ঢাকা সোমবার, ২৬শে অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ১০ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ১৫ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
সোমবার, ২৬শে অক্টোবর, ২০২৬ইং ১০ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

দুই ভাইয়ের মায়ের জন্য আদালত বসেছিল সম্পত্তি বা টাকার জন্য নয়: সউদীর অমর আইনি লড়াই


দুই ভাইয়ের মায়ের জন্য আদালত বসেছিল সম্পত্তি বা টাকার জন্য নয়: সউদীর অমর আইনি লড়াই

প্রতিদিন পৃথিবীর আদালতে অসংখ্য মামলা উত্থাপিত হয়- সম্পত্তির ভাগবাটোয়ারা, টাকার লোভ, অথবা অধিকার কেড়ে নেওয়ার দ্বন্দ্ব। বিচারকের কাঠগড়ায় দাঁড়িয়ে মানুষে মানুষে চলে মুখ দেখাদেখি বন্ধ করার লড়াই। কিন্তু এমন একটি আদালতকক্ষ কল্পনা করা যায় কি, যেখানে দুই ভাই কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে, চোখের জল ফেলে বিচারকের কাছে প্রার্থনা করছেন- "দয়া করে আমাদের মাকে আমাদের কাছে দিন, মায়ের সেবা করার সৌভাগ্যটুকু থেকে আমাদের বঞ্চিত করবেন না!"

বর্তমানের এই নিষ্ঠুর বাস্তবতায় যখন বৃদ্ধাশ্রমের ভারী দরজায় বাবা-মায়ের নিঃসঙ্গ দীর্ঘশ্বাস ঝরে, তখন সন্তান নিজের একটু স্বাচ্ছন্দ্যের জন্য মা-বাবাকে বোঝা মনে করে ফেলে- ঠিক তখন সউদী আরবের এই ঘটনা পুরো পৃথিবীকে স্তব্ধ করে দিয়েছে। এটি ভালোবাসার প্রকৃত সংজ্ঞা স্মরণ করিয়ে দেয়।

বিরল সেই ঘটনার প্রেক্ষাপট:

আরও পড়ুন: রাতে ঘুম না এলে এড়িয়ে চলুন যেসব কাজ

সউদী আরবের এই হৃদয়বিদারক ভালোবাসার গল্পটি মূলত এক শতায়ু (প্রায় ১০০ বছর বা তদূর্ধ্ব বয়সী) বৃদ্ধা মাকে কেন্দ্র করে আবর্তিত হয়েছে। দুই ভাই- বড় ভাই হিজাম আল-গামদি এবং তার ছোট ভাই- দুজনেই মায়ের দেখভাল করার দায়িত্ব নিতে মরিয়া হয়ে উঠেছিলেন। বড় ভাই হিজাম বছরের পর বছর ধরে নিজের সমস্ত জীবন মায়ের সেবায় উৎসর্গ করেছিলেন। বিয়ে পর্যন্ত করেননি, চাকরিও খোঁজেননি, মায়ের মুখের দিকে তাকিয়ে থাকাটাই ছিল তার জীবনের একমাত্র শান্তি ও ধ্যানজ্ঞান।

অন্যদিকে, ছোট ভাইও চুপ করে বসে ছিলেন না। তার যুক্তি ছিল- বড় ভাই বয়সের ভারে ক্লান্ত ও অসুস্থ হয়ে পড়েছেন, এখন তার নিজের বিশ্রামের প্রয়োজন। তাই মায়ের দেখাশোনার দায়িত্ব যেন তাকে দেওয়া হয়।

যখন কোনোভাবেই দুই ভাইয়ের এই মধুর দ্বন্দ্বের মীমাংসা হচ্ছিল না, তখন বিষয়টি আদালত পর্যন্ত গড়ায়। বিচারকের কাঠগড়ায় দাঁড়িয়ে দুই ভাইয়ের চোখে ছিল শুধু আকুতি- সম্পত্তি বা টাকার জন্য নয়, মা নামের পরম স্বর্গের অধিকার পাওয়ার আকুতি।

বিচারকের সামনে মায়ের সেই হৃদয়বিদারক উত্তর

আরও পড়ুন: প্রবারণা পূর্ণিমায় ফানুসের আলোয় সজ্জিত চট্টগ্রামের আকাশ

বিচারক যখন দেখলেন দুই ভাইয়ের কাউকে বোঝানো যাচ্ছে না, তখন তিনি খোদ সেই শতবর্ষী মাকে এজলাসে হাজির করার নির্দেশ দিলেন। বিচারক সস্নেহে বৃদ্ধা মায়ের কাছে জানতে চাইলেন, তিনি কার সাথে থাকতে চান-বড় ছেলের কাছে, নাকি ছোট ছেলের কাছে?

মায়ের চোখে তখন জল গড়িয়ে পড়ছে। তিনি বিচারককে উদ্দেশ করে কাঁপাপা কণ্ঠে যে কথাটি বললেন, তা শুনে উপস্থিত আইনজীবী, বিচারক এবং কাঠগড়ার মানুষগুলোর সবার বুক ফেটে কান্না এল। মা বললেন, "বাবা বিচারক! আমার এক ছেলে আমার ডান চোখ, অন্য ছেলে আমার বাম চোখ। বলো, মানুষ কি কখনো নিজের দুই চোখের মধ্যে একটিকে বাদ দিতে পারে? আমি কাকে ছেড়ে কার কাছে যাব? দুজনেই আমার চোখের মণি!"

মায়ের এই উত্তর পুরো আদালতকক্ষকে স্তব্ধ করে দেয়। কোনো সম্পত্তি বা স্বার্থের দ্বন্দ্ব নয়, এই লড়াই ছিল শুধুই অপরিসীম ভালোবাসা আর মায়ের সেবা পাওয়ার প্রতিযোগিতা।

শেষ পর্যন্ত বিচারক বাস্তবতার খাতিরে রায় দেন ছোট ভাইয়ের পক্ষে। কারণ ছোট ভাই তুলনামূলক তরুণ এবং তার নিজের পরিবার থাকায় মায়ের সেবায় আরও বেশি শারীরিক শক্তি ও সাহায্য নিশ্চিত করা সম্ভব ছিল। বড় ভাই হিজাম যখন এই রায় শুনলেন, তখন তার চোখ দিয়ে জল গড়িয়ে পড়ল- তবে তা কোনো ক্ষোভ বা হতাশার নয়, বরং মায়ের সেবার সৌভাগ্য হাতছাড়া হয়ে যাওয়ার সীমাহীন বেদনা থেকে। রায় ঘোষণার পর দুই ভাই কোনো বিবাদ নয়, বরং একে অপরকে বুকে জড়িয়ে ধরে অঝোরে কেঁদে ফেলেন।

আরও পড়ুন: ইংল্যান্ডের ল্যান্ডুডনো: পাহাড়, সমুদ্র ও সবুজ প্রকৃতির মিলনস্থল

একটি আয়না, আমাদের ভাবনার খোরাক

আজকের আধুনিক সমাজে যেখানে শেকড় ধীরে ধীরে হালকা হয়ে যাচ্ছে, যেখানে সন্তানরা নিজের ক্যারিয়ার ও দুনিয়াবি সুখে ব্যস্ত হয়ে পড়ছে- সেখানে এই সউদী ভাইদের ঘটনা আমাদের বিবেককে প্রবলভাবে নাড়া দিয়ে যায়।

যে সমাজে হাজারো মা-বাবা অবহেলায় চোখের জল ফেলেন, সেই একই দুনিয়াতে এমন সন্তানও রয়েছে যারা মায়ের একটু ছোঁয়া পাওয়ার জন্য, মায়ের পা দুটি টিপে দেওয়ার জন্য আদালতের কাঠগড়ায় বুক চিতিয়ে দাঁড়িয়ে যায়।

এভাবে বলা যেতে পারে মহান সৃষ্টিকর্তার দরবারে, পৃথিবীতে প্রতিটি মা-বাবার কপালে যেন এমন সন্তানই জোটে। আর যে সন্তানরা আজ মা-বাবাকে দূরে ঠেলে দিয়েছে, এই গল্পটি যেন তাদের হৃদয়ের গভীরে গিয়ে আঘাত করে-কারণ মা-বাবা চলে গেলে দুনিয়ার সব আদালত খুঁজেও তাদের আর ফিরিয়ে আনা যায় না।

আরও পড়ুন: গন্ডামারায় মনোমুগ্ধকর কাশবন দেখতে দর্শনার্থীদের ভিড়

উল্লিখিত ঘটনাটি ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে সংঘটিত হয় সউদী আরবে, তবে এই ধরনের আরেকটি ঘটনা সেখানে ২০১২ সালেও ঘটেছিল।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

নেক আমলে অবিচল থেকে আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনের গুরুত্ব তুলে ধরা হলো

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

শনিবার, ২৪শে অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৯:৩২ এম


নেক আমলে অবিচল থেকে আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনের গুরুত্ব তুলে ধরা হলো

বিশিষ্ট সাহাবি হজরত সাওবান (রা.)-এর বর্ণনা অনুযায়ী, তিনি উল্লেখ করেছেন যে, রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘বান্দা নিরবচ্ছিন্নভাবে নেক আমলের মাধ্যমে আল্লাহর সন্তুষ্টি সন্ধানে লিপ্ত থাকে। শেষ পর্যন্ত আল্লাহ জিবরাইল (আ.)-কে নির্দেশ দেন, আমার অমুক বান্দা আমাকে সন্তুষ্ট করার প্রচেষ্টায় লেগে আছে। শুনে রাখ, তার ওপর আমার রহমত রয়েছে।’

জিবরাইল (আ.) তখন বলেন, অমুকের ওপর আল্লাহর রহমত বর্ষিত হোক। এরপর আরশবাহী ফেরেশতারা একই কথা বলেন, অমুকের ওপর আল্লাহর রহমত বর্ষিত হোক। আরশের চারপাশের ফেরেশতারা একইভাবে এ কথা উচ্চারণ করতে থাকেন। এরপর সাত আসমানের অধিবাসীরাও এইভাবে বলতে থাকে। এর ফলে পৃথিবীতে তার ওপর রহমত বর্ষিত হয়। (মুসনাদে আহমাদ, হাদিস : ২২৪০৯)

শিক্ষা ও করণীয়

১. আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনই হোক জীবনের লক্ষ্য। একজন মুমিনের জীবনের প্রধান লক্ষ্য হওয়া উচিত আল্লাহ তাআলার সন্তুষ্টি অর্জন করা। জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রে তাঁর আদেশ মেনে চলা এবং নিষেধ থেকে বিরত থাকার মাধ্যমে আল্লাহর নৈকট্য লাভের চেষ্টা করতে হবে।

২. নেক আমলে অবিচল থাকা মুমিনের বৈশিষ্ট্য। আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনের জন্য নিয়মিত নেক আমল করে যেতে হবে। সামান্য আমল হলেও তা আন্তরিকতা ও নিষ্ঠার সঙ্গে নিয়মিত করার চেষ্টা করা উচিত। কোনো অবস্থাতেই নেক আমলের পথ থেকে বিচ্যুত হওয়া উচিত নয়।

৩. আল্লাহর রহমত লাভের জন্য আন্তরিকতা জরুরি। বাহ্যিক আমলই যথেষ্ট নয়; বরং আমলের পেছনে বিশুদ্ধ নিয়ত ও আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনের আকাঙ্ক্ষা থাকতে হবে। মানুষের প্রশংসা কিংবা দুনিয়াবি স্বার্থ নয়, আল্লাহর সন্তুষ্টিই হওয়া উচিত প্রতিটি নেক আমলের মূল উদ্দেশ্য।

৪. নেক আমল আল্লাহর রহমত লাভের মাধ্যম। আল্লাহর রহমত ছাড়া কোনো মানুষই প্রকৃত সফলতা অর্জন করতে পারে না। তাই নেক আমলের পাশাপাশি আল্লাহর রহমত কামনা করতে হবে এবং তাঁর অনুগ্রহের ব্যাপারে আশাবাদী থাকতে হবে।

৫. নেককার বান্দার জন্য ফেরেশতারাও রহমতের দোয়া করেন। হাদিসে নেককার বান্দার জন্য ফেরেশতাদের রহমতের দোয়ার কথা উল্লেখ করা হয়েছে। এটি মুমিনের জন্য অত্যন্ত আশাব্যঞ্জক বিষয়। তাই আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনের পথে অবিচল থেকে এমন জীবন গঠনের চেষ্টা করতে হবে, যাতে আল্লাহর রহমত লাভ করা যায়।

সারকথা, আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনের জন্য আন্তরিকভাবে নেক আমল করে যেতে হবে। মানুষের প্রশংসা নয়, বরং আল্লাহর সন্তুষ্টি ও রহমত লাভের আকাঙ্ক্ষাই হোক আমাদের প্রতিটি কাজের প্রেরণা। আল্লাহ তাআলা আমাদের সবাইকে নেক আমলে অবিচল থাকার এবং তাঁর রহমত লাভের তাওফিক দান করুন। আমিন।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

জর্ডানে গির্জায় এলোপাতাড়ি গুলিতে নিহত ৭

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

শনিবার, ২৪শে অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৯:৩৪ এম


জর্ডানে গির্জায় এলোপাতাড়ি গুলিতে নিহত ৭

জর্ডানের কারাক গভর্নরেটের একটি গ্রামে গির্জায় অনুষ্ঠিত শেষকৃত্য চলাকালীন বন্দুকধারীদের হামলায় অন্তত সাতজন প্রাণ হারিয়েছেন। এই ঘটনায় আহত হয়েছেন আরও ৩৪ জন। হামলাকারীদের ধরার জন্য দেশটির নিরাপত্তা বাহিনী অভিযান পরিচালনা করছে।

কারাক গভর্নরেটের হামুদ নামক একটি গ্রামের গ্রিক অর্থোডক্স গির্জায় হামলার ঘটনাটি ঘটে।

শুক্রবার (২৩ অক্টোবর) এক সংবাদ সম্মেলনে জর্ডানের জননিরাপত্তা অধিদপ্তরের পরিচালক ওবাইদুল্লাহ আল-মায়েতাহ এই তথ্য প্রকাশ করেন।

তিনি বলেন, নিহত সাতজনের মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়েছে। আহতদের মধ্যে ২৭ জন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন, শেষ বিদায়ের শোভাযাত্রা শুরু হওয়ার সময় বিস্ফোরণের শব্দ শোনা যায়। এরপর মুখোশ পরা কয়েকজন হামলাকারী গির্জায় প্রবেশ করে কয়েক মিনিট ধরে গুলি চালাতে থাকে।

জর্ডানের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশন চ্যানেল আল-মামলাকা জানায়, একটি গাড়ি থেকে নেমে দুই সন্দেহভাজন ব্যক্তি গুলি চালানোর পর নিরাপত্তা বাহিনী ঘটনাস্থলে মোতায়েন করা হয়। পরে হামলাকারীদের ধরতে অভিযান শুরু করা হয়।

জানাজায় অংশ নেওয়া খালেদ বুরকান আল-মামলাকাকে বলেন, সেখানে কয়েক ডজন মানুষ উপস্থিত ছিলেন। হামলাকারীদের একজনের হাতে পিস্তল এবং অন্যজনের হাতে রাইফেল ছিল।

এখন পর্যন্ত কোনো গোষ্ঠী এই হামলার দায় স্বীকার করেনি।

সংবাদ সম্মেলনে জর্ডানের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মাজেন আল-ফারায়া এই হামলাকে নজিরবিহীন বলে বর্ণনা করেন। হামলাটিকে ‘সন্ত্রাসী’ কর্মকাণ্ড উল্লেখ করে তিনি বলেন, এর সঙ্গে জড়িত গোষ্ঠীর মানবিকতার সঙ্গে কোনো সম্পর্ক নেই।

তিনি আরও বলেন, ‘এই দেশকে কখনোই সন্ত্রাস ও সহিংসতার পথে ঠেলে দেওয়া যাবে না।’ তার ভাষ্য অনুযায়ী, জর্ডানের মানুষ আগে কখনো এমন ঘটনার মুখোমুখি হয়নি।

এর আগে দেশটির বাদশাহ দ্বিতীয় আবদুল্লাহ হামলাকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার অঙ্গীকার করেন।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে তিনি বলেন, ‘জর্ডানবাসীর রক্ত অত্যন্ত মূল্যবান। দেশের বিরুদ্ধে যারা সীমা অতিক্রম করবে, তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

এ হামলার নিন্দা জানিয়েছে সংযুক্ত আরব আমিরাতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। এক বিবৃতিতে তারা ঘটনাটিকে ‘সন্ত্রাসী ও অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড’ হিসেবে উল্লেখ করে। একই সঙ্গে নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতা নষ্ট করার উদ্দেশ্যে পরিচালিত সব ধরনের সহিংসতার বিরোধিতা করে দেশটি।

জাতিসংঘের মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেসও এ হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন। তার মুখপাত্র স্টেফিন ডুজারিক সাংবাদিকদের বলেন, উপাসনালয়ে হামলা এমনিতেই নিন্দনীয়; আর শেষ বিদায়ের শোভাযাত্রার সময় এমন হামলা বিশেষভাবে জঘন্য।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

রিয়াদে হুথিদের ক্ষেপণাস্ত্র হামলা, নিরাপত্তা সতর্কতা জারি

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

শনিবার, ২৪শে অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৯:৩৬ এম


রিয়াদে হুথিদের ক্ষেপণাস্ত্র হামলা, নিরাপত্তা সতর্কতা জারি

ইয়েমেনের হুথি বিদ্রোহীরা সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদকে লক্ষ্য করে একটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করেছে। সৌদি নেতৃত্বাধীন জোটের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে যে, ওই ক্ষেপণাস্ত্রটি আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার মাধ্যমে প্রতিহত করা হয়েছে। আল জাজিরার প্রতিবেদনে এই তথ্য প্রকাশিত হয়েছে।

একটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে প্রকাশিত পোস্টে সৌদি নেতৃত্বাধীন জোটের মুখপাত্র উল্লেখ করেছেন যে, হুথিদের নিক্ষিপ্ত ক্ষেপণাস্ত্রটি সনাক্ত করা হয় এবং আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সেটিকে আটকে ধ্বংস করে।

এর আগে সৌদি আরবের বেসামরিক প্রতিরক্ষা কর্তৃপক্ষ রিয়াদ, নাজরান এবং ওয়াদি আল-দাওয়াসির এলাকায় জরুরি সতর্কতা জারি করেছিল। পরে তারা জানায় যে, তিনটি এলাকায় আপাতত বিপদের আশঙ্কা কেটে গেছে।

কর্তৃপক্ষ বাসিন্দাদের নিরাপত্তা নির্দেশনা অনুসরণ করতে আহ্বান জানিয়েছে। তারা একই সঙ্গে ভিড় এড়িয়ে চলার এবং ঘটনার ভিডিও ধারণ থেকে বিরত থাকার জন্য অনুরোধ করেছে।

সৌদি নেতৃত্বাধীন জোট পূর্বাঞ্চলে একটি ড্রোন ধ্বংসের খবরও দিয়েছে। তবে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন আটকের ঘটনায় কোনো হতাহত বা ক্ষয়ক্ষতির তথ্য প্রকাশ করা হয়নি।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

মালচিং পদ্ধতিতে নিরাপদ করলা চাষে সাফল্য কুষ্টিয়ার মাহমুদ আল-ইমরানের

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

শনিবার, ২৪শে অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৯:৩৭ এম


মালচিং পদ্ধতিতে নিরাপদ করলা চাষে সাফল্য কুষ্টিয়ার মাহমুদ আল-ইমরানের

কুষ্টিয়ার ভেড়ামারা উপজেলায় পরিবেশবান্ধব মালচিং পদ্ধতি ও ফেরোমন ফাঁদ ব্যবহার করে নিরাপদ করলা চাষের ক্ষেত্রে সাফল্য অর্জন করেছেন মাহমুদ আল-ইমরান (৪৫) নামের এক তরুণ কৃষি উদ্যোক্তা। তিনি উপজেলার ধরমপুর ইউনিয়নের রামচন্দ্রপুর গ্রামের গোরস্তানপাড়া এলাকার সফর উদ্দিনের ছেলে। আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর এই পদ্ধতি ব্যবহার করে রোগবালাই দমন ও পরিচর্যার খরচ উল্লেখযোগ্য হারে কমে যাওয়ায় এলাকার অন্যান্য চাষিদের মধ্যে করলা চাষে নতুন আগ্রহ সৃষ্টি হয়েছে।

উদ্যোক্তা মাহমুদ আল-ইমরান জানান, জমিতে প্লাস্টিক শিট ব্যবহার করে মালচিং করার ফলে অনাকাঙ্ক্ষিত আগাছা জন্মানোর সুযোগ থাকে না এবং মাটির প্রয়োজনীয় আর্দ্রতা দীর্ঘ সময় ধরে বজায় থাকে। এর ফলে জমি চাষ, ক্ষতিকর কীটনাশক ও সেচের খরচ অর্ধেকের নিচে নেমে আসে।

তিনি বলেন, “আমি এক বিঘা জমিতে ‘এগ্রো ওয়ান লিডার’ জাতের চারা রোপণের মাত্র ৪০ থেকে ৫০ দিনের মধ্যে ক্ষেত থেকে সতেজ করলা তুলতে শুরু করেছি। এই পদ্ধতিতে উৎপাদিত করলার মান ভালো হওয়ায় বাজারে এর বাড়তি দাম ও চাহিদা রয়েছে।”

তিনি আরও জানান, এক বিঘা জমিতে তার খরচ হয়েছে ৪৮ থেকে ৫০ হাজার টাকা। ইতোমধ্যে তিনি পাঁচ দফায় ১ হাজার ৯৪ কেজি করলা তুলেছেন। স্থানীয় বাজারে কেজিপ্রতি ৬০ টাকা দরে প্রায় ৬৫ হাজার টাকার করলা বিক্রি করেছেন। আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে এই ক্ষেত থেকে তিনি প্রায় ৩ লাখ টাকার করলা বিক্রি করতে পারবেন বলে আশা করছেন।

ভেড়ামারার উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা সাইফুল ইসলাম বলেন, ‘অতিবৃষ্টি, অনাবৃষ্টি, রোগবালাই ও বাড়তি শ্রমিক খরচের কারণে কৃষকদের কাঙ্ক্ষিত ফলন পাওয়া কঠিন হয়ে পড়ে। এমন বাস্তবতায় আধুনিক কৃষিপ্রযুক্তি মালচিং পদ্ধতি নতুন সম্ভাবনা তৈরি করেছে। রামচন্দ্রপুর এলাকায় মাহমুদ আল-ইমরানই প্রথম মালচিং ও ফেরোমন ফাঁদ ব্যবহার করে করলা আবাদে সফল হয়েছেন।’

ভেড়ামারা উপজেলার কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তা মনিরুল ইসলাম জানান, মাঠপর্যায়ের কৃষি কর্মকর্তারা নিয়মিত ক্ষেত পরিদর্শন করে কৃষকদের রোগবালাই প্রতিরোধ ও সুষম সার প্রয়োগ বিষয়ে প্রয়োজনীয় পরামর্শ দিচ্ছেন। কম খরচে নিরাপদ সবজি উৎপাদনের সম্ভাবনা তৈরি হওয়ায় বাজারে এই করলার বিশেষ বাণিজ্যিক চাহিদা তৈরি হয়েছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ১৫ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪৫
জোহর ১১:৪৩
আসর ০৩:৪৭
মাগরিব ০৫:২৪
ইশা ০৬:৩৫
সূর্যোদয় : ০৬:০১ সূর্যাস্ত : ০৫:২৪
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%