বুধবার, ৯ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং
০১:২২ পি.এম
ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ) অনলাইনে শিশু-কিশোরদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য তাদের পরিকল্পনা প্রকাশ করার উদ্যোগ নিয়েছে।
তবে অপ্রাপ্তবয়স্কদের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারে বিধিনিষেধ আরোপ এবং বয়স যাচাই বাধ্যতামূলক করার প্রস্তাব নিয়ে শিশু অধিকার ও ব্যক্তিগত গোপনীয়তা রক্ষাকারী সংগঠনগুলোর মধ্যে তীব্র আপত্তি দেখা দিয়েছে।
এ বিষয়ে খবরটি বার্তা সংস্থা এএফপি’র।
ইইউর ২৭টি দেশের জোট কিভাবে শিশু-কিশোরদের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহার সীমিত করতে চায়, সে পরিকল্পনা আগামী সপ্তাহে ইউরোপীয় পার্লামেন্টে একটি বহুল প্রত্যাশিত ভাষণে তুলে ধরবেন ইইউ কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ডন ডার লেয়েন।
ভন ডার লেয়েন ১৩ বছরের কম বয়সী শিশু-কিশোরদের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারে বিধিনিষেধ আরোপের বিষয়টি বিবেচনা করছেন। একটি বিশেষজ্ঞ প্যানেল এই বয়সসীমার সুপারিশ করেছে। অন্যদিকে, ফ্রান্স ১৫ বছরের কম বয়সীদের জন্য নিষেধাজ্ঞা আরোপের দাবি তুলেছে।
ডেনমার্ক ও গ্রিসসহ ইইউর বেশ কয়েকটি দেশ এক বছরেরও বেশি সময় ধরে এ বিষয়ে চাপ দিয়ে আসছে। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে অস্ট্রেলিয়া শিশু-কিশোরদের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারে বিশ্বের প্রথম বড় ধরনের নিষেধাজ্ঞা চালুর পর ইইউর এই উদ্যোগ আরও জোরালো হয়েছে।
ব্রিটেনসহ কয়েকটি দেশও অস্ট্রেলিয়ার পথ অনুসরণ করেছে।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের সমালোচকেরা বলছেন, শিশুদের মানসিক ও শারীরিক স্বাস্থ্যের ওপর এসব প্ল্যাটফর্মের নেতিবাচক প্রভাবের প্রমাণ ক্রমেই বাড়ছে।
ইইউ যে সিদ্ধান্তই গ্রহণ করুক না কেন, তা কার্যকর করার জন্য এ বছরের শেষ দিকে বয়স যাচাইয়ের একটি ব্যবস্থা চালু করা হবে।
তবে এ পরিকল্পনা নিয়ে ব্রাসেলসকে বিভিন্ন পক্ষের সমালোচনার মুখে পড়তে হচ্ছে। শিশু অধিকার সংগঠনগুলোর আশঙ্কা, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারে বিধিনিষেধ অপ্রাপ্তবয়স্কদের স্বাধীনতায় হস্তক্ষেপ করতে পারে। অন্যদিকে, ডিজিটাল অধিকার সংগঠনগুলো বয়স যাচাই ব্যবস্থা নিয়ে ব্যক্তিগত গোপনীয়তা ও নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে।
সেন্টার ফর ডেমোক্রেসি অ্যান্ড টেকনোলজি (সিডিটি) ইউরোপের কর্মকর্তা ক্রিশ্চিয়ান সিরহিগিরি বলেন, “শিশুদের মৌলিক অধিকার রক্ষায় নিয়ন্ত্রণের লক্ষ্য হওয়া উচিত সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম প্ল্যাটফর্মগুলো, শিশুদের অনলাইনে অংশগ্রহণের সুযোগ নয়।”
“প্ল্যাটফর্মগুলোর পরিবর্তন হওয়া উচিত”
শিশু অধিকারকর্মীসহ বিভিন্ন নাগরিক সংগঠন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শিশুদের প্রবেশাধিকার সীমিত করার সম্ভাব্য পরিণতি নিয়ে উদ্বিগ্ন।
তাদের যুক্তি, এ ধরনের বিধিনিষেধ শিশুদের সামাজিক যোগাযোগ এবং তাদের বিকাশে সহায়ক বিভিন্ন তথ্য ও সুযোগ থেকে বঞ্চিত করতে পারে।
সিরহিগিরি এএফপিকে বলেন, এ ধরনের বিধিনিষেধ শিশুদের মতপ্রকাশের স্বাধীনতা এবং তথ্য পাওয়ার অধিকার লঙ্ঘন করবে। তিনি বলেন, জাতিসংঘের সনদেও এসব অধিকারকে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ অধিকার হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া হয়েছে।
শিশু অধিকার ও মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে কাজ করা প্রায় ১৩২টি সংগঠন ও বিশেষজ্ঞও সবার জন্য একক নিষেধাজ্ঞার বিরোধিতা করেছেন।
এএফপির হাতে আসা ডন ডার লেয়েনকে দেওয়া এক চিঠিতে তারা বড় প্রযুক্তি কোম্পানিগুলোকে তাদের প্ল্যাটফর্ম আরও নিরাপদ করতে বাধ্য করার আহ্বান জানিয়েছেন।
২৭টি সদস্য দেশের মধ্যে সম্ভাব্য নিষেধাজ্ঞার ব্যাপক সমর্থন থাকলেও এ বিষয়ে সবাই একমত নয়।
এস্তোনিয়ার ডিজিটালবিষয়ক মন্ত্রী লিসা-লি পাকোস্তা এএফপিকে বলেন, “তথ্য পাওয়ার অধিকার কেন নিষিদ্ধ করা হবে, তা নৈতিকভাবে বোঝা খুব কঠিন।”
তার মতে, “বরং প্ল্যাটফর্মগুলোর পরিবর্তন হওয়া উচিত।”
ইইউ ইতোমধ্যে অনলাইন কনটেন্ট নিয়ন্ত্রণে তাদের সবচেয়ে শক্তিশালী আইনি ব্যবস্থা ‘ডিজিটাল সার্ভিসেস অ্যাক্ট’ প্রয়োগ করেছে।
এই আইনের আওতায় চলতি বছর ফেসবুক, ইনস্টাগ্রাম ও টিকটককে ব্যবহারকারীদের আসক্ত করে তুলতে পারে—এমন ডিজাইন বা ফিচার পরিবর্তনের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
ডিজিটাল অধিকার সংগঠন ইডিআরআইয়ের কর্মকর্তা সিমিওন দে ব্রাওয়ার মনে করেন, মূল সমস্যা তরুণদের অনলাইনে থাকা নয়, বরং অনলাইন পরিবেশকে নিরাপদ করতে ব্যর্থতা।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
বাগেরহাটে দুই ট্রাকভর্তি সিগারেট তৈরির সরঞ্জাম জব্দ ৫১ বস্তা কাটিং তামাকসহ মিলল সিগারেট তৈরির পুরো কারখানার সরঞ্জাম
গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে বাগেরহাটে কাস্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাট কমিশনারেট, খুলনার অধীন বাগেরহাট ভ্যাট বিভাগ দুই ট্রাকভর্তি সিগারেট তৈরির বিভিন্ন সরঞ্জাম এবং বিপুল পরিমাণ কাটিং তামাক জব্দ করেছে। এ সময় দুটি ট্রাকও আটক করা হয়েছে।
বুধবার (৯ সেপ্টেম্বর) জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।
বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়, গত মঙ্গলবার (৮ সেপ্টেম্বর) রাতে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে বগুড়া-ট-১১-০৭১৪ এবং ঢাকা মেট্রো-ট-১৬-২৬৪০ নম্বরের দুটি ট্রাক আটক করা হয়। পরে ট্রাক দুটি তল্লাশি করে সিগারেট তৈরির যন্ত্র, বিভিন্ন ধরনের সরঞ্জাম, বিপুল পরিমাণ কাটিং তামাক, সিগারেটের ছাঁকনি, মোড়কের পাতলা কাগজ, বিদ্যুৎ উৎপাদন যন্ত্র, আঠা, কাগজ ও অন্যান্য উপকরণ পাওয়া যায়।
জব্দ করা মালামালের মধ্যে রয়েছে–একটি সিগারেট তৈরির যন্ত্র, দুটি অংশে থাকা একটি মোড়ক তৈরির যন্ত্র, ৫০টি প্লাস্টিকের ঝুড়ি, একটি বিদ্যুৎ উৎপাদন যন্ত্র, ৫১ বস্তা কাটিং তামাক, যার প্রতিটি বস্তায় ২৫ কেজি করে মোট ১ হাজার ২৭৫ কেজি তামাক রয়েছে।
এ ছাড়া ৭৬ রোল সিগারেটের কাগজ, পাঁচ কার্টুন ছাঁকনি কাগজ, তিন ড্রাম আঠা বা ময়দা, ৫৪ রোল পাতলা মোড়ক কাগজ, ছয় বাক্স প্যাকেট তৈরির কাগজ, একটি বায়ুর ট্যাংক এবং ১০০টি আঁঠালো ফিতা জব্দ করা হয়েছে।
প্রাথমিকভাবে জব্দ করা মালামালের নমুনা পরীক্ষা করে কর্মকর্তারা ধারণা করছেন, এসব সরঞ্জাম দিয়ে সিগারেট উৎপাদনের জন্য প্রায় সম্পূর্ণ একটি কারখানা স্থাপন করা সম্ভব।
জাতীয় রাজস্ব বোর্ড জানিয়েছে, আটক দুটি ট্রাক ও জব্দ করা মালামালের বিষয়ে প্রয়োজনীয় যাচাই-বাছাই এবং আইনগত কার্যক্রম চলমান রয়েছে। একই সঙ্গে বিধি অনুযায়ী জব্দ করা মালামাল সদর দপ্তরের কাস্টমস গুদামে জমা দেওয়ার কার্যক্রমও চলছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
ডেঙ্গু প্রতিরোধের উদ্দেশ্যে তিন মাসব্যাপী বিশেষ কর্মসূচি শুরু হতে যাচ্ছে ১২ সেপ্টেম্বর।
ডেঙ্গু সংক্রমণের হার হ্রাস করার লক্ষ্যে সরকার বিভিন্ন পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে, যার মধ্যে রয়েছে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা এবং জনসচেতনতামূলক বিশেষ কর্মসূচি। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান আগামী শনিবার (১২ সেপ্টেম্বর) এই কর্মসূচির উদ্বোধন করবেন।
বর্তমান সরকার ক্ষমতায় আসার পর থেকে চলতি বছরের মার্চ মাসে ডেঙ্গু প্রতিরোধের উপর গুরুত্ব আরোপ করেছে। সেই সময় থেকে প্রতি শনিবার বিশেষ পরিচ্ছন্নতা অভিযান পরিচালিত হচ্ছে। এডিস মশার লার্ভা শনাক্তকরণের জন্য সরকার ভ্রাম্যমাণ আদালত গঠন করেছে, যা বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান এবং বাড়ি বাড়ি পরিদর্শন করছে।
উপজেলা হাসপাতালগুলোতে ডেঙ্গু কর্নার স্থাপন করা হয়েছে।
ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের মাঠে একটি ‘ফিল্ড হসপিটাল’ প্রস্তুত রাখা হয়েছে, যাতে বেশি রোগীর চাপ সামাল দেওয়া যায়।
এছাড়া, দেশের বিভিন্ন স্থানে প্রায় ৩০০ চিকিৎসককে ডেঙ্গু রোগীদের চিকিৎসাসেবা প্রদানের জন্য বিশেষ প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে। সরকারি হাসপাতালে ডেঙ্গু পরীক্ষা বিনামূল্যে করার নির্দেশনা জারি করা হয়েছে।
বেসরকারি হাসপাতালগুলোকে ১০ শতাংশ শয্যায় বিনামূল্যে ডেঙ্গু রোগীদের চিকিৎসা দিতে এবং রোগ নির্ণয় কেন্দ্রগুলোকে ডেঙ্গু ও ডেঙ্গু রোগ সংক্রান্ত পরীক্ষায় ৮০ শতাংশ ছাড় দিতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
বাংলাদেশ মেডিসিন সোসাইটির সহায়তায় ডেঙ্গু রোগের চিকিৎসার জন্য সমন্বিত গাইডলাইন হালনাগাদ করা হয়েছে।
এছাড়া, পরিচ্ছন্নতা ও সচেতনতামূলক এই বিশেষ কর্মসূচিতে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের স্বেচ্ছাসেবকদের পাশাপাশি স্কাউট, বাংলাদেশ ন্যাশনাল ক্যাডেট কোর (বিএনসিসি), গার্ল গাইডস, বাংলাদেশ রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটির স্বেচ্ছাসেবক এবং স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থীদের সম্পৃক্ত করার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।
ডেঙ্গুর কারণে প্রতিদিন মৃত্যু এবং হাসপাতালে ভর্তি রোগীর সংখ্যা বাড়তে থাকায় স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ প্রতিমন্ত্রী ড. এম এ মুহিত সকল সিভিল সার্জনকে হাসপাতালের প্রস্তুতি জোরদার করতে এবং জনসচেতনতামূলক কার্যক্রম বাড়াতে জুম মিটিংয়ের মাধ্যমে নির্দেশনা দিয়েছেন।
সরকারের পক্ষ থেকে দেওয়া নির্দেশনার বিষয়ে সিভিল সার্জনদের সাথে আলোচনা করে জানা গেছে, হাসপাতালের ভর্তি প্রক্রিয়ায় ডেঙ্গু রোগীদের অগ্রাধিকার দেওয়ার পাশাপাশি সক্ষমতা অনুযায়ী ডেঙ্গু রোগীদের জন্য নির্ধারিত শয্যা সংখ্যা বাড়ানোর নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
এছাড়া, সংক্রমণ বিস্তার রোধে ডেঙ্গু রোগীদের জন্য এবং পার্শ্ববর্তী ওয়ার্ডের রোগীদের জন্য মশারির ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে বলা হয়েছে।
এদিকে, স্যালাইন, ওষুধ এবং ডেঙ্গু শনাক্তকরণ কিটের ঘাটতি দেখা দিলে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে তাদের নিজস্ব তহবিল থেকে প্রয়োজনীয় সামগ্রী কেনার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. প্রভাত চন্দ্র বিশ্বাস জানিয়েছেন, ‘প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে আমরা সারা দেশের সিভিল সার্জনদের সাথে জুম মিটিং করেছি। ডেঙ্গু রোগীদের অগ্রাধিকার ভিত্তিতে ভর্তি করা এবং হাসপাতালগুলোতে যেখানে সম্ভব ডেঙ্গু রোগীদের জন্য নির্ধারিত শয্যা সংখ্যা বাড়ানোর নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে, যাতে শয্যা সংকটের মুখে পড়তে না হয়।’
তিনি আরও জানান, বর্তমানে হাসপাতালগুলোতে পর্যাপ্ত পরিমাণে ডেঙ্গু পরীক্ষার কিট ও স্যালাইন মজুদ রয়েছে। তবে ঘাটতি দেখা দিলে দ্রুত হাসপাতালের নিজস্ব বাজেট থেকে সংগ্রহ করতে বলা হয়েছে।
ঢাকার সিভিল সার্জন ডা. জাকারিয়া মাহমুদ জানিয়েছেন, ইতিমধ্যে হাসপাতালগুলোতে স্যালাইন ও ডেঙ্গু পরীক্ষার কিট বিতরণ করা হয়েছে এবং এসব উপকরণের কোনো ঘাটতি নেই।
তিনি বলেন, বৈঠকে আমাদের সব সময় সতর্ক থাকতে বলা হয়েছে, যাতে কোনো সংকট তৈরি না হয়।
স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী ড. এম এ মুহিত ডেঙ্গুর সম্ভাব্য মহামারি ঠেকাতে এখন থেকেই সকলকে নিজ নিজ কর্মস্থল এবং বাসাবাড়ি পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখার পাশাপাশি দেশজুড়ে সামাজিক আন্দোলন গড়ে তোলার আহ্বান জানিয়েছেন।
ডেঙ্গু প্রতিরোধে সচেতনতা বৃদ্ধিসহ সমাজের সকল শ্রেণি-পেশার মানুষকে সম্পৃক্ত করতে সিভিল সার্জনদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক জানিয়েছেন, মসজিদের ইমামদের মাধ্যমে এবং স্কুল হেলথ কর্মসূচির আওতায় স্কুলগুলোতে সচেতনতামূলক কার্যক্রমের সমন্বয় করা হবে।
চলতি বছরের ২৩ জুন ডেঙ্গুসহ মশাবাহিত অন্যান্য রোগ প্রতিরোধে জাতীয় কমিটির প্রথম সভায় স্থানীয় সরকার বিভাগের উদ্যোগে একটি উচ্চপর্যায়ের টাস্কফোর্স গঠন করা হয়। টাস্কফোর্সের সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম।
টাস্কফোর্সের প্রধান কার্যপরিধির মধ্যে রয়েছে, জাতীয় কমিটির সিদ্ধান্ত মাঠ পর্যায়ে বাস্তবায়ন নিশ্চিত করা, প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা প্রদান, বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও সংস্থার মধ্যে সমন্বয় করা এবং মাঠ পর্যায়ের অগ্রগতি নিয়মিতভাবে জাতীয় কমিটিকে অবহিত করা। বাস্তবায়নে কোনো সমস্যা দেখা দিলে তা নিরসনে কার্যকর ভূমিকা রাখবে এই কমিটি।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের (ডিজিএইচএস) তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের শুরু থেকে ৮ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়েছেন ৪৫ হাজার ৪৭৫ জন এবং এ সময়ে ১৩০ জনের মৃত্যু হয়েছে।
এদিকে, ডেঙ্গু পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ ও যথাসময়ে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে রোগনিয়ন্ত্রণ শাখা (সিডিসি), রোগতত্ত্ব, রোগনিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা প্রতিষ্ঠান (আইইডিসিআর), এমআইএস ও হাসপাতাল শাখার পরিচালকদের নিয়ে একটি সেল গঠন করা হয়েছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
নরওয়ের আধুনিক ইতিহাস এবং জাতীয় ঐক্যের অন্যতম প্রধান রূপকার, রাজা পঞ্চম হারাল্ডকে বিদায় জানাতে দেশের জনগণ চরম ভাবগাম্ভীর্য ও অশ্রুসজল শ্রদ্ধায় সমবেত হয়েছে। বুধবার, নরওয়ের রাজধানী ওসলোর ঐতিহাসিক লুথেরান ক্যাথেড্রালে রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় অনুষ্ঠিত হয় এই অন্ত্যেষ্টিক্রিয়া অনুষ্ঠান, যেখানে রাজপরিবারের সদস্য, দেশি-বিদেশি রাষ্ট্রপ্রধান এবং শীর্ষ কূটনীতিকরা উপস্থিত ছিলেন। রাজপ্রাসাদ প্রাঙ্গণে হাজারো সাধারণ মানুষ ফুল ও মোমবাতি নিয়ে শ্রদ্ধা নিবেদন করছেন।
দুপুর ঠিক বারোটায় রাজপ্রাসাদ থেকে প্রথাগত গান গেয়ে রাজকীয় কফিন নিয়ে অন্ত্যেষ্টিক্রিয়ার শোভাযাত্রা প্রধান সড়ক ধরে ক্যাথেড্রালের উদ্দেশ্যে রওনা হয়। শোভাযাত্রার অগ্রভাগে পায়ে হেঁটে অংশ নেন নতুন রাজা অষ্টম হাঁকন। নরওয়ের নতুন রানি মেতে-মারিত এবং প্রয়াত রাজার ৮৯ বছর বয়সী স্ত্রী রানি সোনিয়া গাড়িতে করে কফিনের পেছনে যাত্রা করেন।
কফিন ক্যাথেড্রালে পৌঁছানোর পর দুপুর একটায় এক মিনিট নীরবতা পালনের মাধ্যমে পুরো দেশ স্তব্ধ হয়ে যায়। অন্ত্যেষ্টিক্রিয়া শেষে ক্যাথেড্রালের ওপর দিয়ে চারটি এফ-থার্টিফাইভ যুদ্ধবিমান ‘মিসিং ম্যান’ ফর্মেশনে উড়ে গিয়ে রাজাকে শেষ স্যালুট জানায়। পরবর্তীতে আকের্সহুস প্রাসাদের মাউসোলিয়ামে গোপন নকশায় তৈরি আড়াই মিলিয়ন ডলার মূল্যের একটি বিশেষ সারকোফ্যাগাসে তাকে পিতা ও পিতামহের কবরের পাশে চিরনিদ্রায় শায়িত করা হয়। দাফন সম্পন্ন হওয়ার পরপরই এতদিন ধরে অর্ধনমিত রাখা দেশের সব পতাকাকে উঁচিয়ে দেওয়া হয় এবং এক ঘণ্টা ধরে ওসলোজুড়ে চার্চের ঘণ্টা বাজিয়ে রাজকীয় শ্রদ্ধা জানানো হয়।
এই অন্ত্যেষ্টিক্রিয়ায় ব্রিটেনের যুবরাজ উইলিয়াম, ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি, স্পেনের রাজদম্পতি, বেলজিয়াম, নেদারল্যান্ডস, জর্ডান, জাপান ও মোনাকোর রাজপরিবারের প্রতিনিধিরা এবং ফ্রান্স, জার্মানি, ফিনল্যান্ড ও চেক রিপাবলিকের মতো শীর্ষ পশ্চিমা দেশের সরকার ও রাষ্ট্রপ্রধানেরা উপস্থিত ছিলেন। ঐতিহাসিক এই বিদায় অনুষ্ঠান নির্বিঘ্ন করতে ওসলোতে পুলিশের প্রায় তিন হাজার সদস্য এবং সাড়ে তিন হাজার সেনা সদস্যের সমন্বয়ে নরওয়ের ইতিহাসের অন্যতম বৃহত্তম নিরাপত্তা বলয় গড়ে তোলা হয়। একই সাথে ওসলো এবং আশেপাশের আকাশসীমায় নজিরবিহীন বিধিনিষেধ জারি করা হয়।
১৯৯১ সালে সিংহাসনে আরোহণ করা রাজা পঞ্চম হারাল্ড মৃত্যুর পূর্ব পর্যন্ত ছিলেন ইউরোপের সবচেয়ে প্রবীণতম শাসক। জীবনের শেষ দিনগুলোতে নানা শারীরিক অসুস্থতায় ভুগলেও তিনি কখনো সিংহাসন ত্যাগের পথে হাঁটেননি, যার ফলে নরওয়েজীয়দের হৃদয়ে তার অবস্থান ছিল সুদৃঢ়। উগ্রতার বিপরীতে উদারতা, সহনশীলতা ও প্রগতিশীলতার প্রতীক হয়ে উঠেছিলেন তিনি। বিশেষ করে ২০১৬ সালে তার রাজত্বের ২৫ বছর পূর্তিতে দেওয়া কালজয়ী ভাষণটিতে তিনি ভালোবাসার বৈচিত্র্য, বহুসংস্কৃতিবাদ এবং সব ধর্মের প্রতি শ্রদ্ধার বাণী প্রকাশ করে গোটা বিশ্বে সমাদৃত হন।
অন্ত্যেষ্টিক্রিয়ার পূর্ববর্তী দিনগুলোতে হাজার হাজার নরওয়েজীয় টানা লাইনে দাঁড়িয়ে প্রিয় রাজাকে শেষবারের মতো দেখার সুযোগ নিয়েছিলেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
এশিয়া কাপে টানা দুই ম্যাচে শাস্তির মুখোমুখি হয়েছেন পাকিস্তানের দুই ক্রিকেটার। অধিনায়ক ফাতিমা সানার পর এবার আচরণবিধি লঙ্ঘনের কারণে জরিমানা গুনতে হলো টপ-অর্ডার ব্যাটার গুল ফিরোজাকে।
হংকংয়ের বিপক্ষে ম্যাচে মাঠের আম্পায়ারের সিদ্ধান্তে অসন্তোষ প্রকাশ করার জন্য ফিরোজার ম্যাচ ফিরের ১০ শতাংশ জরিমানা করা হয়েছে। পাশাপাশি, তার নামের পাশে একটি ডিমেরিট পয়েন্টও যুক্ত হয়েছে।
সোমবার দুবাই আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়ামে হংকংকে ৭২ রানে পরাজিত করে এশিয়া কাপের সেমিফাইনাল নিশ্চিত করেছে পাকিস্তান। ম্যাচের পঞ্চম ওভারের প্রথম বলে ৩ রানে এলবিডব্লিউ হয়ে ফিরোজা আউট হন। বাঁহাতি রিস্ট স্পিনার ক্যারি চানের ফুল লেংথ ডেলিভারিতে সুইপ করতে গিয়ে তিনি পরাস্ত হন। জোরালো আবেদনের পর আম্পায়ার আঙুল তুলে তাকে আউট ঘোষণা করেন।
টুর্নামেন্টে ডিআরএস না থাকায় ফিরোজার সিদ্ধান্ত চ্যালেঞ্জ করার সুযোগ ছিল না। মাঠ ছাড়ার সময়, তবে, আম্পায়ারের দিকে তাকিয়ে ব্যাটে বল লাগার ইঙ্গিত করেন তিনি। আইসিসির আচরণবিধির ২.৮ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, আম্পায়ারের সিদ্ধান্তের প্রতি এমন প্রতিক্রিয়া দেখানো নিয়মবহির্ভূত।
মাঠের আম্পায়ারদের অভিযোগের ভিত্তিতে ম্যাচ রেফারি সুপ্রিয়া দাস শাস্তির সিদ্ধান্ত দেন। ফিরোজার অপরাধ স্বীকার করে নেওয়ার কারণে আনুষ্ঠানিক শুনানির প্রয়োজন হয়নি।
এর আগে ভারতের বিপক্ষে ম্যাচে একই ধরনের শাস্তি পেয়েছিলেন পাকিস্তানের অধিনায়ক ফাতিমা সানা। শেফালি ভার্মাকে আউট করার পর তাকে ‘সেন্ড অফ’ করায় ম্যাচ ফিরের ১০ শতাংশ জরিমানা করা হয় এবং তার নামের পাশে একটি ডিমেরিট পয়েন্ট যোগ হয়।
হংকংকে পরাজিত করে ‘এ’ গ্রুপ থেকে দ্বিতীয় দল হিসেবে সেমিফাইনালে উঠেছে পাকিস্তান। ফাইনালে ওঠার লড়াইয়ে শুক্রবার শ্রীলঙ্কার বিরুদ্ধে তারা মুখোমুখি হবে। এর আগে বৃহস্পতিবার প্রথম সেমিফাইনালে বাংলাদেশ ভারতের বিরুদ্ধে খেলবে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ