বৃহস্পতিবার, ২৫শে জুন, ২০২৬ ইং
০১:৩০ পি.এম
রাজধানীর ধানমন্ডি ৩২ নম্বরে পেশাগত দায়িত্ব পালনকালে ২৩ জুন এক সাংবাদিকের ওপর হামলার ঘটনাটি নিয়ে গভীর উদ্বেগ, ক্ষোভ ও তীব্র নিন্দা জানিয়েছে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় রিপোর্টার্স ইউনিটি এবং ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় সাংবাদিক সমিতি।
বুধবার (২৪ জুন) পৃথক বিবৃতিতে দুই সংগঠনের নেতারা এ ঘটনার সুষ্ঠু তদন্তের দাবি জানান এবং জড়িতদের দ্রুত বিচারের আওতায় আনার জন্য অনুরোধ করেন।
ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় রিপোর্টার্স ইউনিটির সভাপতি সাকিব আসলাম এবং সাধারণ সম্পাদক রবিউল আলম এক যৌথ বিবৃতিতে জানিয়েছেন, গণতান্ত্রিক সমাজে সাংবাদিকরা জনগণের তথ্য জানার অধিকার নিশ্চিত করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। সাংবাদিকদের ওপর হামলা করা মানে সত্য এবং বস্তুনিষ্ঠ তথ্যপ্রবাহের ওপর আঘাত করা। এ ধরনের ঘটনা স্বাধীন সাংবাদিকতার পরিপন্থী এবং এটি একটি ফৌজদারি অপরাধ।
অন্যদিকে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় সাংবাদিক সমিতির সভাপতি নিয়ামতুল্লাহ মুনিম এবং সাধারণ সম্পাদক জুয়েল রানা এক যৌথ বিবৃতিতে জানিয়েছেন, স্বাধীন গণমাধ্যমের কণ্ঠরোধ করতে এবং মুক্ত সাংবাদিকতার পথ বন্ধ করতেই এমন কাপুরুষোচিত হামলা চালানো হয়েছে। পেশাগত দায়িত্ব পালনরত সাংবাদিকদের ওপর এ ধরনের হামলা কোনভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।
তারা জানিয়েছেন, ধানমন্ডি ৩২ নম্বর এলাকায় জামায়াতে ইসলামী ঢাকা মহানগর দক্ষিণের ধানমন্ডি জোনের বিক্ষোভ মিছিলের সমাপ্তির পর ব্রিফিং চলাকালে কতিপয় নেতাকর্মী সাংবাদিকদের ওপর চড়াও হন। এই ঘটনায় দৈনিক সকালের প্রতিবেদক মাহফুজুর রহমান শিশির আহত হয়েছেন।
বিবৃতিতে নেতারা আরো বলেন, অতীতে সাংবাদিকদের ওপর হামলার সুষ্ঠু বিচার না হওয়ায় গণমাধ্যমকর্মীরা বারবার হামলার সম্মুখীন হচ্ছেন। এ ধরনের ঘটনার পুনরাবৃত্তি রোধে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করা জরুরি।
জানা গেছে, ২৩ জুন আওয়ামী লীগের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীকে কেন্দ্র করে ধানমন্ডি ৩২ নম্বর এলাকায় জামায়াতে ইসলামী ঢাকা মহানগর দক্ষিণের ধানমন্ডি জোনের বিক্ষোভ মিছিল শেষে এই হামলার ঘটনা ঘটে। আহত সাংবাদিক মাহফুজুর রহমান শিশির অভিযোগ করেছেন, জামায়াতের নেতা-কর্মীরাই তার ওপর হামলা চালিয়েছেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
চট্টগ্রামের সাতকানিয়ায় গ্রেপ্তারের একদিন পর যুবলীগ নেতা নুরুল আলমের মৃত্যুর ঘটনায় পুলিশ সুপার (এসপি) মাসুদসহ ৮ জনের বিরুদ্ধে আদালতে মামলা দায়ের করা হয়েছে। নিহতের মা নূর জাহান আদালতে এ মামলাটি করেন।
মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, গত ২২ জুন রাতে ৭ থেকে ৮ সদস্যের একটি পুলিশ দল নুরুল আলমকে গ্রেপ্তারের উদ্দেশ্যে তার বাড়িতে যায়। এ সময় নূর জাহান পুলিশ সদস্যদের কাছে তার ছেলের বিরুদ্ধে কোনো মামলা রয়েছে কি না জানতে চান।
এজাহারে অভিযোগ করা হয়, ওই সময় ওসি পরিচয়দানকারী নুরুল আলম ও জাহাঙ্গীর আলম নামের দুই পুলিশ সদস্য নুরুল আলমকে মারধর করেন। পাশাপাশি এসআই আনোয়ার ও কনস্টেবল ইমদাদের বিরুদ্ধেও শারীরিক নির্যাতনের অভিযোগ আনা হয়েছে।
নিহতের মায়ের দাবি, তিনি ছেলেকে না নেওয়ার জন্য আকুতি জানালেও পুলিশ সদস্যরা তা আমলে নেননি। একপর্যায়ে নুরুল আলমকে নিয়ে যাওয়া হয়। এ সময় পুলিশ সদস্যদের একজন এসপি মাসুদের নির্দেশের কথা উল্লেখ করেছেন বলেও এজাহারে দাবি করা হয়েছে।
মামলার অভিযোগে আরও বলা হয়, পরদিন আদালতে হাজির করার সময় নুরুল আলম তার মাকে জানান যে, গ্রেপ্তারের পর থেকে তিনি বুকে ব্যথা অনুভব করছেন এবং কয়েক দফা বমি করেছেন।
এজাহারে উল্লেখ করা হয়, পরে কারাগারে অসুস্থ হয়ে পড়লে নুরুল আলম রক্তবমি করেন। এ সময় কারা কর্তৃপক্ষের সঙ্গে তার কথোপকথনের একপর্যায়ে তাকে মারধর করা হয় বলেও অভিযোগ করা হয়েছে। পরবর্তীতে তার শারীরিক অবস্থার অবনতি ঘটে এবং একপর্যায়ে তার মৃত্যু হয়।
মামলায় অভিযুক্ত করা হয়েছে— এসপি মাসুদ, ইনস্পেক্টর নুরুল আলম, ইনস্পেক্টর জাহাঙ্গীর আলম, এসআই আনোয়ার, সাতকানিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি), কনস্টেবল ইমদাদ, জেলার রাকিব শেখ এবং জেল সুপার ইকবাল হোসেনকে।
এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও কারা কর্তৃপক্ষের বক্তব্য পাওয়া যায়নি। মামলাটি আদালতে প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
কুড়িগ্রাম জেলায় বিভিন্ন সীমান্তে অভিযান পরিচালনার মাধ্যমে গত ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে ৫৩ কেজি গাঁজা, ৫৫টি গরুসহ বিপুল পরিমাণ ভারতীয় প্রসাধনী জব্দ করেছে কুড়িগ্রাম ব্যাটালিয়ন (২২ বিজিবি)। জব্দ করা এই সকল মালামালের আর্থিক মূল্য প্রায় ২৬ লাখ ৬৫ হাজার টাকা বলে জানা গেছে।
বিজিবি জানায়, গত ৪৮ ঘণ্টার অভিযানের সময় ভূরুঙ্গামারী উপজেলার ধলডাঙ্গা সীমান্ত এলাকা থেকে ৫৩ কেজি গাঁজা ও বিভিন্ন সীমান্ত এলাকা থেকে গরুসহ বিপুল পরিমাণ প্রসাধনী সামগ্রী উদ্ধার করা হয়।
কুড়িগ্রাম ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক কর্নেল মোহাম্মদ মাহবুব-উল-হক সীমান্তে চোরাচালান ও পুশইন প্রতিরোধে বিজিবির কার্যক্রম অব্যাহত রেখেছে। এই লক্ষ্যে, সব বিওপি থেকে নিয়মিত টহলের সাথে সাথে বিশেষ টহল, নজরদারি ও গোয়েন্দা কার্যক্রমকে বহুগুণে জোরদার করা হয়েছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
দিনাজপুরের হিলিতে প্রথমবারের মতো বাড়ির আঙিনায় আঙুর চাষ করে পলাশ হোসেন নামের এক যুবক রীতিমতো তাক লাগিয়ে দিয়েছেন। তার এই সাফল্য স্থানীয়দের মাঝে ব্যাপক আগ্রহ সৃষ্টি করেছে।
দিনাজপুরের হিলির চন্ডিপুর গ্রামের যুবক পলাশ হোসেন ইউটিউব দেখে আঙুর চাষের প্রতি আগ্রহী হন। সে মোতাবেক নার্সারি থেকে দুটি চারা নিয়ে তিনি বাড়ির আঙিনায় রোপণ করেন। কিছুদিন পর থেকে গাছ বড় হতে শুরু করে। এরপর মাচা করে তিনি গাছগুলোকে দুই টিনের চালার মাঝে তুলে দেন। নয় মাস পর গাছে ফল ধরতে শুরু করে।
আঙুর চাষি পলাশ বলেন, গাছে বিপুল পরিমাণ আঙুর দেখে তিনিসহ পরিবারের সব সদস্য দারুণভাবে খুশি। যদিও প্রথমে অনেকেই তাকে তিরস্কার করেছিলেন এই গাছ লাগানোর জন্য। তিনি প্রথমবার ১৩ কেজি আঙুর পান, যা তিনি ২০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি করেছেন। এবারের গাছে বিপুল পরিমাণে আঙুর ধরেছে। আশা করা যায়, প্রায় ২০ কেজির মতো ফল পাওয়া যাবে।
তিনি আরও জানান, ভবিষ্যতে আরো বড় পরিসরে চাষের ইচ্ছা রয়েছে তার।
স্থানীয় কয়েকজন বাসিন্দা জানান, এতদিন বিদেশে আঙুর চাষের কথা শুনলেও, বাড়ির কাছে প্রথমবারের মতো আঙুর চাষ হতে দেখে তারা অনেকেই তার বাড়িতে যাচ্ছেন। গাছে থোকায় থোকায় আঙুর ঝুলতে দেখে তারা আগ্রহ নিয়ে পরামর্শ নিচ্ছেন চাষের বিষয়ে।
হাকিমপুর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আরজেনা বেগম জানান, বাংলাদেশের মাটিতে আঙুর চাষ সম্ভব, যা এই উদাহরণে প্রমাণিত হয়েছে। তবে বাড়ির আঙিনায় প্রথমবারের মতো আঙুর চাষ করেছেন পলাশ নামের এক যুবক।
তিনি জানালেন, আঙুর চাষে সব ধরনের সহযোগিতা করা হচ্ছে। রপ্তানিযোগ্য একটি ফল চাষে স্বাবলম্বী হতে পারলে আমদানি নির্ভরতা যেমন কমবে, তেমনি লাভবান হবে কৃষকরাও। সেই সঙ্গে এই ফল রপ্তানি করে বৈদেশিক মুদ্রা আয় করাও সম্ভব হবে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
আজ ২৫ জুন। বিশ্বজুড়ে পালিত হচ্ছে বিশ্ব নাবিক দিবস। সমুদ্রপথে আন্তর্জাতিক বাণিজ্য সচল রাখতে যেসব নাবিক দিন-রাত কাজ করে যাচ্ছেন, তাদের অবদান, ত্যাগ এবং সাহসিকতাকে সম্মান জানাতেই প্রতি বছর এই দিনটি পালন করা হয়।
জাতিসংঘের বিশেষায়িত সংস্থা আন্তর্জাতিক মেরিটাইম অর্গানাইজেশন (আইএমও) ২০১০ সালে এই দিবসের সূচনা করে। এরপর থেকে প্রতি বছরের ২৫ জুন বিশ্বব্যাপী দিবসটি পালিত হয়ে আসছে। নাবিকদের অবদানকে স্বীকৃতি দেওয়ার পাশাপাশি তাদের নিরাপত্তা, কল্যাণ এবং কর্মপরিবেশের বিষয়েও সচেতনতা তৈরির লক্ষ্য রয়েছে এই দিবসের।
এবারের বিশ্ব নাবিক দিবসের প্রতিপাদ্য নির্ধারণ করা হয়েছে— “বিশ্ব বাণিজ্য বহন করছি, ঝুঁকিও বহন করছি”। এই প্রতিপাদ্যের মাধ্যমে সমুদ্রে কর্মরত নাবিকদের কঠিন বাস্তবতা, ঝুঁকি এবং আত্মত্যাগের বিষয়টি তুলে ধরা হয়েছে। বিশেষ করে সংঘাতপূর্ণ ও ঝুঁকিপূর্ণ সমুদ্রপথে দায়িত্ব পালনারি নাবিকদের প্রতি শ্রদ্ধা জানানোই এবারের মূল লক্ষ্য।
বিশ্বের প্রায় ৯০ শতাংশ পণ্য সমুদ্রপথে পরিবহন করা হয়। খাদ্য, জ্বালানি, ওষুধ, শিল্পের কাঁচামাল থেকে শুরু করে দৈনন্দিন জীবনের প্রয়োজনীয় অসংখ্য পণ্য পৌঁছে যায় নাবিকদের নিরলস পরিশ্রমে। অথচ তাদের জীবন সবসময় নিরাপদ নয়। দীর্ঘ সময় পরিবার থেকে দূরে থাকা, বৈরী আবহাওয়া, জলদস্যুতা, যুদ্ধ ও ভূরাজনৈতিক সংকটের মতো নানা চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করেই তারা দায়িত্ব পালন করেন।
আইএমও জানিয়েছে, সাম্প্রতিক সময়ে হরমুজ প্রণালী, লোহিত সাগর, কৃষ্ণ সাগরসহ বিভিন্ন অঞ্চলে উত্তেজনা ও সংঘাতের কারণে নাবিকদের ঝুঁকি আরও বেড়েছে। অনেক নাবিককে অনিশ্চয়তা ও নিরাপত্তা শঙ্কার মধ্যেও বিশ্ব বাণিজ্যের চাকা সচল রাখতে কাজ করতে হচ্ছে।
আইএমওর মহাসচিব আর্সেনিও ডোমিঙ্গেজ নাবিকদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়ে বলেছেন, বিশ্ব অর্থনীতি ও মানুষের দৈনন্দিন জীবন সচল রাখতে তাদের অবদান অপরিসীম। তাদের নিরাপত্তা, সুরক্ষা ও কল্যাণকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়ার আহ্বানও জানিয়েছেন তিনি।
এদিকে জাতিসংঘের মহাসচিব এন্তোরিও গুতেরেস বলেছেন, দেশগুলোর মধ্যে সংঘাত দেখা দিলে অনেক সময় নাবিকরাই সবচেয়ে বেশি ঝুঁকির মুখে পড়েন। তাই তাদের কখনোই ভূরাজনৈতিক দ্বন্দ্বের শিকার হতে দেওয়া উচিত নয়।
বিশ্ব নাবিক দিবস শুধু একটি আনুষ্ঠানিক দিবস নয়; এটি সমুদ্রের বুকে নিরন্তর সংগ্রাম করে যাওয়া লাখো নাবিকের প্রতি সম্মান, কৃতজ্ঞতা এবং মানবিক দায়বদ্ধতার প্রতীক। বিশ্ব বাণিজ্যের এই নীরব যোদ্ধাদের অবদান স্মরণ করতেই আজকের এই বিশেষ দিন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ