মঙ্গলবার, ২২শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং
০২:৪১ পি.এম
স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী ড. এম এ মুহিত জানিয়েছেন, চিকিৎসকদের বিজ্ঞানভিত্তিক প্রশিক্ষণের মাধ্যমে মৃত্যুর হার শূন্যে নামানোর চেষ্টা চলছে, যাতে চিকিৎসা বা ব্যবস্থাপনার ভুলে কোনো ডেঙ্গু রোগীর প্রাণ না যায়।
মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) সকালে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজে অনুষ্ঠিত ‘ট্রেনিং অব ডক্টরস অন ক্লিনিক্যাল ম্যানেজমেন্ট অব ডেঙ্গু’ শীর্ষক অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ তথ্য তুলে ধরেন।
আরো পড়ুন
জামায়াতের বিরোধিতার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, দেশের স্বার্থে যত আন্দোলন হয়েছে, তার বিরোধিতা করেছে জামায়াত।
দেশজুড়ে মানসম্মত ডেঙ্গু চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করতে ৪০টি জেলায় ১ হাজার ৬০০ জন চিকিৎসককে বিশেষ প্রশিক্ষণ দেওয়া হচ্ছে। স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রীর নির্দেশনায় বাংলাদেশ সোসাইটি অব মেডিসিনের বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক ও চিকিৎসকদের তত্ত্বাবধানে জরুরি ভিত্তিতে এ দিনব্যাপী প্রশিক্ষণ কর্মসূচি শুরু হয়েছে। অনুষ্ঠানে দেশের বিভিন্ন মেডিকেল কলেজের অধ্যক্ষ, সিভিল সার্জন এবং তৃণমূল থেকে বিশেষায়িত হাসপাতালের চিকিৎসক প্রতিনিধিরা ভার্চুয়ালি ও সরাসরি যুক্ত হন।
স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী ড. এম এ মুহিত ডেঙ্গু সচেতনতার কনটেন্ট তৈরির আহ্বান জানিয়ে বলেন, "ডেঙ্গু আক্রান্ত কোনো মানুষ যাতে চিকিৎসার অভাবে বা ভুল ব্যবস্থাপনায় প্রাণ না হারান, সেজন্যই বিজ্ঞানভিত্তিক এ প্রশিক্ষণ।" তিনি জানান, ডেঙ্গুর ক্লিনিক্যাল ম্যানেজমেন্ট স্ট্যান্ডার্ড অনুযায়ী চিকিৎসকদের দক্ষ করে তোলা হচ্ছে, যা মৃত্যুর হার কমিয়ে বহু প্রাণ রক্ষা করবে।
স্বাস্থ্য খাতের সাফল্য এবং চিকিৎসকদের নিরলস সেবার পরিসংখ্যান তুলে ধরে তিনি বলেন, এবারের ডেঙ্গু মৌসুমে এখন পর্যন্ত ৬৩ হাজার ৬২৭ জন রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। সীমিত সুযোগ-সুবিধা ও তীব্র রোগীর চাপের মধ্যেও চিকিৎসকদের অক্লান্ত পরিশ্রমে ইতোমধ্যে ৫৯ হাজার ৮৩ জন রোগী সম্পূর্ণ সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরে গেছেন। বর্তমানে চিকিৎসাধীন রয়েছেন প্রায় ৪ হাজার ৩০০ জন। তিনি উল্লেখ করেন, রোগী বেড়ে গেলেও আক্রান্তদের প্রায় ৯৯ শতাংশ রোগীকে সুস্থ করে পরিবারের কাছে ফিরিয়ে দিচ্ছেন দেশের চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মীরা।
স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী ড. মুহিত আরও বলেন, "শুধু আবেগ বা অপরিকল্পিত সিদ্ধান্তের ওপর ভিত্তি করে একটি কার্যকর স্বাস্থ্যব্যবস্থা গড়ে উঠতে পারে না।" তিনি জানান, অতীতের অপরিকল্পিত অবকাঠামো উন্নয়ন বা হঠাৎ ঘোষণার পরিবর্তে এখন রোগতাত্ত্বিক তথ্য সংগ্রহ ও বিজ্ঞানভিত্তিক পরিকল্পনার মাধ্যমে চিকিৎসকদের প্রশিক্ষণ দিয়ে সমন্বিতভাবে সংকট মোকাবিলার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
ঢাকা জেলা যুবদলের উদ্যোগে বিক্ষোভ মিছিল অনুষ্ঠিত হয়েছে, যা পরিকল্পিত সন্ত্রাস, নৈরাজ্য এবং দেশকে অস্থিতিশীল করার অপচেষ্টার প্রতিবাদে আয়োজন করা হয়। মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) সকালে, সাভারের বিভিন্ন এলাকা থেকে যুবদলের নেতাকর্মীরা মিছিলে অংশগ্রহণ করেন।
মিছিলটি গুরুত্বপূর্ণ সড়ক প্রদক্ষিণ করে এবং সংক্ষিপ্ত সমাবেশের মাধ্যমে শেষ হয়। এ সময় বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী যুবদলের কেন্দ্রীয় কমিটির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও ঢাকা জেলা যুবদলের সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ আইয়ুব খান বলেন, "দেশে জনগণের ভোটে নির্বাচিত বিএনপি সরকারের বিরুদ্ধে বিগত ১৭ বছরের ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগ পরিকল্পিতভাবে ষড়যন্ত্রের মাধ্যমে দেশকে অস্থিতিশীল করার চেষ্টা করছে। আমরা যুবদল কোন অবস্থাতেই তা মেনে নিব না।" তিনি আরও বলেন, "আমরা ঢাকা জেলা যুবদল সব সময় আওয়ামী লীগের নাশকতা ও দেশকে অস্থিতিশীল করার চক্রান্ত রুখে দেওয়ার জন্য প্রস্তুত আছি।"
কর্মসূচিতে নেতাকর্মীরা দেশের শান্তি, স্থিতিশীলতা ও জননিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবি জানান। তারা একই সঙ্গে পরিকল্পিতভাবে সন্ত্রাস, নৈরাজ্য ও সহিংসতা সৃষ্টি করে রাজনৈতিক ও সামাজিক অস্থিরতা তৈরির যেকোনো অপচেষ্টা প্রতিহত করার আহ্বান জানান।
বিক্ষোভ মিছিল থেকে বক্তারা উল্লেখ করেন, রাজনৈতিক মতপার্থক্য থাকলেও সন্ত্রাস, সহিংসতা ও নৈরাজ্যের মাধ্যমে সাধারণ মানুষের স্বাভাবিক জীবনযাত্রা ব্যাহত করা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। তারা দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানান।
ঢাকা জেলা যুবদলের নেতারা আরও বলেন, সাধারণ মানুষের জানমালের নিরাপত্তা এবং দেশের স্থিতিশীলতা রক্ষায় সবাইকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে। কোনো পক্ষ যেন সহিংস কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে জনমনে আতঙ্ক সৃষ্টি করতে না পারে, সে বিষয়ে সতর্ক থাকার আহ্বান জানানো হয়।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
ট্রেনে অগ্নিসংযোগের ঘটনায় গ্রেপ্তার হওয়া ব্যক্তিদের জামায়াতে ইসলামীর কর্মী বা সমর্থক হিসেবে চিহ্নিত করার খবর গণমাধ্যমে প্রকাশিত হওয়ায় দলের আমিরের প্রতি প্রশ্ন তুলেছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব ও প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা রুহুল কবির রিজভী।
সোমবার (২২ সেপ্টেম্বর) রাজধানীর নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে অনুষ্ঠিত এক মিছিল-পূর্ব সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এই মন্তব্য করেন।
সমাবেশে বক্তব্য প্রদানকালে রুহুল কবির রিজভী দেশে সাম্প্রতিক সহিংসতা ও বিশৃঙ্খল পরিস্থিতির তীব্র সমালোচনা করেন। তিনি বলেন, রাজশাহীর রেলওয়ে স্টেশনে যারা ভাঙচুর করেছে, তাদের বিরুদ্ধে একটি লং মার্চের আয়োজন করুন। আর আমরা নিশ্চুপ বসে থাকব-এটা ভাবার কোনো কারণ নেই।
তিনি প্রশ্ন তোলেন, জামায়াত কি দেশের অস্থিতিশীলতার জন্য দায়ী? বিএনপির এই শীর্ষ নেতা বলেন, আজকে মধ্যবাড্ডা, কাফরুল, মিরপুরে বাসে আগুন লাগাচ্ছে কে? হাইকোর্টের সামনে বোমাবাজি করছে কে? এর উত্তর কে দেবে?
বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব আরও জানান, সাধারণ মানুষের মধ্যে এখন ধারণা তৈরি হয়েছে যে, শুধু পলাতক ফ্যাসিস্টরাই নয়, তাদের নতুন কিছু সহযোগীও তৈরি হয়েছে যারা দেশের সার্বিক পরিস্থিতি অস্থিতিশীল করতে একত্রে কাজ করছে। সম্প্রতি ট্রেনে নাশকতার পর গ্রেপ্তার হওয়া ব্যক্তিদের জামায়াতের সদস্য হিসেবে চিহ্নিত করার খবর আসায় রিজভী জামায়াতের আমিরের কাছে এসব নাশকতামূলক কর্মকাণ্ডের জন্য স্পষ্ট জবাবদিহিতা দাবি করেছেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
দেশে জ্বালানির মূল্য বৃদ্ধির কারণে দূরপাল্লা ও রাজধানীসহ শহরের বাসের ভাড়া কিলোমিটার প্রতি ১৭ পয়সা বৃদ্ধি করা হয়েছে। মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) সড়ক পরিবহণ মন্ত্রণালয়ের বৈঠকে এই সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়।
সোমবার, সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআরটিএ) যাত্রীবাহী বাসের ভাড়া বৃদ্ধির জন্য কিলোমিটারে দূরপাল্লায় ২০ পয়সা এবং নগর পরিবহনে ১৮ পয়সা বৃদ্ধির প্রস্তাব দিয়েছিল।
গত এপ্রিলে ডিজেলের দাম লিটারে ১৫ টাকা বৃদ্ধি করা হয়েছিল, যার ফলে বাসের ভাড়া কিলোমিটার প্রতি ১১ পয়সা বাড়ানো হয়েছিল। নতুন এই বৃদ্ধি কার্যকর হওয়ার আগে পর্যন্ত ঢাকা ও চট্টগ্রাম মহানগরে বাসের ভাড়া ছিল কিলোমিটার প্রতি ২ টাকা ৫৩ পয়সা। মিনিবাসের ভাড়া ছিল ২ টাকা ৪২ পয়সা।
অন্যদিকে, দূরপাল্লার পথে ৫২ আসনের বাসে কিলোমিটার প্রতি ভাড়া ২ টাকা ২৩ পয়সা বৃদ্ধি পাবে। তবে দূরাল্লার পথে অনেক নন–এসি বাসের আসন সংখ্যা কমিয়ে ৪০ বা তার নিচে নামিয়ে আরামদায়ক করা হয়েছে। এসব বাসে ভাড়া আরও বেশি নেওয়া হয়। এছাড়া, সেতু ও সড়কের টোলও যুক্ত হবে। নতুন করে ১৭ পয়সা বৃদ্ধির ফলে বাস ভাড়া নতুনভাবে নির্ধারিত হবে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
ঢাকা, ২২ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ : ঢাকায় নিযুক্ত চীনের বিদায়ী রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েন জাতীয় সংসদের স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীর বিক্রমের সাথে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছেন।
এই সাক্ষাৎটি আজ স্পিকার কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত হয়।
স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ মন্তব্য করেন, চীন বাংলাদেশের ঘনিষ্ঠ বন্ধু হিসাবে দেশের উন্নয়নে সর্বদা সহায়তা প্রদান করে আসছে।
তিনি উল্লেখ করেন, শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান বাংলাদেশ-চীন সম্পর্কের উন্নয়নে প্রথম পদক্ষেপ গ্রহণ করেছিলেন। সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া এই সম্পর্কের ধারাবাহিক উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখেছেন।
স্পিকার আরও বলেন, বিগত সরকারের ১৫ বছরের স্বৈরাচারী শাসনের ফলে বিচার-বহির্ভূত হত্যাকাণ্ড, অর্থ পাচার, গুম ও খুনের রাজনীতি দেশের জনগণের মৌলিক অধিকার হরণ করেছে। সর্বশেষ অনুষ্ঠিত জাতীয় সংসদ নির্বাচনের মাধ্যমে দেশে পুনরায় গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা লাভ করেছে।
তিনি উল্লেখ করেন, বাংলাদেশ-চীনের মধ্যে সংসদীয় মৈত্রী গ্রুপ দুই দেশের মধ্যে সংসদীয় সম্পর্ক উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখতে পারে।
স্পিকার বলেন, প্রায় ১২ লাখ রোহিঙ্গার প্রত্যাবাসন নিয়ে বাংলাদেশ অনেক প্রতিকূলতার মুখোমুখি হচ্ছে। তিনি এসময় রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনে চীন সরকারের সহায়তা কামনা করেন।
চীনা রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েন বলেন, বাংলাদেশের বর্তমান সরকার জনগণের ম্যান্ডেট নিয়ে নির্বাচিত হয়েছে। বর্তমান সরকারের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের চীন সফর বাংলাদেশ ও চীনের সম্পর্ককে আরও সমৃদ্ধ করেছে।
তিনি জানান, চীন বাংলাদেশের উন্নয়নের বৃহত্তম বাণিজ্যিক অংশীদার। চীনের মেগাপ্রকল্পের পাশাপাশি বর্তমানে দেশে আরও মাঝারি ও ছোট প্রকল্পের বিনিয়োগ বিদ্যমান রয়েছে।
চীনা রাষ্ট্রদূত আরও বলেন, চীন সরকার বাংলাদেশকে এই অঞ্চলে পণ্য উৎপাদন ভিত্তিক কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তুলতে আগ্রহী। আইসিটিসহ বিভিন্ন ধরনের লজিস্টিক পণ্য উৎপাদনের মাধ্যমে বাংলাদেশ অর্থনৈতিকভাবে এগিয়ে যেতে সক্ষম হবে।
সাক্ষাৎকালে তারা উভয়েই দুই দেশের মধ্যে বিনিয়োগ বৃদ্ধি, বাংলাদেশ-মিয়ানমার-চীন করিডোর স্থাপন, চলমান রোহিঙ্গা সংকট ও জ্বালানি ইস্যু নিয়ে মত বিনিময় করেন।
স্পিকার জানান, বাংলাদেশ সবসময় ‘ওয়ান চায়না পলিসি’কে সমর্থন করে এবং ভবিষ্যতেও এই সমর্থন অব্যাহত থাকবে। তিনি ভোলাসহ বাংলাদেশের সমুদ্র উপকূলীয় এলাকায় তেল ও গ্যাস উৎপাদনে চীনের বাণিজ্যিক কোম্পানিগুলোকে আমন্ত্রণ জানান এবং ইন্টার-পার্লামেন্টারি ইউনিয়নের এক্সিকিউটিভ কাউন্সিলে বাংলাদেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটির সভাপতি ব্যারিস্টার জহরত আদিব চৌধুরীকে সমর্থনে চীন সরকারের সহায়তা কামনা করেন।
বৈঠকে চীনা দূতাবাসের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা ও জাতীয় সংসদ সচিবালয়ের সচিবসহ অন্যান্য সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ