বৃহস্পতিবার, ২০ই আগস্ট, ২০২৬ ইং
০৬:৪৬ পি.এম
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (রাকসু) ক্রীড়া সম্পাদক মোছা. নার্গিস খাতুনের নামে সাত ধাপে ১৫ লাখ ৭১ হাজার ৬২৬ টাকা তোলা হয়েছে। এর মধ্যে ১৩ লাখ ৯৭ হাজার ১২৬ টাকার বিল-ভাউচার এখনো জমা দেওয়া হয়নি।
সাধারণ সম্পাদক সালাহউদ্দিন আম্মারের পর তিনিই তহবিল থেকে সর্বোচ্চ ব্যয় করেছেন। রাকসুর কোষাধ্যক্ষ কার্যালয়ের ব্যয়-সংক্রান্ত নথির বরাতে সমকাল এসব তথ্য জানিয়েছে।
নথি অনুযায়ী, নার্গিস খাতুনের নামে রাকসু গেমস আয়োজনের জন্য দুই ধাপে ১২ লাখ ৭২ হাজার ৩৪০ টাকা বরাদ্দ নেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া গত মে মাসে আয়োজিত আরেকটি ইভেন্টের দুই ধাপে ১ লাখ ২৪ হাজার ৭৮৬ টাকা নেওয়া হলেও এর হিসাব জমা দেওয়া হয়নি।
গত মাসে শুরু হওয়া রাকসু গেমসের ছয়টি ইভেন্ট অবশ্য এখনো চলমান।
বিল-ভাউচার জমা না দেওয়ার বিষয়ে ক্রীড়া সম্পাদক মোছা. নার্গিস খাতুন বলেন, ‘বিল তৈরি আছে। যে কোনো সময় জমা দিয়ে দেব।’
এদিকে, রাকসুর কোষাধ্যক্ষ কার্যালয়ের ব্যয়-সংক্রান্ত একটি নথি থেকে জানা গেছে, চলতি মেয়াদে ৪২টি কর্মসূচিতে রাকসুর তহবিল থেকে ১ কোটি ২৯ লাখ ১৪ হাজার ৬৮৯ টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে ৬১ লাখ ৫০ হাজার ৪৬৮ টাকার বিল-ভাউচার জমা দেওয়া হয়নি।
সমকালের প্রতিবেদনের তথ্য মতে, রাকসুর জিএস সালাহউদ্দিন আম্মারের নামেও সাত ধাপে ২৩ লাখ ৮৮ হাজার টাকা তোলা হয়েছে। এর মধ্যে তিন ধাপের ১৮ লাখ ৩৯ হাজার টাকার ব্যয়ের ভাউচার জমা দেওয়া হয়নি। ভর্তি পরীক্ষার সময় বুথ স্থাপন, রাকসু সদস্যদের বাজেট এবং দাপ্তরিক খরচ বাবদ এসব অর্থ নেওয়া হয়েছিল।
এ বিষয়ে আম্মার বলেন, ভর্তি পরীক্ষার ব্যয়ের সঙ্গে ভ্যাট যোগ করার বিষয়টি জানা না থাকায় বিল সমন্বয়ে সমস্যা হয়েছে। পাশাপাশি একজন সদস্য হিসাব না দেওয়ায় সম্মিলিত বাজেটের হিসাব জমা দেওয়া সম্ভব হয়নি।
প্রতিবেদনে আরো বলা হয়, রাকসুর সহসভাপতি (ভিপি) মোস্তাকুর রহমান জাহিদের নামে ছয় ধাপে ১৩ লাখ ৪০ হাজার ৩২৪ টাকা তোলা হলেও ৯৯ হাজার ৯২৪ টাকার ভাউচার জমা দেওয়া হয়েছে। বাকি ১২ লাখ ৪০ হাজার ৪০০ টাকার হিসাব জমা হয়নি।
এ বিষয়ে জাহিদ জানান, বিল-ভাউচার দ্রুত জমা দেওয়া ভালো। তবে তার মেয়াদ শেষ হওয়ার আগে এবং অডিটের আগে হিসাব জমা দিলেও হবে। এর আগেই তিনি ভাউচার জমা দেবেন বলে জানান।
সমকালের তথ্য অনুযায়ী, বিতর্ক ও সাহিত্যবিষয়ক ইমরান লস্কর ছয় ধাপে ৮ লাখ ৪২ হাজার ৭৬৫ টাকা তুলেছেন। এর মধ্যে একটিতে ঘাটতিসহ দুই ধাপে খরচের ভাউচার জমা দিয়েছেন। সংস্কৃতিবিষয়ক সম্পাদক জাহিদ হোসেন জোহার নামে তিন ধাপে সাত লাখ ৯৫ হাজার টাকা নেওয়া হলেও একটি কর্মসূচির চার লাখ ৬৫ হাজার টাকার হিসাব দেওয়া হয়নি। তথ্য ও গবেষণা সম্পাদক বিএম নাজমুল সাকিবের নামে তিন ধাপে তিন লাখ ৯৬ হাজার টাকা নেওয়া হয়েছে। মিডিয়া ও প্রকাশনা সম্পাদক মো. মুজাহিদ ইসলামের নামে তিন ধাপে এক লাখ ৫৪ হাজার ৪৪৮ টাকার মধ্যে এক ধাপের এক লাখ টাকার ভাউচার জমা হয়নি। মহিলাবিষয়ক সম্পাদক সায়িদা হাফসার নেওয়া দুই ধাপের এক লাখ ৮৮ হাজার ২৭৬ টাকার মধ্যে মে মাসে আয়োজিত নারী উদ্যোক্তা মেলা বাবদ এক লাখ ৩৫ হাজার ৫০০ টাকার কোনো হিসাব জমা পড়েনি। বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি সম্পাদক তোফায়েল আহমেদ তোফা দুই ধাপে মোট ৮৭ হাজার ৫০০ টাকার মধ্যে জুলাইয়ে নেপালে শিক্ষাবিষয়ক একটি সেমিনারে অংশগ্রহণ বাবদ ৩৭ হাজার ৫00 টাকার হিসাব জমা দেননি।
গত জুলাই মাসে পরিবেশ ও সমাজকল্যাণ সম্পাদক আব্দুল্লাহ আল মাসুদের একটি সেমিনারের জন্য নেওয়া ৮২ হাজার টাকার ভাউচার দেওয়া হয়নি। রাকসুর এজিএস এসএম সালমান সাব্বির ৫ মার্চ দাপ্তরিক খরচ বাবদ ৬০ হাজার টাকা নেন। এর আগে কম্পিউটার প্রিন্টার কেনার জন্য অন্য এক নেতার নেওয়া এক লাখ ২৩ হাজার ৭৫০ টাকার হিসাবও জমা হয়নি।
রাকসুর কোষাধ্যক্ষ সেতাউর রহমান বলেন, কোনো কর্মসূচি শেষ হওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই বিল-ভাউচার জমা দেওয়া উচিত। কিছু বিল-ভাউচার এখনো জমা না পড়ায় সংশ্লিষ্টদের নিয়ম মেনে তা জমা দিতে বলা হয়েছে।
রাকসুর তহবিলের ব্যয় নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন ছাত্রসংগঠনও প্রশ্ন তুলেছে। রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদলের সভাপতি সুলতান আহমেদ রাহী বলেন, রাকসুর তহবিলের অর্থ শিক্ষার্থীদের চাঁদা থেকে আসে। তাই এ অর্থ রাজনৈতিক বা ব্যক্তিগত স্বার্থে ব্যবহার করা উচিত নয়।
সমাজতান্ত্রিক ছাত্রফ্রন্টের আহ্বায়ক ফুয়াদ রাতुल বলেন, এসব ব্যয়ের বিষয়ে তদন্ত হওয়া দরকার এবং কেউ দোষী হলে ব্যবস্থা নিতে হবে।
ছাত্র অধিকার পরিষদের সাধারণ সম্পাদক আল শাহরিয়ার বলেন, নির্বাচিত প্রতিনিধিদের কর্মকাণ্ডে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি থাকা জরুরি।
রাকসুর তহবিলসহ বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থ ব্যয়ের বিষয়ে উপাচার্য অধ্যাপক ফরিদুল ইসলাম বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের কোনো অর্থ ব্যয় করলে অবশ্যই বিল-ভাউচার জমা দিতে হবে। রাকসুকেও এই নিয়ম মেনে চলতে হবে। প্রতিটি সভায় হিসাবের স্বচ্ছতা বজায় রাখার তাগিদ দেওয়া হয়েছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
তিনি বলেছেন, "প্রয়োজনে রাজনৈতিক ঐকমত্য তৈরি করে জামায়াত-শিবিরের মতো সংগঠনকে নিষিদ্ধ করতে হবে।"
গণ অধিকার পরিষদের সভাপতি নুরুল হক এমন মন্তব্য করেন গত বৃহস্পতিবার দুপুরে, কুষ্টিয়ায় জামায়াত-শিবিরের সংঘর্ষে আহত ছাত্র অধিকার পরিষদের নেতা সোহানুর রহমানকে দেখতে গিয়ে। তিনি ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে গিয়েছিলেন। হাসপাতালের সামনে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলার সময় তিনি এ কথাগুলো বলেন।
নুরুল হক উল্লেখ করেন যে, বিগত আওয়ামী লীগ সরকার জামায়াত-শিবিরকে নিষিদ্ধ করেছিল এবং পরে অন্তর্বর্তী সরকার সেই নিষেধাজ্ঞা তুলে নেয়। তিনি বলেছেন, "বিষয়টি নিয়ে এখন নির্বাচিত সরকারকে গুরুত্বের সঙ্গে ভাবতে হবে। প্রয়োজনে সব রাজনৈতিক দলের ঐকমত্যের ভিত্তিতে এই উগ্রবাদী সংগঠনটিকে নিষিদ্ধ করা প্রয়োজন।"
নুরুল হক আরও বলেন, জামায়াত সুযোগ পেলে আ.লীগের চেয়েও বড় ফ্যাসিস্ট হবে। ২০২৪ সালের গণ-অভ্যুত্থানে গণহত্যার দায়ে আওয়ামী লীগের কার্যক্রম নিষিদ্ধের প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, "১৯৭১ সালে এর চেয়েও ভয়াবহ গণহত্যা, লুটপাট ও গণধর্ষণ সংঘটিত হয়েছিল।"
তিনি যুক্ত করেন যে, ওই ইতিহাস ও কর্মকাণ্ডের বিচারে জামায়াত-শিবিরকেও নিষিদ্ধ করা দরকার। নাহলে দেশে উগ্রবাদ মাথাচাড়া দিতে পারে এবং বৈশ্বিকভাবে দেশের ভাবমূর্তি সংকটে পড়তে পারে।
গণ অধিকার পরিষদের সভাপতি অভিযোগ করেন, অতীতে মজলুমের ভূমিকায় থাকলেও বিগত কয়েক মাসে জামায়াত-শিবির জালেম সংগঠনে পরিণত হয়েছে। তারা দেশে ফ্যাসিবাদী আচরণের মাধ্যমে রগকাটা, দখলদারিত্ব ও তাণ্ডবের পুরোনো ইতিহাস ফিরিয়ে আনছে।
এছাড়া নুরুল হক বলেন, ইসলামী ব্যাংকসহ বিভিন্ন আর্থিক প্রতিষ্ঠান ও ক্ষমতার ভাগ-বাঁটোয়ারা দখলের চেষ্টায় জামায়াত বর্তমান সরকারের ওপর চাপ সৃষ্টি করছে।
তিনি ওয়াজ ও জুমার খুতবায় বিতর্কিত বক্তব্যের জন্য মাওলানা আমির হামজারের সমালোচনা করে বলেন, "এই ধরনের বিদ্বেষমূলক বক্তব্যের সমর্থনে জামায়াতের বিবৃতি তাদের নৈতিক অধঃপতনকে স্পষ্ট করে।" তিনি রাজনৈতিক স্বার্থে ধর্মের ব্যবহারের সমালোচনা করেন এবং দলটির নাম থেকে ‘ইসলাম’ শব্দটি বাদ দেওয়ার আহ্বান জানান।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
ঢাকা, ২০ আগস্ট, ২০২৬ : জুলাই গণঅভ্যুত্থানে রাজধানীর নিউমার্কেট থানা এলাকায় ব্যবসায়ী আব্দুল ওয়াদুদকে হত্যার অভিযোগে করা মামলার মধ্যে সাবেক জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেনের স্ত্রী ও যুব মহিলা লীগের কেন্দ্রীয় কমিটির সহ-সভাপতি সৈয়দ মোনালিসা ইসলামের তিনদিনের রিমান্ড রাজধানী ঢাকার একটি আদালত মঞ্জুর করেছেন।
আজ (বৃহস্পতিবার) ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আওলাদ হোসাইন মুহাম্মদ জোনাইদ শুনানি শেষে এ রিমান্ড মঞ্জুর করেন। এর আগে, গত ১২ আগস্ট এই মামলায় মোনালিসা ইসলামকে গ্রেফতার দেখানো হয়েছিল। পরদিন, জিজ্ঞাসাবাদের জন্য মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ডিবি পুলিশ রমনা জোনাল টিমের পরিদর্শক আমজাদ হোসেন তালুকদার সাতদিনের রিমান্ড চেয়ে আবেদন করেন। আদালত আসামির উপস্থিতিতে এই শুনানির জন্য আজকের দিন ধার্য করেন।
মামলার অভিযোগ অনুযায়ী, ছাত্র-জনতার আন্দোলন চলাকালে ২০২৪ সালের ১৯ জুলাই বিকেলে নিউমার্কেট থানাধীন নীলক্ষেত এলাকায় আসামিদের গুলিতে ব্যবসায়ী আব্দুল ওয়াদুদ মারা যান।
এ ঘটনায় আব্দুল ওয়াদুদ এর শ্যালক আব্দুর রব নিউমার্কেট থানায় একটি হত্যার মামলা দায়ের করেন। এ মামলায় ক্ষমতাচ্যুত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, সাবেক সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদেরসহ ১৩০ জনকে আসামি করা হয়েছে। উল্লেখ্য, গত বছরের ১৬ ফেব্রুয়ারি গভীর রাতে ঢাকার ইস্কাটন রোডের একটি বাড়ি থেকে মোনালিসা ইসলামকে গ্রেফতার করে পুলিশ।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
চট্টগ্রাম, ২০ আগস্ট, ২০২৬ : ডেঙ্গু ও মশাবাহিত রোগ নিয়ন্ত্রণের লক্ষ্যে চট্টগ্রাম নগরীতে মাসব্যাপী একটি বিশেষ মশক নিধন ক্রাশ প্রোগ্রাম শুরু করেছে চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন (চসিক)। এর জন্য নগরীর আটটি এলাকায় মশক নিধন কার্যক্রম তদারকির জন্য চসিকের ১০ জন ম্যাজিস্ট্রেটকে বিভিন্ন অঞ্চলে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।
আগামী এক মাস ধরে ম্যাজিস্ট্রেটরা নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করবেন। তারা কোথাও ডেঙ্গুর লার্ভা দেখতে পেলেই সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন। প্রয়োজনে জরিমানা ও কারাদণ্ডও দেওয়া হবে।
বিশ্ব মশা দিবস উপলক্ষে আজ (বৃহস্পতিবার) সকালে নগরীর সেন্ট প্ল্যাসিডস স্কুলের সামনে থেকে এ উদ্যোগের উদ্বোধন করা হয়।
চসিক সূত্রে জানা গেছে, স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের দ্বারা চিহ্নিত নগরীর আটটি ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় বিশেষ গুরুত্বের সাথে এ কার্যক্রম পরিচালিত হবে। এসব এলাকায় অতিরিক্ত জনবল নিয়োগ করে মশার প্রজননস্থল চিনহিত এবং ধ্বংস করাসহ লার্ভা নিধন এবং প্রাপ্তবয়স্ক মশা নিয়ন্ত্রণে প্রয়োজনীয় ওষুধ প্রয়োগ করা হবে।
নগরীর ২, ৩, ১৭, ১৮, ১৯, ৩২, ৩৪ ও ৩৯ নম্বর ওয়ার্ডকে ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। এসব এলাকায় বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হবে কার্যক্রম পরিচালনার পাশাপাশি শতাধিক কর্মীকে মশক নিধন কার্যক্রমের জন্য বিশেষভাবে প্রশিক্ষণও দেওয়া হয়েছে।
চসিকের ভারপ্রাপ্ত প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ও সচিব আশরাফুল আমিন বলেন, ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণের জন্য বিটিআই ব্যবহার করছে চসিক গত পাঁচ-ছয় মাস ধরে। এর ফলস্বরূপ গত বছরের একই সময়ের তুলনায় ডেঙ্গু রোগীর সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে।
তিনি আরো জানান, গত বছর এই সময়ে সিটি করপোরেশন এলাকায় ডেঙ্গু রোগীর সংখ্যা ছিল ৮০০-এরও বেশি। চলতি বছরে তা কমে ৫৫০ থেকে ৫৮০ জনের মধ্যে রয়েছে। গত বছর একই সময়ে ডেঙ্গুতে আটজনের মৃত্যু ঘটেছিল, কিন্তু চলতি বছরে এখন পর্যন্ত সিটি করপোরেশন এলাকায় ডেঙ্গুতে কোনো মৃত্যুর ঘটনা ঘটেনি।
ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় অতিরিক্ত জনবল দিয়ে কাজ করার পাশাপাশি নগরীর অন্যান্য এলাকাতেও নিয়মিত মশক নিধন কার্যক্রম চলবে বলে তিনি জানান।
চসিকের প্রধান পরিচ্ছন্ন কর্মকর্তা ক্যাপ্টেন ইখতিয়ার উদ্দিন চৌধুরী বলেন, ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণের জন্য মশক নিধনের পাশাপাশি নগরীর পরিচ্ছন্নতা নিশ্চিত করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। মশার প্রজননস্থল ধ্বংসের জন্য নালা-নর্দমা, ড্রেন, নির্মাণাধীন ভবন, পরিত্যক্ত জায়গা এবং বিভিন্ন স্থানে জমে থাকা পানি নিয়মিত পরিষ্কার করা প্রয়োজন।
এই কর্মসূচির অংশ হিসেবে ক্রাশ প্রোগ্রাম শেষে পাথরঘাটা সিটি করপোরেশন বালক বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীদের মধ্যে ডেঙ্গুবিষয়ক সচেতনতামূলক কর্মসূচির আয়োজন করা হয়।
এসময় চসিকের প্রধান শিক্ষা কর্মকর্তা ড. কিসিঞ্জার চাকমা, প্রধান স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. মো. ইমাম হোসেন রানা, ম্যাজিস্ট্রেট ও আঞ্চলিক নির্বাহী কর্মকর্তারা, ম্যালেরিয়া ও মশক নিয়ন্ত্রণ কর্মকর্তা মো. শরফুল ইসলাম মাহি, গোলাম বাকি মাসুদসহ রেড ক্রিসেন্টের স্বেচ্ছাসেবক এবং নেদারল্যান্ডসভিত্তিক বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা এমএসএফের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
ঢাকা, ২০ আগস্ট, ২০২৬ : ক্যাশলেস বাংলাদেশ বাস্তবায়নের লক্ষ্যে দেশজুড়ে ডিজিটাল পেমেন্ট ব্যবস্থা সম্প্রসারণের জন্য রাজশাহীতে ‘বাংলা কিউআর’ বিষয়ক কর্মশালার আয়োজন করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। কর্মশালাটিতে স্থানীয় ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোক্তাদের হাতে-কলমে বাংলা কিউআর ব্যবহারের প্রশিক্ষণ প্রদান করা হয়।
বাংলাদেশ ব্যাংকের উদ্যোগে এবং ইন্টারন্যাশনাল ফাইন্যান্স কর্পোরেশনের (আইএফসি) সহযোগিতায় বৃহস্পতিবার বাংলাদেশ ব্যাংকের রাজশাহী অফিসের প্রশিক্ষণ কেন্দ্রে এই কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়। ব্র্যাক ব্যাংক এখানে লিড ব্যাংক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছে।
কর্মশালাটির উদ্দেশ্য হলো দেশজুড়ে ‘বাংলা কিউআর’-এর ব্যবহার বৃদ্ধি করা, যাতে একটি কিউআর কোড স্ক্যান করার মাধ্যমে যেকোনো ব্যাংক বা মোবাইল অ্যাপের মাধ্যমে সহজ, নিরাপদ ও আন্তঃপরিচালনযোগ্য (ইন্টারঅপারেবল) লেনদেন সম্পন্ন করা সম্ভব হয়। আয়োজকরা আশা করেন, এই উদ্যোগ ডিজিটাল পেমেন্ট ব্যবস্থা সম্প্রসারণের পাশাপাশি ক্ষুদ্র উদ্যোক্তাদের ক্যাশলেস লেনদেনে আরও উৎসাহিত করবে।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ ব্যাংকের রাজশাহী অফিসের নির্বাহী পরিচালক মুহম্মদ বদিউজ্জামান দিদার। বিশেষ অতিথি ছিলেন ব্র্যাক ব্যাংকের অতিরিক্ত ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও এসএমই ব্যাংকিং প্রধান সৈয়দ আব্দুল মোমেন। অনুষ্ঠানটি সভাপতিত্ব করেন বাংলাদেশ ব্যাংকের পেমেন্ট সিস্টেমস ডিপার্টমেন্ট-১-এর পরিচালক এ.এন.এম. মইনুল কবির।
এছাড়া, বাংলাদেশ ব্যাংকের রাজশাহী অফিসের পরিচালক মো. নাজিম উদ্দিন, অতিরিক্ত পরিচালক মো. পারওয়েজ আনজাম মুনির এবং মোহাম্মদ মঈন উদ্দিন, যুগ্ম পরিচালক জুয়েল মজুমদার এবং ব্র্যাক ব্যাংকের মার্চেন্ট অ্যাকোয়ারিং বিভাগের প্রধান খায়রুদ্দিন আহমেদসহ অন্যান্য ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, আইএফসির প্রতিনিধি ও স্থানীয় ব্যবসায়ীরা কর্মশালায় অংশগ্রহণ করেন।
কর্মশালায় বক্তারা বলেন, ‘বাংলা কিউআর’ ক্যাশলেস অর্থনীতির একটি গুরুত্বপূর্ণ উপাদান, যা গ্রাহক ও ব্যবসায়ীদের জন্য লেনদেনকে আরো সহজ, নিরাপদ ও নির্বিঘ্ন করে তুলবে। একই সঙ্গে এটি কাগজের টাকার ওপর নির্ভরতা কমিয়ে আধুনিক ব্যাংকিং সেবার আওতা সম্প্রসারণেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
বক্তারা ব্যবসায়ীদের দ্রুত বাংলা কিউআর প্রযুক্তি গ্রহণের আহ্বান জানান এবং স্বচ্ছ ও নিরাপদ লেনদেন নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে এই ব্যবস্থার গুরুত্ব তুলে ধরেন।
এই ডিজিটাল লেনদেন সম্প্রসারণের প্রক্রিয়ার ধারাবাহিকতায়, ব্র্যাক ব্যাংকের চলমান উদ্যোগগুলো লিড ব্যাংক হিসেবে এ কর্মশালায় দায়িত্ব পালন করার মাধ্যমে ক্যাশলেস অর্থনীতি বাস্তবায়নে ব্যাংকটির প্রতিশ্রুতির প্রতিফলন বলে সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়েছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ