শুক্রবার, ৪ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং
০৯:৩০ এম
বাংলা চলচ্চিত্রের মহানায়ক উত্তমকুমারকে সত্যিকার অর্থে একজন ‘আইকন’ হিসেবে উল্লেখ করেছেন দুই বাংলার জনপ্রিয় অভিনেত্রী জয়া আহসান। মহানায়কের জন্মশতবর্ষে শ্রদ্ধা জানিয়ে এমনটি বলেন জয়া।
উত্তমকুমারের জন্মশতবার্ষিকী উপলক্ষে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আবেগঘন পোস্টে অভিনেত্রী আহসান লিখেছেন, ‘আইকন’ শব্দটির যদি কোনো সার্থক বাংলা প্রতিশব্দ খুঁজতে হয়, তবে সেই শব্দ বা নামটি অবশ্যই উত্তমকুমার। একশ বছর পরেও বাংলা সিনেমায় তার মতো উজ্জ্বল সর্বগ্রাসী উপস্থিতি নজিরবিহীন।
জয়া আহসান মনে করেন, উত্তমকুমার শুধু একজন অভিনেতা বা নায়ক ছিলেন না। তার ভাষায়, ‘একজন শিল্পীর যে বহুমাত্রিক সত্তা, তারই এক অনন্য সমন্বয় তার ব্যক্তিত্বে। পর্দায় তার অভিনয় যেমন দর্শককে মুগ্ধ করেছে, পর্দার বাইরেও তার ব্যক্তিত্ব তৈরি করেছে এক স্বতন্ত্র সাংস্কৃতিক অভিঘাত।’
অভিনেত্রী আরও লিখেছেন, ‘জনপ্রিয়তা তাকে মহানায়ক করেছে; কিন্তু শুধু জনপ্রিয়তা তার পরিচয়ের সম্পূর্ণ ব্যাখ্যা নয়। তিনি বাঙালির মনের নায়ক; এমন এক প্রতীক, যার সঙ্গে বাঙালির পুরুষত্ব, ব্যক্তিত্ব, সৌন্দর্য এবং আত্মবিশ্বাসের একটি বিশেষ আবেগ আজও জড়িয়ে আছে।’
কালজয়ী এই অভিনেতার প্রভাব নিয়ে জয়া আরও উল্লেখ করেছেন, ‘সময় বদলেছে, প্রজন্ম বদলেছে, বাংলা সিনেমার ভাষাও বদলেছে। কিন্তু উত্তমকুমার নির্মিত সেই মিথ এখনও অমলিন।’
সবশেষে মহানায়কের জন্মশতবর্ষে শ্রদ্ধা জানিয়ে জয়া বলেন, ‘ভালোবাসা ও নিরন্তর মুগ্ধতার এই ঋণ কখনও ফুরোনোর নয়।’
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
ক্রীড়াঙ্গনে অর্থের চাহিদা এবং সরকারি সহায়তার দাবি বিদ্যমান, সেইসাথে বিভিন্ন প্রকল্প ও বরাদ্দের জন্য আবেদন করা হচ্ছে। কিন্তু সেই অর্থ কোথায় এবং কীভাবে ব্যয় হচ্ছে, তা নিয়ে রয়েছে এক ধরনের অনীহা। জাতীয় ক্রীড়া পরিষদের (এনএসসি) নথিপত্র অনুযায়ী, ৫২টি জাতীয় ক্রীড়া ফেডারেশন-অ্যাসোসিয়েশনের মধ্যে ২০২৪-২৫ অর্থবছরের আয়-ব্যয়ের হিসাব ও অডিট প্রতিবেদন জমা দিয়েছে মাত্র ১৪টি। ফুটবলসহ ৩৮টি ফেডারেশন-অ্যাসোসিয়েশন এখনও সেই হিসাব জমা দেয়নি। এনএসসি ২০১৮ সালের আইনে পরিচালিত হচ্ছে। ওই আইনের ২৩ নম্বর ধারায় প্রত্যেক জাতীয় ক্রীড়া সংস্থার জন্য বার্ষিক আয়-ব্যয়ের হিসাব এবং অডিট প্রতিবেদন পরবর্তী বছরের সেপ্টেম্বরের মধ্যে এনএসসিতে জমা দেওয়ার বাধ্যবাধকতা রয়েছে। আইন রয়েছে, সময়সীমা নির্ধারিত। কিন্তু বাস্তবে এর প্রয়োগ কতটা হচ্ছে, এই পরিসংখ্যানই তার উত্তর দেয়। এর আগে হিসাব জমা দেওয়ার ব্যাপারে এনএসসি কড়াকড়ি করেছিল। তবে পরে সেই কঠোর অবস্থান শিথিল করা হয়। এখন আবার এনএসসি নড়েচড়ে বসেছে। পরিচালক (অর্থ) তনময় ইসলাম সব ফেডারেশন ও অ্যাসোসিয়েশনকে ২০২৪-২৫ অর্থবছরের ব্যয় বিবরণী ও অডিট প্রতিবেদন অবিলম্বে জমা দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন। পাশাপাশি ২০২৫-২৬ অর্থবছরের অডিট প্রতিবেদনও সেপ্টেম্বরের মধ্যে জমা দিতে বলা হয়েছে।
এখন পর্যন্ত হিসাব জমা দিয়েছে কাবাডি, সাঁতার, শুটিং, ভলিবল, বাস্কেটবল, কুস্তি, জিমন্যাস্টিক্স, শরীর গঠন, বিলিয়ার্ড, মহিলা ক্রীড়া সংস্থা, রাগবি, মাউন্টেনিয়ারিং, প্যারা অলিম্পিক ও ক্রিকেট বোর্ড। তবে ২০২৫-২৬ অর্থবছরের হিসাব শুধুমাত্র বাংলাদেশ মাউন্টেনিয়ারিং অ্যাসোসিয়েশন জমা দিয়েছে।
ফুটবল নিয়ে সবচেয়ে বড় প্রশ্নটি রয়েছে। দেশের অন্যতম প্রভাবশালী এই ফেডারেশন নিয়মিতভাবে সরকারের কাছে বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধার জন্য আবেদন করে। কিন্তু এনএসসিতে তাদের আয়-ব্যয়ের হিসাব নেই। এশিয়ান কাপ বাছাইয়ের তিনটি হোম ম্যাচের গেটমানির হিসাব চেয়েও এনএসসি তা পায়নি। ওই ম্যাচগুলোর আয়-ব্যয়ের হিসাবও প্রকাশ্যে আসেনি। ফুটবলের পাশাপাশি আরচারি, অ্যাথলেটিক্স, দাবা, কারাতে, ব্যাডমিন্টন, টেবিল টেনিস, সাইক্লিংসহ গুরুত্বপূর্ণ অনেক ফেডারেশনও এখনও হিসাব জমা দেয়নি।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
যুক্তরাষ্ট্র এবং ইরানের মধ্যে নতুন উত্তেজনার কারণে বিশ্ববাজারে তেলের দাম আবারও বৃদ্ধি পেয়েছে। এই পরিস্থিতিতে, তেলের দাম বর্তমানে সাপ্তাহিক সর্বোচ্চ পর্যায়ের কাছাকাছি পৌঁছেছে।
এই তথ্যটি কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরার একটি প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, শুক্রবার (৪ সেপ্টেম্বর) গ্রিনিচ মান সময় রাত ১টা পর্যন্ত ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ১৫ সেন্ট বা ০.২ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়ে প্রতি ব্যারেল ৯৫.৬৭ ডলারে দাঁড়িয়েছে।
অন্যদিকে, যুক্তরাষ্ট্রের ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েট (ডব্লিউটিআই) অপরিশোধিত তেলের দাম ২৬ সেন্ট বা ০.৩ শতাংশ বেড়ে প্রতি ব্যারেল ৯১.৫৬ ডলারে পৌঁছেছে।
ব্রিটিশ বার্তা সংস্থা রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে নতুন করে উত্তেজনা এবং সংঘাতের কারণে মধ্যপ্রাচ্য থেকে তেল সরবরাহে বিঘ্ন ঘটার আশঙ্কা বৃদ্ধি পেয়েছে। এই কারণেই মূলত তেলের দাম বৃদ্ধি পাচ্ছে।
গত এক সপ্তাহে ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ৭.১ শতাংশ এবং ডব্লিউটিআইয়ের দাম ৯.৮ শতাংশ বেড়েছে। এর ফলে, ২০ জুলাই শেষ হওয়া সপ্তাহের পর এটি উভয় ধরনের তেলের জন্য সবচেয়ে বড় সাপ্তাহিক মূল্যবৃদ্ধি হতে যাচ্ছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
আজ শুভ জন্মাষ্টমী, সনাতন হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের আরাধ্য পরমেশ্বর ভগবান শ্রীকৃষ্ণের জন্মতিথি। এ উপলক্ষে দেশের হিন্দু সম্প্রদায় ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্য ও আনন্দ-উৎসবের মাধ্যমে দিনটি উদযাপন করবে। রাজধানীতে একটি বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা বের করা হবে। এই শোভাযাত্রা উপলক্ষে ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি) ৯ দফা নির্দেশনা প্রদান করেছে।
শুভ জন্মাষ্টমী উপলক্ষে রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর এবং প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান পৃথক বাণী দিয়েছেন। আজ সরকারি ছুটি। দিবসটির তাৎপর্য তুলে ধরে বাংলাদেশ বেতার ও টেলিভিশনসহ বিভিন্ন বেসরকারি স্যাটেলাইট চ্যানেলে বিশেষ অনুষ্ঠান সম্প্রচারিত হবে। হিন্দু পুরাণ মতে, ভগবান শ্রীকৃষ্ণ ভাদ্র মাসের কৃষ্ণপক্ষের অষ্টমী তিথিতে জন্মগ্রহণ করেন। সনাতন ধর্মাবলম্বীদের বিশ্বাস, পাশবিক শক্তি যখন ন্যায়নীতি, সত্য ও সুন্দরকে গ্রাস করতে উদ্যত হয়েছিল, তখন সেই শক্তিকে দমন করে মানবজাতির কল্যাণ এবং ন্যায়নীতি প্রতিষ্ঠার জন্য মহাবতার ভগবান শ্রীকৃষ্ণের আবির্ভাব ঘটে। তাদের বিশ্বাস, দুষ্টের দমন করতে যুগে যুগে ভগবান মানুষের মধ্যে নেমে আসেন এবং সত্য ও সুন্দরকে প্রতিষ্ঠা করেন।
জন্মাষ্টমী উপলক্ষে বাংলাদেশ পূজা উদ্যাপন পরিষদ, মহানগর সর্বজনীন পূজা কমিটি এবং ইসকনসহ বিভিন্ন সামাজিক, সাংস্কৃতিক ও ধর্মীয় সংগঠন ব্যাপক কর্মসূচি গ্রহণ করেছে। মহানগর সর্বজনীন পূজা কমিটি ঢাকেশ্বরী জাতীয় মন্দিরে কেন্দ্রীয়ভাবে কর্মসূচি আয়োজন করেছে। কর্মসূচির মধ্যে রয়েছে- সকাল ৮টায় দেশ ও জাতির মঙ্গল কামনায় গীতাযজ্ঞ এবং বিকালে ৩টায় ঐতিহাসিক জন্মাষ্টমী মিছিল ও রাতে শ্রীকৃষ্ণ পূজা। ঢাকেশ্বরী জাতীয় মন্দির মেলাঙ্গনে আয়োজিত গীতাযজ্ঞ পরিচালনা করবেন চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডের শংকর মঠ ও মিশন। বিকাল ৩টায় পলাশীর মোড়ে ঐতিহাসিক কেন্দ্রীয় জন্মাষ্টমী মিছিলের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাউদ্দিন আহমদ প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন।
জন্মাষ্টমী মিছিলের উদ্বোধন করবেন ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের প্রশাসক বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. আব্দুস সালাম। এ উপলক্ষে আন্তর্জাতিক কৃষ্ণভাবনামৃত সংঘ (ইসকন) তিন দিনব্যাপী ব্যাপক কর্মসূচি গ্রহণ করেছে। কর্মসূচির মধ্যে রয়েছে- শ্রীমদ্ভাগবত পাঠ, ভজন কীর্তন, ভোগ আরতি, মহাপ্রসাদ বিতরণ, আলোচনা সভা, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান এবং ধর্মীয় নাটক কীর্তন মেলা।
ডিএমপির ৯ নির্দেশনা: বৃহস্পতিবার ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি) কমিশনার মোসলেহ উদ্দিন আহমদ স্বাক্ষরিত গণবিজ্ঞপ্তিতে শোভাযাত্রা উপলক্ষে ৯ দফা নির্দেশনা প্রদান করা হয়েছে। এতে উল্লেখ করা হয়েছে, শোভাযাত্রা ঢাকেশ্বরী জাতীয় মন্দির থেকে শুরু হয়ে পলাশী বাজার, জগন্নাথ হল, কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার, দোয়েল চত্বর, হাইকোর্ট, বঙ্গবাজার, ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন ভবন, গোলাপ শাহ মাজার ও গুলিস্তান মোড় থেকে নবাবপুর রোড, রায় সাহেব বাজার মোড় হয়ে বাহাদুর শাহ পার্কে গিয়ে শেষ হবে। বিকাল ৩টা থেকে সন্ধ্যা ৭টার মধ্যে শোভাযাত্রা শেষ করতে হবে।
নির্দেশনাগুলো হলো- ১. শোভাযাত্রার রুটে কোনো ধরনের যানবাহন পার্কিং করা যাবে না। ২. উচ্চস্বরে পিএ/সাউন্ড সিস্টেম বাজানো থেকে বিরত থাকতে হবে। ৩. অংশগ্রহণে ইচ্ছুকদের প্রারম্ভে শোভাযাত্রায় মিলিত হতে হবে। কোনোক্রমেই মাঝপথে শোভাযাত্রায় যোগ দেওয়া যাবে না। ৪. নিরাপত্তার স্বার্থে হ্যান্ড ব্যাগ, ট্রলি, বড় ভ্যানিটি ব্যাগ, পোটলা, দাহ্য পদার্থ, ছুরি, অস্ত্র, কাঁচি, ক্ষয়কারক তরল, ব্লেড, দিয়াশলাই, গ্যাসলাইটার ইত্যাদি সঙ্গে নিয়ে শোভাযাত্রায় অংশ নেওয়া যাবে না। ৫. শোভাযাত্রা চলাকালে রুটে কোনো ধরনের ফলমূল ছোড়া যাবে না। ৬. রাস্তায় অহেতুক দাঁড়িয়ে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করা যাবে না। ৭. সন্দেহজনক কোনো ব্যক্তি বা বস্তু পরিলক্ষিত হলে তাৎক্ষণিক পুলিশকে অবহিত করতে হবে। ৮. শোভাযাত্রায় অংশগ্রহণকারীদের স্বেচ্ছাসেবক ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের নির্দেশনা মেনে চলার জন্য অনুরোধ করা হয়েছে। ৯. ব্যারিকেড, পিকেট ও আর্চওয়ে ব্যবস্থাপনায় নিয়োজিত পুলিশকে দায়িত্ব পালনে সহযোগিতার পাশাপাশি শোভাযাত্রা চলাকালে নগরবাসীকে পুলিশের নির্দেশিত বিকল্প সড়কে চলাচল করতে অনুরোধ জানানো হয়েছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
৪ সেপ্টেম্বর মধ্যরাত ২টা ৫৫ মিনিটে, ভারতের অধিকাংশ মানুষ গভীর ঘুমে ছিল। তবে অন্ধ্রপ্রদেশের শ্রীহরিকোটায় তখন ভিন্ন এক ব্যস্ততা চলছিল। মিশন কন্ট্রোল রুম, উৎক্ষেপণ কেন্দ্র এবং দেশের বিভিন্ন প্রান্তের ট্র্যাকিং স্টেশনে প্রায় ১৬ হাজার ৫০০ জন ভারতীয় মহাকাশ গবেষণা সংস্থার (ইসরো) বিজ্ঞানী, প্রকৌশলী ও সহায়ক কর্মী উৎকণ্ঠা ও ক্লান্তি উপেক্ষা করে শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতিতে ব্যস্ত ছিলেন।
শুধু ১৯ মিনিট পর, ভোর ৩টা ১৪ মিনিটে, উৎক্ষেপণের সফলতার খবর আসে। মুহূর্তেই নিয়ন্ত্রণকক্ষে স্বস্তির আবহ নেমে আসে। বিজ্ঞানী ও প্রকৌশলীদের মধ্যে হাসি, করমর্দন ও উচ্ছ্বাস দেখা যায়।
বিজ্ঞান-বিষয়কমন্ত্রী ড. জিতেন্দ্র সিং এই সাফল্যকে ভারতের মহাকাশ অভিযানে ‘আরেকটি বড় লাফ’ হিসেবে অভিহিত করেন। তিনি সফল উৎক্ষেপণের জন্য ইসরোর পুরো দলকে অভিনন্দন জানান।
এই দিন জিএসএলভি-এফ১৭ রকেটের মাধ্যমে ইওএস-০৫ নামে একটি অত্যাধুনিক পৃথিবী পর্যবেক্ষণ উপগ্রহ মহাকাশে পাঠানো হয়। এটি জিওসিঙ্ক্রোনাস কক্ষপথ থেকে ছবি তুলতে সক্ষম ভারতের প্রথম ইমেজিং স্যাটেলাইট। উপগ্রহটি দৃশ্যমান আলো, ইনফ্রারেড, মাল্টি-স্পেকট্রাল ও হাইপারস্পেকট্রাল—বিভিন্ন তরঙ্গদৈর্ঘ্যে উন্নত মানের ছবি সংগ্রহ করতে পারবে।
এই সাফল্য ইসরোর জন্য বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এর আগে পরপর দুটি উৎক্ষেপণ ব্যর্থ হওয়ায় ভারতের দীর্ঘদিনের নির্ভরযোগ্য পিএসএলভি রকেট নিয়ে প্রশ্ন উঠেছিল। ২০২৫ সালে এবং ২০২৬ সালের জানুয়ারিতে পিএসএলভি’র ব্যর্থতার পর বিষয়গুলো খতিয়ে দেখতে ইসরোকে দীর্ঘ তদন্ত ও পরীক্ষা-নিরীক্ষার মধ্য দিয়ে যেতে হয়েছিল।
বর্তমানে পিএসএলভি বহরের উৎক্ষেপণ স্থগিত রয়েছে। প্রকৌশলীরা বিভিন্ন পরীক্ষা ও সংশোধনমূলক কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন। আগের ব্যর্থতাগুলোতে কোনো নাশকতার প্রমাণ পাওয়া যায়নি। রকেট উৎক্ষেপণ অত্যন্ত জটিল ও ঝুঁকিপূর্ণ প্রযুক্তি—এ কারণেই মহাকাশে নিয়মিত রকেট পাঠানোর সক্ষমতা বিশ্বের হাতে গোনা কয়েকটি দেশের রয়েছে।
শ্রীহরিকোটা থেকে এটি ছিল কোনো বড় রকেটের ১০৭তম উৎক্ষেপণ।
‘নটি বয়’ এবার দিল স্বস্তি
পিএসএলভি-এর ওপর চাপ তৈরি হওয়ায় এবার দায়িত্ব পড়ে জিএসএলভি এমকে ২-এর ওপর। ইসরো এই রকেটটির নাম মজা করে ‘নটি বয়’ রেখেছিল।
এর কারণও আছে। এখন পর্যন্ত ১৯টি উৎক্ষেপণের মধ্যে ৬টি ব্যর্থ হয়েছে। ফলে রকেটটির যাত্রা ছিল বেশ চ্যালেঞ্জিং ও নাটকীয়।
তবুও এই একই রকেট ভারতের প্রযুক্তিগত সক্ষমতা ও আত্মনির্ভরতার অন্যতম প্রতীক হয়ে উঠেছে।
তথ্যসূত্র: এনডিটিভি
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ