১২:২১ এম
তৃণমূল কংগ্রেসের (টিএমসি) সংসদ সদস্য মহুয়া মৈত্র মারাত্মক অভিযোগ উত্থাপন করে জানিয়েছেন যে, পশ্চিমবঙ্গে ভোটার তালিকা থেকে বাদ পড়া মোট ভোটারের ৭১ শতাংশ মুসলিম এবং ৫১ শতাংশ নারী। ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন (এসআইআর) প্রক্রিয়া নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে তিনি এই তথ্য তুলে ধরেন।
শনিবার (৩১ অক্টোবর) নয়াদিল্লিতে মুখ্য নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) জ্ঞানেশ কুমারের বিরুদ্ধে বিরোধী দলগুলোর ‘ইন্ডিয়া’ জোট আয়োজিত প্রতীকী ‘জনসমক্ষে অভিশংসন’ অনুষ্ঠানে মহুয়া মৈত্র এই বিস্ফোরক অভিযোগগুলো করেন।
ভোটার সংশোধন বা এসআইআর প্রক্রিয়াকে কাজে লাগিয়ে গণতন্ত্রকে দুর্বল করার জন্য ভারতীয় জনতা পার্টিকে (বিজেপি) অভিযুক্ত করেন মহুয়া। তিনি এই পুরো প্রক্রিয়াটিকে একটি "ম্যাকিয়াভেলিয়ান চক্রান্ত" (কুটিল ষড়যন্ত্র) হিসেবে অভিহিত করেন এবং সিইসি জ্ঞানেশ কুমার প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী ও কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের নির্দেশে কাজ করছেন বলে দাবি করেন।
আরও পড়ুন: মধ্যবর্তী নির্বাচনের প্রাক্কালে ইরানে যুক্তরাষ্ট্রের হামলা, আলোচনা নিয়ে আগ্রহ
মুখ্য নির্বাচন কমিশনারকে একটি 'পুতুল' আখ্যা দিয়ে তিনি অভিযোগ করেন যে, জ্ঞানেশ কুমার দেশের গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানগুলোকে ক্রমশ দুর্বল করে দিচ্ছেন। তবে বিরোধী দলগুলোর অনুষ্ঠানে মহুয়া মৈত্রের দেওয়া এই পরিসংখ্যানগুলো তাঁর নিজস্ব অভিযোগ এবং তাৎক্ষণিকভাবে উপলব্ধ তথ্য থেকে তা স্বতন্ত্রভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।
ইন্ডিয়া জোটের প্রতীকী অভিশংসন কর্মসূচি
ভোটার তালিকা থেকে ঢালাওভাবে নাম মুছে ফেলা এবং নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলে বিরোধী দলগুলো এই প্রতীকী ‘জনসমক্ষে অভিশংসন’ কর্মসূচির আয়োজন করে। রাজ্যসভার বিরোধীদলীয় নেতা ও কংগ্রেস সভাপতি মল্লিকার্জুন খাড়গে সিইসি জ্ঞানেশ কুমারের বিরুদ্ধে অভিশংসন প্রস্তাব পেশ করেন এবং লোকসভার বিরোধীদলীয় নেতা রাহুল গান্ধী আলোচনার সমাপ্তি টানেন।
এই কর্মসূচিতে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের প্রতিনিধি এবং সুশীল সমাজের সদস্যরা অংশ নেন। ভোটার সংশোধন প্রক্রিয়ায় ভুক্তভোগী সাধারণ মানুষেরাও এখানে এসে তাঁদের ক্ষোভের কথা তুলে ধরেন। বিরোধী নেতাদের অভিযোগ, নির্বাচন কমিশন ভোটার তালিকা থেকে বৃহৎ পরিসরে নাম বাতিল করতে সাহায্য করছে, যা সাধারণ মানুষের ভোটাধিকারকে ব্যাপকভাবে ক্ষুণ্ন করছে।
আরও পড়ুন: ‘যে মসজিদের পাশে বড় হয়েছি, সেখান থেকেই উচ্ছেদ হতে হয়েছে’
খাড়গে প্রতীকী প্রস্তাবে সিইসি-র বিরুদ্ধে ৬টি সুনির্দিষ্ট অভিযোগ গঠন করেন, যার মধ্যে রয়েছে ভোট চুরিতে সহায়তা করা, ভোটারদের নাম মুছে ফেলা, ৬ নম্বর ফর্মে বেআইনি পরিবর্তন এবং ক্ষমতাসীন বিজেপির পক্ষে কাজ করার মতো মারাত্মক বিষয়। উল্লেখ্য, এই সম্পূর্ণ প্রক্রিয়াটি ছিল একটি প্রতীকী প্রতিবাদ এবং এটি সংসদের কোনো আনুষ্ঠানিক বা সাংবিধানিক অভিশংসন প্রক্রিয়া নয়।
রাহুল গান্ধী ও বিজেপির পাল্টা বক্তব্য
কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধী অভিযোগ করেন যে, ভোটারদের নাম এভাবে মুছে ফেলার ঘটনা ২০২৪ সালের লোকসভা নির্বাচনের বৈধতা নিয়েই বড় প্রশ্ন তুলে দিয়েছে।
সামাজিক মাধ্যম ‘এক্স’-এ এক বার্তায় তিনি দাবি করেন, ভোটার তালিকা থেকে প্রায় ১৩.৩ কোটি ভোটারের নাম বাদ দেওয়া হয়েছে, যা গোটা নির্বাচনের বৈধতাকে চ্যালেঞ্জ করে। তিনি উল্লেখ করেন যে, এই বাদ পড়া ভোটের সংখ্যাটি নির্বাচনে বিরোধী দল এবং বিজেপি নেতৃত্বাধীন জোটের জয়ের ব্যবধানের চেয়েও অনেক বেশি।
আরও পড়ুন: মালয়েশিয়ায় ৩ডি খাত ছাড়া বিদেশি কর্মী নিয়োগ সীমিত করার তাগিদ শিল্পমন্ত্রীর
অভিযোগ এনে রাহুল গান্ধী সিইসি জ্ঞানেশ কুমার ও অন্যদের বিরুদ্ধে দেশদ্রোহিতার অভিযোগ তোলেন এবং ভবিষ্যতে তাঁদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার হুঁশিয়ারি দেন। অন্যদিকে বিজেপি বিরোধী দলগুলোর এই পদক্ষেপ কে পুরোপুরি প্রত্যাখ্যান করেছে। বিজেপির প্রবীণ সংসদ সদস্য রবিশঙ্কর প্রসাদ এই প্রতীকী অভিশংসন সভার তীব্র সমালোচনা করে বলেন, কংগ্রেস দেশীয় সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানগুলোকে নিয়ে ঠাট্টা-তামাশা করছে। তিনি নির্বাচনী কারচুপির দাবির বিষয়ে রাহুল গান্ধীকে উন্মুক্ত চ্যালেঞ্জ জানান।
এদিকে, কংগ্রেস এমপি শশী থারুর এই কর্মসূচির আলোচনাকে অত্যন্ত মর্যাদাপূর্ণ ও ইতিবাচক বলে বর্ণনা করেছেন। তিনি আশা প্রকাশ করেন, আগামী ১ নভেম্বর দিল্লির ঐতিহাসিক রামলীলা ময়দানে ইন্ডিয়া জোটের নির্ধারিত মহাসমাবেশেও একই ঐক্যের আমেজ বজায় থাকবে। মহাসমাবেশে যোগ দিতে পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ইতিমধ্যেই জাতীয় রাজধানীতে পৌঁছেছেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন