০৪:১৮ পি.এম
ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের আর্থিক সংকট কাটছে না, যদিও তারা রেকর্ড পরিমাণ আয় করেছে। ২০২৫-২৬ অর্থবছরে ক্লাবটির আয় ৬৭৭.৬ মিলিয়ন পাউন্ডে পৌঁছেছে, যা তাদের ইতিহাসে সর্বোচ্চ। তবুও, ইংলিশ জায়ান্টরা বছর শেষে ৪৩ মিলিয়ন পাউন্ড লোকসান গুনেছে। ফলে, ওল্ড ট্রাফোর্ডের ক্লাবটি টানা সাত অর্থবছর ধরে লোকসানে রয়েছে। একই সঙ্গে, তাদের ঋণের পরিমাণ বেড়ে প্রায় ৭৭৯ মিলিয়ন পাউন্ডে পৌঁছেছে।
দ্য অ্যাথলেটিকের প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, ৩০ জুন পর্যন্ত ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের ঋণের পরিমাণ ছিল ৬৮৯ মিলিয়ন পাউন্ড। পরবর্তী কয়েক মাসে প্রায় ৯০ মিলিয়ন পাউন্ড ঋণ নেওয়ার ফলে সেপ্টেম্বর নাগাদ তা বেড়ে দাঁড়ায় ৭৭৯ মিলিয়ন পাউন্ডে। তবে, এই হিসাবের মধ্যে খেলোয়াড় কেনাবেচার বকেয়া অর্থ অন্তর্ভুক্ত নয়। বিবিসি স্পোর্টসের হিসাব অনুযায়ী, ২০২৬ সালের সেপ্টেম্বরে ক্লাবটির সামগ্রিক আর্থিক দায় ছিল প্রায় ১.১৫ বিলিয়ন পাউন্ড।
সংখ্যালঘু অংশীদার স্যার জিম র্যাটক্লিফের অধীনে ব্যয় কমানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে, কিন্তু লোকসানের ধারা থামছে না। ক্লাবটির বেতন ব্যয় ৩.৬ শতাংশ কমেছে এবং পরিচালনাগত কার্যক্রমে উন্নতি হয়েছে। কিন্তু প্রায় ৬৯ মিলিয়ন পাউন্ডের অর্থায়ন ব্যয় সেই অগ্রগতিকে ম্লান করে দিয়েছে। রুবেন আমোরিমের বিদায়সংক্রান্ত বিশেষ ব্যয়ও সর্বশেষ লোকসানের পেছনে ভূমিকা রেখেছে। ২০১৯ সাল থেকে ইউনাইটেডের মোট লোকসানের পরিমাণ প্রায় ৪৪৪ মিলিয়ন পাউন্ডে পৌঁছেছে।
আরও পড়ুন: রোনালদোর অবসরের একদিন পর পর্তুগালের নেশন্স লিগের দল ঘোষণা
২০০৫ সাল থেকে গ্লেজার পরিবার ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। পরবর্তী সময়ে র্যাটক্লিফ সংখ্যালঘু অংশীদার হিসেবে যুক্ত হন। বর্তমানে, আইএনইওএসের মাধ্যমে ক্লাবটির ফুটবল পরিচালনার দায়িত্ব পালন করছে তাঁর প্রতিষ্ঠান। তবে, রেকর্ড আয় সত্ত্বেও ধারাবাহিক লোকসান এবং ক্রমবর্ধমান ঋণ গ্লেজার পরিবারের মালিকানা নিয়ে নতুন প্রশ্ন তুলেছে।
২০২৬-২৭ মৌসুমে চ্যাম্পিয়নস লিগে ফেরার সুবাদে ইউনাইটেডের আয় আরও বাড়বে বলে আশা করছে ক্লাব কর্তৃপক্ষ। তাদের প্রাক্কলন অনুযায়ী, আগামী অর্থবছরে আয় ৭৪০ থেকে ৭৬০ মিলিয়ন পাউন্ড হতে পারে। তবে, এই বাড়তি আয় শেষ পর্যন্ত লোকসানের ধারায় ছেদ টানতে পারে কি না, সেটিই এখন বড় প্রশ্ন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন