বৃহস্পতিবার, ২৭শে আগস্ট, ২০২৬ ইং
০৭:১৮ পি.এম
সুনামগঞ্জ, ২৭ আগস্ট, ২০২৬ : জেলায় দীর্ঘ এক যুগ পর ওয়ারিশ আলী হত্যা মামলায় দুইজনের যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছেন জেলা ও দায়রা জজ। একইসঙ্গে এ মামলার বাকি ৯ আসামিকে বিভিন্ন মেয়াদে সাজা দিয়েছেন আদালত।
এছাড়াও ১১ আসামির প্রত্যেককে ১০ হাজার টাকা করে জরিমানা, অনাদায়ে আরও দুই মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ডে দণ্ডিত করা হয়।
সুনামগঞ্জ পৌর শহরের ওয়েজখালী এলাকায় ২০১৪ সালে সংঘটিত ওয়ারিশ আলী হত্যা মামলার প্রায় এক যুগ পর এ রায় ঘোষণা করা হয়।
আজ বৃহস্পতিবার দুপুরে সুনামগঞ্জের অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ প্রথম আদালতের বিচারক মুহাম্মদ আকবর হোসেন এ রায় ঘোষণা করেন।
রায়ে ১১ আসামির মধ্যে দুইজনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড প্রদান করেন বিচারক। তারা হলেন, ওয়েজখালীর গমীর বক্সের ছেলে বাদশা মিয়া ও সুনাফর আলীর ছেলে খেলু মিয়া ওরফে ফেলু মিয়া।
অন্যদের বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ড প্রদান করা হয়েছে। এর মধ্যে চারজনকে সাত বছর এবং পাঁচজনকে দুই বছরের সশ্রম কারাদণ্ডের আদেশ দেওয়া হয়।
সাত বছরের সশ্রম কারাদণ্ড প্রাপ্তরা হলেন- রামিজ আলী, নুরুল মিয়া, খোরশেদ আলম ও নুরুজ্জামান। দুই বছরের সশ্রম কারাদন্ড প্রাপ্তরা হলেন. রাজা মিয়া, জগলু মিয়া, নুর উদ্দিন, সহিনুর মিয়া ও তাহের মিয়া।
বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন, রাষ্ট্রপক্ষের এডিশনাল পিপি শেরেনুর আলী। তিনি মামলার রায়ে সন্তোষ প্রকাশ করেন।
মামলার রায়ের বিবরণ থেকে জানা গেছে, স্থানীয় পৌরসভার কাউন্সিলর নির্বাচনকে কেন্দ্র করে বাদী ও আসামি পক্ষের মধ্যে আগে থেকেই বিরোধ ছিল। ঘটনার আগের দিন ২০১৪ সালের ২৮ জুলাই জুয়েল মিয়ার সঙ্গে সাক্ষি ফয়জুর রহমানের কথা-কাটাকাটি হয়। পরে বিষয়টি নিয়ে বাদী ও আসামিপক্ষের মধ্যে উত্তেজনা তৈরি হয়।
পরদিন ২৯ জুলাই ঈদের দিন সকালে ওয়েজখালী পয়েন্টের একটি মসজিদে ঈদের জামাতকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।
এ সময় ওয়ারিশ আলীসহ কয়েকজন আহত হন। গুরুতর আহত ওয়ারিশ আলীকে প্রথমে সুনামগঞ্জ সদর হাসপাতালে নেওয়া হয়। পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। চিকিৎসাধীন অবস্থায় ওই বছরের ৪ আগস্ট ওয়ারিশ আলী মারা যান। তার মৃত্যুর পর একই ঘটনায় হত্যা মামলা দায়ের করা হয়।
পুলিশ মামলার চার্জশিট দেবার পর দীর্ঘ শুনানি শেষে আদালত মামলায় আসামি জাকারিয়া, আব্দুল জহুর, সাজ্জাত আলী, রেনু মিয়া, জুয়েল মিয়া, মো. শফিকুল ইসলাম, খলিল, সুমন, রিপন ও শাহাবুদ্দিনকে অভিযোগ থেকে খালাস প্রদান করেন।
এছাড়া শাহের আলী ও পারভেজ মিয়া মারা যাওয়ায় তাদের বিরুদ্ধে চলমান মামলা অবসান করে তাদের দায় থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে।
রায়ে পলাতক আসামি খোরশেদ আলম ও নুরুজ্জামানের বিরুদ্ধে সাজা পরোয়ানা জারির নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে সাজাপ্রাপ্ত আসামিরা আগে যে সময় হাজতে ছিলেন, আইন অনুযায়ী সেই সময় তাদের সাজা থেকে বাদ দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
মামলায় আসামি পক্ষে আইনজীবী ছিলেন অ্যাড. সালেহ আহমদ।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সরকারি উন্নয়ন প্রকল্পের অবকাঠামো নির্মাণকাজে ঠিকাদারদের গাফিলতি এবং নিম্নমানের কাজের কারণে ৩০টি প্রকল্পে বিভিন্ন সমস্যা চিহ্নিত করেছে পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের অধীনস্ত বাস্তবায়ন পরিবীক্ষণ ও মূল্যায়ন বিভাগ (আইএমইডি)। এরই মধ্যে এসব সমস্যা সমাধানে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়, বিভাগ ও সংস্থার মাধ্যমে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থাও নেওয়া হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (২৭ আগস্ট) জাতীয় সংসদের তৃতীয় অধিবেশনে ঝালকাঠি-১ আসনের সংসদ সদস্য রফিকুল ইসলাম জামালের এক প্রশ্নের জবাবে এ তথ্য জানান পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী জুনায়েদ আব্দুর রহিম সাকি।
স্পিকার মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমদের সভাপতিত্বে অধিবেশনে প্রশ্নোত্তর পর্বে রফিকুল ইসলাম জামাল জানতে চান, সারাদেশের অবকাঠামো উন্নয়নকাজে কিছু ঠিকাদারের নিম্নমানের কাজের কারণে সরকারি অর্থের অপচয় ও সাধারণ মানুষের দুর্ভোগ বন্ধে আইএমইডি পরিদর্শন করে এখন পর্যন্ত কী কী ব্যবস্থা নিয়েছে?
জবাবে পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী বলেন, সরকার দেশের উন্নয়নে বিভিন্ন মন্ত্রণালয়, বিভাগ ও সংস্থার মাধ্যমে বাস্তবায়নের জন্য প্রকল্প গ্রহণ করে। চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরে বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচির (এডিপি) আওতায় ১ হাজার ১৬৩টি প্রকল্প চলমান রয়েছে।
তিনি জানান, সরকারের দায়িত্বপ্রাপ্ত বিভাগ হিসেবে আইএমইডি উন্নয়ন প্রকল্প পরিদর্শন করে প্রতিবেদন তৈরি করে। ২০২৫-২৬ অর্থবছরে আইএমইডি ৬৭৭টি চলমান প্রকল্প পরিদর্শন করেছে। এর মধ্যে ৬৪০টি প্রকল্প নিয়ে সুপারিশসংবলিত প্রতিবেদন সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়, বিভাগ ও সংস্থায় পাঠানো হয়েছে।
চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের জুলাই মাসে ৪৭টি প্রকল্প পরিদর্শন করা হয়েছে। এর মধ্যে ২৭টি প্রকল্প নিয়ে সুপারিশসংবলিত প্রতিবেদন সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়, বিভাগ ও সংস্থায় পাঠানো হয়েছে। এছাড়া, চলতি বছরের জুলাই পর্যন্ত ১ হাজার ৮৫টি সমাপ্ত প্রকল্প পরিদর্শন করে ১ হাজার ২৪টি সমাপ্তি মূল্যায়ন প্রতিবেদন সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়, বিভাগ ও সংস্থায় পাঠানো হয়েছে।
জুনায়েদ সাকি বলেন, প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা অনুযায়ী আইএমইডি পরিদর্শনের সময় অবকাঠামো উন্নয়নকাজে ঠিকাদারের গাফিলতি বা নিম্নমানের কাজ পাওয়া গেলে তা প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়। পরে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় বা বিভাগের মাধ্যমে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হয়।
সংসদে দেওয়া তথ্যে পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী আরও জানান, আইএমইডির পরিদর্শনে ৩০টি প্রকল্পের অবকাঠামো নির্মাণকাজে বিভিন্ন ধরনের সমস্যা চিহ্নিত হয়েছে। এসব সমস্যা সমাধানে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নিয়েছে আইএমইডি।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
রাজবাড়ীর পাংশায় রেললাইনে ঝাঁপ দিয়ে আফিয়ানা জান্নাত মুমু (১৬) নামে এক গৃহবধূর মৃত্যু হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (২৭ আগস্ট) বেলা ১১টার দিকে পাংশা উপজেলার কুরাপাড়া রেলগেট এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
নিহত আফিয়ানা জান্নাত মুমু ঢাকার দৌলতপুর এলাকার আব্দুল হাইয়ের মেয়ে। তিনি পাংশা উপজেলার হাবাসপুর ইউনিয়নের চর আফড়া গ্রামে তার নানাবাড়িতে থাকতেন বলে জানা গেছে।
প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা গেছে, মুমু কুরাপাড়া রেলগেট এলাকায় বেশকিছু সময় ধরে ঘোরাফেরা করছিলেন। বেলা ১১টার দিকে খুলনাগামী সুন্দরবন এক্সপ্রেস ট্রেনটি ওই এলাকায় পৌঁছালে তিনি ট্রেনের সামনে ঝাঁপ দেন। এতে ট্রেনের ধাক্কায় ছিটকে পড়ে গুরুতর আহত হন তিনি।
পরে স্থানীয়রা তাকে দ্রুত উদ্ধার করে পাংশা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।
নিহতের মা আমেনা বেগম মুঠোফোনে বলেন, আমার মেয়ে বিবাহিত। তবে সে নানাবাড়িতে থাকত। আমরা ঢাকায় থাকি। কেন সে ট্রেনের নিচে ঝাঁপ দিয়েছে, তা আমরা জানি না।
মুমুর স্বামী আকাশ আলী বলেন, সকালে মুমু আমার কাছে মোবাইল চেয়েছিল। আমি কাজে যাওয়ার সময় ফোনটি সঙ্গে নিয়ে যাই। সে কখন বাড়ি থেকে বের হয়েছে, তা আমার জানা নেই। পরে জানতে পারি, ট্রেনের ধাক্কায় আমার স্ত্রী মুমু মারা গেছে।
এ বিষয়ে পাংশা মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শেখ মঈনুল ইসলাম ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, লাশটি উদ্ধার করে ময়না তদন্তের জন্য রাজবাড়ী সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। এ ঘটনায় পরবর্তী আইনানুগ ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
নাটোরের সিংড়ায় ৬৯টি চায়না দুয়ারি জাল জব্দ ও আগুনে পুড়িয়ে ধ্বংস করা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার সকাল থেকে দুপুরে গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে সিংড়া পৌরসভার নিংগইন এলাকায় অভিযান পরিচালনা করা হয়। পরে উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) নিশাত আনজুমের উপস্থিতিতে উপজেলা মৎস্য বিভাগের সহায়তায় অভিযানে প্রায় ২ লাখ টাকার চায়না দুয়ারি জাল জব্দ করা হয়। পরবর্তীতে জব্দকৃত জালগুলো পুড়িয়ে ফেলা হয়।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন সিংড়া উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা শাহাদাত হোসেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
পঞ্চগড়, ২৭ আগস্ট, ২০২৬ : জেলার আটোয়ারী উপজেলায় নানার বাড়ি বেড়াতে গিয়ে নদীতে গোসলে নেমে পানিতে ডুবে রোহান নামে ৬ বছর বয়সী এক শিশুর মৃত্যু হয়েছে।
আজ বৃহস্পতিবার উপজেলার আলোয়াখোয়া ইউনিয়নের বালাপাড়া এলাকায় নাগর নদীতে এ ঘটনা ঘটে।
মৃত রাহান উপজেলার সুখাতি গ্রামের রমজান আলীর ছেলে। তার নানার বাড়ি উপজেলার বালাপাড়া গ্রামে। রোহান স্থানীয় একটি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ২য় শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিল।
পরিবার সূত্রে জানা গেছে, গত পরশু মায়ের সঙ্গে নানা বাড়ি বালাপাড়া গ্রামে বেড়াতে যায় রোহান। বৃহস্পতিবার সকালে নানা বাড়ির এলাকার কয়েকজন শিশুর সঙ্গে নাগর নদীতে গোসলে নেমে নদীতে ডুবে যায় রোহান। বিষয়টি জানাজানি হলে স্থানীয়রা দ্রুত নদীতে খোঁজাখুঁজি শুরু করেন। একপর্যায়ে তাকে উদ্ধার করে স্থানীয়ভাবে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হলেও শেষ রক্ষা হয়নি। পরে হাসপাতালে নেয়ার পথে তার মৃত্যু হয়।
আটোয়ারী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মতিয়ার রহমান বাসসকে শিশু রোহানের মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ