বৃহস্পতিবার, ২০ই আগস্ট, ২০২৬ ইং
০৬:৫৪ পি.এম
চট্টগ্রাম, ২০ আগস্ট, ২০২৬ : ডেঙ্গু ও মশাবাহিত রোগ নিয়ন্ত্রণের লক্ষ্যে চট্টগ্রাম নগরীতে মাসব্যাপী একটি বিশেষ মশক নিধন ক্রাশ প্রোগ্রাম শুরু করেছে চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন (চসিক)। এর জন্য নগরীর আটটি এলাকায় মশক নিধন কার্যক্রম তদারকির জন্য চসিকের ১০ জন ম্যাজিস্ট্রেটকে বিভিন্ন অঞ্চলে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।
আগামী এক মাস ধরে ম্যাজিস্ট্রেটরা নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করবেন। তারা কোথাও ডেঙ্গুর লার্ভা দেখতে পেলেই সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন। প্রয়োজনে জরিমানা ও কারাদণ্ডও দেওয়া হবে।
বিশ্ব মশা দিবস উপলক্ষে আজ (বৃহস্পতিবার) সকালে নগরীর সেন্ট প্ল্যাসিডস স্কুলের সামনে থেকে এ উদ্যোগের উদ্বোধন করা হয়।
চসিক সূত্রে জানা গেছে, স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের দ্বারা চিহ্নিত নগরীর আটটি ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় বিশেষ গুরুত্বের সাথে এ কার্যক্রম পরিচালিত হবে। এসব এলাকায় অতিরিক্ত জনবল নিয়োগ করে মশার প্রজননস্থল চিনহিত এবং ধ্বংস করাসহ লার্ভা নিধন এবং প্রাপ্তবয়স্ক মশা নিয়ন্ত্রণে প্রয়োজনীয় ওষুধ প্রয়োগ করা হবে।
নগরীর ২, ৩, ১৭, ১৮, ১৯, ৩২, ৩৪ ও ৩৯ নম্বর ওয়ার্ডকে ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। এসব এলাকায় বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হবে কার্যক্রম পরিচালনার পাশাপাশি শতাধিক কর্মীকে মশক নিধন কার্যক্রমের জন্য বিশেষভাবে প্রশিক্ষণও দেওয়া হয়েছে।
চসিকের ভারপ্রাপ্ত প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ও সচিব আশরাফুল আমিন বলেন, ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণের জন্য বিটিআই ব্যবহার করছে চসিক গত পাঁচ-ছয় মাস ধরে। এর ফলস্বরূপ গত বছরের একই সময়ের তুলনায় ডেঙ্গু রোগীর সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে।
তিনি আরো জানান, গত বছর এই সময়ে সিটি করপোরেশন এলাকায় ডেঙ্গু রোগীর সংখ্যা ছিল ৮০০-এরও বেশি। চলতি বছরে তা কমে ৫৫০ থেকে ৫৮০ জনের মধ্যে রয়েছে। গত বছর একই সময়ে ডেঙ্গুতে আটজনের মৃত্যু ঘটেছিল, কিন্তু চলতি বছরে এখন পর্যন্ত সিটি করপোরেশন এলাকায় ডেঙ্গুতে কোনো মৃত্যুর ঘটনা ঘটেনি।
ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় অতিরিক্ত জনবল দিয়ে কাজ করার পাশাপাশি নগরীর অন্যান্য এলাকাতেও নিয়মিত মশক নিধন কার্যক্রম চলবে বলে তিনি জানান।
চসিকের প্রধান পরিচ্ছন্ন কর্মকর্তা ক্যাপ্টেন ইখতিয়ার উদ্দিন চৌধুরী বলেন, ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণের জন্য মশক নিধনের পাশাপাশি নগরীর পরিচ্ছন্নতা নিশ্চিত করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। মশার প্রজননস্থল ধ্বংসের জন্য নালা-নর্দমা, ড্রেন, নির্মাণাধীন ভবন, পরিত্যক্ত জায়গা এবং বিভিন্ন স্থানে জমে থাকা পানি নিয়মিত পরিষ্কার করা প্রয়োজন।
এই কর্মসূচির অংশ হিসেবে ক্রাশ প্রোগ্রাম শেষে পাথরঘাটা সিটি করপোরেশন বালক বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীদের মধ্যে ডেঙ্গুবিষয়ক সচেতনতামূলক কর্মসূচির আয়োজন করা হয়।
এসময় চসিকের প্রধান শিক্ষা কর্মকর্তা ড. কিসিঞ্জার চাকমা, প্রধান স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. মো. ইমাম হোসেন রানা, ম্যাজিস্ট্রেট ও আঞ্চলিক নির্বাহী কর্মকর্তারা, ম্যালেরিয়া ও মশক নিয়ন্ত্রণ কর্মকর্তা মো. শরফুল ইসলাম মাহি, গোলাম বাকি মাসুদসহ রেড ক্রিসেন্টের স্বেচ্ছাসেবক এবং নেদারল্যান্ডসভিত্তিক বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা এমএসএফের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
ঢাকা, ২০ আগস্ট, ২০২৬ : ক্যাশলেস বাংলাদেশ বাস্তবায়নের লক্ষ্যে দেশজুড়ে ডিজিটাল পেমেন্ট ব্যবস্থা সম্প্রসারণের জন্য রাজশাহীতে ‘বাংলা কিউআর’ বিষয়ক কর্মশালার আয়োজন করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। কর্মশালাটিতে স্থানীয় ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোক্তাদের হাতে-কলমে বাংলা কিউআর ব্যবহারের প্রশিক্ষণ প্রদান করা হয়।
বাংলাদেশ ব্যাংকের উদ্যোগে এবং ইন্টারন্যাশনাল ফাইন্যান্স কর্পোরেশনের (আইএফসি) সহযোগিতায় বৃহস্পতিবার বাংলাদেশ ব্যাংকের রাজশাহী অফিসের প্রশিক্ষণ কেন্দ্রে এই কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়। ব্র্যাক ব্যাংক এখানে লিড ব্যাংক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছে।
কর্মশালাটির উদ্দেশ্য হলো দেশজুড়ে ‘বাংলা কিউআর’-এর ব্যবহার বৃদ্ধি করা, যাতে একটি কিউআর কোড স্ক্যান করার মাধ্যমে যেকোনো ব্যাংক বা মোবাইল অ্যাপের মাধ্যমে সহজ, নিরাপদ ও আন্তঃপরিচালনযোগ্য (ইন্টারঅপারেবল) লেনদেন সম্পন্ন করা সম্ভব হয়। আয়োজকরা আশা করেন, এই উদ্যোগ ডিজিটাল পেমেন্ট ব্যবস্থা সম্প্রসারণের পাশাপাশি ক্ষুদ্র উদ্যোক্তাদের ক্যাশলেস লেনদেনে আরও উৎসাহিত করবে।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ ব্যাংকের রাজশাহী অফিসের নির্বাহী পরিচালক মুহম্মদ বদিউজ্জামান দিদার। বিশেষ অতিথি ছিলেন ব্র্যাক ব্যাংকের অতিরিক্ত ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও এসএমই ব্যাংকিং প্রধান সৈয়দ আব্দুল মোমেন। অনুষ্ঠানটি সভাপতিত্ব করেন বাংলাদেশ ব্যাংকের পেমেন্ট সিস্টেমস ডিপার্টমেন্ট-১-এর পরিচালক এ.এন.এম. মইনুল কবির।
এছাড়া, বাংলাদেশ ব্যাংকের রাজশাহী অফিসের পরিচালক মো. নাজিম উদ্দিন, অতিরিক্ত পরিচালক মো. পারওয়েজ আনজাম মুনির এবং মোহাম্মদ মঈন উদ্দিন, যুগ্ম পরিচালক জুয়েল মজুমদার এবং ব্র্যাক ব্যাংকের মার্চেন্ট অ্যাকোয়ারিং বিভাগের প্রধান খায়রুদ্দিন আহমেদসহ অন্যান্য ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, আইএফসির প্রতিনিধি ও স্থানীয় ব্যবসায়ীরা কর্মশালায় অংশগ্রহণ করেন।
কর্মশালায় বক্তারা বলেন, ‘বাংলা কিউআর’ ক্যাশলেস অর্থনীতির একটি গুরুত্বপূর্ণ উপাদান, যা গ্রাহক ও ব্যবসায়ীদের জন্য লেনদেনকে আরো সহজ, নিরাপদ ও নির্বিঘ্ন করে তুলবে। একই সঙ্গে এটি কাগজের টাকার ওপর নির্ভরতা কমিয়ে আধুনিক ব্যাংকিং সেবার আওতা সম্প্রসারণেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
বক্তারা ব্যবসায়ীদের দ্রুত বাংলা কিউআর প্রযুক্তি গ্রহণের আহ্বান জানান এবং স্বচ্ছ ও নিরাপদ লেনদেন নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে এই ব্যবস্থার গুরুত্ব তুলে ধরেন।
এই ডিজিটাল লেনদেন সম্প্রসারণের প্রক্রিয়ার ধারাবাহিকতায়, ব্র্যাক ব্যাংকের চলমান উদ্যোগগুলো লিড ব্যাংক হিসেবে এ কর্মশালায় দায়িত্ব পালন করার মাধ্যমে ক্যাশলেস অর্থনীতি বাস্তবায়নে ব্যাংকটির প্রতিশ্রুতির প্রতিফলন বলে সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়েছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে ২৫৫ ভোট পেয়ে দেশের ২৩তম রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হয়েছেন মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। অন্যদিকে, জামায়াতে ইসলামী নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় ঐক্যের প্রার্থী অলি আহমদ পেয়েছেন ৮৮ ভোট।
বৃহস্পতিবার (২০ আগস্ট) রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে দুপুর ২টা থেকে বিকাল ৫টা পর্যন্ত ভোটগ্রহণ শেষে এ ফল ঘোষণা করেন নির্বাচনি কর্তা এ এম এম নাসির উদ্দিন।
সিইসি বলেন, রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের মোট ভোটার ৩৪৯ জন। মুদ্রিত মোট ব্যালট পেপারের সংখ্যা ৩৪৯টি। এর মধ্যে ব্যবহৃত ব্যালট পেপারের সংখ্যা ৩৪৩টি। ৬টি অব্যবহৃত রয়েছে। ৩৪৩টি বৈধ ব্যালট পেপারের মধ্যে কিছু ভুলত্রুটি হওয়ায় বিধি অনুযায়ী আমরা ৪টি ব্যালট পেপার রিপ্লেস করেছি।
অসুস্থতার কারণে ভোট দিতে না আসার কথা জানিয়ে আগেই ভারপ্রাপ্ত স্পিকার কায়সার কামালের কাছে চিঠি দেন ঢাকা-৮ আসনের সংসদ সদস্য মির্জা আব্বাস ও চট্টগ্রাম-৩ আসনের সংসদ সদস্য মোস্তফা কামাল পাশা। এ ছাড়া স্বতন্ত্র প্রার্থী ব্রাক্ষণবাড়ীয়া-২ আসনের সংসদ সদস্য প্রার্থী রুমিন ফারহানাও ভোটাভুটিতে অনুপস্থিত ছিলেন।
এ এম এম নাসির উদ্দিন বলেন, বৈধ ব্যালট পেপারের মধ্যে ১১ দলীয় ঐক্য জোটের প্রার্থী অবসরপ্রাপ্ত কর্নেল অলি আহমদ পেয়েছেন ৮৮ ভোট। বিএনপি মনোনীত প্রার্থী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর ২৫৫ ভোট পেয়ে রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হয়েছেন।
আগামীকাল (শুক্রবার) সন্ধ্যা সাড়ে ৭টায় বঙ্গভবনে শপথ গ্রহন করবেন তিনি। নতুন রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরকে শপথ পড়াবেন জাতীয় সংসদের ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি কায়সার কামাল।
উল্লেখ্য, রাষ্ট্রপতির শপথ পরিচালনার সাংবিধানিক বিধান নিয়ে স্পষ্ট মতামত চেয়ে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ আইন মন্ত্রণালয়ে ফাইল পাঠায়। পর্যালোচনা শেষে মন্ত্রণালয় জানায়, বর্তমান স্পিকার ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালন করায় তার সাংবিধানিক দায়িত্বগুলো ডেপুটি স্পিকার পালন করছেন।
সংবিধানের ৭৪(৩) অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, স্পিকারের পদ শূন্য হলে কিংবা স্পিকার রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালন করলে ডেপুটি স্পিকার তার দায়বদ্ধতা পালন করেন। সেই হিসাবে নবনির্বাচিত রাষ্ট্রপতিকে শপথ পড়ানোর ক্ষেত্রেও ডেপুটি স্পিকারই যথাযথ কর্তৃপক্ষ বলে মত দিয়েছে আইন মন্ত্রণালয়।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
ফিলিস্তিনের অধিকৃত পশ্চিম তীরে ইসরাইলের বিতর্কিত ই-১ বসতি প্রকল্পের সম্প্রসারণ বন্ধের দাবি জুনথ করেছে যুক্তরাজ্য। যুক্তরাজ্যের মধ্যপ্রাচ্যবিষয়ক মন্ত্রী স্টিফেন ডাউটি ইসরাইলি সরকারের নতুন নির্মাণ দরপত্রের তীব্র নিন্দা জানিয়ে প্রকল্পটি বাতিল করার জন্য আহ্বান জানিয়েছেন।
ডাউটি বলেন, ই-১ প্রকল্পটি ‘দুই রাষ্ট্রভিত্তিক সমাধানকে দুর্বল করার লক্ষ্যে পরিকল্পিত ও ধ্বংসাত্মক পদক্ষেপ’। তিনি ইসরাইলি সরকারকে জরুরি ভিত্তিতে এই সিদ্ধান্ত প্রত্যাহারের আহ্বান জানান।
জেরুজালেমের কাছে প্রায় ১২ বর্গকিলোমিটার এলাকাজুড়ে ই-১ বসতি প্রকল্প নেয়া হয়েছে। যদি এই প্রকল্প বাস্তবায়িত হয়, তখন সেখানে কয়েক হাজার নতুন বসতি ইউনিট নির্মাণ করা হবে। এর ফলে অধিকৃত পশ্চিম তীর কার্যত দুই ভাগে বিভক্ত হয়ে পড়বে বলেও আশঙ্কা প্রকাশ করা হচ্ছে।
এর আগে যুক্তরাজ্যের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এড মিলিব্যান্ডও ওই প্রকল্পের কঠোর সমালোচনা করেন। তিনি ইসরাইলের পররাষ্ট্রমন্ত্রী গিদিয়ন সারের প্রতি প্রকল্পটি অবিলম্বে বন্ধ করার আহ্বান করেছেন। একই সঙ্গে পশ্চিম তীরে ইসরাইলের সব বসতিকে আন্তর্জাতিক আইনের ‘স্পষ্ট লঙ্ঘন’ হিসেবে উল্লেখ করেছেন তিনি।
যুক্তরাজ্য ইসরাইল সরকারের বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক প্রতিবাদ জানাতে দেশটির ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রদূতকে তলব করেছে। মিলিব্যান্ড জানিয়েছেন, অবৈধ বসতি সম্প্রসারণ ঠেকাতে আগামী কিছু সপ্তাহের মধ্যে নতুন পদক্ষেপ গ্রহণ করবে লন্ডন।
ইসরাইল সরকারের গত বছর অনুমোদিত ই-১ পরিকল্পনার আওতায় অধিকৃত পশ্চিম তীরে ফিলিস্তিনিদের প্রায় ১২ বর্গকিলোমিটার (৪.৬ বর্গমাইল) জমিতে ৩ হাজার ৪০০টির বেশি আবাসন ইউনিট নির্মাণের লক্ষ্যে কাজ করা হবে।
এই প্রকল্পের জন্য দরপত্র জমা দেওয়ার সময়সীমা ১৯ অক্টোবর শেষ হওয়ার কথা। বাংলাদেশে ২৭ অক্টোবর নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার প্রস্তুতি চলছে। নির্বাচনের আগেই দরপত্র প্রক্রিয়া শেষ হবে বলে আশা করা হচ্ছে। ওই নির্বাচনে প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু ও তার সরকারের প্রতি জনসমর্থন কমে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
অধিকৃত পশ্চিম তীরের হিজমা থেকে আল জাজিরার প্রতিবেদক নিদা ইব্রাহিম বলেন, ই-১ প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে ইসরাইল-ফিলিস্তিন সংঘাতের দুই রাষ্ট্রভিত্তিক সমাধানের ‘শেষ পেরেক’ হবে এটি।
তিনি বলেন, ‘ইসরাইলি সরকার এরই মধ্যে কয়েকবার ই-১ প্রকল্পের কাজ পিছিয়েছে। কিন্তু এখন আমরা এটি বাস্তবে মাটিতে কার্যকর হতে দেখছি।’ তিনি আরো বলেন, ‘ইসরাইলিদের চূড়ান্ত লক্ষ্য হলো ফিলিস্তিনিদের চলে যেতে বাধ্য করা।’
গত মঙ্গলবার, ইসরাইলের নির্মাণ ও আবাসন মন্ত্রণালয় ১ হাজার ২৩৪টি আবাসন ইউনিট নির্মাণের জন্য দরপত্র প্রক্রিয়া শুরুর অনুমোদন দিয়েছে। ইসরাইলি মানবাধিকার সংগঠন ইর আমিম এবং শান্তির পক্ষে কাজ করা সংগঠন পিস নাউ জানিয়েছে, ই-১ এলাকার জন্য অনুমোদিত দুটি নির্মাণ পরিকল্পনার মধ্যে একটি পরিকল্পনার আওতায় এই দরপত্র দেওয়া হয়েছে।
এক বিবৃতিতে ইর আমিম বলেছে, প্রকল্পটির আংশিক বাস্তবায়নও ‘মাটিতে অপরিবর্তনীয় বাস্তবতা তৈরি করবে’ এবং ওই এলাকার ভৌগোলিক ও কৌশলগত চরিত্রে মৌলিক পরিবর্তন আনবে। এর ফলে পশ্চিম তীরের উত্তরাঞ্চল থেকে দক্ষিণাঞ্চল বিচ্ছিন্ন হয়ে যাবে এবং পূর্ব জেরুজালেম বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়বে।
ইসরাইলের অর্থমন্ত্রী বেজালেল স্মোত্রিচকে উল্লেখ করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক বিবৃতিতে পিস নাউ অভিযোগ করেছে, এই বসতি প্রকল্পের মাধ্যমে ‘নেতানিয়াহু-স্মোত্রিচ সরকার’ দুই রাষ্ট্রভিত্তিক সমাধানকে ‘কবর দেওয়ার চেষ্টা করছে’।
পিস নাউ বলেছে, ‘নির্বাচনী প্রচারণার মাঝেই সরকার বসতি সম্প্রসারণপন্থী ডানপন্থীদের সংযুক্তিকরণের পরিকল্পনাকে বাস্তবে রূপ দেওয়ার চেষ্টা করছে এবং পরবর্তী সরকারের হাতও বেঁধে দিতে চাইছে। রাষ্ট্রের দেওয়া স্পষ্ট প্রতিশ্রুতি লঙ্ঘন করেও এই পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে।’
সংগঠনটি আরও বলেছে, ‘এর মূল্য শুধু কূটনৈতিক নয়। ই-১ প্রকল্প বাস্তবায়ন এবং ফিলিস্তিনিদের জন্য ওই এলাকা বন্ধ করে দেওয়া খান আল-আহমারসহ কয়েক ডজন বেদুইন সম্প্রদায়কে বিচ্ছিন্ন করার হুমকি তৈরি করবে এবং তাদের নিজ জমি থেকে উচ্ছেদ হতে বাধ্য করতে পারে।’
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
ঢাকা, ২০ আগস্ট, ২০২৬ : পেনাল্টি থেকে দুই গোল করে ৫৯ বছর বয়সী কাজুয়োশি মিউরা জাপানের সবচেয়ে পুরোনো কাপ প্রতিযোগিতার ইতিহাসে সবচেয়ে বেশি বয়সে গোল করা খেলোয়াড়ের নতুন রেকর্ড গড়েছেন।
‘কিং কাজু’ হিসেবে পরিচিত মিউরা বর্তমানে পেশাদার ফুটবলে তার ৪২তম মৌসুম খেলছেন। এমপেরর’স কাপে তৃতীয় বিভাগের দল ফুকুশিমা ইউনাইটেডের ৭-০ গোলের বড় জয়ে তিনি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছেন। এই প্রতিযোগিতার বয়স ১০৬ বছর। জুলাইয়ের শেষে প্রতিযোগিতার বাছাইপর্বেও তিনি গোল করেছিলেন।
২০০৫ সালের নভেম্বরে অস্ট্রেলিয়ার সিডনি এফসির হয়ে গোল করার পর এটি তার প্রথম কোনো ম্যাচে একাধিক গোল করার ঘটনা। ১৯৯০-এর দশকের শুরুতে পেশাদার জে-লিগ চালুর সময় থেকেই তিনি জাপানের প্রথম ফুটবল সুপারস্টার হিসেবে পরিচিত। মিউরা জানান, তিনি প্রায় প্রতিদিনই অনুশীলনের পরে পেনাল্টি অনুশীলন করেন।
বুধবারের এই কীর্তির পর সাংবাদিকদের সাথে কথা বলার সময় তিনি বলেন, “কখন আপনার পালা আসবে, তা তো কখনোই জানা যায় না। তাই আমি সব সময় এগুলোর অনুশীলন করি। আমি ভালো অনুভব করছি যে অনুশীলনের ফল পেয়েছি।”
তার দুটি গোল এমপেরর’স কাপের সবচেয়ে বেশি বয়সী গোলদাতার রেকর্ডটি ভেঙে দিয়েছে। এর আগে এই রেকর্ড ছিল ৪১ বছর বয়সী সাবেক জাপান জাতীয় দলের খেলোয়াড় শিনজি ওনোর।
ম্যাচে অধিনায়ক হিসেবে শুরু করেন মিউরা। ৫৮ মিনিট পর্যন্ত মাঠে ছিলেন তিনি। প্রথম গোলটি তিনি ১২ মিনিটে পেনাল্টি থেকে করেন। এরপর ৫৫ মিনিটে বক্সের মধ্যে ফাউলের শিকার হয়ে আবারও পেনাল্টি পান ফুকুশিমা, এবং সেখান থেকেও গোল করেন মিউরা।
তিনি বলেন, “প্রতিপক্ষ সমর্থকদের কেউ দুয়ো না দেওয়ায় পরিবেশটা ছিল অন্যরকম, এক ধরনের নীরবতা ছিল।” “আমি অনুভব করতে পারছিলাম, সবার চোখ আমার দিকে। এমন পরিস্থিতিতে দুটো পেনাল্টি কাজে লাগাতে পারাতে ভালো লাগছে।”
১৯৮৬ সালে ব্রাজিলের ক্লাব সান্তোসের হয়ে পেশাদার ফুটবলে মিউরার অভিষেক ঘটে। এরপর তিনি ইতালি, ক্রোয়েশিয়া, অস্ট্রেলিয়া এবং পর্তুগালেও খেলেছেন।
১৯৯০ সালে জাপান জাতীয় দলে অভিষেক হলেও ১৯৯৮ সালে জাপান প্রথমবার বিশ্বকাপের মূলপর্বে খেলার সুযোগ পাওয়ার সময় দলে জায়গা পাননি তিনি। জাতীয় দলের হয়ে ৮৯ ম্যাচে ৫৫ গোল করার পরও ওই দলে তাকে বাদ দেওয়া হয়েছিল। জানুয়ারিতে তিনি ফুকুশিমায় যোগ দেন। নতুন ক্লাবটি তার ওপর যে আস্থা রেখেছে, তা গোল ও অ্যাসিস্টের মাধ্যমে প্রতিদান দেওয়ার ইচ্ছা প্রকাশ করেছেন তিনি।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ