সোমবার, ২৬শে অক্টোবর, ২০২৬ ইং
০৫:৩৮ এম
ঢাকা এবং কুমিল্লার মধ্যে রেল যোগাযোগকে আরও সহজ ও দ্রুততর করার উদ্দেশ্যে প্রায় ৬০ হাজার কোটি টাকা ব্যয়ে ৯০ কিলোমিটার দীর্ঘ নতুন রেলপথ নির্মাণের পরিকল্পনা করা হয়েছে।
এই প্রস্তাবিত রেলপথটি কুমিল্লা থেকে দাউদকান্দি, শ্যামপুর, ফতুল্লা ও নারায়ণগঞ্জ হয়ে ঢাকার সঙ্গে যুক্ত হবে। এটি বাস্তবায়িত হলে ঢাকা থেকে কুমিল্লা যাতায়াতের দূরত্ব কমানোর পাশাপাশি যাত্রী ও পণ্য পরিবহনে নতুন সম্ভাবনা সৃষ্টি হবে।
নতুন রেলপথটির নাম ‘কুমিল্লা–ঢাকা নতুন রেলপথ’। এটি প্রচলিত রেলপথের বিকল্প হিসেবে নির্মাণের পরিকল্পনা করা হয়েছে। উল্লেখ্য, রেলপথটির বড় অংশ উড়ালপথে নির্মাণ করা হবে এবং এতে কোনো লেভেল ক্রসিং থাকবে না।
বর্তমানে কুমিল্লা থেকে আখাউড়া, ভৈরব বাজার ও টঙ্গী হয়ে ঢাকায় যেতে হয়। নতুন রেলপথ চালু হলে বিদ্যমান পথের তুলনায় দূরত্ব প্রায় ৮০ কিলোমিটার কমে যাবে। ফলে রাজধানীর সঙ্গে কুমিল্লার যোগাযোগ আরও দ্রুত হবে এবং চট্টগ্রামমুখী রেল চলাচলেও ইতিবাচক প্রভাব পড়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
নতুন রেলপথ চালু হলে ঢাকা–লাকসাম–চট্টগ্রাম রুটে যাত্রার সময় তিন থেকে সাড়ে তিন ঘণ্টায় নেমে আসতে পারে। সরকারের পরিকল্পনা অনুযায়ী রেলের বহরে নতুন কোচ ও ইঞ্জিন যুক্ত করা হবে। এতে ২৬০টি ব্রডগেজ ক্যারেজ, ৩০টি লোকোমোটিভ, ২০০টি মিটারগেজ ক্যারেজ, চারটি হুইল লেদ এবং চারটি রিলিফ ট্রেন রাখার প্রস্তাব করা হয়েছে।
এই বিষয়টি নিশ্চিত করে কুমিল্লা সদর আসনের সংসদ সদস্য মনিরুল হক চৌধুরী গণমাধ্যমকে জানান, কুমিল্লা–ঢাকা সরাসরি নতুন রেললাইন স্থাপনের দাবিতে তিনি দীর্ঘদিন ধরে আন্দোলন করে আসছেন। তার মতে, নতুন কর্ড লাইন চালু হলে কুমিল্লার মানুষের রাজধানীকেন্দ্রিক যাতায়াত সহজ হবে। কুমিল্লায় বসবাস করেও ঢাকায় গিয়ে নিয়মিত অফিস করার সুযোগ তৈরি হবে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
বাংলাদেশ টেক্সটাইল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুটেক্স) উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. জুলহাস উদ্দিনের নেতৃত্বে সাত সদস্যের একটি প্রতিনিধিদল রাষ্ট্রপতি ও বিশ্ববিদ্যালয়ের আচার্য মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছে। এই সাক্ষাৎ রোববার (২৫ অক্টোবর) বঙ্গভবনে অনুষ্ঠিত হয়েছে।
সাক্ষাৎকালে রাষ্ট্রপতি টেক্সটাইল শিক্ষার মানোন্নয়ন, গবেষণা সম্প্রসারণ এবং দেশের টেক্সটাইল খাতের চাহিদা পূরণে আন্তর্জাতিক মানের দক্ষ ও বিশেষজ্ঞ প্রকৌশলী তৈরির ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন। তিনি বিদেশি বিশেষজ্ঞদের ওপর নির্ভরতা কমানোর আহ্বান জানান।
রাষ্ট্রপতি বলেন, "দেশের টেক্সটাইল শিল্পের চাহিদা পূরণে শিক্ষার্থীদের দক্ষ জনশক্তি হিসেবে গড়ে তোলার পাশাপাশি দেশে ও বিদেশে তাদের উপযুক্ত কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরিতে গুরুত্ব দিতে হবে।" এতে দেশের দক্ষ জনশক্তির যথাযথ ব্যবহার নিশ্চিত হওয়ার পাশাপাশি বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনের সুযোগ বাড়বে।
রাষ্ট্রপতি দেশের টেক্সটাইল শিল্পের কাঁচামালের চাহিদা পূরণে তুলার দেশীয় উৎপাদন বাড়ানোর ওপরও গুরুত্ব দেন। তিনি কৃষকদের উৎসাহিত করা, উৎপাদন ব্যয় কমানো এবং কৃষি ও টেক্সটাইল খাতের মধ্যে সমন্বয় বাড়ানোর আহ্বান জানান। পাশাপাশি পাট, আনারসের পাতা ও কলাগাছসহ বিভিন্ন প্রাকৃতিক উৎস থেকে তন্তু সংগ্রহ এবং সিনথেটিক সুতা তৈরির সম্ভাবনা নিয়ে গবেষণা জোরদার করার প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরেন।
সাক্ষাৎকালে প্রতিনিধিদল বাংলাদেশের টেক্সটাইল ও তৈরি পোশাকশিল্পের বিকাশে বুটেক্সের ভূমিকা এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা ও গবেষণা কার্যক্রম সম্পর্কে রাষ্ট্রপতিকে অবহিত করে। এ সময় বিশ্ববিদ্যালয়ের অবকাঠামোগত উন্নয়ন, আধুনিক গবেষণাগার স্থাপন, প্রয়োজনীয় জনবল বৃদ্ধি, ‘বিসিএস (টেক্সটাইল)’ নামে পৃথক ক্যাডার সৃষ্টি, বাজেট সম্প্রসারণ এবং ঢাকার পূর্বাচলে দ্বিতীয় ক্যাম্পাস প্রতিষ্ঠার জন্য জমি বরাদ্দসহ বিভিন্ন বিষয়ে রাষ্ট্রপতির দৃষ্টি আকর্ষণ করা হয়।
রাষ্ট্রপতি প্রতিনিধিদলের বক্তব্য মনোযোগ দিয়ে শোনেন। তিনি উত্থাপিত বিষয়গুলো সমাধানের লক্ষ্যে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে যোগাযোগের পরামর্শ দেন এবং সহযোগিতার আশ্বাস দেন।
এ সময় উপাচার্য আগামী বছরের মার্চ মাসে বুটেক্সের দ্বিতীয় সমাবর্তন অনুষ্ঠানে রাষ্ট্রপতি ও বিশ্ববিদ্যালয়ের চ্যান্সেলরকে সভাপতিত্ব করার আমন্ত্রণ জানান। রাষ্ট্রপতি আমন্ত্রণ গ্রহণ করেন এবং অনুষ্ঠানে উপস্থিত থাকার আশ্বাস দেন।
প্রতিনিধিদলে আরও উপস্থিত ছিলেন বুটেক্সের ফ্যাকাল্টি অব টেক্সটাইল ম্যানেজমেন্ট অ্যান্ড বিজনেস স্টাডিজের ডিন অধ্যাপক ড. মো. আহসান হাবীব, ফ্যাকাল্টি অব টেক্সটাইল ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের ডিন অধ্যাপক শিল্পী আক্তার, ফ্যাকাল্টি অব সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের ডিন অধ্যাপক ড. হাসিনা আখতার, ফ্যাকাল্টি অব টেক্সটাইল কেমিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের ডিন অধ্যাপক ড. রাশেদা বেগম দিনা এবং ফ্যাকাল্টি অব ফ্যাশন ডিজাইন অ্যান্ড অ্যাপারেল ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের অধ্যাপক ড. লামইয়া জাহির। এ ছাড়া সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য ও বুটেক্সের প্রাক্তন শিক্ষার্থী ইঞ্জিনিয়ার সানজিদা ইসলাম তুলি উপস্থিত ছিলেন।
সাক্ষাৎকালে রাষ্ট্রপতির সামরিক সচিব, সচিব ও প্রেস সচিবও উপস্থিত ছিলেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ