সোমবার, ২৬শে অক্টোবর, ২০২৬ ইং
১২:০৮ পি.এম
গাজীপুরের কালিয়াকৈরে এক পোশাকশ্রমিকের মৃত্যু হয়েছে, যার নাম আছিয়া আক্তার (৩০)।
এটি ঘটেছে রোববার উপজেলার নিশ্চিন্তপুর এলাকায়।
আছিয়া আক্তার, যিনি কালিয়াকৈর উপজেলার নিশ্চিন্তপুর এলাকার আনোয়ার হোসেনের কন্যা, স্থানীয় ইকোটেক্স কারখানায় সেলাই অপারেটর হিসেবে কর্মরত ছিলেন।
পরিবার ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, রোববার মৌচাকের নিশ্চিন্তপুর এলাকায় সৈয়দ সুলতান শাহ নামক এক ব্যক্তির মাটির ঘরের টিন পাল্টানোর কাজ চলছিল। টিন পাল্টানোর সময় হঠাৎ করে ওই ঘরের এক পাশের মাটির দেয়াল পাশের বাড়ির রান্নাঘরের ওপর পড়ে যায়। এ সময় রান্নার কাজে ব্যস্ত ছিলেন আছিয়া আক্তার। দেয়ালের নিচে চাপা পড়ে তিনি গুরুতর আহত হন। পরে তাকে উদ্ধার করে গাজীপুরের শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
মৌচাক পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ মো. আনিসুর রহমান জানান, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছেছে। তবে পুলিশ পৌঁছানোর আগেই গুরুতর আহত অবস্থায় ওই নারীকে হাসপাতালে নিয়ে গেলে তিনি মারা যান। এ ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
এমই
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
ঠাকুরগাঁও-১ আসনের উপনির্বাচন সুষ্ঠু, অবাধ, নিরপেক্ষ ও শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন করার লক্ষ্যে নির্বাচনী এলাকায় ২১ প্লাটুন বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) মোতায়েন করা হয়েছে। বিজিবি সদস্যরা গত ২৫ অক্টোবর থেকে নির্বাচনী এলাকায় দায়িত্ব পালন শুরু করেছেন।
ঠাকুরগাঁও ব্যাটালিয়ন (৫০ বিজিবি) সূত্রে জানা যায়, ঠাকুরগাঁও-১ আসনের অন্তর্ভুক্ত তিনটি উপজেলা, ২২টি ইউনিয়ন এবং একটি পৌরসভায় এই বিজিবি সদস্যদের মোতায়েন করা হয়েছে। তারা দায়িত্বপ্রাপ্ত এলাকায় মোবাইল ও স্ট্রাইকিং ফোর্স হিসেবে কাজ করবেন।
নির্বাচনী এলাকার নিরাপত্তা বাড়ানোর জন্য গোয়েন্দা তৎপরতা বৃদ্ধি করা হয়েছে। পাশাপাশি, বডি-ওর্ন ক্যামেরা ব্যবহার এবং ড্রোনের মাধ্যমে গুরুত্বপূর্ণ স্থানগুলো পর্যবেক্ষণ করার ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে, যা প্রেস ব্রিফিংয়ে জানানো হয়।
বিজিবির পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, ভোটাররা যেন নিরাপদ ও নির্বিঘ্ন পরিবেশে নিজেদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারেন, সেটাই তাদের প্রধান লক্ষ্য। সকল প্রার্থী যেন সমান সুযোগ পান এবং নির্বাচনী আচরণবিধি যথাযথভাবে অনুসরণ হয়, সেই বিষয়েও নজর রাখা হচ্ছে। নির্বাচনের সময় যেকোনো বিশৃঙ্খলা, সহিংসতা কিংবা জননিরাপত্তার জন্য হুমকিস্বরূপ কর্মকাণ্ড প্রতিরোধে বিজিবি সতর্ক রয়েছে।
এছাড়া সীমান্ত এলাকায় নজরদারি ও টহল কার্যক্রমও জোরদার করা হয়েছে। চোরাচালান, অবৈধভাবে সীমান্ত অতিক্রম এবং নির্বাচনকে কেন্দ্র করে সম্ভাব্য অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড প্রতিরোধে বাহিনীটি কাজ করছে।
প্রেস ব্রিফিংয়ে আরো জানানো হয়েছে, সংবিধান, প্রচলিত আইন ও নির্বাচন কমিশনের নির্দেশনা অনুসরণ করে বিজিবি সম্পূর্ণ নিরপেক্ষতা ও পেশাদারিত্বের সঙ্গে দায়িত্ব পালন করবে। শান্তিপূর্ণ নির্বাচন সম্পন্ন করতে স্থানীয় জনগণ, রাজনৈতিক দলের নেতা, প্রার্থী, প্রশাসন, অন্যান্য আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও গণমাধ্যমকর্মীদের সহযোগিতা কামনা করা হয়েছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
রাজধানীর গুলশানে অবস্থিত কিংফিশার রেস্টুরেন্টে অভিযান পরিচালনা করে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) চারটি গোয়েন্দা সংস্থার সমন্বিত দল বিপুল পরিমাণ অ্যালকোহল ও অ্যালকোহলজাতীয় পানীয় জব্দ করেছে, যেগুলোর বৈধ কাগজপত্র ছিল না।
এনবিআরের নির্দেশনায় এবং কাস্টমস গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তরের (সিআইআইডি) তত্ত্বাবধানে গতকাল রবিবার (২৫ অক্টোবর) দিবাগত রাত সাড়ে ১২টায় গুলশানের রোড-৪৫-এ অবস্থিত কিংফিশার রেস্টুরেন্ট লিমিটেডে অভিযান শুরু হয়। এই কার্যক্রম প্রায় তিন ঘণ্টা ধরে চলেছিল। আজ সোমবার এক বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে এনবিআর এ তথ্য প্রকাশ করেছে।
সূত্র জানায়, অভিযানের মূল উদ্দেশ্য ছিল অবৈধ উৎস এবং চোরাচালানের মাধ্যমে সংগৃহীত অ্যালকোহল ও অ্যালকোহলজাতীয় পানীয়ের মজুত শনাক্ত করা। একই সঙ্গে, এসব পণ্য বিক্রির ক্ষেত্রে মূল্য সংযোজন কর (ভ্যাট) ফাঁকি দেওয়া হয়েছে কি না, বিক্রয়লব্ধ অর্থ আয়কর নথিতে সঠিকভাবে দেখানো হয়েছে কি না এবং সংশ্লিষ্ট লেনদেনে মানি লন্ডারিংয়ের কোনো সংশ্লিষ্টতা রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
অভিযানে এনবিআরের চারটি গোয়েন্দা সংস্থা অংশগ্রহণ করেছে, যার মধ্যে রয়েছে সেন্ট্রাল ইন্টেলিজেন্স সেল (সিআইসি), কাস্টমস গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তর (সিআইআইডি), আয়কর গোয়েন্দা ও তদন্ত ইউনিট (টিআইআইইউ) এবং মূল্য সংযোজন কর নিরীক্ষা, গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তর (ভিএআইআইডি)। অভিযানের পুরো সময় বিশেষ রেসপন্স ব্যাটালিয়ন (এসআরবি-১) সার্বিক সহযোগিতা প্রদান করেছে।
কাস্টমস আইন, ২০২৩, মূল্য সংযোজন কর ও সম্পূরক শুল্ক আইন, ২০১২ এবং আয়কর আইন, ২০২৩-এর সংশ্লিষ্ট ধারায় প্রদত্ত ক্ষমতাবলে অভিযানটি পরিচালিত হয়।
এনবিআরের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, অভিযানে আটক পণ্যের বিস্তারিত বিবরণ, প্রাথমিক অনুসন্ধানে পাওয়া তথ্য, সম্ভাব্য শুল্ক-কর ফাঁকির পরিমাণ এবং পরবর্তী আইনানুগ কার্যক্রম সম্পর্কে আয়োজিত প্রেস ব্রিফিংয়ে গণমাধ্যমকে বিস্তারিত জানানো হবে। তবে আটক অ্যালকোহলের পরিমাণ ও সম্ভাব্য শুল্ক-কর ফাঁকির আর্থিক হিসাব বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়নি।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
ময়মনসিংহের ভালুকায় ‘সাথী বিউটি পার্লার’-এর মালিক সাথী আক্তারকে আটক করেছে থানা পুলিশ। অভিযোগ করা হয়েছে যে, তিনি বিএনপি সরকারকে নিয়ে ‘কটূক্তি’ করেছেন। রবিবার (২৫ অক্টোবর) রাতে হবিরবাড়ী ইউনিয়নের স্কয়ার মাস্টারবাড়ী এলাকায় অবস্থিত সাথী বিউটি পার্লার থেকে তাকে আটক করে ভালুকা মডেল থানার পুলিশ।
স্থানীয় সূত্র ও থানার তথ্য অনুযায়ী, রবিবার দুপুরে সাথী আক্তার তার বিউটি পার্লারে বসে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) সরকার এবং দলটির নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে বিভিন্ন ‘কুরুচিপূর্ণ’ মন্তব্য করেন। বিষয়টি স্থানীয় বিএনপির নেতাকর্মীদের দৃষ্টিগোচর হলে তাদের মধ্যে ক্ষোভের সঞ্চার ঘটে। পরে উত্তেজিত স্থানীয় রাজনৈতিক কর্মীরা স্কয়ার মাস্টারবাড়ী এলাকায় সাথী আক্তারের বিউটি পার্লারে গিয়ে তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করেন।
এই পরিস্থিতিতে উত্তেজনা সৃষ্টি হয় এবং খবর পেয়ে ভালুকা মডেল থানার পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। পুলিশ সাথী আক্তারকে আটক করে থানায় নিয়ে আসে।
ভালুকা মডেল থানার ওসি মো. জাহিদুল ইসলাম জানান, বিএনপিকে নিয়ে কটূক্তি করার অভিযোগে স্থানীয় জনতা এক নারী উদ্যোক্তাকে আটক করে পুলিশে সোপর্দ করেছে। আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে এবং এলাকার পরিস্থিতি বর্তমানে শান্ত আছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
চট্টগ্রামের পটিয়া সাব-রেজিস্ট্রারের কার্যালয়ে দলিল নিবন্ধনের সময় চারতলা ভবনের তথ্য গোপন করে সরকারি রাজস্ব ফাঁকি দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। এই ঘটনার প্রেক্ষিতে গতকাল রবিবার (২৫ অক্টোবর) দুপুরে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) এনফোর্সমেন্ট ইউনিট অভিযান পরিচালনা করেছে। অভিযানে সংগৃহীত নথিপত্র ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বক্তব্য প্রাথমিকভাবে পর্যালোচনা করে অভিযোগের সত্যতা যাচাইয়ের উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে।
দুদক সূত্রে জানা গেছে, পটিয়া সাব-রেজিস্ট্রারের কার্যালয়ের অসাধু কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বিরুদ্ধে পরস্পর যোগসাজশে কম মূল্যে দলিল নিবন্ধনের মাধ্যমে রাষ্ট্রীয় অর্থের ক্ষতিসাধনের অভিযোগ কমিশনে এসেছে। এর পরিপ্রেক্ষিতে দুর্নীতি দমন কমিশন, জেলা কার্যালয়, চট্টগ্রাম-২-এর একটি এনফোর্সমেন্ট টিম সংশ্লিষ্ট কার্যালয়ে অভিযান পরিচালনা করে।
অভিযানকালে টিমের সদস্যরা ঘটনাস্থল সরেজমিনে পরিদর্শন করেন এবং অভিযোগের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন রেকর্ডপত্র সংগ্রহ করেন। প্রাথমিক পর্যালোচনা ও সংশ্লিষ্টদের বক্তব্যের ভিত্তিতে দলিল নিবন্ধনের ক্ষেত্রে চারতলা ভবনের তথ্য গোপন করে সরকারি রাজস্ব ফাঁকি দেওয়া হয়ে থাকতে পারে বলে প্রতীয়মান হয়েছে।
অভিযোগ রয়েছে, দলিল নিবন্ধনের সময় সংশ্লিষ্ট সম্পত্তিতে নির্মিত চারতলা ভবনের তথ্য গোপন করে সম্পত্তির মূল্য কম দেখানো হয়েছিল কি না এবং এর মাধ্যমে সরকার নির্ধারিত রাজস্ব থেকে বঞ্চিত হয়েছে কি না। এ ক্ষেত্রে দলিলের বিবরণ, সম্পত্তির প্রকৃত অবস্থা, মূল্য নির্ধারণের তথ্য এবং নিবন্ধনসংক্রান্ত নথিপত্র যাচাই করা গুরুত্বপূর্ণ বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন। তবে প্রাথমিক পর্যবেক্ষণে অনিয়মের ইঙ্গিত পাওয়া গেলেও অভিযোগের পূর্ণাঙ্গ সত্যতা, সম্ভাব্য রাজস্ব ক্ষতির পরিমাণ এবং এর সঙ্গে কারা জড়িত, তা এখনো চূড়ান্তভাবে নির্ধারিত হয়নি।
দুদকের এনফোর্সমেন্ট টিম অভিযানকালে সংগৃহীত রেকর্ডপত্র বিস্তারিতভাবে পর্যালোচনা করবে। এরপর প্রাপ্ত তথ্য-উপাত্ত ও সংশ্লিষ্টদের বক্তব্য বিশ্লেষণ করে কমিশন বরাবর পূর্ণাঙ্গ প্রতিবেদন দাখিল করা হবে। প্রতিবেদনে অভিযোগের সত্যতা, দলিল নিবন্ধনের প্রক্রিয়ায় কোনো অনিয়ম হয়েছে কি না এবং সরকারি রাজস্বের ক্ষতিসাধনের বিষয়টি উঠে আসতে পারে। পরবর্তী সময়ে কমিশনের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
পটিয়া সাব-রেজিস্ট্রার মেজবাহ উদ্দিন আহমেদ জানান, দুদকের বিশেষ টিম একটি সুনির্দিষ্ট অভিযোগের ভিত্তিতে সাবরেজিস্টার কার্যালয়ে অভিযানে এসেছিলেন রবিবার। ২০১৮ সালের দলিল বাবার বিরুদ্ধে ছেলের দায়ের করা একটি মামলা নিয়ে। ঐ দলিলের বিষয়ে তারা আমাদের কার্যালয় থেকে বিভিন্ন তথ্য উপাত্ত সংগ্রহ করেছেন।
দুদক সজেকা, চট্টগ্রাম-২-এর উপপরিচালক মো. রিয়াজ উদ্দিন বলেন, এ ঘটনায় প্রাথমিক সত্যতা পাওয়া গেছে। তদন্ত শেষে কমিশনে চূড়ান্ত প্রতিবেদন জমা দেওয়া হবে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ