০৭:১৪ পি.এম
জাফরান, বিশ্বের অন্যতম দামি মসলা, গাঢ় লাল রঙ ও বিশেষ সুগন্ধের জন্য পরিচিত। কাশ্মীরে এই মসলাটিকে ‘লাল সোনা’ বলা হয়। কিন্তু জলবায়ু পরিবর্তন, অনিয়মিত বৃষ্টিপাত, আবাসন নির্মাণ এবং ভেজাল জাফরানের প্রভাবের কারণে ঐতিহ্যবাহী এই চাষ বর্তমানে বড় সংকটের মুখোমুখি।
শুক্রবার (৬ নভেম্বর) আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম বিবিসির একটি প্রতিবেদনে এই তথ্য প্রকাশিত হয়েছে।
ভারতের কাশ্মীরের পাম্পোর অঞ্চল বহু শতাব্দী ধরে জাফরান চাষের জন্য পরিচিত। কিন্তু সাম্প্রতিক বছরগুলোতে উৎপাদন উল্লেখযোগ্যভাবে হ্রাস পেয়েছে। সরকারি তথ্য অনুযায়ী, ২০১০-১১ অর্থবছরে কাশ্মীর ও জম্মুতে জাফরান উৎপাদন ছিল ৮ টন, যা ২০২৩-২৪ অর্থবছরে কমে মাত্র ২ দশমিক ৬ টনে দাঁড়িয়েছে।
আরও পড়ুন: ইরানের অর্থ পাচারের অভিযোগে কানাডার ৮ প্রতিষ্ঠানে মার্কিন নিষেধাজ্ঞা
চাষিদের মতে, জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে বৃষ্টিপাত ও তুষারপাতের ধরন পরিবর্তিত হয়েছে। বিশেষ করে আগস্ট ও সেপ্টেম্বরে পর্যাপ্ত বৃষ্টির অভাবে জাফরানের ফলন মারাত্মকভাবে কমে যায়। পাশাপাশি সড়ক নির্মাণ, আবাসন এবং বাণিজ্যিক স্থাপনা তৈরির কারণে চাষের জমি হ্রাস পাচ্ছে। ইঁদুর ও সজারুর আক্রমণও জাফরানের মাটির নিচের কন্দকে ক্ষতিগ্রস্ত করছে।
ভেজাল জাফরানের সমস্যা এই সংকটকে আরও গভীর করেছে। ইরান থেকে আমদানি করা জাফরান অনেক সময় কাশ্মীরি পরিচয়ে বাজারে বিক্রি হচ্ছে। এমনকি জাফরানের সঙ্গে অন্যান্য মসলা ও ক্ষতিকর রং মেশানোর অভিযোগও উঠেছে। এর ফলে প্রকৃত চাষিরা আর্থিক ক্ষতির সম্মুখীন হচ্ছেন।
এক কেজি জাফরান উৎপাদনে হাজার হাজার ফুলের প্রয়োজন হয়। প্রতিটি ফুল থেকে মাত্র তিনটি লাল গর্ভদণ্ড সংগ্রহ করা হয়, যা হাতে তুলে শুকাতে হয়। এই কারণেই জাফরান বিশ্বের সবচেয়ে দামি মসলাগুলোর একটি।
বিশেষজ্ঞদের মতে, উন্নত সেচব্যবস্থা, চাষের জমি সংরক্ষণ, উন্নত জাতের কন্দ এবং নিয়ন্ত্রিত পরিবেশে চাষের মাধ্যমে উৎপাদন বৃদ্ধি সম্ভব। তবে কাশ্মীরের চাষিরা উদ্বেগ প্রকাশ করছেন যে, এভাবে চলতে থাকলে শুধু একটি মূল্যবান মসলা নয়, বরং কয়েক শতাব্দীর ঐতিহ্যও হারিয়ে যেতে পারে।
আরও পড়ুন: স্বর্ণে মোড়ানো ১২৬ কক্ষের রাজপ্রাসাদ, প্রবেশমূল্য লাখ ডলার—ট্রাম্পের বিলাসী অন্দরমহল
সূত্র: বিবিসি
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন