রবিবার, ৬ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং
০৭:৩৪ পি.এম
সাতক্ষীরা, ৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬ : জেলায় আজ সাতক্ষীরা সদর ও কলারোয়া উপজেলার সীমান্তে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) -এর চোরাচালান বিরোধী বিশেষ অভিযানকালে ভারতীয় মোবাইল ফোনের যন্ত্রাংশ ও মাদক সহ বিভিন্ন মালামাল জব্দ করা হয়েছে।
জব্দকৃত এসব মালামালের সর্বমোট বাজার মূল্য আনুমানিক ১২ লাখ ৮৩ হাজার পাঁচশ টাকা বলে বিজিবি সূত্রে জানা গেছে।
আজ রোববার সাতক্ষীরা সদর ও কলারোয়া উপজেলার তলুইগাছা, কাঁকডাঙ্গা, মাদরা ও ঝাউডাঙ্গা বিওপির আওতাধীন বিভিন্ন সীমান্ত থেকে এসব মালামাল জব্দ করা হয়।
বিজিবি সূত্রে জানা যায়, গোপন তথ্যের ভিত্তিতে তলুইগাছা বিওপির বিশেষ আভিযানিক দল সাতক্ষীরা সদর উপজেলার নটিজংগল নামক স্থান হতে ভারতীয় মোবাইল ফোনের যন্ত্রাংশ, কাঁকডাঙ্গা বিওপির বিশেষ আভিযানিক দল কলারোয়া উপজেলার ভাদিয়ালি নামক স্থান হতে ভারতীয় মদ ও নেশাজাতীয় উইনকেরেক্স সিরাপ এবং মাদরা বিওপির বিশেষ আভিযানিক দল একই উপজেলার বড়ালি নামক স্থান হতে ভারতীয় মোবাইল ফোনের যন্ত্রাংশ জব্দ করে।
এছাড়া, ঝাঁউডাঙ্গা ক্যাম্পের বিশেষ আভিযানিক দল সাতক্ষীরা সদর উপজেলার কামার বাইশা নামক স্থান হতে ভারতীয় মোবাইল ফোনের যন্ত্রাংশ জব্দ করে। জব্দকৃত এসব মালামালের সর্বমোট বাজার মূল্য আনুমানিক ১২ লাখ ৮৩ হাজার পাঁচশ’ টাকা।
বিষয়টি নিশ্চিত করে বিজিবি’র সাতক্ষীরা ব্যাটেলিয়নের (৩৩ বিজিবি) অধিনায়ক লে. কর্ণেল কাজী আশিকুর রহমান জানান, জব্দকৃত ভারতীয় মালামাল কাস্টমসে জমা দেয়া হয়েছে। এছাড়া, জব্দকৃত মাদকদ্রব্য সাতক্ষীরা মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরে সাধারণ ডায়েরী করে পরবর্তীতে জনসম্মুখে ধ্বংসের নিমিত্তে বিজিবি ষ্টোরে জমা রাখা হয়েছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
বিমানমন্ত্রীর নির্দেশে শাহজালালে ব্যাগেজ হ্যান্ডলিংয়ে সময় কমানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের যাত্রীদের ভোগান্তি কমানোর লক্ষ্যে, বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটনমন্ত্রী এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত ব্যাগেজ সরবরাহের সময় কমানোর পাশাপাশি পুরো প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা নিশ্চিত করার নির্দেশনা প্রদান করেছেন।
রবিবার (৬ সেপ্টেম্বর) সকালে বিমানবন্দরে আকস্মিক পরিদর্শনের সময়, মন্ত্রী ব্যাগেজ হ্যান্ডলিং কার্যক্রমের সরেজমিন তদারকি করেন।
দুপুর ১টায় বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের জেদ্দা–চট্টগ্রাম–ঢাকা রুটের একটি ফ্লাইট অবতরণের সময়, তিনি উড়োজাহাজের কার্গো হোল্ড খোলার প্রক্রিয়া থেকে শুরু করে যাত্রীদের কাছে ব্যাগেজ পৌঁছানোর পুরো প্রক্রিয়াটি পর্যবেক্ষণ করেন।
মন্ত্রী পরিদর্শনের সময় উপস্থিত কর্মকর্তাদের উদ্দেশ্যে বলেন, বিমানবন্দরে আগত যাত্রীদের দ্রুত ব্যাগেজ বুঝিয়ে দেওয়া অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। উড়োজাহাজ অবতরণের পর যাত্রীরা গেট দিয়ে বের হওয়ার সময় এবং কার্গো হোল্ড খোলার সময়ের মধ্যে কার্যকর সমন্বয় নিশ্চিত করতে তিনি নির্দেশ দেন। একই সঙ্গে, যেকোনো ফ্লাইট অবতরণের পূর্বে গ্রাউন্ড হ্যান্ডলিং কর্মীদের সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনার মাধ্যমে সময়মতো উপস্থিতি নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
মন্ত্রী ব্যাগেজ হ্যান্ডলিং কার্যক্রমে স্বচ্ছতা বজায় রাখার জন্য এবং যাত্রীদের তাৎক্ষণিক হালনাগাদ তথ্য জানাতে বিমানবন্দরে লাইভ মনিটরিং স্ক্রিন স্থাপনের নির্দেশনা দেন। ব্যাগেজ বেল্টের পাশাপাশি, তিনি বিমানবন্দরের বিভিন্ন ওয়াশরুম পরিদর্শন করেন এবং সেগুলোর সার্বিক পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্টদের তাগিদ দেন।
পরিদর্শনের সময় বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের ব্যবস্থাপনা পরিচালক কাইজার সোহেল আহমেদ, বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের (বেবিচক) চেয়ারম্যান এয়ার ভাইস মার্শাল মোস্তফা মাহমুদ সিদ্দিকসহ বিমান ও বেবিচকের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের মতে, দেশের বিমানবন্দরগুলোতে যাত্রীসেবার মান বাড়ানোর এবং সার্বিক হয়রানি কমানোর জন্য সরকার জিরো টলারেন্স নীতি অনুসরণ করছে।
এই উদ্যোগের অংশ হিসেবে ব্যাগেজ হ্যান্ডলিং কার্যক্রমের সরাসরি তদারকি ও স্বচ্ছতা নিশ্চিত করার উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে। এসব নির্দেশনা বাস্তবায়িত হলে যাত্রীদের ব্যাগেজ পাওয়ার অপেক্ষার সময় ও ভোগান্তি অনেকটাই কমে আসবে বলে আশা প্রকাশ করেছেন তারা।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
ইন্দোনেশিয়ার আনাক ক্রাকাতাউ আগ্নেয়গিরির উদ্গিরণের কারণে আটটি বিমানবন্দরের কার্যক্রম স্থগিত রাখা হয়েছে। এর ফলে অভ্যন্তরীণ ও আন্তর্জাতিক উভয় ধরনের ফ্লাইট বাতিল হওয়ায় দেড় লাখেরও বেশি যাত্রী আটকা পড়েছেন। রবিবার (৬ সেপ্টেম্বর) সকালে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে প্রথমে রাজধানী জাকার্তার সুকর্ণ-হাট্টা আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরটি বন্ধ করে দেওয়া হয়।
পরিবহনমন্ত্রী ডুডি পুরওয়াগান্ধি জানিয়েছেন, আগ্নেয়গিরির উদ্গিরণের কারণে এখন পর্যন্ত ৭১২টি ফ্লাইট বাতিল করা হয়েছে। তিনি বিমান সংস্থাগুলোকে কিছু ফ্লাইট অন্য বিমানবন্দরে সরিয়ে নেওয়ার বিষয়টি বিবেচনা করার জন্য আহ্বান জানিয়েছেন।
স্থানীয় সময় শুক্রবার (৪ সেপ্টেম্বর) গভীর রাতে আগ্নেয়গিরিটিতে অগ্নুৎপাত শুরু হয়, যার ফলে অবিরাম ভূ-কম্পন ও লাভা উদগিরণ হতে থাকে। আশেপাশের এলাকায় তীব্র গর্জন শোনা যায়। কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, আজ ভোরে আরও দুবার অগ্নুৎপাতের ঘটনা ঘটেছে।
পরিবহন মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, কার্যক্রম সাময়িক স্থগিত রাখার ফলে মূলত সিঙ্গাপুরগামী ও সিঙ্গাপুর থেকে আগত ফ্লাইটগুলো এবং দোহা, সিডনি ও কুয়ালালামপুরের মতো অন্যান্য আন্তর্জাতিক রুটের ফ্লাইটগুলো প্রভাবিত হয়েছে। পুরওয়াগান্ধি জানান, আগ্নেয়গিরির ছাই পশ্চিম জাভার দিকে ছড়িয়ে পড়ার বিষয়টি পরীক্ষার মাধ্যমে নিশ্চিত হওয়ার পরই আরও কিছু বিমানবন্দর সাময়িকভাবে বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
তিনি বিমান সংস্থাগুলোর প্রতি আহ্বান জানান যেন ফ্লাইট বাতিলের কারণে ক্ষতিগ্রস্ত যাত্রীদের টিকিটের অর্থ ফেরত দেওয়ার প্রক্রিয়া দ্রুত করা হয়। এছাড়া বিমানবন্দরে ভিড় এড়াতে যাদের ফ্লাইট রয়েছে তাদের যেন সময়মতো প্রয়োজনীয় তথ্য প্রদান করা হয়।
ইন্দোনেশিয়ার আবহাওয়া সংস্থা বিএমকেজি-র তথ্য অনুযায়ী, আগ্নেয়গিরিটির পূর্ব দিকে জাভা দ্বীপের ওপর ছাই ২০ হাজার ফুট উচ্চতা পর্যন্ত এবং পশ্চিম দিকে সুমাত্রা দ্বীপের ওপর ৫০ হাজার ফুট উচ্চতা পর্যন্ত ছড়িয়ে পড়েছে। জাভা ও সুমাত্রা দ্বীপের মধ্যবর্তী সুন্দা প্রণালীতে অবস্থিত এই আগ্নেয়গিরির সাম্প্রতিক কার্যকলাপের সাথে সুনামির কোনো ঝুঁকির সম্পর্ক নেই বলে কর্তৃপক্ষ নিশ্চিত করেছে।
স্বাস্থ্যমন্ত্রী ক্ষতিগ্রস্ত এলাকার বাসিন্দাদের ঘরের ভেতরে থাকার এবং শ্বাস-প্রশ্বাস, চোখ ও ত্বকের স্বাস্থ্যঝুঁকি এড়াতে মুখে মাস্ক পরার আহ্বান জানিয়েছেন। স্থানীয় সংবাদপত্র ‘কমপাস’-এর তথ্যমতে, ছাইয়ের কারণে চোখ জ্বালাপোড়ার অভিযোগ ওঠায় শনিবার বেশ কয়েকটি স্কুল তাদের কার্যক্রম বাতিল করে। একইভাবে চোখ ব্যথার কারণে অনেক জেলে সমুদ্রে মাছ ধরতে যায়নি।
‘আনাক ক্রাকাতাও’ এর অর্থ ‘ক্রাকাতাও-এর সন্তান’। বিংশ শতাব্দীর শুরুর দিকে সমুদ্র থেকে জেগে ওঠার পর থেকেই মাঝেমধ্যে সক্রিয় হয়ে উঠছে। ১৮৮৩ সালে মাউন্ট ক্রাকাতাও-এর অগ্নুৎপাতের ফলে সৃষ্ট বিশাল গহ্বর বা ক্যালডেরার মধ্যেই এর উৎপত্তি হয়েছিল।
‘আনাক ক্রাকাতাও’ নামে পরিচিত এই আগ্নেয়গিরিটি ২০১৮ সালের ডিসেম্বরে ধসে পড়েছিল। এর ফলে সৃষ্ট বিশাল সুনামিতে ৪০০-এর বেশি মানুষ প্রাণ হারান এবং সুমাত্রা ও জাভার উপকূলীয় এলাকায় হাজার হাজার মানুষ বাস্তুচ্যুত ও আহত হন।
বিজ্ঞানীরা দেখেছেন, ধসে পড়ার সময় আগ্নেয়গিরি থেকে খসে পড়া পাথরের কিছু খণ্ড প্রায় ৭০ থেকে ৯০ মিটার উঁচু ছিল। ‘প্যাসিফিক রিং অফ ফায়ার’ বলতে প্রশান্ত মহাসাগরকে ঘিরে থাকা আগ্নেয়গিরি, ভূমিকম্পপ্রবণ এলাকা এবং টেকটোনিক প্লেটগুলোর একটি বলয়কে বোঝায়। এটি দক্ষিণ আমেরিকার দক্ষিণ প্রান্ত থেকে শুরু করে নিউজিল্যান্ড পর্যন্ত প্রায় ৪০,০০০ কিলোমিটার এলাকাজুড়ে বিস্তৃত।
বিশ্বের মোট ভূমিকম্পের প্রায় ৯০ শতাংশই এই অঞ্চলে সংঘটিত হয় এবং পৃথিবীর মোট সক্রিয় আগ্নেয়গিরির ৭৫ শতাংশ অর্থাৎ ৪৫২টি সক্রিয় আগ্নেয়গিরি এই বলয়টিতেই অবস্থিত।
সূত্র: বিবিসি, রয়টার্স।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
জাতীয় ভোক্তা-অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর পাবনার সাঁথিয়া উপজেলায় অভিযান পরিচালনা করে আড়াই হাজার লিটার ভেজাল দুধ জব্দ ও বিনষ্ট করেছে। এ সময় জুই ডেইরি ফার্ম নামে একটি প্রতিষ্ঠানকে ২ লাখ টাকা জরিমানা করা হয় এবং সাময়িকভাবে সিলগালা করে দেওয়া হয়।
রবিবার (৬ সেপ্টেম্বর) ভোর আনুমানিক ৭টার দিকে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে সাঁথিয়া উপজেলার নাগডেমড়া এলাকায় অবস্থিত ওই ডেইরি ফার্মে অভিযানটি পরিচালিত হয়।
অভিযানের নেতৃত্ব দেন জাতীয় ভোক্তা-অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর পাবনা জেলা কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক মো: মাহমুদ হাসান রনি। তিনি জানান, জুই ডেইরি ফার্মে দুধের পরিমাণ ও ঘনত্ব কৃত্রিমভাবে বৃদ্ধি করার জন্য জেলিজাতীয় পদার্থ এবং দীর্ঘ সময় তা সতেজ রাখার উদ্দেশ্যে হাইড্রোজেন পার-অক্সাইড মেশানো হচ্ছিল। অভিযানে দুই ব্যারেল ক্ষতিকর জেলিজাতীয় পদার্থ এবং প্রায় ২,৫০০ লিটার ভেজাল দুধ জব্দ করে স্পটেই বিনষ্ট করা হয়।
ভোক্তা-অধিকার সংরক্ষণ আইন, ২০০৯-এর ৪২, ৪৩ ও ৪৫ ধারা অনুযায়ী অপরাধ স্বীকার করায় প্রতিষ্ঠানের মালিক মো: মানিককে ২ লাখ টাকা জরিমানা করা হয় এবং কর্তৃপক্ষের দ্বারা প্রতিষ্ঠানটি সিলগালা করে দেওয়া হয়। অভিযান পরিচালনাকালে জেলা স্যানিটারি ইন্সপেক্টর জনাব মোঃ মাহমুদ আলম এবং আনসার ব্যাটালিয়নের একটি দল সার্বিক সহযোগিতা প্রদান করে।
ভোক্তা-অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর জানায়, নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিত করতে ভেজাল ও নকল খাদ্যের বিরুদ্ধে এই ধরনের অভিযান ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে। একই সাথে যেকোনো ভেজাল পণ্যের সন্ধান পেলে জাতীয় হটলাইন নম্বরে জানানোর জন্য সাধারণ ভোক্তাদের আহ্বান জানানো হয়েছে। জেলিজাতীয় পদার্থ ও হাইড্রোজেন পার-অক্সাইড মিশ্রিত দুধ গ্রহণ বিশেষ করে শিশুদের জন্য মারাত্মক স্বাস্থ্যঝুঁকিপূর্ণ। এর ফলে পাকস্থলী ও অন্ত্রের প্রদাহ, লিভার ও কিডনির ক্ষতি এবং পুষ্টিহীনতার মতো গুরুতর সমস্যা দেখা দিতে পারে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
ঢাকা, ৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ : ডেঙ্গু পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে সবাইকে নিজ নিজ কর্মস্থল ও বাসাবাড়ি পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখার পাশাপাশি দেশজুড়ে সামাজিক আন্দোলন গড়ে তোলার আহ্বান জানিয়েছেন স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী ড. এম এ মুহিত।
তিনি বলেন, চলতি সেপ্টেম্বর মাসের শেষ সপ্তাহ অথবা অক্টোবর মাসের প্রথম সপ্তাহে দেশে ডেঙ্গু সংক্রমণের হার সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছাতে পারে। তাই পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে এখন থেকেই সবাইকে নিজ নিজ কর্মস্থল, বাসাবাড়ি পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখাতে হবে।
আজ (রোববার) বিকেলে জাতীয় সংসদের জেনারেল ওসমানী গেটে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী এ আহ্বান জানান।
স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী ড. মুহিত বলেন, বিগত তিন-চার বছরের তথ্য-উপাত্ত এবং এপিডেমিওলজিক্যাল বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে যে, বৃষ্টির ধরন, উষ্ণ তাপমাত্রা ও সার্বিক জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে সেপ্টেম্বরের শেষ ও অক্টোবরের প্রথম সপ্তাহেই সাধারণত ডেঙ্গুর পিক টাইম আসে। তাই এখনই প্রতিরোধ জোরদার না করলে আগামী মাসে আক্রান্ত ও মৃত্যুর সংখ্যা বেড়ে যেতে পারে।
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনগুলোকে যুক্ত করার ঘোষণা দিয়ে তিনি বলেন, সরকারি কর্মীদের পাশাপাশি রেড ক্রিসেন্ট, স্কাউটস, গার্লস গাইডসহ বিভিন্ন সামাজিক-সাংস্কৃতিক সংগঠনকে সম্পৃক্ত করে দু-এক দিনের মধ্যেই ডেঙ্গু প্রতিরোধে সমন্বিত সামাজিক আন্দোলন শুরু করা হবে। বিশেষ করে ঢাকা শহরের অ্যাপার্টমেন্টগুলোতে কর্মীদের প্রবেশে সীমাবদ্ধতা থাকায় অ্যাপার্টমেন্ট অ্যাসোসিয়েশন ও নাগরিকদের ব্যক্তিগতভাবে সচেতন হতে হবে।
পুলিশিং বা শাস্তির চেয়ে নাগরিকদের উদ্বুদ্ধকরণে জোর দিয়ে স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী বলেন, ডেঙ্গুর মতো সংক্রামক ব্যাধি শুধু নজরদারি করে নির্মূল করা যায় না। এর সংক্রমণ থেকে বাঁচতে প্রতিটি নাগরিককে নিজ থেকেই স্বাস্থ্যকর্মী হয়ে উঠতে হবে।
হাসপাতালগুলোর প্রস্তুতি তুলে ধরে স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী ড. এম এ মুহিত জানান, হাসপাতালে ডেঙ্গুর চিকিৎসার চেয়ে প্রতিরোধেই বেশি গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। তবে রোগী বাড়লেও যাতে সংকট না হয়, সেজন্য বিশেষ প্রস্তুতি রয়েছে।
বর্তমানে কোনো শয্যাসংকট নেই উল্লেখ করে তিনি বলেন, সম্ভাব্য চাপ সামলাতে সোমবার সব সিভিল সার্জনের সঙ্গে জুম বৈঠক করে অতিরিক্ত বেড প্রস্তুত রাখা, পর্যাপ্ত স্যালাইন এবং টেস্ট কিটের মজুত নিশ্চিত করার নির্দেশ দেওয়া হবে।
স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী জানান, মৃত্যুর হার কমিয়ে আনতে সোসাইটি অব মেডিসিনের সহযোগিতায় ইতোমধ্যে প্রায় ৩০০ চিকিৎসককে ডেঙ্গুর স্ট্যান্ডার্ড ম্যানেজমেন্টের ওপর রিফ্রেশার প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে। এছাড়া হাসপাতালগুলোর ভেতরে যেন ডেঙ্গু না ছড়ায়, সেজন্য পর্যাপ্ত মশারি বিতরণ এবং আশপাশের ঘনবসতিপূর্ণ এলাকায় বিশেষ নজরদারির ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।
গত কয়েক বছরের মৃত্যুর পরিসংখ্যান উল্লেখ করে প্রতিমন্ত্রী বলেন, প্রতিটি মৃত্যুই অত্যন্ত স্পর্শকাতর, এ বিবেচনায় নিয়ে সরকার এবার এক মাস আগে থেকেই সমন্বিত পদক্ষেপ জোরদার করছে।
মশক নিধন প্রসঙ্গে তিনি জানান, স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয় ও সিটি করপোরেশনগুলোর সঙ্গে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় দুই মাস আগে থেকেই সমন্বিতভাবে কাজ করছে এবং সেপ্টেম্বর-অক্টোবরের সম্ভাব্য ঝুঁকি মোকাবিলায় মশক নিধন কার্যক্রম আরও জোরদার করা হবে।
এ সময়ে তিনি আতঙ্কিত না হয়ে রোগ প্রতিরোধে সতর্ক থাকার পরামর্শ প্রচার করতে গণমাধ্যমের সক্রিয় সহযোগিতাও কামনা করেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ