১০:৪৪ পি.এম
ইথিওপিয়ার প্রধানমন্ত্রী আবি আহমেদ সুশাসন প্রতিষ্ঠা, শৃঙ্খলা এবং নেতৃত্বের সক্ষমতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে একটি নজিরবিহীন পদক্ষেপ গ্রহণ করেছেন। তিনি দেশের পুরো মন্ত্রিসভা এবং সরকারের শীর্ষ কর্মকর্তাদের বাধ্যতামূলক সামরিক প্রশিক্ষণে পাঠানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। সাধারণ বেসামরিক কর্মকর্তাদের জন্য এ ধরনের ঘটনা অত্যন্ত বিরল হলেও, প্রধানমন্ত্রী তাঁর মন্ত্রী ও সরকারের শীর্ষ কর্মকর্তাদের এই কঠোর অনুশীলনের মুখোমুখি দাঁড় করিয়েছেন।
বিবিসির একটি প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, দেশটির হুরসো সামরিক প্রশিক্ষণ কেন্দ্রে এই বিশেষ প্রশিক্ষণ ক্যাম্প পরিচালিত হচ্ছে। প্রধানমন্ত্রী আবি আহমেদ শুধু নির্দেশনা প্রদান করেই থেমে থাকেননি, তিনি নিজেও সামরিক পোশাকে মন্ত্রী ও উপমন্ত্রীদের সঙ্গে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে কঠিন শারীরিক কসরত ও মহড়ায় অংশগ্রহণ করেছেন।
সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রীর শেয়ার করা ছবিতে দেখা যায়, এই প্রশিক্ষণে অংশ নিচ্ছেন ইথিওপিয়ার হাউস অব ফেডারেশনের স্পিকার মুফেরিয়াত কামিল, অর্থমন্ত্রী ফিতসুম আসেফা এবং স্বাস্থ্যমন্ত্রী মেকদেস দাবার মতো শীর্ষ রাজনীতিকরা।
আরও পড়ুন: তিন বছর পর বাবার কাছে দুই বোন, ইউক্রেনে আবেগঘন পুনর্মিলন
প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে প্রকাশিত এক বিবৃতিতে সামরিক প্রশিক্ষণের যৌক্তিকতা তুলে ধরা হয়েছে। এতে বলা হয়েছে, ইথিওপিয়ার সার্বিক উন্নয়ন ও সভ্যতা বিনির্মাণের জন্য নতুন ধরনের নেতৃত্বের প্রয়োজন, যারা শারীরিকভাবে দক্ষ, মানসিকভাবে দৃঢ় এবং প্রজ্ঞায় পরিপক্ব।
প্রধানমন্ত্রীর মতে, সামরিক বিজ্ঞান ও অভিজ্ঞতা সরকারি কর্মকর্তাদের মধ্যে দলগত সমন্বয়, দায়িত্বশীলতা, শৃঙ্খলা এবং গভীর দেশপ্রেম জাগ্রত করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে।
ক্ষমতাসীন ‘প্রসপারিটি পার্টি’র শীর্ষ নেতাদের জন্য এই ওয়ান-টাইম বাধ্যতামূলক প্রশিক্ষণ কার্যক্রম কবে শুরু হয়েছে বা কতদিন ধরে চলবে, সে বিষয়ে সরকারিভাবে কোনো স্পষ্ট তথ্য প্রদান করা হয়নি।
তবে প্রশাসনের বেসামরিক কর্মকর্তাদের এভাবে সামরিকীকরণের দিকে নিয়ে যাওয়া এবং কড়া শাসনের প্রভাব তৈরি করার এই ঘটনাটি আন্তর্জাতিক মহলে ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি করেছে।
আরও পড়ুন: চীনের বাজার হারানোর ভয়ে নতজানু লা লিগা ও রিয়াল মাদ্রিদ
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন