বুধবার, ২৩শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং
০৮:৩৮ পি.এম
পরিবার পরিকল্পনা অধিদপ্তর মাঠপর্যায়ে পরিবার পরিকল্পনা, মা ও শিশু স্বাস্থ্যসেবা কার্যক্রমে গতি আনতে ২৩টি কর্মসূচি গ্রহণ করছে।
এই কর্মসূচিগুলি আগামী নভেম্বর থেকে ২০২৭ সালের অক্টোবর পর্যন্ত জাতীয় থেকে ইউনিয়ন পর্যায়ে বাস্তবায়নের পরিকল্পনা করা হয়েছে। তরুণ-কিশোর-কিশোরী, নবদম্পতি ও পুরুষদের পাশাপাশি গর্ভবতী ও প্রসূতি মা, বস্তিবাসী, ভাসমান এবং বিভিন্ন অনগ্রসর জনগোষ্ঠীকে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হবে।
বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর) রাজধানীর পরিবার পরিকল্পনা অধিদপ্তরে অনুষ্ঠিত ‘মাঠপর্যায়ের কার্যক্রমের গতিশীলতা আনয়নের লক্ষ্যে পরিবার পরিকল্পনা, মা ও শিশু স্বাস্থ্য সেবা প্রচার-প্রচারণা ও ক্যাম্পেইন বাস্তবায়ন কর্মপরিকল্পনা’ শীর্ষক সেমিনারে এক বছরের এই কর্মপরিকল্পনা উপস্থাপন করা হয়েছে।
নবদম্পতি ও পুরুষদের জন্য পরিবার পরিকল্পনায় নতুন কর্মপরিকল্পনা অনুযায়ী, হাট ক্যাম্পেইন, র্যালি ও সমন্বয় সভা বাদে বিভিন্ন সচেতনতামূলক কার্যক্রমের মাধ্যমে এক বছরে প্রায় ২৭ লাখ ৩০ হাজার মানুষকে সম্পৃক্ত করার লক্ষ্য নেওয়া হয়েছে। নভেম্বর মাসে মহিলা সংসদ সদস্যদের নিয়ে জাতীয় পর্যায়ে ওরিয়েন্টেশনের পাশাপাশি ৬৪ জেলা ও ৫০৩ উপজেলায় প্রচার কার্যক্রম পরিচালিত হবে। ডিসেম্বর মাসে ইউনিয়ন পর্যায়ে হাট ক্যাম্পেইন এবং উপজেলা পর্যায়ে আন্তঃমন্ত্রণালয় ও বিভিন্ন দপ্তরের সমন্বয় সভা অনুষ্ঠিত হবে।
পরিবার পরিকল্পনা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক (অতিরিক্ত সচিব) ডা. জিন্নাত রেহানা বলেন, ২০২২ সালে দেশে জনসংখ্যা বৃদ্ধির হার ২ দশমিক ১৫ শতাংশে নেমে এলেও ২০২৫ সালে তা বেড়ে ২ দশমিক ৪ শতাংশে দাঁড়িয়েছে। জনসংখ্যা বৃদ্ধির হার কমে গেলে তা আবার হঠাৎ বেড়ে যাওয়া উদ্বেগের বিষয়। গত দুই বছর আগে আমাদের যে অপারেশনাল পরিকল্পনা ছিল, সেটি বন্ধ হয়ে যাওয়ার পর মাঠপর্যায়ে প্রয়োজনীয় কার্যক্রম যথাযথভাবে পরিচালনা করা সম্ভব হয়নি। এটি এখন একটি বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। প্রচার-প্রচারণা ও জনসম্পৃক্ততা বাড়িয়ে এ পরিস্থিতি মোকাবিলা করতে হবে।
তিনি আরও বলেন, পরিবার পরিকল্পনার পাশাপাশি বাল্যবিয়ে, অনাকাঙ্ক্ষিত গর্ভধারণ, মাতৃ ও শিশুমৃত্যু কমানো এবং কিশোর-কিশোরীদের প্রজননস্বাস্থ্য বিষয়ে সচেতনতা তৈরিতে অধিদপ্তর কাজ করছে। জনগণের কাছে সঠিক তথ্য ও সেবা পৌঁছে দিতে ডিজিটাল মাধ্যম, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও গণমাধ্যমকে আরও কার্যকরভাবে ব্যবহার করতে হবে। বিশেষ করে দুর্গম ও সেবাবঞ্চিত এলাকার মানুষের কাছে সহজবোধ্য ভাষায় তথ্য ও সেবা পৌঁছে দেওয়া জরুরি।
মহাপরিচালক আরো বলেন, শুধু তথ্য পৌঁছে দিলেই হবে না, তা মানুষের বোধগম্য করে উপস্থাপন করতে হবে। এ ক্ষেত্রে গণমাধ্যম, গবেষক, চিকিৎসক ও সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞদের অভিজ্ঞতা ও উদ্ভাবনী ধারণা কাজে লাগানো হবে।
সেমিনারে প্রধান অতিথি ছিলেন স্বাস্থ্য শিক্ষা ও পরিবার কল্যাণ বিভাগের সচিব এ কে এম বেনজামিন রিয়াজী। সভাপতিত্ব করেন পরিবার পরিকল্পনা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক (অতিরিক্ত সচিব) ডা. জিন্নাত রেহানা। সেমিনারে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদের ডিন (ভারপ্রাপ্ত) এবং পপুলেশন সায়েন্সেস বিভাগের অধ্যাপক ও সাবেক চেয়ারম্যান প্রফেসর ড. মোহাম্মদ মঈনুল ইসলাম, একই বিভাগের অধ্যাপক প্রফেসর ড. আমিনুল হকসহ মন্ত্রণালয় ও অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা বক্তব্য দেন।
স্বাস্থ্য শিক্ষা ও পরিবার কল্যাণ বিভাগ, পরিবার পরিকল্পনা অধিদপ্তর, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের পপুলেশন সায়েন্সেস বিভাগ, বিভিন্ন সরকারি প্রতিষ্ঠান, গণমাধ্যম, এনজিও ও উন্নয়ন সহযোগী সংস্থার প্রায় ৫০ প্রতিনিধি সেমিনারে অংশ নেন।
অংশগ্রহণকারীদের পাঁচটি দলে ভাগ করে গ্রুপ ওয়ার্কও অনুষ্ঠিত হয়। এতে মাঠপর্যায়ে কর্মসূচি বাস্তবায়ন, অংশীজনদের সমন্বয়, প্রচার কৌশল এবং প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর কাছে সেবা ও তথ্য পৌঁছানোর বিষয়ে মতামত নেওয়া হয়। এসব সুপারিশ পর্যালোচনা করে কর্মপরিকল্পনাটি চূড়ান্ত করা হবে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
ফেনীতে মোটরসাইকেল ছিনতাইয়ে ব্যর্থ হয়ে শ্যামল কান্তি দাস নামে এক ব্যবসায়ীকে কুপিয়ে আহত করেছে দুর্বৃত্তরা। মঙ্গলবার রাত ১১টা ৪৫ মিনিটের দিকে শহরের ট্রাংক রোডের বাঁশপাড়ার মুখে এ ঘটনা ঘটে।
আহত শ্যামল কান্তি দাস ফেনী পিটিআই স্কুল গেটের সামনে অ্যাকুরিয়ামের ব্যবসা পরিচালনা করেন। তিনি কেন্দ্রীয় কালী বাড়ির সাধারণ সম্পাদক ইঞ্জিনিয়ার তপন কুমার দাসের ছেলে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, রাতে মোটরসাইকেল নিয়ে ট্রাংক রোডের বাঁশপাড়ার মুখ দিয়ে যাওয়ার সময় কয়েকজন ছিনতাইকারী শ্যামলকে আটক করে তার মোটরসাইকেল ছিনিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করে। একপর্যায়ে ছিনতাইকারীরা মোটরসাইকেলটি নিতে ব্যর্থ হয়ে শ্যামলকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে আহত করে।
এ সময় শ্যামলের চিৎকার শুনে আশপাশের লোকজন এগিয়ে এলে দুর্বৃত্তরা ঘটনাস্থলে আহত শ্যামল ও মোটরসাইকেল রেখে পালিয়ে যায়। পরে স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে ফেনী ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে যান।
ঘটনার পরপরই বিষয়টি ফেনী মডেল থানাকে জানানো হয়। এ ঘটনায় বুধবার সকালে ফেনী মডেল থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে।
ফেনী মডেল থানার ওসি (তদন্ত) সজল কান্তি দাশ ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, এ ঘটনায় থানায় একটি লিখিত অভিযোগ করা হয়েছে। বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
বাংলাদেশের বিদ্যুৎ বিতরণ ব্যবস্থা আধুনিক ও শক্তিশালী করার লক্ষ্যে ২০ কোটি ডলারের ঋণ অনুমোদন করেছে এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক (এডিবি)। বাংলাদেশি মুদ্রায় এই ঋণের পরিমাণ দাঁড়ায় দুই হাজার ৪৬০ কোটি টাকা, প্রতি ডলার ১২৩ টাকা ধরে।
এই ঋণের মাধ্যমে ঢাকার আশপাশের উপশহর এলাকায় বিদ্যুৎ বিতরণ নেটওয়ার্কের নির্ভরযোগ্যতা, দক্ষতা ও সহনশীলতা বৃদ্ধি করা হবে। এর ফলে ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান ও গৃহস্থালিতে বিদ্যুৎ সরবরাহের উন্নতি সাধিত হবে।
বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর) এডিবির ঢাকা অফিস থেকে প্রকাশিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
‘পাওয়ার ডিস্ট্রিবিউশন নেটওয়ার্ক এনহান্সমেন্ট প্রজেক্ট’ বা বিদ্যুৎ বিতরণ নেটওয়ার্ক উন্নয়ন প্রকল্পটি বাংলাদেশ পল্লী বিদ্যুতায়ন বোর্ডকে (বিআরইবি) সহায়তা প্রদান করবে। প্রকল্পের আওতায় ঢাকার আশপাশের দ্রুত বর্ধনশীল শিল্প ও শহরাঞ্চলে সেবা প্রদানকারী ১৩টি পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির (পিবিএস) বিদ্যুৎ বিতরণ অবকাঠামো উন্নত করা হবে।
এডিবির সহায়তায় বাস্তবায়নাধীন ‘ইন্টিগ্রেটেড গ্রোথ নেটওয়ার্ক ডেভেলপমেন্ট’ উদ্যোগের অংশ হিসেবে প্রকল্পটি গ্রহণ করা হয়েছে। এর মাধ্যমে বিদ্যুৎ সেবা প্রদানে বাধা সৃষ্টি করা বিভিন্ন সমস্যা, যেমন সাবস্টেশনে অতিরিক্ত লোড, পুরোনো অবকাঠামো, বিদ্যুৎ অপচয় এবং প্রাকৃতিক দুর্যোগের ক্রমবর্ধমান ঝুঁকি মোকাবিলায় সহায়তা করা হবে।
বাংলাদেশে নিযুক্ত এডিবির কান্ট্রি ডিরেক্টর চিংফেং ঝাং মন্তব্য করেন, "বাংলাদেশ যখন একটি অধিকতর সমৃদ্ধ, সহনশীল এবং বিশ্ববাজারে প্রতিযোগিতামূলক অর্থনীতি গড়ে তোলার লক্ষ্যে এগিয়ে যাচ্ছে, তখন প্রবৃদ্ধি বজায় রাখা, কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং বিনিয়োগ আকর্ষণের জন্য আধুনিক বিদ্যুৎ বিতরণব্যবস্থা অপরিহার্য হয়ে উঠবে।"
তিনি আরও বলেন, "এ প্রকল্পটি উন্নত প্রযুক্তি, শক্তিশালী অবকাঠামো এবং দুর্যোগ-সহনশীলতা বৃদ্ধির পদক্ষেপ গ্রহণের মাধ্যমে ঢাকার আশপাশের গুরুত্বপূর্ণ প্রবৃদ্ধি-কেন্দ্রিক এলাকাগুলোর বিদ্যুৎ ব্যবস্থাকে ভবিষ্যতের উপযোগী করে গড়ে তুলবে। এর ফলে ব্যবসা-প্রতিষ্ঠান ও স্থানীয় জনগোষ্ঠী তাদের অগ্রগতির জন্য প্রয়োজনীয় নির্ভরযোগ্য বিদ্যুৎ সুবিধা পাবে।"
প্রকল্পটির আওতায় ৫২টি সাবস্টেশনে এক হাজার ১৫০ মেগাভোল্ট-অ্যাম্পিয়ার ক্ষমতার নতুন ট্রান্সফরমার স্থাপন করা হবে এবং বিদ্যমান ১২টি সাবস্টেশনের সক্ষমতা ১১৫ মেগাভোল্ট-অ্যাম্পিয়ার বাড়ানো হবে।
এছাড়া, নেটওয়ার্কের নির্ভরযোগ্যতা, দক্ষতা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে দুই হাজার ৬০০ কিলোমিটারেরও বেশি ওভারহেড (উপরিভাগের) ও আন্ডারগ্রাউন্ড (ভূগর্ভস্থ) বিতরণ লাইন নির্মাণ বা উন্নয়ন এবং ইনসুলেটেড কন্ডাক্টর স্থাপন করা হবে।
সিস্টেম পরিচালনার আধুনিকায়নের লক্ষ্যে প্রকল্পটি নদী-পারাপারের উপযোগী সঞ্চালন কাঠামো ও সুইচিং স্টেশন নির্মাণ করবে এবং দ্রুত ত্রুটি শনাক্তকরণ ও সেবা পুনরুদ্ধারের জন্য ৯০০টি ‘ফল্ট লোকেটর সেট’ (ত্রুটি শনাক্তকারী যন্ত্র) স্থাপন করবে।
২০২২ সালে বাংলাদেশ শতভাগ বিদ্যুতায়ন অর্জনে সক্ষম হলেও, দ্রুত নগরায়ণ ও শিল্পায়নের ফলে বিদ্যুতের ক্রমবর্ধমান চাহিদা বিদ্যুৎ নেটওয়ার্কের ওপর ক্রমাগত চাপ সৃষ্টি করছে। এই প্রকল্পটি ক্রমবর্ধমান চাহিদা মেটাতে বিতরণ ব্যবস্থার সক্ষমতা জোরদার করার পাশাপাশি প্রাকৃতিক দুর্যোগ-সহনশীল ও স্বল্প-কার্বন নিঃসরণকারী উন্নয়নের লক্ষ্যে সহায়তা করবে।
এই প্রকল্পের জন্য এডিবির বিশেষ ‘রেজিলিয়েন্স ফাইন্যান্সিং’ বা দুর্যোগ-সহনশীলতা বিষয়ক অর্থায়নের পরিমাণ ১৪ দশমিক ৬৫ কোটি ডলার।
এর আওতায় পরিবেশবান্ধব ‘গ্যাস-ইনসুলেটেড সুইচগিয়ার’ প্রযুক্তির মতো অভিযোজন-সহায়ক ব্যবস্থার জন্য সহায়তা অন্তর্ভুক্ত রয়েছে; যা উন্নত বিতরণ দক্ষতা ও কারিগরি অপচয় হ্রাসের মাধ্যমে বার্ষিক গ্রিনহাউস গ্যাস নিঃসরণ প্রায় ২০৩৭৫১ টন (কার্বন-ডাই-অক্সাইড সমতুল্য) কমাতে সহায়তা করবে।
প্রকল্পটি ডিজিটাল সিস্টেম ইন্টিগ্রেশন, সাইবার নিরাপত্তা, প্রাকৃতিক দুর্যোগ-সহনশীল কার্যক্রম পরিচালনা, পরিবেশগত ও সামাজিক সুরক্ষা এবং আর্থিক ব্যবস্থাপনার বিষয়ে প্রশিক্ষণের মাধ্যমে বিআরইবি ও পিবিএস-গুলোর প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতা বৃদ্ধি করবে। পিবিএস-গুলোর আর্থিক স্থায়িত্ব জোরদার করার মাধ্যমে এটি বেসরকারি খাতের অধিকতর অংশগ্রহণ ও বিনিয়োগ আকর্ষণে সহায়তা করবে।
এছাড়া প্রকল্পটি নারী ও মেয়েদের চাহিদার প্রতি সংবেদনশীল বিভিন্ন কার্যক্রমকে উৎসাহিত করবে, যার মধ্যে রয়েছে বিদ্যুৎ খাতে নারীদের অংশগ্রহণ বৃদ্ধি এবং কর্মক্ষেত্রের পরিবেশের উন্নয়ন।
এডিবি-র এই সহায়তার পাশাপাশি বাংলাদেশ সরকারের পক্ষ থেকে ১০৭.৯৫ মিলিয়ন ডলার এবং বিআরইবি-র পক্ষ থেকে ১৪১.৩৯ মিলিয়ন ডলারের সহ-অর্থায়ন যুক্ত রয়েছে। এছাড়া, এডিবির ব্যবস্থাপনায় পরিচালিত ‘রিপাবলিক অফ কোরিয়া ই-এশিয়া অ্যান্ড নলেজ পার্টনারশিপ ফান্ড’ থেকে প্রাপ্ত ১ মিলিয়ন ডলারের কারিগরি সহায়তা অনুদান প্রাতিষ্ঠানিক উন্নয়ন, আর্থিক স্থায়িত্ব বিষয়ক পরিকল্পনা প্রণয়ন এবং উদ্ভাবনী প্রযুক্তির বাস্তবায়নে সহায়তা করবে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
শ্রীলঙ্কার পূর্বাঞ্চলীয় প্রদেশের নার্পিটিমুনাই অঞ্চলের বাসিন্দা সিভারাসা আনোজান নামের এক তামিল যুবক হযরত মুহাম্মদ (সা.)-কে নিয়ে ফেসবুকে দেওয়া একটি পোস্টের জন্য সৌদি আরবে মৃত্যুদণ্ডের মুখোমুখি হয়েছেন। আনোজান জীবিকার তাগিদে প্রায় নয় মাস আগে সেখানে গিয়েছিলেন।
ঘটনাটি শ্রীলঙ্কায় অনলাইনে ঘটে যাওয়া একটি ধর্মীয় বিতর্কের সূত্রপাত। আনোজানের বিরুদ্ধে অভিযোগ রয়েছে যে, তিনি পবিত্র কাবা শরিফকে একটি মন্দিরের রূপে উপস্থাপন করে একটি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) দ্বারা তৈরি ছবি শেয়ার করেছিলেন এবং মহানবী (সা.)-কে নিয়ে অবমাননাকর মন্তব্য করেছেন। পরে পোস্টটি আরবি ভাষায় অনুবাদ করে সৌদি কর্তৃপক্ষের কাছে রিপোর্ট করা হয়। জানা গেছে, কাতারগামায় একটি হিন্দু তীর্থযাত্রার সময় তীর্থযাত্রীদের সঙ্গে আসা একটি কুকুরকে কেন্দ্র করে হিন্দু ও মুসলিম ব্যবহারকারীদের মধ্যে উত্তপ্ত বাক্য বিনিময় শুরু হয়, যার ফলস্বরূপ এই তর্কের উদ্ভব ঘটে।
আল-আহসা ক্রিমিনাল কোর্টে আনোজান জানান যে, তিনি পোস্ট করার প্রায় ১০ মিনিটের মধ্যেই তা মুছে ফেলেন। আত্মপক্ষ সমর্থনে তিনি যুক্তি দেন যে, তর্কের উত্তেজনার কারণে ওই মন্তব্যটি করেছিলেন এবং ইসলাম বা মহানবী (সা.)-কে অপমান করার উদ্দেশ্য তার ছিল না।
সাইবার অপরাধ দমন আইনের আওতায় আল-আহসা ক্রিমিনাল কোর্ট প্রথমে তাকে পাঁচ বছরের কারাদণ্ড এবং তিন মিলিয়ন (৩০ লাখ) সৌদি রিয়াল জরিমানা করেছিল। আনোজান এই রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করেন। অন্যদিকে, প্রসিকিউশন শরিয়াহ আইনের অধীনে আরও কঠোর শাস্তির দাবি জানিয়ে আপিল দায়ের করে। পরবর্তী সময়ে প্রসিকিউশনের আপিলটি গৃহীত হয় এবং তার শাস্তি বৃদ্ধি করে মৃত্যুদণ্ড ঘোষণা করা হয়।
শ্রীলঙ্কার পররাষ্ট্রমন্ত্রী বিজিত হেরাথ সংসদে জানিয়েছেন যে, প্রেসিডেন্টের আপিল নিয়ে ডেপুটি স্পিকারের নেতৃত্বে একটি প্রতিনিধিদল সৌদি আরব সফর করবে। শ্রীলঙ্কা সরকার সৌদি আরবে আনোজানের আইনি খরচের ব্যয়ভার বহন করবে এবং ইতোমধ্যে তার পরিবার যে অর্থ প্রদান করেছে তা ফেরত দেবে। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, রিয়াদে শ্রীলঙ্কান দূতাবাসের মাধ্যমে তারা বিষয়টি ঘনিষ্ঠভাবে পর্যবেক্ষণ করছে এবং সৌদি কর্তৃপক্ষের সাথে কূটনৈতিক আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছে।
শ্রীলঙ্কার প্রেসিডেন্ট অনুরা কুমার দিশানায়েকে প্রেসিডেন্টের কার্যালয়ে আনোজানের বাবা-মায়ের সাথে সাক্ষাৎ করেছেন এবং তাদের আশ্বাস দিয়েছেন যে, আনোজানের ক্ষমা নিশ্চিত করতে সরকার সম্ভাব্য সব আইনি ও কূটনৈতিক পথ বেছে নিচ্ছে। সৌদি আরবের বাদশাহর কাছে একটি আনুষ্ঠানিক লিখিত আবেদন জমা দেওয়া হবে। শ্রীলঙ্কার জ্যেষ্ঠ আইনজীবী (প্রেসিডেন্টস কাউন্সিল) উপুল কুমারাপেরুমা এবং ফাইজজার মুস্তফা এই মামলায় সহায়তা করতে সম্মত হয়েছেন।
শ্রীলঙ্কার পাঁচটি গণমাধ্যম সংস্থা—ফ্রি মিডিয়া মুভমেন্ট, সাউথ এশিয়ান উইমেন ইন মিডিয়া, শ্রীলঙ্কা ওয়ার্কিং জার্নালিস্টস অ্যাসোসিয়েশন, তামিল মিডিয়া অ্যালায়েন্স এবং শ্রীলঙ্কা মুসলিম মিডিয়া ফোরাম—এক যৌথ আবেদনে সৌদি বিচার প্রক্রিয়ার প্রতি শ্রদ্ধা রেখে মানবিক দৃষ্টিকোণ থেকে আনোজানকে ক্ষমা করার জন্য সৌদি নেতাদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
ত্রিদেশীয় টি-টোয়েন্টি সিরিজের সূচি প্রকাশ করা হয়েছে, যা বাংলাদেশ, পাকিস্তান ও শ্রীলঙ্কার অনূর্ধ্ব-১৯ নারী দল নিয়ে অনুষ্ঠিত হবে। এই সিরিজটি আগামী ২ থেকে ১৬ অক্টোবর পাকিস্তানের ফয়সালাবাদের ইকবাল স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত হবে।
পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ড (পিসিবি) বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যায় এই সূচি প্রকাশ করে।
ত্রিদেশীয় সিরিজে অংশগ্রহণকারী তিনটি দল একে অপরের বিপক্ষে তিনটি করে ম্যাচ খেলবে। অর্থাৎ, লিগ পর্বে প্রতিটি দলের জন্য মোট ছয়টি ম্যাচ অনুষ্ঠিত হবে। লিগ পর্ব শেষে পয়েন্ট টেবিলের শীর্ষ দুই দল ফাইনালে মুখোমুখি হবে।
বাংলাদেশ ও শ্রীলঙ্কা অনূর্ধ্ব-১৯ দল ২৯ সেপ্টেম্বর পাকিস্তানে পৌঁছাবে। সিরিজের আগে ২৯ সেপ্টেম্বর থেকে ১ অক্টোবর পর্যন্ত ফয়সালাবাদের ইকবাল স্টেডিয়ামে তিনটি দলই অনুশীলন করবে।
ফয়সালাবাদের ইকবাল স্টেডিয়ামে এটি মেয়েদের জন্য প্রথম বহুজাতিক সিরিজ। ২০২৫ সালের নভেম্বরে দীর্ঘ ১৭ বছর পর দক্ষিণ আফ্রিকা-পাকিস্তান ওয়ানডে সিরিজের মাধ্যমে এই ভেন্যুতে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট ফিরেছিল।
এটি উল্লেখযোগ্য যে, এসিসি অনূর্ধ্ব-১৯ প্রমীলা এশিয়া কাপ ও আইসিসি অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপের প্রস্তুতির অংশ হিসেবে এই সিরিজটি তিন দলের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। প্রতিটি ম্যাচ স্থানীয় সময় সকাল ১০টায় শুরু হবে।
একনজরে বাংলাদেশের ম্যাচের সূচি
২ অক্টোবর - পাকিস্তান বনাম বাংলাদেশ
৫ অক্টোবর - শ্রীলঙ্কা বনাম বাংলাদেশ
৬ অক্টোবর - পাকিস্তান বনাম বাংলাদেশ
৮ অক্টোবর - বাংলাদেশ বনাম শ্রীলঙ্কা
১১ অক্টোবর - পাকিস্তান বনাম বাংলাদেশ
১৪ অক্টোবর - শ্রীলঙ্কা বনাম বাংলাদেশ
ফাইনাল- ১৬ অক্টোবর।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ