০৪:১০ পি.এম
টানা দুই আসরের গ্রুপ পর্বের ভূত তাড়িয়ে আবারও বিশ্বকাপের নকআউট পর্বে জার্মানি ফিরেছে। সাবেক বিশ্বচ্যাম্পিয়নদের এই পুনরুত্থানের পেছনে রয়েছেন একজন ব্যক্তি, যার জীবনের কাহিনী যেকোনো সিনেমার চিত্রনাট্যকেও হার মানায়।
একসময় জীবন ধারণের তাগিদে দিনে ৮ ঘণ্টা কারখানায় কঠোর পরিশ্রম করতেন এবং যখনই কিছু সময় পেতেন, বুট জোড়া গলিয়ে ফুটবল মাঠে সময় কাটাতেন। আজ সেই ডেনিজ উন্দাভ তার জোড়া গোল দিয়ে আইভরি কোস্টকে ২-১ ব্যবধানে হারিয়ে নতুন জার্মান নায়ক হয়ে উঠেছেন।
কিন্তু কয়েক মাস আগে জার্মানির বিশ্বকাপ দলের শিল্পী হওয়া নিয়ে ছিল প্রবল অনিশ্চয়তা। এমনকি নিজ কোচ জুলিয়ান নাগেলসমানের সঙ্গেও একটি প্রকাশ্য বিতর্কে জড়িয়ে পড়েছিলেন উন্দাভ।
আরও পড়ুন: টঙ্গীতে বিএনপির বিক্ষোভ, নুরুল ইসলাম সরকারের মুক্তির দাবি
ঘটনার সূত্রপাত হয়েছিল এক ম্যাচে বদলি হয়েই উন্দাভের শেষ মুহূর্তের এক গোলকে কেন্দ্র করে। ম্যাচ শেষে গণমাধ্যমে উন্দাভ দাবি করেন, ‘আমি শুরুর একাদশে খেলার যোগ্যতা রাখি।’ এই মন্তব্যে জার্মান কোচ নাগেলসমান ক্ষুব্ধ হয়ে সংবাদমাধ্যমের সামনে পাল্টা বলেন, ‘শুরু থেকে খেললে হয়তো উন্দাভ ওই গোলটিও করতে পারতেন না।’
অবশেষে, বিতর্কের মোক্ষম জবাবটি তিনি মাঠে জমিয়ে রেখেছিলেন। আইভরি কোস্টের বিপক্ষে তার অতিমানবীয় পারফরম্যান্সের পর নাগেলসমানের সুর বদলে গেছে। ম্যাচ শেষে জার্মান কোচ জানান, উন্দাভকে শুরুর একাদশে রাখার ব্যাপারে তিনি গুরুত্ব দিয়ে ভাবছেন।
নাগেলসমান বলেন, ‘কেন আমি ওর ছন্দ নষ্ট করব? দুই ম্যাচে বদলি হয়ে দুই ম্যাচেই গোল করেছে। তবে (পরের ম্যাচে) ওকে শুরু থেকেই খেলানো হতে পারে।’
উন্দাভের এই সাফল্যের পেছনের গল্পটি কিন্তু মোটেও চলচ্চিত্রের মতো মসৃণ নয়। মাত্র ১৪ বছর বয়সে ভের্ডার ব্রেমেন একাডেমি থেকে তাকে ছুড়ে ফেলা হয়েছিল, কারণ তার গড়ন ছিল ছোট এবং ফুটবলে তার ভবিষ্যৎ নেই বলে জানানো হয়েছিল। এই প্রত্যাখ্যাত হওয়া ও অপমান তাকে চূর্ণ-বিচূর্ণ করে দিয়েছিল।
আরও পড়ুন: ইংল্যান্ড দলে যোগ দিলেন বেলিংহাম ভ্রাতৃদ্বয়, বাদ পড়লেন পালমার
কিন্তু তিনি দমে যাননি। নতুন উদ্যমে নিজেকে গড়ে তুলেছিলেন। ১৭ বছর বয়সে পরিবারের মায়া ত্যাগ করে পাড়ি দেন জার্মানির চতুর্থ বিভাগের ক্লাব হাভেলসেতে। সেখানে সপ্তাহে পেতেন মাত্র ১২০ পাউন্ড! ফুটবল থেকে পাওয়া এই সামান্য অর্থ দিয়ে জীবন চালানো অসম্ভব হয়ে পড়েছিল, তাই পেটের তাগিদে কারখানার শ্রমিকের কাজ বেছে নিতে হয়েছিল।
বেলজিয়ান গণমাধ্যমে দেওয়া একটি সাক্ষাৎকারে উন্দাভ সেই বিভীষিকাময় দিনগুলোর স্মৃতিচারণ করে বলেন, ‘ভোর ৪টার দিকে ঘুম থেকে উঠতাম। সরাসরি চলে যেতাম কারখানায়, সেখানে ৮ ঘণ্টা কাজ শেষ করে যেতাম অনুশীলনে। বাসায় ফিরতে ফিরতে রাত ৮টা বেজে যেত। পরদিন আবার একই রুটিন। বেঁচে থাকার জন্যই আমাকে কাজটা করতে হয়েছিল। শুধু ফুটবল থেকে পাওয়া টাকায় তখন চলা সম্ভব ছিল না।’
২০২০ সালে বেলজিয়ামের ক্লাব ইউনিয়ন সেন্ট-জিলোয়াজে যোগ দেওয়ার পর থেকে আসলে উন্দাভের ভাগ্যের চাকা ঘুরতে শুরু করে। এরপর থেকে এই ফরোয়ার্ডের আর পেছনে ফিরে তাকাতে হয়নি।
আরও পড়ুন: শ্রমিক আন্দোলনের নামে নৈরাজ্যের চেষ্টা চলছে: নুর
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন