১০:৪৩ পি.এম
যশোরের মণিরামপুরে তাসলিমা খাতুন ময়না (২৩) নামের একজন অন্তঃসত্ত্বা নারীর মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। বৃহস্পতিবার সকালে পৌর শহরের মোহনপুর মধ্যে বাবার নির্মাণাধীন বাড়ীর একটি ঘর থেকে মরদেহটি উদ্ধার করা হয়। নিহতের মুখ ও কানে রক্তের দাগ দেখে স্বজনরা দাবি জানিয়েছেন যে, তাঁকে শ্বাসরোধে হত্যা করা হয়েছে। এই ঘটনায় নিহতের স্বামী এবং সৎ বাবা পুলিশ হেফাজতেই রয়েছে। নিহত ময়না পৌর এলাকার মোহনপুর গ্রামের মৃত ইব্রাহিম গাজীর মেয়ে বলে জানা গেছে।
প্রাপ্ত তথ্যে জানা যায়, তাসলিমা খাতুনের ৮ বছর আগে উপজেলার মনোহরপুর কুমারঘাটা গ্রামের হেলাল উদ্দিনের সাথে পারিবারিকভাবে বিয়ে হয়েছিল। এই দম্পতির একটি চার বছর বয়সী পুত্র সন্তান রয়েছে। স্বামীর সাথে কলহের কারণে কয়েকদিন আগে ময়নাকে বাবার বাড়িতে চলে আসতে হয়েছিল। নিহতের বোন মারুফা খাতুন জানিয়েছেন, তার বোনের স্বামী হেলাল উদ্দিন পূর্বে আরও দুটি বিয়ে করেছিলেন, যা তাদের জানা ছিল না। তিনি প্রায়ই ময়নাকে নির্যাতন করতেন।
ঘটনার বর্ণনা করতে গিয়ে মারুফা বলেন, রাতের ঘটনা হিসেবে তারা ছিলেন, যেখানে মা ঘরে এবং ময়না বারান্দায় ঘুমাচ্ছিলেন। ভোরে নামাজ পড়তে উঠে গত রাতে মা তার কক্ষের দরজা দেখে আবিষ্কার করেন যে, এটি বাইরে থেকে আটকানো ছিল। ময়নাকে অনেক ডাকাডাকি করেও সাড়া না পেয়ে তাঁর ভাই সাইফুল্লাহকে ডাকার পর দরজা খোলার পর দেখা যায় যে, ময়নাকে কোথাও পাওয়া যাচ্ছে না। কিছুক্ষণ পর বিধবা মা ময়লা ফেলতে গিয়ে নির্মাণাধীন ঘরের মধ্যে উপুড় হয়ে ময়না পড়ে থাকতে দেখেন। মারুফা এবং অন্যান্যদের অভিযোগ যে, হেলাল উদ্দিন সম্প্রতি আরেকটি বিয়ে করেছেন এবং তার উদ্দেশ্য ছিল ময়নাকে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করে নতুন স্ত্রীকে ঘরে নিয়ে আসা। রাতের একটি সময় মোবাইলের মাধ্যমে ডেকে ময়নাকে ঘর থেকে বাইরে বের করে নেওয়া হয়েছিল। এরপর নির্মাণাধীন ঘরে নিয়ে গিয়ে তাঁকে শ্বাসরোধে হত্যা করা হয় বলেও অভিযোগ করেছেন তারা। মণিরামপুর থানার অফিসার ইনচার্জ আবু সাঈদ জানান, নিহতের শরীরের আলামত দেখে সন্দেহ রয়েছে। তবে ঘটনার সত্যতা ময়নাতদন্তের রিপোর্টের পর প্রকাশিত হবে। নিহতের স্বামী ও সৎ বাবাকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য হেফাজতে নেওয়া হয়েছে।
আরও পড়ুন: রাজশাহীতে মাদক কারবারি সহ গ্রেপ্তার ৩৩
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন