ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৫ই নভেম্বর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ২০ই কার্তিক, ১৪৩২বঙ্গাব্দ ২৪শে জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
বৃহস্পতিবার, ০৫ই নভেম্বর, ২০২৬ইং ২০ই কার্তিক, ১৪৩২বাং

শাহজালাল রুমীকে জামিন, আত্মসমর্পণের শর্তে চার সপ্তাহ সময়


শাহজালাল রুমীকে জামিন, আত্মসমর্পণের শর্তে চার সপ্তাহ সময়

গাজীপুরের টঙ্গীতে সাত বছর বয়সী এক শিশুকে যৌন হয়রানির অভিযোগের প্রেক্ষিতে একটি মাদরাসায় হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনায় দায়ের হওয়া মামলায় অভিভাবক শাহজালাল রুমীকে অন্তর্বর্তীকালীন জামিন প্রদান করেছেন হাইকোর্ট। জামিনের শর্ত হিসেবে তাকে আগামী চার সপ্তাহের মধ্যে গাজীপুর মহানগর জজ আদালতে আত্মসমর্পণ করতে হবে।

মঙ্গলবার, বিচারপতি মো. সেলিম ও বিচারপতি মো. আসিফ হাসান সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ এই আদেশ দেন। আদালতে শাহজালাল রুমীর জামিন আবেদনের পক্ষে শুনানিতে অংশগ্রহণ করেন অ্যাডভোকেট মাহবুবুর রহমান খান, বেল্লাল হোসাইন ও এইচ এম রুহুল আমিন মোল্লা।

মামলার বিবরণ অনুযায়ী, টঙ্গীর একটি মাদরাসায় সাত বছর বয়সী শিশুকে যৌন হয়রানির অভিযোগের পর সেখানে হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে। এর ফলে শাহজালাল রুমীর বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়, যা গণমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ব্যাপক আলোচনা সৃষ্টি করে। আইনি প্রতিকার চেয়ে গত ২৬ অক্টোবর হাইকোর্টে আগাম জামিনের আবেদন করেন শাহজালাল রুমী। মঙ্গলবার শুনানি শেষে আদালত তাকে এই অন্তর্বর্তীকালীন জামিন প্রদান করেন।

আরও পড়ুন: পতেঙ্গায় শিশু সোহাগ হত্যা: ইমাম হোসেনের মৃত্যুদণ্ড

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

মাইশা মুশফিরাতের জানাজায় ডিসি-এসপিসহ হাজারো মানুষের উপস্থিতি

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

বুধবার, ৪ই নভেম্বর, ২০২৬ ইং

০২:২৭ এম


মাইশা মুশফিরাতের জানাজায় ডিসি-এসপিসহ হাজারো মানুষের উপস্থিতি

আন্তর্জাতিক ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় চট্টগ্রামের (আইআইইউসি) ইংরেজি ভাষা ও সাহিত্য বিভাগের শিক্ষার্থী মাইশা মুশফিরাতের জানাজা সড়ক দুর্ঘটনায় মর্মান্তিক মৃত্যুর পর সম্পন্ন হয়েছে।

মঙ্গলবার বিকেলে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটকের সামনে অনুষ্ঠিত এই জানাজায় শিক্ষক, শিক্ষার্থী, স্থানীয় বাসিন্দা ও প্রশাসনের শীর্ষ কর্মকর্তাসহ হাজারো মানুষ অংশগ্রহণ করেন। প্রিয় শিক্ষার্থীকে শেষ বিদায় জানাতে গিয়ে পুরো এলাকায় এক শোকাবহ পরিবেশ সৃষ্টি হয়।

জীবনের কী নিষ্ঠুর পরিণতি! যে ক্যাম্পাসে বই হাতে হেঁটে যাওয়ার কথা ছিল, যে শ্রেণিকক্ষে সহপাঠীদের সঙ্গে স্বপ্ন বোনার কথা ছিল, সেখানেই তাকে ফিরতে হলো নিথর দেহে, কাফনে মোড়ানো কফিনে। সকালে যে মহাসড়কে লরির ধাক্কায় উল্টে যাওয়া মিনিবাসের নিচে চাপা পড়ে প্রাণ হারান এই তরুণী, বিকেলে সেই সড়কেই হাজারো মানুষের অশ্রুসিক্ত বিদায় পান তিনি। সামনে মরদেহবাহী অ্যাম্বুলেন্স, চারপাশে শোকার্ত স্বজন, শিক্ষক ও সহপাঠীদের ভিড়—সব মিলিয়ে এক হৃদয়বিদারক দৃশ্যের অবতারণা হয়।

জানাজায় অংশ নেন চট্টগ্রামের জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞা, পুলিশ সুপার মো. মাসুদ আলম বিপিএম, অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট সৈয়দ মাহবুবুল হক এবং সীতাকুণ্ড উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. ফখরুল ইসলামসহ প্রশাসন ও পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা। এ ছাড়া মাইশার মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করেছেন বিএনপির চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা ও সাবেক যুগ্ম মহাসচিব অধ্যাপক লায়ন আসলাম চৌধুরী এফসিএ। জানাজা শেষে মরহুমার রুহের মাগফিরাত কামনায় বিশেষ মোনাজাত করা হয়।

এর আগে মঙ্গলবার সকাল ৯টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটকের বিপরীতে ডালাস পেট্রোল পাম্পসংলগ্ন ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে একটি লরির ধাক্কায় একটি লোকাল মিনিবাস উল্টে শিক্ষার্থীদের ওপর পড়ে। এতে গুরুতর আহত মাইশাকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। এই দুর্ঘটনায় আরও এক শিক্ষার্থী আহত হন।

নিহত মাইশা মুশফিরাত মীরসরাই উপজেলার খৈয়াছড়া ইউনিয়নের বটকাটিয়া গ্রামের সাখাওয়াত হোসেন ও সালমা আক্তার দম্পতির মেয়ে। উচ্চশিক্ষার মাধ্যমে একটি সুন্দর ভবিষ্যৎ গড়ার স্বপ্ন ছিল তার। কিন্তু একটি দুর্ঘটনা মুহূর্তেই সেই স্বপ্ন নিভিয়ে দেয়।

এদিকে দুর্ঘটনার খবর ছড়িয়ে পড়তেই বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস ও সীতাকুণ্ডজুড়ে শোকের পাশাপাশি তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। সহপাঠী হারানোর শোক ও নিরাপদ যাতায়াতের দাবিতে শিক্ষার্থীরা ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক ও রেলপথ অবরোধ করেন। ফুটওভারব্রিজ নির্মাণ, দুর্ঘটনার জন্য দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ, স্পিডব্রেকার স্থাপন এবং নিহত ও আহতদের পরিবারের জন্য ক্ষতিপূরণসহ আট দফা দাবি জানান তারা।

অবরোধের কারণে সড়ক ও রেল যোগাযোগে সাময়িক বিঘ্ন ঘটে। পরে জেলা প্রশাসক ও পুলিশ সুপার ঘটনাস্থলে গিয়ে শিক্ষার্থীদের সঙ্গে কথা বলেন এবং দাবিগুলো দ্রুত বাস্তবায়নের আশ্বাস দেন। প্রশাসনের আশ্বাসের পরিপ্রেক্ষিতে শিক্ষার্থীরা অবরোধ প্রত্যাহার করে নেন।

শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, প্রতিদিন বিপুলসংখ্যক মানুষ ও শিক্ষার্থী এই মহাসড়ক পারাপার হলেও সেখানে নিরাপদ পারাপারের পর্যাপ্ত ব্যবস্থা নেই। মাইশার মৃত্যু কেবল একটি পরিবারের অপূরণীয় ক্ষতি নয়, এটি প্রধান ফটকের সামনে নিরাপদ যাতায়াতের বিষয়টি নতুন করে সামনে এনেছে। সংশ্লিষ্ট মহলের মতে, কেবল শোক প্রকাশ ও আশ্বাসের মধ্যেই সীমাবদ্ধ না থেকে শিক্ষার্থীদের আট দফা দাবি বাস্তবায়ন এবং মহাসড়কে কার্যকর নিরাপত্তাব্যবস্থা নিশ্চিত করা জরুরি।

মাইশা আর কখনো বিশ্ববিদ্যালয়ের শ্রেণিকক্ষে ফিরবেন না। তবে যে সড়ক তার প্রাণ কেড়ে নিয়েছে, সেই সড়কেই হাজারো মানুষের অশ্রুসিক্ত বিদায় ও সদ্ধাঞ্জলি সংশ্লিষ্টদের সামনে একটি বড় প্রশ্ন রেখে গেল—শিক্ষার্থীদের নিরাপদ যাতায়াত নিশ্চিত করতে আর কত প্রাণ ঝরতে হবে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

মালয়েশিয়ায় ৩ডি খাত ছাড়া বিদেশি কর্মী নিয়োগ সীমিত করার তাগিদ শিল্পমন্ত্রীর

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

বুধবার, ৪ই নভেম্বর, ২০২৬ ইং

০২:২৭ এম


মালয়েশিয়ায় ৩ডি খাত ছাড়া বিদেশি কর্মী নিয়োগ সীমিত করার তাগিদ শিল্পমন্ত্রীর

মালয়েশিয়ার শিল্পমন্ত্রী দাতুক সেরি জোহরি আবদুল গনি মন্তব্য করেছেন যে, বিদেশি কর্মী নিয়োগ সীমিত করা উচিত, বিশেষ করে নোংরা, ঝুঁকিপূর্ণ ও কঠিন (৩ডি) কাজের ক্ষেত্রে। তিনি উল্লেখ করেছেন, দেশটির বিদেশি শ্রমিকের ওপর নির্ভরশীলতা কমিয়ে আনতে হবে।

মন্ত্রী বলেন, দীর্ঘ সময় ধরে মালয়েশিয়ায় ব্যবসা পরিচালনা করা অনেক প্রতিষ্ঠান এখনো বিদেশি শ্রমিকের ওপর অতিমাত্রায় নির্ভরশীল হয়ে রয়েছে। এটি দেশের শ্রমবাজার ব্যবস্থাপনায় একটি বড় সমস্যা হয়ে দাঁড়িয়েছে। এ কারণে বিদেশি কর্মীদের ৩ডি খাতের কাজে নিয়োগের ওপর গুরুত্ব দেওয়া প্রয়োজন।

সোমবার (২ নভেম্বর) মালয়েশিয়ার পার্লামেন্টের নিম্নকক্ষে দেওয়ান রাকিয়াতে এক বক্তব্যে জোহরি আবদুল গনি জানান, বর্তমানে মালয়েশিয়ায় প্রায় ২৬ লাখ বিদেশি কর্মী অবস্থান করছেন। ত্রয়োদশ মালয়েশিয়া পরিকল্পনা (১৩এমপি) অনুযায়ী বিদেশি কর্মীর সংখ্যা ধীরে ধীরে কমার কথা থাকলেও বাস্তবে তা ঘটছে না।

মন্ত্রী আরও বলেন, ১০ থেকে ২০ বছর ধরে কার্যক্রম পরিচালনা করা অনেক প্রতিষ্ঠান এখনো বিদেশি শ্রমিক নিয়োগের চাহিদা জানিয়ে আসছে। এর ফলে বিদেশি শ্রমিকের ওপর নির্ভরশীলতা কমানোর পরিকল্পনা বাস্তবায়ন কঠিন হয়ে পড়ছে।

তিনি বলেন, মালয়েশিয়ায় দীর্ঘ সময় ধরে ব্যবসা পরিচালনা করা বেশিরভাগ প্রতিষ্ঠান বিদেশি শ্রমিকের ওপর নির্ভরতা বজায় রেখেছে। এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ সমস্যা। তাই বিদেশি কর্মী নিয়োগের প্রয়োজনীয়তা মূলত নোংরা, ঝুঁকিপূর্ণ ও কঠিন কাজের মধ্যেই সীমাবদ্ধ রাখতে হবে। সংসদ সদস্য তান হং পিনের প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী এসব কথা বলেন।

সংসদ সদস্য তান বলেন, দেশটির অনেক উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান ইতোমধ্যে স্বয়ংক্রিয় প্রযুক্তির ব্যবহার বৃদ্ধি করেছে। তবে উৎপাদন কার্যক্রম সচল রাখতে এখনো কিছু অদক্ষ শ্রমিকের প্রয়োজন, যাদের অধিকাংশই বিদেশি নাগরিক।

তিনি অভিযোগ করেন, বিদেশি শ্রমিক নিয়োগের জন্য আবেদন করা অনেক উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানকে কম খরচে শ্রমিক পেতে ইন্দোনেশিয়া কিংবা ভিয়েতনামে কারখানা স্থানান্তরের পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। এই ধরনের পরামর্শ মালয়েশিয়ার শিল্প ও বিনিয়োগ খাতের জন্য নেতিবাচক বার্তা বহন করে। এতে কারখানা ও উদ্যোক্তারা দেশ ছেড়ে চলে যাওয়ার ঝুঁকি তৈরি হতে পারে।

তান হং পিন জানতে চান, বিভিন্ন শিল্প খাতে স্বয়ংক্রিয় প্রযুক্তির ব্যবহার কতটা সম্প্রসারিত হয়েছে, তা মূল্যায়নে মন্ত্রণালয় কোনো উদ্যোগ নেবে কিনা। পাশাপাশি যেসব প্রতিষ্ঠান প্রযুক্তির সর্বোচ্চ ব্যবহার করেও প্রয়োজনীয় শ্রমিকের চাহিদা পূরণ করতে পারছে না, তাদের ক্ষেত্রে বিদেশি কর্মী নিয়োগ নীতিতে আরও নমনীয়তা আনা হবে কিনা, সে বিষয়েও তিনি মন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষণ করেন।

এর আগে গত ৮ সেপ্টেম্বর জোহরি আবদুল গনি জানিয়েছিলেন, বিদেশি কর্মী নিয়োগের আবেদনকারী শিল্পপ্রতিষ্ঠানগুলোকে স্পষ্টভাবে ব্যাখ্যা করতে হবে, কেন তাদের ৩ডি কাজের জন্য বিদেশি শ্রমিক প্রয়োজন।

এ ছাড়া ৩ডি খাতের বাইরে অন্য কোনো পদে বিদেশি কর্মী নিয়োগের আবেদন করা হলে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানকে প্রস্তাবিত বেতন এবং ওই পদে নিয়োগের জন্য প্রয়োজনীয় ন্যূনতম শিক্ষাগত বা পেশাগত যোগ্যতার বিবরণ দিতে হবে।

বিশ্লেষকদের মতে, বিদেশি শ্রমিকের ওপর নির্ভরশীলতা কমানোর পাশাপাশি শিল্পপ্রতিষ্ঠানের বাস্তব শ্রমিক চাহিদা, প্রযুক্তিগত সক্ষমতা এবং উৎপাদন ব্যয় বিবেচনায় নেওয়া জরুরি। অন্যথায় শ্রমিক সংকটের কারণে মালয়েশিয়ার উৎপাদন ও বিনিয়োগ খাত প্রতিযোগিতায় পিছিয়ে পড়ার আশঙ্কা রয়েছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

মিরপুরে কুরিয়ার সার্ভিসের সামনে জোড়া ককটেল বিস্ফোরণ, যুবক দগ্ধ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

বুধবার, ৪ই নভেম্বর, ২০২৬ ইং

০২:২৮ এম


মিরপুরে কুরিয়ার সার্ভিসের সামনে জোড়া ককটেল বিস্ফোরণ, যুবক দগ্ধ

রাজধানীর মিরপুর-১১ নম্বর এলাকায় এজেআর কুরিয়ার সার্ভিসের সামনে জোড়া ককটেল বিস্ফোরণের একটি ঘটনা ঘটেছে। এই বিস্ফোরণের ফলে পাপন (২০) নামের এক যুবক দগ্ধ হয়েছেন। গুরুতর অবস্থায় তাকে জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে ভর্তি করা হয়েছে।

হাসপাতালের জরুরি বিভাগের রেসিডেন্ট সার্জন ড. সুলতান মাহমুদ শিকদার জানান, মঙ্গলবার রাত ৯টার দিকে দগ্ধ অবস্থায় ওই যুবককে হাসপাতালে আনা হয়। প্রাথমিক চিকিৎসার পর তার শরীরে আনুমানিক ২০ শতাংশ ‘ফ্লেম বার্ন’ (আগুনের পোড়া) শনাক্ত হয়েছে। বর্তমানে তিনি সেখানে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, রাত ৮টা ৩৭ মিনিটের দিকে এজেআর কুরিয়ার সার্ভিসের সামনের সড়কে হঠাৎ বিকট শব্দে ককটেল বিস্ফোরিত হয়। মোটরসাইকেলে আসা দুই ব্যক্তি দুটি ককটেল নিক্ষেপ করে দ্রুত স্থান ত্যাগ করেন। এতে কুরিয়ার সার্ভিসের ওই কর্মী দগ্ধ হলে স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে দ্রুত হাসপাতালে পাঠায়।

ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে পল্লবী থানার ওসি জালাল উদ্দিন জানান, কুরিয়ার সার্ভিসের সামনে দুটি ককটেল বিস্ফোরণের আলামত পাওয়া গেছে। এর আগে এই কুরিয়ার সার্ভিসের সামনে একই ধরনের বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছিল।

তিনি আরও জানান, প্রাথমিকভাবে ব্যবসায়িক কোনো বিরোধের কারণে এই হামলা চালানো হয়ে থাকতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তবে বিষয়টি খতিয়ে দেখতে পুলিশ ইতোমধ্যে তদন্ত শুরু করেছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

‘যে মসজিদের পাশে বড় হয়েছি, সেখান থেকেই উচ্ছেদ হতে হয়েছে’

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

বুধবার, ৪ই নভেম্বর, ২০২৬ ইং

০২:২৯ এম


‘যে মসজিদের পাশে বড় হয়েছি, সেখান থেকেই উচ্ছেদ হতে হয়েছে’

ভারতের রাজধানী দিল্লির কেন্দ্রস্থলে, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির বাসভবনের নিকটবর্তী একটি ছোট মসজিদ ধ্বংসস্তূপের মধ্যে দাঁড়িয়ে রয়েছে। ফ্যাকাশে দেয়াল এবং সুচালো খিলানগুলো এখনও অক্ষত অবস্থায় রয়েছে। মসজিদের আঙিনায় সবুজ ও সাদা টাইলসের অস্তিত্বও দেখা যাচ্ছে। তবে, যারা দীর্ঘকাল ধরে এই মসজিদ ও আশপাশের এলাকায় জীবনযাপন করেছেন, তাদের অধিকাংশই এখন সেখান থেকে বিতাড়িত হয়ে গেছেন।

মোহাম্মদ ওয়াসিম, যিনি ৫০ বছর বয়সী, ধ্বংসস্তূপের ওপারে একটি জায়গা দেখিয়ে বলেন, সেখানে এক সময় তাদের বাড়ি ছিল। এই বাড়িতেই তার বাবার বিয়ে হয়েছিল। কয়েক দশক পর একই জায়গায় তার মেয়ের বিয়েও অনুষ্ঠিত হয়। কিন্তু এখন সেই বাড়ির কোনো অস্তিত্ব নেই। খবরটি বিবিসির মাধ্যমে প্রকাশিত হয়েছে।

ওয়াসিমের পরিবারসহ কয়েকশ মানুষ মসজিদটির আশপাশের ছোট ছোট ঘরে বসবাস করতেন। ভারতের রাজধানীর অভিজাত ও কঠোর নিরাপত্তাবেষ্টিত এলাকাগুলোর মধ্যে রেসকোর্সে সামরিক স্থাপনা, অভিজাত ক্লাব এবং বিশাল বাংলোর মাঝে গড়ে উঠেছিল এসব বসতি। তাদের মধ্যে অনেকেই কয়েক প্রজন্ম ধরে এখানে বসবাস করছিলেন। আশপাশের ধনী পরিবারগুলোর গাড়িচালক, পরিচ্ছন্নতাকর্মী এবং মালি হিসেবে কাজ করতেন তারা।

সরকারি জমিতে অবৈধভাবে ঘর নির্মাণের অভিযোগে গত ৭ অক্টোবর এসব বাড়িঘর গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়। সামরিক স্থাপনার নিকটবর্তী অবস্থানের কারণে নিরাপত্তা ঝুঁকির বিষয়টিও প্রশাসন তুলে ধরেছে। উচ্ছেদের পর প্রায় ৭১৭টি পরিবারকে দিল্লি থেকে ৩১ মাইল দূরে সাভদা ঘেভরা কলোনিতে স্থানান্তর করা হয়।

উচ্ছেদের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে দিল্লি হাইকোর্টে আবেদন করেছিলেন বাসিন্দারা। তাদের যুক্তি ছিল, কর্মস্থল, সন্তানদের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এবং দীর্ঘদিনের সামাজিক সম্পর্ক থেকে এত দূরে সরিয়ে নেওয়া হলে তাদের জীবনযাত্রা বিপর্যস্ত হবে। তবে গত আগস্টে আদালত তাদের পুনর্বাসনের পক্ষে রায় দেয়।

উচ্ছেদের সময় মসজিদটি এবং কাছের একটি হিন্দু মন্দির অক্ষত রাখা হলেও একই দিন স্থাপনা দুটির পানি ও বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেওয়া হয়। এরপর থেকেই মসজিদ চত্বরে প্রবেশেও বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়েছে। সাধারণত মুসল্লিদের ফটক থেকেই ফিরিয়ে দেওয়া হয়। নিরাপত্তা রক্ষীদের অনুরোধ করলে কখনো কখনো ভেতরে প্রবেশের সুযোগ পাওয়া যায়।

সরকারের দাবি, মসজিদটি যে জমির ওপর দাঁড়িয়ে আছে, তার মালিকানা সরকারের। তবে মসজিদ কর্তৃপক্ষের বক্তব্য, ১৯৭৭ সালে জমিটি ওয়াক্‌ফ সম্পত্তি হিসেবে নিবন্ধিত হয়েছিল। ধর্মীয় বা দাতব্য কাজের জন্য উৎসর্গ করা সম্পত্তিকে ইসলামি আইনে ওয়াক্‌ফ বলা হয়। মসজিদটি ঐতিহ্যবাহী স্থাপনা হিসেবেও তালিকাভুক্ত। দিল্লি ওয়াক্‌ফ বোর্ডের দাবি, মসজিদটির বয়স প্রায় ৩০০ বছর। অন্য হিসাব অনুযায়ী, এর বয়স ১২৫ থেকে ১৫০ বছরের মধ্যে।

মসজিদের পানি ও বিদ্যুৎ সংযোগ পুনঃস্থাপনের দাবিতে এবং স্থাপনাটির ভবিষ্যৎ নিয়ে উদ্বেগ জানিয়ে কর্তৃপক্ষকে চিঠি দিয়েছে ওয়াক্‌ফ বোর্ড। এছাড়া মসজিদটি ভেঙে ফেলার আশঙ্কায় আদালতের দ্বারস্থ হয়েছেন একজন মুসল্লিও।

গত ২৯ অক্টোবর সরকার আদালতকে জানায়, ওয়াক্‌ফ বোর্ডের আপত্তি বিবেচনা করে আগামী চার সপ্তাহ মসজিদটির বিরুদ্ধে কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হবে না। তবে নিরাপত্তার স্বার্থে ভাঙার কাজ চলাকালে সেখানে নামাজের সুযোগ দেওয়া হবে না। মুসল্লিদের আইনজীবী এ যুক্তির বিরোধিতা করেন। আদালত এ বিষয়ে হস্তক্ষেপ না করে পরবর্তী শুনানির জন্য ১৬ ডিসেম্বর দিন ধার্য করেন।

মসজিদটির ভবিষ্যৎ অনিশ্চিত থাকলেও সেখানে প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে বসবাস করা হিন্দু ও মুসলমানদের কাছে এখন বড় প্রশ্ন হলো—দীর্ঘদিনের স্মৃতি আর শেকড়ের কতটুকু তারা ধরে রাখতে পারবেন।

ওয়াসিম এখনো সুযোগ পেলেই মসজিদে নামাজ পড়তে ফিরে আসেন। তবে কখনো কখনো নিরাপত্তারক্ষীরা তাকে ফিরিয়ে দেন। সম্প্রতি এক বিকেলে মসজিদে মাত্র চার-পাঁচজন মুসল্লি উপস্থিত ছিলেন। বাইরে একটি জেনারেটর চলছিল। বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন থাকায় সেটির সাহায্যে বিদ্যুৎ সরবরাহ করা হচ্ছিল। ওয়াসিমের ভাষায়, "এই জায়গার সঙ্গে আমাদের হৃদয় ও পুরো জীবন জড়িয়ে আছে। এখানেই খেলাধুলা করে আমাদের শৈশব কেটেছে। তাহলে কীভাবে আমরা এই জায়গা ছেড়ে যেতে পারি?"

বিধবা রেখার স্মৃতিতেও জড়িয়ে আছে সেই কলোনি। আশপাশের বাড়িতে থালাবাসন ধোয়ার কাজ করতেন তিনি। সেখানেই সংসার গড়েছেন, সন্তানদের বড় করেছেন এবং স্থানীয় মন্দিরে স্বেচ্ছাসেবামূলক কাজেও অংশ নিয়েছেন। পুনর্বাসন নিয়ে তার প্রশ্ন, "কয়েক দশক ধরে গড়ে তোলা একটি জীবন কীভাবে উপড়ে নিয়ে অন্য কোথাও নতুন করে সাজানো সম্ভব?" নতুন জায়গায় তিনি কাজ পাচ্ছেন না। তার ১৯ বছর বয়সি ছেলেও কর্মসংস্থানের সংকটে রয়েছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, দিল্লিতে শ্রমজীবী মানুষের উচ্ছেদ ও বাস্তুচ্যুতির দীর্ঘ ইতিহাস রয়েছে। কয়েক দশক ধরে বসবাস করলেও জমির বৈধ মালিকানার কাগজপত্র না থাকায় তাদের বারবার শহরের দূরবর্তী প্রান্তে সরিয়ে দেওয়া হচ্ছে। নগরবিষয়ক গবেষক মুক্তা নায়েক বিবিসিকে বলেন, "পুনর্বাসনের ফলে মানুষ কর্মস্থল ও সামাজিক যোগাযোগের নেটওয়ার্ক থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে। এতে জীবিকা ও আয় কমে যায়।"

এ বিষয়ে দিল্লির হাউজিং এজেন্সি, স্থানীয় পৌরসভা ও কেন্দ্রীয় সরকারের ভূমি বিভাগের বক্তব্য নেওয়ার চেষ্টা করা হলেও তা পাওয়া যায়নি।

২০০৬ সালে দিল্লির হরিয়ানা সীমান্তের কাছে কৃষি জমির ওপর সাভদা ঘেভরা কলোনি গড়ে তোলা হয়। শহরের বিভিন্ন এলাকা থেকে উচ্ছেদ হওয়া পরিবারগুলোর পুনর্বাসনের জন্যই এই আবাসন প্রকল্প তৈরি করা হয়েছিল। তবে সেখানে স্থানান্তরের পরও অনেক পরিবারের জীবনযাত্রায় নতুন সংকট তৈরি হয়েছে।

সাভদায় যাওয়ার পর বাবলুর দৈনন্দিন জীবনও বদলে গেছে। প্রতিদিন ভোর ৫টায় বাড়ি থেকে বের হয়ে তিনবার ট্রেন বদলে মেট্রোরেলে সন্তানদের নিয়ে মধ্য দিল্লিতে তাদের পুরোনো স্কুলে যান। ক্লাস শেষ হতে ছয় ঘণ্টা সময় লাগে। এ সময় তিনি সাবেক এলাকার বাইরে একটি চায়ের দোকানে অপেক্ষা করেন। তার কাজ থাকলে স্ত্রীকে এই দীর্ঘ পথ পাড়ি দিতে হয়।

বাবলু এক সময় রেসকোর্স এলাকার একটি ক্লাবে কাজ করতেন। এখন কাজ পেয়েছেন দিল্লির উত্তর-পূর্বে অবস্থিত মিরাট শহরে। তিনি বলেন, "বাসিন্দারা জানত, এক সময় এলাকা ছাড়তে হতে পারে। কিন্তু তারা আশা করেছিলেন, এমন কোথাও পুনর্বাসন করা হবে, যেখান থেকে কর্মস্থলে যাতায়াত ও সন্তানদের পড়াশোনা চালিয়ে যাওয়া সম্ভব হবে।"

সরকারের দাবি, রেসকোর্সের কাছাকাছি উপযুক্ত আবাসন পাওয়া যায়নি। আদালতে সাভদা ঘেভরার স্কুল, চিকিৎসাকেন্দ্র ও পরিবহন ব্যবস্থার কথা তুলে ধরে এলাকাটিকে পুনর্বাসনের উপযোগী বলে উল্লেখ করে সরকার। কিন্তু ৬৩ বছর বয়সি নাঈম খানের কাছে এসব সুবিধা যথেষ্ট নয়। তার দুই নাতির শ্রবণ ও বাক্‌প্রতিবন্ধিতা রয়েছে। তাদের বিশেষায়িত চিকিৎসা ও শিক্ষার প্রয়োজন, যা ওই এলাকায় নেই বলে জানান তিনি। নাঈমের আক্ষেপ, "আমাদের ২০ বছর পিছিয়ে দেওয়া হয়েছে।"

রেসকোর্সে বসবাসের সময় বাসিন্দাদের ছোট-খাটো আয়ের নানা সুযোগ ছিল। কেউ আশপাশের বাড়িতে থালাবাসন ধুতেন, কেউ বাগানের পরিচর্যা করতেন, আবার কেউ ফেলে দেওয়া বোতল সংগ্রহ করে বিক্রি করতেন। বয়স্ক বিধবা আখতারি প্রতিদিন মিনারেল ওয়াটারের বোতল কুড়িয়ে প্রায় ১০০ রুপি আয় করতেন। অবশিষ্ট রুটি শুকিয়ে গবাদিপশুর খাবার হিসেবেও বিক্রি করতেন। উচ্ছেদের পর এসব আয়ের পথও বন্ধ হয়ে গেছে।

আখতারি বলেন, "এখানে বসবাসকারী আমরা সবাই উচ্ছেদ হয়ে এসেছি। সবাই দরিদ্র ও অসহায়। নিজেরাই যখন সংকটে, তখন অন্যকে ঘরের কাজে কে নিয়োগ দেবে? রেসকোর্সে অভাবে পড়লে মসজিদের ইমাম বা প্রতিবেশীরা তাকে আটা কেনার টাকা দিতেন। কিন্তু এখানে কেউ তা করবে না।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ২৪শে জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪৯
জোহর ১১:৪৩
আসর ০৩:৪১
মাগরিব ০৫:১৭
ইশা ০৬:৩০
সূর্যোদয় : ০৬:০৬ সূর্যাস্ত : ০৫:১৭
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%