সোমবার, ২৬শে অক্টোবর, ২০২৬ ইং
০৫:২১ এম
দক্ষিণ আফ্রিকার পৃথক দুটি সড়ক দুর্ঘটনায় সাতজন নিহত হয়েছেন, যাদের মধ্যে ছয়জন নারী এবং একজন বাংলাদেশি।
শনিবার (২৪ অক্টোবর) নর্দার্ন কেপ প্রদেশের স্প্রিংবকে সড়ক দুর্ঘটনায় মো. রুবেল (৩৯) নামের বাংলাদেশি প্রবাসী নিহত হন। একই দিনে পূর্ব কেপ প্রদেশের অ্যাবারডিনের কাছে মিনিবাস ট্যাক্সি ও ট্রাকের সংঘর্ষে ছয় নারী প্রাণ হারান। এই ঘটনায় আরও ছয়জন গুরুতর আহত হয়েছেন।
স্থানীয় মেহেদি হাসান জানান, শনিবার দুপুরের দিকে দোকানের মালামাল কিনে ফেরার পথে হাইওয়েতে দুর্ঘটনার শিকার হন রুবেল। ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু ঘটে। গাড়িতে থাকা অন্য একজন বাংলাদেশি আহত হয়েছেন, তবে তার অবস্থা আশঙ্কামুক্ত বলে জানা গেছে।
রুবেল নোয়াখালী পৌরসভার ১ নম্বর ওয়ার্ডের মধুপুর গ্রামের চুন বেপারী বাড়ির মৃত শাহ আলমের বড় ছেলে। তিনি ২০২৩ সালে জীবিকার খোঁজে দক্ষিণ আফ্রিকায় আসেন এবং সেখানে ফুফাতো ভাই আমির হোসেনের দোকানে কাজ করতেন।
স্থানীয় প্রবাসী নাসির উদ্দিন জানান, দোকানের মালিক দেশে ফিরে যাওয়ার পর রুবেল নতুন করে গাড়ি চালানো শিখেছিলেন। শনিবার দোকানের জন্য মালামাল কিনে ফেরার পথে দুর্ঘটনায় পড়েন।
রুবেলের স্ত্রী, দুই সন্তান, বৃদ্ধ মা ও ছোট ভাই দেশে রয়েছেন। ফুফাতো ভাই আমির হোসেন ছুটি শেষে দক্ষিণ আফ্রিকায় ফিরে আসলে রুবেলের দেশে ফেরার পরিকল্পনা ছিল। কিন্তু সেই অপেক্ষা আর পূরণ হলো না, তাকে নিথর দেহে দেশে ফিরতে হবে।
অন্যদিকে, শনিবার সকালে পূর্ব কেপ প্রদেশের অ্যাবারডিন শহরের বাইরে আর-৬১ সড়কে মিনিবাস ট্যাক্সি ও একটি ট্রাকের মুখোমুখি সংঘর্ষে ছয় নারী নিহত হন। এই ঘটনায় আরও ছয়জন গুরুতর আহত হয়েছেন।
দক্ষিণ আফ্রিকার সংবাদমাধ্যম ইএনসিএ ও এসএবিসি নিউজের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মিনিবাস ট্যাক্সিটি পশ্চিম কেপের বিউফোর্ট ওয়েস্ট থেকে পূর্ব কেপের দিকে যাচ্ছিল। এতে ১৬ জন যাত্রী ছিলেন। ট্রাকের সঙ্গে সংঘর্ষের পর আরও দুটি গাড়ি দুর্ঘটনায় জড়িয়ে পড়ে, যার ফলে একটি কিয়া রিও গাড়ির একজন আরোহী আহত হন।
পূর্ব কেপ প্রদেশের পরিবহণ বিভাগের মুখপাত্র উনাথি বিনকোসে জানিয়েছেন, দুর্ঘটনার প্রকৃত কারণ এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি। চালকের ক্লান্তি সম্ভাব্য কারণগুলোর মধ্যে একটি হতে পারে।
এ ঘটনায় অনিচ্ছাকৃত হত্যাকাণ্ডের অভিযোগে মামলা হয়েছে এবং দুর্ঘটনার প্রকৃত কারণ জানতে তদন্ত চলছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
ভোজ্যতেল, মসলা ও নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের বাজারে অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধি, কৃত্রিম সংকট এবং অনিয়ম প্রতিরোধের লক্ষ্যে দেশের ৩৬টি জেলায় অভিযান পরিচালনা করে জাতীয় ভোক্তা-অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর ১০১টি ব্যবসা প্রতিষ্ঠানকে ৭ লাখ ৯৬ হাজার ৫০০ টাকা জরিমানা করেছে।
রোববার (২৫ অক্টোবর) অধিদপ্তরের ৫২টি বিশেষ দল দেশের বিভিন্ন পাইকারি ও খুচরা বাজারে অভিযান চালায়।
এই অভিযানে ভোজ্যতেল, পেঁয়াজ, আদা, রসুনসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি, অযৌক্তিক মূল্যবৃদ্ধি এবং সরবরাহে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টির বিষয়গুলো তদারকি করা হয়। ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের ক্রয়-বিক্রয়ের রশিদ, হালনাগাদ মূল্যতালিকা প্রদর্শন এবং পণ্যের সঠিক ওজন নিশ্চিত করা হচ্ছে কি না, তা যাচাই করা হয়।
অভিযান চলাকালে ব্যবসায়ীদের নির্দেশনা দেওয়া হয় যেন তারা দৃশ্যমান স্থানে মূল্যতালিকা প্রদর্শন করে, ডিজিটাল ওজনে পণ্য বিক্রি করে এবং ক্রয়-বিক্রয়ের যথাযথ নথিপত্র সংরক্ষণ করে। একই সঙ্গে অযৌক্তিক মজুত ও পণ্যের সরবরাহে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টির বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার কথা জানানো হয়। বাজারে সচেতনতা বৃদ্ধি করতে ভোক্তা ও ব্যবসায়ীদের মধ্যে সচেতনতামূলক লিফলেট বিতরণ করা হয়।
অভিযানে স্থানীয় প্রশাসন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী, স্বাস্থ্য পরিদর্শক, কনজুমারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ক্যাব) এবং বণিক সমিতির প্রতিনিধিরা সহযোগিতা করেন।
অধিদপ্তর ভোক্তাদের আতঙ্কিত হয়ে প্রয়োজনের অতিরিক্ত পণ্য না কেনার আহ্বান জানিয়েছে। কেনাকাটার সময় পণ্যের মেয়াদ ও সর্বোচ্চ খুচরা মূল্য (এমআরপি) যাচাই করার এবং অবশ্যই ক্যাশমেমো বা ক্রয়ভাউচার সংগ্রহের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
পণ্য কেনাবেচায় প্রতারণা, মূল্য কারসাজি বা অন্য কোনো অনিয়মের শিকার হলে জাতীয় ভোক্তা-অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের হটলাইন ১৬১২১-এ অভিযোগ জানানোর আহ্বান জানানো হয়েছে।
এ ধরনের তদারকি অব্যাহত থাকবে বলে অধিদপ্তর জানিয়েছে, যাতে বাজারে পণ্যের স্বাভাবিক সরবরাহ ও ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করা যায়।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
এবিজি স্পোর্টস সিটির আনভীর স্টেডিয়ামে এবিজি ইউনিভার্সিটি কাপের উদ্বোধন করেন জাতীয় দলের সাবেক দুই ক্রিকেটার মোহাম্মদ আশরাফুল, মোহাম্মদ রফিক এবং এবিজি স্পোর্টস সিটির পরিচালক মো. ইমরুল হাসান। ছবি : কালের কণ্ঠ
দেশের শীর্ষ ১০টি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় নিয়ে এবিজি ইউনিভার্সিটি কাপ শুরু হয়েছে। ক্রিকেট ও ফুটবল—দুই বিভাগে অংশগ্রহণ করছে বিশ্ববিদ্যালয়গুলো।
গতকাল বিকেলে আনভীর ক্রিকেট স্টেডিয়ামে ক্রিকেটের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের মাধ্যমে এই প্রতিযোগিতার সূচনা হয়েছে। আজ থেকে ফুটবলের দামামাও বাজতে শুরু করবে।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন জাতীয় দলের সাবেক অধিনায়ক ও সদ্য সাবেক ব্যাটিং কোচ মোহাম্মদ আশরাফুল এবং সাবেক স্পিনার মোহাম্মদ রফিক। অনুষ্ঠানে আরো উপস্থিত ছিলেন এবিজি স্পোর্টস সিটির পরিচালক মোহাম্মদ ইমরুল হাসান, প্রতিষ্ঠানটির উপদেষ্টা বিদ্যুৎ কুমার ভৌমিক, লিয়াকত হোসেন, নাজমুল আলম ভূঁইয়া ও মাহবুবুর রহমান এবং সোনারগাঁও ইউনিভার্সিটির উপ-উপাচার্য অধ্যাপক বুলবুল আহমেদ।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে মোহাম্মদ আশরাফুল বলেন, ‘এমন একটা চমৎকার টুর্নামেন্ট আয়োজনের জন্য আনভীর ভাইকে ধন্যবাদ জানাচ্ছি। ১০টি বিশ্ববিদ্যালয় নিয়ে এবারের আয়োজন শুরু হয়েছে, আশা করি এই টুর্নামেন্টটা প্রত্যেক বছরই হবে। ভবিষ্যতে আরো বেশি বিশ্ববিদ্যালয়কে নিয়ে অনেক বড় পরিসরে এটিকে দেখতে চাই। কয়েক দিন আগে এখানে ওয়েস্ট ইন্ডিজের সঙ্গে দুই দিনের প্রস্তুতি ম্যাচ হয়েছে।
আজ এই টুর্নামেন্ট শুরু হয়েছে। আনভীর ভাই যে উন্নত স্টেডিয়াম বানিয়েছেন, তাতে আশা করি দ্রুতই এখানে আন্তর্জাতিক ম্যাচ আয়োজন সম্ভব। এই টুর্নামেন্টে অংশ নেওয়া সব কটি দলের জন্য শুভ কামনা।’
মোহাম্মদ রফিক বলেন, ‘বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থীদের নিয়ে আনভীর ভাইয়ের এই চমৎকার আয়োজনের জন্য তাঁকে ধন্যবাদ জানাচ্ছি। এই টুর্নামেন্টে অংশ নেওয়া খেলোয়াড়রা অনেক ভাগ্যবান।
তারা ফ্লাড লাইটের আলোয় খেলার সুযোগ পাচ্ছে। আমরা যখন ক্রিকেট খেলা শুরু করেছি, তখন এমন সুযোগ-সুবিধা কল্পনাও করা যেত না।’ খেলোয়াড়দের উদ্দেশ্যে রফিক আরো বলেন, ‘আপনারা এখানে ডে-নাইট ক্রিকেট খেলতে এসেছেন, যা কখনো চিন্তাও করেননি। একটা অনুরোধ করব, আপনারা শৃঙ্খলা বজায় রেখে খেলাধুলা করবেন, যেন শৃঙ্খলা ভঙ্গ না হয়। আম্পায়ার থাকবেন, ম্যাচ রেফারি থাকবেন। তাঁরা যে সিদ্ধান্ত দেবেন, সেটাই যেন চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়। আপনাদের জন্য শুভ কামনা রইল।’
টুর্নামেন্টের প্রথম ম্যাচে আমেরিকান ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটিকে (এআইইউবি) পাঁচ উইকেটে হারিয়েছে সোনারগাঁও বিশ্ববিদ্যালয়। টুর্নামেন্টে ক্রিকেট ও ফুটবল—দুই বিভাগেই চ্যাম্পিয়ন দল পাবে ১০ লাখ, আর রানার্স আপ দল পাবে পাঁচ লাখ টাকা।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সার্বিয়ার রাজনীতিতে দীর্ঘদিনের আধিপত্যের অবসান ঘটিয়ে নির্বাচনে জয় অর্জন করেছে শিক্ষার্থীদের নেতৃত্বাধীন আন্দোলন। রোববার অনুষ্ঠিত ঐতিহাসিক নির্বাচনে পরাজয় মেনে নিয়েছেন দেশটির প্রেসিডেন্ট আলেক্সান্দার ভুসিচ। এই ফলাফল বলকান অঞ্চলের দেশটিতে নতুন রাজনৈতিক যুগের সূচনা করবে। খবর রয়টার্সের।
জনতাবাদী ও জাতীয়তাবাদী নেতা ভুসিচ ২০১৪ সাল থেকে প্রধানমন্ত্রী কিংবা প্রেসিডেন্ট হিসেবে সার্বিয়ার রাজনীতিতে প্রভাব বিস্তার করে আসছিলেন।
দুর্নীতি এবং ক্রমবর্ধমান কর্তৃত্ববাদী শাসনের অভিযোগে প্রায় দুই বছর ধরে চলা শিক্ষার্থীদের নেতৃত্বাধীন বিক্ষোভের প্রেক্ষিতে গত সেপ্টেম্বরে আগাম নির্বাচনের ঘোষণা দেন তিনি। ২০২৪ সালে নোভি সাদ শহরে একটি রেলস্টেশনের ছাউনি ধসে ১৬ জন নিহত হওয়ার পর এই আন্দোলন আরো জোরালো হয়ে ওঠে।
টেলিভিশনে দেওয়া ভাষণে ভুসিচ বলেন, “এটা স্পষ্ট যে আমরা এই নির্বাচনে হেরে গেছি। শিক্ষার্থীদের তালিকা জয়ী হয়েছে।”
তার এই ঘোষণার পরপরই রাজধানী বেলগ্রেডের রাস্তায় আনন্দ-উল্লাস শুরু হয়। পরে সেখানে হাজার হাজার মানুষ জড়ো হন। গাড়ির হর্ন, মানুষের নাচ এবং শিক্ষার্থীদের “বিজয়” ও “তার খেলা শেষ” স্লোগানে মুখর হয়ে ওঠে রাজপথ।
প্রায় ৬০ লাখ মানুষের দেশ সার্বিয়ায় এই জয়কে বড় রাজনৈতিক পরিবর্তনের ইঙ্গিত হিসেবে দেখা হচ্ছে। গত এপ্রিলে হাঙ্গেরির ভিক্টর অরবানের পরাজয়ের ঘটনার সঙ্গে এর তুলনা করা হচ্ছে। ইউরোপের বিভিন্ন দেশে শিক্ষা ব্যবস্থার দুর্বলতা ও ভবিষ্যৎ সম্ভাবনার অভাবের প্রতিবাদে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের জন্যও সার্বিয়ার এই ফল দৃষ্টান্ত হয়ে উঠতে পারে।
প্রাথমিক ফলের ভিত্তিতে ভুসিচ জানান, ২৫০ আসনের সংসদে শিক্ষার্থীদের সমর্থিত তালিকা ১৩৫ থেকে ১৪০টি আসন পেতে পারে। তার দল সার্বিয়ান প্রগ্রেসিভ পার্টি (এসএনএস) পেতে পারে ১০৫টি আসন।
বেলগ্রেড বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক রাদোমির সাজিচ শিক্ষার্থীদের সদর দপ্তর থেকে বলেন, “প্রিয় সার্বিয়া, আজ রাতে জনগণের কণ্ঠস্বর শোনা যাচ্ছে। আজ রাতে আমরা বিজয় উদ্যাপন করছি, আগামীকাল ভবিষ্যৎ গড়ব।”
রেকর্ড ভোটার উপস্থিতিতে শিক্ষার্থীদের জয়
রোববার ভোটগ্রহণের দিন দেশটির বিভিন্ন শহর ও জনপদের ভোটকেন্দ্রগুলোতে নজিরবিহীন দীর্ঘ সারি দেখা যায়। এমনকি বেলগ্রেডে ভোট দিতে গিয়ে প্রায় দুই ঘণ্টা অপেক্ষা করতে হয় ভুসিচকেও।
জরিপ সংস্থা ও নির্বাচন কমিশনের তথ্য অনুযায়ী, ভোটার উপস্থিতি প্রায় ৭০ শতাংশে পৌঁছায়। ১৯৯২ সালে যুগোস্লাভিয়া ভেঙে যাওয়ার পর এটিই দেশটিতে সর্বোচ্চ ভোটার উপস্থিতি।
ভোটার কাতরিনা পেত্রোভিচ বলেন, “এত বেশি ভোটার উপস্থিতি আমাকে অবাক করেনি। কারণ, গত দুই বছরে বড় ও শক্তিশালী একটি গণআন্দোলন গড়ে উঠেছে।”
দ্বিতীয় মেয়াদে প্রেসিডেন্ট থাকার সময় শেষ হওয়ার আগেই পদত্যাগ করে আবার প্রধানমন্ত্রী পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে চেয়েছিলেন ভুসিচ। ক্ষমতাসীন নেতা হিসেবে তার অবস্থান ছিল শক্তিশালী। ফলে শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের অনেকেই এত দ্রুত তার পরাজয় স্বীকারের বিষয়টি কল্পনাও করেননি।
ভুসিচের সমর্থকেরা তার সরকারের সময়ে অর্থনীতির আধুনিকায়ন এবং নতুন মহাসড়ক, রেলপথ, স্কুল ও হাসপাতাল নির্মাণের কৃতিত্ব তুলে ধরেন।
পরাজয় স্বীকার করলেও ভুসিচ বলেন, “কিছু ব্যবসায়ী, কিছু মানুষ আমাদের ছেড়ে চলে যাবেন। কিন্তু আমাদের সংগঠন শক্ত অবস্থানে রয়েছে। আমরা ঐক্যবদ্ধ, শক্তিশালী এবং বিরোধী দলে থাকার অভিজ্ঞতা আমাদের আছে।”
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
ঢাকা এবং কুমিল্লার মধ্যে রেল যোগাযোগকে আরও সহজ ও দ্রুততর করার উদ্দেশ্যে প্রায় ৬০ হাজার কোটি টাকা ব্যয়ে ৯০ কিলোমিটার দীর্ঘ নতুন রেলপথ নির্মাণের পরিকল্পনা করা হয়েছে।
এই প্রস্তাবিত রেলপথটি কুমিল্লা থেকে দাউদকান্দি, শ্যামপুর, ফতুল্লা ও নারায়ণগঞ্জ হয়ে ঢাকার সঙ্গে যুক্ত হবে। এটি বাস্তবায়িত হলে ঢাকা থেকে কুমিল্লা যাতায়াতের দূরত্ব কমানোর পাশাপাশি যাত্রী ও পণ্য পরিবহনে নতুন সম্ভাবনা সৃষ্টি হবে।
নতুন রেলপথটির নাম ‘কুমিল্লা–ঢাকা নতুন রেলপথ’। এটি প্রচলিত রেলপথের বিকল্প হিসেবে নির্মাণের পরিকল্পনা করা হয়েছে। উল্লেখ্য, রেলপথটির বড় অংশ উড়ালপথে নির্মাণ করা হবে এবং এতে কোনো লেভেল ক্রসিং থাকবে না।
বর্তমানে কুমিল্লা থেকে আখাউড়া, ভৈরব বাজার ও টঙ্গী হয়ে ঢাকায় যেতে হয়। নতুন রেলপথ চালু হলে বিদ্যমান পথের তুলনায় দূরত্ব প্রায় ৮০ কিলোমিটার কমে যাবে। ফলে রাজধানীর সঙ্গে কুমিল্লার যোগাযোগ আরও দ্রুত হবে এবং চট্টগ্রামমুখী রেল চলাচলেও ইতিবাচক প্রভাব পড়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
নতুন রেলপথ চালু হলে ঢাকা–লাকসাম–চট্টগ্রাম রুটে যাত্রার সময় তিন থেকে সাড়ে তিন ঘণ্টায় নেমে আসতে পারে। সরকারের পরিকল্পনা অনুযায়ী রেলের বহরে নতুন কোচ ও ইঞ্জিন যুক্ত করা হবে। এতে ২৬০টি ব্রডগেজ ক্যারেজ, ৩০টি লোকোমোটিভ, ২০০টি মিটারগেজ ক্যারেজ, চারটি হুইল লেদ এবং চারটি রিলিফ ট্রেন রাখার প্রস্তাব করা হয়েছে।
এই বিষয়টি নিশ্চিত করে কুমিল্লা সদর আসনের সংসদ সদস্য মনিরুল হক চৌধুরী গণমাধ্যমকে জানান, কুমিল্লা–ঢাকা সরাসরি নতুন রেললাইন স্থাপনের দাবিতে তিনি দীর্ঘদিন ধরে আন্দোলন করে আসছেন। তার মতে, নতুন কর্ড লাইন চালু হলে কুমিল্লার মানুষের রাজধানীকেন্দ্রিক যাতায়াত সহজ হবে। কুমিল্লায় বসবাস করেও ঢাকায় গিয়ে নিয়মিত অফিস করার সুযোগ তৈরি হবে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ