রবিবার, ২৭শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং
০৮:৫৯ পি.এম
ঢাকা, ২৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ : সরকার আবারও বিরোধী দলের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করার জন্য সংবিধান সংশোধনের প্রক্রিয়ায় আহ্বান জানিয়েছে।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের সংবিধান সংশোধন সম্পর্কিত বিশেষ কমিটির সভাপতি ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ মন্তব্য করেছেন যে, যদি বিরোধী দল কমিটির আলোচনায় অংশগ্রহণ করে, তবে তাদের প্রস্তাব ও মতামতও বিবেচনায় নেওয়া হবে।
আজ জাতীয় সংসদের মিডিয়া সেন্টারে বিশেষ কমিটির তৃতীয় বৈঠক শেষে তিনি সাংবাদিকদের উদ্দেশ্যে এ তথ্য জানান।
বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন সালাহউদ্দিন আহমদ। সংসদ ভবনের কেবিনেট কক্ষে অনুষ্ঠিত বৈঠকে কমিটির সদস্য হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জাতীয় সংসদের চিফ হুইপ নূরুল ইসলাম মনি, সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি জয়নুল আবেদীন, পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী মো. জোনায়েদ আব্দুর রহিম সাকি, ভূমি প্রতিমন্ত্রী মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দিন, সমাজকল্যাণ প্রতিমন্ত্রী ফারজানা শারমীন, সাকিলা ফারজানা এবং মো. মাহমুদুল হক রুবেল।
এছাড়া বৈঠকে জাতীয় দৈনিকের সম্পাদক, জ্যেষ্ঠ সাংবাদিক এবং বিভিন্ন সাংবাদিক সংগঠনের প্রতিনিধিরা অংশ নিয়ে সংবিধান সংশোধনের বিভিন্ন বিষয়ে মতামত, প্রস্তাব ও পরামর্শ প্রদান করেন।
সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, ‘আমরা বারবারই বিরোধী দলকে আহ্বান জানিয়েছি। এখনো আহ্বান জানাই- তারা যখনই এই কমিটিতে যোগদান করবেন, আমরা স্বাগত জানাব। তাদের বক্তব্য ও প্রস্তাব নিয়ে আলোচনা হবে।’
তিনি আরও বলেন, আলোচনায় অংশগ্রহণ করলে বিরোধী দলের পক্ষ থেকে উত্থাপিত বিভিন্ন বিষয় ধারণ এবং সমন্বয় করা সম্ভব হবে। সরকার চায় সংবিধান সংশোধনের মতো গুরুত্বপূর্ণ জাতীয় বিষয়ে বিভক্তি না রেখে ঐকমত্যের ভিত্তিতে কাজটি সম্পন্ন করতে।
সংবিধান সংশোধনের সম্ভাব্য সময়সূচি সম্পর্কে সালাহউদ্দিন আহমদ জানান, তারা ডিসেম্বরের মধ্যে কমিটির রিপোর্ট জাতীয় সংসদে উপস্থাপনের জন্য জোর প্রচেষ্টা চালাচ্ছেন। এরপর আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে সংবিধান সংশোধনের বিল আসবে।
সবকিছু ঠিক থাকলে আগামী বছরের প্রথম সংসদ অধিবেশনেই বিলটি আসতে পারে উল্লেখ করে তিনি বলেন, ডিসেম্বরের মধ্যে আলোচনা শেষ করে সংসদে রিপোর্ট দেওয়ার লক্ষ্য কমিটি আগেই জানিয়েছিল।
তিনি বলেন, সংবিধান সংশোধনের ক্ষেত্রে প্রথমে সংসদে বিল উত্থাপন হবে। বিলের ওপর আলোচনা, সংশোধনী প্রস্তাব ও বিরোধিতার বিষয়গুলো নিষ্পত্তির পর সংসদীয় বিধি অনুযায়ী সংশোধনী পাসের প্রক্রিয়া সম্পন্ন হবে। এরপর যেসব সাংবিধানিক বিধানের সংশোধনের ক্ষেত্রে গণভোটের বাধ্যবাধকতা রয়েছে, সেসব ক্ষেত্রে রাষ্ট্রপতির স্বাক্ষরের আগে গণভোট অনুষ্ঠিত হবে।
সাংবিধানিক গণভোট প্রসঙ্গে তিনি বলেন, সাধারণ গণভোট এবং সাংবিধানিক গণভোট এক বিষয় নয়। সংবিধানের নির্দিষ্ট কিছু বিধানে পরিবর্তন আনা হলে সাংবিধানিক বিধান অনুযায়ী গণভোটের প্রয়োজন হতে পারে। এ বিষয়ে তিনি সংবিধানের ১৪২ অনুচ্ছেদের প্রসঙ্গ তুলে ধরেন। এ ধরনের গণভোটের সাংবিধানিক প্রক্রিয়া নিয়েও তিনি সাংবাদিকদের ব্যাখ্যা দেন।
সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, ‘আগে সংসদে সংশোধনী পাস হবে। এরপর রাষ্ট্রপতির স্বাক্ষরের আগে যেসব অনুচ্ছেদে পরিবর্তনের জন্য গণভোটের বিধান রয়েছে, সেগুলোতে গণভোট হবে। জনগণ পক্ষে ভোট দিলে এরপর রাষ্ট্রপতি স্বাক্ষর করবেন।’
তিনি আরও বলেন, সংবিধানের কিছু মৌলিক বিষয়ে সংশোধনী আনার ক্ষেত্রে গণভোটের বিধান কার্যকর হতে পারে। তবে কোন কোন অনুচ্ছেদে পরিবর্তন আনা হবে, তা কমিটির আলোচনা ও পরবর্তী সংসদীয় প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে নির্ধারিত হবে।
কমিটির সভাপতি বলেন, ‘আমরা চাই আমাদের মধ্যে ঐক্য থাকুক, কোনো বিভক্তি না থাকুক। জুলাই জাতীয় সনদ সম্পূর্ণরূপে যেভাবে স্বাক্ষরিত হয়েছে, সেভাবেই বাস্তবায়ন করব। এর বাইরেও কিছু বিষয় আছে, যেগুলো ঐকমত্য কমিশনের আলোচনায় আসেনি বা পরিহার করা হয়েছে। সেগুলোও ঐকমত্যের ভিত্তিতে গ্রহণ করতে চাই।’
তিনি জানান, ক্ষমতাসীন দলের নির্বাচনি ইশতেহারে থাকা যেসব প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নে সংবিধান সংশোধনের প্রয়োজন হবে, সেগুলোও বিবেচনায় নেওয়া হবে। একই সঙ্গে বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের মতামত ও জনসেন্টিমেন্ট থেকে সংবিধানে ধারণযোগ্য বিষয়গুলোও পর্যালোচনা করা হবে। আর যেসব বিষয় আইন প্রণয়নের মাধ্যমে বাস্তবায়ন সম্ভব, সেগুলো আইন প্রণয়নের মাধ্যমেই করা হবে।
সাংবাদিকদের মতামত প্রসঙ্গে সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, আজকের সভায় অংশ নেওয়া সাংবাদিকদের অধিকাংশই বিভিন্ন বিষয়ে মতামত ও প্রস্তাব দিয়েছেন। অনেকে লিখিত আকারেও তাদের প্রস্তাব দেওয়ার কথা জানিয়েছেন। এসব লিখিত প্রস্তাব কমিটি গ্রহণ করে আলোচনার মাধ্যমে বিবেচনা করবে।
তিনি বলেন, সংবিধানের প্রস্তাবনা থেকে শুরু করে বিভিন্ন অনুচ্ছেদ এবং জুলাই জাতীয় সনদ বাস্তবায়নের বিষয়েও সাংবাদিকরা বিস্তারিত মতামত দিয়েছেন। বিভিন্ন পর্যায়ের অংশীজনদের সঙ্গে মতবিনিময় শেষে এসব মতামত নিয়ে একটি প্রতিবেদন ও পুস্তিকা প্রণয়ন করা হবে। তবে বিশেষ কমিটির মূল রিপোর্ট পৃথকভাবে থাকবে।
কমিটির সভাপতি বলেন, জুলাই জাতীয় সনদই তাদের কাজের প্রধান ভিত্তি। তবে নির্বাচনি ইশতেহারে জনগণের কাছে দেওয়া প্রতিশ্রুতি সংবিধান সংশোধনের সুপারিশ প্রণয়নের সময় বিবেচনায় নেওয়া হবে।
তিনি বলেন, ‘প্রায়োরিটি হচ্ছে জুলাই জাতীয় সনদ। তবে আমাদের নির্বাচনি ইশতেহার অনুসারে যেসব বিষয়ে আমরা ম্যান্ডেট পেয়েছি, সেগুলোও ধারণ করব।’
সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, সংবিধানের প্রস্তাবনা ও রাষ্ট্র পরিচালনার মূলনীতিতে মহান আল্লাহর ওপর আস্থা ও বিশ্বাসের বিষয়টিও তাদের নির্বাচনি প্রতিশ্রুতির অংশ। এসব বিষয়ে জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের আলোচনায় সর্বসম্মত সিদ্ধান্ত না এলেও তাদের নির্বাচনি অঙ্গীকার রয়েছে। ফলে সংবিধান সংশোধনের সুপারিশ প্রণয়নের সময় বিষয়গুলো বিবেচনায় নেওয়া হবে।
বিরোধী দলের অংশগ্রহণ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, শুধু কমিটির পক্ষ থেকে নয়, সাংবাদিকদের মাধ্যমেও তিনি বিরোধী দলকে আলোচনায় অংশ নেওয়ার আহ্বান জানাচ্ছেন। এর আগে সংসদে এবং রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে আনুষ্ঠানিক বৈঠকেও তাদের অংশগ্রহণের আহ্বান জানানো হয়েছে।
তিনি বলেন, ‘আমরা তাদের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে পারব না। আমরা বারবার আহ্বান জানাতে পারি, আশা করতে পারি তারা এখানে অংশগ্রহণ করবে। আমরা চাই ঐক্যবদ্ধভাবে কাজটি করি এবং সংবিধান সংশোধনের আলোচনা করি।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
ঢাকা, ২৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ : দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে তিন ম্যাচের ওয়ানডে সিরিজ থেকে ছিটকে গেছেন অস্ট্রেলিয়ার উইকেটরক্ষক-ব্যাটার জশ ইংলিশ, যিনি ডান হাতের তর্জনিতে চিড় ধরার কারণে এই পরিস্থিতির সম্মুখীন হয়েছেন।
অস্ট্রেলিয়া আগামী ৯ অক্টোবর থেকে দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে তিন ম্যাচের টেস্ট সিরিজ শুরু করতে যাচ্ছে।
ডারবানে গত বৃহস্পতিবার দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে সিরিজের প্রথম ওয়ানডেতে উইকেটরক্ষকের দায়িত্ব পালনকালে ৩১ বছর বয়সি ইংলিশ আঙুলে চোট পান। আঘাত সত্ত্বেও তিনি পুরো ইনিংস উইকেটের পেছনে দায়িত্ব পালন করেছেন। তবে ব্যাট হাতে তিনি মাত্র ৩ রান করতে সক্ষম হন।
ম্যাচ শেষে করা স্ক্যান রিপোর্টে ইংলিশের ডান হাতের আঙুলে চিড় ধরা পড়ে, যার ফলে তিনি সিরিজের শেষ দুই ম্যাচে অংশ নিতে পারবেন না। তার পরিবর্তে উইকেটের পেছনে দায়িত্ব পালন করবেন অ্যালেক্স ক্যারি।
ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়া (সিএ) এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, ইংলিশ চিকিৎসার জন্য দেশে ফিরবেন। টেস্ট সিরিজে তার খেলার বিষয়ে পরবর্তী মূল্যায়ন এবং সুস্থ হয়ে ওঠার অগ্রগতির ওপর সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
যদি ইংলিশ টেস্ট খেলতে না পারেন, তাহলে তার জায়গায় দলে সুযোগ পেতে পারেন জশ ফিলিপি বা স্যাম হার্পার। বর্তমানে উভয়েই অস্ট্রেলিয়া ‘এ’ দলের হয়ে ভারত সফরে রয়েছেন।
অস্ট্রেলিয়া যদি শুধুমাত্র ব্যাটার হিসেবে খেলার পরিকল্পনা করে, সেক্ষেত্রে দলে সুযোগ পেতে পারেন নাথান ম্যাকসুয়েনি বা পিটার হ্যান্ডসকমের মধ্যে যেকোনো একজন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
বিশ্ব পর্যটন দিবস উদ্যাপন উপলক্ষে রবিবার বরিশাল জেলা প্রশাসকের সভাকক্ষে অনুষ্ঠিত আলোচনা সভায় সভাপতির বক্তব্যে জেলা প্রশাসক মোঃ মামুন খন্দকার উল্লেখ করেন, বরিশালের পর্যটন সম্ভাবনাকে কাজে লাগানোর জন্য নদীকেন্দ্রিক পর্যটন অবকাঠামো গড়ে তোলা অপরিহার্য। নদীতে বোট রাইড, পর্যটন স্পট ঘুরে দেখার জন্য সাশ্রয়ী প্যাকেজ এবং উন্নত যোগাযোগ ব্যবস্থা এই উদ্যোগের মধ্যে অন্তর্ভুক্ত।
জেলা প্রশাসক আরও জানান, এখানে পর্যটকদের আকৃষ্ট করার মতো অনেক স্থান বিদ্যমান, তবে প্রয়োজনীয় অবকাঠামো এবং বিনোদন সুবিধার অভাব রয়েছে। তিনি বলেন, পাঁচ তারকা মানের হোটেলসহ বিভিন্ন মানের আবাসন স্থাপনা নির্মাণে সরকারের পাশাপাশি বেসরকারি উদ্যোক্তাদের এগিয়ে আসার প্রয়োজনীয়তার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
তিনি বলেন, পর্যটন শিল্পের টেকসই উন্নয়নের জন্য পরিকল্পিত ও সমন্বিত উদ্যোগ গ্রহণ করা আবশ্যক। সাতলার শাপলা বিলসহ যেসব স্থানে ইতোমধ্যে পর্যটন কেন্দ্রিক কার্যক্রম গড়ে উঠছে, সেগুলোর পরিকল্পিত ব্যবহার নিশ্চিত করার ওপরও তিনি জোর দেন।
এছাড়া, পর্যটন এলাকায় দর্শনার্থীদের নিরাপত্তা, যোগাযোগ ব্যবস্থা ও আবাসন ব্যবস্থা এবং বিনোদনের পর্যাপ্ত সুযোগ নিশ্চিত করার গুরুত্বও তিনি তুলে ধরেন। এ সময় তিনি বরিশাল স্টেডিয়ামের আশপাশের এলাকা পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন করার পাশাপাশি স্টেডিয়ামের পাশে সুইমিং পুলসহ বিভিন্ন বিনোদন সুবিধা গড়ে তোলার পরিকল্পনার কথাও উল্লেখ করেন।
ঐতিহাসিক স্থাপনা সংরক্ষণের গুরুত্ব তুলে ধরে জেলা প্রশাসক বলেন, বরিশালের পুরোনো কালেক্টর ভবন, জেলা পুলিশ ভবন, জেলা স্কুল, বিএম কলেজ ও সার্কিট হাউসসহ ঐতিহাসিক স্থাপনাগুলো পর্যটনের গুরুত্বপূর্ণ উপাদান হতে পারে। তিনি জানান, এসব স্থাপনার ঐতিহাসিক গুরুত্ব বিবেচনায় নিয়ে সংরক্ষণ ও যথাযথভাবে উপস্থাপন করা প্রয়োজন। একই সঙ্গে জেলার নদী-খাল ও অন্যান্য দর্শনীয় স্থানকে পর্যটন পরিকল্পনার আওতায় এনে এ খাতকে আরও বৈচিত্র্যময় করতে হবে বলেও তিনি মন্তব্য করেন।
সভায় অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক মোঃ ওবায়দুল্লাহ, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মোঃ মাসুম বিল্লাহ, জেলা প্রাণিসম্পদ কার্যালয়ের ট্রেনিং অফিসার ডা. সুশান্ত দাশসহ সরকারি বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তা, ব্যবসায়ী প্রতিনিধি, ট্যুরিস্ট পুলিশ এবং বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থার প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
ফরিদপুর শহরের ঐতিহ্যবাহী পুরাতন কালীবাড়ি মন্দিরে চুরির ঘটনায় কষ্টিপাথরের কালীমূর্তিসহ আলফাডাঙ্গার মা-ছেলেকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। এ ঘটনায় আসাদুজ্জামান সাদ্দাম (৩৮) ও তাঁর মা সাজেদা বেগম (৬৫)সহ চারজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
রোববার (২৭ সেপ্টেম্বর) ফরিদপুর জেলা পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে আয়োজিত প্রেস ব্রিফিংয়ে পুলিশ সুপার শাহরিয়ার মোহাম্মদ মিয়াজি গ্রেপ্তারের বিষয়টি নিশ্চিত করেন।
গ্রেপ্তার আসাদুজ্জামান সাদ্দাম আলফাডাঙ্গা পৌর এলাকার বুড়াইচ গ্রামের আকবার শেখের ছেলে। অপর গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন বোয়ালমারীর কান্দাকুল গ্রামের আল আমিন মোল্লা (২৪) ও আতিয়ার রহমান।
পুলিশ জানায়, গত ১৯ সেপ্টেম্বর রাতে পুরাতন কালীবাড়ি মন্দিরে চুরির ঘটনা ঘটে। পরদিন ২০ সেপ্টেম্বর কোতোয়ালি থানায় মামলা দায়েরের পর তদন্ত শুরু করে পুলিশ। তদন্তের সূত্র ধরে আলফাডাঙ্গার বুড়াইচ গ্রামে সাদ্দামের বাড়িতে অভিযান চালানো হয়।
অভিযানে সাদ্দামের মা সাজেদা বেগমের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে বাড়ির রান্নাঘরের মাটির নিচ থেকে মন্দির থেকে চুরি যাওয়া স্বর্ণ ও রৌপ্যের অলংকার এবং ছয়টি পিতলের প্রতিমা উদ্ধার করা হয়।
পরে সাদ্দাম ও আল আমিনের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী বোয়ালমারীর রূপাপাত এলাকার একটি বাড়ির পেছনে মাটির নিচে লুকিয়ে রাখা প্রায় ২০ কেজি ওজনের কষ্টিপাথরের কালীমূর্তিটি উদ্ধার করা হয়। পুলিশ জানিয়েছে, মূর্তিটির আনুমানিক বাজারমূল্য প্রায় এক কোটি টাকা। এছাড়া বোয়ালমারী বাজারের একটি জুয়েলারি দোকান থেকে গলানো অবস্থায় আট আনা স্বর্ণও উদ্ধার করা হয়েছে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্র জানায়, এর আগেও কষ্টিপাথরের মূর্তি উদ্ধারের ঘটনায় সাদ্দাম গ্রেপ্তার হয়েছিলেন। চলতি বছরের ১৮ জানুয়ারি তাঁর আলফাডাঙ্গার বাড়িতে অভিযান চালিয়ে ১২৫ কেজি ওজনের একটি কষ্টিপাথরের মূর্তি উদ্ধার করে র্যাব। ওই ঘটনায় তাঁকে গ্রেপ্তার করে কারাগারে পাঠানো হয়। পরে জামিনে মুক্ত হয়ে আবারও একই ধরনের ঘটনায় গ্রেপ্তার হলেন তিনি।
আলফাডাঙ্গা থানা সূত্রে জানা গেছে, সাদ্দামের বিরুদ্ধে আলফাডাঙ্গাসহ দেশের বিভিন্ন থানায় হত্যা, চুরি, ডাকাতি, ছিনতাই ও মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে অন্তত ১০টি মামলা বিচারাধীন রয়েছে।
গ্রেপ্তারদের বিরুদ্ধে ফরিদপুর কোতোয়ালি থানায় আইনগত কার্যক্রম প্রক্রিয়াধীন রয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
ঢাকা, ২৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ : জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জনের অভিযোগে নওগাঁ-৩ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য মোহাম্মদ ছলিম উদ্দিন তরফদার এবং তার স্ত্রী শামীমা আক্তার শিরিনের বিদেশযাত্রায় নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছেন আদালত।
দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে আজ ঢাকার মেট্রোপলিটন সিনিয়র স্পেশাল জজ আদালতের বিচারক মো. শাহজাহান কবির এই আদেশ প্রদান করেন। দুদকের সহকারী পরিচালক আফনান জান্নাত কেয়া এই আবেদনটি করেন।
আবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, আসামিরা দেশ ত্যাগ করে বিদেশে পালিয়ে যেতে পারেন বলে বিশ্বস্ত সূত্রে খবর পাওয়া গেছে। যদি তারা বিদেশে চলে যান, তবে মামলার গুরুত্বপূর্ণ রেকর্ডপত্র সংগ্রহে সমস্যা সৃষ্টি হতে পারে। পাশাপাশি তদন্ত কার্যক্রমও বিঘ্নিত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
দুদক জানায়, মোহাম্মদ ছলিম উদ্দিন তরফদার ও তার স্ত্রী শামীমা আক্তার শিরিন পরস্পর যোগসাজশে ১ কোটি ৬৮ লাখ ৬৪ হাজার ৫৬০ টাকা মূল্যের জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জন করে ভোগদখলে রেখেছেন।
আবেদনে আরও উল্লেখ করা হয়েছে, ছলিম উদ্দিন পাবলিক সার্ভেন্ট হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে অসৎ উদ্দেশ্যে ক্ষমতার অপব্যবহার করে প্রভাব ও আর্থিক সহায়তা প্রদান করেছেন।
এ ঘটনায় দুদকের সমন্বিত জেলা কার্যালয়, ঢাকা-১-এ ২০২৫ সালের ১৬ জুলাই মামলা দায়ের করা হয়। মামলায় দুদক আইন, ২০০৪-এর ২৭(১) ধারা এবং দণ্ডবিধির ১০৯ ধারায় অভিযোগ আনা হয়েছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ