্যের নিরাপত্তা পরিস্থিতি পর্যালোচনায় ইম্ফল সফর করেন সিআরপিএফের ডিজি জ্ঞানেন্দ্র প্রতাপ সিংহ। তিনি বরিষ্ঠ কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক করে শান্তি ও নিরাপত্তা জোরদারের নির্দেশ দেন। পরে তার সঙ্গে বৈঠক করেন আসাম রাইফেলসের ডিজি লেফটেন্যান্ট জেনারেল বিকাশ লাখেরা। দুই বাহিনীর মধ্যে সমন্বয় ও যৌথ অভিযানের প্রস্তুতি নিয়ে আলোচনা হয়। তেংনৌপাল জেলার মোরে ও চংজাং এলাকা পরিদর্শন করে ভারত-মায়ানমার সীমান্তে কাঁটাতার নির্মাণ এবং নিরাপত্তা পরিস্থিতি খতিয়ে দেখেন লাখেরা।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

অপেশাদার চর্চা আমাকে কষ্ট দেয়: দীঘি

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

বিনোদন ডেস্ক

শুক্রবার, ৩০শে অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৮:২০ এম


অপেশাদার চর্চা আমাকে কষ্ট দেয়: দীঘি

অভিনেত্রী প্রার্থনা ফারদিন দীঘি অনলাইনে চটকদার ও বিভ্রান্তিকর শিরোনামের প্রবণতা এবং অপসাংবাদিকতা নিয়ে নিজের ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন।

তিনি মন্তব্য করেন, সস্তা জনপ্রিয়তার জন্য মূল ঘটনা আড়াল করে এ ধরনের চর্চা বাড়ছে।

সাংবাদিকতার শিক্ষার্থী হিসেবে নিজেকে উল্লেখ করে দীঘি বলেন, সাংবাদিকতার প্রথম নীতিই হলো কাউকে হেয় বা ক্ষতিগ্রস্ত করে প্রশ্ন না করা। কিন্তু বর্তমানে চটকদার ক্যাপশন এবং সংবেদনশীল শিরোনাম দিয়ে খবরের মূল বিষয়বস্তু পরিবর্তন করা হচ্ছে।

গণমাধ্যমের প্রতি তার শ্রদ্ধার কথা জানিয়ে দীঘি বলেন, তার নানা সাংবাদিক ছিলেন এবং মরহুম মায়েরও অনেক সাংবাদিক বন্ধু ছিলেন। নিকটজনদের মধ্যে অনেকেই এই পেশায় আছেন। তাই বর্তমান এই অপেশাদার চর্চা তাকে কষ্ট দেয়।

তিনি আরও বলেন, এখন নিয়ম না মেনে শুধুমাত্র মোবাইল ক্যামেরায় ধারণ করা ভিডিও দিয়ে চটকদার কনটেন্ট তৈরি করা হচ্ছে। ভিউ বাড়ানোর জন্য সাক্ষাৎকারের অপ্রাসঙ্গিক অংশ কেটে বিভ্রান্তিকর ক্যাপশন দেওয়া হচ্ছে, যা পাঠক এবং দর্শকদের বিভ্রান্ত করছে।

উল্লেখ্য, দীঘি ২০০৬ সালে ‘কাবুলিওয়ালা’ সিনেমা দিয়ে শিশুশিল্পী হিসেবে পর্দায় আসেন। ২০১২ সাল পর্যন্ত তিনি ৩৬টি সিনেমায় কাজ করেন। এরপর পড়াশোনার জন্য বিরতি নিয়ে পরে নায়িকা হিসেবে ফিরে আসেন। গত বছরের ঈদে মুক্তি পাওয়া ‘জংলি’ সিনেমা দিয়ে তিনি নতুন করে আলোচনায় আসেন। বর্তমানে তার অভিনীত ‘বিদায়’ নামে একটি সিনেমা মুক্তির অপেক্ষায় রয়েছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

ইসলাম ও প্রচলিত আইনে ধর্ম অবমাননার শাস্তি নিয়ে আলোচনা প্রয়োজন

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

শুক্রবার, ৩০শে অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৮:২১ এম


ইসলাম ও প্রচলিত আইনে ধর্ম অবমাননার শাস্তি নিয়ে আলোচনা প্রয়োজন

ধর্ম মানুষের কাছে শুধুমাত্র কিছু আচার-অনুষ্ঠানের সমষ্টি নয়। এটি তার বিশ্বাস, আত্মপরিচয়, নৈতিকতা এবং জীবনদর্শনের একটি গভীর ভিত্তি। মানুষের আবেগ ও আত্মমর্যাদা ধর্মীয় বিশ্বাসের সঙ্গে নিবিড়ভাবে জড়িত থাকে। তাই, কারো ধর্মকে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে অবমাননা করা কেবল ব্যক্তিগত অনুভূতিতে আঘাত হানে না, বরং কখনো কখনো তা সামাজিক সম্প্রীতি এবং জনশান্তিকেও বিপন্ন করে। এই কারণে, ধর্ম অবমাননার শাস্তি নিয়ে আলোচনা করতে হলে ইসলামি শরিয়তের নির্দেশনা, বিচারিক কর্তৃত্ব এবং বাংলাদেশের প্রচলিত আইনকে সমন্বিতভাবে বোঝা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

ইসলামি শরিয়তে ধর্ম অবমাননার বিষয়টি গুরুতর হিসেবে বিবেচিত হয়। বিশেষ করে, মহানবী হজরত মুহাম্মদ (সা.)-কে ইচ্ছাকৃতভাবে গালমন্দ বা অবমাননা করার বিষয়টি ধ্রুপদি ইসলামি আইনশাস্ত্রে বিশেষ গুরুত্বের সঙ্গে আলোচনা করা হয়েছে। ফিকহের পরিভাষায় এ-সংক্রান্ত আলোচনায় ‘সাব্বুর রাসুল’ একটি পরিচিত পরিভাষা।

তবে, শরিয়তের বিধান উপস্থাপনের ক্ষেত্রে সতর্কতা প্রয়োজন। নবী (সা.)-এর অবমাননা, ধর্মত্যাগ, ধর্মীয় বিরোধিতা এবং রাষ্ট্রের বিরুদ্ধে বিদ্রোহ এক বিষয় নয়। ইসলামি ফিকহে এসব বিষয়ের শ্রেণিবিন্যাস, শর্ত এবং শাস্তি নিয়ে বিভিন্ন আলোচনা রয়েছে এবং কিছু ক্ষেত্রে মতপার্থক্যও দেখা যায়। কোনো নির্দিষ্ট বক্তব্য বা আচরণের শরয়ি বিধান নির্ধারণ করতে হলে তার প্রকৃতি, উদ্দেশ্য, প্রেক্ষাপট এবং প্রাসঙ্গিক দলিল বিবেচনা করা জরুরি।

ইসলামি ফিকহে মুরতাদ বা ধর্মত্যাগীর শাস্তি নিয়েও বিস্তারিত আলোচনা করা হয়েছে। এ প্রসঙ্গে রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর একটি হাদিসে এসেছে, ‘যে ব্যক্তি তার দ্বীন পরিবর্তন করে, তাকে হত্যা করো।’ (বুখারি : ৩০১৭)

এ হাদিসের ভিত্তিতে ধর্মত্যাগের শাস্তি নির্ধারণ করা হয়েছে ইসলামি ফিকহের বহু আলোচনায়। তবে এর প্রয়োগের শর্ত, প্রাসঙ্গিক পরিস্থিতি এবং ব্যাখ্যা নিয়ে ফিকহি আলোচনা রয়েছে। এ ধরনের শাস্তি কার্যকরের বিষয়টি ব্যক্তির হাতে ন্যস্ত নয়; বরং বৈধ বিচারিক কর্তৃত্ব, অপরাধের প্রমাণ এবং যথাযথ বিচারপ্রক্রিয়ার সঙ্গে সম্পর্কিত। কোরআনে আল্লাহতায়ালা বলেন, ‘তোমরা আনুগত্য করো আল্লাহর, আনুগত্য করো তাঁর রাসুলের ও তোমাদের মধ্যকার শাসন কর্তৃপক্ষের।’ (সুরা আন-নিসা, ৪ : ৫৯)

তবে, ধর্মত্যাগের বিধান ও ধর্ম অবমাননার বিধানকে এক করে দেখা উচিত নয়।

শাস্তির প্রশ্নে মৌলিক বিষয় হলো বিচারিক কর্তৃত্ব। কোনো কাজ ধর্মীয়ভাবে নিন্দনীয় হওয়া এবং কোনো নির্দিষ্ট ব্যক্তির বিরুদ্ধে অপরাধ প্রমাণিত হওয়া এক বিষয় নয়। অভিযোগের সত্যতা যাচাই, সাক্ষ্যপ্রমাণ মূল্যায়ন এবং আইন অনুযায়ী শাস্তি নির্ধারণ যথাযথ বিচারিক প্রক্রিয়ার বিষয়। ব্যক্তিগত ক্রোধ বা জনতার আবেগের ভিত্তিতে কাউকে অপরাধী ঘোষণা করা ন্যায়বিচারের পরিপন্থী। ধর্ম অবমাননার অভিযোগে গণপিটুনি, হামলা, ভাঙচুর কিংবা প্রতিশোধমূলক কর্মকাণ্ডের বৈধতা এভাবে প্রতিষ্ঠা করা যায় না।

বাংলাদেশের প্রচলিত আইনেও ধর্মসংক্রান্ত অপরাধের জন্য শাস্তির বিধান রয়েছে। দণ্ডবিধি, ১৮৬০-এর ২৯৫ ধারায় ধর্মীয় সম্প্রদায়ের ধর্মকে অপমান করার উদ্দেশ্যে উপাসনালয় বা পবিত্র বলে বিবেচিত বস্তু ধ্বংস, ক্ষতিগ্রস্ত বা অপবিত্র করার অপরাধের কথা বলা হয়েছে। ২৯৫এ ধারায় ইচ্ছাকৃত ও বিদ্বেষপূর্ণভাবে কোনো নাগরিক গোষ্ঠীর ধর্ম বা ধর্মীয় বিশ্বাসকে অপমান করে তাদের ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত করার অপরাধের বিধান রয়েছে। এ ধারায় সর্বোচ্চ দুই বছর কারাদণ্ড, জরিমানা বা উভয় দণ্ড হতে পারে।

এছাড়া ২৯৬ ধারায় আইনসম্মত ধর্মীয় উপাসনা বা অনুষ্ঠানে বিঘ্ন সৃষ্টি, ২৯৭ ধারায় নির্দিষ্ট পরিস্থিতিতে উপাসনালয় বা সমাধিস্থলে অনধিকার প্রবেশ ও সংশ্লিষ্ট অবমাননাকর কাজ এবং ২৯৮ ধারায় কোনো ব্যক্তির ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত করার উদ্দেশ্যে কথা, শব্দ বা অঙ্গভঙ্গি ব্যবহারের মতো অপরাধের বিধান রয়েছে। এসব ধারার প্রতিটির অপরাধের উপাদান আলাদা। ২৯৬, ২৯৭ ও ২৯৮ ধারায় সর্বোচ্চ এক বছর কারাদণ্ড, জরিমানা বা উভয় দণ্ডের বিধান রয়েছে।

একই সঙ্গে বাংলাদেশের সংবিধানের ৩৯ অনুচ্ছেদে চিন্তা ও বিবেকের স্বাধীনতা এবং বাক্‌স্বাধীনতার নিশ্চয়তা দেওয়া হয়েছে, যা আইন নির্ধারিত যুক্তিসংগত সীমাবদ্ধতার অধীন। ফলে ধর্মীয় অনুভূতির সুরক্ষা ও মতপ্রকাশের স্বাধীনতার প্রশ্নে ভারসাম্য বজায় রাখা জরুরি। ইচ্ছাকৃত বিদ্বেষমূলক অপমান এবং যুক্তিনির্ভর আলোচনা, গবেষণা কিংবা কোনো মতবাদের সমালোচনা এক বিষয় নয়।

বর্তমান সময়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ধর্মীয় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ার ঝুঁকি বাড়িয়েছে। কোনো বক্তব্য, ছবি বা ভিডিওর খণ্ডিত অংশ দ্রুত ছড়িয়ে পড়তে পারে। কখনো মিথ্যা তথ্য কিংবা সম্পাদিত উপস্থাপনও জনমনে ক্ষোভ সৃষ্টি করে। যাচাইয়ের আগেই কাউকে অভিযুক্ত করা হলে নিরপরাধ মানুষ বিপদের মুখে পড়তে পারেন। ধর্মীয় অনুভূতির সুরক্ষা নিশ্চিত করতে তাই অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্ত, তথ্য যাচাই এবং দায়িত্বশীল সংবাদ পরিবেশনের বিকল্প নেই।

ধর্ম মানুষের অন্তরের গভীরে প্রোথিত। ধর্মের প্রতি সম্মান দেখানো জরুরি। কিন্তু সেই সম্মান প্রতিষ্ঠার উপায়ও হতে হবে ন্যায়সংগত ও দায়িত্বশীল। ইসলামি শরিয়তে ধর্ম অবমাননার শাস্তি নিয়ে যে আলোচনা রয়েছে, তা যথাযথভাবে বুঝতে প্রামাণ্য দলিল, ফিকহি ব্যাখ্যা ও বিচারিক শর্তের প্রতি মনোযোগ দিতে হবে। অন্যদিকে রাষ্ট্রীয় আইনের প্রয়োগ হতে হবে নিরপেক্ষ তদন্ত ও প্রমাণভিত্তিক বিচারের মাধ্যমে।

ধর্মের প্রতি ভালোবাসা তখনই সমাজের জন্য কল্যাণকর হয়ে ওঠে, যখন তা মানুষকে ন্যায়পরায়ণ, সংযমী ও দায়িত্বশীল করে। অন্যায়ের প্রতিবাদ করতে গিয়ে নতুন অন্যায় সৃষ্টি করা যায় না; ধর্মের মর্যাদা রক্ষা করতে গিয়ে ন্যায়বিচারের মর্যাদা ক্ষুণ্ণ করা যায় না। তাই ধর্ম অবমাননার বিরুদ্ধে অবস্থান হোক প্রমাণ ও আইনের ভিত্তিতে, শাস্তি নির্ধারিত হোক যথাযথ বিচারিক প্রক্রিয়ায় আর প্রতিটি প্রতিক্রিয়ায় অটুট থাকুক ন্যায়, সংযম ও মানবিক মর্যাদা।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ১৯ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪৬
জোহর ১১:৪৩
আসর ০৩:৪৪
মাগরিব ০৫:২১
ইশা ০৬:৩৩
সূর্যোদয় : ০৬:০৩ সূর্যাস্ত : ০৫:২১
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%