শুক্রবার, ২৫শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং
১২:৪৮ পি.এম
ঢাকা, ২৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ : প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন বৃহস্পতিবার মার্কিন সুপ্রিম কোর্টের কাছে আবেদন করেছে, যাতে অবৈধ অভিবাসীদের তৃতীয় দেশে ফেরত পাঠানোর (তৃতীয় দেশে বহিষ্কার) ওপর আরোপিত নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়া হয়।
খবর বার্তা সংস্থা এএফপি’র।
গত সপ্তাহে একটি ফেডারেল আপিল আদালত ট্রাম্প প্রশাসনের ‘তৃতীয় দেশে বহিষ্কার’ নীতির ওপর নিম্ন আদালতের আরোপিত বিধিনিষেধ বহাল রাখে। এই নীতির আওতায় অভিবাসীদের তাদের নিজ দেশের পরিবর্তে অন্য দেশে পাঠানো হয়ে থাকে।
আপিল আদালতের বিচারকরা বিষয়টি পর্যালোচনা করার সময় নিম্ন আদালতের আদেশের কার্যকারিতার ওপর স্থগিতাদেশ দিয়েছিলেন। তবে বুধবার রাতে আপিল আদালত সেই স্থগিতাদেশ প্রত্যাহার করে নেয়। এর ফলে নিম্ন আদালতের দেওয়া বিধিনিষেধ আবার কার্যকর হয়ে যায়।
এই পরিস্থিতিতে মার্কিন সরকার জরুরি ভিত্তিতে সুপ্রিম কোর্টে আবেদন করেছে, যাতে পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত তৃতীয় দেশে বহিষ্কারের ওপর থাকা বিধিনিষেধ স্থগিত রাখা হয়।
সরকারের আইনজীবী জন সাওয়ার বলেছেন, এই বিধিনিষেধের কারণে অভিবাসীদের বহিষ্কারের ক্ষেত্রে ‘বড় ধরনের বাস্তব ও প্রশাসনিক জটিলতা’ সৃষ্টি হয়েছে। তিনি তৃতীয় দেশে বহিষ্কারকে কিছু অভিবাসীকে—বিশেষ করে গুরুতর অপরাধে জড়িত ব্যক্তিদের—যুক্তরাষ্ট্র থেকে সরিয়ে দেওয়ার জন্য ‘অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি ব্যবস্থা’ হিসেবে বর্ণনা করেন।
ট্রাম্প প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের প্রচারের সময় যুক্তরাষ্ট্রে অবৈধভাবে বসবাসকারী লাখ লাখ অভিবাসীকে বহিষ্কারের প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন। হোয়াইট হাউসে ফিরে আসার পর তার প্রশাসন বহিষ্কার প্রক্রিয়া ত্বরান্বিত করতে বেশ কিছু পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে।
ট্রাম্প প্রশাসনের যুক্তি হলো, যেসব অভিবাসীকে বহিষ্কারের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে, তাদের নিজ দেশ অনেক সময় তাদের গ্রহণ করতে অস্বীকৃতি জানায়। এ কারণে তৃতীয় কোনো দেশে তাদের পাঠানোর ব্যবস্থা প্রয়োজন।
তবে মার্কিন কংগ্রেসের নীতিমালা অনুযায়ী, কোনো ব্যক্তিকে এমন দেশে বহিষ্কার করা যাবে না যেখানে তার জীবন হুমকির মুখে পড়তে পারে অথবা তিনি নির্যাতনের শিকার হতে পারেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
কুমিল্লা জেলা পুলিশ গত ৪৮ ঘণ্টায় ৯৮টি মাদকবিরোধী অভিযানের মাধ্যমে ২৬৩ জনকে গ্রেপ্তার করেছে। এসব অভিযানে উদ্ধার করা হয়েছে ১৮৫ কেজি গাঁজা, ৩৩৯ পিস ইয়াবা এবং ৭২ বোতল ইস্কাপ সিরাপ। শুক্রবার (২৫ সেপ্টেম্বর) সকাল সাড়ে ১০টার দিকে কুমিল্লা জেলা পুলিশের মিডিয়া কর্মকর্তা ও অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. লুৎফুর রহমান এই তথ্য নিশ্চিত করেন।
জেলা পুলিশের পাঠানো একটি প্রেসবিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, গত ৪৮ ঘণ্টায় জেলার বিভিন্ন স্থানে একযোগে ৯৮টি বিশেষ মাদকবিরোধী অভিযানে ২২ জন মাদক ব্যবসায়ী এবং ৭৪ জন মাদকসেবীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এছাড়া বিভিন্ন মামলায় আরও ১৬৭ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। অভিযানে উদ্ধার করা মাদকদ্রব্যের মধ্যে রয়েছে ১৮৫ কেজি গাঁজা, ৩৩৯ পিস ইয়াবা এবং ৭২ বোতল ইস্কাপ সিরাপ।
আরো পড়ুন
সর্বজনীন পেনশনে শরিয়াহ স্কিম যেভাবে চালু করতে চায় সরকার
কুমিল্লা জেলা পুলিশের মিডিয়া কর্মকর্তা ও অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. লুৎফুর রহমান বলেন, ‘কুমিল্লার পুলিশ সুপার মো. আনিসুজ্জামানের নির্দেশনায় জেলার সব থানা এলাকা ও গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশের উদ্যোগে মাদকের বিরুদ্ধে বিশেষ অভিযান পরিচালনা করা হয়। অভিযানে ২৬৩ জন মাদকসহ বিভিন্ন মামলায় গ্রেপ্তার করা হয়। গ্রেপ্তারদের বিরুদ্ধে নিয়মিত মামলা, মোবাইল কোর্ট এবং বিজ্ঞ বিচারিক আদালতের সংক্ষিপ্ত বিচার এর মাধ্যমে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। তাদের বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ড ও অর্থদণ্ড দেওয়া হয়েছে। তাদের কুমিল্লা আদালতের মাধ্যমে জেল হাজতে পাঠানোর প্রস্তুতি চলছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
পাকিস্তানের সীমান্তবর্তী গুলিস্তান এলাকায় আফগানিস্তানের একটি হামলার চেষ্টা ব্যর্থ করার দাবি করেছে পাকিস্তান। নিরাপত্তা সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, এই ঘটনার ফলে আফগান তালেবানের কিছু সদস্য নিহত হয়েছেন। তবে হামলার প্রকৃতি সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করা হয়নি। শুক্রবার পাকিস্তানের নিরাপত্তা সূত্র এসব তথ্য জানায়।
সূত্রের দাবি, আফগানিস্তান থেকে পাকিস্তানের ভূখণ্ডে প্রবেশ করে হামলা চালানোর চেষ্টা করা হয়েছিল, যা ইন্টারনাজিওনালে জানানো হয়েছে। এই হামলার জবাব দিতে পাকিস্তানের নিরাপত্তা বাহিনী ‘পাল্টা ব্যবস্থা’ গ্রহণ করে। সীমান্ত এলাকায় আফগান তালেবান ও পাকিস্তানের নিরাপত্তা বাহিনীর মধ্যে থেমে থেমে গুলিবিনিময় চলছে বলেও জানা গেছে। সেখানে পাকিস্তানের নিরাপত্তা বাহিনীকে সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থায় রাখা হয়েছে। আফগান তালেবান সরকারের পক্ষ থেকে পাকিস্তানের এসব অভিযোগের বিষয়ে তাৎক্ষণিক কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি। প্রায় তিন মাসের শান্তির পর পাকিস্তান ও আফগানিস্তানের মধ্যে আবারও উত্তেজনা বৃদ্ধি পেয়েছে। গত সপ্তাহে পাকিস্তানের উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলের একটি পুলিশ স্থাপনায় হামলা হয়, যাতে অন্তত ২৪ জন নিহত হন।
আরো পড়ুন
নেইমারের ১০ নম্বর জার্সি এখন রাফিনিয়ার।
এরপর থেকে দুই দেশের সীমান্ত এলাকায় নতুন করে উত্তেজনা দেখা দেয়। পাকিস্তান দীর্ঘদিন ধরে অভিযোগ করে আসছে যে, আফগানিস্তানের মাটি ব্যবহার করে সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলো পাকিস্তানে হামলা চালাচ্ছে। বৃহস্পতিবার পাকিস্তানের বিমানবাহিনী আফগানিস্তানের ১০টি এলাকায় হামলা চালিয়েছে। ইসলামাবাদের দাবি, এসব এলাকা ড্রোন হামলা চালানোর এবং ড্রোন রাখার কাজে ব্যবহৃত হচ্ছিল। এর আগে সোমবার আফগানিস্তান-পাকিস্তান সীমান্ত এলাকায় বিমান হামলা চালায় পাকিস্তান। ইসলামাবাদের দাবি, ওই হামলায় ২৮ জন যোদ্ধা নিহত হয়েছেন। তবে আফগান তালেবান কর্মকর্তারা ভিন্ন দাবি করেছেন। তাদের অভিযোগ, সোমবার রাতভর চালানো পাকিস্তানের বিমান হামলায় তিনজন বেসামরিক নাগরিক নিহত হয়েছেন।
আফগানিস্তান ও পাকিস্তানের পশ্চিম ও উত্তর-পশ্চিম সীমান্ত এলাকায় সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর তৎপরতা বৃদ্ধি পাওয়ায় দুই দেশের মধ্যে বিরোধও গভীর হচ্ছে। পাকিস্তানের অভিযোগ, কাবুল ইসলামপন্থী সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোকে আশ্রয় দিচ্ছে। এই গোষ্ঠীগুলো আফগানিস্তান থেকে সীমান্ত পার হয়ে পাকিস্তানে হামলা চালাচ্ছে বলে দাবি ইসলামাবাদের। তবে আফগানিস্তানের তালেবান সরকার এই অভিযোগ অস্বীকার করে আসছে। তাদের দাবি, পাকিস্তানে সন্ত্রাসবাদের সমস্যা দেশটির অভ্যন্তরীণ বিষয়।
আরো পড়ুন
আজ আনচেলত্তির ব্রাজিলের নতুন শুরু
চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে পাকিস্তান ও আফগানিস্তানের মধ্যে কয়েক বছরের মধ্যে সবচেয়ে বড় ধরনের লড়াই হয়। দুই দেশের সীমান্তে কয়েক দফা সংঘর্ষের পর পরিস্থিতি আরো উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। এরপরও দুই দেশের মধ্যে উত্তেজনা পুরোপুরি কমেনি। মার্চে পাকিস্তানের বিমান হামলায় আফগানিস্তানের রাজধানী কাবুলে ৪০০ জনের বেশি মানুষ নিহত হন বলে আফগান কর্তৃপক্ষের দাবি। আফগান তালেবান সরকারের অভিযোগ, পাকিস্তানের ওই হামলার লক্ষ্য ছিল মাদকাসক্তদের একটি পুনর্বাসনকেন্দ্র। তবে পাকিস্তান এ অভিযোগ অস্বীকার করেছে। ইসলামাবাদ বলেছে, তারা বেসামরিক স্থাপনা লক্ষ্য করে হামলা চালায়নি। পাকিস্তানের দাবি, হামলায় ‘সুনির্দিষ্টভাবে সামরিক স্থাপনা এবং সন্ত্রাসীদের সহায়তার অবকাঠামো’ লক্ষ্য করা হয়েছিল।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
ঢাকা, ২৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ : বৃহস্পতিবার সৌদি আরব হুথিদের দ্বারা ছোড়া ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রগুলো প্রতিহত করেছে। এর আগে, মক্কাসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে সতর্কতা জারি করা হয়েছিল। পাশাপাশি, সৌদির গুরুত্বপূর্ণ তেল স্থাপনা ইয়ানবু সুরক্ষিত রাখতে ফ্রান্স ‘সামরিক সরঞ্জাম ও জনবল’ পাঠানোর ঘোষণা দিয়েছে।
খবরটি বার্তা সংস্থা এএফপি’র মাধ্যমে জানানো হয়েছে।
এদিকে, ইয়েমেনে হুথি বিদ্রোহী এবং রিয়াদ-সমর্থিত সরকারি বাহিনীর মধ্যে তীব্র লড়াই চলছে। এ সংঘর্ষে উভয় পক্ষের বেশ কয়েক ডজন মানুষ নিহত হয়েছে বলে সাতটি পৃথক সূত্রের তথ্যের ভিত্তিতে জানা গেছে।
গত জুলাই মাস থেকে হুথিদের হামলার সংখ্যা ধারাবাহিকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। ওই সময় কয়েক বছর ধরে চলা যুদ্ধবিরতি ভেঙে নতুন করে সংঘাত শুরু হয়। এর ফলে ইয়েমেন মধ্যপ্রাচ্যের বিস্তৃত যুদ্ধের অংশ হয়ে পড়ে।
হুথিরা এরপর থেকে সৌদি আরবের বিরুদ্ধে সমুদ্রপথে অবরোধ আরোপ করেছে। তারা সৌদি তেলবাহী জাহাজ ও ভূখণ্ডে হামলা চালানোর পাশাপাশি ইয়েমেনের লোহিত সাগর উপকূলের বিস্তীর্ণ এলাকা দখল করেছে। এই উপকূল সৌদি আরবের তেল রপ্তানির জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
হুথিদের এই অগ্রগতি উপসাগরীয় অঞ্চলের তেল রপ্তানিনির্ভর দেশগুলোর জন্য গুরুত্বপূর্ণ দুটি নৌপথে ইরান ও তার মিত্রদের নিয়ন্ত্রণ আরও শক্তিশালী করেছে। এসব নৌপথের মাধ্যমে সৌদি আরবসহ উপসাগরীয় দেশগুলো অপরিশোধিত তেল ও অন্যান্য জ্বালানি পণ্য বিশ্ববাজারে পাঠায়।
২০১৫ সাল থেকে ইয়েমেন সরকারের সমর্থনে হুথিদের বিরুদ্ধে লড়াই করে আসা সৌদি নেতৃত্বাধীন জোট জানিয়েছে, তারা ছয়টি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিহত করেছে। জোটের দাবি, এসব ক্ষেপণাস্ত্র তাইফ ও ইয়ানবুতে হামলার উদ্দেশ্যে ছোড়া হয়েছিল।
জোটের মুখপাত্র তুরকি আল-মালিকি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে বলেন, “সন্ত্রাসী হুথি মিলিশিয়ার উসকানি ও লঙ্ঘনের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
এর আগে, সৌদি বেসামরিক প্রতিরক্ষা কর্তৃপক্ষ একাধিক সতর্কতা জারি করে। এর মধ্যে মক্কার জন্য সতর্কতা ছিল। এছাড়া লোহিত সাগর উপকূলের ইয়ানবু, তাইফ, জেদ্দা ও তাবুক অঞ্চলের জন্যও সতর্কতা জারি করা হয়।
কয়েক মিনিট পর এসব সতর্কতা তুলে নেওয়া হয়। সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে হুথিদের হামলার আগে প্রায়ই এ ধরনের সতর্কতা জারি হতে দেখা গেছে।
ইরানের অস্বীকার
ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান বৃহস্পতিবার হুথিদের সামরিক পরিকল্পনায় তেহরানের সরাসরি নির্দেশনার অভিযোগ অস্বীকার করেছেন।
ফক্স নিউজের সম্প্রচারিত এক প্রতিবেদনে তিনি বলেন, হুথিরা তাদের নিজেদের কর্মকাণ্ডের জন্য নিজেরাই দায়ী। আঞ্চলিক প্রতিরোধ গোষ্ঠীগুলোর মতো তারাও যে পরিস্থিতির মুখোমুখি হয়েছে, তার ভিত্তিতে নিজেদের সিদ্ধান্ত নেয় এবং ইরানের কাছ থেকে নির্দেশনা নেয় না।
ইয়ানবু সুরক্ষায় ফ্রান্সের সহায়তা
সৌদি আরবের ওপর চাপ বাড়তে থাকায় ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাখোঁ জানান, ইয়ানবুকে সুরক্ষিত রাখতে ফ্রান্স ‘সামরিক সক্ষমতা’ পাঠানোর পরিকল্পনা করছে। এর মধ্যে সেনা, রাডার ও প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা থাকবে বলে তিনি জানান।
ইয়ানবু ও এর আশপাশের অবকাঠামো সৌদি আরবের বিশাল জ্বালানি স্থাপনা নেটওয়ার্কের একটি গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র।
লোহিত সাগরের তীরে অবস্থিত ইয়ানবু সৌদি আরবের প্রধান অপরিশোধিত তেল রপ্তানি টার্মিনাল। পূর্ব-পশ্চিম পাইপলাইন বা ‘পেট্রোলাইন’-এর মাধ্যমে এটি উপসাগরীয় উপকূলের তেল উৎপাদনকারী অঞ্চলগুলোর সঙ্গে যুক্ত।
ইয়ানবুতে বড় ধরনের তেল সংরক্ষণাগার ও পরিশোধনাগারও রয়েছে। লোহিত সাগরের তীরে অবস্থানের কারণে ইউরোপের বাজারে অপরিশোধিত তেল ও পরিশোধিত জ্বালানি পণ্য পাঠানোর ক্ষেত্রে সৌদি আরবের জন্য এটি একটি বিকল্প রুট হিসেবেও গুরুত্বপূর্ণ।
কৌশলগত পাহাড়ি এলাকা দখলের লড়াই
গত সপ্তাহে সৌদি আরব অভিযোগ করে, হুথিরা ২০১৭ সালের পর প্রথমবারের মতো মক্কাকে লক্ষ্য করে একটি ড্রোন হামলা চালিয়েছে। তবে হুথিরা ওই অভিযোগ অস্বীকার করে।
এর কয়েক দিন পর হুথিরা সৌদি রাজধানী রিয়াদে হামলা চালায়। এটি ছিল রিয়াদে তাদের প্রথম হামলা, যা সংঘাতের নতুন মাত্রা হিসেবে দেখা হচ্ছে।
বৃহস্পতিবার সৌদি আরবে হুথিদের হামলার পাশাপাশি ইয়েমেনের ভেতরেও তীব্র লড়াই চলেছে।
উভয় পক্ষের সূত্র এএফপিকে জানিয়েছে, গত ২৪ ঘণ্টায় অন্তত ১৫০ জন হুথি যোদ্ধা ও সরকারি বাহিনীর সদস্য নিহত হয়েছেন। লোহিত সাগরের প্রবেশমুখ বাব আল-মান্দাব প্রণালীর দিকে নজর রাখা পাহাড়ি এলাকা দখল নিয়ে সংঘর্ষেও হতাহতের ঘটনা ঘটেছে।
পাঁচটি সামরিক সূত্রের তথ্যের ভিত্তিতে এএফপি জানায়, নিহতদের মধ্যে অন্তত ৯৮ জন সৌদি-সমর্থিত সরকারি বাহিনীর সদস্য বা সেনা।
নিহতদের বেশির ভাগই হুথিদের ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলায় মারা গেছেন। নিহতদের মধ্যে ইয়েমেনি সেনাসদস্যও রয়েছেন।
পরে হুথিরা দাবি করে, তারা ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোনের সমন্বয়ে বড় ধরনের হামলা চালিয়েছে। দক্ষিণ সৌদি আরবের কমান্ড সেন্টার ও অস্ত্রের গুদামগুলোকে লক্ষ্য করে এসব হামলা চালানো হয়েছে বলে তারা দাবি করে। হুথিদের ভাষ্য অনুযায়ী, ওই হামলায় ইয়েমেনি ও সুদানি যোদ্ধাদের পাশাপাশি সৌদি সদস্যরাও হতাহত হয়েছেন।
বৃহস্পতিবার রাতে হুথিরা আরও দাবি করে, তারা সীমান্তের ওপারে ইয়ানবুতে সৌদি আরবের রাষ্ট্রীয় তেল কোম্পানি আরামকোর অবকাঠামো এবং রিয়াদের একটি অজ্ঞাত স্থাপনায় হামলা চালিয়েছে।
অন্যদিকে, হুথি গোষ্ঠীর দুটি সূত্র জানিয়েছে, অন্যান্য সংঘর্ষে অন্তত ৫২ জন হুথি যোদ্ধা নিহত হয়েছেন।
এদিকে, কাহবুব পাহাড় এবং লাহজ ও তাইজ অঞ্চলের মধ্যবর্তী এলাকাতেও উভয় পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষে বহু মানুষ নিহত হয়েছেন। বাব আল-মান্দাব প্রণালীর দিকে থাকা উঁচু পাহাড়ি এলাকা নিয়ন্ত্রণে নিতে হুথিরা এসব এলাকায় লড়াই করছে। সদ্য দখল করা ভূখণ্ড সুরক্ষিত রাখার জন্য এই পাহাড়ি অঞ্চলগুলোর নিয়ন্ত্রণ তাদের কাছে গুরুত্বপূর্ণ।
জুলাইয়ে হুথি ও ইয়েমেন সরকারের মধ্যে ২০২২ সাল থেকে চলা ভঙ্গুর যুদ্ধবিরতি ভেঙে যায়। রিয়াদের নিয়ন্ত্রণাধীন ইয়েমেনের আকাশসীমা অমান্য করে একটি ইরানি বিমান সানায় অবতরণের অনুমতি দেওয়ার পর নতুন করে উত্তেজনা শুরু হয়। এরপর ধারাবাহিক হামলা ও পাল্টা হামলার ঘটনা ঘটে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
ইতালির স্কুলগুলোতে মুখঢাকা পোশাক নিষিদ্ধ করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে, যেসব শিক্ষার্থী ইতালীয় ভাষায় কথা বলতে পারেন না, তাদের সংখ্যা একটি শ্রেণিকক্ষে মোট শিক্ষার্থীর ৩০ শতাংশের মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখার পরিকল্পনাও করেছে দেশটির সরকার। আলজাজিরার এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, নতুন এই নিয়ম ভাঙলে সর্বোচ্চ ১ হাজার ইউরো বা প্রায় ১ হাজার ১৪০ ডলার জরিমানার বিধান রাখা হয়েছে।
রবিবার, জাতীয়তাবাদী রক্ষণশীল দল ব্রাদার্স অব ইতালির যুব শাখার এক সমাবেশে প্রধানমন্ত্রী জর্জিয়া মেলোনি এসব পরিবর্তনের কথা জানান। বৃহস্পতিবার, মেলোনির মন্ত্রিসভা এ বিষয়ে একটি অধ্যাদেশ অনুমোদন দেয়। এটি কার্যকর হলে ইতালির স্কুলে বোরকা ও নিকাব পরা নিষিদ্ধ হবে। সরকারের পরিকল্পনা অনুযায়ী, আগামী বছর থেকে যেসব শিক্ষার্থী ইতালীয় ভাষায় কথা বলতে পারেন না, তাদের সংখ্যা কোনো শ্রেণিকক্ষে মোট শিক্ষার্থীর ৩০ শতাংশের বেশি হতে পারবে না। সরকার বলছে, এর উদ্দেশ্য হলো শিক্ষার্থীদের ইতালীয় ভাষা শেখার সুযোগ বাড়ানো এবং স্কুলে তাদের একীভূত হওয়ার প্রক্রিয়া সহজ করা।
শিক্ষামন্ত্রী জুসেপ্পে ভালদিতারা জানিয়েছেন, কোনো একটি শ্রেণিকক্ষে ইতালীয় ভাষায় কথা বলতে পারে না—এমন শিক্ষার্থীর সংখ্যা বেশি হলে স্থানীয় স্কুল কর্তৃপক্ষ শিক্ষার্থীদের বিভিন্ন শ্রেণিতে ভাগ করে দেবে।
আরো পড়ুন
সৌদির তেলপথ রক্ষায় লোহিত সাগরে সেনা পাঠাবে ফ্রান্স: ম্যাখোঁ
তবে কোনো স্কুলের পক্ষে এই নিয়ম মানা সম্ভব না হলে বিশেষ ছাড় দেওয়ার সুযোগ থাকবে। এ ছাড়া এসব স্কুলকে অতিরিক্ত ভাষা সহায়তার জন্য অর্থও দেওয়া হবে।
শিক্ষামন্ত্রীর হিসাব অনুযায়ী, নতুন নিয়মের আওতায় পড়বে প্রায় ১ হাজার শ্রেণিকক্ষ। দেশজুড়ে মোট শ্রেণিকক্ষের তুলনায় এটি প্রায় ০.৩ শতাংশ। নতুন নিয়মগুলো অধ্যাদেশভিত্তিক আইনের মাধ্যমে কার্যকর করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। ফলে আইনটি দ্রুত কার্যকর হতে পারে। তবে এ ক্ষেত্রে ৬০ দিনের মধ্যে সংসদের অনুমোদন নিতে হবে। ইতালির প্রেসিডেন্ট সার্জিও মাতারেল্লাকেও এতে স্বাক্ষর করতে হবে।
প্রধানমন্ত্রী মেলোনি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে লিখেছেন, "ইতালীয় ভাষা শেখার সুযোগ তৈরি করা এবং স্কুলে বোরকা ও নিকাব বন্ধের উদ্যোগ এমন বিষয়, যা সাধারণ মানুষের কাছে স্বাভাবিক ও গ্রহণযোগ্য।"
তিনি বলেন, সরকার এমন একটি স্কুলব্যবস্থা চায়, যেখানে নিয়ম মেনে সবাইকে একীভূত করা হবে। একই সঙ্গে যেসব শিক্ষার্থী বেশি সমস্যায় আছে, তাদের সহায়তা দেওয়া হবে এবং সবাইকে সমান সুযোগ দেওয়ার চেষ্টা করা হবে। তবে সরকারের এই উদ্যোগ নিয়ে বিরোধীদের সমালোচনা রয়েছে।
বিরোধী রাজনীতিকরা অভিযোগ করেছেন, আগামী বছরের নির্বাচনের আগে মেলোনির সরকার সংস্কৃতি ও অভিবাসন নিয়ে বিভাজন তৈরি করে রাজনৈতিক সুবিধা নেওয়ার চেষ্টা করছে। তাদের দাবি, সাবেক সেনা কর্মকর্তা রবার্তো ভান্নাচ্চির নেতৃত্বাধীন উগ্র ডানপন্থী ন্যাশনাল ফিউচার দলের জনপ্রিয়তা ঠেকাতেও সরকার এসব বিষয়কে সামনে আনছে।
আরো পড়ুন
যুক্তরাষ্ট্র সফর শেষে দুবাই হয়ে দেশে ফিরবেন প্রধানমন্ত্রী
অভিবাসীদের নিজ দেশে ফেরত পাঠানোর প্রচারকে কেন্দ্র করে নির্বাচনী প্রচারে স্কুলকে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হিসেবে তুলে ধরেছে ন্যাশনাল ফিউচার। গত জুলাইয়ে দলটি স্কুলে বোরকা নিষিদ্ধ করার দাবি জানিয়েছিল। বিরোধী নেতারা আরো অভিযোগ করেছেন, শিক্ষার্থী ও স্কুলগুলোর বাস্তব সমস্যার সমাধানের বদলে সরকার সংস্কৃতি ও পরিচয় নিয়ে বিতর্ককে বেশি গুরুত্ব দিচ্ছে। মধ্য-বামপন্থী ডেমোক্রেটিক পার্টির নেতা এলি শ্লেইন সরকারের অধ্যাদেশের সমালোচনা করেছেন। তার অভিযোগ, নতুন একটি আদর্শিক বিতর্কের আড়ালে সরকারি স্কুলব্যবস্থার প্রকৃত সমস্যাগুলো সমাধানে সরকারের ব্যর্থতা ঢাকার চেষ্টা করা হচ্ছে। শিক্ষক ইউনিয়নগুলোও সরকারের উদ্যোগের সমালোচনা করেছে। তাদের অভিযোগ, নতুন নিয়ম করার আগে শিক্ষকদের সঙ্গে যথেষ্ট আলোচনা করা হয়নি। পাশাপাশি এই নিয়ম বাস্তবায়নের জন্য প্রয়োজনীয় অর্থ ও সহায়তার ব্যবস্থাও করা হয়নি।
বিশেষ করে যেসব এলাকায় অভিবাসী পরিবারের সংখ্যা বেশি, সেসব এলাকায় নতুন নিয়ম কীভাবে বাস্তবায়ন করা হবে, তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন স্কুল প্রধানরা।
জাতীয় প্রধান শিক্ষক সমিতির সভাপতি আন্তোনেল্লো জিয়ানেল্লি বলেন, "শিক্ষার দিক থেকে এই উদ্যোগের উদ্দেশ্য গুরুত্বপূর্ণ। তবে এটিকে বাস্তবে কার্যকর করার মতো সমাধানে পরিণত করা কঠিন।"
ইতালির শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ২০২২-২৩ শিক্ষাবর্ষে দেশটির স্কুলগুলোর মোট শিক্ষার্থীর ১১.২ শতাংশ ছিল অন্য দেশের নাগরিক। তবে সব শ্রেণিকক্ষে বিদেশি শিক্ষার্থীর সংখ্যা সমান নয়। ওই শিক্ষাবর্ষে দেশটির মোট শ্রেণিকক্ষের ৭.৬ শতাংশে বিদেশি শিক্ষার্থীর সংখ্যা ছিল ৩০ শতাংশের বেশি।
আরো পড়ুন
সৌদির তেলপথ রক্ষায় লোহিত সাগরে সেনা পাঠাবে ফ্রান্স: ম্যাখোঁ
সরকারের নতুন নিয়ম মূলত এসব শ্রেণিকক্ষের শিক্ষার্থীদের সংখ্যা ও বিন্যাসে পরিবর্তন আনবে। এদিকে বোরকা ও নিকাব নিষিদ্ধ করার পাশাপাশি ভাষাগত সহায়তার ব্যবস্থা করার পরিকল্পনা করেছে সরকার। ফলে নতুন নিয়ম কার্যকর হলে ইতালির স্কুলগুলোতে পোশাক, ভাষা শিক্ষা এবং বিদেশি শিক্ষার্থীদের শ্রেণিবিন্যাস- তিন ক্ষেত্রেই পরিবর্তন আসতে পারে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ