ঢাকা বুধবার, ২৮শে অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ১২ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ১৭ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
বুধবার, ২৮শে অক্টোবর, ২০২৬ইং ১২ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

লগি-বৈঠার তাণ্ডব ও হত্যাকাণ্ডের প্রতিবাদে চরফ্যাশনে জামায়াতে ইসলামীর বিক্ষোভ মিছিল


লগি-বৈঠার তাণ্ডব ও হত্যাকাণ্ডের প্রতিবাদে চরফ্যাশনে জামায়াতে ইসলামীর বিক্ষোভ মিছিল

২০০৬ সালের ২৮ অক্টোবর সংঘটিত হত্যাকাণ্ডে জড়িতদের অবিলম্বে বিচারের আওতায় আনার দাবিতে বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ করেছে বাংলাদেশ জামায়াতে চরফ্যাশন উপজেলা শাখা।

বুধবার (২৮ অক্টোবর) বিকেল ৪টায় চরফ্যাশন কেন্দ্রীয় খাসমহল মসজিদের সামনে থেকে শুরু হয়ে শহরের গুরুত্বপূর্ণ সড়ক প্রদক্ষিণ করে অফিসের সামনে সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয় ।

সমাবেশে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর ভোলা জেলা শাখার সেক্রেটারী কাজী মাও: হারুন অর রশিদ । এতে সভাপতিত্ব করেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী চরফ্যাশন উপজেলা শাখার আমীর অধ্যক্ষ মীর শরীফ হোসেন ।

আরও পড়ুন: নওগাঁয়ে ঘরে মাটির নিচে ২৪৫ কেজির কষ্টিপাথরের শিবলিঙ্গ উদ্ধার, আটক ১

প্রধান অতিথির বক্তব্যে কাজী মাও: হারুন অর রশিদ বলেন, ২০০৬ সালের ২৮ অক্টোবর তৎকালীন আওয়ামী লীগ সরকারের প্রধান শেখ হাসিনার নির্দেশে সন্ত্রাসী বাহিনী লগি বৈঠা নিয়ে জামায়াত-শিবিরের নেতাকর্মীদের ওপর হামলা চালায়। ওই ঘটনায় তাঁদের ছয়জন নেতাকর্মী নিহত হন এবং তাতেই ক্ষান্ত হয়নি তারা বরং হামলাকারীরা লাশের ওপর নৃত্য করে গোটা বাংলাদেশকে দুনিয়ার সামনে কলঙ্কিত করেছে। বাংলাদেশের ইতিহাসকে কলঙ্কিত করেছে। তারা যে খুনি ও মানবতা বিরোধী অপরাধী তারা আঠাশেই অক্টোবরেই প্রমাণ করেছে।

তিনি বলেন, সেদিন তাদের পরিকল্পনা ছিলো জামায়াতের অফিসে হামলা করে জামায়াতের মিটিং বানচাল করার। তবে জামায়াতের তৎকালীন আমীর মাওলানা মতিউর রহমান নিজামীর নেতৃত্বে মিটিং সম্পন্ন হয়। নেতাকর্মীরা সেদিন পল্টন এলাকায় মানবপ্রাচীর গড়ে তুলেছিলো, এবং প্রতিহত করা হয়। তাই তাদের পরিকল্পনা সফল হয়নি৷ তারা রাস্তায় রাস্তায় যাকে পেয়েছে তাদের উপরে হামলা করেছে।

কাজী মাও: হারুন অর রশিদ অভিযোগ করেন, শেখ হাসিনা ক্ষমতায় এসে ওই মামলার কার্যক্রম বন্ধ করার পাশাপাশি মামলা সংক্রান্ত নথিপত্র গায়েব করে দেন। তিনি শেখ হাসিনাসহ এই মামলার চার্জশিট সব আসামির বিচার বিশেষ ট্রাইব্যুনালে নিশ্চিত করার দাবি জানান।

তিনি আরও বলেন, জুলাই সনদ বাস্তবায়ন করতে হবে এবং গণভোটে জনগণের দেওয়া রায় কার্যকর করতে হবে। বাতিল করা অধ্যাদেশগুলো পুনরায় পাস করারও দাবি জানান তিনি।

আরও পড়ুন: দিনাজপুর বোর্ডের ১ কোটি ২৬ লাখ টাকার দুর্নীতির তদন্তের নির্দেশ

সভাপতির বক্তব্যে অধ্যক্ষ মীর শরীফ হোসেন বলেন, ২০০৬ সালের ২৮ অক্টোবরের হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িতদের বিচারের আওতায় এনে শেখ হাসিনাকে দেশে ফিরিয়ে এনে তাঁর মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করতে হবে।

২৮ অক্টোবর বাংলাদেশকে ব্যর্থ রাষ্ট্রে পরিণত করার চেষ্টা করা হয়েছিল বলেও তিনি অভিযোগ করেন। সেদিন জামায়াত ও শিবিরের নেতাকর্মীরা বুক চিতিয়ে দিয়ে দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষা করেছিলো। তারই ধারাবাহিকতায় দীর্ঘ পথ পরিক্রমায় চব্বিশের পাঁচ আগষ্ট স্বৈরাচার হাসিনাকে দেশ থেকে পালাতে হয়েছিলো।

তিনি বলেন, এই দেশে আর বিভাজন খুন, হত্যা ও চাঁদাবাজের রাজনীতি আর চলবে না। জামায়াত যতদিন আছে জনগনকে সাথে নিয়ে এসব অন্যায়, অপকর্মের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তুলবে৷

অধ্যক্ষ মীর শরীফ হোসেন আরো বলেন, বর্তমান সরকারের কাছে আমরা দাবি করছি, দ্রুত সময়ের মধ্যে সংশ্লিষ্ট হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িতদের বিশেষ ট্রাইব্যুনালের মাধ্যমে বিচারের ব্যবস্থা করতে হবে। ২৮শে অক্টোবরে খুনের সাথে জড়িতদের বিচার করতে হবে।

আরও পড়ুন: দুমকীতে যুবদলের ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর আনন্দ র‍্যালিতে মোঃ কামরুল ইসলাম মুন্না

সমাবেশ থেকে বক্তারা ২০০৬ সালের ২৮ অক্টোবরের হত্যাকাণ্ডের বিচার, সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ এবং বিশেষ ট্রাইব্যুনালের মাধ্যমে বিচারপ্রক্রিয়া সম্পন্ন করার দাবি জানান।

সংগঠনের সেক্রেটারি মাও: আবুল কাশেমের সঞ্চালনায় এতে বক্তব্য রাখেন উপজেলা জামায়াতের সহকারি সেক্রেটারি অ্যাডভোকেট এনামুল হক রায়হান, উপজেলা যুব বিভাগের সভাপতি মাও: জহির উদ্দিন, ছাত্রশিবির পৌর সভাপতি মুজাহিদুল ইসলাম আরো উপস্থিত ছিলেন অফিস সম্পাদক অধ্যাপক রেজাউল হাসান ইমরান, অ্যাডভোকেট আবু জাফর প্রমুখ।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

ঢাকাকে টোকিওর মতো পরিচ্ছন্ন শহরে রূপান্তর করতে চাই : প্রধানমন্ত্রী

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

বুধবার, ২৮শে অক্টোবর, ২০২৬ ইং

১০:১৬ পি.এম


ঢাকাকে টোকিওর মতো পরিচ্ছন্ন শহরে রূপান্তর করতে চাই : প্রধানমন্ত্রী

টোকিও, ২৮ অক্টোবর, ২০২৬ : প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান জানিয়েছেন, সরকার ঢাকাসহ দেশের প্রতিটি অঞ্চলে পরিচ্ছন্নতা, দূষণমুক্ত পরিবেশ ও স্বাস্থ্যকর জীবনযাত্রা নিশ্চিত করতে কাজ করছে।

তিনি উল্লেখ করেন, সরকারের লক্ষ্য হচ্ছে ঢাকা শহরকে টোকিওর মতো পরিচ্ছন্ন করে গড়ে তোলা।

বুধবার সন্ধ্যায় টোকিওর হোটেল নিউ ওতানিতে বাংলাদেশ কমিউনিটির উদ্যোগে আয়োজিত মতবিনিময় অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী এসব কথা বলেন। এ সময় তিনি প্রবাসীদের বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তর প্রদান করেন।

তারেক রহমান বলেন, টোকিওর রাস্তাঘাটে কোনো ময়লা-আবর্জনা দেখা যায় না, কিন্তু ঢাকায় চারদিকে আবর্জনা জমে থাকে, যা পরিবর্তন করা অত্যাবশ্যক। আবর্জনা থেকে জীবাণু ছড়ায়, তাই ঢাকাবাসিকে সুস্থ রাখতে পরিবেশ পরিচ্ছন্ন রাখতে হবে এবং যথাযথভাবে বর্জ্য অপসারণ নিশ্চিত করতে হবে।

তিনি আরও বলেন, ‘ঢাকাসহ সারা দেশকে পরিচ্ছন্ন করার চেষ্টা করছি। বায়ুদূষণ কমানো, পরিবেশের উন্নয়ন এবং বিভিন্ন স্থানে গাছ লাগানোর উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।’

প্রধানমন্ত্রী বলেন, সাধারণ মানুষের জীবনমান উন্নয়নে পরিচ্ছন্ন পরিবেশ নিশ্চিত করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। আবর্জনার কারণে রাস্তায় চলাচলে যাতে ভোগান্তি সৃষ্টি না হয় এবং দূষিত বাতাসের কারণে মানুষ অসুস্থ না হয়, সেজন্য কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে।

তিনি বলেন, ‘আমরা যদি টোকিওর মতো করে ঢাকা শহরকে পরিচ্ছন্ন করতে পারি, তাহলে সেটি হবে বড় একটি সংস্কার।’

প্রান্তিক মানুষের কল্যাণই সংস্কারের অগ্রাধিকার বলে উল্লেখ করেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, সরকার এমন সংস্কার বাস্তবায়ন করতে চায়, যাতে সমাজের প্রান্তিক ও খেটে খাওয়া মানুষ সরাসরি উপকৃত হয়। শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও পরিবেশের উন্নয়নে নেওয়া উদ্যোগের সুফল সমাজের সব শ্রেণি-পেশার মানুষ পাবে।

তারেক রহমান বলেন, সংস্কার বলতে রাজনীতিবিদ হিসেবে আমি সেই সংস্কারকেই বুঝি, যার সুবিধা দেশের প্রান্তিক মানুষটিও পায়। সরকারের অগ্রাধিকার হচ্ছে সাধারণ মানুষের জীবনমানের উন্নতি ঘটে এমন উদ্যোগ গ্রহণ করা।

তিনি বলেন, এই সংস্কারগুলো বাস্তবায়ন করতে হলে সবার সহযোগিতা প্রয়োজন। দেশের গণতন্ত্রমনা জনগণের সহযোগিতা পেলে, আমরা আমাদের কাক্সিক্ষত বাংলাদেশ গড়ে তুলতে পারব।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, সাধারণ মানুষের উপকারে আসবে- এমন সংস্কার কার্যক্রম যাতে বিএনপি সরকার বাস্তবায়ন করতে না পারে, সে ধরনের পরিস্থিতি তৈরির চেষ্টা চলছে।

প্রবাসী বাংলাদেশিদের উদ্দেশে তিনি বলেন, সরকার যে সংস্কার কার্যক্রম হাতে নিয়েছে, তা বাস্তবায়িত হলে আপনাদের পরিবারসহ দেশের সাধারণ মানুষও উপকৃত হবে। তাই এসব উদ্যোগকে সমর্থন দেওয়ার আহ্বান জানান প্রধানমন্ত্রী।

তারেক রহমান বলেন, আমি বলছি না যে বিএনপিকে ভোট দেন। কাজগুলো যদি আপনাদের কাছে সঠিক মনে হয়, তাহলে সমর্থন দেন, যাতে আমরা সেগুলো বাস্তবায়ন করতে পারি।

এ সময় উপস্থিত প্রবাসীরা করতালির মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রীকে সমর্থন জানান।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, শিক্ষা, স্বাস্থ্য, পরিবেশসহ সাধারণ মানুষের জীবনমান উন্নয়নে যেসব সংস্কার প্রয়োজন, সেগুলো বাস্তবায়নই সরকারের লক্ষ্য। কিছু সংস্কার বাস্তবায়নে সীমিতসংখ্যক মানুষ উপকৃত হবেন। কিন্তু আমার অগ্রাধিকার হচ্ছে এমন উদ্যোগ- যাতে সমাজের বৃহত্তর জনগোষ্ঠী লাভবান হয়।

তিনি আরও বলেন, এসব কাজ সম্পন্ন করতে পরিশ্রম, ধৈর্য ও ঐক্যের প্রয়োজন। দেশের উন্নয়নে সবাইকে একসঙ্গে কাজ করার আহ্বান জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী প্রবাসীদের সহযোগিতা ও দোয়া কামনা করেন।

অনুষ্ঠানের শুরুতে প্রধানমন্ত্রী প্রবাসী বাংলাদেশিদের কাছে শিশুদের জাপানি ভাষা শিক্ষা, স্বাস্থ্যসেবা, খেলাধুলাসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে দক্ষ করে গড়ে তোলা, ব্যবসা-বাণিজ্য সহজীকরণ, বন্ধ শিল্পকারখানা চালু, বিনিয়োগ বৃদ্ধি ও কর্মসংস্থান সৃষ্টির বিষয়ে সরকারের পরিকল্পনা তুলে ধরেন।

বিএনপির নির্বাহী কমিটির সদস্য আবদুস সাত্তার পাটোয়ারীর সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে ডা. জুবাইদা রহমান, অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী, প্রধানমন্ত্রীর অর্থ ও পরিকল্পনা বিষয়ক উপদেষ্টা রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর, বেসামরিক বিমান চলাচল মন্ত্রী রশিদুজ্জামান মিল্লাত, জ্বালানি প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত এবং বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান আশিক চৌধুরীসহ প্রধানমন্ত্রীর সফরসঙ্গীরা উপস্থিত ছিলেন।

অনুষ্ঠানে জাপান বিএনপির পক্ষ থেকে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এবং তাঁর সহধর্মিণী ডা. জুবাইদা রহমানকে আলোকচিত্র উপহার দেওয়া হয়।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

সরকার চায় গুমের অপসংস্কৃতি ও অপরাধ চিরতরে বন্ধ হোক: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

বুধবার, ২৮শে অক্টোবর, ২০২৬ ইং

১০:২৩ পি.এম


সরকার চায় গুমের অপসংস্কৃতি ও অপরাধ চিরতরে বন্ধ হোক: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

ঢাকা, ২৮ অক্টোবর, ২০২৬: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ জানিয়েছেন, দেশে গুম, বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড ও রাজনৈতিক প্রতিহিংসার ঘটনা যাতে ভবিষ্যতে আর না ঘটে, সেজন্য কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

তিনি উল্লেখ করেন, গুমের শিকার ব্যক্তিদের পরিবারের সদস্যরা তাদের প্রিয়জনদের ফিরে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করছেন এবং নির্যাতনের অভিজ্ঞতা ও ন্যায়বিচার ও পুনর্বাসনের দাবি জানিয়েছেন। তাদের বক্তব্যকে গুরুত্বের সঙ্গে শুনেছে সংবিধান সংশোধন সম্পর্কিত বিশেষ কমিটি। তাদের আবেদন যথাযথভাবে বাস্তবায়নের জন্য প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেওয়া হবে।

আজ জাতীয় সংসদ ভবনের কেবিনেট কক্ষে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের সংবিধান সংশোধন সম্পর্কিত বিশেষ কমিটির নবম বৈঠক শেষে সংসদের মিডিয়া সেন্টারে সাংবাদিকদের ব্রিফিংকালে এসব কথা বলেন কমিটির সভাপতি ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আরও বলেন, আওয়ামী লীগ সরকারের ১৭ বছরের শাসনকালে গুম, খুন ও নির্যাতনের শিকার ব্যক্তিদের পরিবারের সদস্যদের বৈঠকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। গুমের শিকার হয়ে এখনও ফিরে না আসা ব্যক্তিদের স্বজন এবং ফিরে আসা ব্যক্তিদের প্রতিনিধিদের মধ্যে ৪৮ জনের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়, ‘মায়ের ডাক’সহ কয়েকটি সংগঠন সহযোগিতা করেছে।

তিনি জানান, গুমের শিকার হয়ে এখনও ফিরে না আসা ব্যক্তিদের পরিবারের সদস্যরা, যেমন স্ত্রী, সন্তান, বাবা-মা, তাদের আবেগ, বেদনা ও দীর্ঘ প্রতীক্ষার কথা শুনে কমিটির সদস্যরা গভীরভাবে মর্মাহত হয়েছেন। অনেকেই আবেগাপ্লুত হয়ে তাদের বক্তব্য শেষ করতে পারেননি।

সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, ভুক্তভোগী পরিবারগুলোর মূল দাবি হলো- ভবিষ্যতে যেন কেউ গুমের শিকার না হন, গুমের ঘটনায় দায়ের করা মামলাগুলোর দ্রুত ও সুষ্ঠু বিচার নিশ্চিত করা হয় এবং দীর্ঘদিন ধরে নিখোঁজ ব্যক্তিদের পরিবারের সহায়তা ও পুনর্বাসনের ব্যবস্থা করা হয়। তারা গুমের শিকার ব্যক্তিদের রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতির বিষয়টিও তুলে ধরেছেন।

তিনি জানান, গুম প্রতিরোধ ও প্রতিকার আইনে ক্ষতিগ্রস্ত ব্যক্তিদের ক্ষতিপূরণ দেওয়ার বিধান রাখা হয়েছে। এ ক্ষেত্রে দুটি ব্যবস্থা রয়েছে। আদালতের নির্দেশে দায়ী ব্যক্তিদের সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করে তা বিক্রির মাধ্যমে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারকে ক্ষতিপূরণ দেওয়া যেতে পারে। যদি দায়ী ব্যক্তির সম্পদ না থাকে বা তা থেকে ক্ষতিপূরণ দেওয়া সম্ভব না হয়, তাহলে রাষ্ট্রের পক্ষ থেকে ক্ষতিপূরণের ব্যবস্থা করা হবে।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, দীর্ঘদিন ধরে নিখোঁজ ব্যক্তিদের সম্পত্তির দেখভাল ও ব্যবস্থাপনার বিষয়েও আইনে বিধান রাখা হয়েছে। আদালতের অনুমতি নিয়ে এসব সম্পত্তির ব্যবস্থাপনা করা সম্ভব।

তিনি বলেন, ‘আমরা চাই, বাংলাদেশে আর কখনো এমন সময় ফিরে না আসুক। গুমের অপসংস্কৃতি ও অপরাধ চিরতরে বন্ধ হোক। এ দেশে আর কখনো বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড, গুম কিংবা রাজনৈতিক প্রতিহিংসার শিকার হওয়ার ঘটনা না ঘটুক। পুলিশি ও কারা হেফাজতে মৃত্যুর মতো ঘটনাও বন্ধ হোক।’

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে মানুষ এমন একটি বাংলাদেশের প্রত্যাশা ব্যক্ত করেছে, যেখানে মানবাধিকার সুরক্ষিত থাকবে এবং প্রত্যেক নাগরিক ন্যায়বিচার পাবেন। এ জন্য সংবিধানে যেসব বিষয় অন্তর্ভুক্ত করা প্রয়োজন, সেগুলো সংবিধানে এবং যেসব বিষয় আইন বা বিধিবিধানের মাধ্যমে নিশ্চিত করা সম্ভব, সেগুলো সংশ্লিষ্ট আইনি কাঠামোর মাধ্যমে বাস্তবায়ন করা হবে।

সংবিধানের ৩২ অনুচ্ছেদে জীবনের অধিকারের সুরক্ষা রয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, এই অধিকারের পরিপন্থী কর্মকাণ্ড সংবিধান লঙ্ঘনের শামিল। গুম প্রতিরোধ ও প্রতিকার আইনে এ বিষয়ে বিস্তারিত বিধান রয়েছে। ভবিষ্যতে এ ধরনের অপরাধ প্রতিরোধে প্রয়োজনে আরও আইন প্রণয়নের বিষয়টি বিবেচনা করা হবে।

গুমের অভিযোগ তদন্তের বিষয়ে এক প্রশ্নের জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, কোনো আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর বিরুদ্ধে অপরাধের অভিযোগ উঠলে সেই বাহিনীর সংশ্লিষ্ট শাখা দিয়ে অভিযোগটি তদন্ত করা হবে না; অন্য বাহিনী তদন্ত করবে। গুম প্রতিরোধ ও প্রতিকার আইনে তদন্তপ্রক্রিয়া, জবাবদিহি এবং শৃঙ্খলাভঙ্গ ও ফৌজদারি অপরাধের মধ্যে পার্থক্যসহ বিভিন্ন বিষয় নির্ধারণ করা হয়েছে।

তিনি বলেন, ফৌজদারি অপরাধের ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিকে প্রচলিত আইন অনুযায়ী বিচারের মুখোমুখি হতে হবে। আর বিভাগীয় শৃঙ্খলাভঙ্গের বিষয়টি বিভাগীয় প্রক্রিয়ায় নিষ্পত্তি হবে।

বিরোধী দলের সংবিধান সংশোধন প্রক্রিয়ার বাইরে থেকে সমালোচনা ও আন্দোলনের বিষয়ে এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, বিরোধী দলের সদস্যরা কমিটির বৈঠকে অংশ নিয়ে তাদের দাবি ও মতামত তুলে ধরলে সেগুলো বিবেচনার সুযোগ থাকত।

সংবিধান সংশোধনের প্রস্তাব সম্পর্কে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, সংবিধান বিশেষজ্ঞ, আইনজীবী, সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির প্রতিনিধি, শিক্ষক, সম্পাদকমণ্ডলীসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের কাছ থেকে কমিটি নানা প্রস্তাব পেয়েছে। এসব প্রস্তাব সংকলন করে কমিটির বৈঠকে আলোচনা করা হবে। তবে এখনো কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছানো যায়নি।

তিনি বলেন, তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা পুনঃপ্রবর্তন করতে হবে। তবে এর গঠনপ্রক্রিয়া, কার্যপরিধি, গঠনের সময়সীমা এবং সংশ্লিষ্ট অনুসন্ধান কমিটি বা নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা কী হবে, তা নিয়ে বিভিন্ন প্রস্তাব পরীক্ষা করা হবে। সংসদে সংশোধনী বিল উত্থাপনের পর বিতর্কের সময়ও নতুন প্রস্তাব আসতে পারে।

বৈঠকে কমিটির সদস্য ও আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান, জয়নুল আবেদীন, তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী আন্দালিব রহমান, প্রবাসী কল্যাণ প্রতিমন্ত্রী মো. নূরুল হক এবং সমাজকল্যাণ প্রতিমন্ত্রী ফারজানা শারমীন অংশ নেন।

বৈঠকে গুমের শিকার ব্যক্তিদের পরিবারের সদস্য হিসেবে সংসদ সদস্য সানজিদা ইসলাম, হুমাম কাদের চৌধুরী, আনিছুর রহমান ও মোছা. তাহসিনা রুশদী তাদের অভিজ্ঞতা, নির্যাতনের ঘটনা এবং আইনগত সুরক্ষা ও ন্যায়বিচার থেকে বঞ্চিত হওয়ার বিষয়গুলো তুলে ধরেন। তাঁরা এ ধরনের ঘটনার পুনরাবৃত্তি রোধে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

এ সময় বাংলাদেশ জাতীয় সংসদ সচিবালয়ের সচিব, আইন, বিচার ও সংসদবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সচিবসহ সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

ফেনীতে সাংবাদিকদের ‘মাল্টিমিডিয়া, এআই ও ফ্যাক্ট চেকিং’ বিষয়ক প্রশিক্ষণ কর্মশালার সমাপনী অনুষ্ঠিত

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

ফেনী প্রতিনিধি

বুধবার, ২৮শে অক্টোবর, ২০২৬ ইং

১০:২৪ পি.এম


ফেনীতে সাংবাদিকদের ‘মাল্টিমিডিয়া, এআই ও ফ্যাক্ট চেকিং’ বিষয়ক প্রশিক্ষণ কর্মশালার সমাপনী অনুষ্ঠিত

সাংবাদিকদের পেশাগত দক্ষতা বৃদ্ধি ও আধুনিক প্রযুক্তির সাথে পরিচিত করার লক্ষ্যে প্রেস ইনস্টিটিউট অব বাংলাদেশ (পিআইবি)-এর আয়োজনে তিন দিনব্যাপী ‘মাল্টিমিডিয়া, এআই ও ফ্যাক্ট চেকিং’ বিষয়ক প্রশিক্ষণ কর্মশালার সমাপন অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়েছে।

বুধবার (২৮ অক্টোবর) বিকেলে এলজিইডি ফেনীর সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত এই সমাপনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ফেনী জেলা পরিষদের প্রশাসক প্রফেসর এম. এ খালেক।

সাংবাদিক ইউনিয়ন ফেনীর সভাপতি সিদ্দিক আল মামুনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ফেনীর অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট ফাতিমা সুলতানা এবং ফেনী জেলা আইনজীবী সমিতির সভাপতি অ্যাডভোকেট ফরিদুদ্দিন খান নয়ন।

অনুষ্ঠানে আমন্ত্রিত অতিথি হিসেবে আরও বক্তব্য রাখেন ফেনী প্রেস ক্লাবের সাবেক সভাপতি রফিকুল ইসলাম, দৈনিক সমকালের জেলা প্রতিনিধি দিলদার হোসেন স্বপন এবং পিআইবি’র সিনিয়র শিক্ষক জিলহাজ উদ্দিন নিপুন।

বক্তারা বলেন, বর্তমান যুগ তথ্যপ্রযুক্তির যুগ। সংবাদ পরিবেশনে আধুনিক মাল্টিমিডিয়া উপকরণের ব্যবহার, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা এআই'র এর সঠিক প্রয়োগ এবং ভুয়া তথ্য রোধে ফ্যাক্ট চেকিংয়ের গুরুত্ব দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে। সাংবাদিকদের পেশাগত মানোন্নয়ন ও বস্তুনিষ্ঠ সংবাদ পরিবেশন নিশ্চিত করতে পিআইবি’র এই উদ্যোগ অত্যন্ত সময়োপযোগী। এই প্রশিক্ষণের মাধ্যমে ফেনীর গণমাধ্যমকর্মীরা আরও বেশি দক্ষ ও পেশাদারিত্বের পরিচয় দিতে পারবেন বলে বক্তারা আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
সাংবাদিক ইউনিয়ন ফেনীর সাধারণ সম্পাদক জসিম উদ্দিন ফরায়েজীর সঞ্চালনায় অন্যান্যদের মাঝে বক্তব্য রাখেন দৈনিক বনিক বার্তার ফেনী জেলা প্রতিনিধি নুর উল্যাহ কায়সার, পরশুরাম প্রেস ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক মহি উদ্দিন, দৈনিক সকালের সময়ের সোনাগাজী উপজেলা প্রতিনিধি শহিদুল ইসলাম প্রমুখ।

তিনদিন ব্যাপী ‘মাল্টিমিডিয়া, এআই ও ফ্যাক্ট চেকিং’ বিষয়ক প্রশিক্ষণ কর্মশালার প্রশিক্ষক ছিলেন পিআইবি'র সিনিয়র প্রশিক্ষক জিলহাজ উদ্দিন নিপুন,
বুম বাংলাদেশের ফ্যাক্ট চেকার ও রিসোর্স পার্সন তাওসিফ আকবর, ইউল্যাব'র শিক্ষক নাজিয়া আফরিন নমানী।
অনুষ্ঠান শেষে প্রশিক্ষণার্থীদের মাঝে সনদপত্র বিতরণ করা হয়। কর্মশালায় ফেনী জেলায় কর্মরত প্রিন্ট, ইলেকট্রনিক ও অনলাইন মিডিয়ার বিভিন্ন স্তরের সাংবাদিকরা অংশগ্রহণ করেন।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

স্পেনে ট্রেন দুর্ঘটনায় কোপা দেল রে’র ২৪টি ম্যাচ স্থগিত

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

স্পোর্টস ডেস্ক

বুধবার, ২৮শে অক্টোবর, ২০২৬ ইং

১০:২৪ পি.এম


স্পেনে ট্রেন দুর্ঘটনায় কোপা দেল রে’র ২৪টি ম্যাচ স্থগিত

ঢাকা, ২৮ অক্টোবর, ২০২৬ : স্পেনে সংঘটিত দ্রুতগতির দুটি ট্রেনের সংঘর্ষের কারণে হতাহতদের প্রতি শ্রদ্ধা ও সংহতি জানাতে স্প্যানিশ ফুটবল ফেডারেশন (আরএফইএফ) কোপা দেল রে’র প্রথম রাউন্ডের ২৪টি ম্যাচ স্থগিত করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। বুধবার এই ঘোষণা দেওয়া হয়েছে।

ফেডারেশনের ওয়েবসাইটে প্রকাশিত একটি বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়েছে, “এই মর্মান্তিক ঘটনায় শোকাহত পুরো স্প্যানিশ ফুটবল পরিবার একতাবদ্ধ। দুর্ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্থদের সহায়তায় কর্তৃপক্ষের পাশে দাঁড়াতেও আমরা প্রস্তুত।”

বিবৃতিতে আরও বলা হয়, “বুধবার সকালে টলেডো প্রদেশে ঘটে যাওয়া মর্মান্তিক ট্রেন দুর্ঘটনায় নিহত ও আহতদের প্রতি শ্রদ্ধা এবং সংহতি জানিয়ে আজ বিকেল ও সন্ধ্যায় অনুষ্ঠিতব্য কোপা দেল রে’র প্রথম রাউন্ডের ২৪টি ম্যাচ স্থগিত করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে আরএফইএফ।”

ফেডারেশন জানায়, স্থগিত হওয়া ম্যাচগুলোর নতুন সূচি এবং শুরুর সময় সম্পর্কে যথাসময়ে বিস্তারিত জানানো হবে।

সর্বশেষ প্রাথমিক হিসাব অনুযায়ী, মাদ্রিদের প্রায় ১৩০ কিলোমিটার (৮০ মাইল) দক্ষিণে সংঘটিত এই ট্রেন দুর্ঘটনায় অন্তত ৬৪ জন নিহত হয়েছেন এবং আহত হয়েছেন ৮০ জন। আহতদের মধ্যে ৫০ জনের অবস্থা আশঙ্কাজনক।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ১৭ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪৬
জোহর ১১:৪৩
আসর ০৩:৪৬
মাগরিব ০৫:২২
ইশা ০৬:৩৪
সূর্যোদয় : ০৬:০২ সূর্যাস্ত : ০৫:২২
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%